বাংলাদেশে ইভিএম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলাদেশে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ একটি নতুন পদ্ধতি। এর সফল ব্যবহার শুরু হয় ২০০৭ সালে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এরপর বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এখনো জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা হয় নি।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে বুয়েটের আইআইসিটি বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ডঃ এস এম লুৎফর কবির ইভিএম তৈরীর প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জমা দেন। পাইল্যাব বাংলাদেশ নামে একটি ইভিএম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প প্রস্তাবনার সাথে জড়িত ছিলো। মূলত একই বছর ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির সফল ব্যবহারের কারণে তারা সরকারের কাছে আবেদন করেন যেন এই পদ্ধতিতে দেশের সকল নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। কিন্তু তখন ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা তৈরীর কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।[২] এরপর নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ভাবে ১৪টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করা হয় এবং এতে সফলতা আসে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে ইভিএম গুলো নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিশন ইভিএমগুলো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যবহার করতে গেলে বিপত্তি বাঁধে। একটি মেশিনে হঠাৎ ত্রুটি দেখা যায়। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই ত্রুটির সমাধান বের করতে পারেন নি। ফলে প্রায় সাড়ে ১২শ’টি ইভিএমকে বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হয়।[৩] পরবর্তীতে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন নতুন করে ভোটগ্রহণ পদ্ধতিটি চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কমিশন বিদেশ থেকে উন্নতমানের ইভিএম ক্রয় করে এবং দাবী করে যে এই নব্য মেশিনগুলো পূর্বের চেয়ে অধিক কার্যকরী। ফলশ্রুতিতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে রংপুর ও ২০১৮ সালের মে মাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুইটি করে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই ধারাবাহিক সফলতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম চালু করার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।[১]

দেড় লাখ ইভিএম ক্রয় প্রকল্প[সম্পাদনা]

কাগজের ব্যালট ব্যবহার কমিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশন দেড় লাখ ইভিএম ক্রয় করার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ সালের মধ্যে ৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটিতে ইভিএম কেনায় ৩৫১৫.৬১ কোটি টাকা, প্রচারে ৫ কোটি টাকা, পরিবহনে ৭ কোটি টাকা, মোটর যানে ৩.৩ কোটি টাকা, কম্পিউটার সফটওয়্যারে ৫০ কোটি টাকা, আসবাবপত্রে ৭৫ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।[৪]

২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩০টি ইভিএম তৈরি করা হয়। এদের মধ্যে ১০০টি মেশিন চট্টগ্রামে আনা হয় ভোটগ্রহণের জন্য। মোট ভোট কেন্দ্রের মাত্র ১৪টিতে ৭৯টি বুথে ইভিএম স্থাপন করা হয়। ৭৯টি বুথের প্রতিটির জন্য একটি করে এবং ১৪টি কেন্দ্রে একটি করে অতিরিক্ত আরো ১৪টিসহ মোট ৯৩টি ইভিএম স্থাপন করা হয়েছিলো। এতে ২৫ হাজার ২৩৮ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন। এতে দ্রুত ভোট গ্রহণ ও ফলপ্রকাশে সফলতা পরিলক্ষীত হয়।[১]

২০১২ সালের কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন[সম্পাদনা]

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন তাদের প্রথম নির্বাচন আয়োজন করে। সব কটি কেন্দ্রেই ইভিএম ছিল।[৫]

২০১৩ সালের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন[সম্পাদনা]

ইভিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে ইভিএম ব্যবস্থার শুরু থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলসমূহ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। তারা মনে করেন ইভিএমের মাধ্যমে সরকারী দল ভোট কারচুপি করার সুবিধা গ্রহণ করবে।[৬][৭]

ইভিএম প্রশিক্ষণ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামে বসবাস করেন। তারা আধুনিক ভোটগ্রহণ প্রযুক্তির সাথে পরিচিত না। শিক্ষিত ভোটারের কাছেও এটা সম্পূর্ণ অজানা একটা পদ্ধতি। তাই নির্বাচন কমিশন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক প্রেরণ করে ভোটারদের ইভিএমের মাধ্যমে ভোট প্রদানের নিয়ম-কানুন প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ইভিএম কী? কীভাবে এলো? ব্যবহার কতটা নিরাপদ?"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০২ 
  2. "ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন : জানা-অজানা"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০২ 
  3. BanglaNews24.com। "ইভিএম প্রদর্শন, ভোটদানের পদ্ধতি শেখাবে ইসি"banglanews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০২ 
  4. "ইভিএম আবার আলোচনায়"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০২ 
  5. "কুমিল্লায় আলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়"BBC News বাংলা। ২০১২-০১-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৭ 
  6. "ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তোড়জোড় দূরভিসন্ধিমূলক: রিজভী"Parstoday। ২০১৮-০৮-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০২ 
  7. Pratidin, Bangladesh। "ভোট চুরির জন্যই ইভিএম: মোশাররফ | বাংলাদেশ প্রতিদিন"Bangladesh Pratidin। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৯-০২ 

আরো দেখুন[সম্পাদনা]