বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট
প্রাতিষ্ঠানিক লোগো
সংক্ষেপেবিএলআরআই
গঠিত১৯৮৪
ধরনস্বায়ত্তশাসিত
আইনি অবস্থাসক্রিয়
সদরদপ্তরসাভার, ঢাকা
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলাইংরেজি
মহাপরিচালক
ড. শাকিলা ফারুক
প্রধান অঙ্গ
আঞ্চলিক কেন্দ্র-৬ টি
প্রধান প্রতিষ্ঠান
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
ওয়েবসাইটবিএলআরআই

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলােদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর অধীনে প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত একমাত্র জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার সাভারে অবস্থিত। ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য মৎস্য ও প্রাণিম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি পরিচলনা বোর্ড রয়েছে এবং মহাপরিচালক প্রধান নির্বাহী হিসাবে ইনস্টিটিউটের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।[]

ইতিহাস ও গঠন

[সম্পাদনা]

১৯৮৪ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত ২৮ নম্বর অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বিএলআরআই প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারে ৪৮৪.৬৮ একর জমিতে ১৯৮৬ সালে বিএলআরআই এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রণীত হয় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন। []

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

[সম্পাদনা]

বিএলআরআই এর প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে জাতীয় চাহিদার নিরিখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এছাড়াও এর অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহ হলো- গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে প্রাথমিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা; প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা এবং কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনে জাতীয় প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।

ইনস্টিটিউটের কর্মপরিধি

[সম্পাদনা]

বিএলআরআই এর প্রধান প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলিসমূহ হলো-

  • গবেষণার মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদের মৌলিক সমস্যা শনাক্তক্রমে উহার সমাধানের উপায় নির্ধারণ বা চিহ্নিত করা;
  • প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন প্রকার রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ এবং উহার চিকিৎসার জন্য উপযোগী পদ্ধতি উদ্ভাবন করা;
  • প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের উপর বিভিন্ন প্রকার ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট রোগ এবং উহাদের সংক্রমণ প্রভাব নির্ণয়ে ইপিডিমিওলজিক্যাল গবেষণা (Epidemiological Research) পরিচালনা করা;
  • প্রাণী এবং পোল্ট্রিতে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট রোগের বিষয়ে প্রাণীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত গবেষণা এবং রোগের যথাযথ প্রতিষেধক উৎপাদনের জন্য লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা;
  • দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক প্রাণিসম্পদের উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক পোল্ট্রির উন্নত জাত উদ্ভাবন করা;
  • প্রাণী খাদ্যের উৎপাদন এবং সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক উপজাত, উচ্ছিষ্ট ও অপ্রচলিত খাদ্য সামগ্রীর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা;
  • আপদকালীন সময়ে প্রাণিখাদ্য যোগানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণযোগ্য প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতকরণের কৌশল উদ্ভাবন করা;
  • প্রাণী হইতে মানুষে সংক্রমণযোগ্য রোগ এবং আন্তঃদেশীয় প্রাণিরোগ প্রতিরোধকল্পে গবেষণার মাধ্যমে উক্ত রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকারে মানসম্পন্ন টিকা উদ্ভাবন করা এবং এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে একস্বাস্থ্য (One health) বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা;
  • প্রাণিজপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে উহার পচন রোধ এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ও উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবন করা;
  • ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার এই দেশে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নূতন নূতন প্রযুক্তি, জ্ঞান উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করা;
  • প্রাণিসম্পদের উপর গবেষণালদ্ধ ফলাফল প্রয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা;
  • জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সংক্রান্ত সেমিনার, আলোচনা সভা বা কর্মশালা আয়োজন করা;
  • প্রাণিসম্পদ এবং উহা হইতে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় এবং প্রাণিজপণ্যের শ্রেণিবিন্যাসসহ উহা বাজারজাতকরণে উপযুক্ত পদ্ধতির উন্নয়ন করা;
  • প্রাণী বর্জ্যের প্রকৃতি ও বহুমুখী উপযোগিতা এবং বর্জ্যের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার উপরে গবেষণা পরিচালনাক্রমে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি উদ্ভাবন করা।

সাংগঠনিক কাঠামো

[সম্পাদনা]

বর্তমানে বিএলআরআই-এ ১০ (দশ) টি গবেষণা বিভাগ ও ১ (এক) টি সেবা ও সহায়তা বিভাগ, ০৫ (পাঁচ) টি গবেষণা কেন্দ্র এবং ০৫ (পাঁচ) টি আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। বিএলআরআই এর গবেষণা বিভাগসমূহ হলো-

১) প্রাণী উৎপাদন গবেষণা বিভাগ,

২) পোল্ট্রি উৎপাদন গবেষণা বিভাগ,

৩) প্রাণিস্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ,

৪) ছাগল উৎপাদন গবেষণা বিভাগ,

৫) ভেড়া উৎপাদন গবেষণা বিভাগ,

৬) মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগ,

৭) বায়োটেকনোলজি বিভাগ,

৮) আর্থ-সামাজিক গবেষণা বিভাগ,

৯) ফার্মিং সিষ্টেম রির্সাচ বিভাগ এবং

১০) প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি পরীক্ষণ বিভাগ।

অন্যদিকে বিএলআরআই এর গবেষণা কেন্দ্রগুলি হলো- ১) পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টার, ২) ডেইরি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, ৩) টান্সবাউন্ডারি এ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টার এবং ৪) জলবায়ুসহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উৎপাদন গবেষণা কেন্দ্র। এছাড়াও, ফরেজ রিসার্স সেন্টার নামক একটি গবেষণা কেন্দ্র ইতোমধ্যে বিএলআরআই এর পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে।

বতর্মানে বিএলআরআই এর পাঁচটি আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী, বান্দরবান জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলা, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা, ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এবং যশোর জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত। এছাড়াও সম্প্রতি নিলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় বিএলআরআই এর একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিএলআরআই এর বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তর এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের অধীনে পরিচালক, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ এবং সেবা ও সহায়তা বিভাগের কর্মকর্তাসহ প্রথম শ্রেনির মোট অনুমোদিত পদ সংখ্যা ১৬৬ টি। এছাড়াও বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের গবেষণা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৬১ জন সহায়ক কর্মচারীর পদ রয়েছে। বিএলআরআই এর শ্রেণিভিত্তিক অনুমোদিত পদ, কর্মরত জনবল ও শূন্য পদের হিসাব নিম্নরূপ-

পদের ধরণ মঞ্জুরীকৃত পদ সংখ্যা
১ম শ্রেণী ১৬৬
২য় শ্রেণী
৩য় শ্রেণী ১০৫
৪র্থ শ্রেণী ৪৯
মোট ৩২৭

বিএলআরআই এর গবেষণা ক্ষেত্রসমূহ

[সম্পাদনা]

কৃষক ও উদ্যোক্তাগনের চাহিদা, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা এবং বিএলআরআই এর কর্মদায়িত্ব বিবেচনা করে ইনস্টিটিউটের গবেষণা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদনের ০৬ (ছয়) টি প্রধান ক্ষেত্রের অধীনে গবেষণাগুলি সম্পাদিত হয়। এগুলো হলো-

ক) এনিম্যাল এন্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স

খ) ফিডস, ফডার এন্ড নিউট্রিশন

গ) এনিম্যাল এন্ড পোল্ট্রি ডিজিজ এন্ড হেলথ

ঘ) সোশিও-ইকোনোমিক এন্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ

ঙ) বায়োটেকনোলজি এন্ড ডেইরি রিসার্চ এবং

চ) ইনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স এন্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট

বিভিন্ন বিষয়ে চলমান প্রধান প্রধান গবেষণা কার্যক্রমসমূহ

[সম্পাদনা]

১) জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন

  • মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, তিতির কোয়েল, কবুতর অন্যান্য প্রজাতির নিউক্লিয়াস হার্ড ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচিত বাছাই পদ্ধতিতে কৌলিকমান উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো
  • জলবায়ু সহনশীল প্রাণী ও পোল্টি জাত উন্নয়ন
  • দেশি মহিষের জাত উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অতি সম্প্রতি ভারত হতে ৮৭ টি বিশুদ্ধ মুররাহ জাতের মহিষ আমদানি করা হয়েছে

২) খাদ্য ব্যবস্থাপনা

  • স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে অঞ্চলভিত্তিক রেশন ফরমুলেশন
  • দেশি উচ্চ ফলনশীল ফডার জাত চিহ্নিতকরণ ও পুষ্টিমান মূল্যায়ন এবং অধিক উৎপাদনশীল ফডার জাত/ভ্যারাইটি উন্নয়ন/অভিযোজন
  • স্বল্প খরচে ফডার ভিত্তিক টিএমআর/কম্পিলিট ফিড উন্নয়ন

- বিএলআরআই এর উন্নয়নকৃত পদ্ধতিতে একজন খামারি খুব সহজভাবে নিজের চারপাশে পাওয়া যায় এমন ঘাস/রাফেজ ব্যবহার করে নিজের বাড়িতেই টিএমআর তৈরি করতে পারেন। উক্ত টিএমআর খাওয়ালে গবাদি প্রাণীর উৎপাদন খরচ ২৫-৩০% হ্রাস পায়। অন্যদিকে গবাদি প্রাণীর দুধ উৎপাদন ২০% বৃদ্ধি পায়; গরু হৃষ্টপুষ্টকরণের ক্ষেত্রে মাংস উৎপাদন ১.৫ গুণ এবং খাসি হৃষ্টপুষ্টকরণের ক্ষেত্রে মাংস উৎপাদন ২ গুণ বৃদ্ধি পায়।

  • লবণ ও খরাসহিষ্ণু নেপিয়ার ফডার ভ্যারাইটি উদ্ভাবন
  • খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহিষের দুগ্ধ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি

৩) জীব-প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা

  • দেশি জাতসমূহের ফ্রোজেন সিমেন উৎপাদন এবং সংরক্ষণ কৌশল উন্নয়ন
  • জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে সহনীয় মাত্রার অক্সালেট সমৃদ্ধ অধিক উৎপাদন ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন নেপিয়ার ফডার উৎপাদন
  • পোল্ট্রি খামারে দুর্গন্ধ নিরাময়ে উত্তম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নয়ন (ফাইটেজ এনজাইম ও Trichoderma Spp.)
  • ইস্ট্রাস সিনক্রোনাইজেশন ও ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিষের কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন

৪) প্রাণিস্বাস্থ্য ও রোগ ব্যবস্থাপনা

  • বাংলাদেশে বিরাজমান এফএমডি ভাইরাস এর স্থানীয় স্ট্রেইন ব্যবহার করে মাল্টি ভ্যালেন্ট ভ্যাক্সিন উদ্ভাবন
  •  Inclusion Body Hepatitis (IBH) প্রাদুর্ভাব, জীবন রহস্য উন্মোচন, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা উদ্ভাবন
  • প্রাণীর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রশমন
  • প্রাণী খাদ্যে বিষাক্ত লেড এর প্রভাব নিরূপণ
  •  সংক্রামক রোগের দমন কৌশল উদ্ভাবন (Bovine Viral Diarrhea/Bovine Ephemeral Fever)
  •  উত্তম খামার চর্চার মাধ্যমে খামারের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

৫) ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্য উৎপাদন

  • গরু ও ছাগলের চামড়া থেকে জেলাটিন উদ্ভাবন এবং ব্যবহার
  • কম কোলেস্টেরলযুক্ত নিরাপদ দুগ্ধ ও দুগ্ধপণ্য তৈরি
  • ছানার পানি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ “Whey Drinks” তৈরি

৬) জলবায়ু অভিঘাত সংক্রান্ত গবেষণা

  • গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পরিমাপে আইপিসিসি (২০১৯) এর টায়ার-২ পদ্ধতি অভিযোজন
  • জলবায়ু সহিষ্ণু শস্যসমূহকে গোখাদ্য হিসাবে ব্যবহার উপযোগীকরণ
  • স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদনশীল গরু, মহিষ ও পোল্ট্রির তাপজনিত পীড়ন প্রশমনের কৌশল উদ্ভাবন
  • উপকূলীয় ও খরাপ্রবণ এলাকায় জলবায়ুসহিষ্ণু টেকসই পশু পালনে IoT নির্ভর 4F মডেল

৭) আর্থ-সামাজিক ও কমিউনিটি লেভেল কার্যক্রম

  • প্রযুক্তি পল্লীর মাধ্যমে বিএলআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহের অভিযোজন
  • প্রাণিসম্পদ খাতের ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন
  • পোস্ট হারভেস্ট ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ
  • কমিউনিটিভিত্তিক নারী উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে বিএলআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহের অভিযোজন ও বিস্তার
  • তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সুবিধা প্রদান

ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার সুবিধাসমূহ

[সম্পাদনা]

উন্নতমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য বিএলআরআইরত বর্তমানে ছোট-বড় ৩০ (ত্রিশ) টি অত্যাধুনিক গবেষণাগার রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • আ্যনিম্যাল নিউট্রিশন গবেষণাগার,
  • ভাইরোলজি ও ব্যাকটেরিওলোজি গবেষণাগার,  
  • ভ্যাকসিন সিড ডেভেলপমেন্ট গবেষণাগার,
  • রিপ্রোডাকশন বায়োটেকনোলজি গবেষণাগার,
  • ডেইরি মাইক্রোবায়োলজি গবেষণাগার ও
  • মিট প্রসেসিং গবেষণাগার ইত্যাদি।

এছাড়াও বিএলআরআই এ ৩ (তিন) টি স্বীকৃত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণাগার রয়েছে, এগুলো হলো-

১) ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ফর এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা,

২) সার্ক রিজিওনাল লিডিং ডায়াগনোস্টিক ল্যাব ফর পিপিআর এবং

৩) ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি (রিসার্চ) অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স

সংরক্ষিত জার্মপ্লাজম ও ফডার ব্যাংক

[সম্পাদনা]

বিএলআরআই এ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও পোল্ট্রির বিভিন্ন ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উন্নতমানের বিজ্ঞানসম্মত বিভিন্ন গবেষণা খামার রয়েছে। এসব খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৭৫ টি প্রাণী ও পোল্ট্রি জাত/ভ্যারিইটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে ফডার চাষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি ৫৫টি ফডারের জাত সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

যৌথ গবেষণা

[সম্পাদনা]

বিএলআরআই এর গবেষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি সহযোগিতাসহ যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণা ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সাথে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএলআরআই জাইকা, ইউএস-এইড, এফএও, আইএইএ, কইকা, ইসএসএআইডি, এসিডিআই-ভোকা, ইউএস-সিডিসি, সার্ক, আইএলআরআই, রয়াল ভেটেরিনারি কলেজ-যুক্তরাজ্য এবং AFACI-দক্ষিণ কোরিয়া, ইউকেআরআই প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা এবং কেজিএফ, বাস-ইউএসডিএ, জলবায়ু ট্রাস্ট ইত্যাদিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে।

পাইলটিং কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

বিএলআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতারভিত্তিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন অংশীজন যেমন লালতীর, ব্র্যাক, আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেড, প্ল্যানেট এগ্রো, প্যারাগন গ্রুপ লিমিটেড, জিটি মরিঙ্গা প্রাইভেট লিমিটেড, ইয়ন-বায়োসায়েন্স প্রভৃতির নিকট ইতোঃপূর্বে বিভিন্ন প্রযুক্তি ‍এবং উন্নয়নকৃত জার্মপ্লাজম হস্তান্তর/সরবরাহ করা হয়েছে।

বিএলআরআই এর উল্লেখযোগ্য অর্জন

[সম্পাদনা]

বিএলআরআই এর যাত্রা শুরুর সময় থেকে অদ্যবধি প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন, প্রাণিস্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মোট ৯৫টি প্রযুক্তি ও প্যাকেজ উদ্ভাবন করেছে। বিএলআরআই উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক পালন কৌশল উদ্ভাবন
  • গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রযুক্তি
  • ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র (ইউএমএস) ও ঘাস সংরক্ষণে সাইলেজ প্রযুক্তি এবং
  • বিএলআরআই লেয়ার-১ (শুভ্রা) ও বিএলআরআই লেয়ার -২ (স্বর্ণা) নামক ডিমপাড়া মুরগি উদ্ভাবন
  • উচ্চ ফলনশীল ঘাসের জাত নেপিয়ার ১, ২, ৩ ও ৪ উদ্ভাবন
  • গবেষণাগারে ভ্রূণ উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন
  • এফএমডি, পিপিআর, এলএসডি সহ বিভিন্ন প্রাণী রোগের ভ্যাকসিন সিড উদ্ভাবন
  • ক্ষুরারোগ ও পিপিআর রোগের কৌশলগত দমন পদ্ধতি উদ্ভাবন
  • খামার বর্জ্য হতে বায়ো-বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বায়োস্লারি হতে উন্নত জৈব সার উদ্ভাবন ইত্যাদি।

বিএলআরআই এর সাম্প্রতিক অর্জন

[সম্পাদনা]
  • গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজের (LSD) ভ্যাকসিন এবং মুরগির জন্য এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (A/H9N2) ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন
  • আরসিসি, হিলি চিকেন এবং গয়ালের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং
  •  বিএলআরআই মিট চিকেন-১ (সুবর্ণ) উদ্ভাবন
  • লবণসহিষ্ণু ঘাসের জাত বিএলআরআই ঘাস-৫ উদ্ভাবন
  • বিএলআরআই গবেষণালব্ধ ফলাফলের মাধ্যমে রেড চিটাগাং ক্যাটেল (RCC) কে জাত হিসাবে ঘোষণা

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক নিম্নলিখিত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে-

ক্রমিক নং প্রকল্পের নাম বাস্তবায়নকাল ব্যয় (লক্ষ টাকা)
পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত) জুলাই, ২০১৯ – জুন, ২০২৬ ১৩৪০০.০০
মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) জুলাই, ২০২০ – জুন, ২০২৬ ৭২১১.০০

নাগরিক সেবাসমূহ

[সম্পাদনা]

নাগরিকবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হিসেবে নিয়মিতভাবে বিএলআরআই হতে পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি বিএলআরআই উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফডার কাটিং বিতরণ, বিএলআরআই উদ্ভাবিত/ উন্নয়নকৃত মুরগি, হাঁস ও কোয়েলের বাচ্চা এবং হ্যাচিং ডিম বিতরণ, উন্নত জাতের ছাগল ও ভেড়ার প্রজনন পাঠা বিতরণ, খামারি ও উদ্যোক্তাগণকে প্রাণী ও পোল্ট্রি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রাণী খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা/পুষ্টিমান বিশ্লেষণ প্রভৃতি সেবা প্রদান প্রদান করা হয়ে থাকে।

বিগত তিন বছরে ২৭৫৬ জন খামারি/উদ্যোক্তাকে বিএলআরআই হতে কারিগরি পরামর্শ প্রদান ও ৩২১০ জন খামারিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি খামারি/উদ্যোক্তাদের মাঝে মুরগি/হাঁস/কোয়েলের ১২,৬৭৬ টি হ্যাচিং ডিম ও ১৯,৩৩০ টি বাচ্চা বিরতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৪৫ লক্ষ ঘাসের কাটিং বিতরণ করা হয়েছে। বিএলআরআই এর কারিগরি সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পোল্ট্রি ও গবাদি পশু পালন, পিলেট ফিড উৎপাদন, সাইলেজ বাজারজাতকরণ, ঘাস চাষ প্রভৃতি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সফল উদ্যোক্তা ও সুফলভোগী খামারি তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ পর্যন্ত বিএলআরআই খামারিবান্ধব ০৪টি মোবাইল অ্যাপস উদ্ভাবন করেছে। এগুলো হলো- ১. বিএলআরআই ফিড মাস্টার, ২. খামার গুরু, ৩. বিএলআরআই ব্রিডিং ম্যানেজার এবং ৪. গ্রীনওয়ে বিজনেস। পাশাপাশি আরও কিছু মোবাইল অ্যাপস তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও, ঘরে বসেই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার জন্য বিএলআরআই ওয়েবসাইটে ই-বুক, প্রযুক্তি নির্দেশিকা প্রকাশ, অনলাইন/ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবা গ্রহণ সুবিধা বিএলআরআই প্রদান করছে।

আপদকালীন সেবা

[সম্পাদনা]

মূল কাজ বা গবেষণার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় আকস্মিক মহামারী ও সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবকালীন সময়ে বিএলআরআই বিদ্যমান গবেষণাগারসমূহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আপদকালীন দুর্যোগ প্রশমনে এগিয়ে আসে। ইতোপূর্বে করোনা মহামারিকালীন সময়ে বিএলআরআই জাতীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে সর্বমোট ৫৬,০০০ কোভিড-১৯ এর নমুনা বিশ্লেষণ সফলতার সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও, দেশে যখনই গবাদি প্রাণীর পিপিআর, এফএমডি, এলএসডি অথবা পোল্ট্রির এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু) ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, বিএলআরআই এর গবেষকগণ দ্রুত সংক্রমণস্থলে ছুটে যান এবং জরুরিভিত্তিতে নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করে রোগ প্রশমন ও নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ প্রদান করে থাকেন। এছাড়াও, জাতীয় পর্যায়ের রেফারেন্স ল্যাবরেটরি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এর রেফারেন্স এন্টিজেন সরবরাহ করে থাকে।

উপসংহার

[সম্পাদনা]

দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর মানসম্পন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবাদি প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারা থেকে বাণিজ্যিক ধারায় রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ খাতের অধিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। উৎপাদন ব্যবস্থার এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে বিএলআরআই তার কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। দেশের প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিএলআরআই সব সময় গবেষণার মাধ্যমে  দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন বাড়াতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পাশাপাশি বিএলআরআই তার গবেষণা সক্ষমতা জোরদারকরণে বিশ্বব্যাপী গবেষণা/একাডেমিক ইনস্টিটিউট, একাডেমিশিয়ান বা সংশ্লিষ্ট গবেষণা ক্ষেত্রের গবেষকদের সাথে তার সহযোগিতা প্রসারিত করতে সদা সচেষ্ট।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Help for Disability and Distress (HDD) কর্তৃক প্রকাশিত বই: সাভার ডিরেক্টরি (সাভার উপজেলার তথ্য সংবলিত বই); প্রকাশকাল: ডিসেম্বর, ২০১২ ইং
  2. "পটভূমি, বিএলআরআই" (পিডিএফ)blri.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]