বাংলা প্রবাদ-প্রবচনের তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

প্রবাদ প্রবচন প্রতিটি ভাষার অমূল্য সম্পদ। বাঙালীর হাজার বছরের সংস্কৃতি তথা সামগ্রিক জীবনাচরণে প্রবাদ প্রবচন সমৃদ্ধ একটি ধারা হিসেবে বিবেচিত। প্রবাদ প্রবচনের মাধ্যমে বাঙালির জীবন, ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, বিশ্বাস ও রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।

[সম্পাদনা]

অকণ্টকবিদ্ধ কি জানে কাঁটাফুটা কী? সুখীজনে পক্ষে জীবনযন্ত্রণার স্বরূপ জানা সম্ভব নয়।
অকর্মারা বেশি কথা বলে অকর্মণ্যতার অজুহাত দেখাতে অকেজোরা বেশি কথা বলে।
অকর্মারা সর্বদাই ক্ষুধার্ত অকর্মারা সবসময় খাই খাই করে; তাদের খাওয়া ছাড়া আর কোন কাজ নেই।
অকস্মাৎ বজ্রাঘাত অপ্রত্যাশিতভাবে কোন বিপদের সংঘটন।
অকাজে বউড়ী দড়, লাউ কুটতে খরতর গৃহকর্মে অপটু বউ সহজ কাজটা আগে বেছে নেয়; কারণ অন্য আনাজ কাটা থেকে লাউ কোটা অনেক সহজ।
অকারণে কিছু হয় না সব কার্যের পিছনে কারণ থাকে; বিনাকারণে গাছের একটি পাতাও নড়ে না।
অকারণে হৈ চৈ অহেতুক চিন্তা।
অকাল গেল সুকাল এল, পাকল কাঁটাল কোষ, আজ বন্ধু ছেড়ে যাও, দিয়ে আমার দোষ সুসময়ের বন্ধুরা অসময়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে উপকারীর ঋণ অস্বীকার করে।
অকালমেঘবদ্বিত্তমকম্মাদেতি যাতি চ সম্পদ অকালোদিত মেঘের মতই হঠাৎ আসে হঠাৎ যায়।
অকালে/আকালে কি না খায় অসময় বা দুর্ভিক্ষের সময়ে খাবারের বাচবিচার করা সম্ভব হয় না।
অকালে খেয়েছ কচু, মনে রেখ কিছু কিছু সুখদুঃখমিশ্রিত জীবনের সুখের দিনগুলিতে দুঃখের দিনগুলি ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
অকালে বাড়ে সকালে মরতে দ্রুত বৃদ্ধি দ্রুত মৃত্যু ডেকে আনে।
অকালের তাল বড়ই মিষ্টি অকালে দুস্প্রাপ্য জিনিষ পেলে তৃপ্তিবোধ মাত্রাতিরিক্ত হয়।
অকালে না নোয় বাঁশ, বাঁশ করে ট্যাঁশ ট্যাঁশ সময়ের কাজ সময়ে না করলে পরে আর পারা যায় না; শিশুকালে নীতিশিক্ষা না দিলে উত্তরকালে উপদেশ বৃথা যায়।
অকৃতজ্ঞের নরকবাস অকৃতজ্ঞের কঠোর শাস্তি প্রাপ্য।
অকেজোর তিন কাজ বড়, ভোজন,ক্রোধ, নিদ্রা দড় অকর্মণ্যরাও শুধু খায়, হম্বিতম্বি করে, আর ঘুমায়।
অকেজো নাপিতের থলিভরা ক্ষুর অক্ষমতার দুর্বলতা ঢাকতে ভড়ং বেশী দেখায়।
অকেজো মিস্ত্রি যন্ত্রের দোষ ধরে- ইংরাজী প্রবাদ অকর্মণ্যের অজুহাতের অভাব হয় না।
অকেজো মিস্ত্রির থলিভরা যন্ত্র- ইংরাজী প্রবাদ তূলনীয়- অকেজো নাপিতের থলিভরা ক্ষুর।
অকেজো মানুষের কথা বেশি কাজ কম কাজে ফাঁকি দিতে বা অক্ষমতা ঢাকতে বেশি কথা বলার প্রয়োজন হয়।
অক্রোধস্তপসঃ ক্ষমা বলবতাং ধর্মস্য নিব্যজিতা। সর্বেষামপি সর্বকারণমিদং শীলং পরং ভূষনম্‌॥ (চাণক্য) তাপসের ক্রোধহীনতা, বলবানের ক্ষমা, ধর্মের ছলহীনতা- এগুলি স্বভাবের সর্বশ্রেষ্ঠভূষণ।
অক্ষমের অজুহাত খাড়া অক্ষমের অজুহাতের অভাব হয় না।
অখণ্ডিত রত্ন মেলে না রত্ন একটি সম্পূর্ণ ধারণা।
অগভীর জলে সফরি ফরফরায় অল্পবিদ্যানেরা সর্বদা বেশি বিদ্যার জাহির করে।
অগাধজলসঞ্চারী বিকারী ন চ রোহিতঃ। গণ্ডূষজলমাত্রেণ সফরী ফর্ফরায়তে॥ (চাণক্য) অগাধজলের রুইমাছের বিকার নেই, অল্পজলের পুঁটিমাছ গর্বে লাফায়;
অগুণস্য হতং রূপম নির্গুণব্যক্তি রূপবান হলেও সেই রূপ বৃথা।
অগুরু চন্দন ফেলে চায় শেওড়া কাঠ, কোকিলের ধ্বনি ফেলে বানরের নাট ভালো ছেড়ে মন্দের প্রতি মানুষের অযৌক্তিক আকর্ষণ থাকে।
অগ্নি, ব্যাধি ও ঋণ, রেখোনা তিনের চিন(চিহ্ন) আগুন, ব্যাধি ও ঋণের শেষ রাখতে নেই; এগুলি ক্রমশঃ বেড়ে যায়।
অঘটন ঘটায় বিধি বিধি সব ঘটনার কারিগর।
অঘটনে স্বজন চেনা যায় দুর্বিপাকে পড়লে প্রকৃত বন্ধু পাশে এসে দাঁড়ায়। ('... আজি রজনীতে হয়েছে সময় এসেছি বাসবদত্তা;-রবীন্দ্রনাথ)
অঘটির (আদেখলা) ঘটি হল, জল খেতে খেতে প্রাণটা গেল কোন জিনিষের প্রথম প্রাপক আনন্দের আতিশয্যে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলে।
অঙ্কমারুহ্য সুপ্তং হি হত্বা কিং নাম পৌরুষম কোলে শুয়ে যে নিদ্রিত আছে তাকে হত্যা করায় পৌরুষত্ব নেই।
অঙ্গারঃ শতধৌতেন মলিনত্বং ন মুঞ্চতি কয়লা হাজার ধুলেও যেমন রঙ বদলায় না তেমনিই কুলোক কখনো কুপ্রবৃত্তি ছাড়ে না।
অচেনা/অজানা বন্ধু থেকে চেনা/জানা শত্রু ভাল অজানা বিষয় থেকে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকে।
অচেনা পথ আর জঙ্গল সমান, অজানা জল আর জানা শ্মশান এই চারটি বিষয় জীবনে চলার পথে বিপদের কারণ হতে পারে।
অজগরের দাতা রাম অলসের খাবারের অভাব হয় না; যেকোনভাবেই তার তা জুটে যায়; ভগবানই জীবের রক্ষাকর্তা।
অজার যুদ্ধে আঁটুনি সার ছাগল দূরথেকে লাফিয়ে আসে, কিন্তু সামনে এলেই আর মনে থাকে না; ত্রুটিহীন আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ফললাভের সম্ভাবনা সামান্য হলে এ প্রবাদটি বলা হয়।
অজাযুদ্ধে, ঋষিশ্রাদ্ধে, প্রভাতে মেঘডম্বরে, দাম্পত্যকলহে চৈব বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া। (চাণক্য) অজার লড়াই, ঋষির শ্রাদ্ধ, সকালের মেঘগর্জন ও দাম্পত্য কলহে প্রথমে একটু বাড়াবাড়ি হয় তবে শেষে ফল সামান্যই হয়।
অজীর্ণে ভোজনং বিষমং হজমের আগে পুনরায় ভোজন বিষের সমান।
অজীর্ণে ভেষজং বারি; জীর্ণে বারি বলপ্রদম্‌ বদহজমের একমাত্র ওষুধ জল; দুর্বলকে জল শক্তি যোগায়।
অজ্ঞতাই ভক্তি করে; ভক্তি হলো অজ্ঞতার কন্যা অজ্ঞান ও ভয় থেকে মানুষে মনে ভক্তির সৃষ্টি হয়।
অজ্ঞাতকুলশীলস্য বাসো দেয়ো ন কস্যচিৎ কখনো অচেনাকে গৃহে স্থান দিতে নেই।
অজ্ঞানবন্ধু থেকে জ্ঞানীশত্রু অনেক ভালো বন্ধু হলেও অবোধের কাছ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকে।
অজ্ঞানে আকস্মিক ও দৈব ঘটনার যুক্তি খাড়া করে কিছুই আকস্মিক নয়; অকারণে কিছু হয় না; ব্যাখ্যায় অক্ষম হলে লোকে দৈবের দোহাই দেয়
অজ্ঞানে করে পাপ, জ্ঞান হলে সরে/হরে, সজ্ঞানে করে পাপ, সঙ্গে সঙ্গে ফেরে শিশুবয়সে নানা দোষত্রুটি হয়; বড় হলে সেগুলি শুধরে নেয়, কিন্তু জ্ঞানকৃত পাপ কখনো খণ্ডায় না।
অজ্ঞানে বাপান্ত করে, জ্ঞানবানে তাই কি ধরে? অজ্ঞরা কিছু দোষ করেই ফেলতে পারে; জ্ঞানীরা ষে অপরাধ ধরে না।
অজ্ঞানের কান দুটো ছোট ও জিভটা বড় হয় অজ্ঞানেরা শোনে খুব কম কিন্তু কথা বলে বড় বেশি।
অজ্ঞানের কালে জানে না, অমানুষের কালে মানে না শিশু বুঝতে পারে না বলেই দোষ করে; বয়স্কলোকেরা কিন্তু দোষকে অগ্রাহ্য করে।
অতি অস্পষ্ট কালির লেখাও উৎকৃষ্ট স্মরণশক্তি থেকে বেশি উজ্জ্বল- চীনা প্রবাদ স্মৃতিশক্তি বড়ই দুর্বল; লেখা কিন্তু চিরস্থায়ী।
অতি আশ সর্বনাশ বেশি লোভ করলে বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অতিকথায় বার্তা নষ্ট বাকচাতুর্যে মূলবক্তব্য হারিয়ে যায়।
অতি ক্ষুধা যার হাড় কাটা তার বেশি খেলে শরীর নষ্ট হয়।
অতিগর্জনে ফোঁটা বৃষ্টি হাঁকডাকওয়ালারা কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা।
অতিঘরন্তী না পায় ঘর ভাগ্যদোষে অতি নিপুণা ঘরণীও সংসার পাততে পারে না।
অতি চতুরের ভাত নেই, অতি সুন্দরীর ভাতার নেই বেশি চালাকের অন্ন জোটে না, বেশি সুন্দরীর বর জোটে না; ভাল নয় অতিশয়।
অতি চালাকের গলায় দড়ি বেশি চালাকি করে অপরকে ঠকালে নিজেকেও বিপদগ্রস্ত হতে হয়।
অতি চালাকের গলায় দড়ি, অতি বোকার পায়ে বেড়ি। বেশি চালাক ও বেশি বোকা, উভয়ই বিপদে পড়ে; অতি ভাল ভাল নয়।
অতি জ্বালে ব্যঞ্জন নষ্ট বেশি জ্বাল দিলে দ্রব্যগুণ নষ্ট হয়; কোন কিছুতেই বাড়াবাড়ি ভালো নয়।
অতি দর্পে হত লঙ্কা/ অতি দর্পে বলির পাতালে ঠাঁই অহংকার করলে পতন অনিবার্য।
অতি দর্পে হতা লঙ্কা, অতিমানে চ কৌরবাঃ। অতিদানে বলির্বদ্ধঃ সর্বমত্যন্তম গর্হিতম্॥ (চাণক্য) অতিরিক্ত অহঙ্কারে লঙ্কা বিনষ্ট হয়; অতিরিক্ত অভিমানে কৌরবেরা বিনষ্ট হয়; অতিরিক্ত দানে বলি বামনের কাছে বন্দী হয়; কোনকিছুতে বাড়াবাড়ি ভালো না।
অতিথি সর্বময় গুরু অতিথি গুরুর মতই পূজনীয়।
অতিপরিচয়ে দোষ ব্যক্ত অন্তরঙ্গতায় লুকানো দোষ প্রকাশ হয়ে পড়ে।
অতিপরিচিতি উপেক্ষার জন্ম দেয় কোন বিষয় বেশি পেলে তার প্রতি আকর্ষণ, আগ্রহ কমে।
অতি পীরিত যেখানে অতি বিচ্ছেদ সেখান পীরিত বেশি হলে তাড়াতাড়ি বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে।
অতি পীরিত যেখানে নিত্য যাবে না ষেখানে; যদি যাবে নিত্যি ঘটবে একটা কীর্তি যেখানে ভালোবাসা গভীর শেখানে প্রতিদিন না যাওয়াই ভালো; তা না হলে কলঙ্ক বা বিরোধ ঘটতে পারে।
অতিপ্রেমে অমিত বিচ্ছেদ যেখানে ভালোবাসার বাড়াবাড়ি সেখানে বিচ্ছেদবেদনাও তীব্র হয়।
অতিবড় ঘরণী না পায় ঘর; অতিবড় সুন্দরী না পায় বর বেশি বাছাবাছি করতে গিয়ে প্রায়শঃ ঘরকন্নার কাজে অতিশয় নিপুণা নারীর ঘরকন্নার সুযোগ জোটে না এবং অতি সুন্দরীর বর জোটে না। কোন বিষয়ে অনন্যসাধারণ হলে সবসময় তার যোগ্য মিল পাওয়া ভার হয় না।
অতি বড় সোদর (সহোদর ও সহোদরা) তিনদিন করবে আদর যত প্রীতিরই হোক না কেন অতি পাওয়ায় আদর ক্রমশঃ কমতে থাকে।
অতিবাড় বেড়ো না ঝড়েতে উড়াবে; অতিছোট হয়ো না ছাগলে মুড়োবে অহঙ্কার বেশি বেড়ে গেলে পতন হবেই; আবার বেশি বিনীত হলেও উপেক্ষিত হবেই; মধ্যপন্থাই শ্রেষ্ঠপন্থা।
অতিবুদ্ধির কোমরে/গলায়/হাতে দড়ি, অতি বোকার পায়ে বেড়ি অতিচালাকি করতে গিয়ে মানুষ মরে; অতিবোকামির জন্য একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; বেশি বাড় ভালো নয়।
অতিবুদ্ধির হা-ভাত চালাকি করতে গিয়ে অস্থিরতার কারণে ভাত যোগাড় করতে ব্যর্থ হয়; ভাল নয় অতিশয়।
অতিভক্তি চোরের লক্ষণ ভক্তির আতিশয্যে গোপন উদ্দেশ্য প্রচ্ছন্ন থাকে; অসঙ্গতমাত্রায় কিছু করলে স্বাভাবিকভাবেই মনে সন্দেহ জাগে।
অতি ভালো, ভালো নয় সব বাড়াবাড়িই শেষপর্যন্ত বিপদ ডেকে আনে।
অতিভোজনে স্বাস্থ্যনাশ অপরিমিত আহারে স্বাস্থের ক্ষতি হয়।
অতিমন্থনে বাসুকীর বিষ/বিষ ওঠে বেশি ঘাটাঘাটি করলে দ্রব্যগুণ নষ্ট; অনেক সময় বারবার শোনা ভালকথাও মন্দ মনে হয়।
অতিমন্থনে মিঠা তিতা বেশি কচলালে লেবু তেতো হয়।
অতিমেঘে অনাবৃষ্টি/ফোঁটাবৃষ্টি বেশি মেঘ হ’লে বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; আড়ম্বর বেশি হলে কাজ ভাল হয় না।
অতিযত্নে মরণফাঁদ বেশি যত্ন নিলে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
অতিলোভে তাঁতি নষ্ট বেশি লোভ করলে সর্বস্ব খোয়ানোর আশঙ্কা থাকে; বেশি বাড়াবাড়ি ভাল নয়।
অতি লোভো ন কর্তব্যঃ। লব্ধং নৈব পরিত্যজেৎ॥ (চাণক্য) বেশী লোভ করতে নেই, আবার পাওয়া জিনিসও ত্যাগ করতে নেই।
অতির কিছুই ভাল নয় দান, দয়া, প্রেম, মান ইত্যাদি কোন গুণাবলীও মাত্রাতিরিক্ত হলে সেটা ভাল হয় না।
অতিশয় ভালো নয় বুদ্ধি হলেই পড়তে হয় বেশি বুদ্ধি হলে পতন অনিবার্য; অতি চালাকের গলায় দড়ি।
অতি সাধ অতি বিষাদ বেশি আশা পূর্ণ না হলে মনে বিষাদে ভরে যায়।
অতি সোদর হয় গালে তুলে দেয়, টিকলেতো (গিললেতো) হয় ভাই বলে কেউ যদি তোমার মুখে মিষ্টি তুলে দেয়, সেটা গিলতে না পারলে কোন লাভ নেই; ব্যবহার করতে না জানলে কোন বস্তু নিয়ে লাভ নেই।
অতীত থেকে শিক্ষা নাও, ভবিষ্যতে ভুল হবে না অতীতকে জানলেই ভবিষ্যৎ জানা যায়।
অত্তাস কুত্তা বত্তাস ভুঁকৈ- হিন্দি প্রবাদ ভীতু কুকুর বাতাসের শব্দে ভয় পেয়ে ঘেউ ঘেউ করে; ভীতু লোকেরা অনাবশ্যক ভয় পেয়ে চিৎকার জুড়ে দেয়।
অত্যুচ্ছায়ঃ পতনায়/ অত্যুচ্ছায়ো পতনহেতু বেশি বাড়লে পতন হবেই; অতিবাড় পতনের কারণ।
অদন্তের দাঁত হ'ল, কামড় খেতে খেতে প্রাণটা গেল কোন নতুন দ্রব্য পেয়ে অত্যধিক ব্যবহার করলে এই প্রবাদটি ব্যবহাত করা হয়।
অদন্তের হাসি দেখতে ভালোবাসি দন্তহীন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের হাসি দেখে কৌতুকে এই প্রবাদটি বলা হয়।
অদাতা বংশদোষেণ কর্মদোষাদ্ দরিদ্রতা। উন্মাদো মাতৃদোষেণ পিতৃদোষেণ মূর্খতা॥ (চাণক্য) বংশদোষে কৃপণ, কর্মদোষে দরিদ্র, মাতৃদোষে পাগল এবং পিতৃদোষে মূর্খ হয়।
অদৃষ্টে করলা ভাতে, বীচি কচকচ করে তাতে ভাগ্যে লেখা থাকলে দুর্ভোগ পোহাতে হবেই; দুখীর ভাগ্যে সুখ লেখা নেই।
অদৃষ্টের কিল ভূতেও কিলোয়/ অদৃষ্টের কিল পুতেও (ছেলে) কিলোয় অদৃষ্ট খারাপ হ'লে নির্বিচারে সবাই ভোগায়।
অদৃষ্টের লিখন না যায় খণ্ডন কপালের লিখন কেউ খণ্ডাতে পারে না।
অধনশ্চ/অধনেন ধনং প্রাপ্য তৃণবন্মন্যতে জগৎ নির্ধনের ধন হলে সে সকলকে তৃণজ্ঞানে তুচ্ছ করে; অহঙ্কারে মাটিতে তার পা পড়ে না।
অধমা ধনমিচ্ছতি ধনং, মানং চ মধ্যমা। উত্তমা মানোমিচ্ছন্তি মানং মানো হি মহতাং ধনম॥ (চাণক্য) অধম ধন চায়, মধ্যম ধন ও মান চায়; উত্তম শুধু মান চায়।
অধর্মের পথ বড়ই সরল অধর্মের পথে চলতে কোন অনুশাসন, নিয়মশৃঙ্খলা মানার প্রশ্ন থাকে না। তাই মানুষ মনোরম অধর্মপথেই চলতে পছন্দ করে।
অধিক খেতে করে আশা, তার নাম বুদ্ধিনাশা বেশি খাওয়া স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর।
অধিক/অনেক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট এক কাজে অনেক লোক জুটে গেলে মতভেদের কারণে কাজ পণ্ড হয়।
অধিক দিন থাকলে গাজন, কে করত শিবের ভজন? আধিক্যে সোনার মূল্যও হ্রাস পায়।
অধিকন্তু ন দোষায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত হলে ক্ষতি নেই, তবে যদি সেটা সৎকার্য হয়।
অধ্যয়নং তপঃ অধ্যয়ন তপস্যার সমান।
অর্ধেক বললে গাধাও বোঝে, সব বললে কে না বোঝে? সবাই বুঝনদার; কিছু বোঝে না- এমন কেউ নেই।
অনটনের দুনো ব্যয় একসাথে বেশি পরিমাণ কিনলে দামে সস্তা হয়; অর্থের টানাটানিতে একটু একটু করে একাধিকবার কিনলে অর্থ দ্বিগুণ ব্যয় হয়।
অনন্ত শাস্ত্রং বহুবেদিতব্যম শাস্ত্রের শেষ নেই; বহু বিষয় জানার আছে।
অনভ্যস্তা বিষং বিদ্যা বৃদ্ধস্য তরুণী বিষম। আরোগে তু বিষং বৈদ্যা হৃজীর্ণে ভোজনং বিষম॥ (চাণক্য) অনভ্যস্ত বিদ্যা বিষের সমান; যুবতীনারী বৃদ্ধের কাছে বিষের সমান; নীরোগব্যক্তির পক্ষে বৈদ্য বিষের সমান;হজমের আগে পুনরায় ভোজন বিষের সমান।
অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে অনভ্যস্ত কাজে হাত দিলে প্রথমে একটু কষ্ট হয় বা একটু অস্বস্তিবোধ হয়।
অনাথের দৈব সখা অনাথ ভগবানে বিশ্বাস করেই বেঁচে থাকে; একমাত্র বিশ্বাসই তার বেঁচে থাকার রসদ- হরি হে দীনবন্ধু।
অনাবৃষ্টে রাজ্য মজে, পাপে মজে ধর্ম; কোটালে গৃহস্থ মজে, আলস্যে মজে কর্ম। বৃষ্টি না হলে দেশের ক্ষতি; পাপে ধর্ম বিপদগ্রস্ত; নদীর বাড়ে লোকালয় বিপদগ্রস্ত; অলসতায় কর্ম নষ্ট।
অনাগত বিধাতা চ প্রত্যুন্মতিসস্তথা। দ্বাধেতি সুখমেষেতে যদ্ভবিষ্যো বিনাশ্যতি॥ (চাণক্য) যে অনাগত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে প্রত্যুৎপন্নন্মতিত্বের পরিচয় দেয় সে সুখী হয়;যে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকে সে বিনাশপ্রাপ্ত হয়।
অনাহ্বানের নিমন্ত্রণ, না আঁচালে বিশ্বাস নেই উপযাচকের ইচ্ছা অনেকসময় পূর্ণ হয় না; যেকোন কাজেই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তার আশঙ্কা থাকে।
অনিচ্ছুক ঘোড়াকে জল খাওয়ানো যায় না- ইংরাজী প্রবাদ অনিচ্ছুক হলে কারো কাছ থেকে কাজ আদায় করা অসম্ভব।
অনিশ্চিতের আশায় নিশ্চিত ত্যাগ করো না আসল ছেড়ে ছায়ার পিছনে ছূটো না।
অনিষ্ট হ'তে ইষ্ট লাভ মন্দঘটনা থেকে ভাল ঘটনার উৎপত্তি।
অনুরোধে ঢেঁকি গেলা অনুরুদ্ধ হয়ে নিতান্ত বাধ্য হয়ে কোন কাজ সম্পাদন করা।
অনুশীলনে পাথর ক্ষয় হয় পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।
অনেক কালের ছিল পাপ ছেলে হল সতীনের বাপ পাপ করলে শাস্তি পেতে হবেই; পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
অনেক খেলে অল্প খাবে; অল্প খেলে অনেক খাবে/ অনেক খাবে তো অল্প খাও, অল্প খাবে তো অনেক খাও সারাজীবনের আহার নির্দিষ্ট; বেশিবেশি খেলে অল্পদিনে তা ফুরিয়ে যাবে (সল্পায়ু হবে); অপরপক্ষে অল্পঅল্প খেলে তা বেশিদিন ধরে খাবে (দীর্ঘায়ু হবে); মিতাহারী হওয়ার পক্ষে সওয়াল।
অনেক রাঁধুনিতে ব্যঞ্জন নষ্ট/অনেক ফকিরে দরগা নষ্ট/অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট/অনেক মাতব্বরে বিচার নষ্ট এক কাজে অনেক লোক জুটে গেলে মতভেদের কারণে কাজ পণ্ড হয়।
অন্ধ জাগো না কিবা রাত্রি কিবা দিন/ অন্ধের কিবা রাত্রি কিবা দিন যার কষ্টের সীমা-পরিসীমা নেই তার ক্ষেত্রে এই প্রবাদ প্রযোজ্য। সে সব বিষয়েই নিস্পৃহ।
অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ থাকে জগৎ জলে তার নিজের নিয়ম, ব্যক্তি নিমিত্তমাত্র।
অন্ধকার আছে বলেই আলোর কদর বদগুণ ভালো নয় বলেই সদগুণের কদর।
অন্ধকার রাত্রির পরেই ঊষার আগমন কখনো নিরাশ হ’তে নেই; সুসময়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়।
অন্ধকারকে গালাগালি করার চেয়ে একটি প্রদীপ জ্বালানো ভাল- আরবী প্রবাদ অন্ধকার আলো তাড়ায় না, আলো অন্ধকারকে তাড়ায়।
অন্ধকারে সব বিড়ালকে ধুসর দেখায় অস্পষ্ট বিষয়ে অনুমান করতে ভুল হয়।
অন্ধজনে দেহ আলো মনের অন্ধকার দূর কর।
অন্ধের দেশে কানা রাজা অজ্ঞানদের মধ্যে একজন স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি বিরাট জ্ঞানী।
অন্ধের দোকানে কালা খরিদ্দার দুজনেই সমান অপদার্থ।
অন্ন আর অর্থবিনা কোন কাজ সঠিক হয় না পেটে ভাত আর পকেটে টাকা না থাকলে কোন কাজ ঠিকমত হয় না
অন্নচিন্তা চমৎকারা; কালিদাস বুদ্ধিহারা/অন্নচিন্তা চমৎকারা, ঘরে ভাত নাই জীয়ন্তে মরা/অন্নের জ্বালা বড় জ্বালা, একদিনে লাগে তালা অন্ন জোটানোর চিন্তা কঠিন ব্যাপার অথচ খুব প্রয়োজন, না খেয়ে থাকা যায় না; যার অন্নের সংস্থান নেই ষে জীবন্মৃত।
অন্নজলের বরাত ওঠা জীবনা্ন্ত, পরমায়ু শেষ।
অন্ন দেখে দেবে ঘি, পাত্র দেখে দেবে ঝি ভালো চালে ঘি দিলে সুস্বাদু হয়; সুপাত্রে কন্যাদান করলে ষে সুখী হয়; সব বিষয়ে ভেবেচিন্তেই নির্বাচন করা উচিত।
অন্ন নাই যার ঘরে, তার মানে কি বা করে হাভাতের কোন মান্যতা নেই।
অন্নবল নেই, অগ্নিবল আছে অভাগার অন্ন যোগাড় করার অর্থ নেই কিন্তু ক্ষুধার জ্বালা আছে।
অন্নবিনা ছন্নছাড়া পেটে ভাত না পড়লে সব গোলমাল হয়ে যায়।
অন্নবিনা চর্ম গড়ি, তৈলবিনা গায়ে খড়ি পেটে অন্ন না পড়লে শরীরে চাকচিক্য আসে না।
অন্নের জ্বালা বড় জ্বালা একদিনে লাগে তালা পেটে ভাত না পড়লে জীবন ওষ্ঠাগত।
অন্যে পরে কা কথা বিধাতার বিড়ম্বনায় রামের বনবাস হয়েছিল; সীতা আগুনে পুড়েছিলেন; কৃষ্ণ অপঘাতে মরেছিলেন; অন্যেরও তাই হবে এর বেশি কি।
অন্যে যার গুণ গায় সে নির্গুণ হলেও গুণী; নিজের গুণগানে ইন্দ্রও ছোট হয় গুণীলোক পরের গুণ গায়; নির্গুণ শুধু নিজের ঢাক পিটিয়ে ছোট হয়।
অন্যের যা খারাপ মনে কর নিজের মধ্যেও তা খারাপ মনে করতে শেখো স্বভাবদোষে মানুষ নিজের দোষ দেখে না। এটা করতে পারলে সবার মঙ্গল হত।
অপচয়ে লক্ষ্মীনাশ/লক্ষ্মী ছাড়ে অপচয়ে অর্থসঙ্কট দেখা দেয়।
অপদার্থ যেখান থেকে শুরু করে সেখানেই ফিরে আসে- ইংরাজী প্রবাদ অপদার্থের কাজের নীটফল শূন্য।
অপমানের পরান, সম্মানকে ডরান অতি বিনযী ও নম্রপ্রকৃতির মানুষ সম্মানকে অতি তুচ্ছ মনে করেন।
অপরং বা কিং ভবিষ্যতি যা যা ঘটার নয় তার সবই ঘটল; না জানি আর কি বা কপালে আছে; অভাগার হারাবার কিছু নাই।
অপব্যয় করো না, অভাবে পড়ো না আয় বুঝে ব্যয় করলে কোনদিন অভাব হবে না।
অপব্যয়ে লক্ষ্মী ছাড়ে অকারণে ব্যয় করলে কুবেরের সম্পত্তিও একদিন শেষ হয়।
অপরাধবোধের ফরিয়াদীর প্রয়োজন হয় না অপরাধী অপরাধ স্বীকার করলে অভি্যোগ জানানোর প্রয়োজন হয় না।
অপরের মন্দ নিজের হিত, না করিও কদাচিৎ এইপ্রকার চিন্তাভাবনা পাপবোধের জন্ম দেয়।
অপেক্ষার সময় শেষ হয় না অপেক্ষায় কার্যসিদ্ধি হয় না। রাবণও স্বর্গের সিঁড়ি বানাতে পারেন নি।
অপ্রিয় সত্য কথা বলিও না অপ্রিয় সত্য কথা শুনতে কেউ চায় না।
অপ্রিয়স্য তু পথ্যস্ত বক্তা শ্রোতা চ দুর্লভঃ হিতকর বাক্যের বক্তা ও শ্রোতা দুই দুর্লভ; এইরূপ বাক্য কেউ বলতে বা শুনতে চায় না।
অবলা বোলে দড়, অফলা ফলে দড় অবলার মুখ ছোটে বেশি; যে গাছে ফল ধরে না ষে গাছে একবার ধরলে প্রচুর পরিমানে ফলে।
অবলার মুখই বল শারিরিক বল কম থাকায় অবলা মুখের বোল বেশি হয়; একবার বকতে শুরু করলে তাকে থামানো মুশকিল।
অবশ্যমেব ভোক্তব্যং কৃতং কর্ম শুভাশুভম শুভই হোক আর অশুভই হোক, কৃতকর্মের ফল ভুগতেই হয়।
অবাক কলির অবতার, ছুঁচোর গলায় চন্দ্রহার অযোগ্যের হাতে উৎকৃষ্ট দ্রব্য দেখে খেদ।
অবিদ্যং জীবনং শূন্যং দিক্ শূন্যা চেদবান্ধবা। পুত্রহীনং গৃহং শূন্যং সর্বশূন্যা দরিদ্রতা॥ বিদ্যাহীনের জীবন শূন্য, বন্ধুহীনের সকলদিক শূন্য, পুত্রহীনের গৃহ শূন্য আর দরিদ্রের সকলই শূন্য।
অবিবেকঃ পরমাস্পদম বিবেকশূন্যতাই সব আপদের মূল।
অবিশ্বাস করে ঠকা থেকে বিশ্বাস করে ঠকা অনেক ভাল তাতে লাভ বেশি, ক্ষতি কম; কোনভাবেই অবিশ্বাসকে মনে বাসা বাঁধতে দেওয়া নেই।
অবোধের খাটনি ভারি বোকাকে বেশি খাটানো যায়।
অবোধের গোবধে আনন্দ বোকারা দুস্কর্ম করে বেশি আনন্দ পায়; নির্বোধের পাপপূণ্য বোধ নেই।
অবোধারে বুঝাব কত, বোধ নাহি মানে; ঢেঁকিরে বুঝাব কত, নিত্য ধান ভানে যে কিছু বোঝে না তাকে অতিরিক্ত কিছু বোঝানো চেষ্টা বৃথা; ঢেঁকি ধানভানা ছাড়া অন্য কাজ জানে না।
অবোধারে মারে বোধায়, বোধারে মারে খোদায় বোকাকে চালাকলোকে ঠকায়; চালাকলোক ভগবানের কাছে শাস্তি পায়।
অবোধের সাত খুন মাপ পাগলের কোন শাস্চাতি হয় না।
অবোলা চলে বড়, অফলা ফলে বড় পথ চলতে চলতে যে কথা বলে না ষে অনেকটা পথ যায়; যে গাছে ফল ধরে না সেগাছে একবার ফল ধরলে প্রচুর পরিমাণে হয়
অব্রাহ্মণের দীর্ঘ ফোঁটা মেকি ব্রাহ্মণের ভড়ং বেশি।
অভদ্রা বর্ষাকাল হরিণী চাটে বাঘের গাল; শোনরে হরিণী তোরে কই সময়গুণে সবই সই অসময়ে প্রবলব্যক্তি অসহায় হয়ে পড়লে দুর্বলব্যক্তিও তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।
অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায় ভাগ্য মন্দস হলে অভাগা কোনোদিক থেকেই সাহায্য পায় না; সৌভাগ্যশালীও দূরদূর করে তাকে তাড়ায়।
অভাগার গরু মরে, শকুনের ভাগ্য বাড়ে একজনের ক্ষতি হলে অবশ্য অন্য কোন জনের লাভ হয়।
অভাগার ঘোড়া মরে, ভাগ্যবানের বউ মরে ঘোড়া মরলে মূলধনের ক্ষতি, সেই অর্থে মালিক অভাগা; বউ মরলে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে অর্থলাভ, সেই অর্থে সেই পুরুষ সৌভাগ্যবান।
অভাগা চোর যে বাড়ী যায়, হয় কুকুর ডাকে নয় রাত পোহায় ভাগ্য অভাগাকে সবদিক থেকেই মারে।
অভাগিনীর দুটি পুত, একটি দানা একটি ভূত সৌভাগ্যবতীর সুপুত্র হয়; কিন্তু দুটোই পুত্রই যদি বদ হয় তবে ষে নারী অভাগিনী ছাড়া আর কিছু নয়
অভাবে স্বভাব নষ্ট অভাব হলে অবস্থার চাপে ভালো মানুষও অসৎ হয়; সৎ থাকা খুবই কষ্টকর।
অভাবের সময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু কঠিন সময়ে প্রকৃতবন্ধুর কাছ থেকে সৎ পরামর্শ পাওয়া যায়।
অভাবে স্বভাব নষ্ট, মুখ নষ্ট বরণে, ঝর‍্যয় ক্ষেত নষ্ট, স্ত্রী নষ্ট মারণ অভাব মানুষকে নষ্ট করে; ব্রণ মুখের শ্রী নষ্ট করে; ঝড় চাষ নষ্ট করে এবং মারধোর করলে স্ত্রী নষ্ট হয়।
অভিজ্ঞতায় মানুষ বিজ্ঞ হয় অভিজ্ঞতার পোড় খাওয়া লোক সহজে বোকা হয় না।
অভ্যাস দ্বিতীয় প্রকৃতি মানুষ অভ্যাসের দাস; অভ্যাস স্বভাবে দাঁড়ায়।
অভ্যাসহীন বিদ্যা বিষতুল্য অধিতবিদ্যার চর্চা না হলে তার ফল নেই।
অভ্যাসে সয় অনভ্যাসে নয় অভ্যাস দ্বিতীয় প্রকৃতি।
অভ্যুথানাং হি পতনায় বৃদ্ধি হলে পতন হবে।
অমোঘাঃ পশ্চিমে মেঘাঃ পশ্চিমের মেঘে বৃষ্টিপাত হবেই।
অমাবস্যার প্রদীপ টিপটিপ করে ঘোর অন্ধকারে প্রদীপের টিমটিমে আলো যেমন যথেষ্ট নয়, তেমনি ঘোর বিপদে মৌখিক সান্ত্বনাও যথেষ্ট নয়।
অমৃত ও বিষ উভয়েরই আকর জিভ জিভ থেকেই অমৃত উৎপন্ন হয়; বিষও উৎপন্ন।
অমৃত যে কি পদার্থ, খেয়ে দেখি না জল না-ব্যবহার-করা দ্রব্য নিয়ে কতই-না ভ্রান্তধারণা থাকে; ব্যবহারে ধরা পড়ে যে এদের অনেকগুলিই অতি সাধারণ ধরণের।
অমৃতং বালভাষিতম শিশুর কথা বড়ই শ্রুতিমধুর; তাদের অসংযত কথাবার্তাও কারও বিরক্তি উৎপাদন করে না।
অমৃতং সুভাষিতম সুবচন/সুভাষিত অমৃতসমান।
অম্বল, কম্বল, ডম্বল তিন শীতের সম্বল টক, কম্বল ও ব্য়াযাম তিন থাকলে শীত কাবু থাকে।
অযথা বিপদের মধ্যে যাওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বিপদ এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
অয়ং নিজঃ পরো বেতি গণনা লঘু চেতসাম। উদারচরিতানাং ত বসুধৈব কুটুম্বম॥ চাণক্য ইনি নিজের, উনি পরের এই জাতীয় বিচার নীচুপ্রকৃতির; উদারচরিত্রের কাছে সমগ্র বিশ্ব আত্মীয়স্বরূপ।
অরগুণ নাই বরগুণ আছে কোন ভালগুণ নেই, শুধু মন্দগুণ আছে; দুঃখনাশের গুণ নেই, শুধু দুঃখবৃদ্ধির গুণ আছে।
অরণ্যে শৃগালঃ ধূর্তং, পক্ষী ধূর্তং বায়সাঃ। নরানাং নাপিত ধূর্তং, দেব ধূর্তং নারদা। (চাণক্য) বনে শিয়াল ধূর্ত; পাখীদের মধ্যে কাক ধূর্ত; মানুষের মধ্যে নাপিত ধূর্ত এবং দেবতাদের মধ্যে নারদ ধূর্ত।
অরসিকেষু রসস্য নিবেদনম রসের কথা শুধু রসিককেই বলা যায়; অরসিককে বলা অর্থহীন; নির্গুণের কাছে গুণের কোন কদর নেই।
অরাঁধুনির হাতে পড়ে কই/রুই মাছ কাঁদে; না জানি রাঁধুনি আমার কে্মন করে রাঁধে রাঁধুনী ভাল না হলে কইমাছের ঝাল বা রুইমাছে কালিয়া বিস্বাদ হয়ে যায়; উত্পতম বস্তু পেতে গেলে উপযুক্ত লোককে দায়িত্ব দিতে হবে।
অরুচির অম্বল, শীতের কম্বল; বর্ষার ছাতি, ভটচায্যির পাঁতি অরুচি হলেই অম্বলের কথা আসে; শীত এলেই কম্বলের খোঁজ পড়ে; বর্ষা এলেই ছাতা হাতে রাখি;পাঁজি ছাড়া বামুনঠাকর ভাবা যায় না
অর্থং অনর্থং ভাবয় নিত্যং সবসময় ভাব অর্থই অনর্থের কারণ/মূল।
অর্থ, অর্থ আনে/টানে অর্থ অর্জন করতে হলে অর্থের বিনিয়োগ চাই।
অর্থ তোমার নয় আমার নয়, অর্থ প্রয়োজনের কাজে না লাগলে সে অর্থ থাকা মূল্যহীন
অর্থতুরাণাং ন গুরুঃ ন বন্ধুঃ অর্থ গৃধ্নু ব্যক্তির গুরু বা বন্ধু কেউ নাই।
অর্থ থাকলে অভাবের অভাব হয় অর্থশালীরা জানে না অভাবের জ্বালা কি।
অর্থ নষ্ট, কিছুই নষ্ট নয়; স্বাস্থা নষ্ট, সামান্য নষ্ট; চরিত্র নষ্ট তো সব নষ্ট চরিত্র হল মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়; চরিত্রের জোরে মানুষ সোজা দাঁড়ায়।
অর্থ নিজেই শয়তানকে কিনতে পারে- ইংরাজী প্রবাদ অর্থের অপরিসীম শক্তি।
অর্থই অনর্থের মূল অর্থদ্বারাই যত রকমের হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়।
অর্থনাশং মনস্তাপং গৃহে দুশ্চরিতানি চ। বঞ্চ নঞ্চাপমানঞ্চ মতিমান্ ন প্রকাশয়েৎ॥ (চাণক্য) ধনক্ষয়, মনঃকষ্ট, ঘরের দুরাচার, বঞ্চনা ও অপমানের কথা প্রাজ্ঞ অন্যের কাছে ব্যক্ত করে না।
অর্থ যার মামলা/শক্তি তার অর্থ সব যায়গায় আধিপত্য করে।
অর্থস্য পুরুষো দাসঃ, দাসস্ত্বর্থো ন কস্যচিৎ অর্থ কারো দাস নয় বরং পুরুষই অর্থের দাস।
অর্থেন সর্বৈ বশাঃ অর্থদ্বারা সকলকেই বশ করা যায়।
অর্ধসত্য মিথ্যা অপেক্ষা ভয়ঙ্কর আলো-আঁধারে ধাঁধা বেশি হয়।
অর্ধো ঘটো ঘোষোমুপৈতি নুনম কলস আধা পূর্ণ হলেই শব্দ করে; অল্পবিদ্যানেরা বেশি বিদ্যার জাহির করে।
অলকার তিলক সার অলকা-তিলকা বৃথাই গেল কাজে এলো না।
অলক্ষ্মীর দ্বিগুণ ক্ষিদে অলক্ষ্মীর একটাই কাজ- পড়ে পড়ে শুধু খাওয়া।
অলক্ষ্মীর নিদ্রা বেশি, কাঙালের ক্ষুধা বেশি অলক্ষ্মীর পড়ে পড়ে শুধু ঘুমায়; কাঙাল শুধু খাওয়ার চিন্তা করে।
অলভ্যের বানিজ্যে কচকচিই সার যে ব্যবসায়ে লাভ হয় না শেখানে ঝগড়া বিবাদ ছাড়া আর কিছু হয় না।
অলমতিবিস্তরেণ আর বেশি লেখার কিছু নেই; বাহুল্যে প্রয়োজন নেই।
অলস ভেড়া ভাবে তার পশম বড় ভারী অলস একটু ভারও বইতে নারাজ।
অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা অকাজ করার চিন্তা সবসময় মাথায় ঘুরঘুর করে।
অলসতা দারিদ্র ডেকে আনে কাজ না করায় অন্ন জোটে না।
অলসতা মনে জং ধরায় চিন্তাভাবনা করার ইচ্ছা মনে জাগে না।
অলসস্য কুতো বিদ্যা, অবিদ্যাস্য কুতো ধনম্‌। অধনস্য কুতো মিত্রম্‌, অমিত্রস্য কুতো সুখম্‌॥ চাণক্য অলসের বিদ্যা কোথায়; অবিদ্যার ধন কোথায়; নির্ধনের বান্ধব কোথায় এবং নির্বান্ধবের সুখ কোথায়?
অলসব্যক্তি বাকপটুতায় নিরলস অলস ব্যক্তি বকে বেশি।
অলসের অন্ন জোটে না অলসের ভাগ্য অলসের মতই শুয়ে থাকে।
অলসের অলব্ধ-লাভ হয় না অলসের প্রাপ্তি শূন্য
অল্প আগুনে গা গরম হয়; বেশি আগুনে ঘর পোড়ে/অল্প আগুনে শীত হরে, বেশি আগুন পুড়িয়ে মারে সব বিষয়ে মাত্রাজ্ঞান থাকা দরকার।
অল্পকথাতেই জ্ঞানীরা বোঝে জ্ঞানীরা সারসংক্ষেপ পছন্দ করে।
অল্প খেলে বেশি খাবে, বেশি খেলে অল্প খাবে অল্প খেলে আয়ু বেশি দিন হয় ফলে বেশি দিন ধরে খাওয়া খায়।
অল্পগর্জনে ভারীবর্ষণ কাজের লোকেরা কম কথা বলে।
অল্পজলে সফরি ফরফরায়তে/অল্পজলের তিতো পুঁটি, তার এত ছটফটি অল্পবিদ্যার অধিকারীরাই বেশি বিদ্যা জাহির করে।
অল্পজলে পুঁটিমাছ ফরফর করে; অগাধজলে কাৎলামাছ নিঃশব্দে সরে। অল্পজ্ঞানীদের অহঙ্কার বেশি হয় এবং সেই অহঙ্কারে কথাবার্তায় জাহির করে' জ্ঞানীরা নিঃশব্দে কাজ সারে।
অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী সামান্য বিদ্যা খুব ক্ষতিকর কারণ এতে অহংকার জন্মে অথচ প্রকৃত পাণ্ডিত্য লাভ হয় না।
অল্পজ্ঞানীরা অহংকারী হয় অল্প লেখাপড়া জানা ব্যক্তিরা অতিদর্প দেখায়
অল্পবৃষ্টিতে কাদা, বেশিবৃষ্টিতে সাদা অল্পজ্ঞানীর ভাবনাচিন্তা অসচ্ছ হয়; জ্ঞানীপুরুষের ভাবনাচিন্তা সচ্ছ হয়; অন্য অর্থে শোকে অল্প কান্নায় শোক বৃদ্ধি পায়। কিন্তু টানা কান্নায় শোকের অনেকটা লাঘব হয়।
অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর অল্প শোকে মানুষ হা-হুতাশ করে, কিন্তু বেশি শোকে শোক প্রকাশের পথ না পেয়ে দুখী মূক, নিথর য় নিঃসাড় হয়ে যায়।
অশুভস্য কালহরনম অশুভ কাজে কালক্ষেপণ কর্তব্য।
অশোচ্যা নির্ধনঃ প্রাজ্ঞোহশোচ্যঃ পণ্ডিতবান্ধবঃ। অশোচ্যা বিধাব নারী পুত্রপৌত্রপ্রতিষ্ঠাতা॥ জ্ঞানী নির্ধন হলেও শোচনীয় নন, যে ব্যক্তির বন্ধু পণ্ডিত তিনিও শোচনীয় নন, পুত্রপৌত্রের দ্বারা পরিপালিতা বিধবা নারীও শোচনীয় নন।
অশ্বত্থের ছায়াই ছায়া, মায়ের মায়াই মায়া অশ্বত্থগাছ বিরাট ও বিশাল; তার ছায়া সুশীতল; আশ্রয় নিতে হলে অশ্বত্থগাছে মত মহতের কাছে নিতে হয়; মায়ের স্নেহ ও মমতারও কোন তুলনা হয় না; আসলের কাছেই আসল জিনিষ পাওয়া যায়।
অশ্বত্থামা হত ইতি গজ সত্যের আড়ালে মিথ্যা কথন; মহাভারতে যুধিষ্ঠিরের একবারমাত্র মিথ্যাভাষণের উল্লেখ আছে।
অসংভাব্যং ন বক্তব্যং প্রত্যক্ষমপি দৃশ্যতে। ডশলা তরতি পানীয়ং গীতং গায়তি বানরঃ।। (চাণক্য) পাথর জলে ভাসছে, বানর গান করছে- এইরকম অসম্ভব ঘটনা স্বচক্ষে ঘটতে দেখলেও বলা উচিত নয়।
অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা অনেক ভালো কোন মন্দই ভালো নয়।
অসৎ পথের আয় অসৎ পথেই যায় উৎপাতের আয় চিৎপাতে যায়।
অসৎ সঙ্গ থেকে নিঃসঙ্গতা অনেক ভাল দুর্জনের সংসর্গ কাম্য নয়।
অসন্তুষ্টা দ্বিজা নষ্টা দ্বিজ অসন্তুষ্ট হলে বিনষ্ট হয়।
অসময়ের দিনগুলি দীর্ঘতর হয় অসময়ের দিনগুলি কাটতেই চায় না।
অসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু দুর্বিপাক বন্ধুত্ব বিচারের কষ্টিপাথর
অসময়ে সকলি সই, শোনরে দুঃখ তোরে কই দুর্ভাগ্যের সব ফের গা-সহা হয়ে গেছে।
অসম্ভব কোন কাজ বলা সহজ করা কঠিন বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা বলা সহজ, করা কঠিন।
অসম্ভবের পিছনে ছোটো না যা হয় না তা পাওয়ার চেষ্ঠা করা বৃথা।
অসম্মানীয় ব্যক্তি অপরকে অসম্মান করে যার সম্মানবোধ নেই সে কাউকে সম্মান করতে জানে না
অসার সংসারে সার শ্বশুরের ঘর কৌতুকে- জামাই আদরের কথা বলা হয়েছে
অসারের তর্জন গর্জন সার গুণহীন ব্যক্তিরা বৃথা আস্ফালন করে।
অসি থেকে মসী বড় পেশীর জোর থেকে বুদ্ধির জোর বেশি।
অস্তি পুত্রো বশে যস্য ভৃত্যোভার্যা তথৈব চ। অভাবে সতি সন্তোষঃ স্বর্গস্থোহসৌ মহীতলে॥ (চাণক্য) যাঁর পুত্র, ভৃত্য, স্ত্রী বশে আছে, অভাবের মধ্যেও যিনি প্রসন্ন থাকেন- তিনি পৃথিবীতে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে স্বর্গে আছেন।
অস্তি নাস্তি না জানন্তি দেহি দেহি পুনঃপুনঃ আছে কি নেই ভাবে না, কেবল বলে দাও দাও; প্রবাদটি অতিথি শিশু ও নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
অস্থানে তুলসী, অপাত্রে রূপসী উৎকৃষ্ট বিষয়ের অপব্যবহার।
অস্থির চিত্ত প্রতিষ্ঠা পায় না মন শান্ত না হলে কোন কাজ হয় না।
অস্থির পতঙ্গ আগুনে পোড়ে/অস্থির বাঘ জালে পড়ে অস্থির মন নানাদিক থেকে বিপদে পড়ে।
অহংকারীরা অল্পজ্ঞানী হয় অল্পজ্ঞানীরা বিনয় কি বস্তু জানে না।
অহংকারে গদগদ, মাটিতে পড়ে না পদ অহংকারীরা সাধারণ মানুষকে মানুষ বলে গ্রাহ্য করে না।
অহংকার পতনের মূল/অহঙ্কার পতন ডেকে আনে অহঙ্কারে পতন অনিবার্য।
অহংকারে পথ দেখতে পায় না অহংকারীর বিচারশক্তি থাকে না।
অহিংসা পরমো ধর্ম দয়াই শ্রেষ্ঠ ধর্ম; কারো হিংসা না করা বা অনিষ্ট না করাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
আঁচ আছে, আগুন নাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।
আঁটকুড়ের ব্যাটা নিঃসন্তানের সন্তান অসম্ভব ব্যাপার- গালিবিশেষ
আঁটকুড়েরা মানুষ নয়-ইহুদী প্রবাদ নিঃসন্তানের বাৎসল্যবোধ থাকে না।
আঁটাআঁটি হলেই লাঠালাঠি হয় মন কষাকষি হলেই ঝগড়াঝাটিতে পরিণত হয়।
আঁটি চোষা পদার্থের সার অংশ থেকে বঞ্চিত হওয়া।
আঁটুনি কসুনি সার কেবল সরগরম করা; কাজের কিছুই নয়।
আঁত পাওয়া ভার মনোভাব বোঝা কঠিন; বড় চাপা স্বভাবের লোক।
আঁতে ঘা দেওয়া অন্তরে আঘাত দেওয়া; মর্মপীড়া দেওয়া।
আঁধার ঘরের মাণিক পরম আদরের সন্তান।
আঁস্তাকুড়ের পাত কখনো স্বর্গে যায় না মন্দব্যক্তি ভালসঙ্গ পায় না।
আইতেও একা, যাইতেও একা, কার সঙ্গে বা কার দেখা কেউ কারো নয়; কেউ কারো সঙ্গে আসে না, কাউকেও সঙ্গে নিয়েও যায় না।
আইতে ছাগল, যাইতে পাগল দেরী সয় না, তড়বড়ে।
আইতে শাল যাইতে শাল তার নাম বরিশাল বরিশালের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত শালতি ছাড়াসম্ভব নয়।
আওলে (অস্থির) বাঘ জালে পড়ে চঞ্চল মন নানা সমস্যায় জড়ায়।
আকন্দে যদি মধু পাই তবে কেন পর্বতে যাই কেউ কষ্ট স্বীকার করে না।
আকস্মিক প্রাপ্তি কাকতালীয়, দৈব ঘটনা নয় বিধি পুরুষাকারের জন্য অপেক্ষা করে।
আকাটা নায়ের সাজ বেশি নৌকা তৈরী হওয়ার আগেই সাজসঞ্জাম প্রস্তুত; রামের আগে রামায়ণ; বেশি বাড়াবাড়ি।
আকামের মাঝু, কদু কুটনের যম। অকর্মা বউ লাউ কুটতে খুব ওস্তাদ।
আকালে কিনা খায়, পাগলে কি না বলে আকালে সবাই সবকিছু খায়; পাগলেও না বুঝে বাচ্য অবাচ্য বলে; অজ্ঞানের কথাবার্তা না ধরাই ভালো।
আকালে কিনা খায়, বিবাদে কিনা যায় দুর্ভিক্ষে খাবারের বাছবিচার চলে না; ঝগড়াবিবাদে জড়ালে অর্থ, সুখ, শান্তি সবই নষ্ট হয়।
আকাঙ্ক্ষার কোন শেষ/সীমা নাই চাওয়ার কোন শেষ নেই; একটা মিটলে আরেকটা এসে উপস্থিত হয়।
আকাশকুসুম চিন্তা যে চিন্তা কোনো দিন বাস্তবায়িত হবে না।
আকাশপাতাল চিন্তা নানারকমের দুশ্চিন্তা।
আকাশে থুতু ফেললে নিজের গায়ে পড়ে/আকাশে ধূলো ছোঁড়ে, আপন চোখে এসে পড়ে আত্মীয়স্বজনের নিন্দা করলে নিজেরই নিন্দা করা হয়; বোকার মত কাজ করলে নিজের ক্ষতি হয়।
আকাশে ফাঁদ পেতে চাঁদ ধরতে চায়/ আকাশে ফাঁদ পেতে বনের পাখি ধরতে চায় দূরাশায় বসে থাকা; যে হয় না তার বৃথা চেষ্টা; বৃথা চেষ্টা থেকে কোন ফললাভ হয় না।
আকাশে যত ঝড় ওঠে, গোয়ালে তত গরু ছোটে পূর্ব বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে বিপদের আশঙ্কা।
আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া দুর্লভ বস্তু হাতে পাওয়া।
আকাশের নীচে কিছুই অসম্ভব নয় বাস্তব ঘটনা অনেকসময় কল্পনাকেও হার মানায়।
আকৃতি থেকে প্রকৃতি/আচরণ ভালো রূপ থেকে গুণের কদর বেশি; সুন্দর কাজের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
আক্কেল গুড়ুম ভয়ে বা বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে যাওয়া।
আক্কেল সেলামি নির্বুদ্ধিতার দণ্ডদান; ঝকমারির মাসুল।
আক্রমণই প্রতিরোধের প্রকৃষ্ট উপায় প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আখ আর ষর্ষে না পিষলে রস কিসে? রস পেতে হলে রসেভরা জিনিষ কচলাতে হয়; রসিকমনের কাছে গেলে রসের খোঁজ পাওয়া যায়।
আগাছা ছাড়া বাগান হয় না দোষেগুণে মানুষ; সংসারে ভালোমন্দ মিশিয়ে মানুষ আছে।
আগাছার বাড় বেশি, ফল কম জগতে অপ্রয়োজনীয় বস্তুর প্রাচুর্য বেশি হয়; বিনা পরিশ্রমে যেমন প্রয়োজনীয় বস্তু পাওয়া যায় না তেমনি বিনা পরিচর্যায় যোগ্যমানুষ হয় না।
আগামীকাল কখনো আসে না ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত; কাল করব বললে কাজ কোনদিন শেষ হবে না; কালে ধরায় রাবণের স্বর্গের সিঁড়ি হয় নি।
আগামীকালের একটি হাঁস থেকে আজকের একটি ডিম বেশি দামী আগামী কাল থেকে আজকের দাম অনেক বেশি। আগামীকাল অনিশ্চয়তায় ভরা; নগদ যা পাও হাত পেতে নাও।
আগুন কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না/আগুন চাপা থাকে না/আগুন ছাইচাপা থাকে না গুণ বা সত্য গোপন করা যায় না; পাপ কখনো ঢাকা থাকে না।
আগুন দিয়ে আগুন তাড়ানো যায় না/নেভে না শত্রুতা করে শত্রুনাশ হয় না, প্রেমে হয়।
আগুন না থাকলে ধোঁয়া হয় না কার্যের পিছনে কারণ থাকে, অকারণে কিছু হয় না; অকারণে গাছের একটি পাতাও নড়ে না।
আগুন নিয়ে খেলা বিপজ্জনক বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করা।
আগুন পোহাতে গেলে ধোঁয়া সইতে হয় অবিমিশ্র সুখ হয় না; কষ্টবিনা কেষ্ট নাই; ন সুখং দুঃখৈর্বিনা লভ্যতে।
আগুনে ঘি ঢালা উত্তেজনা/রাগ বৃদ্ধি করা।
আগুনে পুড়ে সোনা/সীতা খাঁটি জীবনযন্ত্রণায় না পুড়লে মানুষ খাঁটি হয় না।
আগুনে হাত দিলে ইচ্ছাতেও পোড়ে, অনিচ্ছাতেও পোড়ে আগুনের কোন বাছবিচার নেই; বিপদকে আহ্বান করলে বিপদ এসে জড়িয়ে ধরে।
আগুনের কাছে ঘি গাঢ় থাকে না আগুনের কাছে ঘি থাকলে গলবেই; প্রবলের সাথে দুর্বল পেরে ওঠে না; ঘি নারীসম; আগুন পুরুষসম; পুরুষের সামনে নারী স্থির থাকে না।
আগুয়ান ঘটনা সামনে তার ছায়া ফেলে- চীনা প্রবাদ কি ঘটতে চলেছে আগেভাগেই অনুমান করা যায়।
আগে আপন পরে পর, আপন সামালে পরকে ধর নিজে ভাল না থাকলে পরের ভালো করা যায় না; বৈদ্য আগে নিজেকে সামলায়; খয়রাত ঘর থেকে শুরু হয়।
আগে আমি, পরে বাপ আগে নিজের স্বার্থ পরে অপরের স্বার্থ সামলানো।
আগে উপযুক্ত হও, পরে আকাঙ্ক্ষা কর কিছু চাইলে আগে পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন কর।
আগে কড়ি পিছে কাজ মাগনায় কিছু হয় না; নগদ দাম দাও, তবে জিনিষ দেব; ফেলো কড়ি মাখো তেল।
আগে কাজ, পিছে আরাম/বাত- হিন্দি প্রবাদ কাজের দাবি সর্বাগ্রে।
আগে গেলে বাঘে খায়, পাছে গেলে টাকা/সোনা পায় তাড়াতাড়ি করা নেই, তাতে ভুল হয়; কার্যসিদ্ধির জন্য সময় লাগে।
আগে গেলেও দোষ, পাছে গেলেও দোষ উভয়সঙ্কট; ভাগ্য বিরূপ হলে সব কাজই বিফল হবে।
আগে গেলেও নির্বংশের ব্যাটা/ভেড়ের ভেড়ে, পাছে গেলেও নির্বংশের ব্যাটা/ভেড়ের ভেড়ে এমন এক অবস্থা যেখানে নিন্দাছাড়া সাধুবাদ নাই; দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না।
আগে ঘর পরে পর, ঘর সামলে পরকে ধর খয়রাত ঘর থেকে শুরু হয়; প্রবাদটিতে স্বার্থে গন্ধ আছে।
আগে জামাই কাঁঠাল খান না, শেষে জামাই ভোঁতাও পান না আহাম্মকের বাঁকাবুদ্ধি।
আগে তিতা, শেষে মিঠাও স্বাস্থ্যের কারণে বৈদ্যের বিধান।
আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী বাহ্যিক সৌন্দর্যই প্রথম আকর্ষণ করে।
আগে দুখ পরে সুখ তাতে মানসিক শান্তি বেশি হয়।
আগে দেখো, পরে লাফাও বিপদের কথা চিন্তা না করে কোন সিদ্ধান্ত নিও না; বিবেচক এক পা দেখে এক পা রাখে।
আগে না বুঝিলে বাছা যৌবনের ভরে, পশ্চাতে কাঁদিতে হবে নয়নের ঝোরে যৌবনের অহঙ্কারে ভালমন্দ বিচার না করে কাজ না করলে বৃদ্ধবয়সে পস্তাতে হবে।
আগে পাজি, পরে কাজী, পরে হাজী, শেষে গাজী শুরুতে দুস্কৃতি, পরে সুবুদ্ধিসম্পন্ন, পরে ধর্মভীরু, শেষে ধর্মব্যবসায়ী-শুরু যেখানে শেষ সেখানে।
আগে পিঠে দড় তবে ঘোড়ার পিঠে চড় শক্তি ও সামর্থ থাকলে তবেই কঠিন কাজে হাত দেওয়া উচিৎ।
আগে ফাঁসি পরে বিচার উদ্ভট কার্যকলাপ; উল্টোপুরাণ।
আগে ভাল ছিল জেলে জালদড়া বুনে, কি কাজ করিল জেলে এঁড়ে গরু কিনে বেশি লোভ করলে ফল খারাপ হয়; অভ্যস্ত কাজ ছেড়ে অনভ্যস্ত কাজে হাত দিলে ফল ভালো হয় না।
আগে রামনাম, পরে সবকাম দুর্বলচিত্তের লোক ভগবানের নাম নিয়ে সবকাজ শুরু করে।
আগে রাহ বাতায়ে পাছে গোঁতা- হিন্দি প্রবাদ প্রথমে পথ দেখায় পরে ধাক্কা মারে; গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়ার মত ব্যাপার।
আগে সামলা ধাক্কা, পরে যাবি মক্কা আগেতো বাঁচো; পরে ভগবানের নাম করা যাবে।
আগে হলাম আমি, পিছে হল মা; হাসতে হাসতে দাদা হলো, বাবা হলো না অর্থহীন হেঁয়ালি; কথার কোন মাথামুণ্ড নেই; পাগলের প্রলাপ।
আগে হাঁটে, পাঁঠা কাটে, প্রদীপ উস্কোয়, দই বাঁটে; ভাণ্ডারী, কাণ্ডারী, রাঁধুনী বামুন, যশ পায় না এই সাতজন এই কাজের লোকেরা ঠিকঠাক কাজ করলে প্রশংসা পায় না; কিন্তু একটু ভুল হলেই নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।
আগের চেয়ে দেরী ভালো ভালো কাজ হলে ভেবেচিন্তে দেরীতে করাই ভালো।
আগের পাখি পোকা/মাছি ধরে- ইংরাজী প্রবাদ সামনের লোকের সুযোগ সদব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আগের লাঙল/হাল যে দিকে যায় পাছের লাঙল/হাল সে দিকে যায় অন্ধভাবে অন্যের অনুকরণ করা।
আগ্রার মানুষ তাজমহল দেখে না সহজলভ্য জিনিসের মূল্য নেই।
আঙুর ফল টক অলভ্য জিনিষ মন্দ।
আঙুল ঘুরিয়ে পাঁচিল দেওয়া বাঁকাপথে কাজ করা।
আঙুল ফুলে কলাগাছ অবৈধ পথে দ্রুত উন্নতি লাভ; হঠাৎ বিত্তশালী।
আচার ভ্রষ্ট, সদা কষ্ট অনুশাসন না মানলে জীবনে ভোগান্তি আছে।
আচারে বাড়া, বিচারে এড়া আচারসর্বস্ব ব্যক্তি, যে যুক্তির ধার ধারে না।
আচারে লক্ষ্মী, বিচারে পণ্ডিত সর্ব্যবগুণসম্পন্ন/সম্পন্না।
আছে কাজ তাই সকালসকাল সাজ কাজ থাকলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়।
আছে গরু না পায় হালে, দুঃখ না ছাড়ে কোন কালে- খনা গরু আছে অথচ চাষ করে না, তার অভাব কখনই যাবে না;পরিশ্রমবিনা সৌভাগ্য আসেনা।
আছে যথেষ্ট, নেই অদৃষ্ট ভাগ্য না থাকলে ভোগ হয় না।
আজ আমীর কাল ফকির ভাগ্যের ফের; চিরদিন কারো সমান যায় না।
আজ খায় না রাগে, কাল সবার আগে ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধি খোলে।
আজ বুঝলি না বুঝবি কাল, বুক চাপড়াবি পাড়বি গাল সময়ের কাজ সময়ে না করলে উল্টো বিপত্তি হতে পারে।
আজ মরলে কাল দুদিন হবে দুঃসহ জীবনযন্ত্রণা।
আজ মুচি কাল শুচি ভাগ্য পরিবর্তিত হয়।
আজ রাজা কাল ভিখারী ফুটানি করে দিন দুচারি সবদিন কারো সমান যায় না।
আজই সত্য, আগামীকাল কখনো আসে না আজকের কথা আজ ভাব, কালকের কথা কাল হবে।
আটেপিঠে দড় তবে ঘোড়ায় চড় দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে যাওয়া উচিত।
আঠারো মাসে বছর অতিশয় দীর্ঘসূত্রতা।
আড়াই আঙ্গুল দড়ি, সৃষ্টি জুড়ে বেড়ি অল্প আয়োজনে সব প্রয়োজন মেটাবার আপ্রাণ চেষ্টা; সামান্য উপায়ে বিশাল কাজ সম্পাদনের চেষ্টা।
আড়াই কড়ার কাসুন্দি, হাজার কাকের গোল অল্প পরিমাণ দ্রব্য পাওয়ার জন্য সকলের মধ্যে কাড়াকাড়ি।
আড়াই দিনের বাদশাহী অল্পদিনের ফুটফুটানি।
আতি চোর,পাতি চোর, হ’তে হ’তে সিঁদেল চোর ক্রমশঃ দাগী আসামীতে পরিণত; সামান্য অপরাধ করতে করতে শেষে বিরাট অপরাধ করে ফেলে।
আতুরে নিয়ম নাস্তি বালে বৃদ্ধে তথৈবচ। কুলাচাররতে চৈব এষ ধর্ম সনাতনঃ অসুস্থ অবস্থায় নিয়ম পালনের প্রয়োজন নেই; শিশু ও বৃদ্ধরা নিয়মের অধীন নয়; যাঁরা কুলাচারনিষ্ঠ তাঁদেরও নিয়ম না মানলে চলে; এটাই সনাতন ধর্ম।
আত্ম রেখে ধর্ম, তবে পিতৃ কর্ম আগে নিজে বাঁচো অপরের কথা পরে ভাবা যাবে; স্বার্থপরের উক্তি।
আত্মচ্ছিদ্রং ন জানাতি পরচ্ছিদ্রানুসারিণঃ/ আত্মচ্ছিদ্রং ন জানাতি পরচ্ছিদ্রং পদেপদে নিজের দোষ দেখে না পরের দোষ খুঁজে বেড়ায়।
আত্মতুষ্টি সঙ্কীর্ণ মনের পরিচয় কূপমণ্ডুক সঙ্কীর্ণমনা হয়।
আত্মনং বিদ্ধি নিজেকে জানাই প্রথম কাজ।
আত্মনং সততং রক্ষেৎ (যেকোন মূল্যে) নিজেকে সর্বদা রক্ষা করবে।
আত্মবৎ সর্বভূতেষু য পশ্যতি সে পণ্ডিত- চাণক্য যিনি সকল প্রাণীকে আত্মসম বিবেচনা করেন তিনি পণ্ডিত।
আত্মবন্মন্যতে জগৎ যে যে রকম যে জগতকে সেরকম ভাবে।
আত্মারাম খাঁচাছাড়া প্রচণ্ড ভয়ে বিবর্ণ/প্রাণপাখি উড়ে গেছে।
আত্মার্থে পৃথিবীং ত্যজেৎ আত্ম রক্ষার্থে পার্থিব সবকিছু পরিত্যাগ করবে।
আদব শেখো বেয়াদবের কাছে বেয়াদব যা করে তার উল্টোটাই হল আদবকায়দা।
আদরে বাঁদর বনে প্রশ্রয়ে চরিত্রগুণ নষ্ট হয়।
আদরে ভোজন কি করে ব্যঞ্জন আদরের ডাল-ভাতও বিনা আদরের ঘি-ভাতও অনেক ভাল; প্রীতিভরে খাওয়ালে প্রীতিতেই পেট ভরে যায়, ব্যঞ্জনে নজর থাকে না।
আদা ওষুধের আধা আদা অর্ধেক রোগ ভালো করে।
আদা জল খেয়ে লাগা উঠেপড়ে লাগা; কার্যসিদ্ধির জন্য একমনে প্রাণপণ চেষ্টা করা।
আদা ঝালের গাদা গুণহীন পুরুষের রাগ-ঝাল বেশী।
আদা শুকালেও ঝাল যায় না স্বভাব যায় না মলে; দুষ্টলোক দমিত হলেও দুষ্টবুদ্ধি ছাড়ে না।
আদাড় গাঁয়ে শিয়াল রাজা বুনোগাঁয়ে শিয়ালকেই বাঘ বলে মনে হয়; যেখানে বিদ্বান লোক নেই সেখানে অল্পবিদ্বানেরা পাণ্ডিত্য ফলায়।
আদায় কাঁচকলায় সম্বন্ধ আদা ও কাঁচকলা একসাথে সিদ্ধ হয় না; সুতরাং চির বৈরীভাব, স্বভাব-শত্রুতা, জ্ঞাতি-শত্রুতা
আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবরের কাজ কী? তুচ্ছলোকের বড় ব্যাপারে নাক গলানো অনুচিত; বিষয়টা অনধিকার চর্চার মধ্যে পড়ে।
আদি অন্ত পাওয়া ভার ভেবে কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না; সমস্যার অন্ত নেই।
আদি কহিলে মানুষ রুষ্ট মানুষ অতীত ঘাটতে চায় না; অতীত ঘাটলে অনেক অপ্রীতিকর কথা এসে যায়; তাতে মানুষ রুষ্ট হয়।
আদুরে গোপাল অত্যন্ত আদরে পালিত সন্তান; লাই দিয়ে তার ইহকাল পরকাল ঝর্ঝরে।
আদেখলার ঘটি হল, জল খেতে খেতে পরাণ গেল আদেখলারা প্রথমে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলে।
আদ্দিকালের বদ্দিবুড়ো অতিবৃদ্ধব্যক্তি, থুত্থুড়ে বুড়ো।
আন্‌ কাপাস নে তুলো কাঁচামাল আনো, জিনিষ নিয়ে যাও।
আন শুনতে কান/ধান শোনে কালা, উল্টোপাল্টা শোনে।
আন (অন্য) মাগীর আন (অন্য) চিন্তে, দুয়ো মাগীর পতি চিন্তে অন্যান্য নারীরা সংসারের নানাচিন্তায় ব্যস্ত থাকে, কিন্তু যে নারীর সতীন আছে, সে স্বামীছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারে না।
আন (অন্য) সতীনে নাড়ে চাড়ে, বোন সতীনে পুড়িয়ে মারে আপন থেকে পর ভাল; নিজের লো্কই বেশি আঘাত হানে; রক্তের সম্পর্কের লোকেরা বেশি অনিষ্ট করে।
আনন্দ ও কাজ সময়কে সংক্ষিপ্ত করে মনের আনন্দে কাজ করতে করতে কিভাবে যে সময় কেটে যায় খেয়াল থাকে না।
আনারস বলে কাঁঠাল ভাই তুমি বড় খসখসে নিজের দোষ দেখে না পরের দোষ খুঁজে বেড়ায়।
আন্ধা নগরী চৌপট রাজা; টাকা সের ভাজী, টাকা সের খাজা- হিন্দি প্রবাদ অসারের মেলায় গুণের কদর নেই।
আন্ধা-এ দোকানদেরে খরিদ করে কালে- হিন্দি প্রবাদ দুইই সমান অপদার্থ।
আপ ভলা তো জগ্‌/সব্‌ভলা-হিন্দি প্রবাদ ভালোর চোখে সবই ভাল।
আপরুচি খানা পররুচি পরনা- হিন্দি প্রবাদ নিজের পছন্দমত খাও; পরের পছন্দমত পরো।
আপদাং কথিতঃ পন্থা ইন্দ্রিয়াণামসংযমঃ। তজ্জঃ সম্পদাং মার্গো যেনেষ্টং তেন গম্যতাম্॥ (চাণক্য) ইন্দ্রিয়ের অসংযম সকল অনিষ্টের পথ, ইন্দ্রিয়ের জয় সকল উন্নতির পথ; যে পথে মঙ্গল, সে পথে চল।
আপদর্থং ধনং রক্ষেদ্ দারান্ রক্ষেদ্ধ নৈরপি। আত্মানং সততং রক্ষেদ্ দারৈরপি ধনৈরপি।। (চাণক্য) বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য ধন-সম্পত্তি রক্ষা করবে; ধন সম্পত্তির বিনিময়েও স্ত্রীকে রক্ষা করবে; স্ত্রী বা ধন-সম্পত্তির বিনিময়েও নিজেকে সকল সময় রক্ষা করবে।
আপন কখনো পর হয় না কাছের মানুষ কখনো দূরের হয় না।
আপন কোটে পাই চিঁড়ে কুটে খাই নিজের আয়ত্বে কাউকে পেলে তাকে নিয়ে যা ইচ্ছা করা যায়।
আপন কোলে ঝোল সবাই টানে সবাই নিজের স্বার্থ আগে দেখে।
আপন গাঁয়ে কুকুর/শিয়াল রাজা; নিজের ঘরে সবাই রাজা নিজের এলাকায় সবাই কর্তৃত্ব ফলায়।
আপন গেলে ঘোল পায় না চাকরকে পাঠায় দুধের তরে বুদ্ধিহীনতার প্রতি ব্যঙ্গ।
আপন ঘর রাজপ্রাসাদ নিজের ঘরের মত সুন্দর স্থান জগতে নেই।
আপন চরকায় তেল দাও নিজের কাজে মন দেওয়া উচিৎ।
আপন পাঁঠা লেজে কাটি স্ব-ইচ্ছা কাজ করার পক্ষে ওকালতি; নিজের অধিকারে সব কাজ স্বাধীনভাবে করা যায়।
আপন বুদ্ধিতে ছিল ভাল, পরবুদ্ধিতে পাগল হল/আপন বুদ্ধিতে ছিল ভাল, পরবুদ্ধিতে পাগল; বাঁচাতে গিয়ে হাঁসের ডিম গলায় পড়ল ছাগল নিজের বুদ্ধিতে চলা ভালো; পরের বুদ্ধিতে চলা ঠিক নয়; পরের বুদ্ধিতে চলে যদি কোন ক্ষতি হয় তবে আফশোসের সীমা থাকে না।
আপন বুদ্ধিতে তর, পরের বুদ্ধিতে মর/ আপন বুদ্ধিতে ফকির হই, পর বুদ্ধিতে বাদশা নই/ আপন বুদ্ধিতে ভাত, পরের বুদ্ধিতে হা-ভাত নিজের বুদ্ধি অনেক ভালো; ভাল হোক মন্দ হোক অনেকে এই গোঁ ধরেই কাজ করে।
আপন বেলায় আঁটিসাটি, পরের বেলায় দাঁতকপাটি নিজের স্বার্থের দিকে ষোলআনা নজর; পরের স্বার্থ চুলোক যাক।
আপন বেলায় চাপন-চোপন পরের বেলায় ঝুরঝুরে মাপন ক্রেতা হ'লে ওজনে ঝুঁকতি চায়; বিক্রেতা হ'লে পাল্লার কাঁটার দিকে নজর রাখে; আপনার দিকে বেশি রাখে পরকে দেয় সামান্য।
আপন ভাই ভাত পায় না, শালার তরে মণ্ডা এককেশে বিচার; বিচারে এড়া; বৌয়ের আঁচল ধরা ব্যক্তি।
আপন ভাল তো জগৎ ভাল ভালোর চোখে সবই ভাল।
আপন ভাল পাগলও বোঝে যার বিন্দুমাত্র বোধজ্ঞান আছে সেও নিজের স্বার্থটা ভালো বোঝ্যক্ত
আপন মান আপন ঠাঁই নিজের মান নিজের আশ্রয়।
আপনা গলিমে/মহল্লামে কুত্তা শের-হিন্দি প্রবাদ নিজের এলাকায় সবাই কর্তৃত্ব ফলায়।
আপনা মাংসে হরিণা বৈরি= হিন্দি প্রবাদ হরিণের শত্রু তার মাংস; নিজেই নিজের শত্রু।
আপনা রামকো ভজৈ, রিজ ভজে বা খিজ- হিন্দি প্রবাদ ইষ্টদেবতাকে যেভাবেই ভজনা কর-না-কেন তিনি ঠিক বুঝতে পারেন।
আপনা হাত জগন্নাথ খুব কৃপণস্বভাবের লোক; কাউকে কিছু দিতে হ'লে একেবারে ঠুঁটো (হস্তহীন) জগন্নাথ।
আপনা হাত জগন্নাথ, পরের হাত এঁটো পাত নিজের সব ভালো, পরের সব খারাপ।
আপনার আপনার কিছু নয়, জগৎ কেবল মায়াময় এই সংসারে আমার তোমার বলে কিছু নেই, সবই অনিত্য।
আপনার কথা কয় না শালী পরকে বলে টেবোগালী নিজের ছিদ্র জানে না পরের ছিদ্র খুঁজে বেড়ায়।
আপনার গায়ে/গুয়ে গন্ধ নেই পরের গায়ে/গুয়ে গন্ধ/ আপনার ঘামে/বগলে গন্ধ নেই পরের ঘামে/বগলে গন্ধ নিজের সব ভালো, পরের সব খারাপ।
আপনার ঘোল কেউ টক বলে না নিজের দোষ কেউ দেখে না।
আপনার চড়কায় তেল দাও নিজের কাজ কর পরের কাজে নাক গলিয়ো না।
আপনার চেয়ে পর ভাল; পরের চেয়ে জঙ্গল ভাল আমার নিজের এই ধারণাটাই সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আপনার ছিদ্র জানে না পরের ছিদ্র খোঁজে নিজের দোষ দেখে না পরের দোষ খোঁজে।
আপনার ছেলেটি খায় এতটি, চলে/বেড়ায় যেন ঠাকুরটি; পরের ছেলেটা খায় এতটা, চলে/বেড়ায় যেন বানরটা মন্দ হলেও নিজের বস্তু ভালো; ভালো হলেও পরের বস্তু মন্দ।
আপনার ঢোল আপনি পেটায়/বাজায় আত্মপ্রশংসায় পঞ্চমুখ।
আপনার ধন পরকে দিয়ে দেবকী মরে মাথা খুঁড়ে/ আপনার ধন পরকে দিয়ে মর এখন পাত কুড়িয়ে আগে অধিকার ছেড়ে পরে হাহুতাশ করা; সম্পদ বিলিয়ে দিলে পরের অনুগ্রহে বাঁচতে হয়।
আপনার নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা নিজের ক্ষতি স্বীকার করে পরের ক্ষতি করা।
আপনার পাঁজি পরকে দিয়ে দৈবজ্ঞ বেড়ায় মাথায় হাত দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিষ পরের হাতে থাকলে দরকারের সময় অনেক অসুবিধা হয়।
আপনার পাঁঠা লেজে কাটে আপনার বিষয়ে যা খুসি করা যায়; তাতে কারো কিছু বলার থাকে না; নিজের ভাল সবাই বোঝে।
আপনার পায়ে কুড়ুল মারে জেনেশুনে নির্বুদ্ধিতায় নিজের ক্ষতি করে।
আপনার বেলায় আঁটিসাটি পরের বেলায় দাঁতকপাটি নিজের বেলায় কড়াকড়ি; পরের বেলায় কিছু না।
আপনার বিড়াল পথ্যি পায় না যার নিজের অন্নের সংস্থান নেই তার পক্ষে অন্যকে সাহায্য করা অসম্ভব।
আপনার ভাল পাগলেও বোঝে আপনার ভাল সবাই বোঝে; যার সামান্য বুদ্ধি আছে সেও স্বার্থটা ভালো বোঝে।
আপনার মত জগৎ দেখা নিজের আয়নায় পরকে দেখা; গুণী কোন নির্গুণ খুঁজে পায় না, নির্গুণ আবার কোন গুণী খুঁজে পায় না।
আপনার মাথা আপনি খায় নিজের ক্ষতি নিজেই করে।
আপনার মন দিয়ে পরের মন জানা নিজেকে দিয়ে পরের বিচার করা; নিজের আয়নায় পরকে দেখা।
আপনার মান আপনি রাখি, কাটা কান চুলদে ঢাকি আত্মসম্মান নিজের হাতে; নিজের মান নিজেকেই বাঁচাতে হয়; ঘরের কথা বাইরে যে বলে সে আহাম্মক।
আপনারটা ঢাকা থাক পরেরটা বিকিয়ে যাক পরেরটা নষ্ট হয় হোক, নিজেরটা ভালো থাকলেই হল।
আপনারটা ষোলআনা, পরেরটা কিছু না নিজের বেলায় সবটাই নেবো, পরের বেলায় কিছু দেবো না।
আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়; লোকে যারে বলে বড় সেই হয় আত্মপ্রশংসা মান্যতা পায় না।
আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও যে আচরণ অপরকে শেখাও তা নিজে আগে কর।
আপনি খেতে ভাত পায় না শঙ্করাকে ডাকে/আপনি শুতে ঠাঁই পায় না শঙ্করাকে ডাকে অন্যের দয়ায় বেঁচে থেকে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা; আহাম্মকের রকম-ফের।
আপনি গেলে ঘোল পায় না চাকরকে পাঠায় দুধের তরে যেখানে নিজের অনুরোধ রক্ষা হয় না শেখানে অপরকে দিয়ে চেষ্টা; চরম নির্বুদ্ধিতা।
আপনি তুষ্টে জগৎ তুষ্ট নিজে সন্তুষ্ট থাকলে জগৎ সন্তুষ্ট থাকে।
আপনি পাগল, ভাতার পাগল, পাগল তার চেলা, এক পাগলে রক্ষা নেই তিন পাগলের মেলা- লালন বাউলের ভাববাদী দর্শন; এই সংসার পাগলের মেলা।
আপনি পায় না পরকে বিলায় অবিবেচনাপ্রসূত কাজ।
আপনি বড় ভালো, তাই লোককে বলেন কালো নিজে মন্দ হয়েও অপরকে মন্দ বলে- এমন নীচব্যক্তির প্রতি বক্রোক্তি।
আপনি বাঁচলে বাপের নাম নিজের স্বার্থ দেখা।
আপনি ভালো তো জগৎ ভালো নিজে ভালো হ'লে অন্যরাও ভালো হয়।
আপনি ভালো তো জগৎ ভালো তারি মান থাকে, আপনি মন্দ তো জগৎ মন্দ কে তার মান রাখে? ভালো লোকেরা সমাজে সম্মানির হয়; মন্দলোকেদের কেউ পোছেও না।
আপনি যেমন জগৎ তেমন আপনার আশিতে পরকে দেখা; আপনি ভালো তো জগৎ ভালো।
আপনি যেমন ঢেমন জগৎ দেখি তেমন যে নিজে দুশ্চরিত্র, ষে অপরকে দুশ্চরিত্র ভাবে।
আবিল দৃষ্টি সব হলদে দেখে মন্দের চোখে সবই মন্দ।
আবৃত্তিঃ সর্বশাত্রাণাং বোধাদপি গরিয়সী। আবৃত্তির গৌরব সব শাস্ত্রবোধ থেকে অনেক বেশি।
আম না থাকলে আমড়া চোষে/ আম না পেয়ে আটিঁ চোষে সার না পেলে অসারই সই; একটা কিছু হলেই হ’ল; অভাগার এর বেশি কিছু জোটে না।
আম না হতে আমসত্ব কাজ না হতেই ফলের আশা; আগাম সুখকল্পনা।
আম পাকলে মিঠা, মানুষ পাকলে তিতা পরিণত-বুদ্ধি হলে মানুষ স্বার্থান্বেষী হয়, নিজের ভালো ও পরের মন্দ খোঁজে।
আম শুকালে আমসী বয়স বাড়লে রস শুকায়।
আমও গেল ছালাও গেল লাভ করতে গিয়ে সর্বস্ব হারানো।
আমড়াগাছে আম ফলে না কুবংশে সুসন্তান জন্মায় না; মন্দলোকের কাছে ভালো ব্যবহার প্রত্যাশা করা যায় না।
আমড়াতলায় আম পেলে, আমতলায় কেবা যায় সহজে কিছু পেলে কেউ কষ্ট স্বীকার করে না।
আমরা বাঁচার সাথে সাথে একটু একটু করে মরি আয়ু দিনেদিনে ক্ষয় হয়।
আমরা যতই জানি ততই নিজের অজ্ঞানতা আবিস্কার করি জ্ঞানী জানে যে সে কিছুই জানে না।
আমাদের প্রধান বিশ্বাসগুলি হল অন্ধবিশ্বাস রিপু নামক অন্ধকারের তাড়নায় কেউ আলোর (সত্য) খোঁজ পায় না।
আমার আমার যত করি, চিনির বলদ হয়ে মরি আমরা সংসারীরা আসলে ভারবাহী জন্তুছাড়া আর কিছু নয়।
আমার নাম নিতাই, এক খাই আর এক থিতাই অতি সতর্কলোক, যে বর্তমানের সাথে সাথে ভবিষ্যতেরও সংস্থান করে।
আমার পরে পৃথিবী ধ্বংস/মহাপ্লাবন আমি নেই তো আমার ভাবনাও নেই।
আমার বুদ্ধি শোনো, ঘরদোর ভেঙে ফেলে নটে শাক বোনো মানুষ ভাবে সে বড় বুদ্ধিমান; স্বভাবদোষে সবাইকে পরামর্শ দেয়; এমনকি যে নিজের ভালমন্দ বোঝে না সেই নির্বোধও অপরকে পরামর্শ দিয়ে যায়; আহাম্মক আহাম্মকের মতই পরামর্শ দেয়।
আমার হাতদুটি ধর, তাহ'লেই তোমার হাতদুটি আমার ধরা হবে মানুষ মানুষের জন্য, একতাই বল।
‘আমি আমি’ করেই মানুষ মল অহংকারেই মানুষ মরে।
আমি কি নাচতে জানিনে, মাজার ব্যাথায় পারিনে মিথ্যা ওজরে নিজের অক্ষমতা ঢাকার চেষ্টা।
আমি কি নেড়ি ভেড়ি, আমার পাঁচখানা শাড়ী ধোপার বাড়ী কিছু নেই তবু তার বড়াই করাতে কার্পণ্য নেই।
আমি জানি না-বলতে শেখাটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা-হিব্রু প্রবাদ কারো পক্ষে সব জানা সম্ভব নয়; জানতে জানতে জানা যায় জানার কোন শেষ নাই।
আমি ছাড়লে কি হবে কম্বল তো আমায় ছাড়ে না- হিন্দি প্রবাদ বিপদ এড়াতে চাইলে কি হবে, বিপদ আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে থাকে।
আমি জীবনপাত্রের তলানিটুকু নিঃশেষে পান করব জীবন চুটিয়ে ভোগ করার লিপ্সা; চার্বাকী দর্শন- হেসে খেলে নাও দুদিন বইতো নয়...।
‘আমি’ যাবে মলে অহমহমিকা নিয়ে মানুষ মরে।
আমিও ফকির হলাম দেশে অকাল এলো বাঁচার জন্য ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করেছিল; অকাল আসাতে সেটাও গেল; কোন কাজ অস্বাভাবিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত।
আমে দুধে এক হয়, আঁটি যায় গড়াগড়ি/ আমে দুধে এক হয়,আদাড়ের আঁটি আদাড়ে যায় উপরতলায় গলাগলি, নীচের তলায় হেলাফেলা।
আমে ধান তেঁতুলে বান (খনা) আমের ফলন বেশি হলে ধান বেশি হয়; তেঁতুলের ফলন বেশি হলে বন্যা হয়।
আয় বুঝে ব্যয় ওজন বুঝে চল; কাপড় বুঝে জামা কাটো
আয়না যে মুখ দেখে সেই মুখ দেখায় ধাক্কা দিলে পাল্টা ধাক্কা খেতে হয়; ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া থাকে।
আয়ুর্ম্রর্মাণি রক্ষতি সকল সঙ্কট থেকে আয়ু প্রাণকে রক্ষা করে; আয়ু থাকলে কেউ মরে না।
আয়ুর্যাতি দিনেদিনে আয়ু দিনে দিনে ক্ষয় হয়; বয়বৃদ্ধির সাথেসাথে আমরা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলি।
আয়ুর্বেদকৃতাভ্যাসঃ সর্বেষাং প্রিয়দর্শনঃ। আর্যশীল গুণোপেত এষ বৈদ্যো বিধীয়তে॥ (চাণক্য) যে ব্যক্তি চিকিৎসাশাস্ত্রে অভিজ্ঞ, যিনি সবলের চোখেই সৌম্যদর্শন, যিনি সৎস্বভাবিশিষ্ট- তিনিই চিকিৎসক হওয়ার যোগ্য।
আর গাব খাব না, গাবতলা দিয়ে যাব না। গাব খাব না ত খাব কই, গাবের মত আছে কি॥ বিপদে পড়লে প্রতিজ্ঞা করা; বিপদ থেকে মুক্ত হলেই আগের মূর্তি; লোভ-রিপুকে সম্বরণ করা বড়ই কঠিন ব্যাপার।
আর কি নেড়া বেলতলায় যায়? যে একবার ঠকেছে সে সতর্ক থাকে যাতে দু'বার ঠকতে না হয়।
আরগুণ নাই ছারগুণ আছে আর কোন গুণ নেই, শুধু নষ্ট করার গুণ আছে।
আরম্ভ করলে শেষ হতে আর কতক্ষণ? আরম্ভ করতেই অর্ধেক সময় ব্যয় হয়।
আরম্ভ করলে শেষ দেখে ছাড়তে হয় আধা-খেঁচড়া কাজ করা উচিত নয়।
আরম্ভসদৃশোদয়ঃ যেভাবে আরম্ভ হয় শেষ বা সমাপ্তিও সেইভাবে হয়।
আরশোলা হল পাখি, রইল কী আর দেখতে বাকি/ আরশোলাও পাখি , মুন্সেফ ও হাকিম দুই অসম বিষয়ের তুলনা হয় না; কিসে আরে কিসে সোনা আর সিসে।
আরাম অলসের ধন অলস খুব আরামপ্রিয়।
আরাম হারাম হায় স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর; পরিশ্রমই শেষ কথা।
আলস্যং হি মনুষ্যানাং শরীরস্থো মহান রিপু। নাস্ত্যুদয়মসমো বন্ধুঃ কৃত্বা যন্নাবসীদতি॥ (চাণক্য) শরীরের আলস্য মানুষের প্রধান শত্রু; পরিশ্রমের মত দ্বিতীয় কোন বন্ধু হয় না; পরিশ্রমী কখনো দুঃখী হয় না।
আলগা পেলে সন্ন্যাসীও মাতে কঠোর অনুশাসন কারও মনঃপুত নয়; মনোরম ঢিলেঢালা জীবন পরম আদরনীয়।
আলস্য হেন ধন থাকতে দুঃখের অভাব কি? অলসের প্রতি ব্যাঙ্গোক্তি।
আলার নীচেই কালা রয়েছে প্রদীপের নীচেই অন্ধকার থাকে; ঈশ্বরের পিছনেই শয়তানের বাস; শয়তান পিছু ছাড়ে না।
আলালের ঘরের দুলাল ধনী ঘরের অতি আদরের ও আবদারে ছেলে।
আলো এলে অন্ধকার পালায় জ্ঞানের আলোতে মনের অন্ধকার ঘুচে যায়।
আলোচাল দেখলে ভেড়ার মুখ চুলকায় লোভের জিনিষ দেখলে সবারই সেটা পেতে ইচ্ছা করে।
আলো বাতাস বেঁধো না, রোগ ঘরে ডেকো না- খনা শরীরমন সুস্থ রাখার জন্য ঘরে আলোবাতাস প্রয়োজন।
আলোর পর আঁধার আসে সুখ ও দুঃখ ঘুরে ফিরে আসে; চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি চ দুখানি চ।
আল্লা যারে দেয় ছাদ ফুঁইড়া দেয় ভগবান যারে দেয় ঢেলেই দেয়; ভাগ্যবানের বোঝা ভগবানে বয়; সৌভাগ্যবান বিধির বরপুত্র।
আশা আর ফুঁ আছে, দুধ আর বাটি নেই অভাগার হাহুতাশ।
আশা আর বাসা ছোট করতে নেই ছোট ছোট বিষয় মনকে সঙ্কীর্ণ করে, হতাশাগ্রস্ত করে।
আশা করে ঘর বাঁধে, কেউ হাসে কেউ কাঁদে সবার ঘর০সংসার সুখের হয় না।
আশা গরীবের খাদ্য আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
আশা বৈতরণী নদী পাপীরা যার শেষ পায় না (পাপীরা স্বর্গে যেতে পারে না), সেই বৈতরণী নদীর মত আশারও কোন শেষ নাই।
আশাবধিং কো গতঃ আশা অনন্ত ও অসীম; তার সীমা-পরিসীমা নাই।
আশা হি পরমং দুঃখং, নৈরাশ্যং পরমং সুখং একটা আশা পূর্ণ হলে আরেকটা আশা এসে উপস্থিত হয়; সুখভোগ আর হয় না; সুতরাং আশা ত্যাগ করতে পারলেই প্রকৃত সুখলাভ হয়; উপনিষদের বাণী ত্যাগের মধ্য দিয়ে ভোগ কর।
আশায় আমার পড়ল ছাই, এখন বল কোথায় যাই আশাভঙ্গে হতাশা।
আশায় খেলিছে পাশা মানুষ আশা নিয়ে বাঁচে, আশা নিয়ে মরে।
আশায় মরে চাষা আষাঢ়মাসে বৃষ্টি হওয়ার আশায় এবং না হওয়ার আশঙ্কায় থাকে চাষা।
আশার অর্ধেক ফল সবসময় আশানুরূপ ফল হয় না; অর্ধেক হলেই যথেষ্ট পাওয়া হয়; যথা লাভ।
আশার চেয়ে নিরাশা ভাল, হয়ে গেল তো হয়ে গেল আশায় না থাকলে নিরাশা হলে দুঃখ পেতে হয় না।
আশ্রয়, ফল ও ছায়াযুক্ত গাছের তলায় নিতে হয় ফল না পেলেও আশ্রয় ও ছায়াতো পাওয়া যাবে; ক্ষমতাসম্পন্ন লোকের আশ্রয় নিতে হয়।
আশার শেষ নেই আশা কুহকিনী; দরিদ্র চায় লাখোপতি হতে; লাখোপতি চায় ক্রোড়পতি হতে; ক্রোড়পতি চায় কুবেরের সম্পত্তি; এর কোন শেষ নাই
আষাঢ়মাস চাষার আশ চাষা আশা করে আষাঢ় মাসে সময় মত বৃষ্ট আসবে।
আসতেও একা, যেতেও একা, কার সঙ্গে বা কার দেখা কেউ কারো নয়, জগত মায়াময়।
আসন্নকালে বিপরীতা বুদ্ধিঃ বিপদকালে মানুষের বুদ্ধি খোলে না; সঠিক কাজ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলে।
আসরঘরে মশাল নেই, হেঁশেলঘরে চাঁদোয়া/ আসলে মুষল নেই ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া প্রয়োজনে দৃষ্টি নেই অপ্রয়োজনে বাড়াবাড়ি; নিজের ঘর না সামলে পরের ঘর সামলানো; ভিতরে ছুঁচোঁর কেত্তন, বাইতে কোঁচার পত্তন।
আসল ছেড়ে ছায়ার পিছনে ছূটো না অনিশ্চিতের আশায় নিশ্চিত ত্যাগ করো না।
আসলের খোঁজ নেই, তার সুদের খবর যে আসল ফিরে পাবার সম্ভাবনা নেই, তার সুদের জন্যে ব্যস্ততা; ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহৎ স্বার্থ ত্যাগ।
আসলের চেয়ে সুদ মিষ্টি/ আসলের চেয়ে সুদের কদর বেশি মহাজনের যেমন আসল ফেরত পাওয়া থেকে সুদ পেতে বেশি পছন্দ করে তেমনই দাদার কাছে ছেলে থেকে নাতির আদর বেশি হয়।
আসেন লক্ষ্মী যান বালাই সৌভাগ্য এলে দুর্ভাগ্য কাটে।
আস্কে খায় তার ফোঁড় গোণে না আসকে চালের গুঁড়ো গিয়ে তৈরী একপ্রকার ফোঁড়যুক্ত পিঠে; খাবার সময় কেউ নজর করে না তাতে কয়টা ফোঁড় আছে; যারা খায় দায় ঘুরে বেড়ায় কিন্তু খবর রাখেনা কোথা থাকে খাবারদাবার আসছে তাদের লক্ষ্য করে এই প্রবাদ বলাত হয়; গকুলের ষাঁড়।
আহাম্মক তিন যায়গায় বিষ্ঠা মাখে ভুলবশতঃ প্রথমে পায়ে; সন্দেহ হওয়াতে পা থেকে আঙুলে; নিঃসন্দেহ হ'তে আঙুল থেকে নাকে।
আহাম্মক যে হয়, পিছনে সে কথা কয় পিছনে কথা বলা যুক্তিযুক্ত নয়।
আহাম্মক এক যে পরের মালে করে টেঁক;
আহাম্মক দুই যে পরের চালে তোলে পুঁই
আহাম্মক তিন যে ঋণ করে দেয় ঋণ
আহাম্মক চার যে মধ্যস্থ হয়ে খায় মার
আহাম্মক পাঁচ যে পরের পুকুরে ছাড়ে মাছ
আহাম্মক ছয় যে একের কথা আরে কয়
আহাম্মক সাত যে শ্বশুর বাড়ী খায় ভাত
আহাম্মক আট যে মাগকে পাঠায় হাট
আহাম্মক নয় যে ঘর থাকতে পরের ঘরে রয়
আহাম্মক দশ যে মাগের কথায় বশ
আহাম্মকের সাথে তর্ক করো না, মানুষ ভুল করে তোমাকে আহাম্মক ভাবতে পারে- আরবী প্রবাদ বুদ্ধিমান আহাম্মকের সাথে তর্ক করে না; আহাম্মকের সাথে তর্ক করার অর্থ পাথরে মাথা ঠোকা।
আহার করবে ধীরে, কোনদিকে না চাবে ফিরে স্বস্থ্যের কারণে বৈদ্যের বিধান।
আহার, নিদ্রা ভয়, যতই করবে ততই হয় আহার, নিদ্রা ভয় ইত্যাদি যতই বাড়িয়ে যাওয়া যায় ততই বাড়তে থাকে।
আহারো দ্বিগুণঃ স্ত্রীণাং বুদ্ধিস্তাসাং চতুর্গুণা। ষড্গুণো ব্যবসায়শ্চ কামশ্চাষ্টগুণঃ স্মৃতঃ॥ (চাণক্য) স্ত্রীলোকের আহার পুরুষের দ্বিগুণ, তাদের বুদ্ধি পুরুষের চতুর্গুণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের বুদ্ধি পুরুষের ছয়গুণ আর ভোগলিপ্সা পুরুষের আটগুণ।
আহ্লাদে আটখানা, ল্যাজা মুড়ো দশখানা বেজায় খুশি; আনন্দের আর সীমা-পরিসীমা নেই; যে সামান্য বিষয় উপলক্ষে অযথা আননদ প্রকাশ করে তার ক্ষেত্রে এই প্রবাদ বলা হয়।
আহ্লাদে আটখানা মূল্য পাঁচ-আনা আহাম্মকের আহ্লাদের প্রতি তির্যকোক্তি।

ই/ঈ[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ইঁদুর ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে পালায় মানুষ বিপদে পড়লে উপকৃতরা আগে তাকে ছাড়ে।
ইঁদুর গর্ত খুঁড়ে মরে, সাপ এসে দখল করে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার।
ইঁচোড়ে পাকা ইঁচোড়ে পাকা কাঁঠালের স্বাদ-গন্ধ কিছু থাকে না; সেইরকম অকালপক্ক ছেলের বিজ্ঞের মত কথাবার্তা বিস্বাদ বিসদৃশ লাগে।
ইক্ষু পিষ্ট হলেও মিষ্টত্ব ত্যাগ করে না গুণী কখনো তার গুণ হারায় না।
ইঙ্গিতে বুঝলে মন কাজ হতে কতক্ষণ মন পড়তে পারলে কাজ হতে বেশি দেরী হয় না।
ইচ্ছা আছে যার পথ আছে তার/ ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়; উপায় থাকলেই কার্যসিদ্ধি হয় ইচ্ছা থাকলে কাজের উপায় বেরুবেই; যতই দুরুহ হোক উপায়জ্ঞের কাছে সব কাজই সহজসাধ্য মনে হয়; ইচ্ছুকের কাছে কিছুই অসম্ভব নয়।
ইচ্ছা ঘোড়া হলে সব অভাবীরা তার ওপর চাপ'ত- ইংরাজী প্রবাদ ইচ্ছা থাকলেই পেট ভরে না; সৌভাগ্যবানের ইচ্ছার সাথে পরিশ্রমের আগ্রহ থাকে।
ইচ্ছার ভার বোঝা মনে হয় না যার কাজ করার ইচ্ছা আছে সে আনন্দের সাথে কাজ করে; তার কাছে কাজ করাতে কষ্টবোধ হয় না।
ইজ্জত দৌলতে বজায় থাকে অর্থই ইজ্জতের মাপকাঠি।
ইজ্জতের দাম লাখ টাকা ইজ্জত হেলাফেলার বিষয় নয়।
ইট পড়লে পাটকেলও পড়ে/ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া থাকে। অন্যের ক্ষতি করলে নিজেরও ক্ষতি হয়।
ইটে নাই ভিটে নাই বাইরে মর্দানী ঘরে অন্ন নেই, বাইরে বাবুয়ানা; ফতেবাবুর ফুটানি।
ইতর সন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবহার মত ইতরের বিচারের মাত্রা হল তার প্রাপ্তির পরিমাণ।
ইতি করা শেষ করা।
ইতিহাস হল বিজয়ীর লেখা বিজিতে সম্পর্কে একরাশ মিথ্যা ও কুৎসা পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ইতিহাস লেখা হয়।
ইতো ভ্রষ্টস্ততো নষ্ট একুল গেল, ওকুলও গেল; সব পণ্ড হল।
ইন্দ্রোহপি লঘুতাং যাতি স্বয়ং প্রখ্যাপিতৈর্গুণৈঃ (চাণক্য) স্বয়ং ইন্দ্রও যদি নিজের প্রশংসা করেন তবে তিনি লঘুত্বপ্রাপ্ত হন; নিজেকে যে বড় বলে ষে বড় নয়।
ইল্লত যায় ধুলে. স্বভাব যায় মলে জল দিয়ে ধুলে যেমন নোংরাস্থান পরিস্কার হয় তেমনি মৃত্যুর পর মানুষ কলঙ্কমুক্ত হয়
ইল্লত যায় না ধুলে. স্বভাব যায় না মলে জল দিয়ে ধুলে যেমন সব নোংরা যায় না তেমনি স্বভাবও আমৃত্যু বদলায় না/
ইসারায় দিশাহারা প্রলোভনে বিভ্রান্তি।
ইস্তক জুতো সেলাই, নাগাদ/লাগাত চণ্ডীপাঠ মুচির জুতা সেলাই থেক ব্রাহ্মণের চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত সব কাজ; সংসারের ভালমন্দ সবরকমের কাজের কাজি।
ঈশা বাস্যমিদং সর্বং যৎ কিঞ্চ জগৎ্যাং জগৎ। তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্য স্বিদ্ধনম্‌॥ (উপনিষদ) ব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু অনিত্য বস্তু, সবই পরমেশ্বরের দান। ত্যাগের মধ্য দিয়ে ভোগ কর। কারও ধনে লোভ করো না।
ঈশান কোণের মেঘে ঝড় ওঠে বেগে উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘ জমলে ঝড় অবশ্যাম্ভাবী।
ঈশ্বর ঈশ্বর করে যেই, তার ঘরে ভাত নেই শুধু ভজনায় কার্যসিদ্ধি হয় না।
ঈশ্বর করেন কাম, মানুষের বদনাম তিনিচালান আমরা চলি; দোষ হলে তাঁরই দোষ।
ঈশ্বর যদি করেন কর্তা (স্বামী) যদি মরেন তবে ঘরে বসে কীর্তন শুনবো পরের বাড়ীতে দিয়ে কীর্তন শুনতে না পেরে এল আহাম্মক স্ত্রীলোকের খেদোক্তি; অল্পলাভের জন্য বেশি ক্ষতিস্বীকারের বাসনা।
ঈশ্বর যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন ঈশ্বরের ইচ্ছা অনিচ্ছা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে এই বিশ্বাস মনে রাখলে মন বিক্ষিপ্ত হয় না।
ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করেন।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
উঁচান বাড়ি বড় ভয়, পড়লে বাড়ি সয়ে যায় উঁচানো লাঠি দেখলে ভয় হয় কতনা লাগবে; লাঠি পড়লে সয়ে যায়; তেমনি কাজ শুরুর আগে ভয় হয়; অথচ কাজ একবার শুরু হলে অতিকঠিন কাজও সহজে সম্পন্ন হয়।
উঁচুগাছেই ঝড় বেশী লাগে বড়কেই সংসারের সব ঝক্কি সামলাতে হয়।
উঁচুগাছেই মই বাঁধো ফললাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
উঁচী দুকান্‌ ফীকি পকান্‌- হিন্দি প্রবাদ জাঁকজমকপূর্ণ দোকানের মিষ্টি মিষ্টতাশূন্য; দেখনদারী।
উঁচু যদি হতে চাও নীচু হও তবে/ উঁচু হবে, তবে নীচু হয় বিনম্রস্বভাবের লোককে সবাই শ্রদ্ধা করে; নম্রতাই মহত্বের লক্ষণ।
উঁচু হলে ঝড়ে উড়াবে, নীচু হলে ছাগলে মুড়াবে উভয় অবস্থারই ভয় আছে মধ্যমপন্থা শ্রেষ্ঠ পন্থা।
উই, ইঁদু্‌র, কুজন ভালো ভাঙে তিনজন, সুঁই, সোহাগা, সুজন- ভালো করে তিনজন উই, ইঁদু্‌র, কুজন- এই তিনজন ভালো জিনিষ নষ্ট করে এবং সুঁই, সোহাগা, সুজন- এই তিনজন ভালো জিনিষ গড়ে তোলে।
উকিল আর গাড়ীর চাকা, তেল চর্বি দিয়ে রাখা তেল না দিলে উভয়েই নড়ে না; খাবার পেলে সবাই দাস।
উকিল নিজের ওকালতি করে না তাহ'লে নিজের পক্ষে মিথ্যাকথা বল'তে হয়।
উক্তস্য পুনঃ কথনং উক্ত বিষয়ের পুনরুক্তি।
উচট খেয়ে প্রণাম হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে প্রণাম স্বীকার; দায়ে পড়ে কোন ভালো কাজ করে ফেলা।
উচিৎ কথায় আহাম্মক রুষ্ট উচিৎ কথা কইতে মানা; হক কথা শুনে নির্বোধও রাগ করে।
উচিৎ কথায় দেবতা তুষ্ট, উচিৎ কথায় মানুষ রুষ্ট দেবতা, দেবতুল্যলোক উচিৎ কথা শুনে সন্তুষ্ট হন,কিন্তু সাধারণ মানুষেরা উচিৎ কথা শুনে ক্ষেপে যায়।
উচিত কথায় বন্ধু/মামা বেজার সত্যকথা কেউ শুনতে নারাজ; সত্যকথা বললে আপনজনও অপছন্দ করে; সুতরাং মা ব্রুয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম।
উচিৎ কথার ভাত নাই। উচিৎ কথা দাম পায় না।
উচ্চপ্রাণের লোকেরা তত্ত্ব নিয়ে চর্চা করে; মধ্যম প্রাণেরা লোকেরা ঘটনা নিয়ে চর্চা করে; ক্ষুদ্রপ্রাণের লোকেরা পরনিন্দা করে জ্ঞানীরা তত্ত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকে; সাধারণলোকেরা সাংসারিক বিষয়ে ব্যস্ত থাকে; হীনলোকেরা শুধু পরচর্চা করে।
উচ্ছে খাবে কচি, পটল খাবে বীচি দুইই উপাদেয় এবং স্বাস্থের পক্ষে মঙ্গল।
উচ্ছের কচি, পটলের বীচি, ছাগলের ছা, মাছের মা- এগুলি বেছে খা কচি উচ্চে, পালা পটল, পচি পাঁঠার মাংস ও পাকা মাছ- এগুলি হল উপাদেয় খাদ্য।
উছল নদীর কলকলানি বেশি উদ্দাম যৌবনের ঝলকানি বেশি; অজ্ঞানেরা বেশী লম্ফঝম্ফ করে।
উজাড় (শূন্য) বনে শিয়াল রাজা যেখানে বাধা দেবার কেউ নেই সেখানে সাধারণলোকও কর্তৃত্ব করে।
উঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে, বাড়া ভাত খেয়ে কোন কথাবার্তা নেই, কোন সম্ভাবনা নেই, হঠাৎ কাজ এসে উপস্থিত এবং এখনই করতে হবে এমন অবস্থা।
উঠন্ত বৃক্ষ পত্রেই চেনা যায় চারাগাছের পাতা দেখেই বোঝা যায় গাছ কেমন হবে; তেমনি কাজের আরম্ভ দেখেই বুঝা যায়। কাজের শেষটা কিরকম হবে।
উঠন্তিমূলো পত্তনিতেই চেনা যায় কাজের আরম্ভ দেখেই পরিণাম আন্দাজ করা যায়।
উঠল বাই তো কটক যাই চটজলদি সিদ্ধান্ত, বিচার বিবেচনার নাম করে না।
উঠোন পেরুলেই অর্ধেক সফর কাজ শুরু হলেই অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যায়।
উড়তে পারে না পোষ মানে অক্ষমের পরনির্ভরশীলতা; নিরুপায় হয়ে কোন কাজ করতে বাধ্য হওয়া।
উড়তে পারে না ফুরফুর করে অক্ষমের বাড়াবাড়ি; কাজ করার শক্তি নেই, তবুও কাজ করার ইচ্ছা যাগে।
উড়কিধানের মুড়কি আর সরুধানের চিঁড়ে দুইই খেতে সুস্বাদু।
উড়ে এসে জুড়ে বসা অযাচিতভাবে (বিনা অধিকারে) হঠাৎ এসে সর্বেসর্বা হয়ে বসা।
উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ অলভ্য দ্রব্য সৎকাজে দানের ভান; প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে বাধ্য হয়ে কোন সৎকাজ করা।
উৎপাতের কড়ি চিৎপাতে যায় অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ বাজেভাবে খরচ হয়।
উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে শত্রুনিগ্রহে। রাজদ্বারে শ্মশানে চ যস্তিষ্ঠতি স বান্ধবঃ॥ (চাণক্য) যে ব্যক্তি উৎসব, বিপদকাল, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, বিচারালয় এবং শ্মশানে পাশে উপস্থিত থাকে, সেই প্রকৃত বন্ধু।
উত্তম মধ্যম দেওয়া প্রহার করা।
উত্থায় হৃদি লীয়ন্তে দরিদ্রনাং মনোরথাঃ দরিদ্রের বাসনা উদয় হয়েই লুপ্ত হয়।
উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত (উপনিষদ) ওঠো, জাগো। বরনীয় জ্ঞানীদের কাছে গিয়ে জ্ঞানপ্রাপ্ত হও।
উদ (জল) খেতে ক্ষুদ নেই নেউলে বাজায় শিঙে একমুঠো খুদ মুখে দিয়ে জল খাবে এমন সামর্থ নেই অথচ বাঁশি বাজিয়ে বেড়ায়; ঘরে অন্নের সংস্থান নেই বাইরে আস্ফালন।
উদবিড়ালে শিকার করে, খটাশ করে তিনভাগ উদবিড়ালে কষ্ট করে মাছ ধরে; খটাশ এসে তাতে ভাগ বসায়; একের পরিশ্রমের ফল অন্যে এসে ভোগ করে।
উদর চিরলে ক বেরোয় না ক অক্ষর গো-মাংস, মহামূর্খ।
উদারচরিতানাং তু বসুধৈব কুটুম্বম। উদারচরিত্রের ব্যক্তির কাছে জগতবাসী সকলেই আত্মীয়।
উদুখলে (শস্য রাখার পাত্র) ক্ষুদ নাই চাঁটগায়ে বরাত। ঘরে অন্নের সংস্থান নেই, অথচ অন্যলোককে অন্যস্থানে টাকা নেবার দায়িত্ব দেয়; নিতান্ত বাড়াবাড়ি।
উদ্যোগিনং পুরুষ্পসিংহমুপতি লক্ষ্মী। দৈবেন দেয়মিতি কাপুরুষা বদন্তি॥ (চাণক্য) উদ্যোগীপুরুষ লক্ষ্মী লাভ করে; কাপুরুষেরা বলে- ভাগ্য থাকলে পাব।
উদো/উধোর (মূর্খ) পিণ্ডি বুধোর (পণ্ডিত) ঘাড়ে নির্দোষব্যক্তির ওপর দোষীব্যক্তির অপরাধ পতিত হওয়া; একের দোষ অন্যের ঘাড়ে; চরম বিশৃঙ্খলা।
উদ্যমেন হি সিদ্ধান্তি কার্যাণি ন মনোরথৈ। নহি সুপ্তস্য সিংহস্য মুখে প্রবিশন্তি মৃগা॥ চাণক্য উদ্যোগেই কার্যসিদ্ধি হয়, শুধু মনের ইচ্ছাতে হয় না; ঘুমন্ত সিংহের মুখে হরিণ স্বেচ্ছায় প্রবেশ করে না।
উদ্যোগীর অসাধ্য কিছুই নেই উদ্যোগী কখনো অসফল হয় না।
উদ্যোগীর কাছে কোন পথই দূর নয় উদ্যোগীর কাছে কোন পথই অনতিক্রম্য নয়।
উনবর্ষা দু্নো শীত- খনা বৃষ্টি কম হলে শীত বেশি পড়ে।
উনা কলসির দুনা শব্দ কলসি একটু ভর্তি হলেই জোরে শব্দ করতে শুরু করে; অল্প শিক্ষিতরা বেশি বিদ্যার জাহির করে।
উনোভাতে দুনো বল, অতিভাতে রসাতল কম খেলে শরীর সুস্থ থাকে, বেশি খেলে শরীর ভারী হয়।
উপকারগৃহীতেন শত্রুণা শত্রুমুদ্ধরেৎ। পাদলগ্নং করস্থেন কণ্টকেনেব কণ্টকম্॥ (চাণক্য) হাতের কাঁটা দিয়ে যেমন পায়ে কাঁটা তোলা হয়, তেমনি উপকারগ্রহণকারী শত্রু দিয়ে শত্রুনাশ করতে হয়
উপকারী গাছের ছাল থাকে না উপকারী গাছের সবই উপকারী, কিছুই ফেলা যায় না।
উপকারীকে বাঘে খায় উপকৃত উপকারীর বেশি ক্ষতি করে।
উপকারো জগত্তাতো, বিশ্বস্য জননী দয়া উপকার জগতের পিতাস্বরূপ; দয়া বিশ্বের জননীস্বরূপা।
উপদেশ অপেক্ষা উদাহরণ ভাল নিজে করে অপরকে অনুপ্রাণিত করতে হয়।
উপদেশো হি মূর্খানাং প্রকোপায় না শান্তয়ে উপদেশ মুর্খকে শান্ত করে না, ক্রুদ্ধ করে।
উপবাসী প্রাণ করে আনচান খিদের ছটফটানি।
উপবাসে যাবে দিন ধার করলে হবে ঋণ অন্নের সংস্থান না থাকলে একদিন কেটে যাবে তবু ধার করা নাই; একবার ঋণের ফাঁদে জড়ালে তার থেকে মুক্তি নেই।
উপরতলায় গলাগলি, নীচের তলায় হেলাফেলা স্বার্থের মিলন।
উপর থেকে পড়ে গেল জন পাঁচ সাত; যার যেখানে ব্যথা, তার সেখানে হাত যার যেখানে স্বার্থ তার সেখানে নজর।
উপরে বাবুয়ানা ভিতরে খড়ের বেনা (পোষাক) ফোঁপরা লোকের দেখনদারি।
উপরে মধু অন্তরে বিষ, ত্যজো তারে অহর্ণিশ মন্দলোকের সঙ্গ সবসময় পতিত্যজ্য।
উপরোধে ঢেঁকি গেলা অনুরোধ ঠেলতে না পেরে অনিচ্ছা সত্বেও কাজ করা।
উপস্থিত অন্ন ত্যাগ করতে নেই অন্যত্র খাওয়ার আশায় প্রস্তুত খাদ্য ত্যাগ করলে সেদিন অদৃষ্টে খাদ্য নাও জুটতে পারে; হাতের পাখি ছাড়তে নেই।
উপায়ং চিন্তয়েৎ প্রাজ্ঞঃ অপায়মপি চিন্তয়েৎ প্রাজ্ঞব্যক্তি উপায় চিন্তা করেন; বাধাবিঘ্ন নিয়েও চিন্তা করেন।
উপায়জ্ঞের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য মনে হয়- (চাণক্য) উপায়জ্ঞ সমাধানের সহজ পথ খুঁজে পায়।
উপোস করলেই ধর্ম হয় না আচারসর্বস্বতার অসারতার প্রতি ব্যাঙ্গোক্তি।
উপোসে কেউ নয়, পারণের গোঁসাই আনাহারে বেঁচে থাকতে কেউ দেখে না শ্রাদ্ধে এসে হাজির।
উলুবনে মুক্তা ছড়ানো অযোগ্য পাত্রে মূল্যবান বস্তু দান করা।
উলটা বুঝলি রাম ভালো কথার মন্দ ব্যাখ্যা করা।
উলটা চৌর কোতয়ালকো ডাঁটে- হিন্দি প্রবাদ উলটে চোর কোতয়ালকে চোখ রাঙায়।
উলুবনে মুক্তা ছড়ানো উলুঘাসে মুক্তা ছড়ালে কেউ তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না; তেমনি অযোগ্যের হাতে মুল্যবান দ্রব্য দেওয়া বৃথা, যেমন বানরের গলায় মুক্তাহার।
উলুবনে সাঁতার দেওয়া আহাম্মকের কাজ; এক আহাম্মক জ্যোৎস্না রাতে উলুবনকে পুকুর ভেবে সাঁতার দিতে গিয়েছিল।
উলোর মেয়ের কুলুজী, অগ্রদ্বীপের খোঁপা; শান্তিপুরের হাত নাড়া, গুপ্তি পাড়ার চোপা উপরের চারটি বিষয়ের জন্য চার অঞ্চলের স্ত্রীলোকের প্রসিদ্ধি ছিল।
উল্টা বুঝলি রাম ঘটনাক্রমে যখন মানুষ কোন কথার উলটো অর্থ করে তখন এই প্রবাদ বলা হয়।
উল্টে চোরা মশান গায় নির্দোষ বলে গলা ফাটায়।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঊনো পাঁজুরে বরাখুরে হতভাগ্য, অলুক্ষণে বলে গালি।
ঊনো বর্ষা দুনো শীত- খনা বৃষ্টি কমে হলে শীত বেশি পড়ে।
ঊনো ভাতে দুনো বল, অতি ভাতে রসাতল পরিমিত আহারে স্বাস্থ্য রক্ষা হয়, অপরিমিত আহারে স্বাস্থ্য নষ্ট হয়।
ঊরুৎ বেয়ে রক্ত পড়ে, চোখ গেলোরে বাবা একের সাথে অন্যের কোন সম্পর্ক নেই; অর্থহীন প্রলাপ।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঋণকর্তা পিতা শত্রুর্মাতা চ ব্যভিচারিণী। ভার্যা রূপবতী শত্রুঃ পুত্র শত্রুরপণ্ডিতঃ॥ (চাণক্য) ঋণগ্রহীতা পিতা, দুশ্চরিত্রা মাতা, অতিরূপবতী স্ত্রী এবং মূর্খ পুত্র শত্রু রূপে বিবেচিত হয়ে থাকে।
ঋণশেষোহগ্নিশেষশ্চ ব্যাধিশেষস্তথৈব চ। পুনশ্চ বর্দ্ধতে যস্মাৎ তস্মাচ্ছেষং ন কারয়েৎ॥(চাণক্য) ঋণ, অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই; এগুলি শেষ না হলে বৃদ্ধি পায়।
ঋণং কৃত্বা ধৃতং পিবেৎ (চার্বাক) ক্ষণস্থায়ী জীবন দুদিন বইত নয়; সুতরাং যত পারো সুখ ভোগ করে নাও।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
এঁচোড়ে পাকা অচিরেই গোল্লায় যায় ছেলেবেলায় উচ্ছন্নে গেলে তার উন্নতি আর হয় না।
এঁটে ধরলে চিঁচিঁ করে, ছেড়ে দিলে লম্ফ মারে ভীরুলোক কড়া হ'লে জব্দ থাকে, ঢিলে দিলে লম্ফঝম্ফ করে।
এঁটো খায় মিঠার লোভে, যদি এঁটো মিঠা লাগে লাভের গন্ধ থাকলে মানুষ নীচু কাজ করতেও পিছুপা হয় না,
এঁটোপাত না যায় স্বর্গে নীচু কখনো উঁচুপদ পায় না; পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না।
এঁড়ে গরু টেনে দো যা সম্ভব নয় তাই করতে যাওয়া।
এঁদো (পানাপচা) পুকুরে ডুবে মরা বিরাট কাজ করে সামান্য ভুল করা।
এ কূল ও কূল দুকূল গেল, অকূল পারে গোকুল দু'দিক বজায় রাখতে গিয়ে বেসামাল।
একেনাপি কুবৃক্ষেণ কোটরস্থেন বহ্নিনা। দহ্যতে তদ্বনং সর্বং কুপুত্রেণ কুলং যথা।। (চাণক্য) যেমন একটিমাত্র কুবৃক্ষের কোটরের আগুনের দ্বারা সেই সমগ্র বন দগ্ধ হয়, তেমনি একটিমাত্র কুপুত্রের দ্বারা সমগ্র কুল কলঙ্কিত হয়।
একেনাপি সুবৃক্ষেণ পুষ্পিতেন সুগন্ধিনা। বাসিতং স্যাদ্ বনং সর্বং সুপুত্রেণ কুলং যথা।। (চাণক্য) যেমন সুগন্ধ ফুলে ভরা একটিমাত্র গাছের দ্বারাই সমগ্র বনভূমি (সুগন্ধে) আমোদিত হয়, তেমনি একটিমাত্র সুপুত্রের দ্বারা সমগ্র বংশ গৌরবান্বিত হয়।
এ গিরগিটি নয়, সাক্ষাৎ মা মনসা তীব্রশক্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্তল ভয়াঙ্ক ক্ষতি হতে পারে।
এ তো সবে কলির সন্ধ্যে অধঃপতনের সবে শুরু; ভয়াবহ সঙ্কটের সূচনামাত্র।
এ যদি গোরাচাঁদ হয়, তবে কালাচাঁদ কেমন? বলার সাথে কাজের কোন মিল নেই।
এ যে ঘোর কলি প্রচণ্ড অন্যায়ল সহ্যের বাইরে।
এই ডুমুরের গরব কর; পাকলে ডুমুর পড়ে মর সুন্দর ডুমুর পাকলে ঝরে পড়ে; সুতরাং সৌন্দর্যের জন্য গর্ব করা বৃথা।
এই দৃঢ় বিশ্বাস মনে রেখো, জীবিত বা মৃত, ভাললোকের কোন ক্ষতি হয় না (উপনিষদ) সৎপথে থাকলে ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।
এই বিড়াল বনে গেলে বনবিড়াল হয় অবস্থান্তর ঘটলে স্বভাবেও পরিবর্তন আসে; যে যায় লঙ্কায় ষে হয় রাবণ।
এই মানুষ বনে গেলে বনমানুষ হয় দুষ্টচক্রে পড়লে সৎমানুষও অসৎমানুষে পরিণত হয়
এক আঁচড়ে চেনা যায় সামান্য পরীক্ষা করে মানুষ চেনা যায়; সামান্য চিহ্নের ব্যক্তি ও বস্তুর গুণাগুণ বোঝা যায়।
এক আকাশে দুই সূর্য থাকে না দুই প্রবলশক্তি পাশাপাশি থাকে না।
এক আঙটা বিকল তো সমস্ত শিকল বিকল মানুষের দুর্বলতম স্থানের প্রতি ইঙ্গিত।
এক আঙুলে তুড়ি লাগে না দ্বন্দ্বে দু’পক্ষ অবশ্যই থাকে।
এক ওয়াকিফহাল সাত নবিসিন্দা একজন পারদর্শী সাতজন শিক্ষানবিশীর সমান।
এক কড়া বুদ্ধি নেই চার কড়ার মেজাজ অবোধের হম্বিতম্বি বেশি।
এক কড়ার মুরোদ নেই কিল/ভাত মারার গোঁসাই দুর্বলতা লুকোতে অক্ষমের দুর্ব্যবহার।
এক কলসী দুধে এক ফোঁটা চোনা সর্বাংশে ভাল কাজ করে ছোট্ট একটা দোষে বদনাম কেনা বা সব সুনাম নষ্ট; শেষরক্ষা না হওয়া।
এক কাটে ভারে, আরেক কাটে ধারে কোন কিছু কাটতে অস্ত্রের ধার ও ধার দুই লাগে; তেমনি শক্তি ও বুদ্ধির সমন্বয়ে কার্যসিদ্ধি হয়।
এক কাঠি বাজে না নিজের সাথে দ্বন্দ্ব হয় না; দ্বন্দ্বে দুইপক্ষ লাগে।
এক কান কাটা বাজার/রাস্তা/সহরের ধার দিয়ে যায়, দুকান কাটা বাজার/রাস্তা/সহরের মাঝদিয়ে যায় অল্প-বেহায়ার কিছু লজ্জাবোধ থাকে; নির্লজ্জ-বেহায়া নিজেকে বেশি জাহির করে আনন্দ পায়।
এক কানা আরেক কানাকে পথ দেখালে দুজনেই খানায় পড়ে দুজনেই বিচারে অক্ষম; সবক্ষেত্রে এক এক মিলে দুই হয় না।
এক কানে শোনে অন্য কানে বেড়োয় কাজে একান্ত অমনোযোগী।
এক কাল ঠেকেছে তিন কাল গিয়ে অতিবৃদ্ধ লোক।
এক কিলো জিনিসে পাঁচ কিলো ঠকায় মাত্রাহীন/লাগামছাড়া চুরি।
এক কূল ভাঙে তো এক কূল গড়ে সংসারে শুধু ভাঙা গড়ার খেলা চলে।
এক কেঁড়ে দুধে এক ছিঁটে চোনা একটু দোষে সব কাজ পণ্ড।
এক কোপে বটগাছকে ফেলা যায় না বৃহৎকে সহজে কাবু করা যায় না।
এক ক্ষুরে মাথা কামানো একরকম অপরাধে অপরাধী; একগোত্রের লোক; সকলের এক দশা।
এক খায়, এক থিতায় একটা খায়,সঙ্গে পরেরটা কি খাবে ভাবে; বর্তমানে খায় সঙ্গে ভবিষৎ খাবারের সংস্থান করে; অভিষ্ট বস্তু পাওয়ার সঙ্গে পুনরায় সেটি পাওয়ার জন্য সচেষ্ট হয়।
এক খাল কেটে অন্য খাল ভরায় চূড়ান্ত ধান্ধাবাজী।
এক গাঁয়ে ঢেঁকি পড়ে, অন্য গাঁয়ে মাথা ধরে যার সাথে কোন সম্পর্ক নেই, তার জন্য মাথাব্যথা; অনধিকার চর্চা করা।
এক গাঁয়ের কুকুর অন্য গাঁয়ে ঠাকুর অতিচেনার কদর নেই।
এক গাছের ছাল অন্য গাছে জোড়া লাগে না সমধর্মী না হলে মিল হয় না; পর কখনো আপন হয় না।
এক গালে চূণ অন্য গালে কালি মাখানো/লাগানো চরম অপমান করা।
এক গুলতিতে দুই পাখি মারা/ এক গোলি দো চিড়িয়া- হিন্দি প্রবাদ এক চেষ্টায় দুই কাজ সম্পন্ন করা; এক কাজের উপলক্ষে আরো একটি কাজ সম্পন্ন করা।
এক গোয়ালে বিয়াইছে গাই সেই রিস্তায় চাচাতো ভাই গোঁজামি দিয়ে সম্পর্ক দেখানোর অপচেষ্টা।
এক চন্দ্রই যে অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না হাজার নির্গুণে সমাবেশে এক গুণীর সৃষ্টি হয় না।
এক চন্দ্রে জগৎ আলো একাই একশ।
এক চাকাতে রথ চলে না নিজের সাথে বিবাদ হয় না; বিবাদে দুপক্ষ থাকে।
এক চুল ক্ষতি করতে না পারা কোন ক্ষতি করতে না পারা।
এক চোখে কাঁদা এক চোখে হাসা অবিমিশ্র সুখ হয় না; একই সঙ্গে সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ এলে এমন মনের অবস্থা হয়; কপটচারী লোক-দেখানো দুঃখপ্রকাশ করে এবং মনে মনে আনন্দ করে।
এক ছাতার তলে বাস এক স্বভাবের লোক; সমদোষে দুষ্ট; সবারই একই দশা।
এক ছেলে তার ফুলের শয্যে, পাঁচ ছেলে তার কাঁটার শয্যে একছেলে সবসময় আদর যত্ন পায়; পাঁচছেলে হলে কারো ভাগ্যে আদরযত্ন জোটে না।
এক ছেলে যার হাজার মানত তার মা-বাবা অজানা আশঙ্কায় সবসময় ভীত থাকে।
এক জঙ্গলে দুই বাঘ থাকে না দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী পাশাপাশি থাকে না।
এক জায়গায় থাকলে হাঁড়িতে হাঁড়িতে ঠোকাঠুকি হয় যত কষাকষি তত লাঠালাঠি; অন্তরঙ্গতায় মন কষাকষির সম্ভাবনা থেকে যায়।
এক ঝিকরে/ টানেতে মাছ গাঁথে না এ কেমন বঁড়শি, এক ডাকেতে সাড়া দেয় না সে কেমন পড়শি? উপকারী বস্তু/মানুষ নয়; গুণের না হ'লে কোন কাজের হয় না।
এক টাকা সঞ্চয়ের অর্থ এক টাকা আয়/এক পয়সা জমানো মানে এক পয়সা রোজগার করা অর্থের অপচয় সমর্থনযোগ্য নয়।
এক ডালে দুই পাখি, গা্য়েগায়ে মাখামাখি মনের মিল থাকলে পাশাপাশি বাস করা যায়।
এক ঢিলে দুই পাখি মারা তুলনীয়- এক গুলতিতে দুইপাখি মারা
এক তালুকে দুই ভালুক থাকে না তুলনীয়- এক জঙ্গলে দুই বাঘ থাকে না।
এক দিকে ছুঁচ গলে না, অন্য দিকে হাতি গলে ছোটখাটো বিষয়ের দিকে আমরা বেশি নজর দিই।
এক দুয়ার বন্ধ তো হাজারদুয়ার খোলা ভিক্ষুকের প্রতি বক্রোক্তি।
এক দেখে শেখা আরেক ঠেকে শেখা নানাভাবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়।
এক দোষে সব গুণ ক্ষয় হয় ছোট্ট একটা বদনাম সব সুনাম নষ্ট করে দেয়।
এক পন্থ দো কাজ- হিন্দি প্রবাদ তুলনীয়- এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
এক পয়সা নেই থলিতে, লাফিয়ে বেড়ায় গলিতে ভিতরে টানাটানি বাইরে ফুটানি।
এক পাঁঠা/মুরগি তিনবার কাটা ধান্ধাবাজী করে এবং ধান্ধাবাজী ধরা পড়ে; একটা জমি তিনবার তিনজনকে বিক্রি করারা ধান্ধা।
এক পা জলে এক পা স্থলে কোনদিকে নয়; বেড়ার ওপর বসে; দু নৌকায় পা; মনস্থির করতে অপারগ; কিংকর্তব্যবিমূঢ় ইত্যাদি।
এক পাগলে রক্ষা নেই সাত-পাগলের মেলা চরম বিশৃঙ্খলা; একটা সমস্যাতেই জর্জরিত, সেখানে একাধিক সমস্যা এসে উপস্থিত।
এক পায়ে খাড়া উদগ্রীব, এখনি রাজী।
এক পালকের পাখি এক যায়গায় ভিড় করে সংঘবদ্ধ হওয়া প্রকৃতির স্বাভাবিক ধর্ম।
এক পুতের আশ/আশা, নদীর তীরে বাস/বাসা এক ছেলের বাবামা সবসময় অপুত্রক হওয়ার আশঙ্কায় ভোগে।
এক ফুলে মালা হয় না বিরাট কাজে যৌথ উদ্যোগ চাই।
এক ফোঁটা শিশিরেও বন্যা হতে পারে, যদি গর্তটা পিঁপড়ের হয় (ফারসী প্রবাদ) সব কিছুই আপেক্ষিক।
এক বাক্সে সব ডিম রাখা ঠিক নয় গেলে সব একসাথে যাবে।
এক ব্যঞ্জন ভাত, তাও আবার নুনে পোড়া কষ্টের ওপর কষ্ট; একমাত্র দুশ্চরিত্র ছেলের জন্য মা-বাবার মনোকষ্ট।
এক ভস্ম আরেক ছার(ক্ষার=ছাই), দোষগুণ কব কার কে কারে দোষে, দুইই সমান অপদার্থ, দুই সমান অপরাধী।
এক মন হলে সমুদ্র শুকায় সবাই একসাথে কাজ করলে অসাধ্যসাধন করা যায়।
এক মাঘে শীত যায় না বিপদাপদ শুধু একবারই আসে- এমন ধারণা ভুল।
এক মাণিক (বড় রত্ন) সাত রাজার ধন পরমপ্রিয় পুত্র।
এক মায়ের পুত, খায় দায় যেন যমের দূত অত্যধিক আদর পেয়ে দুর্দমনীয় ছেলে।
এক মিথ্যা হাজার মিথ্যার জন্ম দেয় এক মিথ্যা চাপতে হাজার মিথ্যা কথা বলতে হয়।
এক মুখ সোনা দিয়ে ভরা যায়, তিন মুখ ছাই দিয়েও ভরে না একজনকে সন্তুষ্ট করা যার সবাইকে পারা যায় না।
এক মুখে দুই কথা শুনে মনে লাগে ব্যথা নীতিহীনতা পীড়াদায়ক; কথা দেয় কিন্তু কথা রাখে না বা অস্বীকার করে তা সত্যিই বেদনাদায়ক।
এক মুরগি কবার জবাই? একটা জমি বিক্রি করারা নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে আগাম নেওয়ার মত ধান্ধাবাজী ধরা পড়ে;
এক মুরগি সাতবার জবাই চুড়ান্ত ধান্ধাবাজী।
এক যাত্রায় পৃথক ফল অভিন্ন কাজের একজন পুরস্কৃত তো অন্যজন তিরস্কৃত।
এক রত্তি দড়ি সকল ঘর বেড়ি সামান্য ক্ষমতায়/সম্পদে সব সমস্যা মেটানোর চেষ্টা।
এক লাউয়ের বিচি কেউ করছে কচরকচর, কেউবা আছে কচি এক পিতামাতার পাঁচটা ছেলে পাঁচরকম।
এক লাঠিতে সাত সাপ মারি এক কৌশলে বহুকাজ হাসিল করার চেষ্টা।
এক লাফেই তালগাছে ওঠা যায় না সব কিছুতেই আয়াস লাগে, সময় লাগে।
এক সুপুত্রে বংশ ধন্য সু-এর তুলনা হয় না।
এক হাজার পদক্ষেপ নিয়ে এক মাইলের যাত্রা শুরু- চীনা প্রবাদ প্রতিটি বিশাল কাজের একটি ছোট্ট শুরু থাকে।
এক হাটে কিনে অন্যহাটে বেচা বুদ্ধিমান, লাভের উদ্যোগ।
এক হাত নড়ে না দুই হাত নড়ে দুপক্ষ না হলে বিবাদ হয় না।
এক হাত পায় এক হাত মাথায় কখনো সম্মান করে কখনো অপমান করে।
এক হাতে তালি বাজে না এক পক্ষের দোষে বিবাদ হয় না।
একই সাথে মনোহর ও হিতকারী বাক্য দুর্লভ সত্য সর্বদা অপ্রিয় হয়।
এককে আর দেখবে বেগার বেগার ধরে কাজ করালে কাজ প্রায় ঠিক হয় না; এককে আর হয়ে যায়।
একচোখে কাঁদা, অন্য চোখে হাসা/একচোখে কান্না,এক চোখে হাসি সুখ-দুঃখ মিলিয়ে সংসার; অন্য অর্থে কপটচারিতা- পরের দুঃখে লোক দেখানোর জন্য কাঁদে কিন্তু মনে মনে হাসে।
একচোখো মাসি কারে ভালোবাসি মা ও মাসি সমান হতে পারে না।
একজন ঘুমন্ত মানুষ আরেকজন ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে পারে না নির্গুণের ছোঁয়ায় কেউ গুণী হয় না।
একজন বন্ধুর চেয়ে একজন শত্রু থাকা ভালো সেক্ষেত্রে নিজের দোষ জানতে পারা যায়।
একজন বন্ধুলাভ দশজন বন্ধুহারানোর সমানই কোন প্রাপ্তিযোগই হারাতে নেই।
একজন মানুষ যা করতে পারে তার বেশি সে পারে না সাধ্যের বেশি কেউ করতে পারে না, করার চেষ্টা করাও উচিত নয়।
একজন শত্রুর স্মিতহাসি থেকে একজন বন্ধুর ভ্রুকুটি ভাল সেক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।
একজনকে বন্ধু করার আগে তার সাথে এক যোজন পথ হাঁটো হাত বাড়ালেই প্রকৃত বন্ধু মেলে না; বন্ধু চিনতে সময় লাগে।
একজনের কাছে অমৃত অন্যজনের কাছে বিষ সব জিনিষ সবার কাছে সমান বা উপযোগী নয়।
একটি আজ দুটি আগামীকালের সমান আজ নিশ্চিত কাল অনিশ্চিত।
একটি ছোট্ট ছিদ্রও বিরাট জাহাজকে ডোবাতে পারে একটি ছোট ভুল বিরাট ক্ষতি করতে পারে।
একটি ছোট্ট তিন-ইঞ্চির জিভ সাত-ফুটের একজন দশাসই ব্যক্তিকেও ধরাশায়ী করতে পারে (চীনা প্রবাদ) রসনা সংযত রাখার পক্ষে চেতাবনি।
একটি দিয়াশলাই কাঠি খাণ্ডবানল সৃষ্টি করতে পারে কোন তুচ্চ বিষয় তুচ্চ নাও হতে পারে।
একটি দোষ বহু গুণকে গ্রাস করে দোষের প্রতিক্রিয়াশক্তি বহুগুণ বেশি।
একটি পয়সা সঞ্চয় হলে একটি পয়সা অর্জিত হয় সঞ্চয় অর্থোপার্জনের মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বই যেন একটি আস্ত ফুলের বাগান- চীনা প্রবাদ বই পড়ে রূপ রস গন্ধ- সব আহরণ করা যায়।
একটি বদরোগ ভাল করা যায়, কিন্তু একটি বদনাম ঘুচানো যায় না বদরোগের কোন দোষ/কলঙ্ক নেই, বদনামে দোষ/কলঙ্ক মিশে থাকে।
একটি ভাত টিপলে, হাঁড়িসুদ্ধ ভাতের খবর মেলে সবাই এক গুণসম্পন্ন হয়।
একটি ভাল বই একজন ভাল বন্ধু ভাল বই বন্ধুর মত ভাল পরামর্শদাতা হয়।
একটি মিথ্যা ঢাকতে দশটা মিথ্যা কথা বলতে হয় মিথ্যাকে সত্য প্রতিপন্ন করতে অনেক কথা বলতে হয়।
একটি মূলার জন্য একটা গর্ত (চীনা প্রবাদ) যে যার নিজের কাজ কর; অন্য অর্থে- কেউ অপরিহার্য নয়।
একটি সুন্দর শুরু কাজের অর্ধেক সাফল্য এনে দেয় পরিকল্পনা সঠিক হলে কাজের অর্ধেক শুরুতেই শেষ।
একটু জানা/শেখা বিপজ্জনক ব্যাপার অর্ধ-জ্ঞানী বিশেষজ্ঞ সেজে ভুল তথ্য জানায়।
একটু হাসি দশবছর বয়স কমিয়ে দিতে পারে বাঁচতে হ'লে হাসতে শেখো; হাসির মত ওষুধ হয় না।
একটু হাসি লক্ষ দুশ্চিন্তা মুছে দিতে পারে। হাসি নির্মল আনন্দের উৎস।
একতাই বল সমষ্টির শক্তিই আসল শক্তি।
একতায় উত্থান, বিভেদে পতন সংঘবদ্ধতার শক্তি অসীম।
একদিন শয়তান চিরিদিন শয়তান চোর কখনো সাধু হয় না।
একবরের মাগ চিংড়ীমাছে খোসা, দোজবরের মাগ নিত্য করে গোঁসা/ একবরের স্ত্রী হেলফেলা, দোজবরের স্ত্রী গলায় মালা দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী তুলনায় স্বামীর বেশি আদরণীয়া হয়।
একবার করার আগে দু'বার ভাবো বুদ্ধিমান এক পা চলার পর একটু থামে।
একবার না পারিলে দেখ শতবার কার্যসিদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত থামতে নেই।
একবার রোগী তো একবার রোজা (বৈদ্য) অভিজ্ঞতা থাকলে প্রতিকার করা যায়; ভূক্তভোগী পরেরবারের জন্য সতর্ক; অন্য অর্থে- আজ সে সাহায্যপ্রার্থী হলেও কাল সে সাহায্যকর্তা হ'তে পারে।
একা ঘরের একা ভাই খাইতে বড় সুখ, মারতে গেলে ধরতে নাই তাইতো বড় দুখ একান্নবর্তী পরিবারের কোন তুলনা হয় না।
একমাত্র মৃত্যুই সকলকে সমান করে মড়ার কোন জাতবিচার হয় না।
একলা ঘরের গিন্নী চাবীকাটি ঝুলিয়ে নাইতে যাব প্রতিটি নারীর সুপ্তবাসনা থাকে- ঘরের প্রভুত্ব করবো।
একলা চলা চলা নয় সবাই মিলে না চললে মানসিক অবসাদ আসতে পারে।
একলা মানুষ, মানুষ নয় মানুষ সামাজিক জীব, একলা থাকতে পারে না বা ভালবাসে না।
একা কাঁদি, একা হাসি; গরম রেঁধে খাই বাসি সুখেদুঃখে ভরা জীবন; একাকীত্বের জ্বালা।
একাদশে বৃহস্পতি চরম সৌভাগ্য।
একা রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব/লক্ষণ তার দোসর কষ্টের ওপর কষ্ট; একের বিক্রমই যার যথেষ্ঠ তার আবার সঙ্গীর কি প্রয়োজন; একের বিক্রমেই প্রাণ ওষ্ঠাগত দুইয়ের বিক্রমে মরলাম।
একাগ্রচিত্তে কাজ করলে পাহাড় টলানো যায় চেষ্টায় কি না হয়; পঙ্গুও পাহাড় ডিঙাতে পারে।
একান্নও পাপ, বাহান্নও পাপ পরিমাণ গুণে পরিবর্তন আনে না; গল্পে আছে এক দস্যু নদীর ধারে এক নারীর সতীত্ব রক্ষা করতে গিয়ে অত্যাচারীকে হত্যা করতে গিয়ে এই উক্তি করেছিল।
একি ছেলের হাতে মোয়া? সবদ্রব্য সহজলভ্য নয়; ভুলিয়েভালিয়ে ছেলের হাত থেকে মোয়াটা নেওয়া যায়, পাকা লোককে বোকা বানানো যায় না।
একি বিধির খেলা কাকের/বকের/বিড়ালের গলায় তুলসীমালা ভেকধারী ধার্মিকের প্রতি বক্রোক্তি।
একুশ কোড়া গুণে খান, ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যান অতি সুখী শরীর বা অভিমানী মন; গল্পে আছে এক রাজকন্যা উপপতির সব অত্যাচার সহ্য করত, কিন্তু ফুল ছূঁড়ে মারলে মূর্ছা যেত
একুল ওকুল দুকল গেল অকূল পারে গোকুল এদিকও গেল ওদিকও গেল, কোন দিক আর রইল না; ইতো নষ্টঃ ততো ভ্রষ্টঃ।
একে গুণ গুণ, দুইয়ে পাঠ; তিনে গোলমাল চারে হাট অভিজ্ঞতায় বলে দুইজন শিক্ষার্থী একসাথে পড়শুনা করলে পরস্পরের সাহায্যে লেখাপড়া সব থেকে ভাল হয়।
একে চায় আরে পায় কাঙ্ক্ষিত বস্তু ছাড়াও অন্য মনোমত বস্তু পেলে আনন্দে নেচে ওঠে।
একে ছেঁড়াকাঁথা তায় শততালি কষ্টের ওপর কষ্ট।
একে মা মনসা তায় আবার ধূনার গন্ধ ইন্ধন যোগানো; কোপনস্বভাবের ব্যক্তিকে উস্কে দিলে সে আরও ক্রোধান্বিত হয়।
একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি/একেই নাচনি বুড়ি তায় নাতনীর বিয়ে/একে তো নাচুনি কালী, তাতে মৃদঙ্গের তালি/একে বউ নাচনি তায় খেমটার বাজনি ইন্ধন যোগানো; উস্কে দিলে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়।
একেবারে না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়া ভালো কিছু না হওয়া অকাজের সামিল।
একে মা রাঁধেনা তার ওপর তপ্ত আর পান্তা সামান্য বিষয় জোটে না, অসামান্যের দাবী; অনায্য দাবী।
একেতো উমা তায় তুষার ধুমা কষ্টের ওপর কষ্ট।
একেতো ছাই- তার উপর বাতাস কষ্টের ওপর কষ্ট।
একেতো মধুপর্কের বাটি তায় আবার কাত নানাদোষে দুষ্ট।
একেতো হনুমান তায় আবার রামের বাণ যন্ত্রণার উপর যন্ত্রণা।
একেন পাপ শতেন কিংবা একটা পাপ করলেও যা পাঁচটা করলেও তা; পাপ করতে যাওয়ার আগে পাপীর মনোভাব; যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন।
একেনাপি সুবৃক্ষেণ পুষ্পিতেন সুগন্ধিনা। বাসিতং তদ্বনং সর্বং সুপুত্রেণ কুলং যথা॥ (চাণক্য) সুগন্ধ ফুলে ভরা একটি গাছে যেমন সমগ্র বনভূমি আমোদিত হয়, তেমনি এক সুপুত্রের গুণে বংশ গৌরবান্বিত হয়।
একেবারে কিছু না করলে কুকাজ করা হয় অলস না থেকে কিছু-না-কিছু করা উচিৎ.
একেবারে না হওয়া থেকে দেরিতে হওয়া ভালো তাতেও কিছু হয়।
একের বোঝা, দশের আঁটি/লাঠি ভাগাভাগি করলে সমস্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
এখন শুনলে না বঁধু যৌবনভব্রে, পশ্চাতে কাঁদিতে হবে অঝরঝরে যৌবনের অহংকারে সব কিছু ফুৎকারে ওড়ালে বৃদ্ধবয়সে কপালে দুঃখ আছে।
এখনই সন্দেশ খেয়েচি, চায়ে চিনি দিওনা, সুগার আছে নিজেকে জাহির করার মানসিকতা; দেখনদারী।
এগুনে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী গুণ অদ্শ্য; রূপ দৃশ্য; তাই রূপই প্রথম আকর্ষণ করে।
এগুলে রাম, পেছুলে রাবণ/এগুলে সর্বনাশ, পেছুলে নির্বংশ/ এগুলে নির্বংশের ব্যাটা, পেছুলে নির্বংশের ব্যাটা উভয়সঙ্কট; প্রাণপণ খেটেও কারও সন্তোষবিধান করা যায় না।
এড়ে (ছেড়ে) দিয়ে তেড়ে ধরে পাওয়া সুযোগ হেলায় ছেড়ে দিয়ে ফিরে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা।
এত বড় হাবা জন্ম দেয়নি কারো বাবা মহামূর্খ।
এত সুখ যদি তোর কপালে তবে কেন কাঁথা বগলে? বাহ্য লক্ষণ দেখে মনে হয় মেকি সুখী, সুখের ভান; কারো আত্মগৌরব প্রচারে অবিশ্বাস।
এতো মূলোবাড়ী নয় এতো বেগুনবাড়ী যেস্থানে একসময়ে সাহায্য পাওয়া যায় সেটি হল মূলোবাড়ী; যেস্থানে অল্প হলেও সবসময় সাহায্য পাওয়া যায় সেটি হল বেগুনবাড়ী।
এদিক নেই ওদিক আছে বাড়াবাড়ির প্রতি ব্যঙ্গোক্তি।
এনে দাও কাছে মারি, বাপের পূণ্যে নড়তে নারি অলসের উক্তি।
এমনি কেউ কারও বন্ধু নয় বা শত্রু নয় অকারণে কিছু হয় না।
এমনি যায় না মাস, তায় আবার দুদিন বেশি প্রচণ্ড টানাটানি; কষ্টের ওপর কষ্ট।
এরণ্ডোহপি দ্রুমায়তে বৃক্ষহীন দেশে ভেরেণ্ডাও বৃক্ষ হয়।
এর মুণ্ডু ওর ঘাড়ে একজনের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো।
এলো শ্রাদ্ধের গুঁতো দক্ষিণা যে কাজে শৃঙ্খলা নেই শেখানে লাভ না হয়ে লোকসানই হয়।
এসেছি একা, যাবোও একা, কার সঙ্গে কার বা দেখা। কেউ কারো নয়।
এ্যাং যায়, ব্যাং যায়, খলসে বলে আমিও যাই সবাই সমান/সঙ্গী হতে চায়; যে কাজে সে অসমর্থ সেই কাজ করতে গিয়ে হাস্যাস্পদ হয়।
এ্যায়সা দিন নেহি যায়েগা, জোয়ারমে ভাটা গিরেগা, খেয়াল ঠিক রাখনা। চিরদিন কারো সমান যায় না; চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি চ দুখানি চ।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঐ দিন আর নাইরে নাথু খাবলা খাবলা খাবা ছাতু সুযোগ নেবার দিন শেষ
ঐ ধান ঐ চাউল গিন্নিগুণে আউল-ছাউল সব এলোমেলো।
ঐশ্বর্য অর্জন করা সহজ, রক্ষা করা কঠিন। ধনসম্পদ যত সহজে পাওয়া যায় তত সহজে রাখা যায় না।
ঐশ্বর্য চিত্তের বিকার ঘটায় ঐশ্বর্য ভোগলিপ্সা বাড়ায়, চিত্তের স্থিরতা নষ্ট করে।
ঐশ্বর্যস্য বিভূষণং সুজনাতা, শৌর্যস্য বাকসংযমো, জ্ঞানস্যোপশমঃ কুলস্য বিনয়ো, বিত্তস্য পাত্রে ব্যয়। অক্রেবিস্তপমঃ ক্ষমা, বলবতাং ধর্মস্য নির্ব্যাজতা, সর্বেষামপি সর্বকারণমিদং শীলং পরং ভূষণম্‌॥ (চাণক্য) ঐশ্বর্যের অলংকার সৌজন্য, শৌর্যের অলংকার বাক্‌সংযম, জ্ঞানের অলংকার প্রশান্তি, বংশের অলংকার বিনয়, ধনের অলংকার যথাযথ পাত্রে ব্যয়, তপস্যার অলংকার ক্রোধহীনতা, বলবানের অলংকার ক্ষমা, ধর্মের অলংকার সরলতা, আর সবের মধ্যে সচ্চরিত্রতাই সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকারস্ব
ঐশ্বর্যের সময় দারিদ্রের কথা ভেবো, দারিদ্রের সময় ঐশ্বর্য্যের কথা ভেবো না- চীনা প্রবাদ তাতে চিত্তের বিকার ঘটবে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ওজন বুঝে চলা আত্মসম্মান বজায় রাখা।
ওঝার ঘাড়ে ভূতের বোঝা রক্ষাকর্তার উপর অতিরিক্ত চাপ; যে ব্যক্তি বিপদ থেকে রক্ষা করে সেই বিপদে পড়েছে।
ওঝার বেটা বনগরু পণ্ডিতের ছেলে মহামূর্খ।
ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় কাউকে কিছু করতে বলা।
ওপরে চিকণ চাকণ ভেতরে খ্যাড়(=খড়) বাইরে বাবু ভিতরে ফকির।
ওরে পাগল খাবিনে, না, হাত ধোব কোথা? সেয়ানা পাগল।
ওল কচু মান তিনই সমান সবগুলি তুল্যমূল্য, উনিশ-বিশ
ওল খেয়ে গোল সমস্যার সম্মুখীন।
ওল বলে, মানকচু তুই নাকি লাগ নিজের ত্রুটির প্রতি নজর নেই পরের দোষ খুঁজে বেড়ায়।
ওষুধ ধরেছে কাজের কাজ হয়েছে; প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ওষধার্থে সুরাপান মদ খাওয়ার পক্ষে বাহানা।
ওষুধের চেয়ে পথ্যি ভালো সুসমখাদ্য ডাক্তারের চেয়ে ভাল ডাক্তার।
ওস্তাদের মার শেষ রাতে দক্ষ ব্যক্তি শেষমূহুর্তে তার দক্ষতা দেখায়।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঔষুধ ধরেছে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে; ফল ফলতে শুরু করেছে।
ঔষুধার্থে সুরাপান, পান না বাড়ালেই থাকে মান পরিমিত সুরাপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ক অক্ষর গোমাংস/ ক লিখতে কলম ভাঙে মহামূর্খ ব্যক্তি।
কই হইল আগরতলা, আর কই চৌকিরতলা দুই অসম বিষয়ের মধ্যে তুলনা হয় না।
কই মাছের প্রাণ অল্পেতেই না যান কষ্টসহিষ্ণু লোক অল্পেতে কাবু হয় না।
কইয়ের তেলে কই ভাজা যার কাজ তাকে দিয়েই কাজ হাসিল করা; বিনা পরিশ্রমে কার্যোদ্ধার।
কইতে কইতে মুখ বাড়ে, খাইতে খাইতে পেট বাড়ে সব কিছুতেই পরিমিতিবোধ থাকার প্রতি ইঙ্গিত।
কইতে জানলে ঠকি না,বসতে জানলে উঠি না জ্ঞানীগুণীরা কখনো অপ্রতিভ বা অপ্রস্তুত হয় না।
কইলাম কথা সবার মধ্যে; যার কথা তার গায়ে বিন্দে পরোক্ষে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা।
কইলে যায় মনের দুঃখ খাইলে যায় পেটের ভুখ চুপচাপ বসে থাকা যায় না; না খেলেও বাঁচা যায় না।
কংস রাজার বদ (বধ) ফরমাশ অন্যায় ও অসম্ভব আদেশ।
কখনো অপ্রিয় সত্য কথা বলিও না কেউই অপ্রিয় সত্য কথা শুনতে চায় না।
কখনো খেওনা ওলে আর ঘোলে; কখনো ভুলো না ঢেমনার (লম্পট) বোলে বিরুদ্ধ বস্তুর মিশ্রণ খেতে নেই; প্রবঞ্চকের কথায় বিশ্বাস করতে নেই; করলে প্রাণ ওষ্টাগত হবে।
কখনো না হওয়া থেকে দেরীতে হওয়া ভালো তবুতো কিছু হবে।
কখনো প্রমাণ করতে যেওনা যা কেউ সন্দেহ করে না- চীনা প্রঃ যেখানে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই সেখানে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
কচি উচ্চে পাকা পটল, কচি পাঁঠা, পাকা কাতল (কাৎলা মাছ) এইসব খাদ্য বড়ই সুস্বাদু।
কচি পাঁঠা, পাকা মেষ, দইয়ের আগা ঘোলের শেষ, এইগুলি খেতে বেশ এইসব খাদ্য খেয়ে বড়ই তৃপ্তি পাওয়া যায়।
কচি খুকি কুলোয় শুয়ে তুলোয় দুধ খান নির্বুদ্ধি বয়স্কামহিলা সম্পর্কে প্রযোজ্য।
কচু কাটতে কাটতেই ডাকাত লেগে থাকলে একদিন সিদ্ধি হবেই।
কচু পোড়া খাও ব্যর্থ মনোরথ হয়ে পড়ে থাকো; গালাগালি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
কচুবনের কালাচাঁদ লম্পট, দুশ্চরিত্র ব্যক্তি; গল্পে আছে রমণীদের ভোলাবার জন্য রাতের অন্ধকারে কচুবনে লুকিয়ে থাকে।
কচুর বেটা ঘেঁচু, তার আবার মান/কচুর বেটা ঘেচু,বড় বাড়েন তো মান। অপদার্থের কোন মানসম্মান হয় না; নীচু নীচুই থাকে।
কটি ছেলে? না, পুড়িয়ে খাব বদ্ধকালার অসংলগ্ন কথাবার্তা।
কড়ি থাকলে বাঘের দুধ মেলে অর্থের অসীম শক্তি।
কড়ি থাকলে বেয়াইয়ের বাপের শ্রাদ্ধ হয় টাকার অপচয় করা যায়।
কড়ি দিয়ে কানা গরু কেনা অজ্ঞতাবশতঃ টাকা খরচ করে ঠকে গেলে এই প্রবাদ বলা হয়।
কড়ি দিয়ে কিনবো দই, গোয়ালিনী মোর কিসের সই পয়সা খরচ করে জিনিষপত্র কিনতে হ'লে সে আত্মীয় হতে পারে না।
কড়ি দিয়ে খাই দই, কি করবে মোর গয়লা সই যে কোন বিষয়ে কারো কাছে বাধ্য নয়, সে এই প্রবাদ ব্যবহার করে।
কড়ি নেবে গুণে, পথ চলবে শুনে বিবেচনার সাথে কাজ সম্পাদন করা উচিৎ।
কড়ি পেলে কাঠের ঘোড়া (ধর্মরাজ) হাঁ করে ঘুষের দাপট।
কড়ি ফটকা চিঁড়ে দই, কড়ির মত বন্ধু কই টাকার জোরে সব মেলে; টাকার মত বন্ধু হয় না।
কড়ি হলে বাঘের দুধ মেলে টাকার জোরে সব মেলে; জগৎ কড়ির দাস।
কড়িকাঠ গুণে যাও ব্যর্থমনোরথ হয়ে পড়ে থাকো; অলসে সময় কাটাও।
কড়িতে কড়া/চতুর, কাহনে কানা অল্প খরচে কিপ্টেমি, বেশি খরচে দরাজহস্ত।
কড়ির জিনিষ পড়িস না মূল্যবান সামগ্রী কম ব্যবহার করবে।
কড়ির মাথায় বুড়োর বিয়ে কড়ি থাকলে বুড়ো বয়সেও বিয়ে করা যায়।
কড়ির যত্ন নাও, কাহন (সঞ্চিত অর্থ) তোমার যত্ন নেবে প্রয়োজনে অর্থের অভাব হবে না।
কণ্টকবিনা কমল নাই, কলঙ্কশূন্য চন্দ্র নাই জগতে নির্দোষ বলে কিছু নাই।
কত জলে কত চাল/চিঁড়ে ভেজে দেখো যা জানতে না তা এখন জেনে নাও।
কত ঢং দেখালি গুয়ে, তুলসীতলায় শুয়ে শুয়ে কপট আচারের প্রতি বক্রোক্তি।
কত ধানে কত চাল জান না, কোন হিসাব রাখ না কোনো বিষয়ের প্রকৃত অবস্থারখবর/হিসাব করে চলার প্রতি ইঙ্গিত।
কত রঙ্গ দেখালে মাসি আদিখ্যেতার প্রতি বক্রোক্তি।
কত রবি জ্বলেরে, কেবা আঁখি মেলেরে! অতি-অলসের উক্তি।
কত শত গেল রথি, শেওড়াতলার চক্রবর্তী/ কত হাতী গেল তল ভেড়া/মশা বলে কত জল অক্ষমের আস্ফালন
কতই বা দেখবো আর ছুঁচোর/বানরের গলায় চন্দ্রহার অযোগ্যের হাতে মহার্ঘবস্তু দেখে আক্ষেপ; যে অবস্থার অতিরিক্ত বেশভূষা করে হাস্যাস্পদ হয় তার প্রতি প্রযোজ্য।
কতই সাধ ছিলরে চিতে মলের আগে চুটকি দিতে/ কতই সাধ হয়রে চিতে, ফোকলাদাঁতে মিশি দিতে/কত সাধ হয়রে চিতে বেগুন গাছে আঁকশি দিতে অক্ষমের বাসনা; নৈরাশ্যব্যঞ্জক উক্তি; যা হবার নয় তাই হবার ষে সম্পর্কে আক্ষেপোক্তি।
কতক্ষণ রহে শিলা শূন্যেতে মারিলে? পতন অনিবার্য।
কথা কম কাজ বেশী কথা থেকে কাজের দাম বেশী।
কথা টলার চেয়ে পা টলা (আছাড় খাওয়া) ভালো কথা দিলে কথা রাখতে হয়; অঙ্গীকার পালন করা প্রধান কর্তব্য।
কথা দিয়ো ধীরে; কাজ করো তীরে (দ্রুত) চিন্তাভাবনা করে কথা বলা উচিৎ; গদাইলস্করি চালে কাজ করা উচিৎ নয়।
কথা বলা থেকে কথা শোনার দাম বেশী জ্ঞানীরা শোনে বেশি বলে কম।
কথা বলার আগে যথেষ্ঠ সময় নিতে হয় যাতে কথা ফলের মত পরিপক্ক (সার্থক) হয়- আরবী প্রবাদ চিন্তাভাবনা করে কথা বলতে হয় যাতে কার্যসিদ্ধি হয়।
কথা বেচে খাওয়া কথার বিনিময়ে অর্থোপার্জন; লোক ঠকিয়ে জীবিকানির্বাহ।
কথাবার্তায় ক্রোধের পরিমাণ খাবারের লবণের মত পরিমিত হ'লে রুচিকর, বেশি হ'লে ক্ষতিকর।
কথা শোনো দ্রুত; কথা বল ধীরে কেউ কিছু বললে তৎক্ষণাৎ শোনা এবং ধীর ও স্পষ্টভাষায় উত্তর দাও।
কথা শুনে পেটের ভাত চাল হয়ে যায় বিপদের কথা শুনে আশঙ্কায়/ভয়ে প্রাণ শুকিয়ে যায়।
কথা শুনে হরিভক্তি উড়ে গেল নিতান্ত অশ্রদ্ধার কথা শুনে সব শ্রদ্ধা নষ্ট হল।
কথায় কথা বাড়ে, ভোজনে পেট বাড়ে বাকবিতণ্ডায় অনাবশ্যক কথার অবতারণা হয়; বেশি খেলে স্থূলোদর হয়।
কথায় কলসী/পেট ভরে না/ কথায় চিঁড়ে ভেজে না শুধু কথায় কাজ হয় না; ফাঁকা আওয়াজে কাজ হয় না; ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল হয় না।
কথায় বলে কথায় থাকো প্রবাদে বলে সবার সাথে সম্পর্ক রাখো।
কথায় মন ভিজে চিঁড়ে ভেজে না শুধু কথায় কারো মন জয় করা যায় কিন্তু কোন কাজ হয় না।
কথার কথা কাজের নহে বাজে কথার মূল্য নেই।
কথার গুণে বার্তা নষ্ট বাকচাতুর্যে আসল কথা হারিয়ে যায়; বাক্যদোষে ঈপ্সিত ফললাভ হয় না।
কথার চেয়ে কাজের গলা দরাজ মানুষ কাজ চায়, কথা চায় না।
কথার বেলায় ঢুসঢাস কাজের বেলায় হাওয়া কথাবার্তায় পটু, কাজে অষ্টরম্ভা।
কদম গাছের কানাই লম্পট চরিত্রের লোক।
কনের ঘরের মাসি, বরের ঘরের পিসি দু'পক্ষেই আছে।
কনের বাপ বসে বসে চোখের জলে ভাসে, বরের বাপ বসে আছে পাঁচশ টাকার আশে বিয়ের অন্যায্য উপঢৌকনের প্রতি ইঙ্গিত।
কনের মা কাঁদে আর টাকার পুটুলি বাঁধে কন্যা বিক্রয়ে মায়ের মনোভাব ব্যক্ত; একদিকে কন্যার জন্য শোক; অন্যদিকে অর্থলালসা; এক চোখে কাঁদা আরেক চোখে হাসা।
কন্যা বরয়তে রূপং, মাতা বিত্তং, পিতা শ্রুতম্। বান্ধবাঃ বরয়তে কুলমিচ্ছন্তি, মিষ্টান্নমিতরে জনাঃ। (চাণক্য) কন্যা বরের রূপ; মাতা বরের অর্থ; পিতা বরের গুণ, আত্মীয়রা বরের কুল আর অতিথিরা ভোজন প্রত্যাশা করে।
কপট বন্ধুত্ব থেকে প্রকাশ্য শত্রুতা ভাল ভণ্ডামী কোন অর্থেই সমর্থনযোগ্য নয়।
কপট বন্ধুর/প্রেমের লুকোচুরি, মুখে প্রেম অন্তরে/হৃদে ছুরি কপটতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে চেতাবনি; কপটাচারী মুখে মিষ্টতার ভান দেখায়, অথচ মনে মনে অনিষ্ট করার চিন্তা করে।
কপালগুণে গোপাল ঠাকুর ভাগ্য ভালো থাকলে অযোগ্য ব্যক্তিও বড়ো হয়।
কপাল ছাড়া গতি নাই ভাগ্য ভিন্ন গতি নাই।
কপাল ভাঙ্গলে জোড়া লাগে না মন্দভাগ্য পালটায় না; একবার ভাগ্য অপ্রসন্ন হলে সহজে উন্নতি হয় না।
কপাল ভালো তো সব ভালো সৌভাগ্য থাকলে যাতে হাত দেবে তাই সফল হবে।
কপাল সঙ্গে সঙ্গে যায়/ কপাল সাথে সাথে ফেরে যা হবার তা হবে; অভাগার কোথাও সুখ লেখা নেই
কপালে তোর নেইকো ঘি ঠকঠকালে হবে কি? ভাগ্যে না থাকলে প্রত্যাশা করে কোন লাভ নেই; যার কপালে সুখ লেখা নেই ষে শত চেষ্টাতেও কপাল ফেরাতে পারে না।
কপালের লিখন যায় না খণ্ডন ভাগ্যে যা আছে তা ঘটবেই; ভাগ্যে ভোগান্তি থাকলে ভুগতেই হয়।
কবে রাম রাজা হবে, তবে সীতা উদ্ধার পাবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণে হতাশা প্রকাশ।
কম্বল ও কমণ্ডুল না নিলে সাধু হওয়া যায় না ভেকধারীদের প্রতি ব্যাঙ্গোক্তি।
কম্বল(ভল্লুক) আমি ছেড়ে দিয়েছি কম্বল আমায় ছাড়ে না নাচ্ছোড়বান্দার পাল্লায় পড়ে নাজেহাল।
কম্বলের লোম বাছলে থাকে কি? যেখানে সবাই মন্দ সেখানে মন্দলোক বাচতে যাওয়া বৃথা; ঠগ বাছতে গা উজাড়।
কয়লা খেয়েছো আঙরা হাগো যেমন কর্ম তেমন ফল।
কয়লা ছাড়েনা ময়লা/কয়লা ধুলে ময়লা যায়না মন্দলোক কখনো ভালো হয় না।
কয়লা ধুলে ময়লা যায় না/ কয়লা না ছাড়ে ময়লা খারাপলোক সহজে তার মন্দস্বভাব পরিবর্তন করতে পারে না; স্বভাব যায় না মলে।
কয়লা পুড়লে ময়লা যায় জ্ঞানাগ্নিতে শুদ্ধ হলে অজ্ঞতা দূর হয়।
কর গোবিন্দের বাপের শ্রাদ্ধ; আরও বামুন আছে নগণ্য কাজের জন্য লোকের অভাব হয় না।
কর যদি তাড়াতাড়ি ভুলের হবে বাড়াবাড়ি তাড়াতাড়ি করলে নজর এড়িয়ে অনেক ভুল থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
করছে কীসের জাঁক, ময়না টিয়ে উড়িয়ে দিয়ে খাঁচায় পোষে কাক অবিমৃষ্যকারিতার প্রতি ইঙ্গিত।
করা থেকে বলা সহজ কিছু করতে গেলে পরিশ্রম লাগে।
করার আগে ভাবো, ভাবার আগে কোরো না তাতে হটকারিতা কখনো হ'বে না।
করুণার পাত্র হওয়া থেকে শত্রু হওয়া ভাল অনুকম্পার পাত্রকে সকলে ঘৃণা করে।
কর্কশ কথা আগুনের জ্বালার চেয়েও ভয়ঙ্কর- চাণক্য অনেকের অনুভূতিই সেইরকম।
কর্জ করে যেই কষ্ট পায়/ভোগে সেই ঋণী বড় দুখী; অঋণী খুবই সুখী।
কর্তব্যো নাতি সঞ্চয়ঃ বেশি সঞ্চয় করা উচিত নয়, তাতে কার্পণ্য, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি বাড়ে।
কর্তা মুগের ডাল খান না; কেন খান না; পান না, তাই খান না অলভ্য জিনিষ মন্দ; দুস্প্রাপ্য জিনিষে বৈরাগ্য।
কর্তা যে ঘি খান না, তা এক আচঁড়েই মালুম আঁচড় টানলে হায়ে খড়ি পড়ে; পরীক্ষাতেই বিদ্যা প্রকাশ।
কর্তার ইচ্ছায় কর্ম; উলুবনে কেত্তন। সবলের অনুচিত ইচ্ছাপূরণ।
কর্ম নেই তার ধর্ম আছে ভাগ্যবিশ্বাসী শ্রমকাতর ব্যক্তি।
কর্মদোষেণ দরিদ্রতা কর্মদোষেই মানুষ অভাগা।
কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন (গীতা) বিহিতকর্মেই তোমার অধিকার; কর্মফলে কখনো নয়।
কলঙ্ক গঙ্গাজলে ধুলেও যায় না বদনাম কখনো ঘুচে না।
কলঙ্ক বিনা চাঁদ নাই অবিমিশ্র সুখ হয় না; দোষেগুণে মানুষ।
কলসির জল গড়তে গড়তেই শেষ সীমিত সম্পদ দ্রুত শেষ হয়; আয় না থাকলে সঞ্চিত অর্থে বেশি দিন চলে না।
কলাপোড়া খাও ব্যর্থ হয়ে পড়ে থাকো।
কলার ভেলায় সাগর পার সামান্য উপায়ে বিরাট কাজ করার বৃথা চেষ্টা।
কলুর বলদ নিজের ভালমন্দ না বুঝে শুধু মুখবুজে পরের নির্দেশমত খেটে মরে।
কল্লার (দুষ্ট) ঘাড় বোল্লায় (বোলতা) ভাঙে দুষ্টের শাস্তি হবেই।
কল্লে যত্ন মেলে রত্ন সাধনায় সিদ্ধি হবেই।
কষতে কষতে বাঁধন ছেঁড়ে বেশি টানাটানিতে সূতা ছিঁড়ে যায়; বাড়াবাড়ি ভাল নয়; ভাল নয় অতিশয়।
কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না/কষ্ট বই ইষ্ট নাই/ কষ্টবিনা কেষ্ট নাই পরিশ্রম না-করলে সফলতা পাওয়া যায় না; বিনা পরিশ্রমে কিছুই মেলে না; সাধনা না করলে সিদ্ধি নাই।
কষ্টা বৃত্তিঃ পরাধীনা কষ্টো বাসো নিরাশ্রয়ঃ। নির্দ্ধনো ব্যবসায়শ্চ সর্বকষ্টা দরিদ্রতা॥ (চাণক্য) চাকরের জীবিকা কষ্টকর; নিরাশ্রয় ব্যক্তির পরগৃহে বসবাস কষ্টকর; ধনহীনের পক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কষ্টকর; দারিদ্র্য সকল কষ্টের কারণ।
কসুরও নাই কামাইও নাই কোন ছাড়ছোড় নেই অবিচ্ছিন্নভাবে চলছে।
কস্য মাতা, কস্য পিতা, কস্য ভ্রাতা সহোদরঃ কার মা কার বাবা কার ভাই এসব ভেবে কাজ নেই; আসলে কেউ কারো নয়।
কাঁচপোকায় আরশোলা খায়/ধরে এমন অবস্থা যার থেকে নিস্কৃতি নেই।
কাঁচা খাই, ডাসা খাই, আর খাই পাকা সর্বভুক।
কাঁচা গাঁথুনির দুনো খাটুনি/ কাঁচা গাঁথুনির নেই আঁটুনি পরিশ্রম করে গড়ে; ভেঙে গেলে দ্বিতীয়বার পরিশ্রম করে সেগুলি সরায়; কাঁচা কাজ করা নেই।
কাঁচা গুয়ে ঢিল মারা অপ্রীতিকর কাজ করে নিজের অনিষ্ট করা।
কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা অল্পবয়সেই দুশ্চরিত্র হওয়া।
কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরে না সতেজ তরুণমনে পাপবোধ জন্মে না।
কাঁচা মাটিতে পা দেওয় ভুল যায়গায় আগ বাড়া।
কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ট্যাঁশ ট্যাঁশ সময়ে শিক্ষা না দিলে সন্তান মানুষ হয় না; শৈশব শিক্ষার সময়।
কাঁচে কাঞ্চনে সমান কোনটা অল্পমূল্যের, কোনটা বেশি মূল্যের তা বোঝার সামর্থ নেই; অন্য অর্থে সংসারবৈরাগি কাছে দুইই সমভাবে উপেক্ষনীয়।
কাঁটাচামচের আগে আঙ্গুলের জন্ম হাতে খাওয়ার পক্ষে ওকালতি।
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা একদুষ্টের বিরুদ্ধে অন্যদুষ্ট লেলিয়ে দিয়ে উভয়ের বিনাশ সাধন করা।; শত্রু দিয়ে শত্রুনাশ।
কাঁটা বিনা কমল/গোলাপ নাই অবিমিশ্র সুখ হয় না; সুখদুঃখ জড়িয়ে জীবন।
কাঁঠালের আমসস্ত্ব অসম্ভব ব্যাপার, যা হয় না; তুলনীয়- সোনার পাথরবাটি।
কাঁড়ানো চালে তিন ঘা পাড় (ঢেঁকির) সম্পন্ন কাজে পুনরায় পরিশ্রম নিস্প্রয়োজন।
কাঁধে কুড়ুল রেখে বনময় খোঁজে কাছে থাকা জিনিষ নানাস্থানে খুঁজে বেড়ানো; ভোলেভালা লোক।
কা কস্য পরিবেদনা কে কার কথা ভাবে; বৃথা হাহুতাশ।
কাউকে বুকে করা কাউকে পিঠে করা কাউকে আদর করা, কাউকে অনাদর করা।
কাউয়ার ওপর কামানের গুলি/কাকের উপর কামান দাগা অল্পদোষে বেশি শাস্তি।
কাক কাঁকুড়ের জ্ঞান নেই দুই বস্তুর তত্ত্বগত পার্থক্য বুঝতে না পারা।
কাক-কোকিলে ভেদজ্ঞান নেই ভাল-মন্দের তফাৎ বুঝতে না পারা।
কাক কোকিলের একই বর্ণ, কিন্তু স্বরে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতিতে সাধু-অসাধু চেনা যায় না, প্রকৃতিতে তাদের চেনা যায়।
কাক কোকিলের সমান দর ভালমন্দ বিচার নেই।
কাক কাকের মাংস খায় না স্বজাতির ক্ষতি কেউ করে না বা চায় না।
কাক খায় কাঁঠাল, বকের মুখে আঠা একের সৌভাগ্য দেখে অপরের ঈর্ষা; একজনের অপরাধে অন্যজনের শাস্তি।
কাক খেলো ধান, ব্যাঙের পায়ে দড়ি চরম বিশৃঙ্খলা; উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে; একজনের অপরাধে অন্যজনের শাস্তি।
কাকতালীয়বৎ প্রাপ্তং দৃষ্টাপি নিধিমগ্রতঃ। ন স্বয়ং দৈবমাদত্তে পুরুষার্থমপেক্ষতে॥ (চাণক্য) কুড়িয়ে নিতে গেলেও চেষ্টা করা চাই; পুরুষের চেষ্টা বিনা সিদ্ধি নাই।
কাকপক্ষীও টের পাবে না কেউ টের পাবে না; অতিসতর্ক কাকের কিছুই নজর এড়ায় না।
কাক ভেজে জলে, ব্যাঙের লাগে সর্দি আজগুবি কথা, যা কখনো হয় না
কাক ভাবে আমি বড় সেয়ানা আহাম্মকের আত্মগরিমা।
কাক মরল ঝড়ে, প্যাঁচা ভাবে আমার শাপ লাগল হাড়েহাড়ে অক্ষমের সান্ত্বনা; শত্রুনিপাত হলে বিপক্ষ ভাবে তার অভিশাপেই এমন ঘটেছে।
কাক সকলের মাংস খায়, কাকের মাংস কেই খায় না ঠগ সবাইকে ঠকায়, কিন্তু কেউ ঠগকে ঠকাতে পারে না।
কাকে নিয়ে গেল কান, কাকের পিছনে ছোট নিজে বিবেচনা করে না, পরের কথায় ছুটে মরে।
কাকের উপর কামান দাগা/কাউয়ার ওপর কামানের গুলি অল্পদোষে বেশি শাস্তি।
কাকের ডানায় মুক্তা বসালেও কাক রাজহাঁস হয় না/কাকের লেজে ময়ূরপালক লাগালেও কাক ময়ূর হয় না অসারবস্তু কখনো সারবস্তু হয় না; নকল কখনো আসল হয় না।
কাকের ডিম সাদা হয়, বিদ্বানের ছেলে গাধা হয়। অস্বাবাভাবিক কিছু নয়।
কাকের পিছনে ফিঙে লাগা কাউকে অনবরত উত্যক্ত করা।
কাকের বাসায় কোকিলের ছা, জাতস্বভাবে করে রা জাতস্বভাব কখনো বদলায় না।
কাকের লুকানো (খাদ্য) বোকার মরণ; জিনিষ এমনভবে লুকায় যে পরে আর খুঁজে পায় না।
কাকের মাংস কাকে খায় না সমধর্মী লোকেরা পরস্পরের ক্ষতি করে না।
কাঙলা আপনা সমালা আগে সবাই নিজেকে সামলাক; পরের উপকার পরে করা যাবে।
কাঙালকে শাকের ক্ষেত দেখাতে নেই অভাবীকে লোভ দেখাতে নেই; যাতে লোকের লোভ বাড়ে এমন কাজ করতে নেই।
কাঙালী মেরে কাছারি গরম গরীব মেরে আসর গরম করা।
কাঙালের অশ্রুতে যে রক্ত ঝরে ভগবান দেখেও কিন্তু দেখে না ভগবান বড়লোকের ঘরে বাঁধা।
কাঙালের কথা বাসি হলে খাটে/ফলে ছোটো মানুষের সঠিক কথা প্রথমে উপেক্ষিত হলেও পরবর্তীকালে সঠিক প্রতিপন্ন হয়।
কাঙালের কাছে রাংতাই সোনা/ কাঙালের কাছে মুড়িকিই সন্দেশ অভাবীর কাছে এক কড়ারও দাম আছে; তার পক্ষে যা পাওয়া সম্ভব তাতেই সে সন্তুষ্ট থাকে।
কাঙালের ক্ষিদে বেশি কাঙাল শুধু খাই খাই করে।
কাঙালের ঘোড়ারোগ যা পাওয়ার অধিকারী নয় তাই পাওয়ার ইচ্ছা।
কাঙালের ঠাকুরব্যাধি অবস্থার অরিতিক্ত আকাঙ্ক্ষা।
কাঙালের মরণ বিটকেল কাঙাল সুখে মরতেও পারে না।
কাছা দিতে কোঁচা আঁটে না, কোঁচা দিতে কাছা আঁটে না সবসময় টানাটানি।
কাছের লোক কাছের নয় বিপদে সরে থাকে; ঘরের লোক বেশি শত্রুতা করে।
কাছের লোক গাড়ী ফসকায় কাছের লোকের গয়ং গচ্ছভাব।
কাজ আটকালে বুদ্ধি যোগায় সমস্যায় পড়লে সমস্যা সমাধানের উপায় আপনি মাথায় আসে।
কাজ নেই কাজ করে, ধানে চালে এক করে কাজ নেই তো অকাজ, কুকাজ করে।
কাজও নেই, কামাইও নেই যখন-তখন উপস্থিত হতে হয় বলে অনির্দিষ্ট কাজে বিরাম পাওয়া যায় না কিংবা অকাজে সদাব্যস্ত।
কাজ নেই তো ভাজো খই অকাজে সময় নষ্ট করা।
কাজ শুরু হলেই অর্ধেক কাজ শেষ কাজের প্রস্তুতিতেই অর্ধেক সময় চলে যায়।
কাজ সরিয়ে রাখলে কাজ বরবাদ কালে পেলে কজ কোনদিন শেষ হয় না।
কাজে এড়া অকাজে দেড়া কাজ করে না অকর্ম করে।
কাজে এড়া, আচারে দেড়া আচারসর্বস্ব।
কাজে এড়া ভোজনে দেড়া/কাজে কম খেতে যম খাটে কম খায় বেশি।
কাজের কথা মনেই থাকুক, মুখে প্রকাশ করো না। মূল্যবান কথা পাঁচকান কর'তে নেই।
কাজের বেলা পায় না খুঁজে, খাবার বেলা সবার আগে পরিশ্রমে বিমুখ কিন্তু খাবার বেলায় প্রথম পাতে।
কাজের বেলায় কাজি কাজ ফুরালে পাজি কাজ করবার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ করা কিন্তু কাজ শেষ হলে খোঁজখবর না নেওয়া; কার্যোদ্ধার হতেই উপকারীকে অগ্রাহ্য।
কাজের মধ্যে চাষ, রোগের মধ্যে কাশ দুইই সমানভাবে কষ্টদায়ক।
কাজের মধ্যে দুই খাই আর শুই নিকম্মার ঢেঁকি; অলসের চূড়ামণি।
কাজের হাত, পা, মাথা ও মুণ্ডু- কিছুই নেই বিশৃঙ্খল কাজ।
কাটলে রক্ত নেই, কুটলে মাংস নেই অসার শুকনা কাঠের মত শরীর।
কাটা কাটা কথা আগুনের জ্বালার চেয়েও জ্বালাময় অন্তরে তীব্র জ্বালা ধরায়।
কাটা ঘায়ে নূনের ছিটে ব্যথার উপরে আরও ব্যথা দেওয়া; যন্ত্রণার ওপর যন্ত্রণা।
কাটা কান চুলদে ঢাকি কান কাটা ঘরের কলঙ্ক পাঁচকান করে না, লুকিয়ে রাখে।
কাঠ খায় আঙরা হাগে উনুন; মন্দ কাজ করে মন্দ ফলভোগ করে।
কাঠবিড়ালীর সাগর বাঁধা অসাধ্য কাজ সম্পাদনের প্রচেষ্টা; মহৎকাজে নগণ্যের সাহায্য উপেক্ষণীয় নয়।
কাঠের বিড়াল হোক, ইঁদুর ধরতে পারলেই হ'ল যন্ত্র যাই হোক কাজ হলেই হ'ল।
কাঠের ভিতর পিঁপড়ে বলে চিনি ছাড়া খাবনি, চিন্তামণি চিন্তা করে যোগায় তারে অমনি জীবের রক্ষাকর্তা ভগবান; যে খায় চিনি, তারে যোগান চিন্তামণি।
কাদায়/গর্তে পড়লে হাতি, চামচিকেতে মারে লাথি অসহায় অবস্থায় পেলে সকলেই দুর্ব্যবহার করে।
কান চায় সোনারে, সোনা চায় কানেরে পরস্পরে অনুরক্ত লোকে পরস্পরের সান্নিধ্য খোঁজে।
কান টানলে মাথা আসে উপলক্ষ্যকে ধরলে লক্ষ্য ধরা যায়; একটা বিষয়ের খোঁজ নিতে চাপ দিলে সম্পর্কিত অন্য বিষয়ের খোঁজও পাওয়া যায়।
কান নিয়ে গেল কাকে কাকের পিছনে পিছনে ছোটা বিচার বিবেচনা না করে উদ্ভ্রান্তের মটও কাজ করা।
কান মন্ত্রে মন নাশ কান ভাঙানিতে মনে মালিন্য জন্মে।
কানপুর দিয়ে নাগপুর যাওয়া ঘুরিয়ে/বাঁকাপথে কাজ করা; অযথা সময় নষ্ট করা।
কানা কয়বার নড়ি (লাঠি) হারায়? একবারও নড়ি হারায় না; যার যেটা একমাত্র অবলম্বন ষে বিষয়ে ষে খুব সতর্ক থাকে।
কানা, কুঁজো, খোঁড়া, তিন অসৎ-এর গোড়া লোকে মনে করে এই তিনপ্রকারের লোক দুষ্টপ্রকৃতির হয়; সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা।
কানা খোঁড়ার এক গুণ বাড়া১ নির্গুণের অহংকার/বড়াই বেশি হয়; লোকের ধারণা এরা একটি স্বতন্ত্রপ্রকৃতির হয়।
কানা খোঁড়ার এক গুণ বাড়া২ শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি বেশি অনুভবী হয়।
কানা গরু বাতাস বইলেই ভয় পায় দুর্বলের একটুতেই ভয় হয়।
কানা গরু বামুনকে দান অবজ্ঞা/অশ্রদ্ধার দান; অপ্রয়োজনীয় বস্তু দান করে পূণ্যলাভের আকাঙ্ক্ষা।
কানা গরুর ভিন্ন গোঠ/পথ বুদ্ধিহীন লোক যুক্তির পথে হাঁটে না; স্বতন্ত্রপ্রকৃতির লোকেদের সবকিছুই অন্যের অননুরূপ হয়।
কানা গলিতে ঘুরে মরা নিস্কৃতির পথ হন্নে হয়ে খুঁজে মরা।
কানা ঘোড়ার সিধা দৌড় আহাম্মকের বিপথে চলা।
কানা চোখে দিয়ে কাজল, আপন রূপে আপনি পাগল আপনার চেয়ে কেউ বেশি সুন্দর নয়।
কানাছেলের নানারোগ অক্ষমের নানাদিক থেকে ঘাটতি থাকে।
কানাছেলের নাম পদ্মলোচন কুৎসিতকে সুন্দর করার হাস্যকর প্রয়াস; যে গুণ নেই সেই গুণ আরোপ করে মানসিক তৃপ্তি।
কানা মেঘের বৃষ্টি সর্বত্র নয় দৃষ্টি অবিবেচকের একদেশদর্শী বিচার; খামখেয়ালী বড়লোকের দান সাধারণের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয় না।
কানাইয়ের মা পরের ছেলের মা।
কানায়ে ভাগনে লম্পটচরিত্রের লোক।
কানু ছাড়া কীর্তন/গীত নাই একমাত্র গতি, অনন্যোপায়; সকল প্রসঙ্গে একই বিষয়ের উথাপনা।
কানে কলম গুঁজে দুনিয়াভর খোঁজে তুলনীয়-কাঁধে কুড়ুল রেখে বনময় খোঁজে
কানে কানে কথা থাকে না গোপনে পাঁচকানের কথা গোপন থাকে না।
কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো কিছুতেই কিছু না করা।
কানে হাত না দিয়েই বলে কান নিয়ে দেল চিলে অবিবেচকের মত কাজ।
কানের জল, জল দিলেই বেরোয় বিষে বিষে বিষক্ষয়।
কাপড় বুঝে জামা কাটো আয় বুঝে ব্যয় কর।
কাপড় হলে পচা, আঙ্গুল হয় খোঁচা একটা কোন অজুহাত দেখানো; অদৃষ্টে ক্ষতি লেখা থাকলে সামান্য বিষয় থেকেই ক্ষতি হতে পারে।
কাপড়ে আগুন ঢাকা যায় না। সত্যকে মিথ্যার আবরণে ঢাকা যায় না; কলঙ্ককে কোন অজুহাতে চাপা যায় না।
কাপড়ের দাগ যায় ধুলে, মনের দাগ যায় মলে। মনের দাগ জীবনে যায় না।
কামড়াতে না পারোতো দাঁত দেখিয়েও না মিছিমিছি ভয় দেখিয়ো না।
কামড়িয়ো না ফোঁস কর ক্ষতি করো না; ভয় দেখাও;
কামলা (ন্যাবা রোগী) আপনি সামলা যে যার নিজেরটা দেখুক।
কামলা সব শ্যামলা দেখে আবিল দৃষ্টি সব হলদে দেখে।
কামাতে না পারে নাপিতের ধামাভরা ক্ষুর/ কামাতে পারে না নাপিত ধামাভরা ক্ষুর, কামাতে কামাতে যায় রঘুনাথপুর অক্ষমের ভড়ং বেশি; কাজ কিছু পারে না, শুধু কিছু কথা শিখে রেখেছে।
কামানো মাথায় ক্ষুর বোলায় অপ্রয়োজনীয়/বাহুল্য কাজ।
কামার বুড়ো হ’লে লোহা শক্ত হয় শক্তিহীন বৃদ্ধ কামার অসমর্থ হলে কৌতুকে বলে লোহা শক্ত হয়েছে।
কামারের কাছে লোহা জব্দ শক্ত পাল্লায় পড়লে সবাই বাগে থাকে।
কামারের কাছে ছুঁচ বেচা/ কামারের কাছে লোহা চুরি উপরচালাকি; চতুরের সাথে চতুরামি; যে যে বিষয়ে অভিজ্ঞ তাকে সেই বিষয়ে ফাঁকি দেবার চেষ্টা করা।
কামারের কাছে লোহা জব্দ। বলবানকে বলবানই দমন করতে পারে; সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি।
কামারের কাজ কুমোরের সাজে না/ কামারের কুমোর বৃত্তি অনধিকারে হাত বাড়ানো ঠিক নয়; যে কাজে পটু নয় সেই কাজ করতে গেলে সফলতা আসে না,
কার কপালে কেবা খায়। কেউ কারো সুখ-দুঃখের জন্য দায়ী নয়। সকলেই নিজ নিজ অদৃষ্ট অনুসারে সুখ দুঃখ ভোগ করে।
কার শ্রাদ্ধ কে বা করে, খোলা কেটে বামুন মরে/কার শ্রাদ্ধ, বামুন হদ্দ যার কাজ তার মনযোগ নেই অন্যে তার জন্য খেটে মরে; একজনের সমস্যার জন্য অন্যের চিন্তা করা বৃথা।
কার সাধ্য মারে তারে, খোদা হেসে রাখে যারে ঈশ্বর যাকে রাখে তার ক্ষতি হয় না।
কারণ বই কার্য নাই/ কারণবিনা কেউ বন্ধু নয়, কেউ শত্রু নয় অকারণে কিছু হয় না; ধোঁয়া থাকলে আগুন আছে; বিনা কারণে গাছের পাতা নড়ে না।
কারে পড়ে আল্লার নাম বিপদে না পড়লে কেউ ঈশ্বরকে ডাকে না।
কারে ভজে কার দাস? ঈশ্বর সম্পর্কে খণ্ডধারণার জন্য খেদোক্তি।
কারো আগেও নয় কারো পাছেও নয় কোনপ্রকার তোষামোদি নয়।
কারো উপকার করলে কখনো উল্লেখ করো না আর কেউ তোমার উপকার করলে কখনো ভুলো না। আত্মপ্রচার করো না এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
কারো ঘর পোড়ে, কেউ আগুন পোহায় একের বিপদে অন্যের সুখভোগ; কারো দুঃখ, কারো বা সুখ; কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ;
কারো দুধে চিনি কারো শাকে বালি কারো সুখের ওপর সুখ, কারো দুঃখের ওপর দুঃখ; কারো ঘরে ঝাড়বাতি জ্বলে; কারো ঘরে প্রদীপ জ্বলে না।
কারো ধার ধারি না চাটুকারীতা করতে অনিচ্ছুক, মোটেই পছন্দ নয়।
কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ কারো বিরাট লাভের পাশাপাশি অন্য কারো বিরাট ক্ষতি হওয়া; কারো ঘর পোড়ে, কেউ ধোঁইয়া খায়; কেউ সৌগ্যবাভান কেউ হতভাগ্য।
কারো প্রতি অটুট শ্রদ্ধা রাখার একমাত্র উপায় হল তার সাথে কখনো দেখা না করা বেশি ঘনিষ্টতায় দোষগুণ ধরা পড়ে।
কারো সাথে ভাগাভাগি করলে সমস্যা অর্ধেক হয়ে যায় একের বোঝা দশের লাঠি।
কার্যকালে সমুৎপন্নে ন সা বিদ্যা ন তদ্ধনম্। প্রয়োজনের সময় না পাওয়া বিদ্যা, বিদ্যা নয়, সেই ধনকে ধন নয়।
কার্যের পিছনে কারণ থাকে কারণ বিনা কোন কাজ হয় না।
কাল যায় না জল যায় জলের স্রোতের মত সময় বয়ে যায়।
কাল রাম রাজা হবে আজ তার বনবাস আকস্মিক বিপদ এসে উপস্থিত; সুখের আগে দুঃখভোগ; আনন্দের মাঝে দুঃসংবাদ।
কালস্য কুটিলা গতিঃ কালচক্রের গতি বোঝা ভার, কি হবে কেউ জানে না।
কালা জগতের আলা শ্রীকৃষ্ণ বিনা সব অন্ধকার।
কালা (কানে খাটো) পুরুত, তোতলা যজমান এমন মনিকাঞ্চন যোগে শ্রাদ্ধের কাজ এগোয় না; কাজকর্মে বিঘ্ন।
কালা বলে গায় ভালো, কানা বলে নাচে ভালো অবোধের অবুঝ দাবী; অজ্ঞরা জ্ঞানী সাজতে চায়।
কালা বামুন, কটা শুদ্র, বেঁটে মুসলমান, ঘরজামাই, পোষ্যপুত্র- পাঁচজনাই সমান কথিত আছে এই পাঁচজনের স্বভাব ভালো হয় না।
কালি কলম পাত, তবে লেখার হাত/কালি কলম পাত, যেমন তেমন হাত/ কালি কলম মন, লেখে তিন জন কিছু লিখতে হলে কালি, কলম ও হাত চাই; লেখার উপকরণ ভাল হলে এবং মনোসংযোগ থাকলে লেখাও সুন্দর হয়;
কালির অক্ষর নাইকো পেটে, চণ্ডী পড়ে কালীঘাটে মুর্খ বামুনের চণ্ডীপাঠ; আগে কালিঘাটের একটা দুর্নাম ছিল
কালিঘাটের লোকের কালীদর্শন হয় না কাছের লোকের গয়ং গচ্ছভাব।
কালের আবার কালাকাল মৃত্যু কখন হবে কেউ বলতে পারে না।
কালো আর কালোয় মিলে ধলো হয় না সব সময় বিষে বিষে বিষক্ষয় হয় না; সমজাতীয়/ধর্মীয় মিলনে ভিন্ন জাত/ধর্ম উৎপন্ন হয় না।
কালো আর ধলো বাইরে কেবল, ভিতরে সবাই সমান রাঙা সবার রক্তের রঙ লাল।
কালো ছেলের নাম গৌরাঙ্গসুন্দর কুৎসিতকে সুন্দর করার ব্যাপার; যা নয় তাই হওয়ার চেষ্টা।
কাশীধাম ঘুরে কাঞ্চীপুরপম/কামাক্ষ্যা যাওয়া ঘুরপথে কাজ করা।
কাশীধামে কাক মরেছে কালিঘাটে/কুমিল্লাতে হাহাকার অকারণ হৈচৈ; মাথা নেই মাথাব্যথা।
কাশীধামে ভুমিকম্প কোন অসম্ভব ঘটনার সংগঠন; মানুষের বিশ্বাস শিবের ত্রিশুল কাশীতে ভূমিকম্প হতে দেয় না।
কিং কুলেন বিশালেন গুণহীনস্তু যো নরঃ। অকুলীনোহপি শাস্ত্রজ্ঞো দৈবতৈরপি পূজ্যতে॥ (চাণক্য) কুলীনবংশে জন্মগ্রহণ করলেও গুণহীন ব্যক্তি সার্থকতা কোথায়? অপরপক্ষে কুলীনবংশে জন্মগ্রহণ না করলেও শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিকে দেবতারা সমাদর করেন।
কিছু পেতে গেলে কিছু দিতে হয়। দক্ষিণাবিনা কার্যসিদ্ধি হয় না।
‘কিছু না’ করলে কিছু হয় না। কাজ না করলে সিদ্ধি নেই।
‘কিছু না’ করা কুকাজ করার সামিল না এগুনোর অর্থ পিছিয়ে যাওয়া।
'কিছু না’ শিখলে অকাজ করা শেখা হয়। অলসে কময় কাটানো অকাজের সামিল।
‘কিছুই শিখি নি’ বলতে পারাটাই সব থেকে বড় শিক্ষা ক্ষুদ্রজীবনে অসীম জ্ঞানভান্ডার থেকে অনু পরিমাণ আহরণ করা যায়।
কিনতে পাগল, বেচতে ছাগল অবিবেচক, হটবুদ্ধিসম্পন্ন।
কিমাশ্চর্য্যমতঃপরম্‌ কি অদ্ভুত ব্যাপার; এর পর/বেশি আশ্চর্য হওয়ার কি আছে?
কিবা জ্যেষ্ঠ কি কনিষ্ঠ, যেই বুঝে সেই শ্রেষ্ঠ বয়স যাই-হোক-না-কেন জ্ঞানীর স্থান সর্বাগ্রে।
কিভাবে কথা বলতে হয় না জানলে অন্তত কিভাবে চুপ থাকতে হয় তা শিখে নাও অক্ষমতা লুকাতে চেষ্টা করো; এটাও একধরণের শিক্ষা।
কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে (বিষধর সাপ) দংশেনি যারে যার যন্ত্রণা সেই একমাত্র বোঝে যন্ত্রণা জ্বালা কি।
‘কি হতে পারি’ কথা নয়, কথা হল ‘কি করতে পারি নিজের চেষ্টায় করার আনিন্দই আলাদা।
কিল খেয়ে কিল চুরি অপমানিত হয়েও গোপন করা; মার খেয়েও পালটা মার না দেওয়া।
কিল মারার গোঁসাই সুখ দিতে পারে না দুঃখ দেয়।
কিসে আর কিসে সোনা আর সীসে দুটো অসম বিষয়ের তুলনা হয় না।
কিসের মধ্যে কী, পান্তা ভাতে ঘি। নিকৃষ্ট ও উৎকৃষ্টের সংমিশ্রণ।
কীর্তিযস্য স জীবতি কীর্তিমান ব্যক্তিরা মানুষের মনে চিরজীবী হয়ে থাকেন।
কীর্তিমান জনকের পুত্র হওয়া বৃথা সূর্যের আলোয় তারা ঢালা পড়ে।
কুঁজোর ইচ্ছা চিত হয়ে শোয় অক্ষমের দুরাশা।
কুঁজী, না, ঐ তো পুঁজি তবুতো কিছু আছে।
কুঁড়ে কৃষাণ অমাবস্যা খোঁজে কাজ না করার অজুহাত (অমাবষ্যার কিষান লাঙল ছোঁয় না)।
কুঁড়ে গরুর এঁটুলি সার। অলসের ভাগ্যে কিছু অসার বস্তু জোটে।
কুঁড়ে ঘরে বসে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা অক্ষমের বড়লোক হওয়ার সাধ।
কুঁড়ে ঘরে বাস, খাট পালঙ্কের আশ। স্বপ্ন দেখতে পরিশ্রম করতে হয় না।
কুঁড়ের অন্ন জোটে না পরিশ্রম না করলে সিদ্ধি মেলে না।
কুকুর রাজা হলেও জুতা খায় জাতস্বভাব কেউ ছাড়তে পারে না।
কুকুরকে লাই দিলে মাথা ওঠে। নীচকে প্রশ্রয় দিতে নেই।
কুকুরের আড়াই পাক কুকুরে স্বভাব; অভ্যাস দ্বিতীয় প্রকৃতি।
কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে কামড় দিয়েছে পায় অবোধার কাজ বোধার সাজে না।
কুকুরের কামড় হাঁটুর নীচে নগন্য বিরাট ক্ষতি করতে অক্ষম।
কুকুরের দৌড় ছাড়া হাঁটা নেই। অস্থিরচিত্ত সবসময় দৌড়ে ফেরে।
কুকুরের লেজ কাজে লাগে না বাহুল্যের মূল্য নেই।
কুকুরের পেটে ঘি সয় হয় না মন্দ ভাল উপদেশ নেয় না।
কুকুরের লেজে ঘি মাখলেও সোজা হয় না বেয়াড়া লোক সংশোধিত হয় না।
কুকুরের স্থান পায়ের নীচে নীচের জিনিষ নীচেই থাকে।
কুজন-পিরিত কাঁচ, ভাঙিলে ফুরায়; সুজন-পিরিত সোনা, ভেঙে গড়া যায়। মন্দ জিনিষ বাতিল করতে হয়; ভাল জিনিষ ব্যবহার করতে হয়।
কুৎসিত ছেলের নাম দিব্যসুন্দর বিসদৃশ নামকরণ; যা নয় তাই হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা।
কুপুত্র যদ্যপি হয়, কুমাতা কখনো নয়/কুপুত্র হয় যথাতথা কুমাতা নয় কখনতো মায়েরা কখনো বিরূপ হয় না।
কুবার্তা বাতাসের আগে ছোটে। দুঃসংবাদ তড়িৎ গতিতে ছড়ায়।
কুমির যখন জলে থাকে ডাঙায় ডিমে নজর রাখে মাতৃহৃদয়ের তুলনা নেই।
কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করে পানিতে বাস যার যেখানে প্রভুত্ব সেখানে তার সাথে বিবাদ করে বাস করা যায় না।
কুয়ো হয়, আমের ভয়, তাল তেঁতুলের কিছুই নয়–খনা কুয়াশা আমের বৌল নষ্ট করে; তাল তেঁতুলের করে না।
কুল রাখি না শ্যাম রাখি উভয়সঙ্কটে পড়া।
কুলীনৈঃ সহ সম্পর্কং পণ্ডিতৈঃ সহ মিত্রতাম্। জ্ঞাতিভিশ্চ সমং মেলং কুর্বাণো ন বিনশ্যতি॥ (চাণক্য) কুলীনবংশীয় পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপন করেছেন এমন ব্যক্তি, পণ্ডিতব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্বস্থাপন করেছেন এমন ব্যক্তি এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন এমন ব্যক্তি কখনো বিপদে পড়ে না)
কুলোয় শুয়ে তুলোয় করে দুধ খায় অতি শিশুর মত এওরল, যেন কিছু জানে না এমন কপট ব্যক্তির প্রতি বিদ্রুপোক্তি।
কুশিক্ষিত হওয়া থেকে অশিক্ষিত থাকা ভাল বদনাম দোষনীয়, অজ্ঞানতা কোন সোষ নয়।
কুসঙ্গে থাকার চেয়ে সঙ্গীহীন থাকা ভাল বদনাম কুড়াতে হবে না।
কৃতস্য করণং নাস্তি, মৃতস্য মরণং যথা। গতস্য শোচনা নাস্তি ইতি বেদবিদ্যাং মতম॥ (চাণক্য) যা হবার হয়ে গিয়েছে তার জন্য শোক করে লাভ নেই।
কৃপণের মত দাতা নেই। নিজে ভোগ না করে পরের ভোগের জন্য রেখে যায়।
কৃপণের ধন চোরে/বাটপাড়ে খায়। কৃপণের ধন সবাই লুটেপুটে খায়।
কৃপণের সন্তান অমিতব্যয়ী হয়। কেনারামের ছেলে ভোগীরাম হয়।
কেঁচো খুঁড়তে সাপ বিপজ্জনক পরিস্থিতি, সামান্য থেকে অসামান্য পরিস্থিতির উদ্ভব।
কে একবার আমার হাত মুচড়েছিল মনে রাখি; কে দশবার আমার হাত ধরেছিল ভুল যাই অকৃতজ্ঞতার প্রতি ইঙ্গিত।
কেউ কারো মিত্র নয় কেউ কারো শত্রু নয়, ব্যবহারে শত্রুমিত্র হয় হাত বাড়ালেই বন্ধু, হাত ছাড়ালেই শত্রু।
কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ খায় কৈ একের পরিশ্রমে অন্যের বিলাসিতা।
কেউই জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না। শিক্ষায় জ্ঞান অর্জিত হয়।
কেবল মন দিয়েই মন জয় করা যায় গায়ের জোরে মন জয় করা যায় না।
কেলেমাণিকের নাম গৌরাঙ্গসুন্দর বিসদৃশ নামকরণ; যা নয় তাই হবার ইচ্ছা।
কেশব, গোপাল, হরিহরি, হরহর দেবতাদের নাম নিয়ে সোনারির সোনাচুরির ফন্দি।
কোকিলানাং স্বরো রূপম্ নারীরূপং পতিব্রতম্। বিদ্যা রূপং কুরূপাণাং ক্ষমা রূপং তপস্বিনাম্॥ (চাণক্য) কোকিলের কণ্ঠস্বরই তার রূপ, পাতিব্রত্যই স্ত্রীর রূপ, কুৎসিত পুরুষের বিদ্যাই রূপ এবং তপস্বীদের ক্ষমাই রূপ।
কোথা রাম রাজা হবে, না কোথা রাম বনে যাবে সুদিনের পরিবর্তে দু্র্দিন।
কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় অনিশ্চিত পরিণতি।
কোথায় আগরতলা আর কোথায় চৌকিরতলা/কোথায় অযোধ্যার রঘু আর কোথায় বাঁশবনের ঘুঘু/কোথায় রাজা ভোজ, আর কোথায় গঙ্গু তেলী/কোথায় রাণী ভবানী আর কোথায় ফুলী জেলেনী দুই অসমবস্তুর মধ্যে তুলনা হয় না।
কোথায় স্বর্গ, কোথা‌য নরক কে বলে তাহা বহুদূর;মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর। (রেজাউল করিম) সবই এই ইহজগতে রচনা হয়।
কোদাল পাড়লেই/মারলেই চাষ হয় না দক্ষতাবিনা ফললাভ হয় না।
কোদালকে কোদাল বল সোজা কথা সোজা ভাষায় বল।
কোদালের শিয়র কুড়ুলের পাশ, যে যাবে তার সর্বনাশ দুর্জনের সঙ্গ পরিত্যজ্য।
কোন্ আক্কেলে কয় সংসার আমার নয়? সংসার গড়তেই জগতে আসা।
কোন কাজ অর্ধসমাপ্ত রাখা নেই অর্ধসমাপ্ত কাজ না-কাজের সামিল।
কোন কাজেই তাড়াহুড়ো করা নেই তাড়াতাড়িতে ভুলভ্রান্তি হয় এবং তাতে দেরী হয়।
কোন কাজের শুরুটা বাজে হলে শেষটাও বাজে হয় সুন্দরভাবে শুরু করলে সুষ্টভাবে সম্পন্ন হয়।
কোন কাজের শেষ ফেলে রাখতে নেই কালে পেলে কোনকালে শেষ হবে না।
কোন ঘুমন্ত লোকের পাশে বসে থাকা (বা না ঘুমানো) ভদ্রতা- আরবী প্রবাদ ভদ্রতাবোধের রকমফের।
কোনকালে নাই ষষ্ঠীপূজা, একেবারে দশভূজা নগণ্যের বিরাট আয়োজন করার প্রয়াস।
কোন মানুষই পুর্ণাঙ্গ নয় কোন মানুষই সর্বাঙ্গসুন্দর হতে পারে না।
কোমল ব্যবহার সংঘর্ষ এড়ায় মিষ্টি ব্যবহারে মন জয় করা যায়।
কোহতিভারঃ সমর্থানাং কিং দূরং ব্যবসায়িনাম্। কো বিদেশঃ সবিদ্যানাং কঃ পরঃ প্রিয়বাদিনাম্॥ (চাণক্য) সক্ষমব্যক্তির কাছে কোন কাজই কঠিন নয়; ব্যবসায়ীর কাছে কোনপথই দূর নয়; বিদ্বানের কাছে কোনদেশই বিদেশ নয়;ও মিষ্টভাষীর কাছে কেউই পর নয়।
ক্রশ/ক্রুশের পিছনেই শয়তানের আস্তানা প্রদীপের নীচেই অন্ধকার; ভালো ও মন্দের সহাবস্থান।
ক্রিয়া শব্দের চেয়ে বেশি জোরে কথা বলে কিছু বললে এবং কিছু করলে লোকের করার কথাই মনে রাখবে, বলাত কথা মনে রাখবে না।
ক্রোধ এবং ঘৃণা সুপরামর্শের পক্ষে বাধাস্বরূপ রিপু মানুষ অন্ধ করে; জ্ঞানর্জনে বাধা দেয়।
ক্রোধের প্রকাশ দৃষ্টিতে; গুণের প্রকাশ শিষ্ট আচরণে আচরণে মানুষ চেনা যায়,
ক্ষমা পরমোধর্মঃ ক্ষমার মত ধর্ম নেই।
ক্ষমার বড় গুণ নাই, দানের বড় পূণ্য নাই ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং দানই শ্রেষ্ট কর্ম।
ক্ষিদে থাকলে নূন দিয়েও ভাত খাওয়া যায় আগে পেট পরে রসনা; ক্ষিদের পছন্দ-অপছন্দ নেই.
ক্ষিদের কোন জাত নেই ক্ষিদের বাছবিচার নেই।
ক্ষুদ খেয়ে পুঁজি করে দুপুরুষে খরচ করে কার্পণ্যের প্রতি ব্যঙ্গোক্তি।
ক্ষুদ্র শরীরে একটি বিরাট আত্মা বাস করে আত্মার সীমা পরিমাপ করক যায় না।
ক্ষুধার্ত পেটের রসনা নেই ক্ষিদের পছন্দ-অপছন্দ নেই।
ক্ষেত্রে কর্ম বিধিয়তে ক্ষেত্র বিচার করে কাজের বিধান হয়।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
খঞ্জনের নাচ দেখে চড়ুইয়ের নাচ অক্ষমের উচ্চাশা, অনুকরণপ্রিয়তা।
খড় কেটে বন ইজাড় বসতি স্থাপন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক সঙ্কট সৃষ্ট।
খড়ম পায়ে দিয়ে গঙ্গা পার অসাধ্যসাধন করা।
খড়ের আগুন যেমনি জ্বলে তেমনি নেভে রাগ চড়তে দেরী হয় না পড়তেও দেরী হয় না।
খড়ের গাদায় সূচ খোঁজা অসাধ্য কাজে নিয়োজিত হওয়া।
খনা ডেকে বলে যান, রোদে ধান ছায়ায় পান আলোতে শান এবং ছাইয়াতে পানের চাষ করতে হয়।
খয়রাত ঘর থেকে শুরু হয়। আগে ঘর সামলাতে হয়, পরে পরকে দেখা.
খর নদীতে চর পড়ে না সতেজ মনেকলুশ হয় না।
খরচের আঁকে আনতে জমার আঁকে কুলায় না অর্থের টানাটানি; ডাইনে আনতে বাঁয়ে কুলায় না।
খলঃ কেন নিবার্যতে দুর্জনকে কে নিবৃত্ত করবে; দুর্জনের সাথে পারা যায় না।
খল যায় রসাতল খলের পরিণতি ভাল হয় না।
খলের ছলের অভাব হয় না ছলচাতুরীতে খল ভারী ওস্তাদ।
খাঁচায় পুরে খোঁচা মারে আয়ত্তে এনে অত্যাচার করা; দুর্বলের ওপর সবপ্লের অত্যাচার।
খাঁচার পাখি গান গায় না অধীনের মনে আনন্দ থাকে না।
খাঁদা নাকে আবার নথ (খনা) বিসদৃশ সাজ; নিতান্ত বাড়াবাড়ি।
খাই না খাই আছি ভালো, ভাঙাঘরে চাঁদের আলো নিজেকে নিয়ে নিরন্নের রসিকতা; পেটে ভাত নেই, ভাঙা ঘরে চাঁদের আলোয় দিলখুশ।
খাও দাও তবলা বাজাও দুদিন বইতো নয় ক্ষণস্থায়ী জীবনে সুখ করে নাও।
খাওয়ার সাথে খিদে আসে ক্ষিদে না হলে খাওয়া নেই- বৈদ্যের বিধান।
খাওয়াবে হাতির ভোগে, দেখবে বাঘের চোখে ছেলে মানুষ করার পদ্ধতি।
খাচ্ছিল জেলে জাল বুনে, কাল হল তার হালের গরু কিনে/খাচ্ছিল তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হল তার এঁড়ে গরু কিনে বেশি আশা করলে বেশি নিরাশা হ'তে হয়; অভ্যস্ত কাজ ছেড়ে অনভ্যস্ত কাজে হাত দিলে ফল ভালো হয় না,
খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি মূলকাজের চেয়ে অনাবশ্যক আড়ম্বর বেশি করা।
খাট ভাঙ্গলে ভূমিশয্যা শেষসম্বল নষ্ট হওয়ার আগে সতর্কবার্তা।
খাটে খাটায় লাভের গাঁতি, তার অর্ধেক মাথার ছাতি; ঘরে বসে পুছে বাত তার ঘরে হা ভাত- খনা যে কাজের লোকের সাথে খাটে সে পূর্ণফল পায়; যে কাজের লোকের ওপর নজর রাখে সে অর্ধেক ফল পায়; যে কাজ করে না, কাজে নজরও দেয় না তার ফললাভ শূন্য।
খানায় পড়লে হাতি, চামচিকেতে মারে লাথি অসহায় অবস্থায় পেলে সকলেই তার সুযোগ নেয়।
খাবার আছে চা‘বার নেই, দেবার আছে নেবার নেই চুড়ান্ত ভারসাম্যহীনতা; চারিদিকে বিশৃঙ্খলতা।
খাবার বেলায় আগে, কাজের বেলায় ভাগে খাব পেতে যতটা ঔৎসুক্য, কাজের বেলায় ততটা অনীহা।
খাবার বেলায় বেশি বেশি, কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা অকর্মাদের খিদে বেশি, কাজে তারা ভারি অলস।
খায় না খায়, সকালে নায়; হয় না হয় দুবার যায়; তার কড়ি বদ্যি না খায় সকালে স্নান, দিনে দুবার মলত্যাগ করলে স্বাস্থ্য ভাল থাকে ফলে বদ্যি ডাকতে হয় না।
খায় মালকোঁচা মেরে; ওঠে হাঁটু ধরে অপরিমিত আহার।
খাল কেটে কুমির আনা নিজের দোষে বিপদ ডেকে আনা।
খাল পার হলে কুমিরকে কলা বিপদ কেটে দেলেই বীরপুরুষ।
খাল পার হলে পাটনী শালা কার্যসিদ্ধি হয়ে গেলে লোকে উপকারীকে ভুলে যায়।
খালি কলসি বাজে বেশি হালকা চরিত্রের লোক বেশি বকে;অন্তঃসারশূন্য ব্যক্তি বা বস্তুর বাহ্যিকভাবে তর্জন-গর্জন করা।
খালি কলসি বাজে বেশি ভরা কলসি বাজে না রূপ নাই কইন্যার সাজন বেশি রূপের কইন্যা সাজে না যার রূপ নেই তার অলঙ্কারের প্রয়োজন হয়; যার রুপ আছে ত্আরা অলঙ্কার লাগে না।
খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল বৈদ্যের বিধান।
খালি বস্তা খাড়া থাকে না গুণহীন লোকের প্রতিষ্ঠা নেই।
খালি হাত চিলকে প্রলুব্ধ করে না আকর্ষণীয় বস্তু না থাকলে কেউ আকৃষ্ট হয় না; যার কিছু নেই তার হারাবার কোন ভয় নেই।
খিড়কি দিয়ে হাতি গলে, সদরে বাধে ছুঁচ পিছনের খবর কেউ রাখে না।
খিদে পেলে বাঘ ধানও খায খিদের জাতবিচার নেই; প্রয়ােজন নিয়মদ্বারা পরিচালিত হয় না।
খিদেয় বাঘ লোকালয়ে খিদেয় মানুষ পাগল হয়।
খুঁট-আঁখুরে গাঁয়ের বালাই অল্প শিক্ষিতরা সমাজের বোঝা।
খুঁটি না থাকলে ঘর আপনি পড়ে পরের শক্তিতে লড়া যায় না
খুঁটির জোরে ভেড়া নাচে/লড়ে শক্তিশালী ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় অযোগ্য ব্যক্তিরও উন্নতি সম্ভব।
খুদের জাউ পায় না, ক্ষীরের জন্য কাঁদে যোগ্যতার বাইরে প্রত্যাশা করা।
খুব কাছে ভালো নয়; খুব দূরে নিস্ফলা মধ্যপন্থা শ্রেষ্ট পন্থা।
খুশ খবরের ঝুটাও ভাল মন খুশি থাকে।
খেঁকি কুকুরের ঘেউ ঘেউ সার নগণ্যের কোন গুরুত্ব নেই।
খেয়ে দেয়ে একাদশী আচার বিচারে আস্থা নেই
খেতে পেলে শুতে চায় সুযোগ পেলে আরও সুযোগ খোঁজে
খোদার মার দুনিয়ার বার আল্লাহর বিধান অপ্রতিরোধ্য।
খেতে দেবার মুরোদ নেই, কিল মারার দোঁসাই ভালো করতে পারে না মন্দ ক্রতে আছে।
খেতে দিলে/পেলে শুতে চায় আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই।
খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয় হজম হওয়া সুস্থতার লক্ষণ।
খেয়ার কড়ি গুণে দিয়ে সাঁতরে নদী পার সুযোগ নষ্ট করা।
খেল খতম পয়সা হজম যা হবার হয়ে গেছে।
খেলোয়াড়দের চেয়ে দর্শকেরা বেশি খেলা দেখে- চীনা প্রবাদ বাইরে থেকে সমস্যা বেশি অনুধাবন করা যায়।
খোঁড়ার পা খানায়/গর্তে পড়ে অসহায়ের পদেপদে বাধা।
খোদা যারে দেয় ছাদ ফুঁইড়াই দেয় অসীম করুণা।
খোদার নাও দোয়ায় চলে সবই তাঁর ইচ্ছার অধীন।
খোলা দরজা সাধুকেও প্রলুব্ধ করে আলগা পেলে সবাই সুযোগ নিতে চায়।
খোলা মুখে মাছি ঢোকে সতর্ক না থাকলে ক্ষতি হতে পারে।
খোলা শত্রুতার চেয়ে কপট বন্ধুত্ব বেশি খারাপ ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকে।
খ্যাপা শেয়াল, ভাঙা দেয়াল আর বড়লোকের খেয়াল- তিনটেই বিপজ্জনক ক কামড়াতে পারে; খ আচমকা ভেঙে পড়তে পারে; গ জীবন ওষ্ঠাগত করে তুলতে পারে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
গঙ্গাজলে ধুলেও কলঙ্ক যায় না কলঙ্ক মোছার নয়।
গঙ্গার জল গঙ্গায় রইল, পিতৃপুরুষ উদ্ধার হল আচারসর্বস্বতার প্রতি বিদ্রুপোক্তি।
গচ্ছন্‌ পিপীলকো যাতি যোজনানাং শতান্যপি। অগচ্ছন্‌ বৈনতেয়োহপি পাদমেকং ন গচ্ছতি॥ (চাণক্য) পিঁপড়ে চলতে থাকলে শত যোজন এগুতে পারে; আর বিনতার পুত্র গরুড় যদি স্থির হয়ে বসে থাকে তবে সে এক পা-ও এগুতে পারে না।
গজমাত্রেই মোতি থাকে না সব মানুষ মানুষ হয় না।
গড়তে চায় ঠাকুর হয়ে যায় কুকুর ভালো করতে চায় কিন্তু মন্দ হয়ে যায়।
গড়তে যত সময় লাগে ভাঙ্গতে তত সময় লাগে না। সৃষ্টির ছন্দ অতি ধীর; ধ্বংস চোক্ষের পলকে শেষ।
গড়ানো পাথরে শ্যাওলা ধরে না অস্থিরমতির সঞ্চয় হয় না; গতিশীল মনে ময়লা জমে না।
গড়িমসিতে সময় চুরি যায় আজ নয় কাল করে সময় নষ্ট হয়।
গণ্ডুষ জলমাত্রেণ সফরী ফর্ফরায়তে অল্পজলে সফরী লাফিয়ে বেড়ায়; অল্পশিক্ষিতরা বেশি বিদ্যার জাহির করে।
গতর নেই চোপায় দড়, মেঙ্গে খায় তার পালি (=পঙ্‌ক্তি) বড় অক্ষমের গলার জোর বেশি; কাঙালের লাইন বিড়াট লম্বা হয়।
গতস্য শোচনা নাস্তি যা গেছে তা গেছে, তারজন্য অনুশোচনা করে লাভ নেই।
গন্ধবিহীন শিমুলফুল সুন্দর হ’লেও আদরনীয় নয় গুণহীন বাহারে বস্তুর কোন মূল্য নেই।
গব্য থাকলে আগেপাছে কী করবে তার শাকে মাছে? আগে ঘি পরে দুধ থাকলে অন্য কোন খাদ্যে স্বাস্থ্যহানি হয় না।
গভীর জলে কাৎলা নিঃসাড়ে চলে; অল্প জলে সফরী ফরফরায় জ্ঞানীরা জাহির করে না; অল্পজ্ঞানীরা জাহির করে বেড়ায়।
গভীর নদী ধীরে/নিঃসারে বয় জ্ঞানীমানুষেরা চিন্তাভাবনা করে ধীরসুস্থে কাজ করে।
গরজ বড় বালাই প্রয়োজনের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
গরজে গঙ্গাস্নান/গয়লা ঠেলা বয় গরজ বড় বালাই।
গরম অম্বল, ঠাণ্ডা দুধ যে খায় সে নির্বোধ স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর।
গরম দুধ অমেয় মিঠা গরম দুধ প্রাণবর্ধক।
গরম দুধে যার মুখ পুড়েছে সে ফুঁ দিয়ে ঘোল খায় হিন্দি প্রবাদ বেদনাদায়ক পূর্ব অভিজ্ঞাতা থেকে অতিসতর্কতা।
গরম ভাতে বিড়াল বেজার; উচিৎ কথায় বন্ধু বেজার। কাউকে অপছন্দের জিনিষ দিলে তার মন খারাপ; উচিৎ কথা বললে বন্ধুর মন খারাপ।
গরানো পাথরে শ্যাওলা জমে/ধরে না সচল মনে ময়লা জমে না।
গরীব খোঁজে খাদ্য, ধনী খোঁজে খিদে- হিন্দি প্রবাদ গরীব খিদের জ্বালায় পাগল হয় আর ধনী খিদে না হওয়ার জ্বালায় পাগল হয়।
গরীবের কথা বাসি হলে সত্য হয়। গরীব সময়মত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
গরীবের মানুষ ফড়িং খায় ঘোড়ায় চেপে বাহ্যি যায় দুর্গতিতেও আড়ম্বর বজায় রাখার চেষ্টা।
গরীবের বৌ সবার ভাবি- হিন্দী প্রবাদ। অন্তরঙ্গতা বেশী; গরীবের কাছে সবাই একটু বেশি সুবিধা নেবার চেষ্টা করে।
গরীবের রাঙতাই সোনা। খুব অল্পদামের জিনিষও গরীবের কাছে মহামুল্যবান।
গরু গামলার ঘাস খায় না/গরু গোয়ালের পাশের ঘাস খায় না সহজলভ্য জিনিষের কদর নেই।
গরু ছাগলের মুখে বিষ মুড়ালে গাছের বৃদ্ধি হয় না;মুর্খের কথাবার্তা অশালীন।
গরু/গাই বাছুরে মিল থাকলে মাঠে গিয়ে দুধ দেয় পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে ফাঁকিতে কাজ করা যায়।
গরু মেরে জুতো দান জঘন্য অন্যায় কাজের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে সামান্য প্রতিদান দেওয়া।
গর্জায় কিন্তু বর্ষায় না ভয় দেখায় তবে ভয়কর নয়।
গর্তে পড়লে বুদ্ধি গজায়- চীনা প্রবাদ বিপদ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়।
গর্তের সাপ খুঁচিয়ে বাইরে আনে বিপদকে কাছে ডেকে আনে।
গলা ধরে কাঁদবে তবু মালা ছুঁতে দেবে না ক্ষেত্রবিশেষে একসাথে থাকলেও স্বার্থত্যাগ করে না।
গলায় কাঁটা ফুটলে বেড়ালের পায়ে ধরে/পড়ে। বিপদে পড়লে নগণ্যের কাছেও সাহায্য চায়।
গলার নীচে গেলে আর কিছু মনে থাকে না কাজ হয়ে গেলে মানুষ কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে যায়।
গল্প থেকে বাস্তবঘটনা বেশি বিস্ময়কর বাস্তব অনেকসময় কল্পনাকেও হার মানায়।
গল্পের গরু গাছে চড়ে ঘটনার বর্ণনায় রঙ চড়ানোর প্রতি বিরক্তি।
গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল মূর্খ ও অযোগ্য ব্যক্তি নিজে নিজেই নেতা সাজরা
গাই নাই তে বলদ দুয়ে দে/দো যেভাবেই হোক কাজ করে দ্শেওয়ার জন্য চাপ।
গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন অধ্যবসায়ের ফলে দক্ষতা আসে।
গাইতে চাইলে বলতে শেখো সববিষয়েই প্রস্তুতি লাগে।
গাঙ পেরুলেই কুমীরকে কলা ভয় কাটলেই বীরপুরুষ।
গাঙে গাঙে দেখা হয় তো বোনে বোনে দেখা হয় না দূরে বিয়ে হওয়ার কারণে বোনেদের পরস্পরের দেখা না হওয়ার বেদনা ব্যক্ত এই প্রবাদে।
গাছগাছালি ঘন রোবে না; গাছ হবে তার ফল হবে না- খনা আলো না পেলে গাছ কলবতী হয় না।
গাছে গাছে আগুন জ্বলে, বৃষ্টি হবে খনায় বলে বনে আগুন লাগলে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
গাছ থেকে পড়ে গেল জন পাঁচ সাত, যার যেখানে ব্যাথা তার সেখানে হাত যার যেখান স্বার্থ।
গাছে উঠতে পারে না বড় আমটি আমার অন্যায় আবদার।
গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন।
গাছে গাছে লাগলে আগুন বৃষ্টি হবে দ্বিগুণ দ্বিগুণ- খনা বনাঞ্চলে আগুন লাগলে দ্বিগুণ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে,
গাছে তুলতে সবাই আছে উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে দেওয়া
গাছে তুলে মই কাড়া কাজে নামিয়ে সরে পড়া;
গাছে না উঠতেই এক কাঁদি কাজ আরম্ভ করার সাথে সাথে ফলের প্রত্যাশা করা।
গাছের পরিচয় ফলে আচরণই মানুষের পরিচয়
গাছের ভয় বাতাসে, পদ্মের ভয় শিশিরে, সজ্জনের ভয় দুর্জনে প্রত্যেকেরই একটি ভয়ের যায়গা আছে।
গাছেরও খায় তলারও কুড়ায় সম্পদের সবটুকুই ভোগ করা।
গাজনের নেই ঠিকানা ডেকে বলে বাজনা বাজা কারণের আগে কাজ; কাজের ঠিক নাই, কাজের লোক প্রস্তুত।
গাজীসাহেবের মোরগ, পেটে গেলেও ডাক দেয় যে জিনিস আত্মসাৎ করা অসম্ভব।
গাধা জল ঘোলা করে খায় বোকা সুষ্ঠভাবে করতে অপারগ।
গাধা ডাকলে তুমিও তার সাথে ডেকো না বোকামিকে সমর্থন করা নয়।
গাধা পেটালে ঘোড়া হয় না হেয় জিনিষ হেয়ই থকে মূল্যবান হয় না।
গাধা সিংহের ছাল পড়লে সে সিংহ হয় না নকল কখনো আসল হয় না।
গাধাকে প্রশ্ন কোরো না সে মোট বইবে কিনা নিত্য কাজের খবর করা অর্থহীন।
গাধার পিঠে ভারী বোঝা অবোধের খাটনি ভারি।
গাধার পিঠে সোনার বোঝা চাপালেও সে গাধাই থাকে কালো কখনো সাদা হয় না।
গাবতলা দিয়ে যাবনা, আর গাব খাবনা কারে পড়ে প্রতিজ্ঞা।
গায়ে গু মাখলে যমেও ছাড়ে না দোষ করলে ওজরআপত্তি খাটে না।
গায়ের কালি ধুলে যায়, মনের কালি ম’লে যায় ভুলত্রুটি সংশোধন করা যায়, কিন্তু মনের গ্লানি মুছে না।
গায়ের গন্ধে ভূত পালায়, মাথায় মাখে খুসবু/ফুলেল তেল আদিখ্যেতা।
গাল টিপলে দুধ বেরােয় একেবারে অবােধ।
গিন্নির উপর গিন্নিপনা ভাঙা পিঁড়েয় আলপনা আগ বাড়িয়ে কাজ নষ্ট।
গির্জার পাশের লোক গির্জায় যায় না আলসেমি।
গুজব বাতাসে ওড়ে গুজব খুব দ্রুত ছড়ায়।
গুটিপোকা গুটি করে নিজের ফাঁদ নিজে গড়ে নিজের কাটা গর্তে পড়া।
গুড় না দিলে মালপো তৈরী হয় না- ইহুদী প্রবাদ ভালো কিছু পেতে হলে ভালোর সম্মেলন চাই।
গুণ থাকলে দোষের ভয় দোষে গুণে মানুষ।
গুণবানের আশ্রয়ে নির্গুণও গুণী হয় আলোর স্পর্শে আংশকার কাটে।
গুণী গুণের কদর বোঝে, নির্গুণে বোঝে না অসারের সার বোঝার ক্ষমাতা নেই।
গুণের ঘাট(=সীমা) নেই বদগুণের সীমা-পরিসীমা নেই' নির্গুণের প্রতি বক্রোক্তি।
গুণে নুন দিতে নেই নূন দিলে ব্যঞ্জন সুস্বাদু হয়; নূন দিলেও নির্গুণ কখনো গুণী হবে না; নির্গুণের প্রতি ব্যাঙ্গোক্তি।
গুণের বালাই দেখে মরি সদগুণের অভাব দেখে খেদোক্তি।
গুণের বালাই নেই বদগুণের আধিক্য দেখে খেদোক্তি।
গুবরেপোকার পদ্মমধু খাবার সাধ উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
গুমরে মাটিতে পা পড়ে না অহংকারী মেজাজ।
গুয়ের এপিঠ আর ওপিঠ, দু’পিঠই সমান মন্দের সবই মন্দ।
গুরু বোবা শিষ্য কালা, যেমন গুরু তেমন চেলা উভয়ই মন্দ/মূর্খ।
গৃহিণী গৃহমুচ্যতে গৃহিণী থাকলে গৃহ প্রকৃত গৃহ হয়
গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না নিজের দেশে গুণীর কদর নেই।
গৈর্‌ গুড় পুয়া নহী বনতে হৈ- হিন্দি প্রবাদ গুড় না দিলে মালপো তৈরী হয় না।
গোঁফ দেখলে শিকারী বেড়াল চেনা যায়। চোখের দিকে তাকিয়ে মনের অবস্থা বোঝা যায়।
গোঁয়ারের মরণ খোঁয়ারে গোঁয়ারের পতন বিশ্রীভাবেই হয়
গোঙ্গা ছেলের নাম তর্কবাগীশ মনের সান্তনা; যা নয় তা হওয়ার ইচ্ছা।
গােড়া কেটে আগায় পানি দেয়া দোষ শুধরানাের চেষ্টা।
গোপন কথা গোপন থাকে না সাবধানে কথা বলার জন্য চেতাবনি।
গোপন কথা তোমার গোলাম; ফাঁস করলে তুমি তার গোলাম- আরবী প্রবাদ গোপন কথা ফাঁস করলেই সমূহ বিপদ।
গোভাগ্য নেই এঁটুলি ভাগ্য আছে সৌভাগ্য নেই দুর্ভাগা আছে।
গো-মড়কে মুচির পার্বণ/গো-মড়কে শকুনের ভোজ একের ক্ষতিতে অন্যের লাভ।
গোলাপ/পদ্ম তুলতে গেলে কাঁটা সইতে হয় অনায়াসে কিছু পাওয়া যায় না।
গোলাপে আছে কণ্টক, চাঁদে আছে কলঙ্ক দোষগুণ মিলিয়ে মানুষ।
গোলাপের জাহির নেই গুণের প্রচার লাগে না।
গৌরবং প্রাপ্যতে দানাৎ, ন তু বিত্তস্য সঞ্চয়াৎ।স্থিতিরূচ্চৈঃ পয়োদানাং পয়োধীনামধঃস্থিতিঃ॥ (চাণক্য) ধনসঞ্চয়ের মাধ্যমে গৌরবপ্রাপ্তি হয় না; দানের মাধ্যমেই গৌরবপ্রাপ্তি হয়; মেঘের অবস্থান উচ্চে (কারণ সে জলদান করে) এবং সমুদ্রের অবস্থান নীচে, (কারণ সে জল গ্রহণ করে)।
গ্রহণ হলে সবাই দেখে পরের বিপদ সবাই উপভোগ করে।
গ্রামের নাম তেঘরা, তার আবার উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া নগণ্যের বাড়াবাড়ি, আদিখ্যেতা।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঘট গড়তে পারে না, মেটের/জালার বায়না নেয় ক্ষমতার বাইরে প্রত্যাশা করা।
ঘটকালি করতে গিয়ে বিয়ে করে আসা সুকাজ করতে গয়ে কুকাজ করা
ঘটি ডোবে না, নামে তালপুকুর ক্ষুদ্র ব্যক্তির বড় নাম গ্রহণ।
ঘটে বুদ্ধি নাই আহাম্মক, বুদ্ধিহীন।
ঘন্টা বাজিয়ে দুর্গোৎসব, ইতু পূজায় ঢাক বিপরীত বুদ্ধির লোক।
ঘন দুধের ফোঁটা, বড় মাছের কাঁটা ভাল জিনিসের অল্পও ভালো।
ঘরকন্না করতে গেলে ঘটিবাটিতে ঝগড়া হয়/ঠোকাঠুকি হয় সংসারে মনোমালিন্য অতি স্বাভাবিক ব্যাপার।
ঘরকুনোর বিদ্যা হয় না কিছু জানতে গেলে বাইরে বেরুতে হয়।
ঘরকী মুরগী দাল (ডাল) বরাবর সুলভ মুল্যবান বস্তুর আদর থাকে না।
ঘরচোরের পার নেই ঘরের শত্রুর বেশি শাস্তি পাওয়া উচিত।
ঘর জামাইয়ের পোড়া মুখ, মরা-বাঁচা সমান সুখ ঘর জামাই হয়ে থাকা নিন্দনীয়।
ঘর জ্বালানো পর ভুলানো আত্মীয়ের কাছে পিড়াদায়ক পরের কাছে প্রিয় এমন স্ত্রীলোকের প্রতি ইঙ্গিত।
ঘর থাকতে বাবুই ভেজা সুযোগ থাকতে সুযোগ না নেওয়া; মুর্খামি।
ঘরদোর নেইকো যার, আগুনে ভয় কি তার আভাগার কিছুতে ভয় পাওয়ার নেই।
ঘরনীর কাজ কখনও শেষ হয় না সংসারের টুকিটাকি কাজের অন্ত নেই।
ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায় পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকে।
ঘরমুখো বাঙালি, রণমুখো সেপাই যে জাতের যে বৈশিষ্ট্য।
ঘরামির ঘর ছেঁদা নিজের কাজে নজর নেই।
ঘরে আওয়ে অন্‌ঘেরী বাত কহে বনায়, জানিও পুরৌ বৈরী- হিন্দি প্রবাদ অচেনালোক ঘরে এসে চাটুকারী করলে জানবে সে পুরোমাত্রায় শত্রু।
ঘরে ছুঁচোর কেত্তন, বাইরে কোঁচার পত্তন ঘরে অন্ন নেই, বাইরে বাবুগিরি।
ঘরে নেই ঘটিবাটি, কোমরে মেলা চাবিকাঠি। দেখনদারি,প্রাচারসর্বস্ব।
ঘরে নেই ভাত, কোঁচা তিন হাত ঘরে অন্ন নেই, বাবুগিরির অন্ত নেই।
ঘরে নেই যা, বাছা মাগে তা। অভাগা মায়ের মনঃকষ্ট।
ঘরে বসে রাজা উজির মারা লম্বাচওড়া কথা বলে অকর্মার নিজেকে জাহির করা
ঘরে ভাত নেই, দ্বারে বাহারী পর্দা দৈন্যাবস্থা লুকিয়ে রাখার আপ্রাণচেষ্টা।
ঘরে ভাত না থাকলে শালগ্রামের সোনা বেচে খায় বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা।
ঘরের ইঁদুর বাঁশ কাটলে ধরে রাখে কে? ঘরে শত্রু বাঁচার নিশ্চিয়তা নেই।
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় নিজ টাকায় পরের উপকার করে।
ঘরের দরজা খোলা পেলে সাধুও চোর হয় খোলা দরজা প্রলুব্ধ করে।
ঘরের ঢেঁকি কুমির হওয়া লুকিয়ে শত্রুতা করা।
ঘরের মধ্যে ঘর, সবাই মাতব্বর ঘরের সবাই নিজেকে মাতব্বর মনে করে।
ঘরের মা ভাত পায় না, পরের জন্য মাথাব্যথা ঘর ছেড়ে পরকে নিয়ে পড়া।
ঘরের শত্রু বিভীষণ প্রচ্ছন্ন শত্রু।
ঘরের ষাঁড়ে পেট ফাঁড়ে, পুরানো চাল ভাতে বাড়ে নিজের লোক অনিষ্ট করে, আবার নিজের লোকই ইষ্ট করে।
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো নিজের খরচায় অপরের স্বার্থ দেখা।
ঘরের শত্রু বিভীষণ যে শত্রু আপনজন।
ঘষতে ঘষতে পাথরও ক্ষয় হয়। পরিশ্রম করলে সিদ্ধি আসে
ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া বড় কোনাে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া।
ঘি ঢাললেও কুকুরের লেজ সোজা হয় না স্বভাব যায় না মলে।
ঘি দিয়ে ভাজ নিমের পাতা, তবু যায় না জাতের জাতা জাতবৈশিষ্ট্য কখনো যায় না।
ঘুঁটে কুড়ুনির ছেলের নাম চন্দনবিলাস ভাবের ঘরে চুরি; যা নয় তাই ভেবে মনের সান্তনা।
ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে পরের আনন্দ করে কিন্তু ভুলে যায় সে বিপদ নিজের হতে পারে।
ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখনি চতুর ব্যক্তির প্রতি প্রাপ্ত শাস্তির ইঙ্গিত।
ঘুমন্ত কুকুরকে জাগিয়ো না বিপদকে আহ্বান করো না।
ঘুমন্ত বাঘ শিকার ধরে না/ঘুমন্ত বিড়াল ইঁদুর ধরে না/ঘুমন্ত শিয়ালের হাঁস/মুরগি জোটে না/ঘুমন্ত সিংহের মুখে হরিণ ঢোকে না শুয়ে থাকলে ভাগ্যও শুয়ে থাকে; অলসের সৌভাগ্য হয় না।
ঘৃণায় ঘৃণা বাড়ে ঘৃণা তিক্ততা বাড়ায়, মনে মালিন্য সৃষ্টি করে।
ঘৃতকুম্ভ সমা নারী তপ্তাঙ্গারসমঃ পুমান্। তস্মাৎ ঘৃতঞ্চ বহ্নিঞ্চ নৈকত্র স্থাপয়েদ্বুধঃ॥ (চাণক্য) স্ত্রীলোক ঘৃতপূর্ণঘটের সমান; পুরুষ জ্বলন্ত আগুনের সমান; জ্ঞানীব্যক্তি ঘৃত এবং বহ্নিকে কখনো একত্রে রাখবেন না।
ঘেয়ো কাঁঠালের মুচি খদ্দের উভয়ে সমান।
ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া উপরওয়ালাকে ডিঙিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করা।
ঘোড়া দেখে খোঁড়া আরাম পাওয়ার সুযোগ পেলেই নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকা।
ঘোড়া ভেড়ার একদর ভালোমন্দের তারতম্য বিচার না করা।
ঘোড়ার আগে গাড়ী জুতা বুদ্ধিহীনের মত কাজ।
ঘোড়ার ঘাসকাটা অকাজ করা।
ঘোড়ার পেট, গাধার পিঠ, খালি থাকে কদাচিৎ। যার যা কাজ সে তাই করে।
ঘোল, কুল, কলা কলা তিনে নাশে গলা গলার পক্ষে অনিষ্টকর।
ঘোলা জলে মাছ ধরা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেওয়া।
ঘোলা জলে মাছ ধরাটা মুখ্য যাদের ধর্ম, তারা পারে না করতে, নেইকো এমন কর্ম। দুস্কৃতি সব কিছুই করতে পারে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
চকচক করলেই সোনা হয় না নকল না খাঁটি, তা চেহারা দেখে বোঝা যায় না।
চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি দুঃখানি চ চক্রকারে সুখদুঃখ পরিবর্তিত হয়।
চক্ষু থাকতে কানা দেখেও দেখে না।
চক্ষুদোষে সব হলদে বাঁকাচোখ সব মন্দ দেখে।
চক্ষু মুদলেই প্রলয় বন্ধ হয় না জগৎ চলে তার নিজের নিয়ম, ব্যক্তি জগতের অংশমাত্র।
চক্ষু সব কিছু দেখে শুধু নিজেকে দেখতে পায় না চক্ষু দেখেনা মন দেখে।
চটকস্য মাংসং ভাগ শতকং অত্যল্প সম্পত্তির বেশি ভাগ হলে কারো ভাগে কিছু পড়ে না।
চঞ্চলা নদীর গভীরতা কম অল্পজ্ঞানী লোকেরা হালকা চরিত্রের হয়।
চড় মারলে চড় খেতে হয় ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া থাকে।
চড়াই পাখির প্রাণ অল্পেতেই যান ক্ষীণজীবী।
চণ্ডীপাঠ ইস্তক/থেকে জুতো সেলাই সবরকমের কাজ, সকল কাজের কাজী।
চতুরের সাথে চতুরালি সমানে সমানে লড়াই।
চন্দনগাছ ছেদন করলেও সুগন্ধ ত্যাগ করে না গুণী অবস্থা বিপর্যয়েও চরিত্রগুণ হারায় না।
চন্দনগাছের সংসর্গে এসে বাঁশগাছ চন্দন হয় না নির্গুণ কখনো গুণী হয় না। (বিরুদ্ধ উক্তি আছে)
চন্দনগাছের সংস্পর্শে এসে সাধারণগাছ সুগন্ধ পায় গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়।
চন্দনং ন বনে বনে ভালোর অল্প হয়।
চন্দনং শীতলং লোকে, চন্দনাপি চন্দ্রমা। চন্দ্রচন্দনইয়োর্মধ্যে শীতলা সাধুসঙ্গতি॥ (চাণক্য) চন্দন লোককে শীতল করে; চন্দন থেকে চন্দ্র বেশি শীতল; চন্দ্র-চন্দন থেকেও সাধুসংসর্গ আরও বেশি শীতল।
চন্দ্র সূর্য অস্ত গেল, জোনাকি ধরে বাতি; মোগল পাঠান হদ্দ হল ফারসি পড়ে তাঁতি। অক্ষমের আস্ফালন।
চরিত্র সৎ লোকের অনেক দোষ ঢেকে দেয়, চরিত্র অসৎ লোকের গুণ ঢেকে দেয়/চরিত্রের কারণেই সম্মানীয় ব্যক্তি সম্মান হারায়, আবার নগণ্য ব্যক্তি সম্মানিত হয়- আরবী প্রবাদ আচরণেই মানুষকে চেনা যায়।
চরৈবেতি চরৈবেতি এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো; এগিয়ে চলাই ধর্ম।
চর্চায় সিদ্ধিলাভ হয় অনুশীলনে ফললাভ হয়।
চলচ্চিত্তং; চলদ্বিত্তং চলজ্জীবনযৌবনম্‌। চলাচলমিদং সর্বং; কীর্তিযস্য স জীবতি॥ (চাণক্য) মন, ধন, জীবন যৌবন- সবই এ জগত অস্থায়ী ও চঞ্চল; একমাত্র কীর্তিই চিরস্থায়ী।
চলত্যেকেন পাদেন তিষ্ঠত্যেকেন বুদ্ধিমান্। নাহসমীক্ষ্য পরং স্থানং পূর্বমায়তনং ত্যজেৎ॥ (চাণক্য) বুদ্ধিমান ব্যক্তি একপা চলেন, একপা স্থির থাকেন, পরবর্তী পদক্ষেপের স্থান না দেখে পূর্বস্থান ছাড়া অনুচিত।
চলতে চাইলে দাঁড়াতে শেখো সবকিছুতেই প্রাক-প্রস্তুতি লাগে।
চলতে পারে না বন্দুক ঘাড়ে ছোট কাজ পারে না বড় কাজের বরাত নেয়।
চলতে শিখলে পড়তে হয় না সক্ষমব্যক্তি কখনো ব্যর্থ হয় না।
চললে পোয়া, বসলে ক্রোশ, পথ বলে মোর কিসের দোষ? অলস না হলে কোন কাজই অসাধ্য নয়।
চললেই চল্লিশ বুদ্ধি, না চললে হতবুদ্ধি শিখতে শিখতেই মানুষ পরিণত হয়।
চশমে বদ তু তোর মুখ কালা/পোড়া (কুদৃষ্টি এড়ানোর জন্য তুক)।
চাঁদেও আছে কলঙ্ক কিছুই বিশুদ্ধ নয়।
চাঁদের কাছে জোনাকি পোকা, ঢাকের কাছে টেমটেমি দুই অসমানে তুলনা নয়।
চাচা আপন প্রাণ বাঁচা নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে তারপর অন্য কথা।
চাটুকারি ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক যতক্ষণ না তুমি তা গিলছো চাটুকারিতায় তৃপ্তি চরিত্রগুণ নষ্ট করে।
চাদরে যতটা পা ঢাকে ততটা পা মেলো ওজন বুঝে চলন।
চাপে পড়লেই বাপ/চাপের নাম বাপ গরজ বড় বালাই।
চামচিকেতে লাথি মারে নগণ্য ব্যক্তির কটূক্তি।
চায়ের পেয়ালা ও ঠোঁটের মধ্যে বিস্তর ফাঁক থাকে সামান্যের মধ্যেও বিস্তর ফাঁক থাকে।
চার দিনকা চাঁদনী ফির আঁধেরি রাত সুখের দিন অল্প হয়; কেটে গেলেই দুখের দিন শুরু।
চাল না চুলো, ঢেঁকি না কুলো/চাল নেই চুলো নেই, নিত্যানন্দ গোঁসাই কিছুই নাই, নিঃসম্বল।
চাল নেই তবে ভাতে ভাত রাঁধ যে সম্ভব নয় তাই করতে যাওয়া।
চালাকিদ্বারা মহৎকার্য হয় না ফন্দিবাজী সৎপথ নয়।
চালাকের ঠোঁটে তৎক্ষণাৎ উত্তর সাবনো থাকে চালাকের মস্তিষ্ক খুব পরিস্কার।
চালুনি বলে ছুঁচ তোর মার্গে কেন ছেঁদা?/চালুনি বলে ধুচুনিভাই তুমি বড় ফুটো। পরছিদ্রান্বেষী; মন্দের পরনিন্দা করা।
চালের কি দর, না মামার ভাতে আছি দ্বায়িত্বহীন ব্যক্তি।
চাষী আর চষা মাটি, এই দুইয়ে দেশ খাঁটি (খনা) চাষী চষা মাটিতে সোনা ফলায়।
চাষী করে চাষ, ফড়ে খায় ফসল যার ধন তার ধন নয়, নেপোয় (বাটপাড়) মারে দই
চাষীর গরু অমাবস্যা খোঁজে অমাবস্যায় হাল চালানো নিষিদ্ধ; অলসের কাজে অনীহা।
চিকিৎসা অপেক্ষা প্রতিষেধ ভাল রোগে ওষুধ খাওয়া থেকে নিরোগ থাকার প্রতি ইঙ্গিত।
চিন্তা জ্বরো মনুষ্যানাম মানুষমাত্রই চিন্তায় আক্রান্ত হয়
চিন্তায় চিন্তা বাড়ে চিন্তা করলে দুশ্চিন্তা বাড়ে।
চিন্তায় পোড়ে মন চিতায় পোড়ে দেহ দুশ্চিন্তা মনের ওপর প্রভাব ফেলে।
চিন্তাহীন শিক্ষা পণ্ডশ্রম, শিক্ষাহীন চিন্তা বিপজ্জনক- চীনা প্রবাদ চিন্তাহীন শিক্ষা ফলপ্রসূ হয় না; অপরপক্ষে অপরিশীলিত চিন্তা ধ্বংসাত্মক হয়
চিরদিন কারো সমান নাহি যায় ভাগ্য ওঠানামা করে।
চিল পড়লে কুটোটাও নিয়ে ওঠে কর্মঠ লোক বৃথা শ্রম দেয় না।
চিলে কান নিয়ে গেল পরের কথায় বিশ্বাস করা।
চিল্লানে কুকুর কদাচিৎ কামড়ায় খেঁকি কুকুর কামড়ায় না।
চুরিবিদ্যা বড়/মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা ফাঁকিতে প্রচুর লাভ হয়।
চেনা বামুনের পৈতে লাগে না স্বনামখ্যাত ব্যক্তিদের পরিচিতি লাগে না।
চেষ্টাবিনা কেষ্টা নেই বিনা পরিশ্রমে কিছুই পাওয়া যায় না।
চেষ্টার অসাধ্য কোন কাজ নেই। চেষ্টা বৃথা যায় না।
চেষ্টার শেষ নেই মাঝপথে চেষ্টার খামতি দিতে নেই।
চেহারা দেখে মানুষ চেনা যায় না চেহারা ছলনা করে; বিরুদ্ধ উক্তি- মুখ দেখলে সব জানা যায়.
চৈতের কুয়ায়(=কুয়াশা) আমের ক্ষয়- খনা চৈত্রমাসে কুয়াশ পড়লে আমের ফলন ভাল হয় না।
চুন খেয়ে গাল পোড়ে, দই দেখলে ভয় করে পূঈবের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার আশঙ্কা থেকে ভীতি।
চোখে সরষে ফুল দেখা বিপদে পড়ে দিশেহারা হওয়া।
চোখ থাকতে কানা দেখেও দেখে না।
চোখ বন্ধ করলে প্রলয় বন্ধ হয় না ছেড়ে ছুড়ে বসে থাকলে বিপদ এড়ানো যায় না।
চোখ সব দেখে কেবল নিজেকে দেখে না চোখ হল মনের জানালা।
চোখেচোখে যতক্ষণ প্রাণ পোড়ে ততক্ষণ যা দেখি না তা নেই।
চোখে দেখে শুনতে চায়, এমন বোকা আছে কোথায়? শোনার পর দেখে, দেখার পর শোনে না।
চোখের আড়াল তো মনের আড়াল মানুষের কুটুম এলে গেলে।
চোখের জল নারীর বল নারী জোখের জলে সব জয় করে।
চোখের জলের মত কিছুই দ্রুত শুকায় না মানুষ দ্রুত শোক ভুলে যায়।
চোখের দোষে সব হলদে মন্দলোক ভালো জিনিষ খুঁজে পায় না।
ছোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত প্রতিশোধ।
চোর চায় ভাঙা তালা/বেড়া। নজরদারি না থকার সুবিধা।
চোর চুরি না করতে পারলে সাধু হয় আলগা পেলে সবাই চোর।
চোর ছেঁচড় চোপায় দড়, আগে দৌড়ায় ঠাকুর ঘর ভণ্ডের ঠাকুরভক্তি বেশি।
চোর ধনী হলে সজ্জন হয় অর্থবল থাকলে সব হয়।
চোর চলে গেলে চৌকিদার আসে/চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে সুযোগ হাতছাড়া হলে মাথায় নানা ফন্দি-ফিকির আসে।
চোর ভাল তো বেকুব ভালো না। বুদ্ধিহীন সহ্যের বাইরে।
চোর মরে সাতঘর মজায়ে চোর ধরা পড়লে অনেককে জড়ায়।
চোরকে বলে চুরি কর গেরস্তকে বলে সজাগ থাক দুকূল/দুদিক রক্ষা করা।
চোরকে ধর্মের কাহিনী শুনানো আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো একই কথা/চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী অসৎ ব্যক্তিকে উপদেশ দিলেও সে সৎ হয় না; মন্দকে সদুপদেশ দেওয়া বৃথা।
চোরে কামারে দেখা নেই সিঁধকাঠি গড়া মন্দকাজ সকলের অগোচরে সম্পন্ন হয়।
চোরে চোরে কুটিম্বিতা ভাই/চোরে চোরে মাসতুতো ভাই মন্দের দোসর মন্দ।
চোরের উপর বাটপাড়ি উপরচালাকি।
চোরের উপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়া বিপরীত বুদ্ধি।
চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন/চোরের শতেক রাত গৃহস্থের একরাত কুকর্মের ফল একদিন ভুগতেই হয়।
চোরের ধন বাটপাড়ে খায় অসৎ উপায়ে অর্জিত ধন নিজে ভোগ করতে না-পারা।
চোরের বল মিথ্যায় আশ্রয়। বাঁচতে গিয়ে নানা কথা।
চোরের মন চৌকিদারে। স্বার্থান্বেষী লোক সবসময় সতর্ক থাকে।
চোরের মন বোঁচকার দিকে। মানুষ সবসময় স্বার্থভাবনায় মগ্ন থাকে।
চোরের মায়ের কান্না অসৎ কাজে জন্য গোপন অশ্রুপাত
চোরের মায়ের বড় গলা অসৎ কাজ চাপা দেওয়ার জন্য আস্ফালন।
চোরের সাক্ষী গাঁটকাটা, শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল। স্বার্থের কারণে অসৎ অসৎকে সমর্থন করে।
চৌকিদারি কি ঝকমারি সবসময় স্বার্থহানীর চিন্তায় পাগল।
চৌরে গতে বা কিমু সাবাধানম? চোর পালালে আর সাবধানে কি ফল হবে- পণ্ডশ্রম

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ছবি হল নীরব কবিতা, আর কবিতা হল কথা বলা নীরব ছবি মন ও চোখ থাকলে সব পড়া যায়, সব দেখা যায়।
ছাঁচের ঘরে খাবি খায়, সমুদ্রপার হতে চায়। অক্ষমের উচ্চাশা।
ছাই পায় না মুড়কি জলপান যোগ্যতার অতিরিক্ত আশা করা।
ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো অবহেলার পাত্র কিন্তু কাজের সময় ডাক পড়ে।
ছাই মাখলেই সন্যাসী হয় না। রঙীন না হলে দাম হয় না; ভণ্ড না সাজলে ভিখ মেলে না।
ছাগল বলে আলুনি খেলাম; গেরস্ত বলে প্রাণে ম‘লাম অসন্তুষ্টকে কখনো তুষ্ট করা যায় না।
ছাগলে কিনা খায়, পাগলে কিনা বলে অবোধদের গুরুত্ব নেই।
ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা বা ধর্ম।
ছায়া ভালো ছাতার তল; বল ভালো নিজের বল- খনা। ছাতার তলার ছায়া বড় মিষ্টি; নিজের শক্তিই আসল শক্তি।
ছায়ার পিছনে ছুটে ছায়া ধরা যায় না/ছায়ার পিছনে ছোট এবং আসল হারাও অতি আশা সর্বনাশা।
ছাল নেই কুত্তা, নাম তার বাঘা আদিখ্যেতা, বাড়াবাড়ি,
ছিদ্রেস্বনার্থা বহুলা ভবন্তী সেলাই না করলে ফুটোফাটা বাড়তে থাকে।
ছুঁচ, সোহাগ, সুজন- ভালো করে তিনজন; উই, ইঁদু্র‌, কুজন- মন্দ করে তিনজন। তিন ভাল সুসঙ্গী ও তন কুসঙ্গীর প্রতি ইঙ্গিত।
ছুঁচ হয়ে ঢোকে ফাল(লাঙ্গলের ফলা) হয়ে বেরোয় সুযোগ নিয়ে সবাই দাঁও মারার মওকা খোঁজে।
ছুঁচো যদি আতর মাখে, তবু কি তার গন্ধ ঢাকে? হীন কোনভাবেই জাতে ওঠে না।
ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা সামর্থ্য নেই অথচ প্রাচুর্যের প্রত্যাশা।
ছেঁড়া সম্পর্ক জোড়া লাগে না। আবেগ না সরালে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগা কঠিন।
ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার কাতর ইচ্ছা।
ছেলে থেকে ছেলের মাথা ভারী অতি বুদ্ধিমান
ছেলেদের প্রতিভা এবং মেয়েদের রূপ দুইই জন্মগত ও প্রলয়ঙ্কর। দুনিয়াকে উলটে দিতে পারে।
ছোঁড়া ঢিল/তীর ফেরে না ছেড়ে দেওয়া সুযোগ ফিরে আসে না।
ছোট কাঁটাটি ফোটে পায়, তুলে ফেল, নইলে দায় ছোট দোষও বড় ক্ষতি করতে পারে
ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তর্ক করলে বেশি সময় নষ্ট হয়- আরবী প্রবাদ আমাদের ছোটখাটো বিষয়ে বেশি জ্ঞান থাকে
ছোট্ট শরীরে একটি বিরাট আত্মা বাস করে। আত্মাকে শাশ্বত, অক্ষয় এবং সময়ের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচনা করা হয়।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছে পালিয়ে বাঁচবি কোথা? সংসারের জাল থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
জগতে ত্রুটিহীন কাজ দুর্লভ কাজ করলে ভুলত্রুটি হবেই।
জগৎ মায়াময়, শুধু ছায়ার খেলা তুমি কার, কে তোমার, কেউ কারো নয়।
জঙ্গলা কখনো পোষ না মানে, মন সদা তার সোঁদর বনে বন্য পশুর মন থেকে বন মোছা যায় না।নয়।
জন জামাই ভাগনা, এ তিন নয় আপনা মিথ্যা আশা, আমি ছাড়া কেউ আমার আপন নয়।
জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ থেকেও মহীয়সী।
জন্তু দাঁত বার করলে ভেবো না সে হাসছে, সে কামড়াতে চায়- আরবী প্রবাদ পশুপ্রকৃতির লোকেদের আচরণ হিংস্র হয়।
জন্মদিনের উৎসাহে মনে রেখো মৃত্যুর দিকে একধাপ এগুলে আনন্দের দিনে দুঃখকেও মনে রেখো না।
জন্ম মৃত্যু বিয়ে, তিন বিধাতা দিয়ে/জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ, তিন না জানেন বরাহ নিয়তি সব নিয়ন্ত্রণ করে।
জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? মানুষমাত্রই মরণশীল।
জন্মে দেখেনি লোহা, কোদালকে বলে গুণছুঁচ অবোধের আগ বাড়িয়ে বাজে বকা।
জন্মের মধ্যে কর্ম নিমুর চৈত্র মাসে রাস সামান্য কাজ করে অকর্মার অহঙ্কার।
জপ নেই তপ নেই ভস্মমাখা গায় ভেকধারী সন্ন্যাসী।
জপতপ কর কি? মরতে জানলে ডর কি? মরার ভয়ে মানুষ ঈশ্বরকে ডাকে।
জব বরসতা তব গরজতা নহী, জব গরজতা তব বরসতা নহী- হিন্দি প্রবাদ সারবান ব্যক্তির আড়ম্বর নেই; সারশূন্য হলেই আড়ম্বর দেখায়।
জমি না দেখে জমি ছেড়ো না পা রাখার যায়গা পেলে পা তোল।
জল নদীতে সুস্বাদু, সমুদ্রে বিস্বাদ আধারগুণে চরিত্র বদলায়।
জলবিন্দুপাতেন ক্রমশঃ পূর্যতে ঘটঃ ফোঁটাফোঁটা জল পড়ে ঘট ভর্তি হয়; সৃষ্টি তিলে তিলে গড়ে ওঠে।
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ উভয়সঙ্কট, দুদিকেই বিপদে পড়া।
জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ পরাক্রমশালীর এলাকায় গিয়ে পরাক্রমশালীর সাথেই বিবাদে জড়িয়ে পড়া
জলে তেলে মিশ/খাপ খায় না মতের মিল না হলে মনের মিল হয় না। বিরুদ্ধ উক্তি- জলে তেল সহজে বিতায়।
জলে না নামিলে শেখেনা সাঁতার, হাঁটিতে শেখে না, না খেলে আছাড় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হ'লে কার্যক্ষেত্রে নামতে হয়।
জলে পাথর গলে/পচে না আকাট মূর্খ জ্ঞানী হয় না।
জলে বাস করে কুমীরের সাথে বিবাদ করা যায় না প্রভাবশালীর এলাকায় বাস করে তার সাথে বিবাদ করা বিপজ্জনক।
জলে ভাসে শিলা অসম্ভব ঘটনা।
জলের কুমির ডাঙ্গায় এলো বিপদ সামনে উপস্থিত।
জলের চেয়ে পাঁক ঠান্ডা; সূর্যের চেয়ে বালি গরম- খনা নগণ্য ব্যক্তিরা নম্র হয়; নকল ব্যক্তিরা উদ্ধত হয়
জহুরী জহর চেনে অভিজ্ঞ চোখকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব।
জাড্যং ধিয়ো হরতি সিঞ্চতি বাচি সত্যং মানোন্নতিং দিশতি পাপমকরোতি। চেতঃ প্রসাদয়তি দিক্ষু তন্যেতি কীর্তিং সৎসঙ্গতিঃ কথয় কিং ন করোতি পুংসাম্‌॥ (চাণক্য) সৎসংসর্গ মানুষের বাহ্যিক জড়তা দূর করে; বাক্যে সত্যতা স্থাপন করে; সম্মান বৃদ্ধি করে; পাপ দূর করে; চিত্ত প্রসন্ন করে;দিকে দিকে যশ বিস্তার করে- কী না করে থাকে?
জাতস্য হি ধ্রুবোর্মৃত্যুঃ জন্মিলে মরিতে হবে, এটা ধ্রুব সত্য।
জাত গেল পেটও ভরল না একূল, ওকূল- দুকূল গেলো।
জাতে মাতাল তালে ঠিক দেখতে বেহিসাবি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে নিজের কাজে হিসাবি।
জান যায় তো জবান/বাত না যায় প্রাণ যায়, কথা থাকে
জান যায়, মান না যায় প্রাণ যায় যাক ইজ্জৎ যেন থাকে
জানার কোন বয়স/শেষ নেই আমৃত্যু শেখা যায়
জামাইয়ের জন্য মারে হাঁস, গুষ্টি সুদ্ধ খায় মাস একজনের দোহাই দিয়ে সকলের সুবিধা ভোগ।
জালে পড়লে মাছ বেশি লাফায়। আবদ্ধ অবস্থায় প্রাণ ছটফট করে।
জিত্‌নি চদ্দর দেখো, উৎনি পৈর ফৈলাও- হিন্দি প্রবাদ যতদূর চাদর দিয়ে পা ঢাকতে পারো ততদূর পা ছড়াও; উচ্চাশা করো না।
জিদের ভাত কুকুরে খায় জেদ ধরলে নিজের ক্ষতি হয়
জিভ দিয়েছেন যিনি আহার যোগান তিনি ঈশ্বরই সকলের অন্নদাতা।
জিভ টলে আছাড় খাওয়া থেকে পা-টলে আছাড় খাওয়া অনেক ভাল বেঁফাস কথা না বলা ভাল।
জিস্‌কী লাঠি উস্‌কী ভৈঁসা যার লাঠি তার মোষ; জোর যার মুল্লুক তার।
জীবন এক পেয়ালা চায়ের মত; যতই তৃপ্তির সাথে পান করি ততই তলার দিকে যেতে থাকি একদিন বাঁচার অর্থ মৃত্যু দিকে এক পা এগিয়ে।
জীবন চলমান ছায়া ছাড়া আর কিছুই নয় জীবন মায়াময় আলোচায়ার খেলা।
জীবনে মরণে সৎলোকের কোন ক্ষতি হয় না। সততা জীবনের শ্রেষ্ট মন্ত্র।
জীবনের প্রতিটি সিঁড়িতে পা রেখেই ওপরে ওঠা উচিৎ, ডিঙ্গিয়ে নয় সতর্ক পদক্ষেপে চলা উচিৎ।
জীবনের লম্বা পথ বড় আঁকাবাঁকা উত্থান-পতনে মোড়া সমগ্র জীবন।
জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর জীবে দয়াই শ্রেষ্ট ধর্ম।
জুতো মেরে গরু দান অপমান করে পরে ক্ষমা প্রার্থনা।
জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ ছোট-বড় যাবতীয় কাজ।
জুতো মেরেছে, অপমান তো করে নি মান-অপমানবোধ নেই।
জুয়াচোরের বাড়ি ফলার, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সন্ধিহান।
জৈসা দেওগে ঐসা পাওগে- হিন্দি প্রনাদ যেমন কর্ম করবে তেমন ফল পাবে।
জোঁকের গায়ে জোঁক বসে না প্রাণীজগতের জন্মগত সহজাত গুণ হিসেবে চির সত্য, মানুষ তার ব্যতিক্রম।
জো করে টোট্‌কা উন্‌হীকো ঘুমকে পরে ফট্‌কা- হিন্দি প্রবাদ পরের অনিষ্ট করতে গেলে নিজের অনিষ্ট হয়
জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হাতের কাছে যা পাওয়া গেছে তাই দিয়ে কোনমতে কাজ চালানো।
জোয়ার-ভাঁটা ও সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না জীবন সময়ের সাথে কাধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলে।
জোয়ার থাকলে ভাঁটা আছে সুখ-দুঃখ মিলিয়ে জীবন।
জোয়ারের জল আর কতক্ষণ? সুখের দিনগুলি দীর্ঘ হয় না
জোর যার মুল্লুক তার শক্তি থাকলে সবকিছু জয় করা যায়।
জ্যৈষ্ঠে খরা, আষাঢ়ে ভরা; শস্যের ভার সহে না ধরা- খনা জৈষ্ঠ্যে রৌদ্র এবং আষাঢ়ে বৃষ্টি হলে শস্যের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ হয়।
জ্ঞাতিভির্বণ্ট্যতে নৈব চৌরেণাপি ন নীয়তে। দানেন বর্ধতে নিত্যং বিদ্যারত্নং মহাধনম্‌॥ (চাণক্য) জ্ঞাতিরা বিদ্যা ভাগ করে নিতে পারে না; চোরেরা বিদ্যা চুরি করতে পারে না; দানে বিদ্যা সদাবর্ধিত হয়; বিদ্যারূপরত্ন মহাধনস্বরূপ।
জ্ঞানার্জন লবণাক্ত জলের মত, যতই পান করবে ততই জ্ঞানতৃষ্ণা বাড়বে- আরবী প্রবাদ যতই জ্ঞান অর্জন হয়, জ্ঞান পিপাসা ততই বাড়তে থাকে।
জ্ঞানী আগে চিন্তা করে পরে কথা বলে, মূর্খ আগে কথা বলে পরে চিন্তা করে- আরবী প্রবাদ জ্ঞানীরা ভেবে কাজ করেল মূর্খেরা কাজ করে ভাবে।
জ্ঞানী মূর্খকে চিনতে পারে, মূর্খ জ্ঞানীকে চিনতে পারে না- আরবী প্রবাদ জ্ঞানীর গুণ চিনতে পারা; মূর্খের গুণ চিনতে না পারা।
জ্ঞানীর কান বড় আর জিভ ছোট হয়- চীনা প্রবাদ জ্ঞানীরা শোনেন বেশি, বলেন কম।
জ্ঞানীর মন সদাপরিবর্তনশীল, বোকারা রক্ষণশীল জ্ঞানীর মন বহমান নদীর মত; বোকার মন যেন বদ্ধ জলাশয়।
জ্ঞানীর সম্পদ তার জ্ঞান, মূর্খের সম্পদ তার অর্থ। জ্ঞানী জ্ঞানের কাঙাল; মূর্খ অর্থের কাঙাল।
জ্ঞানহীন চিন্তা লাগাম ছেঁড়া ঘোড়ার মতো আবোলঅতাবোল চিন্তা মনে বিকার উৎপন্ন করে।
জ্ঞানেনহীনাঃ পশুভিসমানাঃ জ্ঞনহীন লোক পশুর সমান।
জ্যান্ত পোড়ে চিন্তায় মড়া পোড়ে চিতায় দুশ্চিন্তা মানুষকে ছিঁড়ে খায়।
জ্যান্ত মাছে পোকা পড়ে না সতেজ মন পাপ এড়িয়ে চলে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঝড় উঠলে আশ্রয় খোঁজো সবসময় নিরাপদ আবস্থায় থাকার পক্ষে ওকালতি।
ঝড়ে কাক/বক মরে ফকিরের কেরামতি বাড়ে অন্যের কৃতিত্ব নিজের বলে জাহির করা; ধান্ধাবাজী।
ঝড়ের পর শান্তি আসে ঝড় শেষ কথা নয়।
ঝাঁকের কই ঝাঁকে ফেরে/মেশে স্বভাবগুণে দলছাড়া আবার দলে আসে।
ঝাঁকি/ঝাঁঝরি বলে চালনি তুই বড় ছেঁদা/ঝাঁজরি বলে খৈ-চালা, তুই বড় ফোঁড়ওয়ালা নিজের দোষ দেখে না পরের দোষ খুঁজে বেড়ায়।
ঝাঁপাবার আগে দেখে নিও, ঝাঁপালে ফিরে দেখো না দেখেশুনে কাজ করার পক্ষে চেতাবনি।
ঝামেলায় না পড়লে ঝামেলার (দুশিন্তা) পিছু নিও না অনাবশ্যক ঝামেলায় না জড়াণর পক্ষে চেতাবনি।
ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো পরোক্ষভাবে তিরস্কার করা।
ঝিনুকমাত্রেই শুক্তি থাকে না হাত পা থাকলেই মানুষ হয় না মনুষ্যত্ব থাকা চাই।
ঝুঁকি না নিলে লাভ হয় না জীবনে ঝুঁকি আছে; ঝুঁকি না নিলে আখেরে লাভ হয় না।
ঝোপ বুঝে কোপ মারা অবস্থা বুঝে সুযোগ গ্রহণ করা।
ঝোলে, ঝালে, অম্বলে- সবটেকে বেগুন চলে সব সাজে মোহিনীমোহন; সর্বঘটের কাঁঠালী কলা।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
টকের জ্বালায় দেশ ছেড়ে তেঁতুল তলায় বাস নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি নেই
টাক, প্রকৃতি, গোদ মরণে হয় শোধ মাথা টাক পড়া, স্বভাব ও পায়ের গোদ মরার আগে ছাড়ে না।
টাকা উড়ে চলে যায়, টাকা রাখা বিষম দায়/টাকার ডানা আছে, উড়ে যেতে কতক্ষণ? লক্ষ্মী চঞ্চলা; যত্ন না নিলে ঘর ছাড়ে।
টাকা গাছের ফল নয় যে, ছিঁড়ে/পেড়ে নিলে হল। অর্থ পরিশ্রমের ফল।
টাকা টাকা বল ভাই; টাকার মত জিনিষ নাই; টাকা বিনে সংসারেতে সব যন্ত্রণা। অর্থ না থাকলে সুখ ভোগ সম্ভব নয়।
টাকা চিটেগুড়- মক্ষি টানে। অর্থ থাকলে পাশে অনেক উমেদার জুটে যায়
টাকা তুমি যাচ্ছ কোথা? পিরিত যথা; আসবে কবে? বিচ্ছেদ যবে। অর্থের যত্ন যে নেয় প্ররথ তার কাছেই যায়।
টাকা তোমারও নয়, টাকা আমারও নয়, টাকা প্রয়োজনের। প্রয়োজনে কাজে না লাগলে সে অর্থ থাকা বা না থাকা, দুই সমান।
টাকা থাকলে অভাবের অভাব হয়। অভাব না থাকায় অর্থশালী অসদুপায়ে অর্থ খরচ করে।
টাকা থাকলেই অপব্যয়। অর্থশালী প্রয়োজনের তুলনায় আড়ম্বরে বেশি করিচা করে।
টাকা থাকলে ভদ্রলোক, না থাকলেই ছোটলোক। সমাজে উচ্চবিত্তরা ভদ্রলোক এবং নিম্নবিত্তেরা ছোটলোক আখ্যায়িত হয়।
টাকা দিলে কাঠের পুতুলও হাঁ করে। অর্থ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
টাকা ধার চাইলে বন্ধু বিচ্ছেদ। একবার ঋণ নিলে সে ঋণ আর শোধ হয় না।
টাকা না থাকলে ভাল কাজ করা যায় না। অর্থের রূপালী রেখা হল বহু ভালো কাজে অর্থ ব্যয়িত হয়।
টাকা বাড়লে দেমাক বাড়ে। খুব কমই অর্অথশালী বিনয়ী হয়।
টাকা মাটি, মাটি টাকা। টাকা টাকা করে টাকার প্রতি বেশি নজর না দিতে ঠাকুরের হিতোপদেশ।
টাকা যার মামলা/শক্তি তার। অর্থের কাছে বিচার নতজানু হয়।
টাকায় টাকা আনে/টানে। বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী।
টাকায় বাঘের দুধ মেলে অর্থে জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
টাকায় সব দোষ ঢাকা পড়ে/যায়। অর্থে সব সমালোচনায় মুখ বন্ধ করা যায়।
টাকার নৌকা পাহাড় দিয়ে যায়। অর্থ থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
ট্যাক খালি তো মুখ কালি অর্থের টানাটানিতে মন চিন্তায় পোড়ে।
ট্যাক ভারি তো মন হালকা অর্থ থাকলে সব আকাঙ্খা মেটে, মেজাজ ফুরফুরে থাকে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঠগ বাছতে গাঁঁ উজাড় যেখানে মন্দের ভাগ বেশি।
ঠগের বাড়ী নেমন্তন্ন, না আচাঁলে বিশ্বাস নেই অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সন্ধিহান।
ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাই নি চালাক ধরা পড়া; চালাককি করতে গিয়ে ধরা পড়া; অতি সতর্কতায় দোষস্বীকার।
ঠাঁট ঠমকে বিকোয় ঘোড়া বাজারে জিনিষ গুণে নয় জমকে বিক্রি হয়।
ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধি খোলে মাথা গরম হলে বুদ্ধি গুলিয়ে যায়।
ঠেলাঠেলির ঘর খোদায় রক্ষা কর দুই সতীনের ঝগড়ায় স্বামীবেচারা প্রাণ ওষ্ঠাগত, কাকে ছেড়ে কাকে রাখে।
ঠেলায় পড়লে ঠাকুরদাদি, নইলে তার নাকে পাঁদি (বাতকর্ম) বিপদে পড়ে শরণ নেওয়া; বিপদ সরে গেলেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য।
ঠেলায় পড়ে ঢেলায় সেলাম কারে পড়ে সব দেবতার 'চরণে সেবা লাগে'।
ঠেলায় পড়লে বেড়াল মান্দার গাছেও (একপ্রকার কাঁটাযুক্ত গাছ) উঠে। বিপদে পড়লে কোন বাধাই বাধা নয়।
ঠেলায় পড়লে শালগ্রাম নইলে পাথরের ঢেলা ভয় থেকে ভগবানে ভক্তি।
ঠেলায় পড়লে বামুন শালগ্রামের পৈতা/সোনা বেঁচে খায়। বিপদে পড়লে ভগবানে ভক্তি শিকেয় ওঠে।
ঠেলার নাম বাবাজি চাপে পড়ে কাবু হওয়া; চাপের নাম বা্তি
ঠ্যাং থাকতে লাঠি কেন? দুর্বলের প্রতি বক্রোক্তি

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ডাইনে আনতে বাঁয়ে কুলোয় না/ডাইনে আনতে বামে ফুরায় অর্থের টানাটানি; আয় থেকে ব্যয় বেশি।
ডাইলের মধ্যে মুশুরি, সাগাইয়ের (আত্মীয়) মধ্যে শ্বাশুড়ি। গুণে উপকারিতায় শ্রেষ্ঠ।
ডাকয়ে পক্ষী না ছাড়ে বাসা; খনা ডেকে বলে সেইতো ঊষা (খনা) যে ক্ষণে পাখী বাস্যয় বসে ডাকা শুরু করে সেই সময়কালে কে ঊষা বলে।
ডাকলে ডাক, বসলে ক্রোশ, পথ বলে মোর কিসের দোষ অলসতার প্রতি বক্রোক্তি।
ডাঙায় বাঘের ভয়, জলেতে কুমীর ডান হাতখান দিলে বাম হাতখান পাওয়া যায়
ডান হাতখান দিলে বাম হাতখান পাওয়া যায় হাত বাড়ালেই বন্ধু পাওয়া যায়।
ডান হাতের ব্যাপার আহার, খাওয়া।
ডানপিটের মরণ গাছের আগায় গাছ থেকে পড়ে হাত পা ভাঙে।
ডান হাতের কাজ বাম হাত যেন না জানে কোন গোপন কাজ কেউ যেন না জানে।
ডিম ফোটার আগেই মুরগীর ছানা গোনা আগাম সুখকল্পনা।
ডুব দিয়ে জল খেলে অমাবস্যার বাপেও জানতে পারে না/ডুবেডুবে জল খায়, শিবের বাবাও টের না পায় গোপনে করা কাজ ধরা দুঃসাধ্য ব্যাপার।
ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো ধরেও বাঁচতে চায় হতাশায় নিমজ্জিত মানুষের শেষ চেষ্টা।
ডুবে ডুবে জল/পানি খাওয়া গোপনে কাজ করা; লোকচক্ষুর অগোচরে কার্যসিদ্ধি করা।
ডুবেছি না, ডুবতে আছি, দেখি পাতাল কত দূর? বিপর্যয় লুকানোর প্রচেষ্ঠা।
ডুমুরের ফুল, সাপের পা, কল্পনা শুধু কল্পনা অশ্বডিম্ব, অমাবস্যার চাঁদ, কোকিলের বাসা, ডুমুরের ফুল সাপের পা ইত্যাদি হয় অদৃশ্য নয় অবাস্তব।
ডোবা দেখলেই ব্যাঙ লাফায় মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির প্রতি ইঙ্গিত।
ডোলভরা আশা, কুলোভরা ছাই। আশার শেষ নেই, দুর্ভোগেরও শেষ নেই।
ডোলী ন কহার, বিবি হৈ তৈয়ার কাজের দেখা নাই, কাজের লোক প্রস্তুত।
ডোবা দেখলে ব্যাঙ লাফায় আকাঙ্খার বস্তু দেখলেই মন আন্দোলিত হয়।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ঢাকের/ঢাকীর দামে/দায়ে মনসা বিকানো/বিক্রি আসল খরচ থেকে আড়ম্বরের খরচ বেশি;অসার বাহ্যাড়ম্বর করতে গিয়ে আসল জিনিস হারানো।
ঢাকের বাদ্য থামলে মিষ্টি/ঢাকের বাদ্যি আর ঢেঁকির কচকচি চুপ করলেই ভাল যা অসহ্য তা থামলেই ভালো; বিরক্তিকর একঘেয়েমি থেকে মুক্তি।
ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার শূন্য হাতেই বাহাদুরি করা।
ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে অভ্যাস কখনও বদলায় না।
ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় অপরের ক্ষতি চাইলে নিজেরও ক্ষতি হয়।
ঢেউ দেখে নাও ডুবিও না ইচ্ছা করে ক্ষতি করো না।
ঢেঁকি না, কুলো না অন্নসংস্থানের কোন উপায় নেই।
ঢেঁকি ভজে স্বর্গে যাওয়া যায় না নিস্ফল প্রচেষ্টায় মোক্ষ নেই।
ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে মন্দভাগ্যের কোনদিন সৌভাগ্য হয় না- খেদোক্তি।
ঢেঁকির কচকচি থামলেই মিষ্টি/ঢেঁকির কচকচি আর ঢাকের বাদ্যি চুপ করলেই ভাল বিরক্তিকর একঘেয়েমি থেকে মুক্তি।
ঢেঁকির পাড় পড়া পরশ্রীকাতরতার মর্মজ্বালায় ছটফট করা।
ঢেঁকিশাল দিয়ে কটক যাওয়া ঘুর/বাঁকাপথে কাজ করা।
ঢেঁকিশালে যদি মানিক পাই, তবে কেন পর্বতে যাই কাছে অভীষ্ট সিদ্ধ হলে দূরে যাওয়া নেই; পরিশ্রমে অনিচ্ছা।
ঢোঁড়াসাপের ফোঁসফোঁসানি সার অক্ষমের মেকি তড়পানি।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
তপ্তজলে ঘর পোড়ে না সামান্যভুলে বেশি ক্ষতি হয় না।
তপ্ত ভাতে নুন জোটে না, পান্তা ভাতে ঘি সামান্য বিষয় জোটে না অসামান্যের দাবী।
তমসোমা জ্যোতির্গময়, অসদোমা সদগময়, মৃত্যোর্মা অমৃতগময়। আমাকে- অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে চল; অসৎপথ থেকে সৎপথে নিয়ে চল; মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে নিয়ে চল।
তমোগুণে অধোগতি মোহ থাকলে পতন অনিবার্য।
তর্কই জ্ঞানের উৎস বাদ থাকলে প্রতিবাদ হয়; প্রতিবাদ থেকে সম্বাদ হয়।
তর্কে জেতা বুদ্ধিমানে কাজ নয়, তর্কে না জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ-আঃ প্রঃ বুদ্ধিমানেরা তর্কে জড়ায় না।
তর্কে তর্ক বাড়ে তর্কের কোন মিমাংসা নেই
তলোয়ার যার, দেশ তার- পাঞ্জাবী প্রবাদ জোর যার মুল্লুক তার।
তস্করস্য কুতো ধর্মো দুর্জনস্য কুতঃ ক্ষমা। বেশ্যানাঞ্চ কুতঃ স্নেহঃ কুতঃ সত্যঞ্চ কামিনাম্॥ (চাণক্য) চোরের আবার ধর্ম কী? দুষ্টের আবার ক্ষমা কী? গণিকার আবার স্নেহ কী? কামুকের আবার সততা কী?
তস্মিন্ তুষ্টে জগৎ তুষ্টঃ ঈশ্বর তুষ্ট থাকলে জগৎ তুষ্ট থাকে।
তাঁতী রাগে কাপড় ছেঁড়ে, আপনার ক্ষতি আপনি করে রাগে অন্ধ হলে বুদ্ধি পালিয়ে যায়।
তাঁতীকুলও গেল, বৈষ্ণবকুলও গেল দুকূল হারিযে নিরাশ্রয় হল; দু’দিক সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
তাজমহল একদিনে তৈরী হয় নি অনেক পরিশ্রমে মহান সৃষ্টি তিলেতিলে গড়ে ওঠে।
তাত সয় তো বাত সয় না কথা শুনতে নারাজ।
তাড়াহুড়োয় সময় নষ্ট তাড়াআড়ি করলে শেষপর্যন্ত কাজে দেরী হয়।
তাল, তেঁতুল, মাদার (একপ্রকার টকফল), তিনে দেখায় আঁধার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।
তালপাতার সেপাই শক্তিহীন লোক।
তালপুকুর নাম, কিন্তু ঘটি ডোবে না কপর্দকশূন্য নামডাকওয়ালা লোক।
তালপুকুরে খাবি খায়, সমুদ্র পার হতে চায় অক্ষমের আস্ফালনের প্রতি বিদ্রুপোক্তি
তালপ্রমাণ বাড়ে, তিলপ্রমাণ কমে দোষের বৃদ্ধি ও হ্রাসের প্রকৃতি।
তাল বাড়ে ঝোপে খেজুর বাড়ে কোপে (খনা) তালগাছ না ছাঁটলে ফলন বেশি হয়; খেজুরগাছ ছাঁটলে ফলন বেশি হয়।
তালৈর (=ভাই/বোনের শ্বশুর) চেয়ে পুতরা ভারি আসলের চেয়ে অনুচরের আস্ফালন বেশি।
তাস, তামাক, পাশা, এ তিন সর্বনাশা/তাস, দাবা, পাশা, তিন কর্মনাশা এই তিন জিনিষ অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তিনইঞ্চির জিভ একজন সাতফুট মানুষকেও কাৎ করতে পারে- চীনা প্রবাদ অপরিমিত আহার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
তিন/ছয় কানে (তিনজনের কানে) গেলে গুপ্তকথা প্রকাশ হয়ে যায় কথা চালাচালিতে গুপ্তকথা ফাঁস হয়ে যায়।
তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকেছে অতিবৃদ্ধ, মৃত্যুকাল আসন্ন
তিনজন জানে তো ত্রিশজন জানে গোপন কথা একটু ব্যক্ত হলেই সকলে জেনে যায়
তিনটি বই একবার পড়ার চেয়ে একটি বই তিনবার পড়া শ্রেয়- আঃ প্রঃ বিষয়বস্তু হৃদয়ঙ্গম করতে হলে একটা বই একাধিকবার পড়া উচিৎ
তিনদিনের যোগী ভাতকে বলে অন্ন আদিখ্যেতা, বাড়াবাড়ি।
তিন নকলে আসল খাস্তা নকলের আধিক্যে আসলকেই নকল বলে ভুল হয়।
তিন মাথা যার(অতিবৃদ্ধ লোক) বুদ্ধি নেবে তার জীবনের অভিজ্ঞতা তার সর্বাধিক।
তীরে এসে তরী ডোবা শেষ পর্যায়ে কাজ পন্ড হওয়া; সাফল্যের মুখে পতন।
তুকতাক ছয়মাস, কপালে যা বারোমাস ভাগ্যের ফের ভুগতেই হয়, এড়ানো য্য না।
তুমি কার, কে তোমার? জগৎ মায়াময়, শুধু ছায়ার আসা যাওয়া
তুমি খাও ভাঁড়ে জল; আমি খাই ঘাটে/তুমি চল ডালে ডালে আমি চলি পাতায় পাতায়/তুমি চল পাতায় পাতায় আমি চলি শিরায় শিরায় এককাঠি বাড়া; টেক্কা মারা।
তুমি চল ভাগ্য তোমার সাথে চলবে মানুষ নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে।
তুমি যতটা মূল্যবান ঠিক ততটা সমালোচনার পাত্র- আরবী প্রবাদ সমালোচনার ঊর্ধ্বে কেঊ নয়।
তুলো শুনতে নরম, বুনতে নয় সরল কাজ সবসময় সহজ হয় না।
তুষহীন তণ্ডুলের অঙ্কুরোদ্গম হয় না সহায় ছাড়া কাজ হয় না।
তৃণবন্মন্যতে জগৎ জগতকে তৃণের মত জ্ঞান কর।
তৃণৈগুণত্ব মাপন্নৈবদ্ধন্তে মত্তদন্তিনো যে তৃণ সহজে ছিন্ন হয় সেই তৃণের রজ্জুতেই মত্তহস্তী বাঁধা যায়; একতাই বল।
তৃষ্ণাবধি কো গতঃ তৃষ্ণার শেষসীমায় কে পৌঁছাতে পারে?
তৃষ্ণা এগোয় না জল এগোয়? কার গরজ বেশি?
তৃষ্ণার অন্ত নেই একটা মেটে তো অন্য এসে উপস্থিত হয়।
তেন তক্তেন ভুঞ্জীথা। মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্ ধনম্‌॥ (উপনিষদ) ত্যাগের মধ্য দিয়ে ভোগ করবে; কারও ধনে লোভ করো না।
তেল, তামাক, ময়দা, যত ডলো ফয়দা– হিন্দি প্রবাদ এই তিনটি দ্রব্য ডলাই মলাই করলে ফল ভাল হয়।
তেল দাও, সিঁদুর দাও, ভবি ভোলবার নয় নাছোড়বান্দা
তেলাপোকা আবার পাখি, ভেরাণ্ডা আবার গাছ তুচ্ছের প্রতি তাচ্ছিল্য।
তেলা মাথায় তেল দেওয়া যার আছে তাকে আরো দেওয়া।
তেলা মাথায় ঢালো তেল, রুখু/শুখনো মাথায় ভাঙ্গো বেল- খনা
তেলে জলে খাপ/মিশ খায় না বিষম মিলন স্বাভাবিক নয়।
তেলেজলেই মানুষের শরীর। মানুষমাত্রই অনুভূতিপ্রবণ।
তেলে বেগুনে জ্বলা অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়া।
তেহি নো দিবসা গতাঃ আনন্দ ও সুখের দিনগুলি চলে গেছে।
তোমার পিঠে তখন একটি লোক উঠবে যখন তুমি পিঠ নীচু করবে- আরবী প্তবাদ দুর্বলতা দেখিও না লোকে পেয়ে বসবে।
তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে সকলের অগোচরে বৃদ্ধি।
তোর শিল, তোর নোড়া, তোরই ভাঙি দাঁতের গোড়া শত্রুর অস্ত্রে শত্রু নিধন।
ত্যজ দুর্জন সংসর্গং ভজ সাধুসমাগমম্‌। কুরু পূণ্যমহোরাত্রং স্মর নিত্যমনিত্যতাম॥ (চাণক্য) দুর্জন ব্যক্তির সঙ্গ ছাড়ো; সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গ ধর; পূণ্যের কাজ কর; সকল নিত্য ও অনিত্য স্মরণ কর।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
থলি ভর্তি হওয়ার আগে মুখ বাঁধো সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতি ইঙ্গিত।
থলির বিড়াল বাইরে এলো সত্য প্রকাশিত
থলির মধ্যে হাতি পোড়া অসাধ্যসাধনের প্রয়াস।
থাক মান, যাক প্রাণ মাথা উঁচু রাখার প্রতিজ্ঞা।
থাকে যদি চুড়ো বাঁশি, মিলবে রাধা হেন কত দাসী কিছু পেতে হলে কিছু থাকতে হয়।
থাকলে তালৈয়ের বাপের শ্রাদ্ধ হয়, না থাকলে নিজের বাপের শ্রাদ্ধ হয় না টাকা থাকলে ইচ্ছামত সবকিছু করা যায়; টাকা না থাকলে কিছুই করা যায় না।
থাকলে সোনার মান হয় না, হারালেই সোনার মান সহজলভ্যের কদর নেই
থুতু দিয়ে ছাতু গেলা অসম্ভব কাজ করার চেষ্টা।
থোঁতা মুখ ভোঁতা হওয়া দর্পচূর্ণ হওয়া; বড় মুখ ছোট হওয়া
থোড়-বড়ি-খাড়া, খাড়া-বড়ি-থোড় বৈচিত্রহীন একঘেয়ে জীবন।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
দই খাবে মেধো, কড়ি/দাম দেবে সেধো চরম বিশৃঙ্খলা।
দই, দুধ করব ভোগ, ওষুধ খেয়ে সারব রোগ সুখ, দুখ একসাথেই চলার পক্ষে ওকালতি।
দক্ষিণদুয়ারি ঘরের রাজা পূর্বদুয়ারি তার প্রজা;পশ্চিম দুয়ারির খাজনা নাই উত্তরদুয়ারির মুখে ছাই (খনা) দক্ষিণদুয়ারি ঘর সর্বোত্তম; পূর্বদুয়ারি ঘর বেশ ভাল; পশ্চিমদুয়ারি ঘর মন্দের ভাল; উত্তরদুয়ারি ঘর ছ্যাঃ ছ্যাঃ।
দধির অগ্র ঘোলের শেষ। খেতে সুস্বাদু হয়।
দরজা খোলা পেলে সাধুও চোর হয় প্রলোভন এড়ানো দুস্কর।
দরিদ্র খোঁজে অন্ন, ধনী খোঁজে ক্ষুধা- হিন্দি প্রবাদ অভাববোধের কি বৈচিত্র! সম্পদ বণ্টনের বৈষম্যের প্রতি তীব্র বক্রোক্তি।
দল(জলজ তৃণস্তূপ) ভাঙলে যে, কৈ খাবে সে ন্যায্যের অধিকার।
দশচক্রে ভগবান ভুত অনেক চেষ্টায় সত্যকে মিথ্যা বানানো; নানা চক্রান্তে সত্য মিথ্যায় পরিণত হয়।
দশ দিন চোরের একদিন গৃহীর/সাধুর কুকর্মের ফল একদিন অনিবার্য ফলে।
দশজনের ঘর খোদায় রক্ষা কর সংখ্যাধিক্যে বিশৃঙ্খলা উৎপন্ন হয়।
দশদিন চোরের একদিন গৃহীর/সাধুর কুকর্মের ফল একদিন ভুগতেই হয়।
দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ সকলে মিলেমিশে কাজ করে ব্যর্থ হলেও তাতে লজ্জা নেই; একতাই বল।
দশের লাঠি একের বোঝা কোনো কাজ একার পক্ষে করা কঠিন, কিন্তু দশজনের পক্ষে খুব সহজ।
দস্তানা পড়া বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না কাপুড়েবাবু কাজের লোক হয় না।
দাঁড়ালে পোয়া, বসলে ক্রোশ, পথ বলে মোর কিসের দোষ? অলস না হলে কোন কাজই অসাধ্য নয়।
দাঁড়িকে মাঝি করা, মরা গাঙে ডুবে মরা ভুললোককে কাজের দায়িত্ব দিলে কর্মনাশ।
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না সময়ে সুযোগের সদব্যবহার করে না।
দাতা দান দেয় ভাণ্ডারীকা পেট পিরায়-হিন্দি প্রবাদ বদান্যদাতা দান করে, সঙ্কীর্ণমনা তাতে কষ্ট পায়।
দাদা কানা, ভাই চোখে দেখে না দুইই সমান অপদার্থ।
দাদারও দাদা আছে কেউই অজেয় নয়।
দানে বিদ্যা বর্ধিত হয়, দানে ধন ক্ষয় হয়। জ্ঞানের তুলনা হয় না।
দাম্ভিক আর মিথ্যাবাদী পরস্পর তুতোভাই- চীনা প্রবাদ বদগুণের আত্মীয়তা।
দা’য়ে বালি, কুড়ুলে শিল, ভালমানুষকে ভালকথা, বজ্জাতকে কিল যার যেটা প্রয়োজন তার সেটা চাই।
দায়ে পড়ে দা‘ঠাকুর/দায়ে পড়লে ল্যাংড়াও লাফায়/দায়ে পড়লে শালগ্রামের পৈতা/সোনা বেচেও খায় গরজ বড় বালাই।
দারিদ্র্যদোষো গুণরাশিনাশী দারিদ্রদোষে গুণীর সব গুণ নষ্ট হয়।
দালমে কুছ কালা হৈ অজ্ঞাতসারে কিছু ভুল থেকে গেছে; সন্দেহজনক ঘটনা।
দিও কিঞ্চিৎ না কোরো বঞ্চিৎ ভোজনের ব্যাপারে সবাই মিলে রসাস্বাদন কর।
দিন কাটে তো রাত কাটে না অসহ্য মানসিক যন্ত্রণার অনুভূতি
দিন যায়, কথা থাকে। মহার্ধ বচনের আবেদন চিরকালীন।
দিন যায় তো ক্ষণ যায় না অপার মানসিক যন্ত্রণার অভিব্যক্তি।
দিনকে রাত করা, রাতকে দিন করা অত্যন্ত বাড়িয়ে বলা; মাত্রাহীনভাবে মিথ্যাকথা বলা।
দিনে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বস; রাতে খাওয়ার পর অনেক্ষণ হাঁটো স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বৈদ্যের বিধান।
দিনে বাতি যার ঘরে, তার ভিটায় ঘুঘু চরে অবিবেচকের মত কাজ করলে দুর্দশায় পড়তে হয়।
দিনের পরিকল্পনা সকালেই হয়- চীনা প্রবাদ সুষ্টকাজের প্রাক-পরিকল্পনা থাকে।
দিল্লিকা লাড্ডু যো খায়া সো পস্তায়া, যো ন-খায়া সো ভি পস্তায়া এমন আজব মিঠাই যে, যে খেয়েছে সেই মজেছে; যে খায় নি সেও মজেছে।
দীয়তাং ভুজ্যতাম দিতে থাকো; খেতে থাকো; বিরাট আয়োজনের বাড়ীতে ভূরিভোজনসম্পর্কিত উক্তি।
দীর্ঘরাত্রিও অবসান আছে কোন দুঃখই চিরস্থায়ী নয়।
দীর্ঘসূত্রতা সময়ের তস্কর দীর্ঘসূত্রতার কারণে অযথা সময় নষ্ট হয়।
দুই অসতের মধ্যে একজনকে পছন্দ করা সঠিক নির্বাচন নয়। অসৎসঙ্গ রর্বোতভাবে পরিত্যজ্য।
দুই অসতের মধ্যে কম ক্ষতিকরকে পছন্দ কর (বিরুদ্ধ উক্তি) নির্বাচন যদি করতেই হয় তবে কম ক্ষতিকরই গ্রহণযোগ্য।
দুই হাঁড়ি একত্র থাকলেই ঠোকাঠুকি হবে দ্বন্দ্ব এড়ানো যায় না; ভাইভাই ঠাঁইঠাঁই।
‘দুইয়ে দুইয়ে চার’-এর মতই সহজ অতি সহজ ও সরল।
দুঃখ বিনা সুখ হয় না সুখ-দুলখ অবমিশ্র হয় না; সুখের আড়ালে দুঃখ থাকে।
দুঃখযন্ত্রণা থেকে জীবনের প্রকৃত শিক্ষা পাওয়া যায় জীবানযন্ত্রণা, কিভাবে বাঁচতে হবে' আমাদের শেখায়।
দুঃখে অনুদ্বিগমনা সুখেচ বিগতস্পৃহ (গীতা) দুঃখে অনুদ্বিগ্ন এবং সুখে স্পৃহাহীন থাকা।
দুঃখের অংশীদার থাকলে মন হালকা হয় দুঃখভার কমাতে পরস্পরের দুঃখের অংশভাগী হওয়া।
দুঃখের দিনগুলি খুব লম্বা হয় দুঃখের দিনগুলি যেন কাটতে চায় না।
দুঃসংবাদ বাতাসের আগে ছোটে/দুঃসংবাদের ডানা আছে সুঃসংবাদ দ্রুত ছড়্যয়।
দুটিগাছ একসাথে থাকে, দুটি পাহাড় একসাথে থাকে না/দুটি বটগাছ পাশাপাশি থাকে না লাখো ঘাস পাশাপাশি থাকে আমিত্ব/আত্মম্ভরিতা অন্তরঙ্গতা/সমপ্রীতির পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দু’টাকা ধার দেওয়া থেকে একটাকা দান করা ভাল ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় বসে থাকতে হয় না।
দুধ কলা দাও যত, সাপের বিষ বাড়ে তত/দুধ-কলা দিয়ে সাপ পোষা সযত্নে দুশমনকে প্রতিপালন করা।
দুধকা জ্বলা মাঠা ফুঁক্‌ ফুঁক্‌ পিতা হৈ- হিন্দি প্রবাদ গরম দুধে যার মুখ পুড়েছে সে ফুঁ দিয়ে ঘোল খায়।
দুধকা দুধ পানিকা পানি- হিন্দি প্রবাস সত্যাসত্য পরিস্কারভাবে যাচাই।
দুধে ভিজিয়ে রাখলেও নিম কখনও মিষ্টি হয় না কালো কখনো সাদা হয় না।
দুনিয়াদারি মুসাফিরি, সিরিফ আনাগোনা/যানা জীবনমৃত্যুর খেলা।
দুর্গা বলে ঝুলে পড় সাহস করে কাজে নেমে পড়।
দুর্জনঃ পরিহর্তব্যো বিদ্যয়ালংকৃতোহপি সন্। মণিনা ভূষিতঃ সর্পঃ কিমসৌ ন ভয়ঙ্করঃ॥ (চাণক্য) দুর্জন ব্যক্তি বিদ্যায় বিভূষিত হলেও তাকে ত্যাগ করা উচিত। কোনো সাপ মণিতে ভূষিত হলেও তা ভয়ঙ্করই থাকে।
দুর্জনঃ প্রিয়বাদী চ বৈতদ্বিশ্বাসকারণম্। মধু তিষ্ঠতি জিহ্বাগ্রে হৃদয়ে তু হলাহলম্॥ (চাণক্য) দুর্জন ব্যক্তি মিষ্টভাষী হলেও তা বিশ্বাসের ব্যাপার নয়। কেননা, তার জিভের ডগায় থাকে মধু- আর অন্তরে থাকে তীব্র বিষ।
দুর্বলস্য বলং রাজা বালানাং রোদনং বলম্। বলং মূর্খস্য মৌনিত্বং চৌরাণামনৃতং বলম্॥ (চাণক্য) দুর্বলের রাজাই বল, শিশুর রোদনই বল, মূর্খের নীরব থাকাই বল আর চোরের মিথ্যাশ্রয়ই বল।
দুর্ভাগ্য অনেক স্থলে সৌভাগ্যের কারণ হয় শাপে বর হয়।
দুর্লভং প্রাকৃতং বাক্যং দুর্লভঃ ক্ষেমকৃৎ সুতঃ। দুর্লভা সদৃশী ভার্যা দুর্লভঃ স্বজনঃ প্রিয়ঃ॥ (চাণক্য) যথার্থ বাক্য দুর্লভ, সুখকর পুত্র দুর্লভ, সমানগুণসম্পন্না স্ত্রী দুর্লভ, মঙ্গলকারী আত্মীয়স্বজন দুর্লভ।
দুশ্চিন্তা ঝামেলায় না ফেললে দুশ্চিন্তার পিছু নিও না অনাবশ্যক দুশ্চিন্তা করা নেই।
দুষ্টা ভার্যা, শঠং মিত্রং ভৃত্যশ্চোত্তরদায়কঃ। সসর্পে চ গৃহে বাসো মৃত্যুরেব ন সংশয়ঃ॥ (চাণক) যাঁর স্ত্রী দুশ্চরিত্রা, বন্ধু প্রতারক, ভৃত্য মুখে মুখে উত্তর করে এবং যিনি সর্পযুক্ত গৃহে বাস করেন, তাঁর মৃত্যু অবধারিত, এ ব্যাপারে সংশয় নেই।
দুষ্টু গরুর চেয়ে শূনয় গোয়াল ভালো খারাপ জিনিস থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।
দূর সভা নিকট জল; নিকট সভা দূর জল- খনা চন্দ্রসভা দূরে থাকলে আশু বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা।
দূরতঃ শোভতে মূর্খো লম্বশাটপটাবৃতঃ। তাবৎ শোভতে মূর্খো যাবৎ কিঞ্চিন্ন ভাষতে॥ (চাণক্য) দীর্ঘ পোশাকপরিচ্ছদভূষিত মূর্খ দূরে শোভা পাচ্ছে; ততক্ষণ সে শোভা পায়, যতক্ষণ না সে কথা বলে)-
দূরত্বের মাপকাঠিতে ঘোড়ার শক্তি যাচাই হয়; সময়ের মাপকাঠিতে ব্যক্তির চরিত্র যাচাই হয়- চীনা প্রবাদ বিষয়ভেদে বিচারের মাপকাঠি বদলায়।
দূরের জিনিস দেখতে ভাল মানসিক বিভ্রান্তি।
দেওয়ালের লিখন না যায় খণ্ডন ভবিষ্যৎ পতনের আভাস।
দেওয়ালেরও কান আছে কোন কিছু গোপন থাকে না।
দেখ্ তোর, না দেখ্ মোর ধান্ধাবাজি।
দেখছি কত দেখব আর, ছুঁচোর গলায় চন্দ্রহার অযোগ্যের হাতে উৎকৃষ্ট দ্রব্য।
দেদোর(=দাদ রোগাক্রান্ত) মর্ম দেদোয় জানে একমাত্র ভুক্তভোগীরাই ব্যথার মর্ম বোঝে।
দেবতার বেলা লীলাখেলা, পাপ লিখেছে মানুষের বেলা। ভাবের ঘরে চুরির বিরুদ্ধে ক্ষোভ।
দেবালয়ের পিছনেই শয়তানের আস্তানা আলো ও অন্ধকার পাশাপাশি থাকে।
দেবালয়ের যত কাছে দেবতা থেকে তত দূরে। আচার সর্বস্বতার প্রতি ইঙ্গিত।
দেরি হলেও সংশোধনের সময় থাকে। সংশোধনের কোন সময়সীমা নেই।
দোয়া গাইয়ের চাঁট সই উপকারীর তিরস্কার সহনীয়।
দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ জন্মায় কুবংশে সুসন্তান।
দৈব ও আকস্মিক ঘটনা অজ্ঞানের উক্তি কোন ঘটনাই আকস্মিক নয়; প্রতিটি কাজের পিছনে কার্য থাকে।
দৈবেন দেয়মিতি কাপুরুষা বদন্তি 'ভাগ্যে থাকলে পাব' এ কথা শুধু কাপরুষেরাই বলে।
দোষ স্বীকার করলে অর্ধেক দোষস্খলন হয় দোষ স্বীকার করলে আত্মশুদ্ধি হয়।
দ্বিধায় দ্বিধা বাড়ে। দ্বিধায় পরপর ভুল পদক্ষেপ হয়;

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ধন, জন, পরিবার, কেউ নয় আপনার আত্মা ছাড়া আত্মর আপন কেউ নয়।
ধন, জন, যৌবন- জোয়ারের জল কতক্ষণ? অর্থ, আত্মীয় ও যৌবন জোয়ারের জলের মতই ক্ষণস্থায়ী।
ধন থাকলেই সিঁধের ভয়। অর্থ থাকলেই অর্থ হারাবার ভয় থাকে।
ধনং ক্ষীণং ভবেদ্দানবিদ্যা দানাদ্বিবর্ধতে। অতো মন্যে ধ্রুবং বিদ্যা ধনাদপি গরীয়সী॥ (চাণক্য) দানে ধন ক্ষয় হয়; দানে বিদ্যা বর্ধিত হয়; অতএব মনে করি বিদ্যা ধন থেকে বড়।
ধনসোহাগী মরে ক্ষুদের জাউ (=ফেনভাত) খেয়ে হাড় কৃপণ।
ধনানি জীবিতঞ্চৈব পরার্থে প্রাজ্ঞ উৎসৃজেৎ। সন্নিমিত্তে বরং ত্যাগো বিনাশে নিয়তে সতি॥ (চাণক্য) জ্ঞানীব্যক্তি, ধন ও জীবন পরের জন্য উৎসর্গ করেন; বিনাশ অবশ্যম্ভাবী সুতরাং সৎকাজে সব ত্যাগ করা বিধেয়।
ধনীর চিন্তা ধন ধন, নিরানব্বুইয়ের ধাক্কা, যোগীর চিন্তা জগন্নাথ, ফকিরের চিন্তা মক্কা ভোগীর ভোগবাদী চিন্তা, ত্যাগীর আধ্যাত্মিক চিন্তা।
ধনীর মাথায় ধর ছাতি, নির্ধনেরে মার লাথি সকলেই সবলের সহায়, দুর্বলের কেউ নয়।
ধনে সুখ নয়, মনে সুখ ধনের সুখ ক্ষণস্থায়ী, মনের সুখ চিরস্থায়ী।
ধর তক্তা মার পেরেক দায়সারাভাবে দ্রূত কাজ শেষ করা।
ধরাকে সরা জ্ঞান করা কাউকে গ্রাহ্য না করা।
ধরি মাছ না ছুঁই পানি কিছুমাত্র বেগ না পেতে হয় এমন কৌশলে কার্যসিদ্ধি করা।
ধরিলে চিঁ চিঁ করে ছাড়িলে লম্ফ মারে ধরা পড়লে ঢ়াণ্ডা থাকে; ছাড়া পেলে দৌরাত্ম্য শুরু করে।
ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে বাড়াবাড়ি
ধর্মদাসের ধর্মকর্মে ধর্মের কোন নাম নেই আচারসরবস্বতার প্রতি ব্যঙ্গোক্তি।
ধর্মস্য কুটিলা/সূক্ষ্মা গতিঃ কর্মের সাথে ধর্মের বিরোধের প্রতি ইঙ্গিত
ধর্মেণ হীনাঃ পশুভিঃ সমানাঃ অধার্মিক পশুর সমান।
ধর্মের ঢাক আপনি বাজে/ধর্মের কল বাতাসে নড়ে শেষ অবধি সত্য উদঘাটিত হয়।
ধর্মের ঘরে কুটের (=কুষ্ঠরোগী) অভাব নাই মন্দির মসজিদে থাকা ভণ্ড ধার্মিকদের প্রতি বক্রোক্তি।
ধর্মের ঘড়া ভেসে উঠে, পাপের ঘড়া তলিয়ে যায় ধর্মের জয়, অধর্মের ক্ষয়।
ধর্মো রক্ষতি ধার্মিকম্ ভগবান ধার্মিককে রক্ষা করে।
ধান একগুণ, ঘাস শতগুণ আগাছার বাড় বেশি।
ধান কাঠের মই বেয়ে চাঁদ পেড়ে আনা আজগুবি কল্পনা।
ধান খায় কাকে, ব্যাঙের পায়ে দড়ি চরম বিশৃঙ্খলা; একের দোষে অন্যের শাস্তি।
ধান দিয়ে লেখাপড়া শেখা সামান্য ব্যয়ে অল্পসল্প বিদ্যালাভ।
ধান নাই চাল নাই, আন্দিরাম মহাজন বিফল ব্যবসায়ী।
ধান ভানতে শিবের গীত অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা।
ধান্য তার বসুন্ধরা যার জমি যার ফসল তার।
ধার করা জামা কখনও গায়ের মাপের হয় না যা পায় তাই মেনে নিতে হয়।
ধার করে খায়, হেঁট মাথায় যায় খাতকের কোন ইজ্জৎ নেই।
ধারে না কাটলে ভারে কাটে কোনো না কোনো উপায়ে কার্যসিদ্ধি।
ধেনো হাটে ওল নামানো না বুঝে অকাজ করা।
ধীরগতি নদীর গভীরতা বেশি জ্ঞানীপুরুষের প্রশান্তি বেশি।
ধীর জলে পাথর কাটে নগণ্য ক্রিয়ারও কিছু প্রতিক্রিয়া থাকে।
ধুলো-মুঠো ধরলে সোনা-মুঠো হয় সৌভাগ্যের লক্ষণ; ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে অলাভের বস্তুদ্বারা লাভবান হয়
ধূর্তে ধূর্তে ধূর্তামি সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি।
ধোঁয়া চাপা থাকে না সত্য গোপন থাকে না।
ধোঁয়া যেথায় আগুন সেথায় অকারণে কিছু হয় না.
ধ্বনির অনুরূপ প্রতিধ্বনি থাকে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া থাকে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ন অহংকারাৎ পরোরিপু অহঙ্কারের চেয়ে বড় শত্রু নেই।
ন কশ্চিৎ কস্যচিন্মিত্রং ন কশ্চিৎ কস্যচিদ্রিপুঃ। কারণেন হি জানাতি মিত্রানি চ রিপূংস্তথা॥ (চাণক্য) কারণ বিনা কেউ কারো মিত্র বা শত্রু হয় না; ব্যবহারের কারণেই কেউ মিত্র বা শত্রু হয়
ন চ বিদ্যাসমো বন্ধুর্ন চ ব্যাধিসমো রিপুঃ। ন চাপত্যসমঃ স্নেহো ন চ দৈবাৎ পরং বলম্॥ (চাণক্য) বিদ্যার সমান বন্ধু নেই, ব্যাধির সমান শত্রু নেই, পুত্রস্নেহের সমান স্নেহ নেই এবং দৈবের সমান বল নেই।
ন দুঃখং পঞ্চভিসহ পাঁচজন মিলে থাকলে থাকলে দুঃখ হয় না।
ন দেব সৃষ্টিনাশক দেবতা কখনো সৃষ্টি নাশ করেন না।
ন দেবায়, ন ধর্মায় দেবতারও নয়, ধর্মেরও নয়; কোন কর্মের নয়, অপদার্থ।
ন নিম্বো মধুরায়তে নিম কখনো মিষ্ট হয় না।
ন বিশ্বসেদবিশ্বস্তে মিত্রে চাপি ন বিশ্বসেৎ। কদাচিৎ কুপিতং মিত্রং সর্বং দোষং প্রকাশয়েৎ॥ (চাণক্য) অবিশ্বাসীকে কখনো বিশ্বাস করবে না; বন্ধুকেও বেশী বিশ্বাস করবে না; কারণ সে ক্ষুব্ধ হলে তোমার সকল দোষ সকলকে বলে দিতে পারে।
ন ভূতো, ন ভবিষ্যতি ছিলও না হবেও না; অগ্রপশ্চাৎ চিন্তা করা বৃথা।
ন যযৌ, ন তস্থৌ যাওয়াও যায় না, থাকাও যায় না; কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
ন সন্তোষাৎ পরম সুখম্ সন্তোষের মত পরম সুখ নেই।
ন হি সুখং দুঃখখৈর্বিনা পভ্যতে দুখঃবিনা সুখ হয় না; কষ্ট সহ্য না করলে কেষ্ট পাওয়া যায় না।
ন হি সুপ্তস্য সিংহস্য মুখে প্রবিশন্তি মৃগাঃ ঘুমন্তসিংহের মুখে হরিণ প্রবেশ করে না; পরিশ্রমবিনা প্রাপ্তি নেই।
নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? বিপদে সবার ক্ষতি।
নজরে থাকা কড়ার দুধ উথলায় না নজর রাখলে নয়ছয় হয় না।
নড়তে চড়তে বারো মাস অত্যন্ত অলস, দীর্ঘসূত্রী।
নদীকূলে চ যে বৃক্ষা, পরহহস্তগতং ধনম। কার্যং স্ত্রীগোচরং যৎ স্যাৎ সর্বং তদ্বিফলং ভবেৎ॥ (চাণক্য) নদীপাড়ের বৃক্ষ, পরহস্তগত ধন এবং স্ত্রীলোক জানে এমন ভবিষ্যৎ কাজ সর্বদা বিফল হয়।
নদী না শুকালে জলের মূল্য জানা যায় না না হারালে থাকার মূল্য কি জানা যায় না।
নদী পার হলে কুমিরকে কলা উপকার পেয়েই উপকৃত উপকারীকে ভুলে যায়।
নদী শুকোলেও রেখা থাকে কৃতকর্মের দাগ থেকে যায়; কলঙ্ক মোছে না।
নদীকে অনুসুরণ কর, সমুদ্রে পৌঁছে যাবে পথ ঠিক থাকলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।
নদীর এক কূল ভাঙ্গে আর এক কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা। ভালাে-মন্দ পর্যায়ক্রমে আসে।l আনন্দ-বেদনা, ভাঙা-গড়া লাভ-ক্ষতি সবই জীবনেরই অঙ্গ।
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। অন্যে পেল, আমি পেলাম না- এই অনুভূতি; অন্যের অবস্থার প্রতি ঈর্ষাকাতর দৃষ্টিপাত।
নদীর জল ঘোলাও ভালো, জাতের মেয়ে কালোও ভালো (খনা) উৎস ভাল হলে পরে নির্গত উপাদানও ভালই হবে।
ননদেরও ননদ আছে/ননদো কীভী ননদ হােতী হৈ কেউ পার পায় না; সবার জীবনেই দুঃখকষ্ট আছে।
নবকুমারকে বাঘে খায় অকৃতজ্ঞ উপকৃত, উপকারীর ঋণ স্বীকার করে না।
নয় মণ তেলও পুড়বে না, রাধাও নাচবে না কার্যসিদ্ধি হবে না।
নরম কাঠে ছুতোরের কারিগরি/বল/নরম মাটিতে বেড়াল আঁচড়ায় দুর্বলের ওপর বল্প্রয়োগ সহজ; দুর্বল প্রকৃতির লোক অত্যাচারিত হয়।
নরানাং মাতুলক্রমঃ মানুষ মাতুলের প্রকৃতিপ্রাপ্ত হয়।
নরের মন নারায়ণ জানেন সবই ঈশ্বর জানেন।
না আঁচালে বিশ্বাস নেই কার্যসিদ্ধি সম্পর্কে সন্দিহান।
না থাকলেই সোনার মূল্য, থাকলে সোনার মূল্য নেই সহজলভ্যের কোন কদর নেই।
না দেওয়া কাঁঠালের শাওনে (শ্রাবণমাসে) পাক/না দেওয়া চাল আজ না কাল/না দেওয়া জাল ষরষে ভরা না দেবার ছল-ছূতো, বাহানা।
না দেখে চলে যায়, পায়ে পায়ে হোঁচট খায় অসর্তকতার দণ্ড।
না দেখে/বুঝে ছিলেম ভাল; দেখতে/বুঝতে গিয়ে বিপদ হল আধা-পণ্ডিতের অনেক জ্বালা।
না পড়েই পণ্ডিত শিক্ষাদিক্ষা নেই, শুধু উপাধি পণ্ডিত বলে পণ্ডিত; কোন বিষইয় না জেনেই তাতে পণ্ডিতিগিরি; পুঁটিমাছের ফরফরনি।
না যাইলে রাজা বধে, যাইলে ভুজঙ্গ; রাবণের হাতে যথা মারীচ কুরঙ্গ (মৃগ) উভয়সঙ্কট, এগুলে রামে মারবে পিছুলে রাবণে মারবে; মারীচ রামের হাতেই মরতে চেয়েছিল।
না হওয়া থেকে দেরীতে হওয়া ভাল তবুতো কিছু হবে।
নাই কাজ তো খই ভাজ অকাজে অলস সময় কাটানো।
নাই ঘরে খাই অভাবপীড়িত, অভাবের সংসারে পরিজনদের পেটুকপনা।
নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো একেবারে না পাওয়ার চেয়ে সামান্য কিছু পাওয়াও ভালো।
নাক নেই তার নথ নাড়া/নাক নেই তার গোঁফের বাহার আদিখ্যেতা; এদিক নেই ওদিক আছে।
নাচ না আওয়ে/জানে অঙ্গন টেড়া/নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা অকর্মণ্যতার ফলে ব্যর্থতার জন্য অপরকে দোষারোপ করা।
নাচেন ভাল পাক দেয় উল্টো ঘুরিয়ে নিন্দা করা।
নাতোয়ানের দুনো ব্যয় অভাবী প্রয়োজনকালে ব্যয়ে অপারগ, পরে একই কাজে দ্বিগুণ ব্যয় করে।
নাতোয়ানের দুনো মালগুজারি অক্ষম প্রজা অর্থাভাববশতঃ যথাসময়ে জমিদারকে খাজনা দিতে না পারায় পরে সুদে-আসলে বেশি দেয়
নাথবতী অনাথবৎ স্বামী থেকেও নেই।
নান্য পন্থা বিদ্যতে অয়নায় এছাড়া অন্য কোন উপায়/পথ নেই।
নাপিত দেখলে নখ বাড়ে কাজের লোক দেখলেই কাজের কথা মনে পড়ে; দেখনবাই
নাম বড়া দর্শন থোড়া-হিন্দি প্রবাদ যত নামগাক তত কাজের নয়।
নামে গোয়ালা, আমানি/কাঁজি (পান্তভাতের জল) ভক্ষণ নামমাত্র সার, কাজে অষ্টরম্ভা।
নামে ডাকে গুরু মশাই, লেজা মুড়োর জ্ঞান নাই নামমাত্র সার।
নামে তালপুকুর, ঘটি ডোবে না নামমাত্র সার।
নামে ধর্মদাস, ধর্মের নাম/বালাই নেই নাস্তিকের প্রতি ব্যঙ্গোক্তি
নামের চোটে গগন ফাটে কাজে অষ্টরম্ভা চরম অপদার্থ।
নাস্তিকের মুখে ধর্মকথা অবিশ্বাস্য ঘটনা, সন্দেহজনক।
নাহংকারাৎ পরো রিপু অহংকারের মত রিপু নেই।
নানা মুনির নানা মত বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন মতামত।
নিক্ষিপ্ত তীর/শর ফেরে না যা গেছে তা গেছে; বলা কথা ফেরানো যায় না
নিজে খুব ভালো, তাই পরকে বলে কালো পরনিন্দুকের প্রতি ব্যঙ্গোক্তি।
নিজে বাঁচলে বাপের নাম। পরের কথা পরে ভাবা যাবে।
নিজে শুতে ঠাঁই পায় না শংকরাকে ডাকে নিনের ঘর না সামলে পরের ঘর সামলাতে চায়।
নিজের কথা পাঁচ/সাত কাহন অপরকে উপেক্ষা করে আত্মপ্রাচার করে যাওয়া।
নিজের কোলে ঝোল টানা নিজের স্বার্থ দেখা।
নিজের চরকায় তেল দাও নিজের কাজে মন দাও; পরের কথায় থেকো না।
নিজের চেয়ে পর ভাল; পরের চেয়ে জঙ্গল ভাল তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নেতিবাচক উপলব্ধি।
নিজের ঢাক/ঢোল নিজে পেটায় আত্মপ্রশংসা করা।
নিজের দই কেউ টক বলে না নিজের দোষ কেউ দেখে না।
নিজের ধন পরকে দিয়ে দেবকী মরে মাথাকুটে। ভুল করে পরে আফশোষ করা।
নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা নিজের ক্ষতি করে অপরের ক্ষতিসাধন।
নিজের পাঁঠা লেজে কাটা যায় নিজের ইচ্ছায় সব।
নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা নিজের অনিষ্ট সাধন করেও অপরকে জব্দ করার চেষ্টা করা।
নিজের পায়ে কুড়াল মারা নিজের ক্ষতি নিজেই করা।
নিজের বুদ্ধি ও পরের ধন/বয়স কেউ কম দেখে না নিজের সব ভাল, পরের সব খারাপ।
নিজের বুদ্ধিতে ছিল ভাল, পরের বুদ্ধিতে পাগল হল/নিজের বুদ্ধিতে তর, পরের বুদ্ধিতে মর/নিজের বুদ্ধিতে ফকির হই, পরের বুদ্ধিতে বাদশা নই নিজের ওপর আস্থা রাখার পক্ষে ওকালতি।
নিজের বেলায় আঁটিসাটি পরের বেলায় দাঁতকপাটি (খনা) নিজেরবেলায় সবকিছু, পরেরবেলায় কিছু না
নিজের ভাই ভাত পায় না শালার তরে মণ্ডা অবিবেচকের মত কাজ, বুদ্ধিহীনতা।
নিজের ভাল দিকগুলো জেনে লাভ নেই। আত্মম্ভরিতা বেড়ে যায়।
নিজের ভালো পাগলেও বোঝে নিজের ভালো সবাই বোঝে।
নিজের মান নিজে রাখো, কাটা কান চুলদে ঢাকো। আত্মসম্মান বজায় রেখে চলার প্রতি ইঙ্গিত।
নিতে জানে দিতে জানে না/নিতে পারি, দিতে পারি নে সঙ্কীর্ণমনা।
নিন্দা সৎলোকের কোন অনিষ্ট করতে পারে না। সত্য কালিমালিপ্ত হয় না।
নিম কখনো মিষ্টি হয় না নির্গুণ চরিত্র বদলায় না, নির্গুণই থাকে;
নিম তিতা নিসিন্দে তিতা তিতা মাকালফল; তার চেতে তিতা কন্যে বোন সতীনের ঘর আপনার লোকেরাই বেশি অনিষ্ট করে।
নিম নিসিন্দে যেথা, মানুষ মরে না সেথা নিম নিসিন্দের দ্রব্যগুণ প্রচুর।
নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে যা হবার তাই হবে।
নিয়ম থাকলে নিয়মের ফাঁক আছে কোন নিয়মই নিশ্ছিদ্র নয়।
নিয়ম বড় বালাই নিয়মের নিগড় বড় যন্ত্রণাদ্যয়ক।
নিয়মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য নিয়ম নিয়ম থেকে মানুষ বড়।
নিরবতা হিরণ্ময় বোবার শত্রু নাই।
নিরস্তপাদপদেশে এরণ্ডোহপি দ্রুমায়তে যেদেশে গাছ নেই সেই দেশে ভেরেণ্ডাও গাছের স্বীকৃতি পায়।
নির্গুণ পুরুষের তিনগুণ ঝাল কথবার্তা বড় কর্কশ।
নির্ধনের ধন হলে দিনে দেখে তারা প্রচণ্ড অহঙ্কারী হয়।
নির্বাণদীপে কিমু তৈলদানম? নির্বাপিত দীপে তেল দিয়ে কি হবে? বৃথা ফললাভের চেষ্টা।
নিষিদ্ধ ফল খেতে মিষ্টি। নিষিদ্ধ জিনিষ আকর্ষণ বাড়ায়।
নিঃস্পৃহস্য তৃণং জগৎ বাসনাকামনাহীনের কাছ জগৎ তৃণের সমান
নীতিহীন মানুষেরা কাঁটাহীন ঘড়ির মত- আরবী প্রবাদ। লক্ষ্যহীন মানুষের কাছ থেকে কিছু শেখা যায় না।
নুড়িপাথর হাজার বছর ঝরণায় ডুবে থাকলেও রসসিক্ত হয় না নির্গুণ কোনদিন গুণী হয় না।
নূন আনতে পান্তা ফুরায় অর্থের টানাটানি।
নুন খাই যার গুণ গাই তার উপকারীর- উপকার করা/ঋণ স্বীকার করা; উপকৃতের কৃতজ্ঞতা স্বীকার।
নূন ছাড়া ঘি মাটি সবারই পূর্ণতায় সহায় লাগে।
নেই কাজ তো খই ভাজ অবসরে অকাজ করা
নেই নাক তার গোঁফের বাহার আদিখ্যেতা, বাড়াবাড়ি।
নেই মাথা তার মাথাব্যথা অকারণে হৈ চৈ
নেই-মামার চেয়ে কানামামা ভাল/নেই রুটির চেয়ে অর্ধেক রুটি ভাল শূন্য হাত ভালো নয়।
নেড়া/ন্যাড়া দু’বার বেলতলা যায় না মানুষ একবারই ঠকে, বারবার ঠকে না।
নেপোয় (বাটপাড়) মারে দই ধূর্তলোকের ধান্ধাবাজী।
নেবার কুটুম অনেক আছে দেবার তরে কেউ নেই/নেবার কুটুম দেবার নয় নেবার বেলায় এক পা আগে, দেবার বেলায় আগে ভাগে।
ন্যাকা ঢং চালশে কানা, জল বলে খায় চিনির পানা ​ বুঝতে না পারার ছলে লোককে বোকা বানাবার চেষ্টা।
ন্যাবা চোখ সব হলুদ দেখে পক্ষপাতদুষ্ট লোকের কাছে সবই মন্দ।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
পচা আদা, ঝালের গাদা পচা আদায় ঝাল বেশি
পচা শামুকে পা কাটা অতিসতর্ক থেকেও সামান্য ভুল করা
পড়ল কথা সভার/হাটের মাঝে, যার কথা তার গায়ে/বুকে বাজে নাম না করে সমালোচনা করলেও যাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, সে ঠিক বুঝে যায়।
পড়শী না বঁড়শি? প্রতিবেশী কাছের লোক হয় না।
পড়শীর মুখ না আরশির মুখ? প্রতিবেশী কাছের লোক হয়।
পড়িলে ভেড়ার শৃঙ্গে হীরার ধারও ভাঙে শক্তপাল্লায় পড়লে সেয়ানাও জব্দ হয়।
পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার ষোল আনাই লাভ অনায়াসলব্ধ অর্থের সম্পূর্ণটাই লাভ।
পড়েছি মোগলের/যবনের হাতে খানা খেতে হবে সাথে চাপে/বিপদে পড়ে কাজ করা।
পণ্ডিতে চ গুণাঃ সর্বে মূর্খে দোষা হি কেবলম্। তস্মান্মূর্খসহস্রেভ্যঃ প্রাজ্ঞ একো বিশিষ্যতে॥ (চাণক্য) পণ্ডিত সব গুণ এবং মূর্খ সব দোষের আধার; সেইকারণে সহস্র মূর্খ থেকে একজন পণ্ডিত বেশি বিশিষ্ট হন।
পতি পূণ্যে সতীর পূণ্য খরচ কমাবার জন্য তীর্থক্ষেত্রে পত্নী নিয়ে না নিয়ে যাওয়ার বাহানা, তির্যোক্তি।
পথ চলবে জেনে, কড়ি নেবে গুণে জেনেবুঝে কাজ করার প্রতি ইঙ্গিত।
পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি; মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসে অন্তর্যামী আত্মম্ভরিতায় কেউ 'আমি'র খোলস ছাড়তে পারে না।
পথি নারী বিবর্জিতা বাইরে অপরিচিতা নারীর সংস্পর্শ এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ।
পথে পেলাম কামার, দা গড়ে দে আমার দেখনবাই; কাজের লোক নজরে পড়লেই কাজের কথা মনে পড়ে।
পথের বাঁকে পথ শেষ হয় না চলার কোন শেষ নেই; এগিয়ে চলার প্রতি ইঙ্গিত।
পয়ঃ সিঞ্চতে নিত্যং ন নিম্বু মধুরায়তে নিত্য জল ঢাললেও নিম কখনো মিষ্টি হয় না।
পয়ঃনালি দিয়ে গঙ্গাজল বয় না মন্দলোক ভাল কাজ করে না।
পয়সা থাকলে বেয়াই-এর বাপের শ্রাদ্ধ হয়; না থাকলে নিজের বাপের শ্রাদ্ধ হয় না অর্থ থাকলে বাজে খরচ করা যায়, অর্থাভাবে দরকারী খরচ হয় না।
পয়সা জমে টাকা হয় তিল কুড়িয়ে তাল হয়; রাই কুড়িয়ে বেল হয়।
পয়সা পেলে কাঠের ঘোড়া (ধর্মরাজ) নড়েচড়ে/হাঁ করে ঘুষের দাপট।
পর কখনও আপন হয় না আত্মা ছাড়া কেউ নিজের নয়।
পরতরফে খায় ঘি, তার আবার খরচ কি? ঘরজামাইয়ের খরচ নেই।
পরদার পাপ বলে বাঁদী রাখে নাই; দুঃখভোগ হেতু হিন্দু করেছে গোঁসাই পরনারী ভোগে সবজাতই বজ্জাত, এক গোয়ালের গরু।
পরদারান্ পরদ্রব্যং পরীবাদং পরস্য চ। পরিহাসং গুরোঃ স্থানে চাপল্যঞ্চ বিবর্জয়েৎ॥ (চাণক্য) পরস্ত্রী, পরদ্রব্য, পরনিন্দা, পরকে উপহাস এবং গুরুজনের সামনে চপলতা পরিত্যাজ্য।
পরপোকারঃ পূণ্যায়, পাপায় পরপীড়নম্‌ পরপোকার পূণ্যের, পরপীড়ন পাপ।
পরপ্রত্যাশীর অন্ন জোটে না পরমুখাপেক্ষীর ভাগ্য ভাল হয় না।
পরহস্তং গতা গতাঃ পরের হাতে কিছু ছাড়তে নেই; তাতে সব যাবে।
পরিশ্রম সাফল্য চাবিকাঠি পরিশ্রম সৌভাগ্যের মূল।
পরিশ্রমী কখনো দুঃখী হয় না পরিশ্রমীকে ভাগ্যলক্ষ্মী সাহায্য করেন।
পরিস্কার বিবেক বজ্রপাতেও শান্তিতে ঘুমায়। পরিস্কার বিবেকের মনের শান্তি কোনভাবে বিঘ্নিত হয় না।
পরের অনিষ্ট করতে গেলে নিজের অনিষ্ট হয় পরের অনিষ্ট চিন্তা করা পাপ।
পরের কথা লাথি চাপড়, নিজের কথা ভাত কাপড় পরচর্চা না করে নিজের কাজে মন দেওয়ার ইঙ্গিত।
পরের কাজটা পরে করি ধান্ধাবাজী।
পরের গাছের আমটি মিষ্টি। ঈর্ষাকাতরতা।
পরের ঘরে খায় দায়, আঠারো মাসে বছর যায় চিন্তাভাবনাহীন অপদার্থ।
পরের ঘি সহজে পেলে, প্রদীপ দেয় দুয়ারে মেলে হেলেফেলায় পরের দ্রব্য ব্যবহার।
পরের ঘোল খাবার লোভে নিজের গোঁফ কামায়। লোভীর চরিত্র।
পরের ছেলে খায় এতটা, বেড়ায় যেন বাঁদরটা; নিজের ছেলেটি খায় এতটি, বেড়ায় যেন লাটিম্‌টি। পরের কিছুই ভালো নয়, নিজের সব কিছুই ভালো।
পরের ছেলে মোটাই/হাঁদাই/পরের ছেলের বুদ্ধি কম পরের ছেলের সবকিছু মন্দ।
পরের ছেলেয় বরের বাপ চালবাজি।
পরের জন্য গর্ত খোঁড়ে, নিজেই তাতে পড়ে মরে/ পরের জন্য ফাঁদ পাতে, আপনি পড়ে মরে তাতে/ পরের দুধে দিয়ে ফুঁ, পুড়িয়ে এলেন নিজের মু পরের ক্ষতি/মন্দ করতে গেলে নিজের ক্ষতি/মন্দ আগে হয়।
পরের দুঃখ কেউ বোঝে না আত্মসর্বস্বতা।
পরের ধন ও নিজের বুদ্ধি কেউ কম দেখে না বিচারে এড়া।
পরের ধনে পোদ্দারি লোকে বলে লক্ষ্মীশ্বরী পরের সম্পদ রক্ষার দায়িত নিয়ে নিজেই সেই সম্পদ ভো্গ করে লাটসাহেবি।
পরের পিঠে বড় মিঠে/পরের বাড়ির পিঠা খাইতে বড়ই মিঠা (খনা) দূরের জিনিষ বড়ই আদরের।
পরের মন আঁধার কোণ পরেরটা ভালো নয়; একদেশদর্শিতা।
পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙে নিজের গোঁফে তেল অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করা।
পরের মুখে ঝাল খাওয়া নিজে না বুঝে অন্যের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করা।
পরের লেজে পড়লে পা তুলো পানা ঠেকে, নিজের লেজে পড়লে পা ক্যাঁক করে ওঠে। পরের স্বার্থে সহজে নাক গলায়; নিজের স্বার্থে লাগলে ক্ষিপ্ত হয়।
পরের সুখ কাড়তে যেও না নিজের সুখ হারিয়ে যাবে পরের ক্ষতি করতে নজের ক্ষতি হয়।
পরের সোনা দিও না কানে, কেড়ে নেবে হ্যাঁচকা টানে পরের টাকা পয়সায় বাবুগিরি করা অনুচিৎ।
পরের হাতে ধন, পেতে অনেকক্ষণ/পরের হাতে ধন, যেতে কতক্ষণ পরের দায়িত্বে টাকাপয়সা থাককে সেটা গেছেই ধরে নিতে হবে।
পরোক্ষে কার্যহন্তারং প্রত্যক্ষে প্রিয়বাদিনম। বর্জয়েৎ তাদৃশ্যং বন্ধুং বিষকুম্ভং পয়োমুখম্‌॥ যে বন্ধু সামনে মিষ্টিকথা বলে আর পিছনে ক্ষতি করে তার মনে বিষ ও মুখমিষ্ট; এমন বন্ধু পরিত্যাজ্য।
পর্বত মহম্মদের কাছে না গেলে মহম্মদ পর্বতের কাছে যাবে উপকৃত না আসলে উপকারীই উপকৃতের কাছে যাবে এই অর্থে প্রবচনটি ব্যবহৃত হয়।
পর্বতো বহ্নিমান্ ধুমাৎ ধোঁয়া থাকলে আগুন আছে; কাজের পিছনে কারণ থাকে;
পহেলে দর্শনধারী, পিছে গুণবিচারী আগে রূপ আকর্ষণ করে; গুণের বিচার তারপর।
পাঁকের মাঝে পদ্ম ফোটা নির্গুণের ঘরে গুণী সন্তান।
পাঁচজনে মিলেমিশে থাকলে দুঃখ অনুভূত হয় না একাকীত্ব দুঃখের প্রথম উৎস।
পাঁচদিন চোরের একদিন গৃহস্থের/সাধুর অন্যায়ের শাস্তি একদিন আছেই।
পাঁচ নকলে আসল খাস্তা, সাত নকলে আসল ভেস্তা কয়েকটি নকল ঠিক আছে; বহু নকল করতে গেলে মূল হারিয়ে যায়।
পাঁচ পাগলের ঘর, খোদায় রক্ষা কর সংখ্যাধিক্য কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার বাধাস্বরূপ।
পাঁশ (=ছাই) পেড়ে কাটি, যাতে ভুঁয়ে না রক্ত পড়ে ক্রোধের অভিব্যক্তি; খুব রাগের গালি।
পা ঢাকে তো (চাদরে) মাথা ঢাকে না অপ্রতুলতা, কৃচ্ছতা।
পা পিছলে পড়ে যাওয়া লজ্জার নয়, সময়মত উঠতে না পারাটা লজ্জার- আরবী প্রবাদ অক্ষমতা. দৈন্যতা প্রকাশ পায়।
পা রাখার জায়গা না দেখে/পেলে পা তুলো না ভেবেচিন্তে কাজ করার উপদেশ।
পা না ভিজল যার, বড় কৈমাছটা তার পরের পরিশ্রমের ফলে ভাগদারীর অন্যায় দাবি।
পা বড় না পেট বড়? পা চলে বলে অন্ন জোটে, না অন্ন জোটে বলে পা চলে? অমিমাংসিত দ্বন্দ্ব।
পাইলাম থালে, দিলাম গালে; পাপ নাই তার কোন কালে মালিকানাহীন জিনিস যে পাবে তার।
পাকলে ডুমুর পড়ে মরে পাকা ডুমুর কোন কাজে লাগে না, এই অর্থে- বৃদ্ধলোকের দাম নেই।
পাকা আম দাঁড়কাকে খায় অযোগ্যের উত্তম সামগ্রী ভোগ করা দেখে খেদোক্তি।
পাকা ধানে মই দেওয়া সুসম্পাদিত কাজ পণ্ড করা।
পাকা লোক ফাঁকা কথায় ভোলে না চালাককে বোকা বানানো যায় না।
পাখির প্রাণ অল্পেই যান ক্ষীণজীবী সহজে কাবু হয়।
পাগল কি গাছে ফলে, আক্কেলেতে পাগল বলে বে-আক্কালে লোকগুলিই পাগলামি করে।
পাগলা ভাত খাবি, না হাত ধোব কোথায়? সেয়ানা পাগল।
পাগলা সাঁকো নাড়িস নে, ভাল মনে করে দিয়েছিস পাগলকে সাঁকো নাড়ারে বারণ করলে সে ঘনঘন নাড়ে আর জোরেহোরে সাঁকো নাড়ায়।
পাগলা নাও ঝুলাইস/দোলাস না; কী–আমি তো বাতায় খাড়া। সেয়ানা পাগল।
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায় বুদ্ধিহীনেরা যৌক্তিকতার ধার ধরে না।
পাগলের গোবধে আনন্দ এড়ালোক অন্যায় কাজ করেও আনন্দ পায়।
পাঠান মুঘল হদ্দ হল, ফারসি পড়ে তাঁতি কঠিন কাজে অর্বাচীনের আগবাড়ানো দেখে বক্রোক্তি।
পাথর জলে হাজার বছর ডুবে থাকলেও রসসিক্ত হয় না নির্গুণ কখনো গুণী হয় না।
পাথর পচে না; পাথরে ঘুণ ধরে না; পাথরে মরচে পড়ে না যার কোন গুণ নাই তার গুণ নষ্ট হয় না; মুর্খের বুদ্ধিনাশ হয় না।
পাথরে লেখা মোছে না পরিশ্রমের ফল বৃথা যায় না।
পাদপানাং ভয়ং বাতাৎ পদ্মানাং শিশিরাদ্ভয়ম্। পর্বতানাং ভয়ং বজ্রাৎ সাধূনাং দুর্জনাদ্ভয়ম্॥ (চাণক্য) বৃক্ষের ভয় ঝড়কে, পদ্মের ভয় শীতকালকে, পর্বতের ভয় বজ্রকে আর সজ্জনের ভয় দুর্জনকে।
পানাপুকুরে ডুবে মরে অসর্কতায় সামান্য ভুল করে।
পানিতে কুমির ডাঙায় বাঘ দুদিকেই বিপদ, রক্ষার কোনো পথ নেই; উভয়সঙ্কট।
পান্তা ভাত ফুঁ দিয়ে খায় অতি সতর্কতা।
পান্তাভাতে নুন জোটে না, গরমভাতে/বেগুনপোড়ায় ঘি অবস্থার অতিরিক্ত আশা করা; অযৌক্তিক আবদার।
পাপ কত ছোট দেখো না, দেখো যাঁর অবাধ্যতা করছ তিনি কত বড়- আরবী প্রবাদ। বড়র বেশি করে শাস্তি পাওয়া উচিৎ।
পাপ ছাড়া সব কাজই ছোট আকারে শুরু হয় পাপমাত্রই অতি ঘৃণ্য।
পাপ বাপকেও ছাড়ে না পাপ করলে শাস্তি পেতেই হবে।
পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয় পাপ ঘৃণ্য, পাপী নয়।
পাপীদের দেখে জীবন কি জানা যায় গাঢ় অন্ধকারে থেকে বোঝা যায় আলোর মূল্য কি।
পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায় অসৎ পথে উপার্জিত ধন কুপথে নষ্ট হয়।
পার (খাল) হ’লে পাটনি শালা জেনেবুঝে উপকারীর ঋণ অস্বীকার করা।
পারা (=পারদ) আর পাপে কার সাধ্য চাপে পাপ কখনো লুকানো যায় না।
পালাতে না পেরে মোড়লের বেহাই কৌশলে কার্যোদ্ধার।
পাহাড়ের আড়ালে থাকা ভাল অভিভাবকের রক্ষণে থাকা ভালো যাতে কোন আঁচ না লাগে।
পাহাড়ের চূড়ায় চড়ো না তাহলে চূড়া থেকে তুমি নীচের সকলকে ছোট দেখবে আর নীচের সকলে তোমাকেও ছোট দেখবে- আরবী প্রবাদ খুব বড় হতে হবে না আবার খুব ছোট হতে হবে না। উভয়ক্ষেত্রেই সকলের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হবে।
পাহাড়ের চূড়ায় যে প্রথম চড়ে সে যেখানে খুশি বসতে পারে ষ্রেষ্ঠত্বের অনেক সুবিধা।
পাহাড়ের চূড়ায় মাত্র কয়েকজনই চড়ে শ্রেষ্ট হওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার; খুব অল্পজনই তা পারে।
পাহাড়ের মতই পুরাতন অতিপ্রাচীন।
পিঁপড়ে যত ক্ষুদ্রই হোক তার সব জীবনদায়ক অঙ্গ আছে- চীনা প্রবাদ ক্ষুদ্রকে অবজ্ঞা করতে নেই।
পিঠা খায় মিঠার জোরে যা মিষ্টি তাই উপাদেয়।
পিঠে বলো মিঠা বলো, ভাতের বাড়া নাই; পিসি বলো মাসি বলো, মার বাড়া নাই যেমন ভাতের সাথে অন্য কোন খাদ্যের তূলনা চলে না তেমনি স্তান কেউ নিতে পারে না।
পিঠে বেঁধেছি কুলো, কানে দিয়েছি তুলো নির্বিকার, কোনকিছুতে ভ্রুক্ষেপ নেই।
পিন্ডি পায় না, কেত্তন চায় অবস্থার অতিরিক্ত বাসনা; আহ্লাদী আবদার।
পিতলের সরা জাঁকে ভরা উৎকৃষ্টের গুমর।
পিতা রক্ষতি কৌমারে, ভর্তা রক্ষতি যৌবনে। পুত্রশ্চ স্থবিরে ভাবে, ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি॥ (চাণক্য} বাল্যে পিতার, যৌবনে ভর্তার এবং বার্ধক্যে পুত্রের অধীনে নারী থাকিবেন স্ত্রীগণের পক্ষে যথেচ্ছচারী হওয়া অনুচিত।
পিতলের কাটারি কাজে নেই ধার, ঝকমকই সার ফুলবাবুরা কাজে নিকম্মা, একেবারে মাকাল ফল।
পিতাঃ স্বর্গ, পিতাঃ ধর্মঃ পিতা হিঃ পরমন্তপঃ। পিতরি প্রিতিমাপন্ন্যে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা॥ (চাণক্য) পিতা স্বর্গসমান, পিতা ধর্মসমান, পিতাই একমাত্র পরমপূজ্য; পিতা খুশী হলে সকল দেবতারা খুশী হন।
পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে ধ্বংসের আগে অনেকের বাড় বাড়ে; বাড়াবাড়ি হলে সর্বনাশ হয়।
পিরিতি কাঁঠালের আঠা ধরলে পরে ছাড়ে না জগত প্রেমময়; একবার প্রেমে পড়লে সবাই জোয়ারে ভাসে।
পিরিতি গাছের ফল নয়, যেখান সেখানে মেলে না খাঁটি প্রেম সহজলভ্য নয়।
পীত্বা রসং তু কটুকং মধুরং সমাননম্‌, মাধুর্য্যমেব জনয়ন্মধুমক্ষিকাসৌ।সন্তস্তথৈব সমসজ্জনদুর্জনানাং শ্রুত্বা বচো মঘুরসূক্তরসং সৃজন্তি॥ (চাণক্য) মৌমাছি যেমন কটু বা মধুর রস পান করে মধুর রসই প্রদান করে তেমনই সদব্যাক্তিরা সজ্জন ও দুর্জন,উভয়ের কথা শ্রবণ করে মাধুর্যযুক্ত বাক্য সৃজন করে থাকেন।
পুঁজি নেই তার পাঁজি আছে আচারসর্বস্ব।
পুত্রপ্রয়োজনা দারাঃ পুত্রঃ পিণ্ড প্রয়োজনঃ। হিতপ্রয়োজনং মিত্রং ধনং সর্বপ্রয়োজনম্॥ (চাণক্য) পুত্রের জন্য স্ত্রী চাই; পিণ্ডদানের জন্য পুত্র চাই; হিতের জন্য বন্ধু চাই; সবকিছুর জন্যই চাই ধন
পুনর্মূষিকো ভব যা ছিলে আবার তাই হও।
পুরানো চাল ভাতে বাড়ে পুরানো জিনিসের কদর/গুণ বেশি।
পুরানো বন্ধু ও পুরানো মদ সর্বোৎকৃষ্ট পুরানো জিনিস সোনার সমান।
পুরানো বন্ধুর চেয়ে ভাল আয়না হয় না পুরানো বন্ধুর কাছে সব ভালো জিনিষ শেখা যায়।
পুস্তকস্থা তু যা বিদ্যা পরহস্তগতং ধনম্। কার্যকালে সমুৎপন্নে ন সা বিদ্যা ন তদ্ধনম॥ (চাণক্য) বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একইরকম। প্রয়োজনকালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়
পূজায় মন নেই, নৈবিদ্যে চোখ বামুনের কপট আচারের প্রতি বক্রোক্তি।
পূজার সঙ্গে খোঁজ/যোগ নেই, কপালজোড়া ফোঁটা ভড়ংসর্বস্ব যজমানে বামুন।
পূণ্যস্য ফলমিচ্ছন্তি পূণ্যং নেচ্ছন্তি মানবাঃ। ন পাপফলমিচ্ছন্তি পাপং কুর্বন্তি সর্বতঃ॥ (চাণক্য) মানুষ পূণ্যকর্মের ফল চায়, কিন্তু পুণ্যকর্ম করতে চায় না; সর্বত্র পাপকর্ম করে বেড়ায়।
পূণ্যকর্ম পুরস্কারের অপেক্ষায় থাকে না কর্মই তার পুরস্কার।
পুত্রভাগ্যে যশ ভরে; কন্যা ভাগ্যে লক্ষ্মী ঘরে- (খনা) সুপুত্রে পরিবারের সুনাম বাড়ে; কন্যারত্ন লক্ষ্মীর সমান।
পূবে হাঁস, পশ্চিমে বাঁশ; উত্তরে কলা, দক্ষিণে খোলা (খনা) বাড়ীর পূর্বদিকে পুকুর, পশ্চিমদিকে বাঁশঝাড়, উত্তরদিকে কলাবন ও দক্ষিণদিক খোলা থাকবে।
পূর্ণকুম্ভো ন করোতি শব্দম্ ভরা কলসির আওয়াজ নেই; জ্ঞানীব্যক্তি বিদ্যার বড়াই করে না।
পূর্ব আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়; সেই বছরে বন্যা হয় (খনা) আষাঢ়মাসে পুবদিকে থেকে দখিনা বায়ু বইতে থাকলে সে বছর অতিবৃষ্টি হবে।
পেট একখান আর মুখ একখান/ পেটে এক মুখে এক বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, ভাবে এক আর বলে এক।
পেট জ্বলে ভাতের তরে, সোনার আংটি হাতে পরে অভাব লুকোতে বাবুগিরি
পেটে কালির আঁচড় নেই অক্ষরজ্ঞানশূন্য; পেটে বিদ্যা নেই।
পেটে আসে তো মুখে আসে না বুঝলেও বলতে না পারা।
পেটে খিদে মুখে লাজ ইচ্ছা আছে প্রকাশে লজ্জা।
পেটে খেলে পিঠে সয় প্রাপ্তি হলে পাওয়ার কষ্ট স্বীকার করা যায়।
পেটে দড়ি বেঁধে পড়ে আছে দীর্ঘদিন অন্নের কোন সংস্থান নেই।
পেটে নাই বিদ্যার অংশ ক অক্ষর গোমাংস মহামূর্খ।
পেটে বোমা মারলেও কিছু বের হবে না পেটে বিদ্যা নেই।
পেটের আগুনে বেগুন পোড়ে প্রচণ্ড খিদে।
পেটের বাছা বাড়ির গাছা (গাছগাছালি) উভয়ই কল্যাণপ্রদ।
পেটের ভাত চাল হল খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
পেটের ভাত হজম না হওয়া নানাকারণে ছটফট করা
পেটের ভিতর হাত পা সেঁদিয়ে যাওয়া প্রচণ্ড ভয়ে সঙ্কুচিত হওয়া
পেরেকের মাথায় আঘাত করা সঠিকস্থানে ঘা দেওয়া।
পেশীশক্তি থেকে বুদ্ধিশক্তি বেশি বলবান পেশী ও বুদ্ধির লড়াইয়ে বুদ্ধির জয় নিশ্চিত।
পৈতা পুড়িয়ে ব্রহ্মচারী/সন্ন্যাসী ভেক সন্নাসী।
প্রকৃত বন্ধুরা তারার মত, তাদের সবসময় দেখা যায় না, কিন্তু তারা সবসময় আকাশে থাকে- আরবী প্রবাদ প্রকৃত বন্ধুরা নিঃশব্দে আড়ালেই থাকে।
প্রচ্ছদ রেখে বইয়ের বিচার করো না বাহ্যিক আচার-ব্যবহার দেখে মানুষ চেনা যায় না।
প্রতারণা মিথ্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর প্রতারণায় উপরচালাকি, দুরভিসন্ধি থাকে।
প্রতি-আক্রমণই আত্মরক্ষার প্রকৃষ্ট উপায় আগ্রাসন মনে শক্তি যোগায়।
প্রতিকারের উপায় না থাকলে সহ্য করতে হয় টিকে থাকতে এ ছাড়া উপায় নেই।
প্রতিটি অর্জনের সাথে আমাদের একটু একটু করে ক্ষয় হয় অর্জন থাকলে বিসর্জনও আছে; বয়স বাড়লে আয়ু কমে।
প্রতিভাবানেরা চুপ থাকতে ভালবাসে; অন্যেরা তাদের অজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে। জ্ঞনীর প্রচার লাগে না; অজ্ঞানী জাহির করতে গিয়ে নিজের অজ্ঞতা প্রচার করে।
প্রতিভাবানেরা সঙ্গত খোঁজে একমাত্র প্রতিভাবানেরাই প্রতিভাবানদের চিনতে ও বুঝতে পারে।
প্রতিভাবানেরা সমস্যা প্রতিরোধ করে; বুদ্ধিমানেরা সমস্যার সমাধান করে; অজ্ঞানেরা সমস্যা সৃষ্টি করে। যে যার কাজ নিজের পছন্দমত বেছে নেয়।
প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব খেলনা ঘোড়া থাকে- চীনা প্রবাদ প্রত্যেকেরই নিজস্ব পছন্দের বিষয় থাকে।
প্রত্যেক মেঘের একটা রূপালী আস্তরণ থাকে প্রত্যেক মন্দের একটি ভালো দিক আছে।
প্রথমদর্শনে মানুষকে বিচার করা যায় না মানুষ চিনতে সময় লাগে।
প্রথমে নার্জিতা বিদ্যা দ্বিতীয়ে নার্জিতং ধনম্। তৃতীয়ে নার্জিতং পুণ্যং চতুর্থে কিং করিষ্যতি॥ যিনি জীবনের প্রথমভাগে (বাল্যে) বিদ্যার্জন করেননি, দ্বিতীয়ভাগে (যৌবনে) ধন অর্জন করেননি,তৃতীয়ভাগে (প্রৌঢ়ত্বে) পুণ্যার্জন করেন নি, তিনি চতুর্থভাগে (বার্ধক্যে) আর কী করবেন?
প্রদীপের কোলেই/নীচেই অন্ধকার ভালো ও মন্দের সহাবস্থান।
প্রফুল্ল হৃদয়ের সুন্দর মুখায়ব হয় মানসিক প্রশান্তির একটা আলগা সৌন্দর্য থাকে।
প্রবোধই প্রবোধয়ে সান্ত্বনাই শান্তি দেয়।
প্রয়োজন দৈত্যের সৌন্দর্যবোধ নেই প্রয়োজনে বিলাসিতার দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না।
প্রয়োজন সব আবিষ্কারের জননী সব আবিস্কারের পিছনে প্রয়োজন তাগিদ কাজ করে।
প্রয়োজনে নিয়ম নাস্তি প্রয়োজন শৃঙ্খলা মেনে আসে যায় না।
প্রেমেতে মজিলে মন, কিবা হাড়ি কিবা ডোম প্রীতিপ্রেমের পূন্যবাঁধন মানুষে মানুষে হয় জাতপাতে হয় না
পেটে খেলা পিঠে সয় কিছু লাভের আশায় দুঃখকষ্ট সহ্য করা যায়।
পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর একজায়গায় বসে সারা পাড়ার খবর রাখা।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ফকিরে ফকিরে ভাই ভাই, ফকিরের রাজত্ব সব ঠাঁই ফকির সর্বত্র সমাদ্রিত।
ফর্সা কাপড়ে মান বাড়ে পোষাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছন্ন হলে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
ফল ও ছায়াযুক্ত গাছকে আশ্রয় করতে হয় ফল পাওয়া না গেলেও ছায়া পাওয়া যাবেই।
ফল খেয়ে জল খায়; যম ডাকে আয় আয়- খনা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিষবৎ।
ফল দিয়ে ভাত খায় খোশগল্প।
ফলেন পরিচীয়তে গাছের পরিচয় তার ফলে।
ফাঁক পেলে সাধুও চুরি করে প্রলোভন এড়ানো খুবই কষ্টকর।
ফাঁকা আওয়াজে/বুলিতে কাজ আদায় মিষ্টিকথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে কাজ আদায়।
ফাঁকা কথায়/বুলিতে পাকা লোক ভোলে না মিষ্টিকথায় কাজ আদায় হয় না।
ফাঁকা কলসি বাজে বেশি সারশূন্য ব্যক্তির বাগাড়ম্বর বেশি।
ফাঁন্দে পড়িয়া বগা কান্দে বিপদে পড়ে নাজেহাল।
ফাটা কাঁসর বেসুরে বাজে মন্দলোকের বেয়াড়া কথাবার্তা।
ফুটনির মামা, ভিতরে কপনি উপরে জামা শুধু সাজসজ্জাই আছে ভিতর ফাঁপা।
ফুল তুলতে গেলে কাঁটা সইতে হয় কষ্টবিনা কেষ্ট নাই।
ফুলবাবুর ধরাচূড়াই সার শুধু সাজেই আড়ম্বর কাজের বেলায় ঢুঁ ঢুঁ।
ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যাওয়া সামান্য কষ্ট সইতে না পারা।
ফেন দিয়ে ভাত খায় গল্পে মারে দই দৈন্যতা লুকোবার জন্য আসলকথা গোপন রেখে মিথ্যাকথা বলা।
ফেলো কড়ি মাখ তেল, তুমি কি আমার পর? অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছাপূরণ।
ফোঁপরা ঢেঁকির চোপর বেশি কমজানা লোক বকে বেশি।
ফোতোবাবুর গালগল্প সার শুধু মুখেই ফুটুফুটানি কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
বই খুব ভালো সঙ্গী, উপদেশ দেয় কিন্তু মানতে বাধ্য করে না প্রকৃতবন্ধুর মত বই পাঠককে নিঃশব্দে সঙ্গ দেয়।
বই হল পকেটে নিয়ে ঘোরা আস্ত একটা ফুলবাগান- চীনাপ্রবাদ উভয়ই রূপ রস ও গন্ধে পরিপূর্ণ।
বইয়ে থাকা বিদ্যা আর পরের হাতে থাকা ধন সমান কথা প্রয়োজনকালে পাওয়া যায় না বলে কাজের নয়।
বকঃ পরমধার্মিকঃ; বকঃ পরমদারুণঃ রাম বলেন- বক পরমধার্মিক, সে মুনিঋষির মত একাগ্রচিত্ত; লক্ষণ বলেন, বক নিদারূণ, সে জ্যান্তমাছ গলাধঃকরণ করে।
বক হাঁসের দলে শোভা পায় না বিজ্ঞদের মাঝে অজ্ঞ শোভা পায় না।
বক্‌রা জান্‌সে গয়া, খানেওয়ালা স্বাদ নহি পায়া- হিন্দিপ্রবাদ অসন্তুষ্ট ব্যক্তি কখনো তুষ্ট হয় না
বকো আর ঝকো কানে দিয়েছি তুলো, মারো আর ধরো পিঠে বেঁধেছি কুলো নির্বিকার, পাত্তা দেয় না।
বগলে কাস্তে/ছাতা/পুঁথি দেশময় খোঁজে আপনখেয়ালী, কিছুই মনে রাখতে পারে না; ন্যালাভোলা।
বগলে ছুরি মুখে রামনাম মুখে মিষ্টি বুলি অথচ অন্তর বিষের থলি।
বচন রজতসম, নীরবতা হিরণ্ময় কথা রূপার সমান এবং নীরবতা সোনার সমান।
বচনে জগৎ তুষ্ট, বচনে জগৎ রুষ্ট কথাতেই মানুষ সন্তুষ্ট হয়; আবার কথাতেই মানুষ ক্রুদ্ধ হয়।
বচন থেকে কাজ অনেক বেশি কথা বলে কথা থেকে কাজের ওজন অনেক বেশি।
বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো ছোটখাট ব্যাপারে নিয়মের বাড়াবাড়ি কিন্তু বড় বিষয়ে উদাসীন।
বজ্রাদপি কঠোরাণি মৃদুনি কুসুমাদপি বজ্রের মত কঠোর, তৃণের মত কোমল।
বটবৃক্ষ নিরস পাথর থেকেও রস আহরণ করে বটবৃক্ষ হল রসিকচূড়ামণি।
বড় গাছেই ঝড় লাগে সংসারের ঝড়ঝাপটা বড়কেই সামলাতে হয়।
বড় গাছের তলায় বাস, ডাল ভাঙলেই সর্বনাশ আশ্রদাতা সঙ্কটে পড়লে বিপদের আশঙ্কা।
বড় জাহাজের গভীর জল চাই বিরাট কাজের জন্য বিরাট ক্ষেত্র চাই।
বড় বড় বানরের বড় বড় লেজ নামের চোটে গগন ফাটে।
বড় যদি হতে চাও ছোট হও তবে ব্যবহারে বিনীত লোক বেশি সমাদর পায়
বড়লোকের ভুরিভোজ থেকে গরীবের শাকান্ন ভাল ঐশ্বর্যের দেমাক থেকে অন্তরের টান অনেক বেশি গ্রহনীয়
বড়র পিরিতি বালির বাঁধ, খনে হাতে দড়ি, খনেকে চাঁদ বড় প্রেমপ্রীতি খামখেয়ালীয়ে ভর্তি থাকে
বড়লোকের খাদ্য আছে, ক্ষিদে নেই; গরীবের ক্ষিদে আছে, খাদ্য নেই- হিন্দি প্রবাদ অভাবের তুলনায় বড়লোকের অনেক বেশি সম্পদ আছে; গরীবলোক অভাবের জ্বালায় মরে।
বদরোগ সারানো যায়, বদনাম তাড়ানো যায় না কলঙ্ক একবার গায়ে লাগলে হাজার চেষ্টাতেও তা দূর হয় না
বদসঙ্গ থেকে নিঃসঙ্গতা ভালো অনেকসময় কিছু থাকার চেয়ে কিছু না থাকা অনেক ভালো।
বনগাঁয়ে শিয়াল রাজা অজ্ঞানীর দলে অল্পজ্ঞানীরা যথেষ্ট সম্মান পায়।
বন পোড়ে সবাই দেখে, মন পোড়ে কেউ না দেখে অন্তর্জ্বালা অন্তরেই চাপা থাকে।
বনের পশু ধরে আনা যায়, তার মন থেকে বন তাড়ানো যায় না বন্যপশু পোষ মানে না।
বনের পশু পোষ মানে প্রেমের বন্ধনে সবাইকেই বাঁধা যায়।
বন্ধমুখে মাছি ঢোকে না সতর্ক থাকলে ক্ষতি হয় না
বন্ধু চেও না শত্রু চাও যে তোমার ভুলগুলি ধরিয়ে দেবে
বন্ধুপ্রাপ্তি থেকে বন্ধু হারানো সহজ
বন্ধু হারানো থেকে ঠাট্টায় হেরে যাওয়া ভাল।
বন্ধুকেও বিশ্বাস করবে না, বন্ধু যদি কখনও ক্রুদ্ধ হয়, সমস্ত গুপ্তকথা প্রকাশ করে দিতে পারে
বন্ধুত্ব একবার ছিঁড়লে পৃথিবীর সব সুতো দিয়েও সেলাই হয় না
বন্ধুত্ব ছাতার মত, বৃষ্টি যত প্রবল হয় ছাতার তত বেশি প্রয়োজন হয়- আরবী প্রবাদ।
বন্ধুত্ব ছিন্ন করে অর্থ উপার্জন করতে যেও না বন্ধুত্বস্থাপন অর্থোপার্জনের প্রকৃষ্ট মাধ্যম- আরবী প্রবাদ।
বন্ধ্যা নারীর অন্ধ পুত্র চাঁদ দেখতে পায় পাগলের প্রলাপ।
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্দর।
বয়সে চুল পাকে, বুদ্ধি পাকে না যার ছয়ে হয় না তার ছিয়াত্তরেও হয় না।
বয়সের গাছপাথর নেই এত প্রাচীন যে সমকালীন গাছ বা পাথরও খুঁজে পাওয়া যায় না ভাবার্থে-বয়োবৃদ্ধ
বরমেকো গুণীপুত্রো ন চ মূর্খ শতান্যপি। একশ্চন্দ্রস্তমো হন্তি ন চ তারাগণা অপি।। (চাণক্য) শত মূর্খপুত্রের চেয়ে এক গুণীপুত্র বরং ভাল; এক চন্দ্র যে অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না
বরের ঘরের পিসি, কনের ঘরের মাসি উভয়দিকের স্বার্থ দেখে
বল বুদ্ধি ভরসা, তিন তিরিশে ফরসা বৃদ্ধবয়সের অসহায় অবস্থা।
বলং বলং বাহু বলং বাহুবলই একমাত্র পদবাচ্য।
বলদ থাকতে করে না চাষ, তার দুঃখ বারো মাস (খনা)
বলতে জানলে ঠকি না, বসতে জানলে উঠি না
বলবানপ্যশক্তোহসৌ ধনবানপি নির্ধনঃ। শ্রুতবানপি মূর্খোহসৌ যো ধর্মবিমুখ জনঃ।। (চাণক্য) ধর্মবিমুখ লোক- বলবান হয়েও দুর্বল; বিত্তবান হয়েও নির্ধন; বিদ্বান হয়েও মূর্খ।
বলা ও করা, সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন বিষয় বলা সহজ, করা কঠিন।
বললাম কথা সবার মাঝে, যার কথা তার গায়ে বাজে।
বলীর ঘাম, নির্বলীর ঘুম পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।
বসতে জায়গা পেলে, শোবার জায়গা মেলে একটু সুযোগ পেলে আরও সুযোগ চায়।
বসতে দিলে/পেলে শুতে চায় আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই, আত্মসর্বস্ব
বসুধৈব কুটুম্বম্‌ জগতজোড়া আত্মীয়
বসে খেলে কলসির জল ফুরিয়ে যায়
বসে খেলে কুলোয় না, করে খেলে ফুরোয় না
বহু সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট নানামতের চাপে আসল কাজ পণ্ড
বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া ঘটা করে শুরু, অল্পেতে শেষ
বাঁদরের/বানরের গলায় মুক্তার মালা যে ভালো জিনিসের কদর বা দাম বোঝে না তাকে ভালো বা দামি জিনিস দেওয়া।
বামন হয়ে চাঁদে হাত অতি ছোট ব্যক্তির বড় আকাড়া।
বামুন গেল ঘর তো লাঙল তুলে ধর উপযুক্ত তদারকির অভাবে নিযুক্ত কর্মীদের কাজে অবহেলা করা।
বিনা মেঘে বজ্রপাত হঠাৎ বিপদ উপস্থিত।
বিষ নাই কুলোপনা চক্কর ক্ষমতাহীন ব্যক্তির মৌখিক আস্ফালন।
বুদ্ধি যার বল তার যার বুদ্ধি আছে তার শক্তিও আছে।
বুদ্ধি যার যশ তার গায়ের জোরের চেয়্ব মেধার জোর বেশি।
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ বৃদ্ধ ব্যক্তির উন্মাদনা।
বেঁচে থাকলে বাপের নাম নিজেকে বাঁচানোই আগে দরকার, তারপর অব্য কথা।
বেল পাকলে কাকের কী উপভোগে অক্ষমব্যক্তির পক্ষে উৎকৃষ্ট বস্তুর প্রতি লোভ করা নিষ্ফল।
বোঝার ওপর শাকের আঁটি অনেক বোঝার উপর আরও কিছু চাপানো।
বিড়াল বনে গেলে বনবিড়াল হয় অবস্থার পরিবর্তন হলে, স্বভাবও পরিবর্তিত হয়।
বিড়াল বলে মাছ খাবো না এমন মিথ্যা যা মেনে নেওয়া যায় না

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
ভাঙবে তবু মচকাবে না মনের জোর থাকলে সংকল্প টলে না।
ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া বিনামূল্যে যা পাওয়া যায় তাতেই লাভ।
ভীমরুলের চাকে খোঁচা দেওয়া প্রতিশোধপরায়ণ জনমণ্ডলীকে উত্তেজিত করা।
ভূতের মুখে রামনাম স্বভাব বিরুদ্ধ কথা বা বাক্য, অসম্ভব ব্যাপার।
ভেড়ার গোয়ালে আগুন লাগা বিপদে প্রতিকারের চেষ্টা নেই অথচ কোলাহল করা হচ্ছে।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
মথ্যমানাদ্ভূমিস্তোয়ং খন্যমানা দদাতি। সোৎসাহানাং নাস্ত্যসাধ্যং নরাণাং মার্গারবদ্ধাঃ সর্বযত্নাঃ ফলন্তি॥ (চাণক্য) কাঠ ঘষতে ঘষতে যেমন আগুন বেড়োয় মাটি কাটতে কাটতে যেমন জল ওঠে তেমনই উৎসাহী ব্যক্তির অসাধ্য কিছুই নেই, কারণ যথাযথ উপায় অবলম্বন করলে সব চেষ্টাই ফলপ্রসূ হয়।
মরা হাতি লাখ টাকা শক্তিমানদের পতন ঘটলেও তাদের ব্যক্তিত্ব মর্যাদা বহন করে।
মশা মারতে কামান দার। সামান্য কাজে বড় আয়োজন।
মাছের তেলে মাছ ভাজা নিজে খরচপত্র না করে অন্যের উপর দিয়ে স্বার্থরক্ষা করা।
মাছের মায়ের পুত্রশোক মাছ তার বাচ্চা খেয়ে ফেলে, সেক্ষেত্রে তার পুত্রশোক অস্বাভাবিক।
মানুষ বনে গেলে বনমানুষ হয় বদসঙ্গে পড়লে শিক্ষার বুকৃতি ঘটে এবং তাতে সৎচরিত্রের মানুষ দুশ্চরিত্র হয়।
মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত সীমিত পরিধির মধ্যে বিচরণশীল মানুষ।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
যত গর্জে তত বর্ষে না আড়ম্বর অনুসারে কার্য হয় না।
যস্মিন দেশে যদাচার যে দেশে যে নিয়ম।
যাকে/যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা যাকে অপছন্দ তার প্রত্যেক কাজই ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়।
যার কর্ম তারে সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে যার যে-কাজ সে কাজ তাকেই মানায়, অন্যে করতে গেলে নানা বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়।
যার বিয়ে তার খোঁজ নেই পাড়াপড়শির ঘুম নেই অকারণে অতিউৎসাহ প্রদর্শন।
যার নুন খাই তার গুণ গাই উপকারীর উপকার করা।
যার লাঠি তার মাটি যার শক্তি আছে সে-ই দখল পায়।
যে করে চক্ষুদান, তারেই কর অপমান উপকারীর উপকার স্বীকার করার পরিবর্তে তাকে অপদস্থ করা।
যে যায় লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ ক্ষমতা লাভ করলে সবাই এক রকম হয়।
যে সয় সে রয় কষ্ট করলে বিনাশ নেই।
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয় সমস্যা থাকলে ঘুরেফিরে সে সমস্যার মধ্যেই জড়িয়ে পড়া।
যেমন কর্ম তেমন ফল যে যেমন কাজ করে, সে তেমন ফল ভোগ করে।
যেমন বুনো ওল, তেমনি বাঘা তেঁতুল যেমন কঠিন রোগ, তেমনি তীব্র ঔষধ।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
রথ দেখা কলা বেচা একসাথে দুইটি কাজ করা।
রাখে আল্লাহ/হরি তো মারে কে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে কেউ ধ্বংস করতে পারে না।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন চাহিবামাত্র যার কাছে টাকা পাওয়া যায় তার সম্পর্কে বলা।
লাথির ঢেঁকি চড়ে ওঠে না পদাঘাতের যোগ্য ব্যক্তি চড় খেয়েও কাজ করে না বা লঘু শাসন মানে না।
লেবু বেশি কচলালে তেতো হয় কোনো কার্যোদ্ধারের জন্য বারংবার অনুরোধ করলে বিরক্তি সৃষ্টি করা হয়।
লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু বেশি লোভ করলে পাপ হয় এবং পাপ করলে ধ্বংস অনিবার্য।
লোম বাছতে কম্বল উজাড় ভালো কিছু নির্বাচন করা কঠিন।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
শক্তের ভক্ত নরমের যম শক্তিমান লোকের কাছে বিনীত ও বাধ্য থাকে এবং দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে এমন।
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা জঘন্য অপরাধ গোপনের হাস্যকর চেষ্টা করা।
শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল দুষ্টের সহায়ক দুষ্ট লোক।
শুটকির নাওয়ের (নৌকার) বিলাই (বিড়াল) চৌকিদার
শুভংকরের ফাঁকি আসল কথা গোপন রেখে ছলনা করা
শেষ ভালো যার,সব ভালো তার সব খারাপ হয়েও যার শেষ ভালো সেই সফল হলো

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দেবো কোথা? সর্বত্র গলদ থাকলে দূর করা যায় না।
সস্তার তিন অবস্থা অল্পমূল্যের জিনিস খারাপ হয়।
সাপের পাঁচ পা দেখা অহঙ্কারে স্ফিত হয়ে ওঠা।
সাপের হাঁচি বেদেয় চেনে প্রকৃত চরিত্র অভিজ্ঞ ব্যক্তিই বুঝতে পারে।
সুখে থাকতে ভূতে কিলায় সুখের মর্যাদা না বুঝে স্বেচ্ছায় দুঃখ বরণ করা।

[সম্পাদনা]

প্রবাদ-প্রবচন অর্থ
হোঁচট খেয়ে পদ্মনাভ উল্টে পড়ে গিয়ে প্রণাম স্বীকার; কার্যগতিতে কোন ভালো কাজ করা
হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী অকর্মণ্য ব্যক্তির ততোধিক অযোগ্য দোসর।
হাটে হাঁড়ি ভাঙা গোপন কথা ফাঁস করে দেওয়া।
হাত ঝাড়া দিলে পর্বত ধনাঢ্য ব্যক্তির ধনাধিক্যের নিদর্শন।
হাত দিয়ে হাতি ঠেলা অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করার চেষ্টা করা।
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল বিজ্ঞরা যেখানে ব্যর্থ সেখানে নির্বোধের নাক গলানো।
হাতির পাঁচ পা দেখা অহঙ্কারী ব্যক্তির দাম্ভিক আচরণ।
হাতে নয় ভাতে মারা প্রহার না করে কেবল উপবাসী রেখে দুর্বল করা।
হাতে পাঁজি মঙ্গলবার সাথে সাথে প্রমাণ।
হাতেরও যাবে পাতেরও যাবে একূল ওকূল উভয় কূল হারানো।
হায়রে আমড়া কেবল আঁটি আর চামড়া বাইরে চাকচিক্য ভেতরে শূন্যতা

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]