বদরুল আলম (ভাষা সৈনিক)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বদরুল আলম
জন্ম১৯২৯
মৃত্যু১০ ডিসেম্বর ১৯৮০
মাতৃশিক্ষায়তনঢাকা মেডিকেল কলেজ
পুরস্কারএকুশে পদক (২০১৪)

বদরুল আলম (১৯২৯ – ১০ ডিসেম্বর ১৯৮০) বাংলাদেশের একজন ভাষা সৈনিক, চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষায়তনিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রথম শহিদ মিনারের নকশা করেছিলেন।[১][২][৩] ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়েছিল।[৪]

জীবনী[সম্পাদনা]

বদরুল আলম ১৯২৯ সালে শেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন।[৫] তার বাবার নাম নাসির উদ্দিন আহমদ ও মায়ের নাম তহুরুন্নেছা। তার পৈতৃক নিবাস নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।[৫] এরপর, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।[৫] তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রথম শহিদ মিনারের নকশা করেছিলেন।

পড়াশোনা শেষ করার পর বদরুল আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজে চাকরির জন্য আবেদন করেন কিন্তু, পদ খালি না থাকায় তিনি চাকরি পান নি।[৫] এরপর, তিনি পশ্চিম পাকিস্তান গমন করেন ও সেখানকার আদোয়ালের একটি হাসপাতালে চাকরি করা শুরু করেন। তারপর, ১৯৫৭ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পেশাওয়ারের একটি মেডিকেল কলেজে ১৯৫৭ সালে এনাটমি বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন।[৫] ১৯৬১ সালে তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্য গমন করেন। ১৯৬৭ সালে নিজ দেশে ফিরে আসেন তিনি।[৫]

১৯৭০ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বদরুল আলম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।[৫] ১০ বছর সেখানে চাকরি করার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়।

বদরুল আলম ১৯৮০ সালের ১০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।[৫] মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ভাঙাগড়ার শহীদ মিনার"প্রথম আলো। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০ 
  2. "নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ইতিহাস"একুশে টেলিভিশন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০ 
  3. "ডাকি শহীদ মিনার বলে"কালের কণ্ঠ। ১৭ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০ 
  4. "একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ" (PDF)সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০ 
  5. "ডা. বদরুল আলম"ভোরের কাগজ। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২০