বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিত্রলিপি.jpg
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিত্রলিপি
সংস্থার রূপরেখা
গঠিত১৯৫৭
  • পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব ডেভলপমেন্ট ইকোনমিক্স (PIDE)
ধরনAutonomous (Public Body)
অধিক্ষেত্রMulti-disciplinary Social Research
সদর দপ্তরই-১৭, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭
কর্মী১৪০ (Posts=১৯৭)
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী
  • আ হ ম মোস্তফা কামাল, পরিকল্পনা মন্ত্রী
  • , (etc.)
সংস্থা নির্বাহী
  • কে এ এস মুরশিদ, মহাপরিচালক
  • , (etc.)
মূল সংস্থাপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
ওয়েবসাইটhttp://www.bids.org.bd

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইংরেজি: Bangladesh Institute of Development Studies বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ) তথা বিআইডিএস[১][২]বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্বশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশের উন্নয়নের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিকস বা পাইড যা ১৯৫৭ সালের জুন মাসে করাচিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল বিআইডিএসের পূর্বপুরুষ। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসেই পাইড ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং এর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিকস। পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ নামধারণ করে। তখন একে বোর্ড অফ ট্রাস্টি কর্তৃক পরিচালিত একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত করা হয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিআইডিএসের মতই আরো দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল যাদের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম অনেকটা একই রকম। এই দুটি প্রতিষ্ঠান হল দ্য পপুলেশন স্টাডি সেন্টার যাকে ১৯৮২ সালে বিআইডিএসের সাথে একীভূত করা হয় এবং ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট যাকে ১৯৮৩ সালে একীভূত করা হয়। প্রথম প্রথম প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের জন্য নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হতো। কিন্তু ১৯৮৩ সালে সরকার এই নীতি পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানের সকল পৌনঃপুনিক ব্যয় নির্বাহের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য একটি নিয়মিত তহবিল গঠন করে। এর ফলে আর প্রতিষ্ঠানের বাজেট নির্ভরতা থাকেনা যা এটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বায়ত্বশাসন ভোগ করার সুযোগ করে দেয়। বর্তমানে এ থেকেই প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি কিছু বৈদেশিক দাতা সংস্থা ও ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা লাভ করে।

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

এই ইনস্টিটিউটের কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে; সেগুলো হচ্ছে:

  • উন্নয়ন ও জনকল্যাণের লক্ষ্যে উন্নয়ন অর্থনীতি, জনসংখ্যা তত্ত্ব এবং জাতীয় নীতি-পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রসমূহের অধ্যয়ন, গবেষণা ও জ্ঞান বিস্তারের বিষয় উৎসাহিতকরণ।
  • নীতিসমূহের পরিকল্পনা ও প্রণয়নের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ, উপাত্ত প্রস্তুতি, অনুসন্ধান পরিচালনা ও গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ এবং পরিকল্পনা ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন।
  • সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি, উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, জনসংখ্যাতত্ত্ব ও অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান।
  • উপরে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহের উপর আধুনিক গবেষণা কৌশল ও পদ্ধতির ব্যাপরে সর্বপ্রকার তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান।

প্রশাসন[সম্পাদনা]

বিআইডিএসের মহাপরিচালক থাকেন একজন প্রধান নির্বাহী। তাকে একজন সচিব সার্বক্ষসিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এই সচিবই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিআইডিএসের প্রশাসন ব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কিছু কমিটি রয়েছে-

  • তিনটি সংবিধিবদ্ধ কমিটি যাদের কাজ হল প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করা এবং বিআইডিএসের সাথে কাজ ভাগাভাগি করে নেয়া।
  • বিআইডিএসের কেন্দ্রীয় প্রশাসন কমিটি
  • উপদেষ্টা কমিটি যা ফেলোদের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এর কাজ হচ্ছে ইনস্টিটিউটের পেশাভিত্তিক কর্মসূচির পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা দেয়া।
  • পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটি যাতে বিশিষ্ট পেশাজীবীরা কাজ করেন। মানোন্নয়নের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ্য ফেলোদেরকে বাছাই করা হয় এবং তাদেরকে বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের মাধ্যমে তির বছরের জন্য এই কমিটিতে নিয়োগ দেয়া হয়।

গবেষণা বিভাগ[সম্পাদনা]

বিআইডিএসের মোট পাঁচটি গবেষণা বিভাগ রয়েছে। প্রত্যেক বিভাগের প্রধান উক্ত বিভাগের সদস্যগণের মধ্য থেকে মনোনীত হন। পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটি কর্তৃক এক বছরের জন্য এই বিভাগীয় প্রধানদের নিয়েগ দেয়া হয়। পাঁচটি বিভাগ হচ্ছে:

  • কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ
  • সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ
  • মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ
  • শিল্প ও ভৌত অবকাঠামো বিভাগ
  • জনসংখ্যা গবেষণা বিভাগ

তবে এক বিভাগের গবেষকবৃন্দ নিজেদের বিভাগের গবেষণা সম্পাদনের পর অন্য বিভাগের অধীনেও বিভিন্ন গবেষণা তৎপরতা ও কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠানে বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৭৬টি গবেষণা মূলক পদ রয়েছে যার মধ্যে বর্তমানে ৫৩টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণা বিভাগের সদস্য ও গবেষকবৃন্দ অন্যান্য বিভাগসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রভূত সহযোগিতা লাভ করে থাকেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রয়েছে প্রশাসন, হিসাব, গ্রন্থাগার, প্রকাশনা এবং কম্পিউটার শাখা। তবে অন্যান্য শাখার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এসআরডিএফ। এর পূর্ণ অভিব্যাক্তি হচ্ছে- স্পেশাল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (Special Research and Development Fund) বা বিশেষ গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল। এই তহবিলের আয়ের উৎস হচ্ছে বিআইডিএসের গবেষণা প্রকল্পের আয়ের নীট সঞ্চয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিআইডিএসের গবেষকবৃন্দ কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। তবে এধরনের সহযোগিতার পরও যদি তহবিলে অর্থ অবশিষ্ট থাকে তবে সে অর্থ গ্রন্থাগারের বই ক্রয় এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়।

হিসাব শাখা[সম্পাদনা]

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

বিআইডিএসের গ্রন্থাগারে প্রায় ১,৪০,০০০ বই, জার্নাল এবং মাইক্রো চিপ্‌স রয়েছে। গ্রন্থাগার এর ব্যবহারকারীদের জন্য গণসচেতনতা, অনুলিপি, আন্তঃগ্রন্থাগার বই বিনিময়সহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে। এই গ্রন্থাগার দেশী-বিদেশী ৪০০টি প্রতিষ্ঠনের সাথে বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনা করে। নিজেদের প্রকাশনা প্রদানের মাধ্যমে এটি অনেক কাগজপত্র ও জার্নাল পেয়ে থাকে।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

  • দ্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ [৩] নামে একটি ত্রৈমাসিক জার্নাল প্রকাশ করে থাকে বিআইডিএস। এটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং এতে দেশী-বিদেশী স্বনামধন্য গবেষকদের প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।
  • বাংলাদেশ উন্নয়ন সমীক্ষা[৪] বাংলায় প্রকাশিত একটি জার্নাল। এতে প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকর্মসমূহ সাধারণ জনগণের জন্য প্রকাশ করা হয়।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. "Efforts on to unlock potentials of blue economy | Dhaka Tribune" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-০৯-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-০১ 
  2. "Bangladesh starts new fiscal with plummeting exports"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-০১ 
  3. "Archived copy"। ডিসেম্বর ২৫, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২১, ২০১২ 
  4. "Archived copy"। জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২১, ২০১২