বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রিয়ম্বদা সিং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রিয়ম্বদা সিং
২০১৯ সালে প্রিয়ম্বদা সিং
জন্মআনু. ১৯৮৩
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষামেয়ো কলেজ গার্লস স্কুল
পেশাটিভি শিল্প এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার
পরিচিতির কারণরাজস্থানে ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার
দাম্পত্য সঙ্গীবিজয়েন্দ্র চন্দ্র দেব

প্রিয়ম্বদা সিং (জন্ম আনুমানিক ১৯৮৩) একজন প্রচার মাধ্যম কর্মী এবং ভারতে অবস্থিত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারকারী। মুম্বাইয়ের টেলিভিশন জগতে এক দশক কাজ করার পর, তিনি রাজস্থানে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসেন এবং ভিলওয়ারার কাছে তাঁর গ্রাম মেজাতে একটি পৈতৃক দুর্গ পুনরুদ্ধারের জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের শিল্প ও কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করেন। স্থানীয় সম্প্রদায়ের পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় স্থানীয় দক্ষতার ব্যবহারের জন্য তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে নারী শক্তি পুরস্কার অর্জন করেন।

প্রারম্ভিক বছরগুলি

[সম্পাদনা]

প্রিয়ম্বদা সিং ১৯৮৩ সাল নাগাদ জন্মগ্রহণ করেন এবং আজমীরের মায়ো কলেজ গার্লস স্কুল এবং সোফিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন।[১]

তাঁর বাবা জিতেন্দ্র সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং মা রম্মা কুমারী একজন গৃহিণী।

প্রাথমিক কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

তিনি নতুন দিল্লিতে চলচ্চিত্র নির্মাতা মুজাফফর আলীর সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে গণমাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি একটি ইন্দো-ফরাসি অপেরা, একটি আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব সিরিজ জাহান-ই-খুসরাউ এবং লন্ডনের সাউথব্যাঙ্ক সেন্টারে একটি সাংস্কৃতিক উৎসবের মতো বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করেছিলেন। এরপর তিনি ডিডিএনই, ডিডি কাশির, আইসিসিআর, ইউএনওডিসি ইত্যাদির সাথে কিছু ফ্রিল্যান্স সৃজনশীল প্রকল্প শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মুম্বাইয়ের টেলিভিশন ইণ্ডাস্ট্রিতে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি, দশ কা দম এবং ইণ্ডিয়া'স গট ট্যালেন্টের মতো অনুষ্ঠানের জন্য বিষয়বস্তু বিকাশকারী (কন্টেন্ট ডেভেলপার) হিসেবে কাজ করেন।[২]

পুনরুদ্ধার

[সম্পাদনা]

তবে, যখন তিনি পরিবারের পৈতৃক বাড়ি, ১৪৬ বছরেরও বেশি সময় আগে নির্মিত, ৬০ কক্ষ বিশিষ্ট দুর্গটি পুনরুদ্ধার করবেন ঠিক করেন, তখন তিনি বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৭১ সালে মেওয়ারের মহারাণা কর্তৃক এই জায়গাটি দেওয়ার পর, ১৮৭৫ সাল নাগাদ তাঁর পূর্বপুরুষ রাওয়াত অমর সিং জি মেজা দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাণের পর এতে আর কোন কাজ হয়নি।

তিনি দুর্গে চলে আসেন এবং নিশ্চিত করেন যে পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মানুষদের নিয়োগ করা হবে, বিশেষ করে মহিলারা নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তিনি প্রায় ৫০,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই কাঠামোটি পুনরুদ্ধার করতে শুকনো পাথরের গাঁথুনি, চুনের প্লাস্টার ইত্যাদির মতো ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। মেজা বাঁধটি এর কাছেই অবস্থিত।[২]

পুনরুদ্ধার করা দুর্গটি "ব্লাউজ" শিরোনামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য একটি স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ছবিটি পুনরুদ্ধারকৃত কাজটি প্রদর্শন করে এবং স্থানীয় লোকেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজয়েতা কুমারকে সহায়তা করে এবং ছবিতে অতিরিক্ত চরিত্রে অভিনয় ক'রে কর্মসংস্থান ও খ্যাতি অর্জন করে। ছবিটি পিভিআর সিনেমা কর্তৃক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং ২০১৪-১৫ সালে নিউ ইয়র্ক ইণ্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায়। দুর্গটি স্থানীয়ভাবে গঙ্গৌর, জল ঝুলনী একাদশী ইত্যাদি উদযাপনের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি রক্তদান ও যোগ শিবিরের মতো সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে। দুর্গটিতে স্থানীয়দের জন্য একটি কমিউনিটি লাইব্রেরিও রয়েছে। পরে দুর্গটি ভ্রমণকারী পর্যটকদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।[১]

স্বীকৃতি

[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে,আইসিআইসিআই ব্যাংক, ভারত জুড়ে ২৫ জন অনুপ্রেরণাদায়ক মহিলার মধ্যে প্রিয়ম্বদাকেও একজন অ্যাডভান্টেজ ওম্যান অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। মুম্বাইতে অভিনেত্রী বিদ্যা বালান তাঁর সংস্কার কাজ এবং প্রকল্পের সামাজিক প্রভাবের জন্য তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।[২]

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে, যোধপুরের এইচএইচ গজ সিং জির নেতৃত্বে মেহেরানগড় জাদুঘর ট্রাস্ট এবং বীর দুর্গা দাস স্মৃতি সমিতি যোধপুর ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং এর সামাজিক প্রভাবের প্রতি তাঁর প্রচেষ্টাকে পুরস্কৃত করে।

২০১৯ সালের ৮ মার্চ, তার নেতৃত্ব এবং উদাহরণের জন্য তাঁকে নারী শক্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সুপারিশে ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ এই পুরস্কার প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সকল পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাথে মতবিনিময় করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

তিনি ২০১৪ সালে বিজয়েন্দ্র চন্দ্র দেবকে বিয়ে করেন।[১]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 Kapoor, Aekta (৩ মার্চ ২০১৮)। "She Quit Showbiz to Live in an Old Fort for a Curious Reason"। eShe (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২০।
  2. 1 2 3 "From showbiz to ancestral fort, a Meja-stic heritage mission for this Rajasthan woman"। Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২০।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]