ফক্স ফিশার
ফক্স ফিশার | |
|---|---|
| জন্ম | ৫ নভেম্বর ১৯৮০ |
| জাতীয়তা | ব্রিটিশ |
| শিক্ষা | সিকোয়েন্সিয়াল ডিজাইন এবং ইলাস্ট্রেশনে এমএ |
| মাতৃশিক্ষায়তন | ব্রাইটন বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | ইংরেজ শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক |
| পরিচিতির কারণ | এলজিবিটিকিউআইএ+ সক্রিয়তা, ট্রান্সজেন্ডার অধিকার কর্মী, ট্রান্স প্রাইড ব্রাইটনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা |
উল্লেখযোগ্য কর্ম | আর ইউ এ বয় অর আর ইউ এ গার্ল? |
ফক্স ফিশার একজন ইংরেজ শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক এবং ট্রান্সজেন্ডার অধিকার কর্মী।[১]
প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]ফিশারের জন্ম ১৯৮০ সালের ৫ই নভেম্বর ইংল্যান্ডে। খুব অল্প বয়সেই, তাঁর[ক] পরিবার সৌদি আরবে চলে যায়, যেখানে ফিশার তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন। এরপর তার কিশোর বয়সে, তার পরিবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসে।[২] ফিশার অর্ধেক ভারতীয়, তার মা অল্প বয়সেই ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে চলে এসেছিলেন।[৩]
ফিশার ২০০৭ সালে ব্রাইটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিকোয়েন্সিয়াল ডিজাইন এবং ইলাস্ট্রেশনে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।[৪]
সক্রিয়তা এবং কর্মজীবন
[সম্পাদনা]এলজিবিটিকিউআইএ+ সক্রিয়তা
[সম্পাদনা]ফিশার প্রথম ২০১১ সালে মূলধারার টেলিভিশন তথ্যচিত্র মাই ট্রান্সসেক্সুয়াল সামার-এ উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের ছয়জন ট্রান্সজেন্ডারের জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল, তথ্যচিত্রে যুক্তরাজ্যে ট্রান্সজেন্ডারদের মুখোমুখি হওয়া কিছু সমস্যা এবং সংগ্রাম সম্পর্কে তিনি কথা বলেছিলেন।[৫]
মাই ট্রান্সসেক্সুয়াল সামারে ফিশারের উপস্থিতির পর থেকে, তিনি যুক্তরাজ্য এবং তার বাইরেও ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের পক্ষে একজন সোচ্চার সমর্থক হয়ে উঠেছেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর, ফিশার, তার সহযোগী অভিনেতা লুইস হ্যানকক্সের সাথে, "মাই জেন্ডারেশন" চলচ্চিত্র প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠা করেন, কারণ তারা উভয়েই অনুভব করেছিলেন যে মূলধারার মাধ্যম ট্রান্স মানুষের গল্পগুলিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করছে না।[৬] ফিশার ছিলেন ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য বিশেষভাবে নিবেদিত প্রথম প্রাইড ইভেন্ট, ট্রান্স প্রাইড ব্রাইটনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।[৭]
ফিশার অন রোড মিডিয়া পরিচালিত "অল অ্যাবাউট ট্রান্স" প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন, যা মিডিয়াতে ট্রান্সজেন্ডারদের ইতিবাচক চিত্রায়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
আর ইউ এ বয় অর আর ইউ এ গার্ল? বইটির সহ-লেখন এবং চিত্রাঙ্কন করেছেন ফিশার।[৮] তাঁর সাথে বইটি লিখেছেন তাঁর সহশিল্পী সারাহ স্যাভেজ। ফিশার তাঁর সঙ্গী আউল ফিশারের সাথে ট্রান্স টিন সারভাইভাল গাইড বইটি লিখেছেন।
২০১৮ সালে, ফিশার তার সঙ্গীর সাথে সকালের টেলিভিশন অনুষ্ঠান গুড মর্নিং ব্রিটেনে উপস্থিত হয়ে অ-দ্বৈত লিঙ্গের বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি পরিচালনা করেছিলেন পিয়ার্স মরগান এবং সুজানা রিড। এটি নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমে গভীর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।[৯] ফিশারের তথ্যচিত্র, "আই অ্যাম দে"-তে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ৪ মিনিটের একটি পরিকল্পিত অংশ "পনের মিনিটের ফিচার" হয়ে ওঠে এবং এটি যুক্তরাজ্যে অ-দ্বৈত লিঙ্গের বিষয়গুলি নিয়ে প্রথম মূলধারার মিডিয়া কথোপকথনের মধ্যে একটি।[১০]
২০২০ সালের জুন মাসে, ফিশার এবং আরও তিনজন লেখক ব্লেয়ার পার্টনারশিপ সাহিত্য সংস্থা থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন, কোম্পানিটি ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের সমর্থনে একটি প্রকাশ্য বিবৃতি জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ওই সংস্থা জে কে রাউলিংয়েরও প্রতিনিধিত্ব করত। ফিশার এবং তাঁর সঙ্গীরা বলেছিলেন যে "সব মানুষের বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সমাজে যেসব বৈষম্য আছে — যেমন জাতি, লিঙ্গ, শ্রেণি বা অর্থনৈতিক কারণে কেউ পিছিয়ে পড়া — সেগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই সবাই নিজের মত প্রকাশের সমান অধিকার পাবে।।"[১১]
স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]২০১৮ সালে, যুক্তরাজ্য এবং তার বাইরে ট্রান্সজেন্ডার সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং শিল্পকলা ও মিডিয়াতে অবদানের জন্য ফিশারকে ব্রাইটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।[১২]
২০১৮ সালে, ফিশারকে এলজিবিটি+ জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য ব্রিটিশ এলজিবিটি পুরস্কার দ্বারা পুরস্কৃত করা হয়েছিল।
মন্তব্য
[সম্পাদনা]- ↑ ফিশার একজন অ-দ্বৈত লিঙ্গের মানুষ এবং ইংরেজিতে তারা/তাদের সর্বনাম ব্যবহার করেন, যদিও বাংলায় তার প্রয়োজনীয়তা নেই।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Fox Fisher"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Transforming Media"। University of Brighton College of Arts and Humanities (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "7 talks on the transgender experience"। TED Blog (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "Fox Fisher Receives Honorary Doctorate" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "4Press | Channel 4"। www.channel4.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "My Genderation"। My Genderation (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "FOX FISHER – Fox Fisher"। foxfisher.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "This book lets young readers decide the gender of the main character"। The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুলাই ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "WATCH: Piers Morgan asks non-binary trans couple if he can identify as a black woman, says their gender is a 'fad'"। independent (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ মে ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "I Am They is the non-binary representation we've been waiting for"। PinkNews (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ Waterson, Jim (২২ জুন ২০২০)। "Authors quit JK Rowling agency over transgender rights"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ ""It's time to celebrate trans people for who they are" – Fox Fisher | Gscene Gay Magazine - What's on in Gay / LGBT Brighton" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২০।