বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশ–ভারত চুক্তি, ১৯৭১

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাত দফা গোপন চুক্তি
বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী চুক্তি
ধরণসন্ধি
প্রেক্ষাপটবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
লিখনসেপ্টেম্বর ১৯৭১ (1971-09)
স্বাক্ষরপ্রদানঅক্টোবর ১৯৭১ (1971-10)
অবস্থাননতুন দিল্লি, ভারত
কার্যকরডিসেম্বর ১৯৭১ (1971-12)
উত্তরসূরিভারত—বাংলাদেশ মৈত্রী, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তি
মেয়াদোত্তীর্ণমার্চ ১৯৭২ (1972-03)
মধ্যস্থতাকারীদুর্গা প্রসাদ ধর
স্বাক্ষরদানকারী
পক্ষ
ভাষাইংরেজি

১৯৭১ সালের বাংলাদেশ–ভারত চুক্তি বা সাত দফা গোপন চুক্তি হলো মুজিবনগর সরকারভারত সরকার মধ্যকার একটি কথিত গোপন মৈত্রী চুক্তি। বলা হয়ে থাকে গোপন চুক্তিপত্রটি ১৯৭২ সালে ২৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী চুক্তি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল এবং কথিত গোপন চুক্তিটিতে ৭টি শর্ত ছিল।

চুক্তি সম্পর্কে দুটি বয়ান প্রচলিত আছে। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সহযোগী মঈদুল হাসানের মতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি গোপন চুক্তি করার জন্য আলোচনা হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস সংবাদপত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি মৈত্রী চুক্তির গোপন আলোচনা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অপর বয়ানে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশনার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী চুক্তি সম্পাদনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন যে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও কলহের ফলে গোপন চুক্তির কিছু তথ্য ফাঁস হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান গোপন চুক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং চুক্তির দাবি অস্বীকার করে একে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দেন। অন্যদিকে তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন যে গোপন চুক্তি হয়নি বরং যুদ্ধের সময় ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল যাতে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সহযোগী হিসেবে সেনাবাহিনীকে দেশে পাঠাতে বলা হয় এবং চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ করা মাত্র সেনাদের নিজ দেশে ভারত ফিরিয়ে নিবে।

পটভূমি

[সম্পাদনা]

মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সহযোগী মঈদুল হাসান বলেন যে, ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাজউদ্দীন আহমদ ও সোভিয়েত ইউনিয়নে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দুর্গা প্রসাদ ধরের মধ্যে একটি সম্ভাব্য মৈত্রী চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ১৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে তাজউদ্দীনকে জানানো হয়েছিল যে অতীতে আলোচিত চুক্তিটি ভারত সরকার সম্পাদন করতে ইচ্ছুক নয় কেননা তা করা হলে ব্যাপারটিকে ভারতের চাপে বাংলাদেশ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছে বলে আখ্যা দেওয়া হবে।[] যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস-এ ১৭ নভেম্বর ১৯৭১ সালে সাংবাদিক পিটার হেজেলহার্স্ট বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি মৈত্রী চুক্তির গোপন আলোচনা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী চুক্তির শর্ত মোতাবেক যদি বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ভারতীয় সেনাবাহিনীকে তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাবে।[] অন্যদিকে ১৯৭১ সালে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশনার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জানান যে চুক্তিটি অক্টোবরে করা হয়। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার পর মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন।[]

চুক্তির সম্ভাব্য দফাগুলো ছিল:[]

  1. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ না নেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করে তাদের স্থানে ভারতীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা।
  2. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠন না করা।
  3. রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা।
  4. নভেম্বর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী অবস্থান করবে এবং প্রতি বছরের নভেম্বরে দেশের পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করবে।
  5. বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের তিন মাইল জুড়ে নিয়ন্ত্রণহীন মুক্ত বাজার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সমঝোতা বাস্তবায়ন করা এবং বছর শেষে নিকেশ করে পাওনা অর্থ ভারত সরকার কর্তৃক পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিশোধ করা।
  6. বাংলাদেশের বৈদেশিক ব্যাপারে ভারতের নির্দেশ অনুসরণ করা।
  7. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বের দায়িত্ব শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানের হাতে ন্যস্ত করা।

পরিণাম

[সম্পাদনা]

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুক্তবাজার প্রতিষ্ঠা হয়। বাংলাদেশে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ভারতীয় কর্মকর্তাদের আগমন ঘটে। শত্রুমুক্ত হওয়ার পরেও দেশটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী অবস্থান করছিল।[][] ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর তিনি মুক্তবাজার বন্ধ করে দেন, ভারতীয় কর্মকর্তাদের ফেরত পাঠান[] এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপর চাপ সৃষ্টি করেন, ফলে ভারত সরকার সেনাদের ফিরিয়ে নেয়।[] তবে চুক্তির একটি দফা আংশিক অনুসরণ করে ১৯৭২ সালে জাতীয় রক্ষীবাহিনী নামক একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা হয়।[] পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও কলহের ফলে গোপন চুক্তির কিছু তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এবং জানা যায় যে চুক্তিটি সংশোধন করে ২৫ বছর মেয়াদি ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে।[]

প্রতিক্রিয়া

[সম্পাদনা]

গোপন চুক্তির ব্যাপারে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও শেখ মুজিবুর রহমান অস্বীকার করেছেন।[] ১৩ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ গোপন চুক্তির দাবি অস্বীকার করে বলেছিলেন যে এটি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনীর জন্য একটি প্রকাশ্য চুক্তি ছিল।[১০][১১] ২৩ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং একে অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন যে কোন গোপন চুক্তি হয়নি এবং অপারেশন চেঙ্গিজ খানের সময় সামরিক একতার জন্য চিঠি চালাচালি হয়েছিল।[১২][১১] রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তোয়াহা দাসত্বের সাথে চুক্তিটির তুলনা করে লিখেছেন যে বাংলাদেশ সরকার চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যতটা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ততটা মীরজাফর ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে করেনি।[১৩] ২০ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলের বক্তৃতায় বলেন যে ১৯৭১ সালে কোন গোপন চুক্তি হয়নি বরং তখন তার ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের যৌথভাবে স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ভারতকে প্রেরণ করা হয়েছিলো যাতে লেখা ছিল যে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং বাংলাদেশ সরকার বলা মাত্র বাহিনী ফিরে যাবে।[১৪] ২০২৫ সালে যুগান্তর সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে চুক্তির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ বলেছিলেন যে একমাত্র চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হলেই রাষ্ট্রীয় লাভক্ষতি হিসেব করে তিনি নাগরিক হিসেবে নিজের দাবি তুলে ধরতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক শাহাদুজ্জামান বলেছিলেন যে অপ্রকাশিত যেকোন চুক্তির তথ্য জানার অধিকার জনসাধারণের রয়েছে এবং সরকার ভারতের সাথে করা এমন চুক্তি প্রকাশ করতে পারে।[১৫]

বিতর্ক

[সম্পাদনা]

মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক প্রতিনিধি মুহাম্মদ নূরুল কাদিরের মতে এই চুক্তি বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়ার বৈধতা পায়, ফলে বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে মুক্তি লাভ করে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সমস্ত কৃতিত্ব ভারতীয় সেনাপ্রধানের হয়ে যায়।[] ২০১১ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের বেতার ও টেলিভিশন সংস্থা পরিচালিত রেডিও তেহরানকে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে মুজিবনগর সরকারের প্রধান সামরিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ এম হামিদুল্লাহ খান দাবি করেছিলেন যে ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ১৯৭১ সালে সম্পাদিত গোপন চুক্তির ছায়া রয়েছে।[১৬]

নতুন দিগন্ত সাময়িকীর ষোড়শ বর্ষের তৃতীয় সংখ্যায় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের অন্যতম উদ্যোক্তা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রকাশিত বয়ানে উল্লেখিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের মুখ্য প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লিতে যাওয়ার কারণ বা সেখানে কোন চুক্তি সম্পাদন নিয়ে প্রশ্ন করায় আব্দুস সামাদ আজাদ উত্তরে যা বলেছিলেন তা জাফরুল্লাহ মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে বলার ফলে ওসমানী তাজউদ্দীন আহমেদকে সরাসরি সম্মুখে দেশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করার ঘটনা উদ্ধৃত করে ২০২২ সালে কলাম লেখক আনোয়ার পারভেজ হালিম মত দিয়েছেন যে সেদিন ওসমানী ও তাজউদ্দীনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার কারণ দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত গোপন চুক্তি ছিল বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।[১৭]

২০২৪ সালে আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন যে চুক্তির শর্তগুলো পড়লে ভারত বাংলাদেশকে কোন দৃষ্টিতে দেখে তা বোঝা যাবে।[১৮] ২০২৫ সালের প্রথমদিকে চুক্তিটি ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়।[১৯] তখন ইউটিউবে ইলিয়াস হোসেনের চ্যানেলের একটি লাইভ টকশোতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা শরিফুল হক ডালিম চুক্তিটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন "১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়ে ভারতের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতেই বোঝা গিয়েছিল বাংলাদেশ ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত হবে"।[২০] ১০ জানুয়ারিতে নিজের ফেসবুক একাউন্টে তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও আওয়ামী লীগের প্রাক্তন রাজনীতিবিদ সোহেল তাজ গোপন চুক্তি সম্পাদনার প্রচারণাকে ইতিহাস বিকৃতি আখ্যা দিয়ে অসত্য দাবি করেন।[১৯]

ঐতিহাসিকতা

[সম্পাদনা]

লেখক বিনয় মিত্র চুক্তি সম্পর্কে মুহাম্মদ নূরুল কাদির ও মাসুদুল হক এবং মঈদুল হাসানের প্রদত্ত তথ্যের ঐতিহাসিক সাংঘর্ষিকতা তুলে ধরে বলেন যে গোপন চুক্তির ইতিহাস বিভ্রান্তিকর কেননা একটি পক্ষ বলছে যে চুক্তি হয়নি কিন্তু আরেকটি পক্ষের মতে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এছাড়া একটি লিখিত চুক্তি শেখ মুজিবুর রহমান দ্বারা কোন আলোচনা ব্যতীত প্রত্যাখ্যানের বয়ানকে তিনি অবাস্তব ও হাস্যকর বলেছেন। তার মতে চুক্তির অস্তিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে রাখা রয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিকদের মধ্যে খুব কম ব্যক্তি এই চুক্তির ব্যাপারে লিখেছেন।[] অন্যদিকে মওদুদ আহমদের মতে ১৯৭২ সালের মৈত্রী চুক্তির অনুপ্রেরণা হিসেবে ১৯৭১ সালের গোপন চুক্তি ছিল এমন দাবি করা হলেও তার স্বপক্ষে কোন অকাট্য প্রমাণ পেশ করা সম্ভব হয়নি।[২১]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 মিত্র, বিনয় (২০১৬)। "ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি"। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সত্য অসত্য অর্ধসত্য। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। পৃ. ১৯১–১৯৪। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯০৪৪৪০৬
  2. হাসান, মঈদুল (২০০৮) [১৯৮৬]। মূলধারা '৭১। ওয়েব সংস্করণ। দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃ. ১৯৩–১৯৪। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৮৮১৫৬৩২। ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৫
  3. 1 2 কাদির, মুহাম্মদ নূরুল (১৯৯৭)। দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা। মুক্ত প্রকাশনী। পৃ. ৩২৫–৩২৬। আইএসবিএন ৯৮৪৩০০২২৯৬
  4. "বাংলাদেশকে ভারতের গোলাম করে রাখার সেই চুক্তিতে কি ছিল?"জনকণ্ঠ। ৭ জানুয়ারি ২০২৫। ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৫
  5. 1 2 আহাদ ১৯৮২, পৃ. ৪৪৯।
  6. 1 2 আহাদ ১৯৮২, পৃ. ৪৫০।
  7. হক, মাসুদুল (২০১০) [১৯৯০]। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'র' এবং সিআইএ। প্রচিন্তা প্রকাশনী। পৃ. ১১৭।
  8. "ঠক কে তাজুদ্দিন সাহেব, জনগণ না আপনারা?: সেই গোপন ৭টি চুক্তি"। সাপ্তাহিক হক-কথা। ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২। পৃ. ১।
  9. আহাদ ১৯৮২, পৃ. ৪৩৯।
  10. "সরকার কোন গোপন চুক্তি করে নাই: সামাদ"। দৈনিক গণকণ্ঠ। ১৪ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃ. ১, ৮।
  11. 1 2 আহমদ ১৯৮২, পৃ. ২৪৯।
  12. "Swaran Singh says No secret pact with Bangladesh"। দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃ. ১।
  13. রহমান, সাঈদ উর (২০০৪)। ১৯৭২-১৯৭৫ কয়েকটি দলিল। মৌলি প্রকাশনী। পৃ. ১০১। আইএসবিএন ৯৮৪৭৫১০৬০১
  14. রিমি, সিমিন হোসেন (২০১৫) [২০০০]। তাজউদ্দীন আহমদ: ইতিহাসের পাতা থেকে। প্রতিভাস। পৃ. ৪১১–৪১২। আইএসবিএন ৯৮৪৭৬৫০০৪৭
  15. "ভারত-তাজউদ্দীনের গোপন সেই ৭ দফা চুক্তিতে আসলে কী ছিল?"যুগান্তর। ১২ এপ্রিল ২০২৫। ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  16. "আমলা নির্ভর কলুষিত রাজনীতি দেশকে গহীন অন্ধকারের দিকে নিয়ে গেছে : হামিদুল্লাহ খান"রেডিও তেহরানইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের বেতার ও টেলিভিশন সংস্থা। ১৯ মার্চ ২০১১। ২২ মার্চ ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১
  17. হালিম, আনোয়ার পারভেজ (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। "জেনারেল ওসমানী: যে প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা"সাম্প্রতিক দেশকাল। ১১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৫
  18. "ভারত-আওয়ামী লীগের গোপন সেই ৭ দফা চুক্তিতে আসলে কি ছিল?"জনকণ্ঠ। ২১ ডিসেম্বর ২০২৪। ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৫
  19. 1 2 "ভারতের সঙ্গে 'দেশ বিক্রির ৭ দফা' চুক্তি, যা বলছেন সোহেল তাজ"দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। ১০ জানুয়ারি ২০২৫। ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৫
  20. "৫০ বছর পর প্রকাশ্যে মুজিব হত্যায় অভিযুক্ত"এই সময়। ৭ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৫
  21. আহমদ ১৯৮২, পৃ. ২৩৮।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]