বিষয়বস্তুতে চলুন

বসন্ত কুমার দাস (পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাবু
বসন্ত কুমার দাস
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮  ৭ অক্টোবর ১৯৫৮
প্রধানমন্ত্রীফিরোজ খান নুন
দপ্তরশিক্ষা ও শ্রম
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫  ১৫ আগস্ট ১৯৫৬
মুখ্যমন্ত্রীআবু হোসেন সরকার
দপ্তরঅর্থ ও রাজস্ব
পূর্বসূরী
উত্তরসূরীপ্রভাসচন্দ্ৰ লাহিড়ী
আসামের প্রাদেশিক মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১১ মার্চ ১৯৪৬  ১৭ আগস্ট ১৯৪৭
প্রধানমন্ত্রীগোপীনাথ বরদলৈ
দপ্তরস্বরাষ্ট্র, বিচারিক, আইনসভা, নিবন্ধন ও সাধারণ
আসাম বিধানসভার অধ্যক্ষ
কাজের মেয়াদ
৭ এপ্রিল ১৯৩৭  ১১ মার্চ ১৯৪৬
নেতা
পূর্বসূরীপদ প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীদেবেশ্বর শর্মা
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম২ নভেম্বর ১৮৮৩
সিলেট জেলা, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৯ জানুয়ারি ১৯৬৫(1965-01-19) (বয়স ৮১)
দক্ষিণ কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
জাতীয়তাপাকিস্তানি
রাজনৈতিক দলপাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস (১৯৪৮–১৯৫৮)
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
বাসস্থানচালিবন্দর, সিলেট
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরিপন আইন কলেজ
পেশাআইনজীবী

বসন্ত কুমার দাস (১৮৮৩–১৯৬৫) একজন পাকিস্তানি সিলেটি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন, যিনি পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানের গণপরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

বসন্ত ২ নভেম্বর ১৮৮৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশের সিলেট জেলার রেঙ্গা পরগনার নেগাল গ্রামে একটি সিলেটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমান দক্ষিণ সুরমা উপজেলা, সিলেট জেলা, বাংলাদেশ)।[][][] তিনি সিলেট সরকারি কলেজ, বঙ্গবাসী কলেজ, বিদ্যাসাগর কলেজরিপন আইন কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।[] ১৯০৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২২তম অধিবেশনে যোগদানের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।[] আইন ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯১০ সালে তিনি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দেন এবং পাঁচ বছর পর মুন্সেফ হিসেবে চাকরি লাভ করেন। তবে ১৯১৭ সালে বসন্ত নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়ে জেলা সমিতি নেতা হয়ে উঠেন।[]

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

১৯২১ সালে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন।[] ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ সিলেটের আইন পরিষদ সদস্য হিসেবে তার প্রচেষ্টার ফলেই সিলেট–শিলং মহাসড়ক ও উমঙ্গট নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়।[] সাম্রাজ্যিক বিধান পরিষদের নিম্নকক্ষ কেন্দ্রীয় বিধানসভার সদস্য হিসেবে বসন্ত প্রদেশটিতে অসমীয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয় মত প্রকাশ করে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশের পরিবর্তিত নাম আসাম প্রদেশের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন।[] ১৯৩২ সালে অসহযোগ আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে তিনি কারাবরণ করেন এবং ১৯৩৪ সালে মুক্তি পান। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হয়ে আসাম বিধানসভার অধ্যক্ষ হন। ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর তিনি আসাম প্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী হন।[] ১৯৪৬ সালে ভারতের গণপরিষদ নির্বাভনে তিনি আসাম প্রদেশ থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ হিসেবে নির্বাচিত হন।[] এপ্রিল ১৯৪৭ সালে আসামের প্রদেশপাল মহম্মদ সালেহ আকবর হায়দারী প্রদেশের অভিবাসী সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে ব্রহ্মপুত্র নদীর উত্তর তীরে অভিবাসীদের বসতি স্থাপন করতে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যার বিরোধিতা বসন্ত তখন করেছিলেন।[] ১৯৪৭ সালে সিলেট গণভোট চলাকালে তিজি সিলেট জেলাকে ভারত অধিরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে গণভোটের ফলাফল পাকিস্তান অধিরাজ্যে যোগদানের পক্ষে যায়।[] ২ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে বসন্তের নেতৃত্বে একাধিক সংগঠনের সদস্য নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল ভারতের উপপ্রধানমন্ত্রী বল্লভভাই পটেলের নিকট সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ভারতের আসাম রাজ্যের বাঙালিদের উপর বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগপত্র পেশ করে।[] ভারত বিভাজনের কিছু পরে তিনি ভারতের আসাম থেকে নবগঠিত পাকিস্তানের পূর্ববঙ্গে (পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তানে) অভিবাসিত হন।[১০] তারপর পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা হন।[][১১] ১৯৫৫ সালে তিনি প্রথম সরকার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হন।[] একই বছরে তিনি নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় জাতীয় পরিষদের সদস্য হন।[১২][১৩] ১৯৫৮ সালে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ফিরোজ খান নুন প্রশাসনের সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের শিক্ষা ও শ্রমমন্ত্রী ছিলেন।[][১৪]

পরবর্তী জীবন, মৃত্যু ও কিংবদন্তি

[সম্পাদনা]

১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্বাচনী সংস্থা অযোগ্যতা আদেশ (এবডো) অনুযায়ী তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।[১৫] এরপর তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বসন্ত ভারতে চলে যান।[১৪] তিনি ১৯ জানুয়ারি ১৯৬৫ সালে ভারতের দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের কাছে তার পুত্রের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।[] তার স্ত্রী সমাজকর্মী কুসুম কুমারী সিলেট মহিলা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।[] বসন্তের মৃত্যুর পর সিলেটের চালিবন্দর এলাকায় অবস্থিত তার বাসভবনটি শত্রু সম্পত্তি আইন, ১৯৬৫-এর আওতায় বাজেয়াপ্ত করা হয়। ১৯৮৩ সালে তার সেই বাসভবনে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।[১৪]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 "পরলোকে শ্রীবসন্ত কুমার দাস"। যুগান্তর পত্রিকা। ২০ জানুয়ারি ১৯৬৫। পৃ. ১, ৭।
  2. 1 2 3 সংসদ বাঙালী চরিতাভিধান। সাহিত্য সংসদ। ১৯৭৬। পৃ. ৩২৯।
  3. রাও, ভি ভেঙ্কট (১৯৬৫)। "CONGRESS POLITICS IN ASSAM"দ্য ইন্ডিয়ান জার্নাল অব পলিটিক্যাল সায়েন্স (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ (৪)। ইন্ডিয়ান পলিটিকাল সায়েন্স এসোসিয়েশন।
  4. "হাজার হাজার পর্যটকের কাছে দৃষ্টিনন্দন ডাউকির ঝুলন্ত সেতু"দৈনিক সংবাদ। ১২ জুলাই ২০২৫।
  5. "How the 1947 Sylhet partition led to Assam's politics of the foreigner"ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ আগস্ট ২০১৮।
  6. "Assam Assembly Votes Against Grouping"। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুলাই ১৯৪৬। পৃ. ১।
  7. হুসেইন, ই। PARLIAMENTARY POLITICS IN ASSAM (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। মৌলানা আজাদ ডিজিটাল লাইব্রেরি।
  8. আবেদীন, মিনহাজুল (১০ ডিসেম্বর ২০২৪)। "সিলেট রেফারেন্ডাম ১৯৪৭: সাম্প্রদায়িক ভোটের ভ্রান্ত ধারণা"বণিক বার্তা
  9. বিশ্বাস, সুকুমার (২০১৭)। আসামে ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি প্রসঙ্গ ১৯৪৭–১৯৬১। পারুল। পৃ. ৪৫–৪৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৬৭০৮-২৫-০
  10. বর্মণ, শিবনাথ (১৯৯২)। অসমীয়া জীৱনী অভিধান (অসমীয়া ভাষায়)। গুয়াহাটি: সোফিয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স। পৃ. ১৮১।
  11. Pakistan Affairs (ইংরেজি ভাষায়)। Information Division, Embassy of Pakistan.। ১৯৪৯। পৃ. ১৯।
  12. Constituent Assembly of Pakistan Debates: Official Report (ইংরেজি ভাষায়)। Manager of Publications.। ১৯৫৬। পৃ. ৩০৪৮।
  13. "গণপরিষদে বিভিন্ন দলের শক্তি নির্বাচিত সদস্যদের নামের তালিকা"। দৈনিক আজাদ। ২৪ জুন ১৯৫৫। পৃ. ৬।
  14. 1 2 3 দত্ত, সংগ্রাম (৩০ অক্টোবর ২০২৫)। "Basanta Kumar Das: Legal Luminary and Political Pioneer of South Asia" (পিডিএফ)কেআরসি টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ১ নং ৬০৭ (পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতীয় সংস্করণ)। শিলচর। পৃ. ২।
  15. ইসলাম, মযহারুল (১৯৭৪)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববাংলা একাডেমী। পৃ. ৩৩৭।