বাংলাদেশের বিপন্ন ভাষাসমূহের তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলাদেশে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত বেশকিছু ভাষা রয়েছে। এ ভাষাগুলো ব্যবহার করা লোকের সংখ্যা খুবই কম। এসব স্থানীয় ভাষাভাষী লোকেরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে ভাষাটি বিলুপ্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। ইউনেস্কো "নিরাপদ" (বিপন্ন নয়) ও বিলুপ্ত ভাষার মধ্যে চারটি ধাপ নির্দিষ্ট করেছে:[১]

  • সুরক্ষিত নয়
  • স্পষ্টত বিপন্ন
  • গুরুতরভাবে বিপন্ন
  • সঙ্কটাপন্ন

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের তথ্যানুসারে বাংলাদেশে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৭,৮৪,০০০ জন বাস করে।[২] বাংলাদেশের নৃতত্ত্ববিজ্ঞানী ও আদিবাসী নেতাদের দেওয়া তথ্যানুসারে বাংলাদেশে মোট ৪৮টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪টি ভাষাগোষ্ঠীর প্রায় ৩০টি ভাষা প্রচলিত। এর মধ্যে ১২-১৮টি ভাষা বিভিন্ন মাত্রায় বিপন্ন। ঢাকায় অবস্থিত সরকারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আইএমএলআই) বাংলাসহ ৩৭টি ভাষা সংরক্ষণ ও সুসংবদ্ধ করার প্রকল্প হাতে নেয়। এদের মধ্যে আবার মাত্র ৪টি ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে- চাকমা, মারমা, ম্রোমৈতৈ মণিপুরী ভাষা[৩] রাজশাহীতে বসবাসকারী কিছু জনগোষ্ঠী হিন্দি, বাংলা, উর্দু ও অন্যান্য ভাষার কিছু বর্ণ নিয়ে "সাদরি" ভাষা ব্যবহার করেন।[৪] সিলেটের চা-বাগানে তেলুগু, সাঁওতালি, নেপালি ও রাই সম্প্রদায় এটি লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসেবে ব্যবহার করে।[৩]

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে চট্টগ্রামের বনভূমি ও পার্বত্য অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসীদের বসবাস। এদের অর্ধেকের জন্যই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৮% আদিবাসী শিশু প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাত্র ২% মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে। অধিকাংশ শিশু পাঠ্যপুস্তকের বাংলা লেখা ভালোভাবে পড়তে ও বুঝতে পারে না। যথোপযুক্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতির অভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাড়ি, বনাই, ডলুই, রাজবংশী প্রভৃতি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষার বদলে বাংলার ব্যবহার শুরু করেছে।[৩]

তালিকা[সম্পাদনা]

ভাষা দেশ ভাষিক লোকের সংখ্যা অবস্থা মন্তব্য সূত্র
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী বাংলাদেশ, ভারত ১,১৫,০০০ সুরক্ষিত নয়    [১][৫]
বম বাংলাদেশ ১৪,০০০ স্পষ্টত বিপন্ন    [১]
চাক বাংলাদেশ ৫,৫০০ স্পষ্টত বিপন্ন    [৫]
শো বাংলাদেশ, মিয়ানমার ২,৩৪০ স্পষ্টত বিপন্ন    [৫]
ফালাম চিন বাংলাদেশ, মিয়ানমার ১,২০,০০০ সুরক্ষিত নয়    [৫]
হাকা চিন বাংলাদেশ, মিয়ানমার ৪,৪৬,২৬৪ সুরক্ষিত নয়    [৫]
হাজং বাংলাদেশ, ভারত ৬৮,০০০ সুরক্ষিত নয়    [৫]
খাসি বাংলাদেশ, ভারত ৮,৬৫,০০০ স্পষ্টত বিপন্ন    [৫]
কোড়া বাংলাদেশ, ভারত ১,৬০০ গুরুতরভাবে বিপন্ন    [৫]
ককবরক বাংলাদেশ, ভারত ৬,৯৫,০০০ সুরক্ষিত নয়    [১][৫]
কুরুখ বাংলাদেশ ১৪,০০০ স্পষ্টত বিপন্ন    [১]
মারমা বাংলাদেশ ১,৬৬,৫০০ সুরক্ষিত নয়    [৫]
মেগাম বাংলাদেশ ৬,৮৭০ গুরুতরভাবে বিপন্ন    [৫]
ম্রো বাংলাদেশ ৫১,২৩০ স্পষ্টত বিপন্ন    [৫]
পাংখুয়া বাংলাদেশ ২,৭৩০ গুরুতরভাবে বিপন্ন    [৫]
জয়ন্তিয়া বাংলাদেশ, ভারত ৮৮,০০০ স্পষ্টত বিপন্ন    [৫]
সাদরি বাংলাদেশ ১,৬৬,০০০ সুরক্ষিত নয়    [৫]
সূর্যপাহাড়ি বাংলাদেশ, ভারত ১,১৭,০০০ স্পষ্টত বিপন্ন    [৫]

এছাড়াও ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আরও কয়েকটি ভাষাকে বিপন্ন বলে চিহ্নিত করেছে- লুসাই (৯৫৯ জন), খুমি (৩৩৬৯ জন), খিয়াঙ (৩৮৯৯ জন), রেঙমাটিয়া (৪০ জন) এবং পাত্র (২০৩ জন)।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Atlas of the World’s Languages in Danger। Memory of Peoples (ইংরেজি ভাষায়) (৩য় সংস্করণ)। ইউনেস্কো। ২০১০। আইএসবিএন 978-92-3-104096-2। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৫ 
  2. মুক্তশ্রী চাকমা সাথী (৩০ মে ২০১৪)। "Disappearing Mother Tongues" (PDF)ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। পৃষ্ঠা ৮। ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. Special Correspondent, "Disappearing indigenous languages ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে", BD Chronicles, 21 February 2015
  4. Emran Hossain (১৮ অক্টোবর ২০০৯)। "30 Adivasi languages on verge of extinction"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। 
  5. Endangered Language Alliance। "Bangladesh: Some endangered languages" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। এনডেঞ্জারড ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যালায়েন্স। ৬ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০১২