বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা'র লোগো | |
| গঠিত | ১৫ জুলাই ১৯৭৮[১] |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠাতা | খন্দকার আয়েশা খাতুন |
| ধরন | ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ ও নৈতিক উন্নয়নভিত্তিক ছাত্রী সংগঠন |
| অবস্থান | |
সদস্যপদ | ৮,০০০ (২০১৫ সালের হিসাবে)[২] |
সভানেত্রী | মোসাম্মৎ মুনজিয়া |
সেক্রেটারি জেনারেল | উম্মে আরওয়াহ |
| সম্পৃক্ত সংগঠন | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| ওয়েবসাইট | www |
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা (যা কেবল ছাত্রীসংস্থা নামেও পরিচিত) হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার অধীনস্থ নারী-শিক্ষার্থীদের একটি ইসলামপন্থী সংগঠন, যা জামায়াতে ইসলামীর পুরুষ-শিক্ষার্থীদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনুরূপ গঠনতন্ত্র ও কার্যপ্রণালী অনুসরণ করে। এটি ১৯৭৮ সালের ১৫ই জুলাই ইডেন মহিলা কলেজের ১১ জন ছাত্রীর যৌথ উদ্যোগে সংগঠন যাত্রা শুরু করে। ইসলামী ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, থানা, জেলা এবং মহানগর এলাকায় কমিটি রয়েছে।[৩] সংগঠনটির সদস্যা সংখ্যা ৮,০০০ এবং সারা দেশে ১১২টি ইউনিট রয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।[২] ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে সংগঠনটির উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়।[৪]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৭৮ সালের ১৫ জুলাই, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা গঠন করা হয়, ইডেন মহিলা কলেজ এর ১১ জন শিক্ষার্থীর হাত ধরে এই সংগঠন যাত্রা শুরু করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভানেত্রী ছিলেন খন্দকার আয়েশা খাতুন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে নিরাপত্তার অজুহাতে ছাত্রী সংস্থার বহু নেত্রী ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।[৫][৬] এরসবের মধ্যে ২০০৯ সালের ৪ জুলাই ৩ জন,[৭] ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর ২০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।[৮] ২০১৪ সালে ঢাকার খিলগাঁও ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে ২৪ জন ও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।[৯][১০] ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনা সরকারের একটি প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।[১১][১২][১৩] এরপরে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ৪ জন,[১৪] ফেব্রুয়ারিতে ৬ জন,[১৫] অক্টোবরে ২১ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।[১৬] ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে, পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনকে আটক করে।[১৭][১৮]
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা আবারও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে সক্ষম হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।
লক্ষ্য
[সম্পাদনা]এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের ছাত্রী সমাজকে আল্লাহর কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী গঠন করে তাদেরকে আদর্শ মুসলিম নারী হিসেবে গড়ে তোলা এবং দ্বীন ইসলামের প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর সন্তোষ লাভ করা-যাতে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি হাসিল করা যায়।
এ সংগঠনের ৩দফা কর্মসূচী:
- ছাত্রীদের মধ্যে দ্বীন ইসলামের সঠিক ধারণার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার।
- ইসলাম প্রিয় ছাত্রীদেরকে সুসংগঠিত করে উন্নত নৈতিক জীবনযাপন-এর প্রশিক্ষণ দান।
- ছাত্রী সমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্নমুখী সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
দমন-পীড়নের শিকার
[সম্পাদনা]বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে ছাত্রীসংস্থা'র উপর নানাভাবে বলপ্রয়োগ করা শুরু করে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর থেকে আটক, জেল নির্যাতন এবং রিমান্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রী সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদেরকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের আগষ্টে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ফাযিল এবং কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোর ছাত্রীসংস্থার নিষিদ্ধের চিঠি দেয়া হয়।[১৯][২০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ সংগঠন পরিচিতি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- 1 2 ইসলামী ছাত্রী সংস্থা কোথায়?। ২ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Sharif, Shahriar (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা'র কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ [Islamic student organization activities in educational institutions ordered to be stopped]। Benar News। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা কোনভাবেই বৈধ হতে পারে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Madrasa principal, 13 Islami Chhatri Sangstha activists held in Pabna"। Daily Sun (Bangladesh)। ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ পাবনায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্যসহ ১৪ জন আটক। Barta24। ১৩ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "3 ICS members arrested"। The Financial Express (Bangladesh)। ৫ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Shamsunnahar Nizami protests unlawful arrest of 13 women including language movement veteran Prof Chemon Ara"। Bangladesh Jamaat-e-Islami। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Sarkar, Kailash (১৮ জুন ২০১৪)। "24 activists of Islami Chhatri Sangstha held"। ঢাকা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "3 Chhatri Sangstha activists held in DU"। ঢাকা ট্রিবিউন। ৩ নভেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা। BBC Bangla। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ রাবিতে প্রকাশ্যে চলে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম!। Barta24। ২৯ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "." কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার। Bangla Tribune। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্য সন্দেহে ৪ ছাত্রী আটক, পরে মুচলেকায় মুক্তি। Bangla Tribune। ২২ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "6 Islami Chhatri Sangstha activists sent to jail"। ২ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "21 Islami Chhatri Sangstha activists held in Dhaka"। The Daily Star (Bangladesh)। ১৮ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "14 Chhatri Sangstha members, college principal held in Pabna"। The Business Standard। ১৪ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ পাবনা শহর থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার গ্রেফতারকৃত নেত্রী ও কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহবান। Bangladesh Jamaat-e-Islami। ১৯ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ছয় কর্মী রিমান্ডে"। dhakatimes24 .com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ — বেনারনিউজ"। benarnews.org। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।