বন (ধর্ম)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইউংদ্রুং, একটি বাম দিকে মুখী স্বস্তিকা চিহ্ন, যা বন ধর্মের একটি পবিত্র চিহ্ন হিসেবে পরিগ্ণিত হয়।[১]

বন, Bön[২] (তিব্বতি: བོན་ওয়াইলি: bon, লাসা উপভাষা আইপিএ: [pʰø̃̀]བོན་তিব্বতি: བོན་ওয়াইলি: bon, লাসা উপভাষা আইপিএ: [pʰø̃̀]Lhasa dialectতিব্বতি: བོན་ওয়াইলি: bon, লাসা উপভাষা আইপিএ: [pʰø̃̀]), একটি তিব্বতীয় ধর্ম। যদিও এই ধর্মের দীক্ষা তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের মতই, তবে এর অনুসারীরা বন ধর্মকে একটি ভিন্ন ধর্ম হিসেবেই ব্যাখ্যা করে। স্যাম ভ্যান শাইকের মতে " বাস্তবিক অর্থে 'পুরনো ধর্ম'টি একটি নতুন ধর্ম ছিলো।"[৩][৪] বন ধর্মের বাণীসমূহ 'লুকায়িত দীক্ষা' এবং উদ্দেশ্য গ্তের-স্তোন (যেমন: লদেন নিয়িংপো) কর্তৃক রচিত।[৩]

প্রতীক[সম্পাদনা]

বনের সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

১১শ শতকের দিকে বন ধর্মের বিকাশ ঘটে। গ্তের-স্তোন কর্তৃক আবিষ্কৃত বাণী বন ধর্ম বিকাশে অবদান রেখেছে। শ্যাম ভ্যান শাইক, তিব্বতীয় বৌদ্ধ ধর্ম ও বন ধর্মকে একই কাতারে ফেলা অনুচিত বলে মন্তব্য করেন। 

Though some people call the old pre-Buddhist religion of Tibet "Bon", it is unlikely that before Buddhism the Tibetans had a clear sense of practising a religion as such, or a specific name for these practices. In fact, the Bonpo religion only started to take shape alongside the revival of Buddhism in the eleventh century. And when the scriptures of the Bonpo started to appear in Tibet, it was mainly through the work of tertöns.[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পত্তন[সম্পাদনা]

তোনপা শেন্রাব মিউওকের পুরাণের সাথে বন ধর্মের তিনটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থেরর সম্পর্ক দৃশ্যমান। দু দুস (mdo 'dus) যের মিগ gzer mig) এবং যি ব্রিজ (gzi brjid) —এই তিন ধর্মগ্রন্থের মাঝে প্রথম দুইটি গতের মা ১০ম শতক এবং ১১শ শতকের দিকে পুনঃআবিষ্কার করেন। শেষের ধর্মগ্রন্থটি ১৪শ শতকের দিকে লদেন নিয়িংপো কর্তৃক মুখে মুখে প্রচারিত হয়।[৫] এই শতকেই লদেন নিয়িংপো প্রতিভা (ওয়াইলি: gzi brjid), নামের ধর্মীয় বাণীমালার সূচনা করেন। এতে তোনপা শেনরাবের গল্প উঠে আসে। যদিও তিনি বন্ধর্মের প্রথম গ্তের-স্তোন নন, তবুও তার ধর্মগ্রন্থ বন ধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মীয়গ্রন্থ হয়ে ওঠে। এই ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্য অনুযায়ী শেনরাব একদা দৈত্য কর্তৃক চুরি হয়ে যাওয়া ঘোড়া খুঁজতে বের হলে বন ধর্মের সূচনা করেন। পুরাণ মতে, শেনরাবের জন্ম তাকজিগ ওলমো লুং রিঙ্গঞ্চলে যা ঐতিহ্যগতভাবে ইয়ুং-দ্রুং-গু-যেগ পর্বত এবং কৈলাস পর্বত ( খুব সম্ভবত ) নামে স্বীকৃত। এই দুই পর্বতে পবিত্রতাকে বিবেচনায় রেখে, বন ধর্ম বিশ্বাসীরা নয় সংখ্যাটিকে এবং স্বস্তিকা চিহ্নকে সৌভাগ্য়ের প্রতীক এবং গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। [কার মতে?]

১৮শ শতক[সম্পাদনা]

১৭১৭ সালে যুনগার জনবল কর্তৃক তিব্বত আক্রান্ত হয়। এসময় ততকালীন তিব্বতের নামমাত্র রাজা লাবযাং একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে দলাই লামার স্থানে নিযুক্ত করেন। খুব শীঘ্রই লাসার পবিত্র জায়গায় লুটপাট শুরু হয়। ফলে ১৭১৮ সালে কাংসি সম্রাট কর্তৃক একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়। অবশ্য লাসার নিকটবর্তী এলাকাতেই কাংসি সম্রাটের সেনাবাহিনী যুনগারদের দ্বারা পরাজিত হয়।[৬][৭]

বহু র্ন্যিং-মা এবং বনধর্মালম্বী এসময়ে যুনগারদের দ্বারা নিহত হয়। যুনগারের কর্মকর্তাদের ভাষ্যে, র্ন্যিং-মা এবং বনধর্মালম্বীরা এক নাগাড়ে নিজ নিজ ধর্মীয় মন্ত্র আওড়ানোর ফলে তাদের জিভ কালো বা বাদামী বর্ণ হয়ে যেতো। তাই তিব্বত পরিদর্শনে আগত যুনগার কর্মকর্তারা লাসার মানুষদের জিভ জোর করে বের করে র্ন্যিং-মা এবং বনধর্মালম্বীদের আলাদা করে হত্যা করতো। [৮]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

চীনের সাম্প্রতিক আদমশুমারি অনুযায়ী, ১০ শতাংশ তিব্বতী জনগণ বন ধর্মে বিশ্বাসী। গণচীনে তিব্বতের অন্তর্ভুক্তির পরে অন্তত তিনশত বন ধর্মীয় গুরু তিব্বতে ছিলেন এবং অন্যান্যরা পশ্চিম চীনে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুসারে ২৬৪ জন সক্রিয় বন ধর্মীয় গুরু আছেন। [কখন?][কখন?]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. William M. Johnston (২০০০)। Encyclopedia of Monasticism। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 169–171। আইএসবিএন 978-1-57958-090-2 
  2. Keown, Damien (২০০৩)। Oxford Dictionary of Buddhism। Oxford University Press। আইএসবিএন 0-19-860560-9 
  3. Van Schaik, Sam. Tibet: A History. Yale University Press 2011, pages 99-100.
  4. Sam van Schaik describes "In fact, the Bonpo religion only started to take shape alongside the revival of Buddhism in the eleventh century." - Tibet: A History. Yale University Press 2011, p. 99.
  5. Karmay, Samten G. A General Introduction to the History and Doctrines of Bon, The Arrow and the Spindle. Kathmandu: Mandala Book Point. pp. 108–113. [originally published in Memoirs of the Research Department of the Toyo Bunko, No. 33. Tokyo, 1975.]
  6. Richardson, Hugh E. (1984). Tibet and its History. Second Edition, Revised and Updated, pp. 48–9. Shambhala. Boston & London.
  7. Stein, R. A. Tibetan Civilization. (1972), p. 85. Stanford University Press.
  8. Norbu, Namkhai. (1980). “Bon and Bonpos”. Tibetan Review, December, 1980, p. 8.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Karmay, Samten G. (1975). A General Introduction to the History and Doctrines of Bon. Memoirs of the Research Department of the Toyo Bunko, No. 33, pp. 171–218. Tokyo.

আরো তথ্য জানতে[সম্পাদনা]

  • Allen, Charles. (1999). The Search for Shangri-La: A Journey into Tibetan History. Little, Brown and Company. Reprint: Abacus, London. 2000. আইএসবিএন ০-৩৪৯-১১১৪২-১0-349-11142-1.
  • Baumer, Christopher. Bon: Tibet’s Ancient Religion. Ilford: Wisdom, 2002. আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৪-৫২৪-০১১-৭978-974-524-011-7.
  • Bellezza, John Vincent. Spirit Mediums, Sacred Mountains and Related Bön Textual Traditions in Upper Tibet. Boston: Brill, 2005.
  • Bellezza, John Vincent. “gShen-rab Myi-bo, His life and times according to Tibet’s earliest literary sources”, Revue d’études tibétaines 19 (October 2010): 31–118.
  • Ermakov, Dmitry. Bѳ and Bön: Ancient Shamanic Traditions of Siberia and Tibet in their Relation to the Teachings of a Central Asian Buddha. Kathmandu: Vajra Publications, 2008.
  • Günther, Herbert V. (1996). The Teachings of Padmasambhava. Leiden–Boston: Brill.
  • Gyaltsen, Shardza Tashi. Heart drops of Dharmakaya: Dzogchen practice of the Bon tradition, 2nd edn. Trans. by Lonpon Tenzin Namdak. Ithaca, NY: Snow Lion, 2002.
  • Hummel, Siegbert. “PE-HAR.” East and West 13, no. 4 (1962): 313–6.
  • Jinpa, Gelek, Charles Ramble, & V. Carroll Dunham. Sacred Landscape and Pilgrimage in Tibet: in Search of the Lost Kingdom of Bon. New York–London: Abbeville, 2005. আইএসবিএন ০-৭৮৯২-০৮৫৬-৩0-7892-0856-3
  • Kind, Marietta. The Bon Landscape of Dolpo. Pilgrimages, Monasteries, Biographies and the Emergence of Bon. Berne, 2012, আইএসবিএন ৯৭৮-৩-০৩৪৩-০৬৯০-৪978-3-0343-0690-4.
  • Lhagyal, Dondrup, et al. A Survey of Bonpo Monasteries and Temples in Tibet and the Himalaya. Osaka 2003, আইএসবিএন ৪৯০১৯০৬১০০4901906100.
  • Martin, Dean. “'Ol-mo-lung-ring, the Original Holy Place”, Sacred Spaces and Powerful Places In Tibetan Culture: A Collection of Essays, ed. Toni Huber. Dharamsala, H.P., India: The Library of Tibetan Works and Archives, 1999, pp. 125–153. আইএসবিএন ৮১-৮৬৪৭০-২২-০81-86470-22-0.
  • Namdak, Yondzin Lopön Tenzin. Masters of the Zhang Zhung Nyengyud: Pith Instructions from the Experiential Transmission of Bönpo Dzogchen, trans. & ed. C. Ermakova & D. Ermakov. New Delhi: Heritage Publishers, 2010.
  • Norbu, Namkhai. 1995. Drung, Deu and Bön: Narrations, Symbolic languages and the Bön tradition in ancient Tibet. Translated from Tibetan into Italian edited and annotated by Adriano Clemente. Translated from Italian into English by Andrew Lukianowicz. Library of Tibetan Works and Archives, Dharamsala, H.P., India. আইএসবিএন ৮১-৮৫১০২-৯৩-৭81-85102-93-7.
  • Pegg, Carole (2006). Inner Asia Religious Contexts: Folk-religious Practices, Shamanism, Tantric Buddhist Practices. Oxford University Press.
  • Peters, Larry. Tibetan Shamanism: Ecstasy and Healing. Berkeley, Cal.: North Atlantic Books, 2016.
  • Rossi, D. (1999). The philosophical view of the great perfection in the Tibetan Bon religion. Ithaca, New York: Snow Lion. The book gives translations of Bon scriptures "The Twelve Little Tantras" and "The View Which is Like the Lion's Roar".
  • Samuel, Geoffrey (1993). Civilised Shamans. Smithsonian Institution Press.
  • https://web.archive.org/web/20070928062536/http://www.sharpham-trust.org/centre/Tibetan_unit_01.pdf (accessed: Thursday January 18, 2007)
  • Tenzin Wangyal Rinpoche (2002). Healing with Form, Energy, and Light. Ithaca, New York: Snow Lion Publications. আইএসবিএন ১-৫৫৯৩৯-১৭৬-৬1-55939-176-6
  • Yongdzin Lopön Tenzin Namdak Rinpoche (2012). Heart Essence of the Khandro. Heritage Publishers.
  • Ghulam Hassan Lobsang, Skardu Baltistan, Pakistan,1997. " History of Bon Philosophy " written in Urdu/Persian style. The book outlines religious and cultural changes within the Baltistan/Tibet/Ladakh region over past centuries and explores the impact of local belief systems on the lives of the region's inhabitants in the post-Islamic era.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

(তিব্বতি)

গবেষণা