বিষয়বস্তুতে চলুন

ফ্রেড ম্যাকগ্র ডনার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফ্রেড ম্যাকগ্র ডনার
জন্ম১৯৪৫ (বয়স ৮০৮১)
ওয়াশিংটন, ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র
মাতৃশিক্ষায়তনপ্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণইসলামি অধ্যয়ন; কুরআনিক (ইসলামি) অধ্যয়ন; ধর্মগ্রন্থের তাফসির; ইসলামের উৎস সম্পর্কে গবেষণা
পুরস্কারগুগেনহাইম ফেলো (২০০৭)
তিউনিসীয় বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলা একাডেমির সদস্য
বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন
কর্মক্ষেত্রইসলামি অধ্যয়ন
প্রতিষ্ঠানসমূহশিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়;
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়;
এরলাংগেন-ন্যুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

ফ্রেড ম্যাকগ্র ডনার (জন্ম ১৯৪৫) একজন ইসলাম বিষয়ক গবেষক এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার বি. রিটজমা নিয়ার ইস্টার্ন হিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক।[][] তিনি প্রাথমিক ইসলামি ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বই প্রকাশ করেছেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

প্রাথমিক জীবন ও পড়াশোনা

[সম্পাদনা]

ডনার ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন বাস্কিং রিজ, নিউ জার্সিতে। সেখানে তিনি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তিনি ১৯৬৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচ্যবিদ্যায় ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তার পড়াশোনায় বিরতি দিয়ে লেবাননের শিমলান গ্রামে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্র (MECAS)-এ আরবি ভাষা অধ্যয়ন করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এরপর তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৬৯-১৯৭০ সালে জার্মানির হেরৎসোগেনাউরাখে মার্কিন সেনা নিরাপত্তা সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৭০-১৯৭১ সালে জার্মানির ফ্রিডরিখ-আলেকজান্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্য ভাষাতত্ত্ব (ফিলোলজি) বিষয়ে এক বছর অধ্যয়ন করেন। তারপর তিনি ডক্টরেট গবেষণার জন্য আবার প্রিন্সটনে ফিরে যান।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৭৫ সালে তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ বিভাগে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

ডনার ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস পড়িয়েছেন। ১৯৮২ সালে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউট ও নিয়ার ইস্টার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিভাগে যোগ দেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

২০০৭ সালে তিনি গুগেনহাইম ফেলোশিপ লাভ করেন।[] এই ফেলোশিপের মাধ্যমে তিনি সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ইসলামি যুগের আরবি প্যাপিরাস নিয়ে প্যারিস, ভিয়েনা, অক্সফোর্ড ও হাইডেলবার্গের সংগ্রহাগারে গবেষণা করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

পদবিসমূহ

[সম্পাদনা]

ডনার ১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য মধ্যযুগীয়বিদদের (MEM) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আল-উসুর আল-ওস্তা: দ্য বুলেটিন অফ মিডল ইস্ট মেডিয়েভালিস্টস পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।[]

তিনি মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন সমিতির (MESA) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।[] তিনি ১৯৭৫ সাল থেকে MESA-র সদস্য, এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে ১৯৯২-১৯৯৪ মেয়াদে কাজ করেছেন, এবং ২০০৮ সালে MESA-র জেরি এল. বাখারাখ সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।[]

MEM এবং MESA-র পাশাপাশি ডনার দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান ওরিয়েন্টাল সোসাইটিরও সদস্য।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

গবেষণা

[সম্পাদনা]

ডনারের লেখা বই দি আর্লি ইসলামিক কনকুয়েস্টস (The Early Islamic Conquests) ১৯৮১ সালে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।[] এছাড়া তিনি ১৯৯৩ সালে আত-তাবারির ইতিহাস গ্রন্থের একটি খণ্ডের অনুবাদও প্রকাশ করেন।[]

তার লেখা ন্যারেটিভস অব ইসলামিক অরিজিন্স (Narratives of Islamic Origins, ১৯৯৮) বইয়ে তিনি কুরআনের মূল লেখার সময়কাল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বিশেষ করে জন ওয়ান্সব্রো এবং ইয়েহুদা ডি. নেভো-র কুরআনের বিলম্বিত সংকলন সংক্রান্ত তত্ত্বের বিরোধিতা করেছেন।[] এই বইয়ে তিনি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন যে, প্রাথমিক ইসলামি সম্প্রদায়ের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা কীভাবে ইসলামের ঐতিহাসিক লেখার মূল বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষত নবুয়ত, সম্প্রদায়, আধিপত্য এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ডনারের মুহাম্মাদ অ্যান্ড দ্য বিলিভার্স: অ্যাট দ্য অরিজিনস অব ইসলাম (Muhammad and the Believers: At the Origins of Islam) বইটি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ২০১০ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে তিনি ইসলাম হিসেবে পরিচিত ধর্মীয় আন্দোলনের প্রাথমিক বছরগুলোর ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ডনারের মূল যুক্তি হলো, ইসলাম ধর্ম হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগে মুহাম্মাদের নেতৃত্বে এটি একটি একেশ্বরবাদী "বিশ্বাসীদের আন্দোলন" হিসেবে শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে ধার্মিক খ্রিস্টান, ইহুদি এবং একেশ্বরবাদীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা কুরআনের শিক্ষা অনুসরণ করত। কেবল আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের (৬৮৫-৭০৫) শাসনামলে এসে ইসলাম ধর্ম খ্রিস্টান ও ইহুদিদের থেকে স্বতন্ত্র হয়ে উঠে।[] এই যুক্তিটি তিনি সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত Late Antiquity and Early Islam ওয়ার্কশপে উপস্থাপন করেন এবং পরে এটি একটি প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়।[১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 NELC Department Faculty list at University of Chicago
  2. "Faculty members receive named, distinguished service professorships"University of Chicago। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০২০
  3. "University of Chicago article on Guggenheim Fellowship awards"। Chronicle.uchicago.edu। ১২ এপ্রিল ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  4. Middle East Medievalists। "Al-Usur al-Wusta: The Bulletin of Middle East Medievalists"। Middleeastmedievalists.org। ১৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  5. "Letters from MESA Presidents"Middle East Studies Association। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৬
  6. "Jere L. Bacharach Service Award"Middle East Studies Association। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৬
  7. Elton H in Bryn Mawr Medieval Review (accessed 2 October 2007)
  8. Narratives of Islamic Origins পৃ. ৬২
  9. Crone, Patricia (১০ আগস্ট ২০১০)। "Among the Believers: A new look at the origins of Islam describes a tolerant world that may not have existed"। Tablet Magazine।
  10. Antoine Borrut; Fred Donner (১৫ মে ২০০৫)। "From Believers to Muslims : Confessional Self-Identity in the Early Islamic Community"Abstracta Iranica২৬ডিওআই:10.4000/abstractairanica.2410