ফ্রিডরিখ নিচে
এই নিবন্ধটির রচনা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ ব্যাকরণ, রচনাশৈলী, বানান বা বর্ণনাভঙ্গিগত সমস্যা রয়েছে। |
ফ্রিডরিখ নিচে | |
|---|---|
ফ্রিডরিখ নিচে | |
| জন্ম | ফ্রিডরিখ ভিলহেল্ম নিচে ১৫ অক্টোবর ১৮৪৪ র্যোকেন, জাখসেন প্রদেশ, প্রুশিয়া, জার্মান রাজ্যসংঘ |
| মৃত্যু | ২৫ আগস্ট ১৯০০ (বয়স ৫৫) ভাইমার, জাক্সে-ভাইমার-আইজেনাখ, জার্মান সাম্রাজ্য |
| মাতৃশিক্ষায়তন | |
| যুগ | 19th-century philosophy |
| অঞ্চল | পশ্চিমা দর্শন |
| ধারা |
অন্যান্য চিন্তাগোষ্ঠী |
| প্রতিষ্ঠান | বাজেল বিশ্ববিদ্যালয় |
প্রধান আগ্রহ | |
উল্লেখযোগ্য অবদান | |
| স্বাক্ষর | |
ফ্রিডরিখ ভিলহেল্ম নিচে[ক] (জার্মান: Friedrich Wilhelm Nietzsche, উচ্চারণ [ˈfʁiːdʁɪç ˈvɪlhɛlm ˈniːtʃə] () বা [ˈniːtsʃə];[১০][১১] ১৫ই অক্টোবর ১৮৪৪ – ২৫শে আগস্ট ১৯০০) একজন জার্মান দার্শনিক, কবি ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। নিচে তার পেশাজীবন শুরু করেন একজন ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে। ১৮৬৯ সালে, ২৪ বছর বয়সে তিনি ব্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু ১৮৭৯ সালে স্বাস্হ্যগত কারণে পদত্যাগ করেন যা তাকে জীবনের অধিকাংশ সময় পীড়িত রেখেছিল। ১৮৮৯ সালে, ৪৫ বছর বয়সে তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ১৯০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
নিচে-র বিখ্যাত "ঈশ্বর মৃত এবং আমরাই তাকে হত্যা করেছি।" দর্শন ছিলো ওই আমলের ধর্মীয় অনুশাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবাদ। তিনি পশ্চিমা সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারে ধর্মকে যখন ব্যবহার করা হচ্ছিল, যখন আফ্রিকার "কালো মানুষকে" 'শিক্ষিত' করার 'মহান দায়িত্ব' নিয়ে ধর্ম প্রচারকরা আফ্রিকায় তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন, তখন নিচের লেখনীতে এর সমালোচনা করা হয়েছিলো। তিনি তথাকথিত গণতন্ত্রকে ঘৃণা করতেন। গণতন্ত্রে যে সমতার কথা বলা হয়, তা তার পছন্দ ছিলো না। তিনি ভবিষ্যতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা,বিপ্লব,যুদ্ধ,ও সংঘর্ষের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।।
জীবন
[সম্পাদনা]যৌবন (১৮৪৪-১৮৬৮))
[সম্পাদনা]দর্শন ও তত্ত্ব
[সম্পাদনা]নিচে-র চিন্তা আধুনিক দর্শনের মূল ভিত্তিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। তার কাজ শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি, এবং মনোবিজ্ঞানসহ বহু ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
নিচে-র কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা এবং তাদের টীকা:
১. ঈশ্বরের মৃত্যু (God is Dead)
[সম্পাদনা]নিচে তার বিখ্যাত উক্তি "God is dead" দিয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার ধর্মীয় এবং নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
- এই উক্তির অর্থ ধর্মীয় বিশ্বাসের অবক্ষয় এবং মানুষের জীবনে ঐতিহ্যগত নৈতিকতার পতন।
- তিনি বলেন, আধুনিক মানুষ ঈশ্বরবিহীন অবস্থায় নৈতিকতা তৈরি করতে বাধ্য। তবে এই পরিবর্তন সমাজে শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যাকে তিনি "Nihilism" বলে চিহ্নিত করেন।
নিচে বিশ্বাস করতেন, ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসের পতন মানুষের মধ্যে অর্থহীনতা (meaninglessness) এবং উদ্দেশ্যহীনতার সৃষ্টি করেছে।
- তিনি বলেন, এই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে মানুষকে নিজের মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে এবং নিজের জীবনের অর্থ নিজেই খুঁজে বের করতে হবে।
- "নিহিলিজম"কে তিনি মানব সভ্যতার জন্য একটি বিপজ্জনক কিন্তু অবশ্যম্ভাবী পর্যায় হিসেবে দেখেছেন।
নিচের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে তার ধারণা Übermensch বা "অপরম মানব।"
- তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে হবে এবং নিজের চেয়ে উন্নততর একটি সত্তায় পরিণত হতে হবে।
- Übermensch হলো সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের মূল্যবোধ নিজে তৈরি করেন এবং ঐতিহ্যগত নৈতিকতার বাইরে গিয়ে নতুন জীবনধারা গ্রহণ করেন।
৪. শক্তি বা ইচ্ছা (Will to Power)
[সম্পাদনা]নিচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হলো Will to Power, যা তিনি জীবনের মৌলিক চালিকা শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
- এটি কেবল জীবনের টিকে থাকার জন্য নয়, বরং নিজের সামর্থ্য এবং সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য কাজ করে।
- তিনি বলেন, মানব অস্তিত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতা এবং আত্ম-উন্নয়ন।
৫. চির প্রত্যাবর্তন (Eternal Recurrence)
[সম্পাদনা]নিচের "চির প্রত্যাবর্তন" ধারণা হলো, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অসংখ্যবার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
- তিনি মানুষকে এই ধারণা গ্রহণ করতে উৎসাহ দেন এবং বলেন, জীবনের প্রতি এতটাই ভালোবাসা থাকতে হবে যেন কেউ এই পুনরাবৃত্তি মেনে নিতে পারে।
৬. দাস নৈতিকতা বনাম প্রভু নৈতিকতা (Master vs. Slave Morality)
[সম্পাদনা]নিচে নৈতিকতাকে দুটি ভাগে ভাগ করেন:
- দাস নৈতিকতা (Slave Morality): দুর্বলদের দ্বারা তৈরি নৈতিকতা, যা বিনয়, সহনশীলতা, এবং আত্মত্যাগকে গুরুত্ব দেয়।
- প্রভু নৈতিকতা (Master Morality): শক্তিশালীদের নৈতিকতা, যা আত্মনির্ভরতা, গৌরব, এবং ব্যক্তিগত শক্তিকে গুরুত্ব দেয়। নিচে ক্রীতদাস নৈতিকতার সমালোচনা করেন এবং প্রভু নৈতিকতার পক্ষে যুক্তি দেন।
৭. ধর্ম ও খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা
[সম্পাদনা]নিচে খ্রিস্টধর্মকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মনে করতেন, এটি দুর্বলতা এবং আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করে এবং মানুষের ক্ষমতা ও সৃজনশীলতাকে দমন করে।
- তিনি বলেন, খ্রিস্টধর্ম মানুষের স্বাধীনতাকে সীমিত করে এবং তাদের প্রকৃত সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে বাধা দেয়।
৮. অ্যাপোলোনীয় ও ডায়োনিসীয় দৃষ্টিভঙ্গি
[সম্পাদনা]নিচে গ্রিক সংস্কৃতির দুটি দিক তুলে ধরেন:
- অ্যাপোলোনীয় (Apollonian): যুক্তি, শৃঙ্খলা, এবং সমঝোতার প্রতীক।
- ডায়োনিসীয় (Dionysian): আবেগ, বিশৃঙ্খলা, এবং সৃষ্টিশীলতার প্রতীক। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনযাপনের জন্য এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন।
টীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ See, for example:
- "Some interpreters of Nietzsche believe he embraced nihilism, rejected philosophical reasoning, and promoted a literary exploration of the human condition, while not being concerned with gaining truth and knowledge in the traditional sense of those terms. However, other interpreters of Nietzsche say that in attempting to counteract the predicted rise of nihilism, he was engaged in a positive program to reaffirm life, and so he called for a radical, naturalistic rethinking of the nature of human existence, knowledge, and morality." Wilkerson, Dale। "Friedrich Nietzsche"। Internet Encyclopedia of Philosophy। আইএসএসএন 2161-0002।.
- "Nietzsche's increasing determination, however, in his later writings, to avoid philosophical nihilisms of every variety, leads him to wonder whether it might not be possible to achieve an understanding of what fuels the foregoing dialectic of a sort that would allow one to head in an altogether different philosophical direction." Conant, James F. (২০০৫)। "The Dialectic of Perspectivism, I" (পিডিএফ)। Sats: Nordic Journal of Philosophy। ৬ (2)। Philosophia Press: ৫–৫০। ২০ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Brennan, Katie (২০১৮)। "The Wisdom of Silenus: Suffering in The Birth of Tragedy"। Journal of Nietzsche Studies। ৪৯ (2): ১৭৪–১৯৩। ডিওআই:10.5325/jnietstud.49.2.0174। জেস্টোর 10.5325/jnietstud.49.2.0174। এস২সিআইডি 171652169।
- ↑ Dienstag, Joshua F. (২০০১)। "Nietzsche's Dionysian Pessimism"। American Political Science Review। ৯৫ (4): ৯২৩–৯৩৭। জেস্টোর 3117722।
- ↑ Perez, Rolando (২০১৫)। "Nietzsche's Reading of Cervantes' "Cruel" Humor in Don Quijote" (পিডিএফ)। EHumanista। ৩০: ১৬৮–১৭৫। আইএসএসএন 1540-5877।.
- ↑ Nietzsche self-describes his philosophy as immoralism, see also: Laing, Bertram M. (১৯১৫)। "The Metaphysics of Nietzsche's Immoralism"। The Philosophical Review। ২৪ (4): ৩৮৬–৪১৮। ডিওআই:10.2307/2178746। জেস্টোর 2178746।
- ↑ Schacht, Richard (২০১২)। "Nietzsche's Naturalism"। Journal of Nietzsche Studies। ৪৩ (2)। Penn State University Press: ১৮৫–২১২। ডিওআই:10.5325/jnietstud.43.2.0185। এস২সিআইডি 169130060।
- ↑ Conway, Daniel (১৯৯৯)। "Beyond Truth and Appearance: Nietzsche's Emergent Realism"। Babich, Babette E. (সম্পাদক)। Nietzsche, Epistemology, and Philosophy of Science। Boston Studies in the Philosophy of Science। খণ্ড ২০৪। Dordrecht: Springer। পৃ. ১০৯–১২২। ডিওআই:10.1007/978-94-017-2428-9_9। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৪৮১-৫২৩৪-৬।
- ↑ Doyle, Tsarina (২০০৫)। "Nietzsche's Emerging Internal Realism"। Nietzsche on Epistemology and Metaphysics: The World in View। Edinburgh University Press। পৃ. ৮১–১০৩। ডিওআই:10.3366/edinburgh/9780748628070.003.0003। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৪৮৬২৮০৭০।
- ↑ Kirkland, Paul E. (২০১০)। "Nietzsche's Tragic Realism"। The Review of Politics। ৭২ (1): ৫৫–৭৮। ডিওআই:10.1017/S0034670509990969। জেস্টোর 25655890। এস২সিআইডি 154098512।
- ↑ Duden – Das Aussprachewörterbuch 7. Berlin: Bibliographisches Institut. 2015. আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৪১১-০৪০৬৭-৪. p. 633.
- ↑ Krech, Eva-Maria; Stock, Eberhard; Hirschfeld, Ursula; Anders, Lutz Christian (২০০৯)। Deutsches Aussprachewörterbuch [German Pronunciation Dictionary] (জার্মান ভাষায়)। Berlin: Walter de Gruyter। পৃ. ৫২০, ৭৭৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-১১-০১৮২০২-৬।
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
- ↑ এই জার্মান ব্যক্তিনামটির বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে উইকিপিডিয়া:বাংলা ভাষায় জার্মান শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে ব্যাখ্যাকৃত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
<ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি- জার্মান দার্শনিক
- সাংস্কৃতিক সমালোচক
- রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি
- ১৮৪৪-এ জন্ম
- ১৯০০-এ মৃত্যু
- ধর্মের সমালোচক
- সামাজিক সমালোচক
- সামাজিক দার্শনিক
- সামাজিক ভাষ্যকার
- সামাজিক বিজ্ঞানের দার্শনিক
- ইতিহাসের দার্শনিক
- সংস্কৃতির দার্শনিক
- ১৯শ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক
- ১৯শ শতাব্দীর প্রুসীয় ব্যক্তি
- মহাদেশীয় দার্শনিক
- নাস্তিক দার্শনিক
- নিউমোনিয়ায় মৃত্যু
- অস্তিত্ববাদী
- ১৯শ শতাব্দীর জার্মান ঔপন্যাসিক
- ১৯শ শতাব্দীর দার্শনিক
- শিক্ষার দার্শনিক
- সাহিত্যের দার্শনিক
- ধর্মের দার্শনিক
- পাশ্চাত্য সভ্যতার তাত্ত্বিক
- লাইপ্ৎসিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী