বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশের তাঁতশিল্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশের তাঁতশিল্প
বইয়ের প্রচ্ছদ
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ
লেখকশাওন আকন্দ
প্রচ্ছদ শিল্পীইশরাত জাহান
প্রকাশনার স্থানবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
বিষয়তাঁতশিল্প
ধরনগবেষণাগ্রন্থ
পটভূমিবাংলাদেশের তাঁতশিল্প
প্রকাশিতফেব্রুয়ারি ২০১৮
প্রকাশকদেশাল
মিডিয়া ধরনছাপা (শক্তমলাট)
পৃষ্ঠাসংখ্যা৪৩৩
পুরস্কারপ্রথম আলো বর্ষসেরা বই (২০১৯)
আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৩৩৩০৮০৮ {{ISBNT}} এ প্যারামিটার ত্রুটি: চেকসাম
ওসিএলসি১১০৮১৪৬৩৯৩
এলসি শ্রেণীNK8976.8.B36 B35 2018

বাংলাদেশের তাঁতশিল্প, শাওন আকন্দ রচিত একটি গবেষণাগ্রন্থ। এটি ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে ঢাকার দেশাল থেকে প্রকাশিত হয়।[][] গ্রন্থটির প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন ইশরাত জাহান।[] বইটিতে বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, কারিগর, নকশা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁতশিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নৃতত্ত্ব ও প্রত্নতত্ত্বও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।[]

গবেষণাগ্রন্থটি ২০১৯ সালে মননশীল শাখায় প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার লাভ করে।[][][]

পটভূমি

[সম্পাদনা]

শাওন আকন্দ মূলত চারুকলার ছাত্র। তিনি এর আগে ২০০৪–০৫ সালে ধামরাই অঞ্চলের কাঁসা-পিতলশিল্প নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে চারুকলার সহপাঠী কনক আদিত্যের পরামর্শে তাঁতশিল্প নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ২০০৭ সালে একটি ছোট দল গঠন করে তিনি মাঠসমীক্ষা, ভ্রমণ ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন।[] এ গবেষণায় ব্যবহৃত হয় একটি ক্যামেরা ও ডিজিটাল অডিও রেকর্ডার। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা অঞ্চলে তাঁতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বইটির পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।[]

বিষয়বস্তু

[সম্পাদনা]

গ্রন্থটিতে প্রাচীনকাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত তাঁতশিল্পের ধারাবাহিকতা উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, শিল্পবিপ্লব ও ব্রিটিশ আমদানিকৃত কাপড়ের কারণে বাংলার তাঁতশিল্প ব্যাপক সংকটে পড়লেও পরবর্তীকালে তা নতুন রূপে টিকে আছে।[] এতে প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য, প্রযুক্তিগত কৌশল, নকশা, সুতা ও রংয়ের ব্যবহার এবং শিল্পের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, সুলতানি ও মোগল আমলে তাঁতের উৎকর্ষ; ঔপনিবেশিক যুগে শিল্পবিপ্লব ও ব্রিটিশ আমদানিকৃত কাপড়ের প্রভাবে তাঁতশিল্পের সংকট; দেশভাগস্বাধীনতার পর মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থানের সঙ্গে তাঁতবস্ত্রের নতুন বাজার সৃষ্টি; টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি, মসলিন ইত্যাদির পুনরুজ্জীবন এবং আধুনিক নগর সমাজে বুটিক ও আড়ংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা।[]

গ্রন্থটি মোট বারোটি ‘পর্বে’ বিভক্ত।[] এর মধ্যে—

  • প্রথম পর্ব: বিশ্বপরিসরে তাঁতশিল্পের উদ্ভব ও প্রাচীন নিদর্শন। নব্য প্রস্তর যুগে (৭০০০–৮০০০ খ্রিষ্টপূর্বে) বুননকৌশলের আবিষ্কার, সিন্ধু সভ্যতায় তুলা সুতা উৎপাদন ও বস্ত্রবয়ন, এবং প্রাচীন পেরু, ইরাক, মিসর প্রভৃতিতে বস্ত্রের প্রমাণ।
  • দ্বিতীয় পর্ব: বাংলার তাঁতশিল্পের সোনালি অতীত, বিশেষত মসলিন ও জামদানির ঐতিহ্য।
  • তৃতীয়–পঞ্চম পর্ব: সুতা, রঞ্জনশিল্প ও তাঁতযন্ত্রের বিবর্তন।
  • ষষ্ঠ–অষ্টম পর্ব: তাঁতি সম্প্রদায়ের জীবন ও বয়নপদ্ধতি, বস্ত্রের নকশা।
  • নবম পর্ব: বাজার, বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থা।
  • দশম পর্ব: সাক্ষাৎকার, যেখানে ২৩ জন তাঁতির পাশাপাশি নকশাবিদ, গবেষক ও উদ্যোক্তার বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত।
  • একাদশ পর্ব: তাঁতশিল্পের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ।
  • দ্বাদশ পর্ব: পরিশিষ্ট।

সমালোচনা

[সম্পাদনা]
"শাওন আকন্দের বইটি দেখলে ‘কফি টেব্‌ল বই’ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু মলাট উল্টোবার পরে সে ভুল ভেঙে যায়। বোঝা যায় কতখানি উদ্যম, নিষ্ঠা, কঠিন পরিশ্রম, সরেজমিন পরিদর্শন ও নিবিড় অনুসন্ধিৎসার ফল এই মহাগ্রন্থ।"
— শ্যামলী দাস, আনন্দবাজার পত্রিকা[]

২০২০ সালে শ্যামলী দাস আনন্দবাজার পত্রিকার এক পর্যালোচনায় গ্রন্থটিকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রসমীক্ষা, নথিভিত্তিক অনুসন্ধান ও সাক্ষাৎকারনির্ভর তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণা হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বইটি তাঁতশিল্পকে প্রথাগত চারুশিল্পের সমমর্যাদায় বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, কাঁচামাল ও রঞ্জনপ্রযুক্তি, তাঁতযন্ত্রের বিবর্তন, তাঁতি সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থান, নকশার পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বাজারব্যবস্থার প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টিকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি গ্রামীণ তাঁতশিল্পী, নকশাবিদ ও উদ্যোক্তাদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক অংশকে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. নাঈম, হাসনাত (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "প্রকাশিত হলো 'বাংলাদেশের তাঁতশিল্প'"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  2. "তাঁতিদের সুর সংগীতে 'বাংলাদেশের তাঁতশিল্প' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন"ঢাকা: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  3. 1 2 3 4 5 6 নূর, জাহীদ রেজা (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার ১৪২৪ 'তাঁত বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের একটা'"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  4. প্রতিবেদক, নিজস্ব (২০ জানুয়ারি ২০১৯)। "পুরস্কার পেলেন তিন লেখক"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  5. "প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার পেলেন তিন লেখক"ঢাকা: দৈনিক প্রথম আলো। ২০ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  6. শাহনেওয়াজ, আলতাফ (১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের আগাপাছতলা"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  7. 1 2 3 দাস, শ্যামলী। "তাঁতশিল্পের অতীত-বর্তমান"আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]