বকাসুর
| বকাসুর | |
|---|---|
ক্ষুধার্ত বকাসুরের সনে ভীমের সাক্ষাৎ | |
| অন্তর্ভুক্তি | রাক্ষস |
| গ্রন্থসমূহ | মহাভারত |
| অঞ্চল | একচক্রপুর |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | গড়বেতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত |
| সহোদর | কিরমির (ছোট ভাই) |
বকাসুর (সংস্কৃত: बकासुर), যাকে বক নামেও লেখা হয়, হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতের এক রাক্ষস । এই রাক্ষস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গড়বেতা শহরের নিকটে অবস্থিত “গঙ্গানি” নামক একটি বনে বাস করত। বহিশত্রুর হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করার বিনিময়ে, সে ইচ্ছামতো নাগরিকদের ভক্ষণ করে তাদের উপর অত্যাচার চালায়। দুর্বল রাজা তার কাছে বড়ই অসহায়। প্রজারা তাদের এই অত্যাচারীর সাথে একটি সমঝোতায় আসে। তারা প্রতি সপ্তাহে তাকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য পাঠাবে, যা সে সেই গাড়োয়ান সহ ভক্ষণ করবে।[১] যখন তাদের ব্রাহ্মণ আশ্রয়দাতার গাড়োয়ান খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার পালা আসে, তখন তার জীবন বাঁচানোর জন্য ভীমকে তার মা কুন্তীর নির্দেশে বকাসুরকে হত্যা করতে পাঠানো হয়।[২]
ভীম কর্তৃক বকাসুর বধের ঘটনাটি ভীমনা অমাবস্যার দিনে স্মরণ করা হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ভীমের হিড়িম্বার সঙ্গে বিবাহের পর পাণ্ডব ও কুন্তী একচক্রপুরে গমন করে এবং এক ব্রাহ্মণ পরিবারে সাদরে গৃহীত হন। একদিন কুন্তী সেই পরিবারের সদস্যদের বিলাপ শুনতে পান এবং তাদের দুঃখের কারণ বুঝতে উৎসুক হন। তিনি গৃহস্বামীটিকে তার দুঃখের কথা বলতে শোনেন যে, স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করার জন্য তাকে আত্মত্যাগ করতে হবে। তার স্ত্রী, কন্যা এবং পুত্র সকলেই পরিবারের জন্য আত্মত্যাগ করতে ইচ্ছা পোষণ করছিল। কৌতূহলী হয়ে কুন্তী তাদের কাছে গিয়ে তাদের দুঃখের কারণ জিজ্ঞেস করেন। ব্রাহ্মণ তাকে বকাসুর নামক এক রাক্ষসের কথা জানান, যে প্রতি সপ্তাহে এক গাড়ি বোঝাই খাদ্য সরবরাহের বিনিময়ে বহিশত্রুর হাত থেকে প্রজাদের রক্ষা করত। যে ব্যক্তি সেই খাদ্য নিয়ে যেত, তাকেও রাক্ষসটি খেয়ে ফেলত। বিচলিত হয়ে কুন্তী ঘোষণা করেন যে, এই প্রাণীর অত্যাচারের জন্য কোনো ব্রাহ্মণের প্রাণ সংশয় হওয়া উচিত নয় এবং তাদের পরিবর্তে তার পুত্র ভীম যাবে। তিনি ব্রাহ্মণদের আশ্বস্ত করেন যে ভীম অত্যন্ত পরাক্রমশালী। আশ্রয়দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ভীম তৎক্ষণাৎ রাক্ষসটিকে পরাজিত করতে রাজি হলেন। সেই রাতে, রাক্ষসের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য খাবার দিয়ে তাকে পাঠানো হলো এবং তিনি সেই খাবার বোঝাই গাড়ি বয়ে নিয়ে বনে গেলেন, যেখানে বকাসুর বাস করত। খাবারের সুগন্ধে দ্বিতীয় পাণ্ডব মত্ত হয়ে তিনি তা খেতে শুরু করলেন। বকাসুর যখন লক্ষ করল তার জন্য আনীত খাবার ফুরিয়ে যাচ্ছে, তখন সে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল এবং ভীমকে আক্রমণ করতে ধাবিত হল। তারা দুজনেই গাছ উপড়ে উঠিয়ে একে অপরের প্রতি ছুঁড়ে মারতে লাগল এবং তারপর একে অপরকে মাটিতে ঘষটাতে লাগল। অবশেষে, বকাসুর ক্লান্ত হয়ে পড়ল এবং ভীম তার হাঁটু দিয়ে বকাসুরের মেরুদণ্ডে আঘাত করতে সক্ষম হলেন, যার ফলে তার শরীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। যখন বকাসুরের স্বজন ও পরিবার এসে এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, তখন ভীম তাদের আশ্বাস দিল যে তারা যদি মানুষের মাংস পরিত্যাগ করে তবে তারা নিরাপদ থাকবে, এবং তারা তাতে রাজি হলো। ভীম গোপনে বকাসুরের মৃতদেহটি নগরদ্বারের কাছে মালবাহী গাড়ির উপর রাখল এবং কৃতজ্ঞ ব্রাহ্মণদের কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করল।[৩][৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ www.wisdomlib.org (১৫ জুন ২০১২)। "Bakasura, Bakāsura: 4 definitions"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ Gopal, Madan (১৯৯০)। India through the ages। Publication Division, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃ. ৭৫।
- ↑ Dharma, Krishna (১৮ আগস্ট ২০২০)। Mahabharata: The Greatest Spiritual Epic of All Time (ইংরেজি ভাষায়)। Simon and Schuster। পৃ. ৭৭–৮১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৮৩৮৩-৯২০-০।
- ↑ Mittal, J. P. (২০০৬)। History of Ancient India (A New Version) (ইংরেজি ভাষায়)। Atlantic Publishers & Dist। পৃ. ৪৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৬৯-০৬১৬-১।