বিষয়বস্তুতে চলুন

ফেরাউন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
O1
O29
pr-aa
"গ্রেট ঘর"
চিত্রলিপিতে

ফেরাউন বা ফারাও (/ˈf.r/, /fɛr./[][] বা /fær./[]) হলো গ্রিক-রোমান কর্তৃক বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশের রাজাদের প্রচলিত উপাধি।[] ফারাও আদি মিশরীয় সভ্যতা। মিশরে নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল খ্রীস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে।নীল নদকে কেন্দ্র করে মিশরের এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিশরকে বলেছেন “নীল নদের দান”। ৫০০০-৩২০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সময়ের মিশরকে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলা হয়।এ সময় মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। এগুলোকে বলা হয় নোম।৩২০০ খ্রীষ্টপুর্বাব্দে “মেনেস” নামের এক রাজা সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি নগর রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। দক্ষিণ মিশরের “মেস্ফিস” হয় এর রাজধানী। এভাবে মিশরে রাজবংশের সূচনা হয়।

sw
t
L2
t


A43A45


S1
t
S3
t


S2S4


S5
nesu-bit
"King of Upper
and Lower Egypt"
চিত্রলিপিতে

ফারাওদের ভূমিকাগুলির মধ্যে একটি ছিল দেবতা এবং জনগণের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে।[] তাই ফারাও নাগরিক এবং ধর্মীয় প্রশাসক উভয় ভূমিকায় নিযুক্ত হত। ফারাওরা মিশরের সমস্ত জমির মালিক ছিলেন, আইন প্রণয়ন করতেন, কর আদায় করতেন এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন ।[] ধর্মীয়ভাবে , রাজা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন এবং নতুন মন্দিরের স্থান নির্বাচন করতেন। রাজার দায়িত্ব ছিল মাত ( mꜣꜥt ), বা মহাজাগতিক শৃঙ্খলা, ভারসাম্য এবং ন্যায়বিচার বজায় রাখা, এবং এর একটি অংশ ছিল দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে যুদ্ধে যাওয়া বা অন্যদের আক্রমণ করা যখন বিশ্বাস করা হত যে এটি মাতকে অবদান রাখবে, যেমন সম্পদ অর্জন করা। []

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"ফারাও" (ইংরেজি: Pharaoh) শব্দটি মূলত মিশরীয় যৌগিক শব্দ pr ꜥꜣ (*/ˌpaɾuwˈʕaʀ/) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "বিশাল অট্টালিকা"। এটি দুটি দ্বিবর্ণ হিয়েরোগ্লিফ দ্বারা লেখা হতো: "pr" যার অর্থ "বাড়ি" এবং "ꜥꜣ" যার অর্থ "স্তম্ভ", যা এখানে "বিশাল" বা "উচ্চ" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি রাজপ্রাসাদের একটি উপাধি ছিল এবং শুধুমাত্র বড় বাক্যাংশে ব্যবহৃত হতো, যেমন smr pr-ꜥꜣ বা "উচ্চ অট্টালিকার দরবারী", যা সরাসরি রাজদরবার বা প্রাসাদের ভবনগুলোকে নির্দেশ করত।[] দ্বাদশ রাজবংশ থেকে এই শব্দটি "বিশাল অট্টালিকা, এটি দীর্ঘজীবী হোক, সমৃদ্ধ হোক এবং সুস্থ থাকুক" নামক একটি আশীর্বাদসূচক বাক্যে দেখা যায়, তবে তখনও এটি কোনো ব্যক্তিকে নয় বরং রাজপ্রাসাদকেই নির্দেশ করত।

রাজাদের উপত্যকার কেভি৬২ সমাধি থেকে প্রাপ্ত তুতানখামেনের মুখোশ। ফারাওদের সমাধিতে প্রচুর পরিমাণে সম্পদ রাখা হতো।

নতুন রাজ্যের যুগে কোনো এক সময়ে "ফারাও" শব্দটি রাজার সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। শাসককে সম্বোধন করার জন্য pr ꜥꜣ ব্যবহারের প্রথম নিশ্চিত উদাহরণ পাওয়া যায় অষ্টাদশ রাজবংশের রাজা আখেনাতেনের (রাজত্বকাল আনুমানিক ১৩৫৩–১৩৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কাছে লেখা একটি চিঠিতে, যেখানে তাকে "বিশাল অট্টালিকা, দীর্ঘজীবী, সমৃদ্ধ ও সুস্থ থাকুন, হে প্রভু" বলে সম্বোধন করা হয়েছিল।[][] তবে এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, pr ꜥꜣ উপাধিটি প্রথম ব্যক্তিগতভাবে তৃতীয় তুথমোসের (আনুমানিক ১৪৭৯–১৪২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে, যা আরমান্ট মন্দিরের একটি শিলালিপির নিশ্চিতকরণের ওপর নির্ভর করছে।[১০] অষ্টাদশ রাজবংশের সময় (খ্রিস্টপূর্ব ১৬শ থেকে ১৪শ শতাব্দী) ফারাও উপাধিটি শাসকের প্রতি এক ধরনের সম্মানসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে একবিংশ রাজবংশের শেষের দিকে (খ্রিস্টপূর্ব ১০ম শতাব্দী), এটি কেবল প্রাসাদের জন্য বা এককভাবে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে রাজার নামের আগে অন্যান্য উপাধির সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। পঁচিশতম রাজবংশ (খ্রিস্টপূর্ব ৮ম থেকে ৭ম শতাব্দী) থেকে এটি রাজকীয় নামের আগে ব্যবহৃত একমাত্র বিশেষণ বা এপিথেট হয়ে দাঁড়ায়।[১১]

উনবিংশ রাজবংশ থেকে pr-ꜥꜣ শব্দটি ḥm বা "মহামান্য" শব্দের মতোই নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।[১২] ফলে শব্দটি একটি নির্দিষ্ট ভবন নির্দেশকারী শব্দ থেকে বিবর্তিত হয়ে সেই ভবনে অধিষ্ঠিত শাসকের সম্মানসূচক উপাধিতে পরিণত হয়, বিশেষ করে দ্বাবিংশত্রয়োবিংশ রাজবংশের সময়কাল নাগাদ।

কোনো শাসকের নামের সাথে "ফারাও" উপাধি যুক্ত হওয়ার প্রথম তারিখযুক্ত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় সিয়ামুনের রাজত্বের ১৭তম বছরে (খ্রিস্টপূর্ব ১০ম শতাব্দী) কার্নাক প্রিস্টলি অ্যানালস নামক একটি ধর্মীয় নথির খণ্ডাংশে। সেখানে আমুন একজনের অন্তর্ভুক্তির তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে "ফারাও সিয়ামুনের" রাজত্বকালে।[১৩] এই নতুন প্রথাটি তার উত্তরসূরি দ্বিতীয় পসুসেনেস এবং পরবর্তী দ্বাবিংশ রাজবংশের রাজাদের আমলেও অব্যাহত ছিল। উদাহরণস্বরূপ, লার্জ দাখলা স্টিলা-টি (Large Dakhla stela) "ফারাও শেশঙ্ক, আমুনের প্রিয়" রাজার রাজত্বের ৫ম বছরে তারিখযুক্ত, যাকে সকল মিশরবিদসহ অ্যালান গার্ডিনার প্রথম শেশঙ্ক (দ্বাবিংশ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা) হিসেবে একমত হয়েছেন।[১৪] প্রথম শেশঙ্ক ছিলেন সিয়ামুনের দ্বিতীয় উত্তরসূরি। এদিকে অফিসিয়াল মিশরীয় বর্ণনায় সার্বভৌম শাসককে pr-ˤ3 হিসেবে উল্লেখ করার ঐতিহ্যবাহী প্রথাটিও অব্যাহত ছিল।

উপাধিটি পরবর্তী মিশরীয় ভাষায় *[parʕoʔ] হিসেবে উচ্চারিত হতো বলে পুনর্গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস একজন মিশরীয় রাজার নাম হিসেবে টেমপ্লেট:Lang-grc-x-koine শব্দটি গ্রহণ করেছিলেন।[১৫] হিব্রু বাইবেলে এই উপাধিটি হিব্রু ভাষায়: פרעה [parʕoːh] হিসেবে পাওয়া যায়;[১৬] সেখান থেকে সেপ্টুয়াজিন্টে টেমপ্লেট:Lang-grc-x-koine এবং পরে ল্যাটিন ভাষায় এটি pharaō হিসেবে পরিচিতি পায়। একইভাবে কুরআনে এর বানান করা হয়েছে আরবি: فرعون ফিরআউন (এখানে এটি সর্বদা এক্সোডাসের কাহিনীর একজন দুষ্ট রাজাকে বোঝায়, যার বিপরীতে সূরা ইউসুফের কাহিনীতে একজন ভালো রাজার কথা বলা হয়েছে)। আরবি শব্দটি মূল মিশরীয় 'আইন' (ayin) এবং গ্রিক থেকে আসা 'ন' (n) ধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।

ইংরেজিতে শব্দটি শুরুতে "Pharao" বানান করা হতো, কিন্তু কিং জেমস বাইবেলের অনুবাদকরা হিব্রু থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে "h" যুক্ত করে "Pharaoh" বানানটি পুনরুজ্জীবিত করেন। এদিকে মিশরে *[par-ʕoʔ] শব্দটি বিবর্তিত হয়ে সাহিদিক কপটিক ভাষায় ⲡⲣ̅ⲣⲟ pərro এবং পরবর্তীতে p- অংশটি নির্দিষ্ট নির্দেশকে রূপান্তরিত হয়ে ərro-তে পরিণত হয় (যা প্রাচীন মিশরীয় pꜣ থেকে এসেছে)।[১৭]

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপাধিগুলোর মধ্যে রয়েছেnswt (রাজা); ḥm (মহামান্য); সার্বভৌম শাসকের জন্য jty; প্রভুর জন্য nb;[১২] এবং শাসকের জন্য ḥqꜣ

কার্যাবলি

[সম্পাদনা]
নার্মার প্যালেটে দুই দেশের একত্রীকরণ চিত্রিত হয়েছে।[১৮]

রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে ফারাও ছিলেন দেবতা ও মানুষের মধ্যে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতাকারী। দেবতাদের কাছে তিনি মিশরীয় মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঠিক সম্পাদন নিশ্চিত করতেন; আর মানুষের কাছে তিনি কৃষি সমৃদ্ধি, ভূখণ্ড রক্ষা এবং নিরপেক্ষ বিচারের নিশ্চয়তা দিতেন।

পবিত্র স্থানগুলোতে দেয়ালচিত্র এবং মূর্তিগুলোর মাধ্যমে সার্বভৌম শাসকের উপস্থিতি ছিল সর্বব্যাপী। এই মূর্তিতত্ত্বে, ফারাওকে সর্বদা দেবতাদের সমান হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। তবে ধর্মীয় বচনে তিনি ছিলেন তাদের একজন বিনম্র সেবক, একজন নিষ্ঠাবান ভৃত্য যিনি দেবতাদের উদ্দেশে অসংখ্য নৈবেদ্য প্রদান করতেন। এই ধর্মপরায়ণতা মূলত সেবার সঠিক প্রতিদানের আশা প্রকাশ করত। সম্পদে পরিপূর্ণ হয়ে দেবতারা যেন সমস্ত মিশরীয়দের সাধারণ সুবিধার জন্য প্রকৃতির শক্তিকে অনুকূলভাবে সক্রিয় করেন এটাই ছিল লক্ষ্য। দেবতাদের সাথে সমান স্তরে সংলাপের অনুমতিপ্রাপ্ত একমাত্র মানুষ হিসেবে ফারাও ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ পুরোহিত বা প্রধান আচার পরিচালক। আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে, ফারাওয়ের কর্মকাণ্ড সমষ্টিগত সকল ক্ষেত্রের কার্যকলাপকে আবৃত করত এবং সেখানে কোনো ক্ষমতার পৃথকীকরণের অস্তিত্ব ছিল না। এছাড়া প্রশাসনের প্রতিটি সদস্য কেবল রাজকীয় ব্যক্তির পক্ষ থেকে ক্ষমতার হস্তান্তরের মাধ্যমে তার নামেই কাজ করতেন।

পিরামিড লিপি অনুসারে, সার্বভৌম শাসকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড একটিমাত্র নীতিবাক্য দ্বারা পরিচালিত হতো: "মা'আতকে আনো এবং ইজফেতকে হঠাও", অর্থাৎ সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা এবং বিশৃঙ্খলা দূর করা। জনগণের লালন-পালনকারী পিতা হিসেবে ফারাও দেবতাদের কাছে নীল নদের পানি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতেন, দুর্ভিক্ষের সময় শস্যাগার উন্মুক্ত করে দিতেন এবং চাষযোগ্য জমির সঠিক বন্টন নিশ্চিত করতেন। সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে ফারাও ছিলেন সীমান্তের সাহসী রক্ষক। সাপ আপেপ বা অ্যাপোফিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দেবতা রা-এর মতো মিশরের রাজাও মরুভূমির লুণ্ঠনকারীদের বিতাড়িত করতেন, আক্রমণকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতেন এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদের পরাজিত করতেন। ফারাও সবসময়ই ছিলেন একমাত্র বিজয়ী; তিনি দাঁড়িয়ে একদল বন্দিকে আঘাত করছেন বা তার যুদ্ধ-রথ থেকে তীর ছুড়ছেন এমন চিত্রই দেখা যেত। একমাত্র আইন প্রণেতা হিসেবে তার জারি করা আইন ও ডিক্রিগুলো ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হতো। এই আইনগুলো আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকত এবং উজিরের দায়িত্বে ন্যস্ত থাকত, যা সাধারণ মঙ্গল এবং সামাজিক সমঝোতার জন্য সকলের ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হতো।

মুকুট এবং মস্তকাবরণ

[সম্পাদনা]
নার্মার প্যালেট
সাদা মুকুট পরিহিত নার্মার
লাল মুকুট পরিহিত নার্মার

দেশরেত

[সম্পাদনা]
লাল মুকুট পরিহিত একটি প্রহরী মূর্তি যা তৎকালীন রাজার চেহারার প্রতিফলন ঘটায় (সম্ভবত দ্বিতীয় আমেনেমহাত বা দ্বিতীয় সেনউসরেত)। এটি ইমিউট ফেটিশের (imiut fetish) জন্য একটি ঐশ্বরিক অভিভাবক হিসেবে কাজ করত। এটি সিডার কাঠ এবং প্লাস্টার দিয়ে ১৯১৯ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে।[১৯]

নিম্ন মিশরের লাল মুকুট বা দেশরেত মুকুটটি প্রাক-রাজবংশীয় সময়কালের এবং এটি প্রধান শাসকের প্রতীক ছিল। নাকাদার একটি মৃৎপাত্রের টুকরোতে লাল মুকুটের চিত্র পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে নার্মারকে নার্মার মেসহেড এবং নার্মার প্যালেট উভয় স্থানেই লাল মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

হেজেত

[সম্পাদনা]

উচ্চ মিশরের সাদা মুকুট বা হেজেত মুকুটটি প্রাক-রাজবংশীয় যুগে দ্বিতীয় স্করপিয়ন এবং পরবর্তীতে নার্মার পরতেন।

পশেন্ত

[সম্পাদনা]

দেশরেত এবং হেজেত মুকুটের সংমিশ্রণে তৈরি দ্বৈত মুকুটকে পশেন্ত মুকুট বলা হয়। মিশরের প্রথম রাজবংশের মাঝামাঝি সময়ে এটি প্রথম নথিভুক্ত করা হয়। এর প্রাচীনতম চিত্রটি সম্ভবত জেতের রাজত্বকালের হতে পারে এবং এছাড়া ডেনের রাজত্বকালে এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত।[২০]

রাজা ডেনের মাথায় উরাউয়াস (Uraeus) চিত্রিত হয়েছে। এটি এবিডোস থেকে প্রাপ্ত হাতির দাঁতের লেবেল যা খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের কাছাকাছি সময়কার। এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।

খাত মস্তকাবরণটি এক ধরণের রুমালের মতো কাপড় নিয়ে গঠিত যার শেষ প্রান্তটি অনেকটা ঘোড়ার লেজের মতো করে বাঁধা থাকে। খাত মস্তকাবরণের প্রাচীনতম চিত্রটি ডেনের রাজত্বকাল থেকে পাওয়া যায়, তবে জোসারের রাজত্বকালের আগে এটি আর দেখা যায়নি।

নেমেস

[সম্পাদনা]

নেমেস মস্তকাবরণটি জোসারের সময়কাল থেকে প্রচলিত। ফারাও আমলের মিশরীয় শিল্পকলায় এটি রাজকীয় মস্তকাবরণের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ। খাত মস্তকাবরণ বাদে অন্য যেকোনো ধরণের মুকুট সাধারণত নেমেসের উপরে পরা অবস্থায় দেখানো হতো। সাককারায় অবস্থিত তার সেরদাবের মূর্তিটিতে রাজাকে নেমেস মস্তকাবরণ পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।[২০]

প্রথম পেপির একটি ছোট মূর্তি (২৩৩৮ থেকে ২২৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) যেখানে তিনি নেমেস মস্তকাবরণ পরে আছেন। এটি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।

দেবতা ওসাইরিসকে আতেফ মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এটি মূলত পালক এবং চাকতিযুক্ত একটি বিস্তারিত হেজেত মুকুট। প্রাচীন রাজ্যের সময় থেকে রাজাদের আতেফ মুকুট পরার চিত্র পাওয়া যায়।

হেমহেম

[সম্পাদনা]

হেমহেম মুকুটটি সাধারণত নেমেস, পশেন্ত অথবা দেশরেত মুকুটের ওপর বসানো অবস্থায় চিত্রিত করা হতো। এটি একটি অলঙ্কৃত এবং ত্রিস্তরীয় আতেফ মুকুট যাতে ভেড়ার বাঁকানো শিং এবং সাধারণত দুটি উরাউয়াস থাকে। মিশরের অষ্টাদশ রাজবংশের শুরুর দিকে নতুন রাজ্যের শাসকদের মধ্যে এই মুকুটের প্রচলন শুরু হয়।

খেপ্রেশ

[সম্পাদনা]
আখেনাতেনের মাথায় খেপ্রেশ মুকুট (১৮শ রাজবংশ)। কেস্টনার মিউজিয়াম, হ্যানোভার

নীল মুকুট নামে পরিচিত খেপ্রেশ মুকুটটি নতুন রাজ্যের সময়কাল থেকে শিল্পকলায় দেখা যায়। এটি প্রায়শই যুদ্ধের সময় পরিহিত অবস্থায় দেখানো হতো, তবে অনুষ্ঠানগুলোতেও এর ব্যবহার ছিল প্রচুর। অনেকে একে যুদ্ধ মুকুট বললেও আধুনিক ইতিহাসবিদরা একে কেবল যুদ্ধের সাথে সীমাবদ্ধ করতে রাজি নন।

ভৌত প্রমাণ

[সম্পাদনা]

মিশরবিদ বব ব্রায়ার উল্লেখ করেছেন যে, রাজকীয় প্রতিকৃতিগুলোতে মুকুটের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো প্রাচীন মিশরীয় মুকুট আবিষ্কৃত হয়নি। তুতানখামেনের সমাধিটি অনেকটা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং সেখানে রাজদণ্ড এর মতো রাজকীয় সরঞ্জাম থাকলেও কোনো মুকুট পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ডায়াডেম বা অলঙ্কৃত শিরোবরণ আবিষ্কৃত হয়েছে।[২১] ধারণা করা হয় যে, মুকুটগুলোর জাদুকরী ক্ষমতা ছিল বলে বিশ্বাস করা হতো এবং সেগুলো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হতো। ব্রায়ারের অনুমান অনুযায়ী, মুকুটগুলো ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ছিল, তাই মৃত রাজার ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে সেগুলো সমাধিতে দেওয়া হতো না। সম্ভবত আধুনিক রাজতন্ত্রের মতোই মুকুটগুলো পরবর্তী উত্তরসূরির কাছে হস্তান্তর করা হতো।[২২]

রাজকীয় চিহ্নসমূহ

[সম্পাদনা]

রাজদণ্ড এবং লাঠি

[সম্পাদনা]
খাসেশেমুইয়ের পুঁতিখচিত রাজদণ্ড, খ্রিস্টপূর্ব ২৮৯০ থেকে ২৬৮০ অব্দের কাছাকাছি সময়কার। বোস্টনের মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টসে এটি সংরক্ষিত।

রাজদণ্ড এবং লাঠি প্রাচীন মিশরে কর্তৃত্বের সাধারণ প্রতীক ছিল।[২৩] সবচেয়ে প্রাচীন রাজদণ্ডগুলোর একটি এবিডোসে খাসেশেমুইয়ের সমাধিতে আবিষ্কৃত হয়েছিল।[২৩] রাজারা লাঠি বহন করার জন্যও পরিচিত ছিলেন। পাথরের পাত্রে আনেজিবকে তথাকথিত 'এমকেএস' লাঠি বহন করতে দেখা যায়।[২৪] সবচেয়ে দীর্ঘ ইতিহাস সমৃদ্ধ রাজদণ্ডটি হলো 'হেকা' রাজদণ্ড, যা অনেক সময় মেষপালকের লাঠির মতো বাঁকানো হিসেবে বর্ণনা করা হয়।[২৫] এই রাজকীয় নিদর্শনের প্রাচীনতম উদাহরণগুলো প্রাগৈতিহাসিক মিশরের সমসাময়িক। এবিডোসের একটি সমাধিতে একটি রাজদণ্ড পাওয়া গেছে যা নাকাদা ৩ কালখণ্ডের।

রাজার সাথে যুক্ত আরেকটি রাজদণ্ড হলো 'ওয়াস' রাজদণ্ড[২৫] এটি একটি লম্বা লাঠি যার মাথায় পশুর মাথা লাগানো থাকে। 'ওয়াস' রাজদণ্ডের প্রাচীনতম চিত্রগুলো প্রথম রাজবংশের সময়কার। রাজা এবং দেবতা উভয়ের হাতেই 'ওয়াস' রাজদণ্ড দেখা যায়।

পরবর্তীতে চাবুক 'হেকা' রাজদণ্ডের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছিল (যা 'রাজদণ্ড ও চাবুক' বা ক্রুক এবং ফ্লেইল নামে পরিচিত)। তবে শুরুর দিকের চিত্রগুলোতে রাজাকে কেবল চাবুক হাতেও দেখা যেত। মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত প্রাক-রাজবংশীয় যুগের শেষের দিকের একটি ছুরির হাতলে এবং নার্মার মেসহেডে এমন চিত্র দেখা গেছে।[২৬]

উরাউয়াস

[সম্পাদনা]

উদ্যত ফণা তোলা গোখরা বা উরাউয়াসের প্রাচীনতম প্রমাণ পাওয়া যায় প্রথম রাজবংশের রাজা ডেনের রাজত্বকাল থেকে। মনে করা হতো যে, এই গোখরা সাপটি শত্রুদের দিকে আগুন ছিটিয়ে রাজাকে রক্ষা করত।[২৭]

উপাধিসমূহ

[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক রাজবংশীয় যুগে রাজাদের তিনটি উপাধি ছিল। হোরাস নাম হলো সবচেয়ে প্রাচীন উপাধি যা প্রাক-রাজবংশীয় যুগের শেষের দিকে প্রচলিত ছিল। প্রথম রাজবংশের সময় 'নেসু বিতি' নামটি যুক্ত করা হয়। প্রথম রাজবংশের শেষের দিকে নেবতি নাম (দুই মহীয়সী নারী) প্রথম প্রবর্তিত হয়।[২০] স্বর্ণ ঈগল (bik-nbw) নামটির তাৎপর্য খুব একটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। প্রেনোমেন এবং নোমেন পরবর্তীকালে যুক্ত করা হয়েছিল এবং এগুলো প্রথাগতভাবে একটি কার্তুশের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।[২৮] মধ্য রাজ্যের সময়কাল নাগাদ শাসকের অফিসিয়াল রাজকীয় উপাধি পাঁচটি নামের সমন্বয়ে গঠিত হতো: হোরাস, নেবতি, গোল্ডেন হোরাস, নোমেন এবং প্রেনোমেন।[২৯] কিছু শাসকের ক্ষেত্রে এর মধ্যে কেবল একটি বা দুটি নামই জানা সম্ভব হয়েছে।

হোরাস নাম

[সম্পাদনা]

সিংহাসনে আরোহণের সময় রাজা হোরাস নাম গ্রহণ করতেন। এই নামটি প্রাসাদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বর্গাকার ফ্রেমের ভেতরে লেখা হতো, যাকে সেরেখ বলা হয়। সেরেখের সবচেয়ে প্রাচীন উদাহরণটি প্রথম রাজবংশের আগের রাজা কা-এর রাজত্বকাল থেকে পাওয়া যায়।[৩০] বেশ কয়েকজন প্রারম্ভিক রাজার হোরাস নাম দেবতা হোরসের সাথে সম্পর্ক প্রকাশ করে। যেমন: আহা বলতে "যোদ্ধা হোরাস" বোঝায়, জের বলতে "শক্তিশালী হোরাস" বোঝায় ইত্যাদি। পরবর্তী রাজারা তাদের হোরাস নামের মাধ্যমে রাজত্বের আদর্শগুলো প্রকাশ করতেন। খাসেশেমুই বলতে "হোরাস: দুই শক্তি শান্তিতে আছে" বোঝায়, আবার নেব্রা বলতে "হোরাস, সূর্যের অধিপতি" বোঝায়।[২০]

নেসু বিতি নাম

[সম্পাদনা]

'নেসু বিতি' নাম যা প্রেনোমেন হিসেবেও পরিচিত, তা ছিল রাজা ডেনের রাজত্বকাল থেকে শুরু হওয়া নতুন উন্নয়নের অন্যতম। এই নামটি "নলখাগড়া ও মৌমাছি" গ্লিফের পরে বসানো হতো। এই উপাধিটি সাধারণত উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজা হিসেবে অনুবাদ করা হয়। নেসু বিতি নামটি সম্ভবত রাজার জন্মের নাম ছিল। পরবর্তীকালের ইতিহাস এবং রাজাদের তালিকায় প্রায়ই এই নামেই তাদের নথিবদ্ধ করা হতো।[২০]

নেবতি নাম

[সম্পাদনা]

নেবতি নামের প্রাচীনতম উদাহরণটি প্রথম রাজবংশের রাজা আহা-এর রাজত্বকাল থেকে পাওয়া যায়। এই উপাধিটি রাজাকে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের দুই দেবী নেখবেত এবং ওয়াদজেতের সাথে সংযুক্ত করে।[২০][২৮] এই উপাধির আগে একটি ঝুড়ির (নেব চিহ্ন) ওপর দাঁড়ানো শকুন (নেখবেত) এবং কোবরা (ওয়াদজেত) বসানো থাকতো।[২০]

গোল্ডেন হোরাস

[সম্পাদনা]

গোল্ডেন হোরাস বা গোল্ডেন ফ্যালকন নামের আগে সোনা বা 'এনবিডব্লিউ' (nbw) চিহ্নের ওপর একটি বাজপাখি থাকতো। এই উপাধিটি রাজার ঐশ্বরিক মর্যাদা প্রকাশ করত। সোনার সাথে যুক্ত হোরাস সম্ভবত এই ধারণাকে নির্দেশ করে যে দেবতাদের দেহ সোনা দিয়ে তৈরি এবং পিরামিডওবেলিস্কগুলো হলো (সোনালী) সূর্যরশ্মির প্রতিফলন। সোনার চিহ্নটি সেটের শহর নুবত-এর একটি রেফারেন্সও হতে পারে। এটি নির্দেশ করে যে এই মূর্তিতত্ত্বটি হোরাস কর্তৃক সেটকে জয় করার প্রতীক।[২০]

নোমেন এবং প্রেনোমেন

[সম্পাদনা]

প্রেনোমেন এবং নোমেন একটি কার্তুশের ভেতরে লেখা হতো। প্রেনোমেন প্রায়ই উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজা বা দুই দেশের অধিপতি উপাধির পরে বসানো হতো। প্রেনোমেনে প্রায়ই দেবতা রা-এর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকতো। নোমেন সাধারণত 'রা-এর পুত্র' (sa-ra) বা 'আবির্ভাবের অধিপতি' (neb-kha) উপাধির পরে থাকতো।[২৮]

দ্বিতীয় রামসেসের নোমেন এবং প্রেনোমেন

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Merriam-Webster's Collegiate Dictionary, Eleventh Edition. Merriam-Webster, 2007. p. 928
  2. 1 2 Dictionary Reference: pharaoh
  3. Linda Black, Larry S. Krieger, Phillip C. Naylor, Dahia Ibo Shabaka, (১৯৯৯)। World History: Patterns of Interaction। Evanston, IL: McDougal Littellআইএসবিএন ০-৩৯৫-৮৭২৭৪-X{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  4. "Pharaohs"। national geographic। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  5. "Pharaoh"AncientEgypt.co.uk। The British Museum। ১৯৯৯। ২৭ নভেম্বর ১৯৯৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
  6. Mark, Joshua (২ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "Pharaoh – World History Encyclopedia"World History Encyclopedia। ২০ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
  7. A. Gardiner, Ancient Egyptian Grammar (3rd ed., 1957), 71–76.
  8. Hieratic Papyrus from Kahun and Gurob, F. LL. Griffith, 38, 17.
  9. Petrie, W. M. (William Matthew Flinders); Sayce, A. H. (Archibald Henry); Griffith, F. Ll (Francis Llewellyn) (১৮৯১)। Illahun, Kahun and Gurob : 1889–1890। Cornell University Library। London : D. Nutt। পৃ. ৫০
  10. Robert Mond and O.H. Meyers. Temples of Armant, a Preliminary Survey: The Text, The Egypt Exploration Society, London, 1940, 160.
  11. "pharaoh" in Encyclopædia Britannica. Ultimate Reference Suite. Chicago: Encyclopædia Britannica, 2008.
  12. 1 2 Doxey, Denise M. (১৯৯৮)। Egyptian Non-Royal Epithets in the Middle Kingdom: A Social and Historical Analysis। Brill। পৃ. ১১৯। আইএসবিএন ৯০-০৪-১১০৭৭-১
  13. J-M. Kruchten, Les annales des pretres de Karnak (OLA 32), 1989, pp. 474–478.
  14. Alan Gardiner, "The Dakhleh Stela", Journal of Egyptian Archaeology, Vol. 19, No. 1/2 (May, 1933) pp. 193–200.
  15. Herodotus, Histories 2.111.1. See Anne Burton (১৯৭২)। Diodorus Siculus, Book 1: A Commentary। Brill।, commenting on ch. 59.1.
  16. Elazar Ari Lipinski: "Pesach – A holiday of questions. About the Haggadah-Commentary Zevach Pesach of Rabbi Isaak Abarbanel (1437–1508). ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৭-০৩-১৬ তারিখে Explaining the meaning of the name Pharaoh." Published first in German in the official quarterly of the Organization of the Jewish Communities of Bavaria: Jüdisches Leben in Bayern. Mitteilungsblatt des Landesverbandes der Israelitischen Kultusgemeinden in Bayern. Pessach-Ausgabe Nr. 109, 2009, টেমপ্লেট:ZDB, S. 3–4.
  17. Walter C. Till: "Koptische Grammatik". VEB Verlag Enzyklopädie, Leipzig, 1961. p. 62.
  18. Robins (2008), পৃ. 32।
  19. "Guardian Figure"Metropolitan Museum of Art। ১৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  20. 1 2 3 4 5 6 7 8 Wilkinson, Toby A. H. Early Dynastic Egypt. Routledge, 2001 আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-২৬০১১-৪
  21. Shaw, Garry J. The Pharaoh, Life at Court and on Campaign. Thames and Hudson, 2012, pp. 21, 77.
  22. Bob Brier, The Murder of Tutankhamen, 1998, p. 95.
  23. 1 2 Wilkinson, Toby A. H. Early Dynastic Egypt. Routledge, 2001, p. 158.
  24. Wilkinson, Toby A. H. Early Dynastic Egypt. Routledge, 2001, p. 159.
  25. 1 2 Wilkinson, Toby A. H. Early Dynastic Egypt. Routledge, 2001, p. 160.
  26. Wilkinson, Toby A. H. Early Dynastic Egypt. Routledge, 2001, p. 161.
  27. Wilkinson, Toby A. H. Early Dynastic Egypt. Routledge, 2001, p. 162.
  28. 1 2 3 Dodson, Aidan and Hilton, Dyan. The Complete Royal Families of Ancient Egypt. Thames & Hudson. 2004. আইএসবিএন ০-৫০০-০৫১২৮-৩
  29. Ian Shaw, The Oxford History of Ancient Egypt, Oxford University Press 2000, p. 477
  30. Toby A. H. Wilkinson, Early Dynastic Egypt, Routledge 1999, pp. 57f.


গ্রন্থতালিকা

[সম্পাদনা]
  • Shaw, Garry J. The Pharaoh, Life at Court and on Campaign, Thames and Hudson, 2012.
  • Sir Alan Gardiner Egyptian Grammar: Being an Introduction to the Study of Hieroglyphs, Third Edition, Revised. London: Oxford University Press, 1964. Excursus A, pp. 71–76.
  • Jan Assmann, "Der Mythos des Gottkönigs im Alten Ägypten," in Christine Schmitz und Anja Bettenworth (hg.), Menschen - Heros - Gott: Weltentwürfe und Lebensmodelle im Mythos der Vormoderne (Stuttgart, Franz Steiner Verlag, 2009), 11-26.

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]