বিষয়বস্তুতে চলুন

প্ল্যাঙ্কটন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একটি হ্যান্ড নেট দিয়ে একবার জালে তোলা নমুনার অংশবিশেষ। এই চিত্রে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাঙ্কটনিক জীব দেখা যায়, যেমন সায়ানোব্যাকটেরিয়াডায়াটমসের মতো প্রকাশসংশ্লেষকারী জীব, এবং বিভিন্ন ধরনের জুপ্ল্যাঙ্কটন। এসবের মধ্যে রয়েছে হলোপ্ল্যাঙ্কটন (যারা সারাজীবন প্ল্যাঙ্কটনের অংশ) এবং মেরোপ্ল্যাঙ্কটন (যারা সাময়িকভাবে প্ল্যাঙ্কটনের অংশ, যেমন মাছের ডিম, কাঁকড়ার লার্ভা, পোকামাকড়ের লার্ভা)।

প্ল্যাঙ্কটন হলো বিভিন্ন ধরনের জীবের একটি সমষ্টি যারা জল (বা বায়ু)তে ভেসে থাকে এবং নিজেরা সক্রিয়ভাবে স্রোত (বা বায়ু প্রবাহ)কে অতিক্রম করে চলাফেরা করতে পারে না।[][] প্ল্যাঙ্কটনের প্রতিটি একক জীবকে প্ল্যাঙ্কটার বলা হয়।[] মহাসাগরে এই প্ল্যাঙ্কটন অনেক ছোট-বড় জলজ প্রাণীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস, যেমন দ্বিদ্বার প্রাণী, মাছ এবং বেলিন তিমি

সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, আর্কিয়া, শৈবাল, প্রোটোজোয়া, অণু ছত্রাক,[] এবং ভেসে বেড়ানো বা ভাসমান প্রাণী, যেগুলি লবণাক্ত সমুদ্রজলঅর্ধলবণাক্ত মোহনার জলতে বসবাস করে। মিঠা জলের প্ল্যাঙ্কটন গঠনে সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের সঙ্গে মিল রয়েছে, তবে তারা হ্রদনদীতে পাওয়া যায়। বেশিরভাগ প্ল্যাঙ্কটন স্রোতের সাথে ভেসে চলে যায়, তবে কিছু যেমন জেলিফিশ, ধীরে সাঁতরে চলতে পারে, যদিও তা স্রোতের প্রভাব কাটিয়ে উঠার জন্য যথেষ্ট নয়।

যদিও প্ল্যাঙ্কটন সাধারণত জলজ মনে করা হয়, কিছু প্ল্যাঙ্কটন রয়েছে যারা জীবনের একটি অংশ বায়ুতে ভেসে কাটায়। এই অ্যারোপ্ল্যাঙ্কটন–এর মধ্যে রয়েছে উদ্ভিদের স্পোর, পরাগরেণু এবং বায়ুতে ছড়ানো বীজ। এদের মধ্যে স্থলভাগের ধূলিঝড় থেকে উড়ে আসা অণুজীব বা সমুদ্রের ফেনা থেকে বাতাসে ওঠা সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনও থাকতে পারে।

অনেক প্ল্যাঙ্কটন অণু আকারের হলেও, প্ল্যাঙ্কটন বলতে এক বিস্তৃত আকারের জীব বোঝায়, যার মধ্যে জেলিফিশের মতো বড় জীবও অন্তর্ভুক্ত।[] কারণ, প্ল্যাঙ্কটন বলতে এমন জীব বোঝায় যারা একটি নির্দিষ্ট পরিবেশগত নিড়ান বা গতিশীলতা স্তর অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ, উৎপত্তিগত শ্রেণিবিন্যাস বা জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী নয়। "প্ল্যাঙ্কটন" শব্দটি তাদের এমন জীব থেকে পৃথক করে যারা জলের উপরিভাগে ভেসে থাকে (নিউস্টন), স্রোতের বিপরীতে সাঁতারে সক্ষম (নেকটন) বা গভীর সমুদ্রতলে বসবাস করে (বেথোস)।

পরিভাষা

[সম্পাদনা]
প্ল্যাঙ্কটন (যারা পানির স্রোতের সাথে ভেসে চলে) তাদের তুলনা করা যায় নেকটন (যারা স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে), নিউস্টন (যারা সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে) এবং বেথোস (যারা সমুদ্রতলে বসবাস করে) এর সঙ্গে।

প্ল্যাঙ্কটন শব্দটি ১৮৮৭ সালে জার্মান সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ভিক্টর হেনসেন প্রবর্তন করেন। এটি গ্রিক শব্দ halyplankton (ᾰ̔́λς háls অর্থ "সমুদ্র" এবং πλανάω planáō অর্থ "ভেসে বেড়ানো") থেকে সংক্ষিপ্ত করে নেওয়া হয়েছে।[]:

যদিও কিছু প্ল্যাঙ্কটন স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে এবং একদিনে শত শত মিটার উল্লম্বভাবে সাঁতার কাটতে পারে (এই আচরণকে বলা হয় দৈনিক উল্লম্ব অভিবাসন), তবুও তাদের অনুভূমিক অবস্থান মূলত আশেপাশের পানির স্রোতের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, তারা স্রোতের সাথে ভেসে চলে। এর বিপরীতে নেকটন শ্রেণির প্রাণী যেমন মাছ, স্কুইডসামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা পানির স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কেটে নিজের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

প্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে হলোপ্ল্যাঙ্কটন এমন জীব যারা জীবনের পুরো সময় প্ল্যাঙ্কটন হিসেবেই কাটায়। উদাহরণস্বরূপ, বেশিরভাগ শৈবাল, কোপিপড, স্যাল্প এবং কিছু জেলিফিশ। অন্যদিকে, মেরোপ্ল্যাঙ্কটন জীবনের কেবল একটি অংশ প্ল্যাঙ্কটনেরূপে কাটায় (সাধারণত লার্ভা পর্যায়ে) এবং পরে তারা হয় সাঁতারু নেকটন বা তলদেশে বসবাসকারী বেথোস শ্রেণিতে পরিণত হয়। মেরোপ্ল্যাঙ্কটনের উদাহরণ হলো সামুদ্রিক সুঁচকাঁটা, তারকামাছ, ক্রাস্টেশিয়ান, সামুদ্রিক কৃমি, এবং অধিকাংশ মাছের লার্ভা।[]

প্ল্যাঙ্কটনের ঘনত্ব এবং প্রজাতি বণ্টন নির্ভর করে পুষ্টির প্রাপ্যতা, জলের অবস্থা এবং অন্যান্য প্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণের উপর।[]

প্ল্যাঙ্কটন নিয়ে গবেষণাকে বলা হয় প্ল্যাঙ্কটোলজি এবং একটি প্ল্যাঙ্কটন জীবকে বলা হয় প্ল্যাঙ্কটার[] 'Planktonic' শব্দটি বৈজ্ঞানিক ও জনপ্রিয় সাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত এবং গৃহীত একটি বিশেষণ। তবে ব্যাকরণগত দৃষ্টিকোণ থেকে planktic শব্দটি অধিক সঠিক। গ্রিক বা লাতিন উৎস থেকে ইংরেজি শব্দ গঠনের সময়, সাধারণত শব্দের লিঙ্গ-সংক্রান্ত প্রত্যয় (এই ক্ষেত্রে "-on") বাদ দেওয়া হয় এবং মূল শব্দাংশ ব্যবহার করে নতুন শব্দ গঠিত হয়।[১০]

পুষ্টিগত শ্রেণি

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Plankton sidebar

প্ল্যাঙ্কটনকে মূলত তাদের কার্যকরী ভূমিকা বা পুষ্টিগত স্তর অনুযায়ী কিছু প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

মিক্সোপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]
  • মিক্সোট্রফ। প্ল্যাঙ্কটনকে প্রচলিতভাবে স্বপোষী, পরপোষী ও পুনঃচক্রাকারী শ্রেণিতে ভাগ করা হলেও, কিছু প্ল্যাঙ্কটন একাধিক পুষ্টিগত স্তর থেকে উপকার নিতে পারে। এই মিশ্র পুষ্টি গ্রহণ কৌশলকে বলা হয় মিক্সোট্রফি। এতে কোনো জীব একইসাথে বা পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো প্রকাশসংশ্লেষকারী এবং কখনো পরপোষীর ভূমিকা পালন করে। এই কৌশলে তারা আলো ও পুষ্টি প্রচুর থাকলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন হিসেবে বেড়ে ওঠে, আবার অনুকূল পরিবেশ না থাকলে জুপ্ল্যাঙ্কটন বা অন্যান্য জীব খেয়ে বেঁচে থাকে।

মিক্সোট্রফদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

মিক্সোট্রফিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত কৌশল হিসেবে বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে,[১৫] কারণ এটি সামুদ্রিক জৈব-ভূ-রসায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।[১৬] গবেষণায় দেখা গেছে, মিক্সোট্রফরা পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সামুদ্রিক অণুজীব প্ল্যাঙ্কটনের অর্ধেকেরও বেশি এই শ্রেণিভুক্ত।[১৭][১৮] এদের উপস্থিতি এমন এক প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, যা আলোর অনুপস্থিতিতেও পরিবেশগত পতন প্রতিরোধে সাহায্য করে।[১৯]

আকারভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস

[সম্পাদনা]
প্ল্যাঙ্কটন প্রজাতির বৈচিত্র্য
এই বৈচিত্র্যময় গোষ্ঠীতে রয়েছে এককোষীবহুকোষী জীব, যাদের আকার, গঠন, খাদ্যগ্রহণ কৌশল, পরিবেশগত ভূমিকা, জীবনচক্রের বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশগত সংবেদনশীলতা ভিন্ন।[২০]
ক্রিশ্চিয়ান সারডে/সিএনআরএস/তারা অভিযানসমূহের সৌজন্যে

প্ল্যাঙ্কটনকে প্রায়শই তাদের আকার অনুসারেও শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। সাধারণত নিম্নলিখিত শ্রেণিগুলি ব্যবহৃত হয়:[২১]

শ্রেণি আকারের পরিসর
    (ESD)
উদাহরণ
মেগাপ্ল্যাঙ্কটন২০ সেমি এর বেশিমেটাজোয়া; যেমন জেলিফিশ, সিটেনোফোরা, স্যাল্পপাইরোসোম (সমুদ্রজ প্রাণী টিউনিকাটা), সিফালোপোডা, অ্যাম্ফিপোডা
ম্যাক্রোপ্ল্যাঙ্কটন২→২০ সেমিমেটাজোয়া; যেমন প্টেরোপোডা, চেটোগনাথ, ক্রিল (ইউফাউসিয়াসিয়া), মেডুসি, সিটেনোফোরা, স্যাল্প, ডোলিওলিড, পাইরোসোম (পেলাজিক টিউনিকাটা), সিফালোপোডা, জ্যানথিনারিকলুজিয়া (গ্যাস্ট্রোপোডের দুটি গণ), অ্যাম্ফিপোডা
মেসোপ্ল্যাঙ্কটন০.২→২০ মিমিমেটাজোয়া; যেমন কোপিপড, মেডুসি, ক্ল্যাডোসেরা, অস্ট্রাকোডা, চেটোগনাথ, প্টেরোপোডা, টিউনিকাটা
মাইক্রোপ্ল্যাঙ্কটন২০→২০০ μmবড় ইউক্যারিয়টিক প্রোটিস্ট; বেশিরভাগ ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন; ফোরামিনিফেরা; টিনটিনিড, অন্যান্য সিলিয়েট, রোটিফেরা, অল্পবয়সী মেটাজোয়াক্রাস্টেসিয়া (যেমন কোপিপড নপ্লিয়াস)
ন্যানোপ্ল্যাঙ্কটন২→২০ μmছোট ইউক্যারিয়টিক প্রোটিস্ট; ছোট ডায়াটম; ছোট ফ্লাজেলেট; পাইরোফাইটা, ক্রাইসোফাইটা, ক্লোরোফাইটা, জ্যান্থোফাইটা
পিকোপ্ল্যাঙ্কটন০.২→২ μmছোট ইউক্যারিয়টিক প্রোটিস্ট, ব্যাকটেরিয়া, ক্রাইসোফাইটা
ফেমটোপ্ল্যাঙ্কটন০.২ μm এর নিচেসামুদ্রিক ভাইরাস

তবে এসব শ্রেণির সীমানা বিশেষত বড় আকারের দিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ন্যানোপ্ল্যাঙ্কটন এবং তার চেয়েও ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনের অস্তিত্ব ও গুরুত্ব ১৯৮০-এর দশকে আবিষ্কৃত হয়। তবে সংখ্যার দিক থেকে এরা প্ল্যাঙ্কটনের বৃহত্তম অংশ গঠন করে বলে মনে করা হয়।

মাইক্রোপ্ল্যাঙ্কটন এবং এর চেয়েও ছোট গোষ্ঠীগুলি অণুজীব এবং এরা খুবই কম রেনল্ডস সংখ্যার পরিবেশে কাজ করে, যেখানে জলের সান্দ্রতা তার ভর বা জড়তার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।[২২]

আবাসভিত্তিক শ্রেণি

[সম্পাদনা]

সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়া, শৈবাল, প্রোটোজোয়া, এবং ভেসে বেড়ানো প্রাণী যারা মহাসাগরের লবণাক্ত জল ও মোহনার আধা-লবণাক্ত জলে বসবাস করে।

মিঠা জলের প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

মিঠা জলের প্ল্যাঙ্কটনের গঠন সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের অনুরূপ হলেও এরা হ্রদনদীর মতো অন্তর্দেশীয় মিঠা জলে পাওয়া যায়।

বায়ুপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

বায়ুপ্ল্যাঙ্কটন হলো এমন ক্ষুদ্র জীব যারা বাতাসে ভেসে থাকে এবং বাতাসের স্রোতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়। এরা বায়ুমণ্ডলের মধ্যে সমুদ্রের প্ল্যাঙ্কটনের সমতুল্য। বায়ুপ্ল্যাঙ্কটনের অধিকাংশ জীব অণু আকারের বা অণুবীক্ষণযোগ্য হওয়ায় চিহ্নিত করা কঠিন। এদের গবেষণার জন্য বিমান, ঘুড়ি বা বেলুন থেকে ফাঁদ বা জাল ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হয়।[২৪]

বায়ুপ্ল্যাঙ্কটনে থাকে অসংখ্য মাইক্রোব যেমন ভাইরাস, প্রায় ১০০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, প্রায় ৪০,০০০ প্রজাতির ছত্রাক, এবং শত শত প্রোটিস্ট, শৈবাল, মসযকৃত শৈবাল যাদের জীবনের একটি অংশ বাতাসে ভেসে কাটে—বিশেষত স্পোর, পরাগরেণু, ও বাতাসে ছড়ানো বীজ হিসেবে।

এছাড়াও, স্থলভাগের ধূলিঝড় থেকে অনেক অণুজীব বাতাসে উঠতে পারে এবং সমুদ্রের ছিটে জল থেকে আরও বেশি পরিমাণে সামুদ্রিক অণুজীব বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায়। প্রতিদিন বায়ুপ্ল্যাঙ্কটন বিশ্বজুড়ে প্রতি বর্গমিটার অঞ্চলে কোটি কোটি ভাইরাস ও লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া জমা করে।

সমুদ্র পৃষ্ঠের মাইক্রোস্তর (SML)–এ ব্যাকটেরিয়াভাইরাসের ঘনত্ব, পানির নিচের স্তরের তুলনায় বেশি থাকে।[২৫][২৬] এই অণুজীবসমূহ বায়ু-সৃষ্ট জলীয় এরোসোল আকারে বায়ুমণ্ডলে পৌঁছাতে পারে, বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।[২৭]

একবার বাতাসে পৌঁছালে এরা বহু দূরত্বে ভেসে যেতে পারে, এমনকি উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত। স্থলে পৌঁছে গেলে এই অণুজীব মানব, প্রাণীউদ্ভিদ স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।[২৮] ভাইরাসযুক্ত সামুদ্রিক এরোসোল শত শত কিলোমিটার দূরে ছড়াতে পারে এবং আর্দ্রতা ৭০%–এর বেশি হলে দীর্ঘ সময় ধরে তরল অবস্থায় থেকে যায়।[২৯][৩০][৩১] এগুলি প্রায় ৩১ দিন পর্যন্ত বাতাসে স্থগিত থাকতে পারে।[৩২] গবেষণায় দেখা গেছে, এরোসোলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যাকটেরিয়া স্থলভাগেও সক্রিয় থাকতে পারে এবং ২০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।[৩৩] এই প্রক্রিয়ায় SML ও নিচের স্তরের পানির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বাতাসে উপস্থিত হয়।[৩৩]

ভূ-প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

অনেক প্রাণী স্থলজ পরিবেশে অতি ক্ষুদ্র ও অস্থায়ী জলকণার মধ্যে জীবনধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে রোটিফেরাগ্যাস্ট্রোট্রিক, যারা দৃঢ় ডিম পাড়ে যা বছরের পর বছর শুকনো অবস্থায় টিকে থাকতে পারে; এদের কিছু নিজেরাও সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। নেমাটোড সাধারণত অণু আকারের এবং এ ধরনের জীবনধারায় অভ্যস্ত।

ওয়াটার বেয়ার (টারডিগ্রেড) খুব অল্প সময় বেঁচে থাকলেও, প্রতিকূল পরিবেশে সুপ্ত অবস্থায় (suspended animation) বহু বছর টিকে থাকতে পারে। ফলে, এরা জলের প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়।

এছাড়া অনেক অণু ক্রাস্টেশিয়ান যেমন কোপিপড, অ্যাম্ফিপোড (যার একটি সদস্য স্যান্ডহপার) ও অস্ট্রাকোড (সিড শ্রিম্প)–এরাও শুকনো অবস্থায় সুপ্ত থাকে এবং অস্থায়ী জলাশয়ে বসবাস করে।[৩৪]

অন্যান্য শ্রেণি

[সম্পাদনা]

জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]
জেলিফিশ হলো জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটনের উদাহরণ।[৩৫]

জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন হলো ভঙ্গুর দেহবিশিষ্ট প্রাণী যারা মহাসাগরের জল স্তম্ভে বসবাস করে। এদের দেহে কোনো কঠিন অংশ থাকে না, ফলে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়।[৩৬] এরা প্রায়শই স্বচ্ছ হয়।[৩৭] সব জেলিফিশ জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন হলেও, সব জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন জেলিফিশ নয়।

উপকূলীয় জলে সাধারণত দেখা যায় সিটেনোফোর, মেডুসি, স্যাল্প, এবং চেটোগনাথ। তবে অ্যানেলিডা, মলাস্কা, এবং আর্থ্রোপোডাসহ প্রায় সব সামুদ্রিক পর্বেই জেলাটিনাস প্রজাতি রয়েছে, যাদের অনেকেই গভীর সমুদ্রে বাস করে এবং সহজে দেখা যায় না।[৩৮]

ইকথিওপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]
একটি স্যালমনের ডিম থেকে ফোটা স্যাক ফ্রাই। কয়েক দিনের মধ্যে এটি ডিমের থলি শোষণ করে ছোট প্ল্যাঙ্কটন খেতে শুরু করবে।

ইকথিওপ্ল্যাঙ্কটন হলো মাছের ডিম এবং লার্ভা। এরা সাধারণত জল স্তম্ভের ২০০ মিটারের কম গভীরতার আলোযুক্ত স্তরে থাকে, যাকে এপিপেলাজিক বা ফোটিক জোন বলা হয়। মাছের ডিম নিজেরা চলাফেরা করতে পারে না এবং পুরোপুরি প্ল্যাঙ্কটনিক। প্রাথমিক লার্ভারা দুর্বলভাবে সাঁতার কাটলেও, বিকশিত হলে তারা জুভেনাইলে পরিণত হয়ে নেকটনে পরিণত হয়।

ডিম নিজস্ব খাদ্য (যোল্ক স্যাক) বহন করে এবং লার্ভা জুপ্ল্যাঙ্কটন খায়। তবে ডিম ও লার্ভা নিজেরাও বড় প্রাণীর খাদ্য হয়।[৩৯][৪০] অনেক মাছ বিপুল সংখ্যায় ডিম ছাড়ে, যেগুলোর ব্যাস প্রায় ১ মিলিমিটার (০.০৩৯ ইঞ্চি)। লার্ভা পর্যায়ে তারা সাধারণত অপূর্ণাঙ্গ থাকে এবং শীঘ্রই রূপান্তরিত হয়ে জুভেনাইলে পরিণত হয় (এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে মেটামরফোসিস বলা হয়)। এই সময়ে তাদের ডিমের থলি থেকে জুপ্ল্যাঙ্কটন খাওয়ার অভ্যাসে রূপান্তর ঘটে, যা খাদ্য ঘনত্ব কম হলে অনেক লার্ভাকে অনাহারে ফেলতে পারে।

হলোপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]
Tomopteris — একটি হলোপ্ল্যাঙ্কটিক জৈবদ্যুতিক পলিকিট কৃমি[৪১]

হলোপ্ল্যাঙ্কটন হলো এমন জীব যারা তাদের পুরো জীবনকাল প্ল্যাঙ্কটনের অংশ হিসেবে কাটায়। এর বিপরীতে মেরোপ্ল্যাঙ্কটন জীবনের কেবল একটি পর্যায়ে প্ল্যাঙ্কটন হয় এবং পরে বেথোস বা নেকটন হয়ে ওঠে। হলোপ্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে রয়েছে কিছু ডায়াটম, রেডিওলারিয়ান, ডাইনোফ্লাজেলেট, ফোরামিনিফেরা, অ্যাম্ফিপোড, ক্রিল, কোপিপড, স্যাল্প এবং কিছু গ্যাস্ট্রোপড মলাস্ক

হলোপ্ল্যাঙ্কটনরা মহাসাগরের মধ্য স্তরে বাস করে এবং ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনজুপ্ল্যাঙ্কটন উভয় শ্রেণিতে বিভক্ত হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ হলো প্রোটিস্ট[৪২]

মেরোপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

মেরোপ্ল্যাঙ্কটন হলো এমন জলজ প্রাণী যাদের জীবনের একটি অংশ প্ল্যাঙ্কটনিক এবং অন্য অংশ বেথিক। এর বেশিরভাগ অংশই অমেরুদণ্ডী প্রাণীর লার্ভা[৩৪] কিছু সময় পর তারা নেকটন বা বেথোস শ্রেণিতে পরিণত হয়।

মেরোপ্ল্যাঙ্কটন–এর লার্ভা পর্যায় প্রজাতিভেদে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং এই সময়ে তারা পানির স্তরে ভেসে বেড়ায়।[৩৪][৪৩] এই ভেসে থাকার পর্যায়টি বংশ বিস্তারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ছদ্ম-প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

ছদ্ম-প্ল্যাঙ্কটন হলো এমন জীব যারা নিজেরা ভেসে থাকতে পারে না, তবে ভেসে থাকা অন্যান্য প্ল্যাঙ্কটন বা বস্তুর সাথে লেগে থাকে। যেমন ভাসমান কাঠ, দেহবাহী ভাসমান ঝিনুক, অথবা মানবসৃষ্ট বর্জ্য। উদাহরণ: গুজ বার্নাকলজেলিয়েলা (এক ধরনের ব্রায়োজোয়া)। এরা প্রকৃত ভাসমান জীব যেমন Velella বা পর্তুগিজ ম্যান ও' ওয়ার-এর মতো নয়, কারণ এরা নিজেরা ভেসে থাকতে পারে না।

টাইকোপ্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

টাইকোপ্ল্যাঙ্কটন হলো এমন জীব যারা স্বাভাবিকভাবে বেথিক বা অন্য অ-প্ল্যাঙ্কটনিক পরিবেশে বাস করে, কিন্তু কোনো ঝড় বা স্রোত-এর ফলে সাময়িকভাবে প্ল্যাঙ্কটনে পরিণত হয়।[৪৪][৪৫]

এই শ্রেণির জীবদের পুরো জীবন বা প্রজনন পর্যায় প্ল্যাঙ্কটনে কাটে না। তাই এদের "আকস্মিক প্ল্যাঙ্কটন" বলেও ডাকা হয়।[৪৬]

খনিজ-আবৃত প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

বিস্তৃতি

[সম্পাদনা]
উত্তর গোলার্ধের বসন্তকালে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে সমুদ্রের উপরিভাগে ক্লোরোফিল ঘনত্ব (১৯৯৮–২০০৪ পর্যন্ত গড়)। ক্লোরোফিল ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন-এর বিস্তৃতি ও ঘনত্ব নির্দেশ করে।

বায়ুপ্ল্যাঙ্কটন ছাড়া অন্যান্য প্ল্যাঙ্কটন প্রধানত মহাসাগর, সমুদ্র, হ্রদপুকুরে বসবাস করে। স্থানীয় ঘনত্ব অনুভূমিক, উল্লম্ব এবং ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো আলো পাওয়ার পরিমাণ। সব ধরনের প্ল্যাঙ্কটন নির্ভর করে সূর্যালোক থেকে আসা শক্তির উপর (তবে রাসায়নিক সংশ্লেষ দেখুন), যা প্রাথমিক উৎপাদনকে শুধুমাত্র জলস্তরের উপরিভাগ এবং পর্যাপ্ত আলোর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল হলো পুষ্টির প্রাপ্যতা। যদিও ক্রান্তীয়উপক্রান্তীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে আলো প্রাচুর্য রয়েছে, সেখানে নাইট্রেট, ফসফেটসিলিকেট-এর মতো পুষ্টির অভাবে প্রাথমিক উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। এর কারণ হলো বৃহৎ আকারের সামুদ্রিক সঞ্চালন এবং জলের স্তরবিন্যাস (স্তরায়ন), যা পুষ্টির ওপরের জলে উঠে আসা বাধা সৃষ্টি করে। এসব অঞ্চলে উৎপাদন সাধারণত গভীরতর জলে ঘটে, তবে হ্রাসকৃত স্তরে, কারণ নিচে আলো কম থাকে।

অনেক অঞ্চলে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন নাইট্রেট প্রাচুর্যপূর্ণ হলেও সেগুলি অউৎপাদনশীল থাকে। এই অঞ্চলগুলোকে HNLC অঞ্চল (High-Nutrient, Low-Chlorophyll) বলা হয়।[৪৭] এসব অঞ্চলে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট লোহা (আয়রন)–এর ঘাটতি থাকে এবং তা যোগ করা হলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন–এর ফুলন ঘটে।[৪৮]

লোহা মূলত ধূলিকণার আকারে সমুদ্রের পৃষ্ঠে পড়ে। ফলে আশ্চর্যজনকভাবে অনুৎপাদনশীল এবং শুষ্ক অঞ্চলের সংলগ্ন সামুদ্রিক এলাকাগুলোতে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন অনেক বেশি পাওয়া যায় (যেমন আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব অংশ, যেখানে পূর্ব বাণিজ্য বায়ু সাহারা মরুভূমি থেকে ধূলিকণা নিয়ে আসে)।

যদিও প্ল্যাঙ্কটন সাধারণত উপরিস্তরের জলে বেশি পাওয়া যায়, তারা সম্পূর্ণ জলস্তরে ছড়িয়ে থাকে। যে গভীরতায় প্রাথমিক উৎপাদন হয় না, সেখানে জুপ্ল্যাঙ্কটনব্যাক্টেরিওপ্ল্যাঙ্কটন উপরিস্তরের উৎপাদনশীল জল থেকে জৈব পদার্থ নিচে পড়ে এলে তা খেয়ে বাঁচে। এই নিচে পড়া জৈব পদার্থের প্রবাহকে মেরিন স্নো বলা হয় এবং এটি বসন্তকালের ফুলন শেষ হওয়ার পর বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়।

প্ল্যাঙ্কটনের স্থানীয় বণ্টনে ল্যাংমুইর সঞ্চালন এবং এর জৈবিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিবেশগত গুরুত্ব

[সম্পাদনা]

খাদ্য শৃঙ্খল

[সম্পাদনা]
বহিঃস্থ ভিডিও
video icon The Secret Life of Plankton - YouTube

খাদ্য শৃঙ্খলের নিম্নস্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্ল্যাঙ্কটন কেবল মৎস্য শিল্পের ভিত্তিই নয়, বরং তারা জৈব-ভূ-রাসায়নিক চক্রতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে রয়েছে মহাসাগরের কার্বন চক্রও[৪৯] মাছের লার্ভা সাধারণত জুপ্ল্যাঙ্কটন খায়, যারা আবার ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে।[৫০]

কার্বন চক্র

[সম্পাদনা]

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খাওয়ার মাধ্যমে জুপ্ল্যাঙ্কটন কার্বনকে প্ল্যাঙ্কটনভিত্তিক খাদ্যজালে স্থানান্তর করে। এরা শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে বা মৃত্যুর পর জৈবভর বা ডিট্রাইটাস হিসেবে নিচে পড়ে যায়। জৈব বস্তু সমুদ্রজলের চেয়ে ঘন হওয়ায় তা ডুবে যায় এবং উপকূল থেকে দূরে খোলা মহাসাগর অঞ্চলে কার্বন পরিবহন করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় জৈব পাম্প, যা মহাসাগরকে পৃথিবীর বৃহত্তম কার্বন শোষক হিসেবে গড়ে তোলে। তবে এই প্রক্রিয়া তাপমাত্রা পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।[৫১]

২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, যদি সমুদ্র অম্লায়ন বর্তমান হারে চলতে থাকে, তবে অ্যান্টার্কটিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ছোট হয়ে যেতে পারে এবং কার্বন সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পাবে।[৫২]

মানবসৃষ্ট অতিরিক্ত CO
2
শোষণের হার বাড়াতে লোহা সারের প্রয়োগ–এর মাধ্যমে প্ল্যাঙ্কটন বৃদ্ধির চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে এই কৌশল বৃহৎ পরিসরে কার্যকর নাও হতে পারে। অক্সিজেন হ্রাস এবং অত্যধিক পুনঃখনিজীকরণ এর ফলে মিথেন উৎপাদন হতে পারে, যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।[৫৩][৫৪]

অক্সিজেন উৎপাদন

[সম্পাদনা]

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সূর্যের আলো এবং পানির পুষ্টি ব্যবহার করে প্রকাশসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজ খাদ্য উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, যা পানিতে মুক্ত হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, বিশ্বে মোট অক্সিজেনের প্রায় ৫০% ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন দ্বারা উৎপন্ন হয়।[৫৫] বাকি অক্সিজেন মূলত স্থলজ উদ্ভিদ থেকে আসে।[৫৫]

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন প্রকাশসংশ্লেষের মাধ্যমে প্রাক্ক্যামব্রিয়ান যুগ থেকে পৃথিবীর কার্বন-অক্সিজেন ভারসাম্য বজায় রাখছে।[৫৬]

শোষণ দক্ষতা

[সম্পাদনা]

শোষণ দক্ষতা (Absorption Efficiency বা AE) বোঝায় প্ল্যাঙ্কটনের গ্রহণকৃত খাদ্যের কত অংশ তারা শোষণ করে এবং তা তাদের শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণে কতটা কার্যকর।[৫৭]

খাদ্যগ্রহণের হার এবং শিকার জীবের গঠনের ওপর AE নির্ভর করে। কম খাওয়ার হারে AE বেশি হয় এবং ছোট, ঘন মল ছানা উৎপন্ন হয়; অন্যদিকে বেশি খাওয়ার হারে AE কম হয় এবং বড়, অঙ্গবহুল ছানা তৈরি হয়। শ্বাসক্রিয়ার হার DOM মুক্তির একটি বড় উপাদান। অক্সিজেন, pH, এবং আলোক পরিস্থিতি–এর মতো ভৌত উপাদানও কার্বন নির্গমনে ভূমিকা রাখে।

জুপ্ল্যাঙ্কটন ও শিকার জীবের আকারের অনুপাতও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট শিকার সম্পূর্ণ গ্রাস করা যায়, কিন্তু বড় শিকার আংশিক ও অকার্যকরভাবে খাওয়া হয়, ফলে বেশি পরিমাণে জৈব পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে।[৫৮][৫৯]

শিকার জীবের ধরণ পুষ্টি নিঃসরণকেও প্রভাবিত করে। মাংসাশী খাদ্য অম্লীয় দ্রবীভূত কার্বনঅ্যামোনিয়াম বেশি নিঃসরণ করে, যেখানে সবяд食 কম করে।[৬০]

প্ল্যাঙ্কটনের বৈচিত্র্য

[সম্পাদনা]

প্ল্যাঙ্কটনিক সম্পর্ক

[সম্পাদনা]

মাছ ও প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

জুপ্ল্যাঙ্কটন প্রায় সব ধরনের মাছের লার্ভার জন্য প্রাথমিক খাদ্য, যখন তারা ডিমের থলি থেকে স্বনির্ভরভাবে খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। মাছের বংশবিস্তারে জুপ্ল্যাঙ্কটন–এর ঘনত্ব ও বিস্তৃতির সঙ্গে লার্ভার মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, না হলে লার্ভারা অনাহারে মারা যেতে পারে।

প্রাকৃতিক (যেমন স্রোতের পরিবর্তন, তাপমাত্রা) এবং মানবসৃষ্ট (যেমন নদীর বাঁধ, সমুদ্র অম্লায়ন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি) কারণ জুপ্ল্যাঙ্কটনের জনসংখ্যাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি মাছের লার্ভার টিকে থাকা এবং প্রজনন সাফল্যের উপর পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে মাছের জনসংখ্যা কম, সেখানে প্ল্যাঙ্কটনের বিস্তৃতি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। আবার, যেখানে মাছের সংখ্যা বেশি, সেখানে শিকার-ভিত্তিক চাপ জুপ্ল্যাঙ্কটনের গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করে এবং তা নিয়মিত বা বিশৃঙ্খল আচরণ প্রদর্শন করতে পারে।[৬২]

মাছের লার্ভা জুপ্ল্যাঙ্কটন খেয়ে কমিয়ে দিলে তা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ফুলন দীর্ঘায়িত করতে পারে, কারণ পর্যাপ্ত ভক্ষণ না থাকলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।[৫০]

পুকুরে মাছ চাষেও ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনজুপ্ল্যাঙ্কটন–এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপক ও আধা-ব্যাপক চাষব্যবস্থায়, প্ল্যাঙ্কটনের ভিত্তিতে পুকুর ব্যবস্থাপনা বহু বছর ধরেই প্রচলিত, যা মানুষের তৈরি পরিবেশেও প্ল্যাঙ্কটনের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

তিমি ও প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

সব প্রাণীর বিষ্ঠার মধ্যে, তিমির বিষ্ঠা পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন হলো খোলা সমুদ্রের প্রাথমিক উৎপাদক, এবং তারা তিমির বিষ্ঠা থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করতে পারে।[৬৩]

সামুদ্রিক খাদ্যজালে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নীচের স্তরে থাকে, যাদের জুপ্ল্যাঙ্কটনক্রিল খায়, এবং তাদেরকে খায় আরও বড় সামুদ্রিক প্রাণীরা, যার মধ্যে তিমিও রয়েছে। বলা যেতে পারে, তিমির বিষ্ঠা পুরো খাদ্যজালকে কার্যত জ্বালানি সরবরাহ করে।

মানুষ ও প্ল্যাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

প্ল্যাঙ্কটন মানুষের ওপর সরাসরি ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই প্রভাব ফেলে।

বিশ্বের বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৭০% অক্সিজেন ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন–এর প্রকাশসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। এর মানে, আমাদের ও অন্যান্য বায়ুশ্বাসকারী প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের বড় অংশ প্ল্যাঙ্কটন থেকেই আসে।[৬৪]

প্ল্যাঙ্কটন সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভিত্তিও গঠন করে, যা উপরের সব ট্রফিক স্তরকে খাদ্য সরবরাহ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় টপ-ডাউন বনাম বটম-আপ নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, অর্থাৎ খাদ্যজালে পরিবর্তন ঘটে উপরের শিকারিদের কারণে, নাকি নিচের স্তরের পুষ্টির কারণে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বটম-আপ নিয়ন্ত্রণই খাদ্যজালের গতিবিধি নির্ধারণে বেশি কার্যকর।[৬৫]

কিছু ক্ষেত্রে, প্ল্যাঙ্কটন মানবদেহে পরজীবী–র আতিথেয় হিসেবে কাজ করে। উদাহরণ: কলেরা রোগ, যা Vibrio cholerae ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। এই ব্যাকটেরিয়া কোপিপড জাতীয় চিটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন–এর সঙ্গে সহবাস করে। তারা চিটিন থেকে খাদ্য ও অম্ল প্রতিরোধ লাভ করে। যখন মানুষ এই জুপ্ল্যাঙ্কটন খেয়ে ফেলে, তখন চিটিন আবরণ পাকস্থলীর অম্ল থেকে ব্যাকটেরিয়াকে রক্ষা করে এবং এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়, যার লক্ষণ হলো তীব্র ডায়রিয়া, সাধারণত ৫ দিনের মধ্যে শুরু হয়।[৬৬]

বাংলাদেশে প্লাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের সব জলজ বাস্ত্ততন্ত্র উদ্ভিদ ও প্রাণী প্লাঙ্কটনে সমৃদ্ধ।

বাংলাদেশে ফাইটোপ্লাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের কোন কোন বদ্ধজলাশয়ে কিছু ইউগ্লেনা প্রজাতির দরুন পানির উপরিভাগ লালচে-বাদামি বা চায়ের রং ধরে। বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রচুর পরিমাণ Spirogyra, Pithophora species বা Hydrodictyon reticulatum জলাশয়ের উপরিতলের কাছাকাছি ভাসতে থাকে। মাঝেমধ্যে Aphanothece, Rivularia, Gloetrichia ধূসর রঙের আঠাল দলা, Chaetophora প্রজাতিগুলি সবুজ রঙের দলা বা Botryococcus braunii প্রজাতি পুরু কলোনি ছড়িয়ে কিছু কালের জন্য বদ্ধ জলাশয়ের গোটা উপরিতল ঢেকে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশে স্বাদুপানির উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটনের মুখ্য প্রতিনিধিদের অধিকাংশই Bacillariophyceae। অন্যান্য শৈবালবর্গ সাধারণত pH, খাদ্যবস্ত্ত, নাইট্রেট, ফস্ফেট ও অন্যান্য উপাত্ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ডেসমিডের পছন্দ প্রধানত অম্লীয় পানি, আবার নীল-সবুজ শৈবাল, ইউগ্লেনয়েড ও ক্লোরোকক্কয়েড সদস্যরা উচ্চতর ক্ষারীয় মাধ্যম ও জৈবিকভাবে দূষিত পানি পছন্দ করে।

বাংলাদেশে নথিভুক্ত মিঠাপানির প্লাঙ্কটনিক গণসমূহ Chlorophyceae, Bacillariophyceae, Xanthophyceae, Chrysophyceae, Euglenophyceae, Dinophyceae, Chloromonadophyceae, Cryptophyceae ও Cyanophyceae শ্রেণিভুক্ত।

বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে Asterionella japonica-সহ কতক প্রজাতি পানিস্ফুটন (water bloom) ঘটায় এবং এসব ডায়াটম থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত বস্ত্তর দরুন জেলেদের শরীরে চুলকানি দেখা দেয়। উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন স্বাদু ও সামুদ্রিক উভয় বাস্ত্ততন্ত্রের প্রাথমিক খাদ্যউৎপাদক এবং এগুলি মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্যের প্রধান উৎস। অধিকন্তু, সালোক-সংশ্লেষণের মাধ্যমে তারা আবহমন্ডলের অক্সিজেনস্থিতি অব্যাহত রাখে। Spirulina-র মতো কোন কোন উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন মানুষের খাদ্য ও ওষুধ যোগায়।

বাংলাদেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্লাঙ্কটনের ধারাবাহিক সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়া না গেলেও জ্ঞাত উদ্ভিদ প্লাঙ্কটনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য Eudorina, Pleodorina, Volvox, Cloroccum, Pediastrum, Oocystis, Tetrallantos, Sceredesmus, Coelastrum, Ulothrix, Gloeotila, Oedogonium, Cladophora, Lolo, Stigeoclorium, Mougeotia, Zygenma, Spirogyra, Microcystis, Aphanothece, Syechococcus, Merismopedia, Dactylococcopis,Spirulina, Oscillatoria, Lynabya, Schizothrix, Symploca, Microcolaus, Cylindrospermum, Wollea, Nostoc, Aradaera, Raphidiopsis, Ssytorema, Monostyla ইত্যাদি গণের বিভিন্ন প্রজাতি।

বাংলাদেশে প্রাণিজাত প্লাঙ্কটন

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে প্রাণী প্লাঙ্কটনের মধ্যে রয়েছে Diaptomus, Cyclops, Mesocyclops, Macrocyclops, Microcyclops, Cypris, Stenocypris, Cyclestheria, Pleuretra, Rotaria, Embata, Anuraeossia, Brachionus, Platyias, Keratella, Euchlanis, Dipleuchlanis, Triplechilanis, Macrochaetus, Mytilina, Epiphane, Diplois, Monostyla ইত্যাদির প্রজাতি।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Lalli, C.; Parsons, T. (১৯৯৩)। Biological Oceanography: An Introduction। Butterworth-Heinemann। আইএসবিএন ০-৭৫০৬-৩৩৮৪-০
  2. Smith, David J. (জুলাই ২০১৩)। "Aeroplankton and the Need for a Global Monitoring Network"BioScience৬৩ (7): ৫১৫–৫১৬। ডিওআই:10.1525/bio.2013.63.7.3এস২সিআইডি 86371218
  3. "plankter"American Heritage Dictionary। Houghton Mifflin Harcourt Publishing Company। ৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৮
  4. Lawton, Graham (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। "Fungi ahoy!"। New Scientist২৬১ (3477): ৩৭–৩৯। বিবকোড:2024NewSc.261b..37Lডিওআই:10.1016/S0262-4079(24)00274-4
  5. Dolan, John (নভেম্বর ২০১২)। "Microzooplankton: the microscopic (micro) animals (zoo) of the plankton" (পিডিএফ)Institut océanographique। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৪
  6. Hansen, Victor (১৮৮৭)। "Uber die Bestimmung des Plankton's oder des im Meere treibenden Materials an Pflanzen und Thieren" [On the determination of the plankton or the material floating in the sea on plants and animals]Fünfter Bericht der Kommission zur Wissenschaftlichen Untersuchung der Deutschen Meere (জার্মান ভাষায়)। ১২ (12–16)। Berlin, Germany: Paul Parey: ১–১০৮ Biodiversity Heritage Library এর মাধ্যমে।
  7. Karleskint, George; Turner, Richard; Small, James (২০১৩)। "17: The Open Sea"। Introduction to Marine Biology (4th সংস্করণ)। Brooks/Cole। পৃ. ৪৪২–৪৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৩-৩৬৪৪৬-৭
  8. Agrawai, Anju; Gopnal, Krishna (২০১৩)। Biomonitoring of Water and Waste Water। Springer India। পৃ. ৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮-১৩২-২০৮৬৪-৮। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৮
  9. "Plankter – marine biology"Encyclopædia Britannica
  10. Emiliani, C. (১৯৯১)। "Planktic/Planktonic, Nektic/Nektonic, Benthic/Benthonic"Journal of Paleontology৬৫ (2): ৩২৯। বিবকোড:1991JPal...65..329Eডিওআই:10.1017/S0022336000020576জেস্টোর 1305769এস২সিআইডি 131283465
  11. Wang, G.; Wang, X.; Liu, X.; Li, Q. (২০১২)। "Diversity and biogeochemical function of planktonic fungi in the ocean"। Raghukumar, Chandralata (সম্পাদক)। Biology of Marine Fungi। Springer Berlin Heidelberg। পৃ. ৭১–৮৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৬৪২-২৩৩৪২-৫
  12. Wommack, K.E.; Colwell, R.R. (মার্চ ২০০০)। "Virioplankton: viruses in aquatic ecosystems"Microbiology and Molecular Biology Reviews৬৪ (1): ৬৯–১১৪। ডিওআই:10.1128/MMBR.64.1.69-114.2000পিএমসি 98987পিএমআইডি 10704475
  13. "Plankton"Resource LibraryNational Geographic। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  14. Leles, Suzana Gonçalves (নভেম্বর ২০১৮)। "Modelling mixotrophic functional diversity and implications for ecosystem function - Oxford Journals"Journal of Plankton Research৪০ (6): ৬২৭–৬৪২। ডিওআই:10.1093/plankt/fby044
  15. Hartmann, M.; Grob, C.; Tarran, G.A.; Martin, A.P.; Burkill, P.H.; Scanlan, D.J.; Zubkov, M.V. (২০১২)। "Mixotrophic basis of Atlantic oligotrophic ecosystems"Proc. Natl. Acad. Sci. USA১০৯ (15): ৫৭৫৬–৫৭৬০। বিবকোড:2012PNAS..109.5756Hডিওআই:10.1073/pnas.1118179109পিএমসি 3326507পিএমআইডি 22451938
  16. Ward, B.A.; Follows, M.J. (২০১৬)। "Marine mixotrophy increases trophic transfer efficiency, mean organism size, and vertical carbon flux"Proc. Natl. Acad. Sci. USA১১৩ (11): ২৯৫৮–২৯৬৩। বিবকোড:2016PNAS..113.2958Wডিওআই:10.1073/pnas.1517118113পিএমসি 4801304পিএমআইডি 26831076
  17. "Mixing It Up in the Web of Life"The Scientist Magazine। ২১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২৫
  18. "Uncovered: the mysterious killer triffids that dominate life in our oceans"। ৩ নভেম্বর ২০১৬।
  19. "Catastrophic Darkness"Astrobiology Magazine। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৯
  20. Chust, G., Vogt, M., Benedetti, F., Nakov, T., Villéger, S., Aubert, A., Vallina, S.M., Righetti, D., Not, F., Biard, T. and Bittner, L.(2017) "Mare incognitum: A glimpse into future plankton diversity and ecology research". Frontiers in Marine Science, 4: 68. ডিওআই:10.3389/fmars.2017.00068.
  21. Omori, M.; Ikeda, T. (১৯৯২)। Methods in Marine Zooplankton Ecology। Malabar, USA: Krieger Publishing Company। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৯৪৬৪-৬৫৩-৯
  22. Dusenbery, David B. (২০০৯)। Living at micro scale: the unexpected physics of being small। Cambridge: Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-০৩১১৬-৬
  23. Karsenti, Eric; Acinas, Silvia G.; Bork, Peer; Bowler, Chris; De Vargas, Colomban; Raes, Jeroen; Sullivan, Matthew; Arendt, Detlev; Benzoni, Francesca; Claverie, Jean-Michel; Follows, Mick; Gorsky, Gaby; Hingamp, Pascal; Iudicone, Daniele; Jaillon, Olivier; Kandels-Lewis, Stefanie; Krzic, Uros; Not, Fabrice; Ogata, Hiroyuki; Pesant, Stéphane; Reynaud, Emmanuel Georges; Sardet, Christian; Sieracki, Michael E.; Speich, Sabrina; Velayoudon, Didier; Weissenbach, Jean; Wincker, Patrick (২০১১)। "A Holistic Approach to Marine Eco-Systems Biology"PLOS Biology (10): e১০০১১৭৭। ডিওআই:10.1371/journal.pbio.1001177পিএমসি 3196472পিএমআইডি 22028628
  24. A. C. Hardy and P. S. Milne (1938) Studies in the Distribution of Insects by Aerial Currents. Journal of Animal Ecology, 7(2):199-229
  25. Liss, P. S. (১৯৯৭)। The sea surface and global change। Cambridge New York: Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫৬২৭৩-৭ওসিএলসি 34933503
  26. Blanchard, D.C., 1983...
  27. Wallace Jr., G.T., Duce, R.A., 1978...
  28. WHO, 1998...
  29. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; klassen নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  30. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; moorthy নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  31. Chow, J. C., et al. (2000)...
  32. Aller, J., et al. (2005)...
  33. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; marks নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  34. 1 2 3 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; :0 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  35. Hays, Graeme C.; Doyle, Thomas K.; Houghton, Jonathan D.R. (২০১৮)। "A Paradigm Shift in the Trophic Importance of Jellyfish?"। Trends in Ecology & Evolution৩৩ (11): ৮৭৪–৮৮৪। ডিওআই:10.1016/j.tree.2018.09.001পিএমআইডি 30245075
  36. Lalli, C.M. & Parsons, T.R. (2001)
  37. Johnsen, S. (2000)
  38. Nouvian, C. (2007)
  39. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; NOAA নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  40. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Moser2006 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  41. Harvey, Edmund Newton (১৯৫২)। Bioluminescence। Academic Press।
  42. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Talks নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  43. Ershova, E. A.। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  44. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Margulis_2009 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  45. Encyclopedia of biological invasions
  46. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Kennish_2003 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  47. Martin, J.H. ...। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  48. Boyd, P.W. ...। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  49. Falkowski, Paul G. ...। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  50. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; sciencedirect.com নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  51. Sarmento। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  52. https://phys.org/news/... {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  53. Chisholm। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  54. Aumont। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  55. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; NalGeo নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  56. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Tappan নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  57. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Steinberg12017 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  58. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Møller2005 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  59. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Møller2007 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  60. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Thor2003 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  61. Michael Le Page (মার্চ ২০১৯)। "Animal with an anus that comes and goes could reveal how ours evolved"New Scientist
  62. "Patchy environment as a factor of complex plankton dynamics ..."। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  63. "whale poop and phytoplankton ..."। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  64. "Mathematical Modelling of Plankton–Oxygen Dynamics ..."। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  65. "From plankton to top predators: bottom-up control ..."। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  66. "Effects of Global Climate on Infectious Disease: the Cholera Model ..."। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)

আরো পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • কার্বি, রিচার্ড আর. (২০১০)। *Ocean Drifters: A Secret World Beneath the Waves*। স্টুডিও ক্যাকটাস লিমিটেড, যুক্তরাজ্য। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯০৪২৩৯-১০-৯
  • ডুসেনবেরি, ডেভিড বি. (২০০৯)। *Living at Micro Scale: The Unexpected Physics of Being Small*। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-০৩১১৬-৬
  • কিওর্বো, থমাস (২০০৮)। *A Mechanistic Approach to Plankton Ecology*। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, নিউ জার্সি। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-১৩৪২২-২
  • ডোলান, জে.আর., আগাথা, এস., কোয়েটস, ডি.ডব্লিউ., মনট্যাগনেস, ডি.জে.এস., স্টকার, ডি.কে. (সম্পা.) (২০১৩)।Biology and Ecology of Tintinnid Ciliates: Models for Marine Plankton। ওয়াইলি-ব্ল্যাকওয়েল, অক্সফোর্ড, যুক্তরাজ্য। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৭০-৬৭১৫১-১

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]