বর্ধন কুঠি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বর্ধন কুঠি
অবস্থানগোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা
ধরনপ্রাসাদ

বর্ধন কুঠি (ইংরেজি: Bardhan Kuthi) বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে বর্ধনকুঠির শাসক ছিলেন রাজা হরিনাথভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্তির সময়কালে বর্ধনকুঠির সর্বশেষ রাজা শৈলেশ চন্দ্র বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান। বর্তমানে এই স্থানটি ইতিহাসের স্বাক্ষর বহন করছে। প্রাচীন কাল থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন বর্ধন কুঠিতে তৎকালীন রাজাদের গূরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দলের ঘাঁটি ছিল এখানে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বর্ধন কুঠির প্রাচীন নাম বর্ধন কোট হিসেবে পরিচিত ছিল। এই ঐতিহাসিক স্থানের নাম বর্ধন কোট বা বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কাল-ক্রমে এর নাম পরবর্তীতে বর্ধন কুঠি হয়েছে, এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুজে বের করা বর্তমানে অনেকটা কঠিন হয়ে গিয়েছে। প্রাচীনকালে এই স্থানে বর্ধন নামের একজন শক্থিধর নরপতি বসবাস করতেন এবং তার নামানুসারে এই স্থানের নাম রাখা হয়েছে বর্ধনকোট, যেটি কাল-ক্রমে বর্ধনকুঠিতে প্রকাশিত হয়েছে। এ নাম করনের পিছে অনেকে একথাও মনে করেন, বর্তমানে যেই স্থানটি বর্ধন কুটি নামে পরিচিত, একসময় সেই স্থানে শক্তিদর বর্ধন বংশের কোন একজন উত্তরসুরী এসে (পরবর্তীতে) স্থায়ী-বসতি তৈরি করেন, আর সেই সময় তাদের বংশীয় নামের ইঙ্গিত ধরে তা বর্ধন কুঠি নামে পরিণত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এক সমইয়ে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইদ্রাকপুর পরগানার সদর দফতর ছিলো গোবিন্দগঞ্জের এই বর্ধন কুঠিতে। চতুদর্শ শতকের শেষের সময় রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ ছিলেন দেব বংশীয় এবং পুণ্ড্রবর্ধনের রাজা পরশুরামের বংশধর। রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ থেকে আর্যাবর পর্যন্ত এ পর্যন্ত ১৪৪ জন রাজা বর্ধনকুঠি রাজ্যের শাসন করেছেন, পরবর্তীতে রাজা আর্যাবরের পুত্র রাজা ভগবান এবং ভগবান পুত্র রাজা মনোহর বর্ধন কুঠি শাসনের দায়িত্ব পএছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকের সময়ে অর্থাৎ ১৬০১ সালে রাজা আর্যাবরের পুত্র রাজা ভগবান ১৬০১ সালে বর্ধন কুঠির পাশাপাশি রামপুরের বাসুদেব মন্দির নির্মাণ করেছিলেন, তখন রাজা মানসিংহ বাংলার একজন সুবাদার ছিলেন। ইংরেজদের শাসন আমলে বর্ধন কুঠি জমিদার বাড়ী হিসেবে খ্যাতি পায়। ১৬০৯ সালে রাজা ভগবানের সময়ে সুবাদার ইসলাম খাঁ একজন মানসিংহের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তী ধারাবাহিকভাবে রাজা মনোহরের শিশু পুত্র রঘুনাথের আমলের সময় ১৬৬৯ সালে শাহ্‌ সুজাকে, আওরঙ্গজেবকে ও ১৬৭৫ সালে পুনরায় রঘুনাথের পৌত্র হরিনাথের শাসন কালে প্রবল সার্বভৌম আওরঙ্গজেবকে ক্ষমতার শীর্ষ কেন্দ্র দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। রাজা হরিনাথের প্রপৌত্র রাজা গৌরনাথ কোম্পানির সময়কালে রাজা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। গৌরনাথ ১৭৮১ সালে বর্ধন কুঠিতে তার রাজত্ব চালাতেন। ইংরেজদের ক্ষমতা হিসেবে বেশ খ্যাতি বৃদ্ধির সাথে সাথে বর্ধন কুঠিরের জমিদার পর্যায়ক্রমে রংপুর কালেক্টরেট ও ঘোড়াঘাটকেন্দ্রিক প্রশাসনের অধীনে চলে আসে। ইতিহাসের বিখ্যাত চরিত্র দেবী সিংহের নামে বর্ধন কুঠিতে রক্ষিত সফল রাজাদের নামের তালিকায় যোগ করা হয়েছিল।[১]

১৯৭০ সালে দশ-শালা বন্দোবস্তের সময়কালে বর্ধন কুঠির একজন জমিদার বাকি খাজনার দায়ে বেহাত হয়ে যায়। বর্ধন কুঠির সর্বশেষ রাজা শৈলেশ চন্দ্র ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্তির সময় বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারত চলে যান। ঐতিহাসিক বর্ধন কুঠির রাজবংশের আলোচনার সূত্র ধরে অনায়াসে সমসাময়িক মুঘল শাসন ও শাসকদের সঙ্গে তৎকালীন বাংলার দেশীয় রাজন্যবর্গ-জমিদারদের সম্পর্কের বিষয়ে কিছু শ্রদ্ধেয় জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়।[২]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে এই জায়গায় গোবিন্দগঞ্জ কলেজ স্থাপিত হবার পরবর্তীতে কলেজের ক্যাম্পাসে ক্রমবিস্তার এবং বিভিন্ন কারণে উঁচু বর্ধন কুঠিরের প্রাচীন ভবনগুলো অবহেলায় ধ্বংসের প্রায় শেষ ধাপে এসে গেছে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আবু জাফর সাবু (২২ এপ্রিল ২০১২)। "বর্ধন কুঠি, মীরেরবাগান হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক নিদর্শন, গাইবান্ধার কিংবদন্তির ইতিহাস"dailyjanakantha.comদৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬ 
  2. "এক নজরে গাইবান্ধা জেলার পরিচিতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য!"zoombangladesh.com। আগস্ট ২৮, ২০১৬। ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬ 
  3. "বরক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ বিলুপ্তির পথে"dailysangram.comদৈনিক সংগ্রাম। ৪ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]