প্লাংকের নীতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক

বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সমাজবিজ্ঞানে প্লাংকের নীতি বলতে একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে বোঝায়, যা অনুসারে একক বিজ্ঞানীদের মত পরিবর্তনের কারণে নয় , বরং পূর্বের প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের সাথে পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের মতের পার্থক্যের কারণে বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

বিজ্ঞানী মাক্স প্লাংক নিচের মতো করে নীতিটি সূত্রায়িত করেন:[১]

A new scientific truth does not triumph by convincing its opponents and making them see the light, but rather because its opponents eventually die and a new generation grows up that is familiar with it. . . . An important scientific innovation rarely makes its way by gradually winning over and converting its opponents: it rarely happens that Saul becomes Paul. What does happen is that its opponents gradually die out, and that the growing generation is familiarized with the ideas from the beginning: another instance of the fact that the future lies with the youth.

— Max Planck, Scientific autobiography, 1950, p. 33, 97

যার ভাবানুবাদ এরকম: একটি নতুন বৈজ্ঞানিক সত্য বিরোধীদের সম্মতি অর্জন করে ও তাদেরকে সত্যের আলো দেখিয়ে বিজয়ী হয় না, বরং এই কারণে বিজয়ী হয় যে সেটির বিরোধীরা শেষ পর্যন্ত মারা যায় এবং একটি নতুন প্রজন্ম সেটি সম্পর্কে পরিচিতি নিয়ে বেড়ে ওঠে... একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নবপ্রবর্তন ধীরে ধীরে বিরোধীদের মন জয় করে ও তাদের মন পরিবর্তন করে অগ্রসর হয়, এমন ঘটনা বিরল: সলের পলে পরিণত হওয়া বিরল ঘটনা। যা আসলেই ঘটে, তা হল সেটির বিরোধীরা ধীরে ধীরে মারা যায় এবং বর্ধনশীল প্রজন্ম শুরু থেকেই ধারণাগুলির সাথে পরিচিত থাকে: ভবিষ্যৎ যে তরুণদের হাতে, এটা তার আরেকটি দৃষ্টান্ত।"

অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিটিকে প্রায়শই শব্দান্তরিত করে বলা হয় যে "বিজ্ঞান একটি শেষকৃত্য পরপর অগ্রসর হয়" ("Science progresses one funeral at a time")।

প্লাংকের এই উক্তিটি টমাস কুন, পাউল ফায়ার-আবেন্ড ও অন্যান্যরা ব্যবহার করে এই যুক্তি প্রদান করেছেন যে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবগুলি "সত্য ও প্রকৃত ঘটনার শক্তিতে" বলীয়ান হয়ে প্রসারলাভ করে না, বরং এগুলি অ-যৌক্তিক উপায়ে ঘটে থাকে।[২][৩][৪][৫] এটিকে লামার্কপন্থী ধারণাগত বিবর্তনের বিপরীতে ডারউইনপন্থী ধারণাগত বিবর্তনের সাথে তুলনা করা হয়েছে।[৬]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

বয়স নতুন ধ্যানধারণা গ্রহণ করাকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, সে ব্যাপারটিকে বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন ডারউইন কর্তৃক প্রকাশিত অন দি অরিজিন অভ স্পিশিজ গ্রন্থের প্রকাশের পরে সেটির তত্ত্ব গ্রহণের ঘটনাটির সাথে বয়সের সম্পর্ক ছিল গৌণ।[২] আরও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে, যেমন নতুন অর্থমিতিক ইতিহাস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্যতার সাথে বয়সের সম্পর্ক দুর্বল।[৭] একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে যখন ভূপাত সঞ্চারণ তত্ত্বটি (প্লেট টেকটনিকস) গৃহীত হয়, তখন বাস্তবে অপেক্ষাকৃত প্রবীণ বিজ্ঞানীরা তরুণ বিজ্ঞানীদের আগে তত্ত্বটি গ্রহণ করেছিলেন।[৮] তবে জৈবনিক বিজ্ঞান গবেষকদের উপরে করা সাম্প্রতিক আরেকটি গবেষণায় বেরিয়ে আসে যে অগ্রগণ্য বা শ্রেষ্ঠ গবেষকদের মৃত্যুর পরে তাদের সহযোগীদের প্রকাশনার সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পায়, এবং এর বিপরীতে তাদের সহযোগী নয়, এমন গবেষক এবং ক্ষেত্রগুলিতে প্রবেশকারী নতুন গবেষকদের গবেষণা কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Planck, Max K. (1950). Scientific Autobiography and Other Papers. New York: Philosophical library.
  2. Hull DL, Tessner PD, Diamond AM (১৭ নভেম্বর ১৯৭৮)। "Planck's Principle"। Science202 (4369): 717–23। ডিওআই:10.1126/science.202.4369.717পিএমআইডি 17807228 
  3. T. Kuhn. The Structure of Scientific Revolutions. University of Chicago Press, 1970. p. 151
  4. P. Feyrabend, in Criticism and the growth of knowledge, I. Lakatos and A. Musgrave, eds. Cambridge University Press, Cambridge 1970, p. 203
  5. Pierre Azoulay, Christian Fons-Rosen, Joshua S. Graff Zivin: Does Science Advance One Funeral at a Time? 2015, ডিওআই:10.3386/w21788.
  6. John T. Blackmore (১৯৭৮)। "Is Planck's 'Principle' True?"। British Journal for the Philosophy of Science29 (4): 347–349। জেস্টোর 687097 
  7. Arthur M. Diamond, Jr. (ডিসেম্বর ১৯৮০)। "Age and the Acceptance of Cliometrics"। The Journal of Economic History40 (4): 838–841। জেস্টোর 2120004ডিওআই:10.1017/S002205070010021X 
  8. Peter Messeri (১৯৮৮)। "Age Differences in the Reception of New Scientific Theories: The Case of Plate Tectonics Theory"। Social Studies of Science18 (1): 91–112। জেস্টোর 285378 
  9. Pierre Azoulay, Christian Fons-Rosen, Joshua S. Graff Zivin (আগস্ট ২০১৯)। "Does Science Advance One Funeral at a Time?"American Economic Review109 (8): 2889–2920। ডিওআই:10.1257/aer.20161574পিএমসি 6814193অবাধে প্রবেশযোগ্য