প্রহ্লাদপুরী মন্দির, মুলতান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রহ্লাদপুরী মন্দির,মুলতান
Prahladpuri Temple View.jpg
প্রহ্লাদপুরী মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
পরিচালনা সংস্থাপাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল
অবস্থান
স্থাপত্য
ধরনহিন্দু মন্দির
ওয়েবসাইট
http://www.pakistanhinducouncil.org/

প্রহ্লাদপুরী মন্দির পাকিস্তানের একটি হিন্দু মন্দির।এটি পাকিস্তানের মুলতানে অবস্থিত।বর্তমানে এই মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এটি প্রহ্লাদের নামে ।কিংবদন্তি প্রাচীন মন্দিরটি ভক্ত প্রহ্লাদ নৃসিংহ দেবকে নিবেদন করে তৈরি করেন।এখানেই নৃসিংহ দেব হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করে প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি মুলতানের(কাশ্যপ) রাজা ছিলেন[১][২][৩][৪][৫]

মুলতাত মুসলমানদের আক্রমণের পর মুলতানের সূর্য মন্দিরের মতো এই মন্দিরটিও ধ্বংস হয়ে যায়। মন্দিরটি তার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং ১৯ শতকের সময় একটি আদর্শ মন্দির হয়ে ওঠে। মন্দিরটি মুলতানের দুর্গে একটি উচ্চ স্থানে অবস্থিত। হযরত বাহাহুল হক জাকারিয়ার সমাধির সমীপবর্তী[৫]।মন্দিরের কাছে একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল[৬] ।এটি শিখ সাম্রাজ্যের অধীনেও ছিল।এএন খানের মতে শিখ সাম্রাজ্যের অধীনে মন্দিরটি পুন তৈরি করা হয়[৫]। ১৮৩১ সালে আলেকজান্ডার বার্নস মন্দির পরিদর্শন করেন এবং জানালেন যে এটি পরিত্যক্ত হয়েছে এবং এর ছাদ ছিল না। ১৮৪২ সালে ব্রিটিশরা মুলতানের মুলকাস দুর্গে আক্রমণ করে। একটি কার্তুজ দুর্গের ভিতরে একটি খোলা জানালাতে রাখা ছিল। বাহাউদ্দিন জাকারিয়ার কবর , মন্দির ও দুর্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল[৭]। মুলতানের ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জরিপ ও গবেষণার জন্য আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে পরিদর্শনে আসেন।প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগে উল্লেখ করেন যে, এটি "বর্গক্ষেত্র এবং ইট মন্দির" ছিল। ছাদকে অবলম্বন দেয়ার জন্য কাঠের স্তম্ভ ছিল[৫][৮]। বর্তমান মন্দিরটি ১৮৬১ সালে বদ্বল রাম দাস দ্বারা ১১ হাজার রুপি ব্যয় করে নির্মিত হয়েছিল[৯]

পাকিস্তানের সৃষ্টি হওয়ার পর, অনেক হিন্দু ভারতে চলে যায়। মন্দিরটি দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। নরসিংহ দেবের মূর্তি বাবা নারায়ণ দাস বাটরাকে ভারতে আনা হয়। এটা এখন হরিদ্বারের একটি মন্দিরে সংরক্ষিত করা হয়েছে।১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলে পাকিস্তানের মুসলিম জনতা মন্দিরটি ধ্বংস করেছিল[১০]

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

এটি একটি প্রাচীন মন্দির। বিশ্বাস করা হয় যে, মন্দিরটি প্রহ্লাদ মন্দিরের স্থানে অবস্থিত[২][৪]।কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে হোলিকা দহন পালন শুরু হয়েছে এখান থেকে[১০]

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালের ধ্বংসাবশেষের পর ও মন্দিরটি বিদ্যমান থাকে।২০০৬ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রী বাহা-উদ-দ্বীন যাকারিয়ার ওরসের সময় ওজু করার সুবিধা ও ২০০৮ সালে মন্দির প্রাঙ্গনে লঙ্গর (সুফিবাদ) সুবিধা তৈরি করতে নির্দেশ দেন। । কিছু এনজিও একে পাকিস্তানের সংবিধান লঙ্ঘন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।তারা এই ধারণাকে উত্থাপিত করেছিল যে, অন্য ধর্মের মন্দিরের ভিতরে একটি মুসলিম ভবন স্থাপন করা উচিত নয়। আদালত দ্বারা এর নির্মাণ বন্ধ করা হয়[১০]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Syad Muhammad Latif (১৯৬৩)। The early history of Multan। পৃষ্ঠা 3,54। Kasyapa, is believed, according to the Sanscrit texts, to have founded Kashyapa-pura (otherwise known as Multan 
  2. Gazetteer of the Multan District, 1923-24 Sir Edward Maclagan, Punjab (Pakistan)। ১৯২৬। পৃষ্ঠা 276–77। 
  3. Imperial rule in Punjab: the conquest and administration of Multan, 1818-1881 by J. Royal Roseberry। পৃষ্ঠা 243, 263। 
  4. All the year round , Volume 51। Charles Dickens। ১৮৮৩। 
  5. [১] ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৭ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে Survey & Studies for Conservation of Historical Monuments of Multan. Department of Archeology & Museums, Ministry of Culture, Government of Pakistan
  6. Muslim Saints of South Asia: The Eleventh to Fifteenth Centuries By Anna Suvorova। পৃষ্ঠা 153। 
  7. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৯ 
  8. Cunningham, 129
  9. Ajudhia Das, who was formerly Mahant of two temples at Multan named Prahlad and N'arasingpuri, was removed from his office on January 23rd, 1913, by a Panchayat appointed at a mass meeting of Hindus which was convened on that date. All India reporter, Volume 3 by D.V. Chitaley, 1923
  10. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৯ 

বাহ্যিক লিঙ্ক[সম্পাদনা]