বিষয়বস্তুতে চলুন

ফ্রান্সে নারীবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ফ্রান্সে নারীবাদ হল ফ্রান্সের নারীবাদী চিন্তাধারা ও আন্দোলনের ইতিহাস। ফ্রান্সের নারীবাদকে মোটামুটি তিনটি তরঙ্গে বিভক্ত করা যেতে পারে: তৃতীয় প্রজাতন্ত্রের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব থেকে নারীবাদের প্রথম তরঙ্গ যা মূলত নারীদের ভোটাধিকার এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে ছিল। ১৮৪৮ সালের ফরাসি বিপ্লব এবং প্যারিস কমিউনের বিপ্লবী আন্দোলন এতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল, ১৯৪৪ সালে নারীরা ভোট দেওয়ার অধিকার লাভ করে।

১৯৪০-এর দশকে সমাজে নারীর ভূমিকার পুনর্মূল্যায়ন হিসাবে নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ শুরু হয়। সিমন দ্য বোভোয়ারের মতো তাত্ত্বিকরা এর অগ্রণী ছিলেন। এই তরঙ্গের রাজনৈতিক লক্ষ্যের মধ্যে গর্ভপাত এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের সুযোগের মাধ্যমে নারীদের শারীরিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির দাবী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০০০-এর দশক থেকে নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গ দ্বিতীয় তরঙ্গের উত্তরাধিকারকে অব্যাহত রাখে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় উত্তর-ঔপনিবেশিক নারীবাদ ও বর্ণবাদ।

নারীবাদের প্রথম তরঙ্গ

[সম্পাদনা]
নারী ও মহিলা নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্রের প্রথম পৃষ্ঠা

ফরাসি বিপ্লব

[সম্পাদনা]

১৭৮৯ সালের নভেম্বরে, ফরাসী বিপ্লবের একেবারে শুরুতে, মহিলাদের পিটিশনটি জাতীয় পরিষদে সম্বোধন করা হয়েছিল কিন্তু এই বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। যদিও বিপ্লবের সময় বিভিন্ন নারীবাদী আন্দোলনের উত্থান ঘটেছিল, বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ এমিলিতে বর্ণিত রুসোর তত্ত্ব অনুসরণ করেছিলেন, যা নারীদের মা এবং স্ত্রীর ভূমিকায় সীমাবদ্ধ করে দেয়। দার্শনিক কনডরসেট ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম যিনি উভয় লিঙ্গের জন্য সমান অধিকারের পক্ষে ছিলেন।

১৭৯০ সালে ক্লদ ড্যানসার্ট উভয় লিঙ্গের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ (ফরাসি: Société fraternelle de l'un et l'autre sexe) প্রতিষ্ঠা করেন। এর সদস্যা ছিলেন এটা পাম ডি'এল্ডার্স, জ্যাক হেবার্ট, লুইস-ফেলিসিটি ডি কেরালিও, পলিন লিওন, থেরোইন ডি মেরিকোর্ট, ম্যাডাম রোল্যান্ড, থেরেসা ক্যাবারাস, মার্লিন ডি থিওনভিল প্রমুখ। পরের বছর, অলিম্পে দি গোজেস নারী ও মহিলা নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন। রানী মারি অঁতোয়ানেতকে সম্বোধন করা এই পত্রে নারী অধিকারের পক্ষে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। গিরোন্ডিনদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার দুই বছর পরে গোজেসকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।

১৭৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পলিন লিওঁ এবং ক্লেয়ার ল্যাকম্ব সোসাইটি দেস রিপাবলিকান রিভোলিউশননেয়ারস (ফরাসি: Société des républicaines révolutionnaires) তৈরি করেন, প্রায় দুইশত নারী এর সদস্যা হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ড্যানিয়েল গুয়েরিন এদের "এনরাগেসের নারীবাদী অংশ" মনে করেন; গিরোন্ডিনদের পতনে এদের ভূমিকা ছিল। ল্যাকম্বে মহিলাদের সশস্ত্র আন্দোলনের সমর্থন করতেন। পরের বছর বিপ্লবী সরকার এই সোসাইটিকে বেআইনি ঘোষণা করে।

পুনরুদ্ধার থেকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র পর্যন্ত

[সম্পাদনা]
ফুরিয়ারের ফালানস্ট্রির শহুরে এলাকার পরিপ্রেক্ষিত দৃশ্য

নারীবাদী আন্দোলন আবার প্রসারিত হয় রোমান্টিক প্রজন্মের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে, বিশেষ করে প্যারিসীয় সেন্ট সিমোনিয়ানদের মধ্যে। নারীরা স্বাধীনভাবে নতুন জীবনধারা গ্রহণ করে, এতে প্রতিক্রিয়াশীল জনগণেরর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। নারীরা এই সময় অধিকারের সমতা দাবি করে এবং সাহিত্যিক কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকে। অন্যদিকে, চার্লস ফুরিয়ারের আবেগের কল্পলৌকিক সমাজতান্ত্রিক তত্ত্ব "মুক্ত ভালোবাসার" পক্ষপাতী ছিল।

বোরবন পুনর্নির্মাণ ১৮১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে। জুলাই রাজতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করে দেয়। নারীবাদীরা "গণতান্ত্রিক এবং সামাজিক সাধারণতন্ত্র" এর জন্য সাধারণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামে পুনরায় যোগ দেয়। এর পরে ১৮৪৮ সালের বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয় । ১৮৪৮ এর বিপ্লব নারীবাদী আন্দোলনের প্রকাশ্য অভিব্যক্তির উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

বেল এপোক যুগ

[সম্পাদনা]

সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ বেল এপোক সময়কালে, বিশেষত উনিশ শতকের শেষের দিকে, নারীবাদ এবং নারীত্বের ধারণায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে, যা সাহসী নারীদের কার্যকলাপ এবং পূর্ববর্তী কলঙ্কের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।[১][২] এই সময়ের উল্ল্যেখযোগ্য কার্যকলাপের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল মহিলাদের প্রচলিত বিয়ের রীতির বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এই সময়েই নাকেট আইন (ইংরেজি: Naquet Laws) অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ পুনরায় আইনি বৈধতা পায়,[৩]—লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত কর্মজীবনের বাইরে কাজ করা এবং তাদের লেখনীর মাধ্যমে নারীত্ব সম্পর্কে সমাজের আদর্শে গভীর প্রভাব বিস্তার করা।[১]

নারীবাদী সংবাদপত্র দ্রুত প্রসার লাভ করে এবং নারীদের অধিকার ও তাদের অবস্থান পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[১] যদিও এই যুগ ফরাসি বিপ্লবের পর সমতার আশা জাগিয়েছিল, মহিলারা তখনও সমান নাগরিকের স্বীকৃতি পায়নি,[৪] ফলে নারীবাদী মতামত প্রকাশ করা তখনও কঠিন ও বিপজ্জনক ছিল। এই সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল মার্গারিট দুরাঁর লা ফ্রন্দে,[৫] যা ছিল পুরোপুরি নারী পরিচালিত।[৩]

কমিউন দ্যু প্যারি এবং ইউনিয়ন দেস ফেম্মেস

[সম্পাদনা]
লুইস মিশেল

প্যারিস কমিউনের সময় কিছু নারীবাদী আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা করেন, যা ছিল ১৭৮৯ এবং ১৮৪৮ সালের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টার উত্তরসূরী। নাতালিয়ে লেমেল এবং এলিজাবেথ দিমিত্রফ ১৮৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্যারিসের প্রতিরক্ষা এবং আহতদের যত্নের জন্য নারীদের ইউনিয়ন (ফরাসি: Union des femmes pour la défense de Paris et les soins aux blessés) গঠন করেন। পল মিঙ্ক-এর বন্ধু নারীবাদী লেখিকা আঁদ্রে লিও এই ইউনিয়নে সক্রিয় ছিলেন। এই ইউনিয়ন লিঙ্গ সমতা, মজুরির সমতা, বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার, এবং মেয়েদের জন্য ধর্মনিরপেক্ষ ও পেশাগত শিক্ষার অধিকারের দাবি জানায়। তারা বিবাহিত নারী এবং উপপত্নী, বৈধ এবং অবৈধ সন্তানদের মধ্যে পার্থক্য দূর করার দাবি তোলে এবং আইনি স্বীকৃত যৌনকর্মালয় (ফরাসি: maisons de tolérance) বন্ধ করে যৌনকর্ম বিলোপের আহ্বান জানায়।

এই ইউনিয়ন বেশ কয়েকটি পৌর কমিশনে অংশগ্রহণ করে এবং সমবায় কর্মশালা সংগঠিত করে।[৬] ইউজিন ভারলিন ও নাতালিয়ে লেমেল সমবায় রেস্তোরাঁ (ফরাসি: La Marmite) তৈরি করেন, যা দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করত, এবং পরে তাঁরা ব্লাডি উইক-এ ব্যারিকেডে লড়াই করেছিলেন।[৭] অন্যদিকে, পল মিঙ্ক সেন্ট পিয়ের দ্য মনমার্ত্রের চার্চে একটি বিনামূল্যের বিদ্যালয় খোলেন।[৭] অ্যান জ্যাকলার্ড, আঁদ্রে লিও-র সাথে মিলে লা সোসিয়ালে নামক সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মন্টমার্ট্রে ভিজিল্যান্স কমিটির (ফরাসি: Comité de vigilance de Montmartre) সদস্যা ছিলেন। লুইস মিশেল এবং পল মিঙ্কও শেষোক্ত কমিটিতে যুক্ত ছিলেন।[৭]

ভোটাধিকার আন্দোলন

[সম্পাদনা]
জ্যান স্মাল ১৯০৯ সালে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিস্টাইড ব্রিয়াঁ-র সাথে সাক্ষাৎ করছেন

১৯০৯ সালে, ফরাসি অভিজাত ও নারীবাদী জ্যান-এলিজাবেথ স্মাল ফ্রান্সে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলাদের ভোটাধিকারের জন্য ফরাসি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেন।

তৃতীয় প্রজাতন্ত্রের সময়কালে, নারীরা ভোটাধিকার দাবি করলেও তারা আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী দপ্তরে নারীদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে জোর দেয়নি।[৮] তবে, ভোটাধিকার আন্দোলন অন্যান্য দেশের ক্ষমতাধর নারীদের অর্জনকে সম্মান জানিয়ে তাদের প্রভাবে পাস হওয়া আইন, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষেধাজ্ঞা, যৌনকর্ম নিয়ন্ত্রণ, এবং শিশু অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদির উপর আলোকপাত করেছিল।[৮]

এই প্রচারাভিযান এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নারীদের নতুন ভূমিকা সত্ত্বেও, তৃতীয় প্রজাতন্ত্র নারীদের ভোটাধিকার প্রদান থেকে বিরত থাকে, মূলত নেতিবাচক ধর্মীয় প্রভাবের আশঙ্কায়।[৮] ১৯৩৬ সালে পপুলার ফ্রন্ট বিজয়ী হয়। কিন্তু তারাও নারীদের ভোটাধিকার দেয়নি।[৮]

নারীরা ভোটাধিকার লাভ করে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (জিপিআরএফ) ৫ অক্টোবর ১৯৪৪-এ ফরাসি জাতীয় স্বাধীনতা কমিটির ২১ এপ্রিল ১৯৪৪ সালের আদেশ নিশ্চিত করার পর।[৮] ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করা হয়। সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট ভার্দিয়ে ১৯৪৭ সালে লে পপুলায়ার-এ (ফরাসি: Le Populaire) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখান যে, নারীরা কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন অনুসারে ভোট দেয় না বরং পুরুষদের মতোই সামাজিক শ্রেণি অনুসারে বিভক্ত থাকে।[৮]

নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ

[সম্পাদনা]

যুদ্ধকালীন সময়

[সম্পাদনা]

ফ্রান্সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি মহিলাদের ইউনিয়ন (ফরাসি: Union des femmes françaises)-এর উৎপত্তি হয়েছিল। দানিয়েল কাসানোভা তৃণমূলস্তরে ফরাসি প্রতিরোধের নারী কমিটি তৈরি করেন।[৯] এরকম একাধিক নারী কমিটি ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত হয়, তারপর আঞ্চলিক ও আন্তঃআঞ্চলিক স্তরে বিকশিত হয়। এগুলি নাৎসি দখলীকৃত অঞ্চলে ফরাসি মহিলাদের ইউনিয়ন এবং মুক্ত অঞ্চলে ফ্রান্সের নারী ইউনিয়ন (ফরাসি: Union des femmes de France)-এর অধীনে একত্রিত হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য নেত্রীদের মধ্যে ছিলেন মারিয়া রাবাতে, দানিয়েল কাসানোভা, মার্সেল বারজোনে, সিমোন বেরত্রাঁ প্রমুখ।[১০][১১][১২]

যুদ্ধপরবর্তী সময়

[সম্পাদনা]

১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে নারীদের বিচারক হওয়ার অধিকার ছিল না।[১৩]

যুদ্ধপরবর্তী বিবাহ ও জন্মহার বৃদ্ধির সময়ে নারীবাদ আন্দোলন প্রান্তিক হয়ে ওঠে, যদিও এই সময়েই সিমোন দে বোভোয়ার (১৯৪৯ সালে) দ্য সেকেন্ড সেক্স প্রকাশ করেছিলেন।[৮]

দ্য সেকেন্ড সেক্স নারী নিপীড়নের বিশদ বিশ্লেষণ এবং সমসাময়িক নারীবাদের ভিত্তিপ্রস্তর। এতে নারীবাদী অস্তিত্ববাদ বিষয়ে বলা হয়েছে, যা নৈতিক বিপ্লবের নির্দেশ দেয়। অস্তিত্ববাদী হিসেবে, দে বোভোয়ার জঁ-পল সার্ত্রের নীতি মেনে চলতেন যে অস্তিত্ব সারমর্মের আগে আসে; সুতরাং কেউ "নারী হয়ে জন্মায় না, বরং নারী হয়ে ওঠে"। তার বিশ্লেষণ সমাজে নারীর সামাজিক নির্মাণের উপর আলোকপাত করে, যা তিনি নারীদের নিপীড়নের মূল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।[১৪]

তিনি যুক্তি দেখান যে, ইতিহাসে নারীদের বিপথগামী এবং অস্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়েছে এবং দাবি করেন যে এমনকি মেরি উলস্টোনক্রাফটও পুরুষদের আদর্শ হিসেবে গণ্য করতেন। দে বোভোয়ার যুক্তি দেন যে নারীবাদকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে।

ফরাসি বিবাহিত নারীরা ১৯৬৫ সালে স্বামীর সম্মতি ছাড়াই কাজ করার অধিকার অর্জন করেন।[১৫] নিউইর্থ আইন ১৯৬৭ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ বৈধ করে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশগুলি কয়েক বছর ধরে রক্ষণশীল সরকারের অধীনে আটকে থাকে।[১৬]

১৯৬৮ পরবর্তী সময়

[সম্পাদনা]

১৯৬৮ সালের আন্দোলনের পরে এক শক্তিশালী নারীবাদী আন্দোলন আবির্ভূত হয়, যা মুভমঁ দ্য লিবেরাসিওঁ দে ফঁম নামে পরিচিত। মনে করা হয় যে ১৯৬৮ সালে অঁতোয়ানেত ফুক, মনিক ভিতিগ এবং জোস্যান শ্যনেল এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, তারা স্বামীদের কাছ থেকে স্বাধীনতার অধিকার, গর্ভনিরোধের অধিকার এবং গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে আন্দোলন করেন।

ফ্রান্সে ১৯৭০ সালে পরিবারে পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব সমাপ্ত হয় (তার আগে পিতা সন্তানদের সম্পর্কিত সমস্ত আইনি সিদ্ধান্ত নিতেন)।[১৭]

১৯৭০ সাল থেকে, ফ্রান্সে "মাদমোয়াজেল" কথাটি বিতর্কিত হয়ে ওঠে। নারীবাদীরা শব্দটির ব্যবহার বন্ধ করার জন্য চেষ্টা চালান। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া ফিইয়োঁ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখের এক বিজ্ঞপ্তিতে সকল সরকারি নথিতে "মাদমোয়াজেল" শব্দটি মুছে ফেলার আহ্বান জানান। ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ফরাসি রাষ্ট্র পরিষদ শব্দটি মুছে ফেলার অনুমোদন দেয়।[১৮]

১৯৭১ সালে, নারীবাদী আইনজীবী গিসেল হালিমি চয়েসির (ফরাসি: Choisir; "পছন্দ করা") নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা সেই সকল নারীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছিল যারা ৩৪৩ জন বারাঙ্গনার ইশতেহার (ফরাসি: Le Manifeste des 343 Salopes) নামক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই ঘোষণাপত্রটি সিমোন দে বোভোয়ার লিখেছিলেন।

এক ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকায় কার্টুন আঁকা হয়, যার শিরোনাম ছিল: "এই ৩৪৩ জন বারাঙ্গনাকে কে গর্ভবতী করল?"। এতে স্বাক্ষরকারী নারীরা স্বীকার করেছিলেন যে তারা অবৈধ গর্ভপাত করিয়েছিলেন, যার ফলে তারা আইনগত ব্যবস্থা ও কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েন।[১৯]

এই ঘোষণাপত্রটি ৫ এপ্রিল ১৯৭১ ল্য নুভেল অবজের্ভাতরে প্রকাশিত হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্র থেকে অনুপ্রানিত হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ তারিখে ৩৩১ জন চিকিৎসক আরেকটি ঘোষণাপত্রে গর্ভপাতের অধিকারের প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেন:

আমরা গর্ভপাতের স্বাধীনতা চাই। এ সম্পূর্ণভাবে নারীর সিদ্ধান্ত। আমরা নারীদের আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বাধ্য করে, অপরাধবোধের পরিবেশ টিকিয়ে রাখে এবং গোপন গর্ভপাতকে চলমান রাখার সুযোগ দেয় এমন সকল কর্তৃপক্ষকে প্রত্যাখ্যান করি...[২০]

১৯৭২ সালে চয়েসির সংস্কারপন্থী সংগঠনে রূপান্তরিত হয় এবং তাদের প্রচারাভিযান ১৯৭৫ সালে সিমোন ভেইলের গর্ভনিরোধক ও গর্ভপাতের অনুমতি প্রদানকারী আইন পাশ হওয়ার ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই সময়ে ভেইল আইন সিমোন ভেইলের নিজ দলের (ফরাসি গণতন্ত্রের জন্য ইউনিয়ন) তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হন।

১৯৭৪ সালে, ফ্রঁসোয়াজ দ'ওবোন "ইকোফেমিনিজম" শব্দটি উদ্ভাবন করেন।[২১][২২][২৩]

ফ্রান্সে ১৯৮৫ সালের এক নতুন সংস্কার আইন পাশ হয় যা সন্তানের সম্পত্তিতে পিতার পরিচালনার একমাত্র ক্ষমতাধিকারী হওয়ার নিয়ম বাতিল করে।[১৭]

ফরাসি নারীবাদী তত্ত্ব

[সম্পাদনা]

ইংরেজিভাষী বিশ্বে "ফরাসি নারীবাদ" শব্দটি এমন এক তত্ত্ব ও দর্শনের শাখাকে বোঝায়, যা নারীদের সম্পর্কে এবং নারীদের দ্বারা রচিত, এবং ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছিল। এর অন্তর্গত তত্ত্বগুলো ফ্রান্সের রাজনৈতিক নারীবাদী আন্দোলনের সমান্তরালে এবং কখনও কখনও বিপরীতেও পরিচালিত হয়েছে।[২৪] এই লেখাগুলি সাধারণত আবেগপ্রবণ ও রূপকধর্মী, এবং রাজনৈতিক মতবাদ নিয়ে কম উদ্বিগ্ন থাকে, বরং প্রধানত "দেহতত্ত্ব" বিষয়ে মনোযোগ দেয়।[২৫] এতে ফরাসি নন, কিন্তু ফ্রান্সে ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন এরকম লেখকদের কাজও অন্তর্ভুক্ত।[২৬]

১৯৭০-এর দশকে, ফরাসি লেখকরা নারীবাদ লেখাকে নারীসুলভ লেখনী (ফরাসি: écriture féminine) ধারণার মাধ্যমে অনুসরণ করতেন।[২৭] হেলেন সিক্সুস যুক্তি দেন যে লেখালিখি ও দর্শন সাধারণত পুরুষ-কেন্দ্রিক। লুসি ইরিগারের মতো অন্যান্য ফরাসি নারীবাদীদের মতোই তিনিও "দেহ থেকে লেখা"-কে বিদ্রোহী অনুশীলন হিসেবে গুরুত্ব দেন।[২৭]মনোবিদ ও দার্শনিক জুলিয়া ক্রিস্তেভা-র কাজ সাধারণভাবে নারীবাদী তত্ত্ব এবং বিশেষভাবে নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনায় প্রভাব রেখেছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে, শিল্পী ও মনোবিদ ব্রাখা এট্টিঙ্গার-এর কাজ সাহিত্য সমালোচনা, শিল্প ইতিহাস এবং চলচ্চিত্র তত্ত্বকে প্রভাবিত করেছে।[২৮][২৯][৩০]

মার্কিন একাডেমিকরা তাদের নিজস্ব ফরাসি নারীবাদের ধারণার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রান্তিক স্ব-পরিচিত নারীবাদীদের আলাদা ও উপেক্ষা করেন, বরং Psych et po-এর সঙ্গে যুক্ত নারী তাত্ত্বিকদের এবং এমন অন্যান্য একাডেমিকদের উপর মনোযোগ দেন, যারা সবসময় নিজেদের নারীবাদী হিসেবেও চিহ্নিত করতেন না। এই বিভাজন সেই সময়ে চরমপন্থী নারীবাদী এবং MLF-এর মতো গোষ্ঠীগুলির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও লক্ষ্যগুলির চেয়ে ফরাসি নারীবাদীদের তত্ত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।[৩১]

নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গ

[সম্পাদনা]

২০০০-এর দশকে নারীবাদী গোষ্ঠী নি পুতেস, নি সৌমিসেস (না বেশ্যা, না বশ্যতাস্বীকারকারীনী) দরিদ্র অভিবাসী জনসংখ্যার মধ্যে ইসলামী চরমপন্থা-র ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। তারা দাবি করতে থাকে যে ঐসব এলাকার মেয়েদের পর্দা পরতে, স্কুল ছেড়ে দিতে এবং অল্প বয়সে বিয়ে করতে বাধ্য করা হচ্ছে।[৩২] অন্যদিকে, নারীবাদী আন্দোলনের এক "তৃতীয় তরঙ্গের" উত্থান ঘটে, যা লিঙ্গবৈষম্য এবং বর্ণবাদ-এরমতো সমস্যাগুলোর একত্রিত প্রতিবাদ করে, ফরাসি ডানপন্থীদের দ্বারা নারীবাদের ইসলামভীতি-প্ররোচিত ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

নি পুতেস নি সৌমিসেস প্রধানমন্ত্রী জঁ-পিয়ের রাফারাঁ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর এবং তাদের বার্তা ২০০৩ সালে প্যারিসে বাস্তিল দিবস-এর আনুষ্ঠানিক উদযাপনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর, বিভিন্ন বামপন্থী লেখক (সিলভি তিসো,[৩৩] এলসা দোর্লাঁ,[৩৪] এতিয়েন বালিবার,[৩৫] হুরিয়া বুতেলজা,[৩৬] প্রমুখ) এবং এনজিও যেমন লেস ব্লেদার্দেস (বুতেলজার নেতৃত্বাধীন), অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বর্ণবাদী কলঙ্কায়নের সমালোচনা করেছেন, যাদের সংস্কৃতি সহজাতভাবে লিঙ্গবৈষম্যপূর্ণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়।

তারা জোর দিয়ে বলেন যে লিঙ্গবৈষম্য অভিবাসী জনগোষ্ঠীর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয় এবং গণমাধ্যমের জন্য আকর্ষণীয় ও হিংসাত্মক ঘটনার (যেমন সোহান বেনজিয়ান হত্যাকান্ড) ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ নারীদের অস্থিতিশীলতাকে চাপা দেয়।[৩৩][৩৪] তারা ফরাসি বামপন্থীদের মধ্যে ২০০৪ সালের ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কিত আইন নিয়ে বিতর্ককে এই দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেন, যা মূলত হিজাবের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।[৩৩]

তারা দাবি করেন যে নি পুতেস নি সৌমিসেস অন্যান্য নারীবাদী এনজিও-দের কাজকে ম্লান করে দিয়েছে। এর নেত্রী ফাদেলা আমারা-কে নিকোলা সারকোজি সরকারে মনোনয়ন দেওয়ার পর, সিলভি তিসো একে "রাষ্ট্রীয় নারীবাদ"[৩৩] (রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নারীবাদের ব্যবহার) হিসেবে অভিহিত করেন, আর বুতেলজা এই এনজিও-কে একটি আদর্শিক রাষ্ট্রীয় যন্ত্র (এআইই) হিসেবে চিহ্নিত করেন।[৩৬]

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে, ফেমিনিস্তেস ইঁদিজেন মুলাত্রেস সলিত্যুদ-এর সম্মানে এক ইশতেহার প্রকাশ করে। সলিত্যুদ লুই দেলগ্রের সঙ্গে নেপোলিয়নের দ্বারা দাসপ্রথা পুনঃপ্রতিষ্ঠার (যা ফরাসি বিপ্লবের সময় বিলুপ্ত হয়েছিল) বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।[৩৭] ইশতেহারে বলা হয়েছিল যে "পশ্চিমা নারীবাদ পুরুষ আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একচেটিয়া অধিকার রাখে না" এবং নরমপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নারীবাদকে সমর্থন করা হয়।[৩৮]

নারীদের জন্য সরকারি পদে প্রবেশে অসুবিধা

[সম্পাদনা]

১৯৩০-এর দশকে কিছু নারী সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যদিও তাদের বিভিন্নভাবে কর্মজীবন যথাসম্ভব গোপন রাখতে হতো। ১৯৩৬ সালে, নতুন প্রধানমন্ত্রী লিওঁ ব্লুম পপুলার ফ্রন্ট সরকারে তিনজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করেন: সেসিল ব্রুনশ্ভিক, সুজান লাকোর এবং ইরেন জোলিও-কুরি।[৮] পপুলার ফ্রন্ট সরকারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি সর্বসম্মতভাবে প্রশংসিত হয়েছিল: এমনকি চরম ডানপন্থী প্রার্থী জাভিয়ের ভাল্লা এই পদক্ষেপের জন্য ব্লুমকে "অভিনন্দন" জানিয়েছিলেন, আর রক্ষণশীল সংবাদপত্র লে তঁ ১ জুন ১৯৩৬-এ লিখেছিল যে নারীরা তাদের স্বামীদের পূর্বানুমতি ছাড়াই মন্ত্রী হতে পারেন। সেসিল ব্রুনশ্ভিক এবং ইরেন জোলিও-কুরি উভয়েই আইনত "অপ্রাপ্তবয়স্ক" ছিলেন নারী হিসেবে।

যুদ্ধ (প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উভয়ই) কিছু নারীর অস্থায়ী মুক্তির সাক্ষী হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রক্ষণশীল ভূমিকায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।[৮] উদাহরণস্বরূপ, লুসি ওব্রাক, যিনি ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, যুদ্ধের পর ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যান।[৮] মুক্তির সময় তেত্রিশ জন নারী নির্বাচিত হন, কিন্তু কেউই সরকারে প্রবেশ করেননি।[৮]

চতুর্থ এবং পঞ্চম প্রজাতন্ত্রে নারীদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হতো। ১৯৪৯ সালে, জঁ-পল সিকার প্রথম নারী চিফ অফ স্টাফ হন, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে "মি. প্লেভঁ-এর (তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী) সেক্রেটারি" ঘোষণা করা হয়। মারি-ফ্রঁস গারো, যিনি জঁ ফোয়ে-এর সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন এবং পরে রাষ্ট্রপতি জর্জ পঁপিদুর প্রধান উপদেষ্টা হন, পিয়ের জুইয়ে-এর সঙ্গে, তাকেও একইরকম পদ দেওয়া হয়। বামপন্থী সংবাদপত্র লিবেরাসিঁ, যা ১৯৭৩ সালে জঁ-পল সার্ত্র দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, মারি-ফ্রঁস গারোকে আরেকজন নারী স্পিন-ডক্টর হিসেবে চিত্রিত করে। যাইহোক, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি-কে অর্ধ-রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা-য় নতুন ভূমিকা দেওয়া হয় পঞ্চম প্রজাতন্ত্রে ১৯৬২ সালের সরাসরি সার্বজনীন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গণভোট-এর পর, যা "ফ্রান্সের প্রথম মহিলা"র ভূমিকাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। যদিও শার্ল দ্য গোল-এর স্ত্রী ইভোন জনসাধারণের ক্ষেত্রের বাইরে থাকেন, ক্লদ পঁপিদু-এর চিত্র মিডিয়ার কাছে ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।[৮] সেসিলিয়া সারকোজি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজি-এর প্রাক্তন স্ত্রী, নিয়ে মিডিয়ার উন্মাদনা এই প্রবণতার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

১৯৪৫–১৯৭৪

[সম্পাদনা]

চতুর্থ প্রজাতন্ত্র-এ গঠিত ২৭টি মন্ত্রিসভার মধ্যে মাত্র চারটিতে নারী ছিলেন, এবং কখনোই একসঙ্গে একাধিক নারী ছিলেন না। এসএফআইও সদস্য আঁদ্রে ভিয়েনো, একজন প্রতিরোধকারীর বিধবা, ১৯৪৬ সালের জুনে খ্রিস্টান গণতন্ত্রী জর্জ বিদো-এর পপুলার রিপাবলিকান মুভমেন্ট দ্বারা যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপসচিব হিসেবে মনোনীত হন। তিনি মাত্র সাত মাস পদে থাকেন। পরবর্তী নারী যিনি সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন, জেরমেন পোয়ঁসো-শাপুই, ২৪ নভেম্বর ১৯৪৭ থেকে ১৯ জুলাই ১৯৪৮ পর্যন্ত রোবের শুমঁ-এর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। ২২ মে ১৯৪৮-এ জুর্নাল অফিসিয়েল-এ তার স্বাক্ষর সহ প্রকাশিত এক ডিক্রি তার অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের মন্ত্রী পরিষদ-এ খসড়া করা হয়েছিল। কমিউনিস্ট এবং র‍্যাডিকাল-সোশালিস্ট পার্টি এই ডিক্রি বাতিলের দাবি জানায়, এবং অবশেষে, এই বিষয়ে একটি আস্থা প্রস্তাব-এ ব্যর্থ হওয়ার পর শুমঁ-এর মন্ত্রিসভা উৎখাত হয়। জেরমেন পোয়ঁসো-শাপুই তার রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেন।[৮]

সরকারি পদে অধিষ্ঠিত তৃতীয় নারী ছিলেন র‍্যাডিকাল-সোশালিস্ট জাকলিন থোম-পাতঁত্র, যিনি ১৯৫৭ সালে মরিস বুর্জে-মনুরি-এর মন্ত্রিসভায় পুনর্গঠন ও আবাসন বিষয়ক উপসচিব নিযুক্ত হন। তারপর নাফিসা সিদ কারা ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সালে যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া-র দায়িত্বে উপসচিব হিসেবে সরকারে অংশ নেন। মারি-মাদলেন দিয়েনেশ, যিনি খ্রিস্টান-গণতন্ত্র থেকে গোলিজমে (১৯৬৬ সালে) রূপান্তরিত হন, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উপসচিব হিসেবে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সুজান প্লু ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালে জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রীর জন্য উপসচিব ছিলেন। মোট মিলিয়ে, ১৯৪৬ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে মাত্র সাতজন নারী সরকারি পদে প্রবেশ করেন, এবং তার মধ্যে মাত্র একজন মন্ত্রী হিসেবে।[৮] ইতিহাসবিদরা এই বিরলতার ব্যাখ্যা দেন ত্রঁত গ্লোরিয়েজ (গৌরবময় ত্রিশ বছর) এবং শিশু জন্মের উচ্চহারের প্রেক্ষাপটের উপর জোর দিয়ে, যা পিতৃতন্ত্র-কে শক্তিশালী করে।

এমনকি বামপন্থী মন্ত্রিসভাগুলোও নারীদের মনোনয়ন দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে: পিয়ের মঁদেস-ফ্রঁস (কোলেত বোদ্রি-এর পরামর্শে) তার মন্ত্রিসভায় কোনো নারীকে অন্তর্ভুক্ত করেননি, এসএফআইও-এর মহাসচিব গি মোল্লে বা কেন্দ্রীয় আঁতোয়ান পিনেও তা করেননি। যদিও একোল নাসিওনাল দ্যাদমিনিস্ত্রাসিঁ (ইএনএ) অভিজাত প্রশাসনিক বিদ্যালয় (যেখান থেকে অনেক ফরাসি রাজনীতিবিদ স্নাতক হন) ১৯৪৫ সালে সকল লিঙ্গকে শিক্ষাপ্রদান করতে থাকে, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে মাত্র ১৮ জন নারী সেখান থেকে স্নাতক হন (৭০৬ জন পুরুষের তুলনায়)।[৮]

পঞ্চম প্রজাতন্ত্র-এর প্রথম এগারোটি মন্ত্রিসভার মধ্যে চারটিতে কোনো নারী ছিলেন না। ১৯৬৮ সালের মে মাসে, মন্ত্রিসভা সম্পূর্ণভাবে পুরুষদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। নারীদের এই নিম্ন প্রতিনিধিত্ব ফ্রান্সের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল না: পশ্চিম জার্মানির সরকার ১৯৪৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত কোনো নারীকে কোনো পদে অন্তর্ভুক্ত করেনি, এবং ১৯৭৪-১৯৭৫ সালে বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশে নারী মন্ত্রী ছিলেন।[৮]

১৯৭৪–১৯৮১

[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালে, ভালেরি জিসকার দ্যেস্তঁ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, এবং ১৯৭৪ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে তার সরকারে ৯ জন নারীকে মনোনীত করেন: সিমোন ভেইল, প্রথম নারী মন্ত্রী, ফ্রঁসোয়াজ জিরু, এলেন দোর্লাক, আলিস সোনিয়ে-সেইতে, আনি লেস্যুর, ক্রিস্তিয়ান স্ক্রিভনে, নিকোল পাস্কিয়ে, মনিক পেলতিয়ে এবং এলেন মিসোফ। ১৯৭০-এর দশকের শেষে, ফ্রান্স নারী মন্ত্রীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল, শুধু সুইডেন-এর পিছনে। তবে, তারা জাতীয় সংসদ-এ অত্যন্ত কম প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯৭৩ সালে মাত্র ১৪ জন নারী ডেপুটি (১.৮%) এবং ১৯৭৮ সালে ২২ জন (২.৮%) ছিলেন। জানিন আলেকজঁদ্র-দেরবে, রিপাবলিকান পার্টি (পিআর)-এর ৬৭ বছর বয়সী সিনেটর, প্যারিসে সরকারি সংখ্যাগরিষ্ঠতার নির্বাচনী তালিকায় নারীদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন।[৮]

ক্ষমতার এই নতুন, আপেক্ষিক নারীকরণ আংশিকভাবে জিসকারের সরকারের আরেকটি মে ১৯৬৮-এর মুখোমুখি হওয়ার ভয় এবং এমএলএফ-এর প্রভাব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছিল: "আমরা তাই প্রতিবাদী নারীবাদ [ফেমিনিস্ম দ্য কঁতেস্তাসিঁ]-এর চাপে রাষ্ট্রীয় নারীবাদের জন্ম ব্যাখ্যা করতে পারি," ক্রিস্তিন বার্দ লিখেছেন। যদিও চরম বামপন্থীরা ক্ষমতার নারীকরণের প্রতি উদাসীন ছিল, ১৯৭৪ সালে, আর্লেত লাগিয়ে প্রথম নারী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ান (ট্রটস্কিবাদী পার্টি ওয়ার্কার্স স্ট্রাগল, এলও)-এর জন্য, এবং তার পার্টিতে নারীবাদী প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করেন। জিসকারের সরকারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত কৃতিত্বকে ফ্রঁসোয়াজ জিরু তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন, অন্যরা, যেমন এভলিন সুরো, বেনোয়াত গ্রুল বা মন্ত্রী মনিক পেলতিয়ে, নির্বাচনী "অজুহাত" হিসেবে এর নিন্দা করেছেন। সমাজবিজ্ঞানী মারিয়েত সিনো জোর দিয়েছেন যে জিসকার নারীদের শুধুমাত্র সরকারি শ্রেণিবিন্যাসের নিম্ন স্তরে (রাষ্ট্রীয় সচিব) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং তাদের সমাজ-শিক্ষামূলক বিষয়ে রেখে দিতেন। ১৯৩৬ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত আঠারো জনের মধ্যে সাতজন নারীর পদ যুব ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, এবং চারজনের (দুই মন্ত্রীসহ) পদ স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যা ঐতিহ্যবাহী লিঙ্গ বিভাজন প্রতিফলিত করে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র নারীদের নাগালের বাইরে থেকে যায়। আঠারো জনের মধ্যে মাত্র ছয়জন নারী সার্বজনীন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকিরা প্রধানমন্ত্রী দ্বারা মনোনীত হয়েছিলেন।[৮]

১৯৮০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত

[সম্পাদনা]

১৯৮১ সালে নির্বাচন-এ সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী ফ্রঁসোয়া মিত্রঁ-এর বিজয়ের পর, ইভেত রুদি ১৯৮৩ সালে লিঙ্গবৈষম্য-এর বিরুদ্ধে আইন পাস করেন।

বাম ও ডানপন্থী নারী মন্ত্রীরা ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে নারীদের সমান প্রতিনিধিত্বের জন্য মানিফেস্ত দেস ১০ স্বাক্ষর করেন।[৮] এর বিরোধিতা করেন নারীবাদী ইতিহাসবিদ এবং মনোবিশ্লেষক এলিজাবেত রুদিনেস্কো, যিনি বিশ্বাস করতেন যে বিদ্যমান আইনই যথেষ্ট ছিল।

সমাজতান্ত্রিক সেগোলেন রয়্যাল ২০০৭ সালে ফরাসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-এ প্রথম রাউন্ডে উত্তীর্ণ প্রথম নারী প্রার্থী হন, যিনি রক্ষণশীল ইউএমপি প্রার্থী নিকোলা সারকোজি-এর মুখোমুখি হন। সারকোজি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন, কিন্তু এক বছর পরে, জনমত জরিপে দেখা যায় যে ভোটাররা রয়্যালকে এলিজে প্রাসাদ-এ না পাঠানোর জন্য অনুশোচনা করছেন এবং তিনি ২০০৮ সালে সারকোজির সঙ্গে ম্যাচআপে সহজেই জিততেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তিনি তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনে শীর্ষে ছিলেন, যা ২০ নভেম্বর ২০০৮-এ অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী মার্তিন ওব্রি, যিনি একজন নারী, তার কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন।[৩৯]

ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি-এর অধ্যাপক জোয়ান স্কট বলেছেন: "ফরাসিরা লিঙ্গ সম্পর্ককে ভিন্নভাবে পরিচালনা করে—বিশেষ করে সংযমী আমেরিকানদের থেকে—এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি রয়েছে, এবং এটি ফরাসিদের প্রলোভন সম্পর্কে বোঝার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রলোভন হলো যৌন হয়রানিকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিন্তা করার বিকল্প।"[৪০] আঁজে বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ক্রিস্তিন বার্দ এই চিন্তার প্রতিধ্বনি করেন, বলেছেন যে "ফরাসি শৈলীতে প্রলোভনের একরকম আদর্শায়ন রয়েছে, এবং নারীবাদ-বিরোধিতা ফ্রান্সে প্রায় জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।"[৪০]

আন্তর্জাতিক নারী দিবস মিছিল প্যারিসে, ৮ মার্চ ২০২০[৪১]

১৯৯০ সালে, একটি মামলার পর যেখানে একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছিল, কোর্ট অফ ক্যাসেশন স্বামীদের ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের জন্য বিচারের অনুমতি দেয়। ১৯৯২ সালে, কোর্ট অফ ক্যাসেশন একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর ধর্ষণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে, বলে যে বিবাহের মধ্যে যৌন ক্রিয়াকলাপে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতি থাকার অনুমান কেবল তখনই বৈধ যখন তার বিপরীত প্রমাণিত না হয়।[৪২] ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত, ফ্রান্স ফরাসি দণ্ডবিধিতে ১৮১০ সালের সেই ধারাটি রেখেছিল যা ধর্ষককে মুক্তি দিত যদি তারা পরে তাদের শিকারকে বিয়ে করে, এবং ১৯৯৪ সালে আইন ৯৪-৮৯ সমস্ত বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে।

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ফ্রান্সে ১৯৯২ সাল থেকে আইনি নিষেধাজ্ঞার অধীন হয়। আইনজীবীদের মতে, এই আইনগুলো জোরালোভাবে প্রয়োগ করা হয় না।[৪০] স্কট বলেছেন, ফ্রান্সের "যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মকভাবে পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছা যৌন সম্পর্ক এবং পুরুষ ও নারীর মধ্যে আপেক্ষিক ক্ষমতা সম্পর্কে গভীরভাবে প্রোথিত ধারণাগুলোকে প্রতিফলিত করে।"[৪০]

২০১৮ সালে ফ্রান্স রাস্তায় যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ করে, একটি আইন পাস করে ঘোষণা করে যে রাস্তায় এবং গণপরিবহনে ক্যাটকলিং ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার অধীন, আরও আক্রমণাত্মক এবং শারীরিক আচরণের জন্য আরও বেশি। আইনটি এও ঘোষণা করে যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৫ বা তার কম বয়সী ব্যক্তির মধ্যে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে যদি কমবয়সী ব্যক্তিকে সম্মতি দেওয়ার জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হয়।[৪৩][৪৪] এটি ধর্ষণের অপ্রাপ্তবয়স্ক শিকারদের অভিযোগ দায়েরের জন্য অতিরিক্ত এক দশক সময় দেয়, মেয়াদ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।[৪৪]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 Roberts, Mary Louise (২০০২)। Disruptive Acts: The New Woman in Fin-de-Siecle France। Chicago: University of Chicago Press।
  2. ↑ Berlanstein, Lenard (বসন্ত ২০০৯)। "Ready for Progress? Opinion Surveys on Women's Roles and Opportunities in Belle Époque France"। French Politics, Culture & Society। ২৭: ১–২২। ডিওআই:10.3167/fpcs.2009.270101।
  3. 1 2 Mesch, Rachel (শীতকাল ২০১২)। "A New Man for the New Woman? Men, Marriage, and Feminism in the Belle Epoque"। Historical Reflections। ৩৮: ৮৫–১০৬।
  4. ↑ Holmes, Diana and Carrie Tarr. "Introduction." In A 'Belle Époque'?: Women in French Society and Culture 1890-1914, edited by Diana Holmes and Carrie Tarr, 23-36. New York: Berghahn Books, 2006.
  5. ↑ Allison, Maggie. "Marguerite Durand and La Fronde: Voicing Women of the Belle Epoque." In A 'Belle Époque'?: Women in French Society and Culture 1890-1914, edited by Diana Holmes and Carrie Tarr, 23-36. New York: Berghahn Books, 2006.
  6. ↑ Women and the Commune ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ মার্চ ২০০৭ তারিখে, in L'Humanité, ১৯ March ২০০৫ (ফরাসি ভাষায়)
  7. 1 2 3 François Bodinaux, Dominique Plasman, Michèle Ribourdouille. "On les disait 'pétroleuses'... ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ মার্চ ২০০৯ তারিখে" (ফরাসি ভাষায়)
  8. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 Christine Bard, Les premières femmes au Gouvernement (France, 1936-1981), Histoire@Politique, নং ১, মে–জুন ২০০৭ (ফরাসি ভাষায়)
  9. ↑ Guéraiche 1999।
  10. ↑ Sapiro 2004।
  11. ↑ Girault ও Loiseau 2023।
  12. ↑ Loiseau ও Pennetier 2023।
  13. ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Buchanan" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  14. ↑ Beauvoir, Simone de; Parshley, H. M. (১৯৯৭)। The second sex। London: Vintage। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৯-৯৭৪৪২১-৪।
  15. ↑ "Archived copy" (পিডিএফ)। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৬।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক)
  16. ↑ Passeron, André; Dupont, Gaëlle (২৬ নভেম্বর ২০১৩)। "Mort de Lucien Neuwirth auteur de la loi sur la pilule"। Le Monde (ফরাসি ভাষায়)। আইএসএসএন 1950-6244। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৭।
  17. 1 2 Chris Collette (সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "France parental responsibilities" (পিডিএফ)। ceflonline.net। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৩।
  18. ↑ "Jurisprudence -Le Conseil d'État valide la suppression du " Mademoiselle " dans les documents administratifs | service-public.fr"। service-public.fr।
  19. ↑ (ফরাসি ভাষায়) http://tempsreel.nouvelobs.com/actualites/societe/20071127.OBS7018/le_manifeste_des_343_salopes_paru_dans_le_nouvel_obs_en.htm
  20. ↑ Michelle Zancarini-Fournel, "Histoire(s) du MLAC (1973-1975)", Clio, numéro 18-2003, Mixité et coéducation, [En ligne], mis en ligne le 04 décembre 2006. URL : http://clio.revues.org/index624.html. Consulté le 19 décembre 2008.
  21. ↑ d'Eaubonne, Françoise (১৯৭৪)। Le Féminisme ou la Mort। Paris: Horay।
  22. ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Merchant" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  23. ↑ Glazebrook, Trish (সেপ্টেম্বর ২০০২)। "Karen Warren's Ecofeminism"। Ethics & the Environment। ৭ (2): ১২–২৬। ডিওআই:10.2979/ETE.2002.7.2.12। এস২সিআইডি 144641656।
  24. ↑ Greenwald, Lisa (২০১৮)। Daughters of 1968: Redefining French Feminism and the Women's Liberation Movement। Nebraska: University of Nebraska Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৯৬২-১৭৭১-৪।
  25. ↑ Moi, T. (১৯৮৭)। French Feminist Thought: a reader। Blackwell। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৩১-১৪৯৭৩-৬।
  26. ↑ Spivak, Gayatri Chakravorty (১৯৮১), "French Feminism in an International Frame", Yale French Studies, Feminist Readings: French Texts/American Contexts (62), Yale University Press: ১৫৪–১৮৪, ডিওআই:10.2307/2929898, আইএসএসএন 0044-0078, জেস্টোর 2929898
  27. 1 2 Wright, Elizabeth (2000). Lacan and Postfeminism (Postmodern Encounters). Totem Books or Icon Books. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪০৪৬-১৮২-৪.
  28. ↑ Vanda Zajko and Miriam Leonard (eds.), 'Laughing with Medusa'. Oxford University Press, 2006. 87-117. আইএসবিএন ০-১৯-৯২৭৪৩৮-X.
  29. ↑ Carol Armstrong and Catherine de Zegher, 'Women Artists as the Millennium'. Cambridge Massachusetts: October Books, MIT Press, 2006. 35-83. ISBN.
  30. ↑ Kristeva, Julia; Moi, Toril (১৯৮৬)। The Kristeva reader। New York: Columbia University Press। পৃ. ৩২৮। আইএসবিএন ০-২৩১-০৬৩২৫-৩।
  31. ↑ Moses, Claire Goldberg (১৯৯৮)। "Made in America: "French Feminism" in Academia"। Feminist Studies। ২৪ (2): ২৪১–২৭৪। ডিওআই:10.2307/3178697। এইচডিএল:2027/spo.0499697.0024.203। জেস্টোর 3178697। Gale A21221517 প্রোকুয়েস্ট 233178967।
  32. ↑ দুমেইল, অ্যানি; এডমিস্টন, উইলিয়াম এফ. (২৩ জানুয়ারি ২০১১)। লা ফ্রঁস কঁতেম্পোরেন।
  33. 1 2 3 4 সিলভি তিসো, বিলঁ দ্যঁ ফেমিনিস্ম দ্যঁতা, প্ল্যাঁ দ্রোয়া সংখ্যা ৭৫, ডিসেম্বর ২০০৭
  34. 1 2 এলসা দোর্লাঁ (সরবন-এর দর্শনের অধ্যাপক, নেক্সটজেন্ডারেশন-এর সদস্য), "পা অঁ নোত্র নঁ!" – কঁত্র লা রেকুপেরাসিঁ রাসিস্ত দ্যু ফেমিনিস্ম পার লা দ্রোয়াত ফ্রঁসেজ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে (আমাদের নামে নয়! ফরাসি ডানপন্থীদের দ্বারা নারীবাদের জাতিবাদী পুনরুদ্ধারের বিরুদ্ধে), লোত্র ক্যাম্পেন (ফরাসি ভাষায়)
  35. ↑ এতিয়েন বালিবার, আপরাইজিং ইন দ্য "বানলিয়ু", শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলন, ১০ মে ২০০৬ (ইংরেজি ভাষায়) (ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত লিনেস, নভেম্বর ২০০৬)
  36. 1 2 হুরিয়া বুতেলজা, দ্য লা সেরেমনি দ্যু দেভোয়ালমঁ আ আলজের (১৯৫৮) আ নি পুতেস নি সৌমিসেস: ল্যঁস্ত্রুমঁতালিসাসিঁ কলোনিয়াল এ নেও-কলোনিয়াল দ্য লা কজ দেজ ফাম., নি পুতেস নি সৌমিসেস, আঁ আপারেই ইদেওলজিক দ্যঁতা, জুন ২০০৭ (ফরাসি ভাষায়)
  37. ↑ আপেল দেস ফেমিনিস্তেস ইঁদিজেন, সু লে ও মারেনাজ দ্য সলিত্যুদ, এরোয়িন দ্য লা রেভোল্ত দেজ এসক্লাভ গুয়াদলুপঁ কঁত্র লে রেতাব্লিসমঁ দ্য লেসক্লাভাজ পার নাপোলেওঁ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ মার্চ ২০০৮ তারিখে (ফরাসি ভাষায়)
  38. ↑ ফরাসি: লে ফেমিনিস্ম ওক্সিদঁতাল না পা লে মনোপল দ্য লা রেজিস্তঁস আ লা দমিনাসিঁ মাস্ক্যুলিন, আপেল দেস ফেমিনিস্তেস ইঁদিজেন, সু লে ও মারেনাজ দ্য সলিত্যুদ, এরোয়িন দ্য লা রেভোল্ত দেজ এসক্লাভ গুয়াদলুপঁ কঁত্র লে রেতাব্লিসমঁ দ্য লেসক্লাভাজ পার নাপোলেওঁ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ মার্চ ২০০৮ তারিখে (ফরাসি ভাষায়)
  39. ↑ "রয়্যাল ফরাসি ভোট পুনরায় চালানোর দাবি জানিয়েছেন"। বিবিসি নিউজ। ২২ নভেম্বর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১০।
  40. 1 2 3 4 রুবিন, আলিসা জে. (১৯ নভেম্বর ২০১৭)। "'রিভোল্ট' ইন ফ্রান্স এগেইনস্ট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট হিটস কালচারাল রেজিস্ট্যান্স"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
  41. ↑ "আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশ্বজুড়ে পালিত"। ভিওএ নিউজ। ৮ মার্চ ২০২০।
  42. ↑ সিমন, রিতা জেমস (মে ২০০১)। এ কম্পারেটিভ পার্সপেক্টিভ অন মেজর সোশ্যাল প্রবলেমস। লেক্সিংটন বুকস। পৃ. ২০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৩৯১-০২৪৮-০। {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  43. ↑ "ইন ফ্রান্স, ক্যাটকলিং ইজ নাও ইলিগ্যাল"। ভোগ। ৩ আগস্ট ২০১৮।
  44. 1 2 "ফ্রান্স আউটলজ লিউড ক্যাট-কলস টু উইমেন ইন পাবলিক অ্যামিড অ্যাটাক আপরোর"। রয়টার্স। ২ আগস্ট ২০১৮।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • মারি সেরাতি, লে ক্লাব দেস সিটোয়েনেস রিপাবলিকেইনেস রেভোলিউশনেয়ার্স, প্যারিস, এড. সোসিয়ালেস, ১৯৬৬
  • ক্যারোলিন আইকনার, সারমাউন্টিং দ্য ব্যারিকেডস: উইমেন ইন দ্য প্যারিস কমিউন, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৪
  • এরিক ফাসিন, ক্লারিস ফাব্রে, লিবার্তে, এগালিতে, সেক্সুয়ালিতে, বেলফন্ড ২০০৩।
  • লিসা গ্রিনওয়াল্ড, ডটার্স অফ ১৯৬৮: রিডিফাইনিং ফ্রেঞ্চ ফেমিনিজম অ্যান্ড দ্য উইমেন্স লিবারেশন মুভমেন্ট (নেব্রাস্কা: ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা প্রেস, ২০১৮)
  • এম. জাসপার্ড, এনকুয়েট সুর লেস ভায়োলাঁস ফেটেস অক্স ফেম, লা ডকুমেন্টেশন ফ্রঁসেজ, ২০০২।
  • বিবিয়া পাভার্ড, ফ্লোরেন্স রোশফোর্ট, মিশেল জানকারিনি-ফোর্নেল: নে নু লিবেরেজ পাস, ওঁ স'এঁ শার্জ – উনে ইস্তোয়ার দেস ফেমিনিসমেস দ্য ১৭৮৯ অ নো জোর্স, প্যারিস: লা ডেকুভার্ত ২০২০
  • মার্ক দ্য ভিলিয়ার্স, ইস্তোয়ার দেস ক্লাব দ্য ফেম এ দে লেজিওঁ দ'আমাজোনেস (১৭৯৩-১৮৪৮-১৮৭১), প্যারিস, প্লঁ-নুরি এ সি, ১৯১০