ফুটি কার্পাস
ফুটি কার্পাস নামে পরিচিত Gossypium arboreum-এর একটি বিশেষ প্রকরণ (Gossypium arboreum var. neglecta) একসময় বাংলাদেশ (বিশেষত ঢাকার নদী তীরবর্তী অঞ্চল) ও পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় এলাকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে ধারণা করা করা হয়। এই গাছের তুলা দিয়ে তৈরি করা হত ঢাকাই মসলিন, যা একটি বিরল এবং বিলুপ্তপ্রায় বস্ত্র।[১] এই বিশেষ তুলার আঁশ এতই সূক্ষ্মভাবে কাটা যেত যে, অন্যান্য যেকোনো প্রকার তুলার তুলনায় এর প্রতিটি সুতার টানের শক্তি অনেক বেশি হতো।[২] ২০১৫ সালে মসলিন পুনরুদ্ধারের একটি প্রকল্পে, নদীর ধারে অনুরূপ গাছ লাগিয়ে ফুটি কার্পাস গাছের সন্ধান করা হচ্ছে।[৩]
বর্ণনা
[সম্পাদনা]ফুটি কার্পাস ছিল কোমল নমনীয় কান্ডযুক্ত একটি বহুবর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ। সবুজ শিরাযুক্ত পাতাগুলির গঠন করতলের মতো এবং সেগুলি গভীরভাবে তিনটি অংশে বিভাজিত।
ফুটি কার্পাসে বছরে দুবার ফুল ফুটতো এবং এর তন্তুগুলি ছিল খুবই ছোট। এই তন্তুগুলোকে সুতোয় রূপান্তরিত করার জন্য বিশেষ পরিবেশের প্রয়োজন হতো, যেমন নির্দিষ্ট আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা।
বিস্তার ও চাষাবাদ
[সম্পাদনা]ফুটি কার্পাস চাষের প্রধান স্থান ছিল খুবই সীমিত, যা ঢাকার নিকটবর্তী মেঘনা, শীতলক্ষ্যা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের উঁচু পাড় ও তাদের শাখা নদীগুলির তীর বরাবর বিস্তৃত ছিল।[পিডিএফ ১] ১৮ শতাব্দীর শেষের দিকে ফুটি কার্পাসের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায়।
ধারণা করা হয় যে তুলার গাছটির এই বিশেষ জাতটি আর নেই। ২০১৫ সালে, মসলিন পুনরুদ্ধারের একটি বেসরকারি প্রকল্পে, ঢাকার ৩০ কিলোমিটার উত্তরে কাপাসিয়ায় মেঘনা নদীর তীরে গসিপিয়াম আরবোরিয়াম ভার. নেগলেক্টা-এর অনুরূপ গাছের বীজ রোপণ করা হয়। গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে অনুসন্ধানে ফুটি কার্পাসের সাথে ৭০ শতাংশ মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। মসলিনকে পুনরুদ্ধার করার সরকারি প্রকল্পটি বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে, যেখানে কুমিল্লা থেকে সংগৃহীত ৩৯টি নমুনার মধ্যে ৬টি ফুটি কার্পাসের সদৃশ প্রজাতি শনাক্ত করা হয়।
ভৌগোলিক নির্দেশক
[সম্পাদনা]"ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা" বাংলাদেশের ৩৯তম জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়।[৪] "তদুপরি, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক আবেদন দাখিলের প্রেক্ষিতে, "ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলার গাছ ও বীজ" পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কর্তৃক ভৌগোলিক নির্দেশক জার্নালে স্বীকৃতির অপেক্ষায় তালিকাভুক্ত হয়েছে।"[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ গর্ভেট, জারিয়া (১৭ মার্চ ২০২১)। "সেই প্রাচীন বস্ত্র যা তৈরির কৌশল আজ কারো জানা নেই"। বিবিসি নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ খাদেমুল, ইসলাম (মে ২০১৬)। "আমাদের ঢাকাই মসলিনের গল্প"। আরামকোওয়ার্ল্ড। ১০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ ম্যাথিউস-মিলার, গ্রাহাম এ., মিলার, থমাস এ. (২০২২)। তুলার ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা: একটি বিশ্ব প্রেক্ষাপট। বোস্টন: সিএবি ইন্টারন্যাশনাল। পৃ. ৭০। আইএসবিএন ৯৭৮১৮০০৬২০২২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৩।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "মঞ্জুরকৃত জিআই পণ্য"। পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "জি আই জার্নাল"। পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "প্রযুক্তি: ঢাকাই মসলিন - বাংলার শ্রেষ্ঠতম সূক্ষ্ম বস্ত্র" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড। ২০ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৩।
<ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="পিডিএফ"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি