বিষয়বস্তুতে চলুন

ফার্নান্দো ডাকিলেমা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফার্নান্দো ডাকিলেমা

ফার্নান্দো ডাকিলেমা রুইজ (৫ জুন ১৮৪৮ - ৮ এপ্রিল ১৮৭২) হলেন একজন ইকুয়েডরীয় আদিবাসী নেতা ও আদিবাসী অধিকার কর্মী। তিনি আদিবাসী অধিকারের একজন সংগ্রামী বীর হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।[] ১৮৭১ সালে তিনি ইকুয়েডর সরকারের বিরুদ্ধে রিওবাম্বাতে একটি আদিবাসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। যদিও সেই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

১৮৪৮ সালের ৫ জুন ফার্নান্দো ডাকিলেমা জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইগনাসিও ডাকিলেমা টুঙ্গুরাহুইলা নামক একটি জায়গায় খামারে কাজ করতেন। তার মায়ের নাম ছিল মারিয়া রুইজ। মা-বাবা উভয়ই পুরুহা জাতিগোষ্ঠীর বংশধর। ডাকিলেমা মার্টিনা লোজানোকে বিয়ে করেছিলেন, তাদের কোন সন্তান ছিল কিনা তা অজানা। ১৮৬০-এর দশকে রিওবাম্বা ক্যান্টনের অধিক্ষেত্রে আদিবাসী শ্রমশক্তির অত্যধিক শোষণ ছিল। ইয়ারুকুইসের প্যারিশ, যেখানে ডাকিলেমার বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও ১৮৭০ থেকে ১৮৭৩ সালের মধ্যে এর জনসংখ্যার ব্যাপক হ্রাস হয়। বিদ্রোহী ফার্নান্দো ডাকিলেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।[]

১৮৭২ সালে লিওন্স ল্যাবউর তোলা ফার্নান্দো ড্যাকুইলেমার ছবি, লিবনিজ-ইনস্টিটিউট ফর ল্যান্ডারকুন্ডে আর্কাইভ থেকে।

আদিবাসী সংগ্রাম

[সম্পাদনা]

কর প্রদান এবং অতিরিক্ত শোষণের ফলে ইকুয়েডরের কাচার আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা এক দশমাংশ ব্যক্তিকে অর্থাৎ দশ জনের মধ্যে এক জন ব্যক্তিকে অহংকারী এবং নিন্দনীয় বলে মনে করত, যার বিরুদ্ধে তারা প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হতো। এই দশমাংশ ব্যক্তিকে হত্যা করা হতো।[]

ফার্নান্দো ডাকিলেমা তার অঞ্চলের লোকদের একত্রিত করে ইয়ারুকুইয়েস এবং কাজাবাম্বার মতো কিছু জনবহুল কেন্দ্র দখল করতে শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু আদিবাসী মানুষ ভেঙে পড়ে। তারপর ডাকিলেমা পুনিন দখলের নির্দেশ দেন। এই স্থানটি সান ফ্রান্সিসকো ডি মাকশি সম্প্রদায়ের অধিবাসী ক্যাপ্টেন ম্যানুয়েলা লিওনের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এটি বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকো ডি আসিস নামে পরিচিত। প্রদেশের গভর্নর পরবর্তীকালে আমবাতো এবং ইকুয়েডরের রাজধানী কিতো থেকে আরও সৈন্য পাঠাতে অনুরোধ করেন। আদিবাসীদের দ্বারা পরিত্যক্ত হওয়ার পর এই বাহিনীর সাহায্যে তিনি পুনিন শহরটি পুনরুদ্ধার করতে সফল হন। এর পরে একটি নির্মম দমন-পীড়ন শুরু হয়।[]

১৮৭১ সালের ডিসেম্বরে আদিবাসীদের উপর যে নিপীড়নের চলছিল তার বিরুদ্ধে আদিবাসীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ডুচিসেলাসের বংশধর ফার্নান্দো ডাকিলেমা কাচায় এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। শ্বেতাঙ্গ শোষকদের স্বার্থ রক্ষাকারী সরকারের শাসনকে প্রত্যাখ্যান করে, তিনি একটি নতুন সরকার গঠনের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন যা স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ এবং আদিবাসীদের সমানভাবে বিবেচনা করবে। কাপাক-কুচা উপহ্রদের (কিংস লেগুন) কাছে, এল রোজারিওর চ্যাপেলের ছোট চত্বরে স্থানীয় আদিবাসীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের জন্য একজন প্রধান নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে একটি বিশাল সমাবেশের আহ্বান করে। সকলেই ডাকিলেমাকে তাদের প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছিল।[]

তারা ১০,০০০ আদিবাসীকে তাদের যা কিছু সম্বল ছিল তাই দিয়ে সশস্ত্র হয়ে কাজাবাম্বা আক্রমণ করে। এমনকি মহিলারা পাথর, লাঠি, পিন, গুলতি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে এগিয়ে যায়।[] ভীষণ লড়াই শুরু হয়। তবে তাদের কোনও ভালো ফলাফল হয়নি। শত শত আদিবাসীকে বন্দী করা হয়। পরে তারা পুনর্গঠিত হয় এবং পুনিনের উপর আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ম্যানুয়েলা লিওনকে নিযুক্ত করে। ম্যানুয়েলা শত শত পুরুষ ও মহিলাদের একটি সেনাবাহিনী নিয়ে গভর্নরের পাঠানো মিলিশিয়াদের মুখোমুখি হয়।

সম্মান এবং সম্মান

[সম্পাদনা]

২০১০ সালের ৫ নভেম্বর ইকুয়েডরের জাতীয় পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবের মাধ্যমে ফার্নান্দো ডাকিলেমা এবং ম্যানুয়েলা লিওনকে ইকুয়েডরের নায়ক এবং নায়িকা হিসেবে ঘোষণা করে।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Presidencia de la República del Ecuador » Fernando Daquilema"www.presidencia.gob.ec। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মে ২০২২
  2. Madrid, Raúl L. (২০২৫)। The Birth of Democracy in South America। Cambridge University Press। পৃ. ২৮০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০৯-৬৩৩৮১-৯
  3. Loaiza, Yalilé (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। "Quién fue Fernando Daquilema, la primera voz que encabezó la reivindicación indígena en Ecuador"Infobae (স্পেনীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২
  4. Mutlak, Natalie (২০ এপ্রিল ২০০৯), Ness, Immanuel (সম্পাদক), "Daquilema, Fernando (d. 1872) and the 1871 Uprising, Ecuador", The International Encyclopedia of Revolution and Protest (ইংরেজি ভাষায়), Oxford, UK: John Wiley & Sons, Ltd, পৃ. ১–২, ডিওআই:10.1002/9781405198073.wbierp0437, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-৯৮০৭-৩, সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২২
  5. "Historia de la Parroquia"www.cacha.gob.ec। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২২
  6. Mutlak, Natalie (২০ এপ্রিল ২০০৯), Ness, Immanuel (সম্পাদক), "Daquilema, Fernando (d. 1872) and the 1871 Uprising, Ecuador", The International Encyclopedia of Revolution and Protest (ইংরেজি ভাষায়), Oxford, UK: John Wiley & Sons, Ltd, পৃ. ১–২, ডিওআই:10.1002/9781405198073.wbierp0437, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-৯৮০৭-৩, সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২২
  7. "ToAZ INFO A Resolution Integrate For PDF Viewer"toaz.info (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০২২
  8. "Asamblea Nacional declara héroe y heroína a Fernando Daquilema y Manuela León :: Ecuadorinmediato"। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২২