বনু কাব
| বনু কাব بنو كعب | |
|---|---|
| বেদুইন আরব গোত্র | |
| নৃগোষ্ঠী | আরব |
| অবস্থান | আরব উপদ্বীপ, ইরাক, কুয়েত, খুজিস্তান |
| এর বংশ | কা‘ব ইবনে রাবি‘আ ইবনে আমির ইবনে সা‘সা‘আ |
| প্রধান উপজাতি | বনু আমির |
| শাখা | বনু উকাইল বনু কুশাইর |
| ভাষা | আরবি (নাজদি, উপসাগরীয় আরবি ভাষা, ইরাকি) |
| ধর্ম | ইসলাম (সুন্নি, শিয়া) |
বনু কাব ( আরবি: بنو كعب ) একবচন কাবি [১] ( আরবি : الكعبي) হল একটি যাযাবর আরব উপজাতি। এরা আরব উপদ্বীপের নাজদ অঞ্চল থেকে এসেছে। বর্তমানে তারা সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং ইরান ( খুজেস্তান ) এলাকায় বসবাস করে। [২] তারা প্রায়শই দক্ষিণ ও মধ্য অটোমান ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে, বসরা এবং নাসিরিয়াহের মতো শহরে এবং সীমান্তের ওপারে ইরানের আধুনিক খুজেস্তান প্রদেশে, বিশেষ করে আল-মুহাম্মারাহ শহরের কাছে অভিযান চালাত। তারপর বসতি স্থাপন করত। ১৮শ শতকের শুরু থেকে ইরাকের বনু কাব সুন্নি ইসলাম থেকে শিয়া ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়। [৩] বনু কাবের অন্যান্য গোত্র ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত,[৪] এবং মরক্কোতে বসতি স্থাপন করে। [৫] ওমান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বনু কাব সুন্নি ইসলাম ধর্ম পালন করে। ইরাকের বনু কা’ব শিয়া ইসলাম মেনে চলে।
১৮শ শতকের মাঝামাঝি বনু কা’বের শক্তিশালী নৌবাহিনী ছিল। এরা কখনো ব্রিটিশ জাহাজে হামলা করত। উসমানীয় সাম্রাজ্য ও কাজার ইরানের পক্ষে বা বিপক্ষে লড়ত। ১৮১২ সালে মুহাম্মারাহ আমিরাত বনু কা’বের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত আমিরাত হয়। [৬] বনু কাব গোত্রের গোত্রীয় পতাকা ছিল হলুদ বা লাল রঙের, যার উপর গোত্র এবং শাখা-প্রশাখার কথা লেখা ছিল। [৪]
এরা কুয়েত শেখদের নৌবাহিনীর সঙ্গে রিক্কায় লড়াই করে। বনু কা’বের শেখ বারাকাত কুয়েতের এক শেখের মেয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কুয়েতের শেখ রাজি না হলে বারাকাত রেগে যান। তিনি কুয়েতে হামলা করেন। কিন্তু তাঁর জাহাজ অগভীর পানিতে আটকে যায়। এই লড়াইয়ে কেউ মারা যায়নি।কারণ তারা বনু কাবের আটকে পড়া জাহাজ থেকে যা সম্ভব উদ্ধার করেছিল। শেখ বারাকাত কুয়েত আক্রমণ করার জন্য আরও লোক সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার অযোগ্যতার জন্য এবং তুচ্ছ কিছুর জন্য তার উপজাতিদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলায় জনগণ তাকে হত্যা করে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
বংশ
[সম্পাদনা]কাব ইবনে রাবিয়াহ ইবনে আমের ইবনে সাসাআ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন ইবনে মনসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসফা ইবনে কাইস আইলান ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মাআদ ইবনে আদনান। [৭]
অভিবাসন
[সম্পাদনা]ষষ্ঠ শতকে বনু কা’ব আল-আফলাজ থেকে চলে যায়। এর কারণ ছিল:
- বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিজয়। বনু কাবের অধিকাংশই ছিল যোদ্ধা। তাই তারা সেইসব অঞ্চলে চলে যায় যেখানে আল্লাহ মুসলমানদের আশীর্বাদ করেছিলেন।
- নজদ অঞ্চলে খরা আঘাত হানে। ফলে অনেক গোত্র দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
বনু কা’ব নাজদ থেকে চলে যায়। কিছু ইরাকে যায়, যারা আহওয়াজ শাসন করে। তাদের শেষ রাজা খাজাল আল-কাবি ১৩৪৩ হিজরি (১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে) পারস্য শাসকের দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন। কিছু উত্তর মরক্কো (তিউনিসিয়া) ও ওমানের পাহাড়ে যায়। এরা কাতার ও বাহরাইনে আছে, যাদের আল-কাবান বলে। তাদের মূল ওমানের বনু কাব থেকে এসেছে। [৮]
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা
[সম্পাদনা]উপজাতির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- আল-নাবিগা আল-জা'দি, প্রাথমিক ইসলামী কবি এবং মুহাম্মদের সাহাবী
- খাজাল ইবনে জাবির, মুহাম্মদ আমিরাতের শেষ শাসক
- আইয়ুব এল-কাবি, মরক্কোর ফুটবলার
- আহমেদ আল-কাবি, ওমানি ফুটবলার
- সাদ শেরিদা আল-কাবি, কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী
- আকরাম আল-কাবি, ইরাকি জঙ্গি নেতা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Heard-Bey, Frauke (২০০৫)। From Trucial States to United Arab Emirates: A Society in Transition (ইংরেজি ভাষায়)। Motivate। পৃ. ৫০৮। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৬০৬৩১৬৭২।
- ↑ Sáenz, Rogelio; Embrick, David G. (৩ জুন ২০১৫)। The International Handbook of the Demography of Race and Ethnicity (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃ. ৩৬৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৪৮১-৮৮৯১-৮।
- ↑ Nakash, Y. (২০০৩)। The Shi'is of Iraq। Book collections on Project MUSE। Princeton University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-১১৫৭৫-৭।
- 1 2 RamHormozi, H. (২২ এপ্রিল ২০১৬)। Averting An Iranian Geopolitical Crisis: A Tale of Power Play for Dominance Between Colonial Powers, Tribal and Government Actors in the Pre and Post World War One Era (ইংরেজি ভাষায়)। FriesenPress। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৬০২-৮০৬৬-৯।
- ↑ Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain and Ireland (ইংরেজি ভাষায়)। Royal Asiatic Society of Great Britain & Ireland। ১৮৮৬। পৃ. ৪৯২।
- ↑ Abdulghani, J. M. (২০১১)। Iraq & Iran the years of crisis। Routledge। পৃ. ১২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-২৮০-৬৭০১৬-৯। ওসিএলসি 1162444426।
- ↑ عمر رضا كحالة (1994)، معجم قبائل العرب القديمة والحديثة، بيروت: مؤسسة الرسالة، ج. 3، ص. 985، OCLC:4770769115، QID:Q120985090 – عبر المكتبة الشاملة।
- ↑ Fahd Al-Fars, Mr. Mohammed (২০২০)। قبيلة بنو كعب: التاريخ السياسي والاجتماعي في شبه الجزيرة العربية والخليج العربي (Arabic ভাষায়) (1st সংস্করণ)। Arab Encyclopedia House। পৃ. ৩৯–৪০। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪-৪২৪-৩৩৯-৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Abu-Hakima, A.M. (১৯৬০)। "Banū Kaʿb"। Gibb, H. A. R.; Kramers, J. H.; Lévi-Provençal, E.; Schacht, J.; Lewis, B.; Pellat, Ch. (সম্পাদকগণ)। The Encyclopaedia of Islam, New Edition, Volume I: A–B। Leiden: E. J. Brill।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|lastauthoramp=উপেক্ষা করা হয়েছে (|name-list-style=প্রস্তাবিত) (সাহায্য); অবৈধ|ref=harv(সাহায্য) - Floor, Willem (২০০৬)। "The Rise and Fall of the Banū Kaʿb. A Borderer State in Southern Khuzestan": ২৭৭–৩১৫। ডিওআই:10.1080/05786967.2006.11834690।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য)