বব নিউসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বব নিউসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএডওয়ার্ড সারুরিয়ার বব নিউসন
জন্ম২ ডিসেম্বর, ১৯১০
সী পয়েন্ট, কেপ প্রদেশ
মৃত্যু২৪ এপ্রিল, ১৯৮৮
ডারবান, নাটাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৩৪)
২৪ ডিসেম্বর ১৯৩০ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৩ মার্চ ১৯৩৯ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৪
রানের সংখ্যা ৩০ ৫৫৩
ব্যাটিং গড় ৭.৫০ ১৭.৮৩
১০০/৫০ ০/০ ১/২
সর্বোচ্চ রান ১৬ ১১৪
বল করেছে ৮৭৪ ৪১৪২
উইকেট ৬০
বোলিং গড় ৬৬.২৫ ২৬.০৩
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/৫৮ ৫/৫৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ১৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৫ জুন ২০২০

এডওয়ার্ড সারুরিয়ার বব নিউসন (ইংরেজি: Bob Newson; জন্ম: ২ ডিসেম্বর, ১৯১০ - মৃত্যু: ২৪ এপ্রিল, ১৯৮৮) কেপ প্রদেশের সী পয়েন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ট্রান্সভাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন বব নিউসন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত বব নিউসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে কারি কাপে ট্রান্সভালের পক্ষে প্রথম খেলেন। কিন্তু পড়াশুনো ও কর্মজীবনের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবন ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে মাত্র চারটি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন।

বব নিউসন নিচেরসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০ বছর সময়কাল অতিবাহিত করেন। তবে, দুইবার ছয় বছরের অধিক সময় খেলা থেকে বিরত থাকেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কবলে পড়ে একবার সময় নষ্ট হয় তার। সব মিলিয়ে মাত্র ২৪টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। তিনটি টেস্ট খেলাও এর অন্তর্ভূক্ত।[২]

১৯৩৭-৩৮ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধ্বে ট্রান্সভাল দলের পক্ষে পুণরায় খেলায় অংশ নেন। পরের বছর কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণের পর জাতীয় দলের খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২৪টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.০৩ গড়ে ৬০ উইকেট পান ও ১৭.৮৩ গড়ে ৫৫৩ রান তুলেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে বুলাওয়েতে এমসিসি’র বিপক্ষে রোডেশিয়ার সদস্যরূপে ব্যক্তিগত সেরা ৫/৫৪ পান। পূর্বদিনের ঝড়ে অরক্ষিত পিচের সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় দিন সকালে নিজস্ব প্রথম সাত ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচ করে পাঁচ-উইকেটের সবগুলো লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বব নিউসন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহেন্সবার্গে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

মাত্র তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় ট্রান্সভালের পক্ষে অংশগ্রহণের পর ঠিক ২০ বছর বয়সে ১৯৩০-৩১ মৌসুমে সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত হন। ১৯৮৯ সালে উইজডেনে প্রকাশিত শোকসংবাদে উল্লেখ করা হয় যে, দলে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে তিনি জানতে না। টেস্ট শুরুর সকালে স্বাভাবিকভাবে কাজে যান। খেলা শুরুর সময় মাঠে তার পিতা পোশাক নিয়ে আসেন। তবে, খেলার আনুষ্ঠানিক স্থিরচিত্রে বব নিউসনকে ক্রিকেট আবরণে আচ্ছাদিত অবস্থায় দেখা যায়।[৩]

১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে শেষ উইকেট কুইন্টিন ম্যাকমিলানের সাথে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। নিজে করেন ১০ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা দল ২৮ রানের স্বল্প ব্যবধানের জয় পেলেও তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন ও পরের খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে তাকে বিরত রাখা হয়।[৪] ঐ মৌসুমে তিনি আর কোন খেলায় অংশ নেননি। পরের মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে দুই খেলায় অংশগ্রহণের পর পরবর্তী ছয় বছর ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে সড়ে থাকেন।

অংশগ্রহণকৃত তিন টেস্টেই তিনি বোলিং আক্রমণে নেমেছিলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে জোহেন্সবার্গে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলার আট বছর পর ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে বাদ-বাকী দুই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

ধার করা পোশাক নিয়ে দলের সাথে স্থিরচিত্রে অংশ নেন। উইকেট না পেলেও প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৮১/৯ থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে আরও ৪৫ রান যুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন। ১০ রান করে মরিস টেটের বলে আউট হন। উভয় ইনিংসে একটি করে উইকেট পান। ৫৮ রান খরচায় দুই উইকেট লাভ করেন। ওভার প্রতি রান খরচায় দলের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলারের মর্যাদা লাভ করেন। সব মিলিয়ে চার উইকেট লাভে উইকেট প্রতি ৬৬.২৫ রান খরচ করেছিলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে ইংরেজ দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমনে আসে। সিরিজের চতুর্থ ও পঞ্চম টেস্টে খেলার সুযোগ পান। এ পর্যায়ে তিনি ২১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন ও সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৪/৫১। ড্র হওয়া চতুর্থ টেস্টের উভয় ইনিংসে একটি করে উইকেট লাভ করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান তুলেছিলেন।[৫]

সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টটি অসীম সময়ের ছিল। দশদিন ধরে ক্রিকেট খেলার পর টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়। তন্মধ্যে অবশ্য একদিন বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। এ পর্যায়ে জাহাজে চড়ে দেশে ফেরার তাড়া ছিল ইংল্যান্ড দলেন। বব নিউসন ১ ও ৩ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট লাভ করেন। কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সংগৃহীত ৬৫৪/৫ রান সংগ্রহে তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন।[৬] ১৯৩৯-৪৯ মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে আরও দুইটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

অবসর[সম্পাদনা]

বিশ্বযুদ্ধের পর রোডেশিয়া দলের পক্ষে অল-রাউন্ডার হিসেবে চার মৌসুম খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে রোডেশিয়ার পক্ষে একটি খেলায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৪ রান তুলেন।[৭] এর দুই মৌসুম পর ইংরেজ দল রোডেশিয়া গমনে আসে। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, একটিতে ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এটিই তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র ঘটনা ছিল।[৮]

২৪ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে ৭৭ বছর বয়সে নাটালের ডারবান এলাকায় বব নিউসনের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bob Newson"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  2. "First-class matches played by Bob Newson"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  3. "Obituary"। Wisden Cricketers' Almanack (1989 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 1172–3। 
  4. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৩০। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  5. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  6. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ৩ মার্চ ১৯৩৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  7. "Scorecard: Griqualand West v Rhodesia"। www.cricketarchive.com। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 
  8. "Scorecard: Rhodesia v MCC"। www.cricketarchive.com। ২৯ জানুয়ারি ১৯৪৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]