বিষয়বস্তুতে চলুন

ফ্রাঙ্কফুর্ট পুস্তকমেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ফ্রাঙ্কফুট পুস্তকমেলা একটি আন্তর্জাতিক পুস্তক ও প্রকাশনাসংক্রান্ত বাণিজ্য মেলা তথা প্রদর্শনী যা প্রতি বৎসর জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে অনুষ্ঠিত হয়। এটা মূলত প্রদর্শনী যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে খুচরা বিকিকিনি হয় না, বরং লেখক, প্রকাশক এবং পুস্তক বিপণনকারীদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কজালিকা তৈরীই এ পুস্তকমেলার প্রধান উদ্দেশ্য। ২০০৬ খৃস্টাব্দে শ্রাবণ প্রকাশনী-এর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মেলায় বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের সূচনা হয়। বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্টল থাকলেও প্রকাশক, মুদ্রক, অলংকারিক এমনকি লেখকরা এ বই মেলায় অংশগ্রহণ করেন।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় বাংলাদেশের শ্রাবণ প্রকাশনীর স্টল, ২০০৭

২০০৬ সালে ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায় ভারত দ্বিতীয় বারের জন্য অতিথি দেশ নির্বাচিত হয়। ভারতই প্রথম দেশ হিসেবে এই মেলায় দুইবার অতিথি দেশ নির্বাচিত হয়। এই মেলার উদ্বোধনী ভাষণে মহাশ্বেতা দেবী রাজ কাপুরের বিখ্যাত চিত্রগীতি "মেরা জুতা হ্যায় জাপানি" থেকে পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করে একটি আবেগময় ভাষণ দেন:

সত্যই এটি এমন এক যুগ যেখানে ‘জুতা’টি (জুতো) জাপানি, ‘পাতলুন’টি (প্যান্ট) ‘ইংলিশস্তানি’ (ব্রিটিশ), ‘টোপি’টি (টুপি) ‘রুসি’ (রাশিয়ান), কিন্তু ‘দিল’... ‘দিল’টি (হৃদয়) সর্বদা ‘হিন্দুস্তানি’ (ভারতীয়)... আমার দেশ, ক্ষয়প্রাপ্ত, ছিন্নভিন্ন, গর্বিত, সুন্দর, উষ্ণ, আর্দ্র, শীতল, ধূলিধূসরিত, উজ্জ্বল ভারত। আমার দেশ।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

[সম্পাদনা]
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের স্টলে বিদেশী পাঠক, ২০২৫

সম্প্রতিকালে বাংলাদেশ সরকারীভাবে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুস্তকমেলায় অংশ গ্রহণ করছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্ট পুস্তকমেলায় স্টল ভাড়া নেয় এবং বাংলাদেশের বইয়ের পসার সাজায়। এতে বার্লিনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বই পরিবহনে সাহায্য করে। [][][]

সেমিনার

[সম্পাদনা]

২০২৫ সালে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র বাংলাদেশের ওপর একটি সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসেইন। তিনি বলেন:

গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ পুনরায় চিন্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তবে মৌলিক এবং মানবিক অধিকার আদায়ের জন্য শত শত তরুণকে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রক্ত দিতে হয়েছে। কোনো সভ্য সমাজে এটা কাম্য হতে পারে না। ‌কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের সামনে এর কোনো বিকল্প ছিল না।

আলোচনায় অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের ঘাড় থেকে সিন্দাবাদের ভূত নেমে গেছে।‌ দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করে একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা পুনর্বাসন করেছে। ‌আমাদের স্বপ্ন দেখার এবং উচ্চাশা পোষণ করার দিন ফিরে এসেছে।‌’’ []

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]


বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]