বিষয়বস্তুতে চলুন

ফ্রেডা ব্রিগস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফ্রিডা ব্রিগস

জন্ম
ফ্রিডা একরয়েড

(১৯৩০-১২-০১)১ ডিসেম্বর ১৯৩০
হাডার্সফিল্ড, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৬ এপ্রিল ২০১৬(2016-04-06) (বয়স ৮৫)
অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া
পেশাশিক্ষক, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ, লেখক
পরিচিতির কারণশিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ
উপাধিইমেরিটাস অধ্যাপক
পুরস্কারউদ্বোধনী অস্ট্রেলিয়ান হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৮
সিনিয়র অস্ট্রেলিয়ান অফ দ্য ইয়ার ২০০০
অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া ২০০৫
উচ্চশিক্ষায়তনিক পটভূমি
শিক্ষাওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়
শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চশিক্ষায়তনিক কর্ম
বিষয়শিক্ষা
উপ-বিষয়প্রাক-শৈশব
শিশু নির্যাতন ও শিশু সুরক্ষা
প্রতিষ্ঠানইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়া

ফ্রিডা ব্রিগস AO (১ ডিসেম্বর ১৯৩০ – ৬ এপ্রিল ২০১৬) ছিলেন একজন অস্ট্রেলীয় শিক্ষাবিদ, লেখক এবং শিশু সুরক্ষা আন্দোলনের কর্মী। শিশু সুরক্ষায় তার অগ্রণী কাজের জন্য ২০০০ সালে তাকে সিনিয়র অস্ট্রেলিয়ান অফ দ্য ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]

ব্রিগস ১৯৩০ সালের ১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের হাডার্সফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মগত নাম ছিল ফ্রিডা একরয়েড। তার এক ভাই ছিল, যে তার চেয়ে নয় বছরের ছোট। তিনি ডেইটন কাউন্সিল স্কুল এবং রয়ডস হল স্কুলে পড়াশোনা করেন।[][]

ব্রিগস সাময়িকভাবে ইম্পেরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজে অফিস ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন।[] এরপরে তিনি শিশু সুরক্ষা বিভাগে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দেন।[] ২০০৭ সালে তিনি জানিয়েছিলেন যে, একটি স্থানীয় কাগজে নারী পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন। সেই চাকরিতে বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার সুবিধা ছিল।[]

১৯৬৩ সালে ব্রিগস দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু করেন। অবশেষে তিনি ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন।[][] তিনি ছয় বছর ধরে ডার্বিশায়ারে শিক্ষক ও সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।[] তিনি শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি এবং মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর তিনি শিশু বিকাশ বিষয়ের প্রভাষক হন।[]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

ব্রিগস ১৯৭৫ সালে মেলবোর্নে চলে আসেন। সেখানে তিনি স্টেট কলেজ অফ ভিক্টোরিয়ার (বর্তমানে মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ) আর্লি চাইল্ডহুড স্টাডিজের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন।[] ১৯৮০ সালে তিনি অ্যাডিলেডে চলে যান। সেখানে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ইনস্টিটিউট অফ আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি স্টাডিজের ডিন নিযুক্ত হন। তিনি সেখানে একটি অগ্রগামী শিশু সুরক্ষা কোর্স চালু করেন।[] ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড তার কাজের স্বীকৃতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ন্যাশনাল চাইল্ড প্রটেকশন রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের জন্য তিনি ১ কোটি ডলারের এনডাউমেন্ট ফান্ড প্রদান করেন।[] ২০০৫ সালে ব্রিগস চাইল্ড ডেভেলপমেন্টের ফাউন্ডেশন চেয়ার এবং একজন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি সমাজবিজ্ঞান, শিশু সুরক্ষা এবং পারিবারিক শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করতেন।[][]

ব্রিগস রাজকীয় কমিশন এবং সংসদীয় তদন্ত কমিটিকে সহায়তা প্রদান করেন। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের তদন্তে তিনি অসংখ্য প্রতিবেদন জমা দেন।[] এর মধ্যে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মালিগান ইনকোয়ারি (২০০৪–২০০৮) এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত রাজকীয় কমিশন উল্লেখযোগ্য। তিনি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের পুলিশ বাহিনীকে পরামর্শ দিতেন।[] এছাড়া টিভি, চলচ্চিত্র এবং কম্পিউটার গেমসের শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি মিডিয়া কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন।[] ব্রিগসকে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিকভাবে শিশুদের অধিকারের একজন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচনা করা হতো।[][]

ব্রিগস অ্যাডিলেড উইমেনস অ্যান্ড চিলড্রেন'স হসপিটালের প্যাডিয়াট্রিক প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এছাড়া তিনি নারী বিষয়ক স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় দূত ছিলেন। তিনি ৬৫ বছর বয়সে কর্মজীবন থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের বিরুদ্ধে সফলভাবে আন্দোলন করেছিলেন।[]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

ব্রিগস ১৯৫২ সালে কেনেথ ব্রিগসকে বিয়ে করেন। বিয়ের শুরুর দিকে তারা পালক অভিভাবক বা ফোস্টার কেয়ারার হন। তাদের নিজেদের দুই সন্তান ছিল।[]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ৮৫ বছর বয়সে রয়্যাল অ্যাডিলেড হাসপাতালে ব্রিগস মৃত্যুবরণ করেন।[]

পুরস্কার ও সম্মাননা

[সম্পাদনা]

ব্রিগস ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো প্রদান করা অস্ট্রেলিয়ান হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।[] ২০০০ সালে তিনি সিনিয়র অস্ট্রেলিয়ান অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া উপাধি পান।[] এছাড়া তিনি আনজ্যাক ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল সেন্টেনারি মেডেল, জিন ডেন্টন মেমোরিয়াল ফেলোশিপ এবং ক্রেসউইক ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।[]

২০০৯ সালে শিশু নির্যাতন এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অসামান্য গবেষণা, প্রকাশনা এবং শিক্ষার জন্য শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় ব্রিগসকে সম্মানসূচক ডক্টর অফ লেটারস ডিগ্রি প্রদান করে।[][]

নির্বাচিত প্রকাশনা

[সম্পাদনা]

বইসমূহ

[সম্পাদনা]
  • Briggs, Freda (১৯৮৬)। Child sexual abuse: confronting the problem। South Melbourne, Victoria: Pitman। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৫৮৯৬৩৮৭০
  • Briggs, Freda (১৯৯৩)। Why my child?: Supporting the families of victims of child sexual abuse। Sydney: Allen & Unwin। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৮৮১৫৫৪৩৭
  • Briggs, Freda, সম্পাদক (১৯৯৫)। From victim to offender: how child abuse victims become offenders। St. Leonards, NSW, Australia: Allen and Unwin। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৬৩৭৩৭৫৯৩
  • Briggs, Freda, সম্পাদক (১৯৯৪)। Children and families: Australian perspectives। St Leonards, NSW, Australia: Allen & Unwin। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৬৩৭৩৬২৬৮
  • Briggs, Freda (১৯৯৫)। Developing personal safety skills in children with disabilities। London: Jessica Kingsley Publishers। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৫৩০২২৪৫৬
  • Briggs, Freda; Hawkins, Russell M. F. (১৯৯৮)। Dare to Support Your Kids: A drug education programme for parents। Wellington: NZ Police/DARE Foundation। ওসিএলসি 975361659
  • Briggs, Freda; Potter, Gillian K. (১৯৯৯)। The early years of school: teaching and learning। South Melbourne, Victoria: Addison Wesley Longman। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৩৩৯০১৭০৬
  • Briggs, Freda; McVeity, Michael (২০০০)। Teaching children to protect themselves: a resource for teachers and adults who care for young children। Crows Nest, NSW: Allen & Unwin। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৬৪৪৮৯৯২৭
  • Briggs, Freda (২০০২)। To what extent can "Keeping Ourselves Safe" protect children?। Wellington, N.Z: New Zealand Police। আইএসবিএন ৯৭৮০৪৭৭০২৯৬৩৬ PUB L 169.
  • Briggs, Freda (২০১১)। Smart parenting for safer kids: helping children to make smart choices and stay safe। Docklands, Victoria: JoJo Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮০৯৮০৮৭১০০৫
  • Briggs, Freda (২০১৩)। Child protection: the essential guide for teachers and professionals whose work involves children। Docklands, Victoria: JoJo Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮০৯৮৭৪৬৩৫৭৯

বইয়ের অধ্যায়

[সম্পাদনা]
  • Briggs, Freda (১৯৯৬), "To what extent can child protection programs protect children?", Taylor, Nicola J.; Smith, Anne B. (সম্পাদকগণ), Investing in children: primary prevention strategies : proceedings of the Children's Issues Centre Inaugural Child and Family Policy Conference, 10–13 July 1996, Dunedin, Dunedin, N.Z: Otago University Press, আইএসবিএন ৯৭৮০৯৫৮৩৫৯৫১১.
  • Briggs, Freda (১৯৯৯), "To what extent can child protection programs protect children?The importance of parent participation in child protection curricula", Berk, Laura E. (সম্পাদক), Landscapes of development: an anthology of readings, Belmont, CA: Wadsworth Pub, আইএসবিএন ৯৭৮০৫৩৪৫৪৩৭৮৫.
  • Briggs, Freda (২০০৬), "The role of the teacher in child protection", Australian College of Educators (সম্পাদক), Australian College of Educators Yearbook.

জার্নাল প্রবন্ধ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 Linn, Rob (১৪ ডিসেম্বর ২০০৪)। "Full transcript of an interview with Emeritus Professor Freda Briggs for the Eminent Australians Oral History Project" (পিডিএফ)State Library of South Australia
  2. 1 2 Huddersfield Examiner (১২ জুলাই ২০১৩)। "Prof Freda Briggs honoured by the University of Sheffield"Huddersfield Daily Examiner। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  3. 1 2 3 4 "Professor Freda Briggs AO – In Memoriam"। Australian of the Year Awards। ৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  4. 1 2 3 4 5 6 7 "Freda Briggs: 'Champion of children' and former senior Australian of the year dies"। ABC। ৭ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  5. 1 2 3 4 Dillon, Megan (৭ এপ্রিল ২০১৬)। "UniSA emeritus professor and child protection advocate Dr Freda Briggs dies at 85"Adelaide Advertiser। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  6. Siebert, Bension (৭ এপ্রিল ২০১৬)। "Child protection pioneer Freda Briggs dies, aged 85"In Daily। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  7. 1 2 Edwards, Verity (৯ জানুয়ারি ২০১৫)। "Freda Briggs, a campaigner for children's rights"The Australian। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  8. Hansard (৪ অক্টোবর ২০০০)। "Questions Without Notice: Senior Australian of the Year Award"। Parliament of Australia। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬
  9. "Professor Freda Briggs AO"University of South Australia। ১৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।