বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর
বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর | |
|---|---|
বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর | |
| জন্ম | ৬ নভেম্বর ১৮৭০ |
| মৃত্যু | ২০ আগস্ট ১৮৯৯ (বয়স ২৮) কলকাতা |
| জাতীয়তা | ভারত |
| নাগরিকত্ব | |
| পেশা | লেখক |
| পিতা-মাতা |
|
| আত্মীয় | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - পিতৃব্য |
| পরিবার | জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি |
বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর ( ৬ নভেম্বর ১৮৭০, - ২০ আগস্ট ১৮৯৯) কলকাতার ঠাকুর পরিবারের সদস্য সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে তিনি ছিলেন নতুন আদর্শের স্থাপয়িতা। [১]
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে। ইংরেজি ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে (১২৭৭ বঙ্গাব্দের ২১ কার্তিক) জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্থ সন্তান বীরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা প্রফুল্লময়ী। অর্থাৎ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেন তার কাকা। পিতা বীরেন্দ্রনাথ প্রাকযৌবনকাল হতেই মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বাড়ির অভিভাবকেরা ভেবেছিলেন বিবাহ দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ২১ বৎসর বয়সে তার বিবাহ হয় প্রফুল্লময়ীর সাথে। বিবাহের আড়াই বছর পর যখন আরো বৃদ্ধি হয়, তাকে আলিপুর লুনাটিক অ্যাসাইলামে পাঠাতে হয় আর প্রফুল্লময়ী তখন সন্তানসম্ভবা। জন্মের পর থেকেই বলেন্দ্রনাথ শারীরিক ভাবে ছিলেন দুর্বল। বাঁকা পা-দুটির জন্য ভাল ভাবে হাঁটতে পারতেন না। কিন্তু তার মনের জোর ছিল। পিতার খারাপ অবস্থা দেখে তার মনে বড় হওয়ার প্রবল আগ্রহ ছিল। লেখাপড়া শিখে মা'র কাছে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতেন। কিন্তু বলেন্দ্রনাথ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন নি তার আঠাশ বছরের স্বল্পায়ুতে।[২] ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে হেয়ার স্কুল হতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।[১]
সাহিত্য কর্ম
[সম্পাদনা]পিতার মস্তিষ্ক বিকারের প্রভাব পড়েছিল বলেন্দ্রনাথের জীবনে। রচনায় ছিল বিষাদের ছায়া। অল্প বয়সে মৃত্যুর ফলে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি। [৩] বলেন্দ্রনাথ প্রবন্ধ রচনার পাশাপাশি কবিতা রচনা করতেন। তবে বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে তিনি এক নতুন আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। তার প্রবন্ধে কবিত্বের ছোঁয়া পাওয়া যায়। কবিত্বময় গদ্যে সাহিত্য ও ললিতকলা বিষয়ক সমালোচনা গ্রন্থ ' চিত্র ও কাব্য' রচনা করেন। তার কাব্যগ্রন্থ দুটি হল - ' মালবিকা' (১৮৯৬) ও 'শ্রাবণী' (১৮৯৭)। তার লেখা প্রবন্ধ ' ভারতী', 'বালক', 'সাহিত্য' প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হত। বলেন্দ্রনাথ ব্রহ্মসঙ্গীতও রচনা করেছেন । কবিগুরুর সাহিত্যকর্মে তিনি তার কাকাকে সহযোগিতাও করেছেন। বলেন্দ্রনাথের স্বল্প রচনাসম্ভারের মধ্যে এক পরিশীলিত, পাঠানুরাগী, দেশবৎসল এবং সৌন্দর্যরসিক মনের পরিচয় পাওয়া যায়। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী বলেন্দ্রনাথের রচনা প্রসঙ্গ লিখেছেন-
এমন সযত্নে গাঁথা শব্দের মালা আমি আর কখনও দেখি নাই।
তাঁরই উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল টেগোর অ্যান্ড কোম্পানি।স্বদেশী ভাণ্ডার লিমিটেডএর জন্য দ্রব্য সামগ্রীর সংগ্রহ, স্বদেশী বস্ত্রের ব্যবসার দেখাশোনা করেছেন তিনি। কুড়ি বছর বয়সে আদি ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম অধ্যক্ষ হন। ঠাকুর পরিবার ব্রাহ্মসমাজভুক্ত হলেও বলেন্দ্রনাথ জীবনের শেষভাগে আর্যসমাজের সাথে ব্রাহ্মসমাজের মিলনের জন্য বহু চেষ্টা করেছেন।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]স্বল্প আয়ু বলেন্দ্রনাথ মাত্র ২৯ বৎসর বয়সে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে র আগস্ট মাসের ২০ তারিখে কলকাতায় প্রয়াত হন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৪৫৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
- ↑ "শরীরের কষ্ট কখনও ক্লান্ত করেনি তাঁকে"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 শিশির কুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃ. ১৩৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-০০৭-৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: চেকসাম পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|আইএসবিএন-ত্রুটি-উপেক্ষা-করুন=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)