প্রস্রবণ


প্রস্রবণ হলো এমন একটি প্রাকৃতিক বহির্গমনস্থল, যেখানে কোনো ভূগর্ভস্থ পানি ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে বেরিয়ে এসে প্রবাহিত হয়ে ভূমির উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপানি হিসেবে বয়ে যায়। এটি জলমণ্ডলের একটি উপাদান এবং জলচক্রেরও অংশ। দীর্ঘকাল ধরে মানুষের জন্য প্রস্রবণ মিঠা পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, বিশেষত শুষ্ক অঞ্চলে, যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম।
মাধ্যাকর্ষণ এবং জলস্থিতীয় চাপের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে প্রস্রবণের পানি ভূমির উপরিভাগে বেরিয়ে আসে। ভূতাপীয়ভাবে উত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ পানির উদ্গমনে সৃষ্ট প্রস্রবণকে উষ্ণ প্রস্রবণ বলা হয়। প্রস্রবণের পানির ফলন ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয় প্রায় শূন্য আয়তনিক প্রবাহ হার থেকে শুরু করে বৃহত্তম প্রস্রবণগুলোর ক্ষেত্রে ১৪,০০০ litres per second (৪৯০ ঘনফুট/সেকেন্ড)-এরও বেশি হতে পারে।[১]
গঠন
[সম্পাদনা]
ভূগর্ভস্থ পানি ভূমির উপরিভাগে বেরিয়ে এলে প্রস্রবণ সৃষ্টি হয়। সাধারণত পানির স্তর ভূমির পৃষ্ঠের ওপরে উঠে এলে অথবা ভূখণ্ডের উচ্চতা হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গেলে এমনটি ঘটে। কার্স্ট ভূপ্রকৃতি, ভূগর্ভস্থ জলাধার বা আগ্নেয়গিরির ক্রিয়ার ফলেও প্রস্রবণ সৃষ্টি হতে পারে। সমুদ্রের তলদেশেও প্রস্রবণ দেখা গেছে, যেখানে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও কম লবণাক্ত পানি সরাসরি সমুদ্রে নির্গত হয়।[২]
কার্স্ট ভূপ্রকৃতির ফলে সৃষ্ট প্রস্রবণকে কার্স্ট প্রস্রবণ বলা হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানি আন্তঃকণিক ফাঁক থেকে শুরু করে বড় গুহা পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন আকারের ফাটল ও চিড়ের নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরে প্রস্রবণ হিসেবে বেরিয়ে আসে।
প্রস্রবণের পানি ভূ-পৃষ্ঠে উঠে আসার পেছনে এমন একটি আবদ্ধ ভূগর্ভস্থ জলাধারের ভূমিকা থাকতে পারে, যার পানি পুনর্ভরণকারী অঞ্চলটি প্রস্রবণের নির্গমনস্থলের চেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। উচ্চতর উৎসের চাপে ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা ভূগর্ভস্থ পানিকে আর্তেজীয় কূপের মাধ্যমে পাওয়া যায়। নির্গমনস্থলটি ৩০০-ফুট-গভীর (৯১-মিটার) কোনো গুহা হলেও এটি সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতর পুনর্ভরণকারী অঞ্চল থেকে নিম্ন উচ্চতার মুখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসার জন্য গুহাটি নলের মতো কাজ করে।
আর্তেজীয় নয় এমন প্রস্রবণের পানি কেবল উচ্চতর স্থান থেকে মাটির মধ্য দিয়ে নিম্নতর স্থানে প্রবাহিত হয়ে প্রস্রবণ হিসেবে বেরিয়ে আসতে পারে; এখানে মাটি নিষ্কাশন নলের মতো কাজ করে। আবার কিছু প্রস্রবণ ভূগর্ভস্থ কোনো উৎসের চাপের ফলে সৃষ্টি হয়, যেখানে আগ্নেয়গিরির বা ম্যাগমার ক্রিয়া সক্রিয় থাকে। এর ফলে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে পানি বেরিয়ে আসতে পারে, যা উষ্ণ প্রস্রবণ ও গিজারের সৃষ্টি করে।
ভূগর্ভস্থ পানির ক্রিয়ায় চুনাপাথর ও ডোলোমাইটের মতো ভেদ্য শিলাস্তর ক্রমাগত দ্রবীভূত হয়ে বিস্তৃত গুহা-ব্যবস্থা সৃষ্টি করে।[৩]
প্রকারভেদ
[সম্পাদনা]
অবনমন প্রস্রবণ পললীয় উপত্যকার তলদেশ, অববাহিকা বা অত্যন্ত ভেদ্য পদার্থে গঠিত উপত্যকার মতো কোনো অবনত স্থানের সঙ্গে সংলগ্ন অবস্থায় সৃষ্টি হয়।[৪] সংযোগ প্রস্রবণ পাহাড় বা পর্বতের ঢাল বরাবর সৃষ্টি হয়। এর নিচে অ্যাকুইক্লুড বা অ্যাকুইফিউজ নামে পরিচিত অভেদ্য শিলা বা মাটির স্তর থাকায় ভূগর্ভস্থ পানি সেখানে আটকে যায়।[৪] ফাটল বা সন্ধি প্রস্রবণ সৃষ্টি হয় যখন অভেদ্য শিলাস্তরের বরাবর প্রবাহিত ভূগর্ভস্থ পানি শিলার কোনো ফাটল বা সন্ধির মুখোমুখি হয়।[৪] নলাকার প্রস্রবণ গুহায় পাওয়া বৃত্তাকার ফাটল, যেমন দ্রবণক্রিয়ায় সৃষ্ট নলাকার প্রস্রবণ, অথবা লাভা নলের গুহায় পাওয়া লাভা-নলাকার প্রস্রবণ থেকে ভূগর্ভস্থ পানি বেরিয়ে এলে সৃষ্টি হয়।[৫][৬] আর্তেজীয় প্রস্রবণ সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সর্বনিম্ন স্থানে সৃষ্টি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির চাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের চেয়ে বেশি হলে আর্তেজীয় প্রস্রবণ সৃষ্টি হয়। তখন পানির চাপ তাকে সরাসরি মাটির ভেতর থেকে উপরের দিকে ঠেলে বের করে আনে।[৭] ওয়ঙ্কি হোল হলো প্রবাল ও পলিতে আবৃত, পলিতে পূর্ণ পুরোনো নদীখাত থেকে সমুদ্রের তলদেশে মিঠা পানির নির্গমনস্থল।[৮] কার্স্ট প্রস্রবণ হলো কার্স্ট জলবিদ্যাগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভূগর্ভস্থ পানি বাইরে প্রবাহিত হয়ে বেরিয়ে আসা প্রস্রবণ।[৯] উষ্ণ প্রস্রবণ ভূতাপীয় ক্রিয়ার ফলে উত্তপ্ত হয়; এর পানির তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার গড় বায়ুর তাপমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।[১০] গিজার হলো এক ধরনের উষ্ণ প্রস্রবণ, যেখানে ভূগর্ভে আটকে থাকা অতিউত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ পানির কারণে বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে বারবার গরম পানি ও বাষ্পের উদ্গিরণ ঘটে।[৬] কার্বনেটেড প্রস্রবণ, যেমন সোডা স্প্রিংস গিজার, এমন প্রস্রবণ যা পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে প্রাকৃতিকভাবে কার্বনেটেড পানি নির্গত করে। এগুলোকে কখনও ফুটন্ত প্রস্রবণ বা বুদবুদ প্রস্রবণও বলা হয়।[১১] "গুশেট প্রস্রবণ খাড়া পাহাড়ের গাত্র থেকে প্রবাহিত হয়"[১২] হেলোক্রিন প্রস্রবণ বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে থাকে এবং ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে জলাভূমি টিকিয়ে রাখে।[১২]
প্রবাহ
[সম্পাদনা]প্রস্রবণের নির্গমন হার বা পুনরুত্থান নির্ধারিত হয় প্রস্রবণের পুনর্ভরণ অববাহিকার ওপর। পুনর্ভরণকে প্রভাবিত করে ভূগর্ভস্থ পানি যে এলাকার মধ্য থেকে সংগৃহীত হয় তার আয়তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, পানি প্রবেশের স্থানগুলোর আকার এবং প্রস্রবণের নির্গমনমুখের আকার। ভেদ্য মাটি, সিঙ্কহোল এবং ভূগর্ভে হারিয়ে যাওয়া জলপ্রবাহসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পানি ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পুরো জলধারাই যেন অদৃশ্য হয়ে যায়, কারণ তার তলদেশ দিয়ে পানি মাটির নিচে চলে যায়। গ্র্যান্ড গালফ স্টেট পার্কে এমন একটি সম্পূর্ণ জলধারা ভূগর্ভস্থ জলব্যবস্থায় হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায়। সেখান থেকে ৯ মাইল (১৪ কিলোমিটার) দূরে পানি আবার বেরিয়ে এসে ম্যামথ স্প্রিং-এর নির্গত পানির একটি অংশ গঠন করে, যা আরকানসাসে অবস্থিত। মানুষের কর্মকাণ্ডও প্রস্রবণের নির্গমনকে প্রভাবিত করতে পারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ জলাধারে পানির চাপ কমে যায় এবং প্রবাহের পরিমাণ হ্রাস পায়।[১৩]
শ্রেণিবিন্যাস
[সম্পাদনা]প্রস্রবণকে সাধারণত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: চিরপ্রবাহী প্রস্রবণ, যা সারা বছর অবিরাম প্রবাহিত হয়; অনিয়মিত প্রস্রবণ, যা বৃষ্টিপাতের পর বা নির্দিষ্ট ঋতু পরিবর্তনের সময় সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়; এবং পর্যায়িক প্রস্রবণ, যেমন গিজার, যা নিয়মিত বা অনিয়মিত বিরতিতে বাষ্প ও পানি নির্গত করে এবং উদ্গীরিত হয়।[৫]
প্রস্রবণ থেকে নির্গত পানির পরিমাণ অনুযায়ীও এগুলোকে প্রায়ই শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। বৃহত্তম প্রস্রবণগুলোকে "প্রথম মাত্রার" প্রস্রবণ বলা হয়; এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসব প্রস্রবণ প্রতি সেকেন্ডে অন্তত ২,৮০০ লিটার বা ১০০ ঘনফুট (২.৮ ঘনমিটার) পানি নির্গত করে। ফ্লোরিডায় এ ধরনের অন্তত ২৭টি প্রস্রবণ রয়েছে। মিসৌরি ও আরকানসাসের ওজার্ক অঞ্চলে এমন ১০টি প্রস্রবণ পরিচিত।[১৩][১৪] এছাড়া আইডাহোর স্নেক নদীর তীরবর্তী থাউজ্যান্ড স্প্রিংস এলাকায় আরও ১১টি রয়েছে। প্রস্রবণের প্রবাহের মাত্রার স্কেলটি নিম্নরূপ:
| Magnitude | Flow (ft3/s, gal/min, pint/min) | Flow (L/s) |
|---|---|---|
| 1st magnitude | > 100 ft3/s | 2800 L/s |
| 2nd magnitude | 10 to 100 ft3/s | 280 to 2800 L/s |
| 3rd magnitude | 1 to 10 ft3/s | 28 to 280 L/s |
| 4th magnitude | 100 US gal/min to 1 ft3/s (448 US gal/min) | 6.3 to 28 L/s |
| 5th magnitude | 10 to 100 gal/min | 0.63 to 6.3 L/s |
| 6th magnitude | 1 to 10 gal/min | 63 to 630 mL/s |
| 7th magnitude | 1 pint to 1 gal/min | 8 to 63 mL/s |
| 8th magnitude | Less than 1 pint/min | 8 mL/s |
| 0 magnitude | no flow (sites of past/historic flow) |
পানির উপাদান
[সম্পাদনা]ভূগর্ভস্থ শিলার মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় খনিজ পানিতে দ্রবীভূত হয়। পানিতে দ্রবীভূত এসব পদার্থের পরিমাণ মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ (টিডিএস) হিসেবে পরিমাপ করা হয়। যে ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়, তার বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে এই খনিজ উপাদান পানিতে স্বাদ এবং এমনকি কার্বন ডাই-অক্সাইডের বুদবুদও সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই প্রস্রবণের পানি প্রায়ই বোতলজাত করে খনিজ পানি হিসেবে বিক্রি করা হয়, যদিও এই শব্দটি প্রায়ই বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বিষয় হয়ে থাকে। খনিজ পানিতে প্রতি মিলিয়ন অংশে অন্তত ২৫০ অংশ টিডিএস থাকে। যেসব প্রস্রবণের পানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খনিজ থাকে, সেগুলোকে কখনও কখনও খনিজ প্রস্রবণ বলা হয়। বিপরীতে, এ ধরনের খনিজ উপাদানবিহীন প্রস্রবণকে কখনও কখনও 'মিষ্টি প্রস্রবণ' বলা হয়। যেসব প্রস্রবণে প্রচুর পরিমাণে দ্রবীভূত সোডিয়াম লবণ, বিশেষত সোডিয়াম কার্বনেট, থাকে, সেগুলোকে 'সোডা প্রস্রবণ' বলা হয়। অনেক খনিজ প্রস্রবণকে ঘিরে অবকাশকেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং এসব স্থান স্পা শহর হিসেবে পরিচিত। খনিজ প্রস্রবণের আরোগ্যকারী গুণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব প্রস্রবণে অবগাহন করলে পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ শরীরে শোষিত হয় বলে মনে করা হয়। কিছু প্রস্রবণের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পানীয় জলের জন্য নির্ধারিত প্রতি বিলিয়নে ১০ অংশের (পিপিবি) মান অতিক্রম করে।[১৫] এসব প্রস্রবণের পানি নদীতে গিয়ে মিশলে নদীর পানিতেও আর্সেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার ওপরে উঠতে পারে।[১৫]
প্রস্রবণের পানি সাধারণত স্বচ্ছ হয়। তবে পানিতে দ্রবীভূত খনিজের কারণে কিছু প্রস্রবণের পানি বর্ণযুক্ত হতে পারে। যেমন, প্রচুর পরিমাণে লোহা বা ট্যানিনযুক্ত পানির রং কমলাবর্ণ হতে পারে।[৩]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে প্রস্রবণের নির্গত পানি কাছের কোনো প্রধান জলধারায় পৌঁছে দেয় এমন জলপ্রবাহকে প্রস্রবণ শাখা, প্রস্রবণ খাল বা রান বলা হয়। ভূগর্ভস্থ পানি সাধারণত তার ভূগর্ভস্থ জলাধারের দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রা বজায় রাখে। ফলে গ্রীষ্মের দিনে প্রস্রবণের পানি অন্যান্য উৎসের পানির তুলনায় শীতল হতে পারে, আবার শীতকালেও তা বরফে পরিণত না হয়ে প্রবাহিত থাকতে পারে। প্রস্রবণের শীতল পানি এবং এর শাখায় কিছু নির্দিষ্ট ট্রাউট প্রজাতি টিকে থাকতে পারে, যেগুলো স্থানীয় উষ্ণ জলবায়ুতে অন্যথায় বসবাসের উপযোগী নয়।
খনিজ প্রস্রবণের ধরন
[সম্পাদনা]
সালফার প্রস্রবণের পানিতে দ্রবীভূত সালফার বা হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ বেশি থাকে। ঐতিহাসিকভাবে এগুলো বাতরোগ এবং অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগের উপসর্গ উপশমে ব্যবহৃত হয়েছে।[১৬][১৭]
ব্যবহার
[সম্পাদনা]
প্রস্রবণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পানীয় জল, গৃহস্থালির পানির সরবরাহ, সেচ, কল, নৌচলাচল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে। আধুনিককালে এগুলো মাছ ধরা, সাঁতার কাটা ও ভাসমান বিনোদনের মতো অবসর কার্যক্রম, চিকিৎসা, গবাদিপশুর জন্য পানি, মাছের পোনা উৎপাদনকেন্দ্র এবং বোতলজাত খনিজ পানি বা প্রস্রবণের পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। কিছু মানুষের মধ্যে প্রস্রবণকে ঘিরে এক ধরনের পৌরাণিক ধারণাও গড়ে উঠেছে; তারা ভুলভাবে মনে করেন, প্রস্রবণের পানি সবসময়ই পান করার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। বাস্তবে তা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। কোনো প্রস্রবণকে খনিজস্নান বা পানীয় জলের উৎস হিসেবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাবে কি না তা জানতে পানির গুণমানের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। স্পা হিসেবে পরিচালিত প্রস্রবণগুলোতে ইতিমধ্যে এ ধরনের পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
পানীয় জল
[সম্পাদনা]প্রস্রবণ থেকে প্রায়ই বোতলজাত পানি সংগ্রহ করা হয়।[২১] বোতলজাত পানির গায়ে প্রস্রবণের পানি লেখা থাকলে, সেই পানি বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রায়ই সংশ্লিষ্ট প্রস্রবণের পানির পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়।
সেচ
[সম্পাদনা]ফসলের জমিতে মাধ্যাকর্ষণনির্ভর সেচের জন্য প্রস্রবণকে পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।[২২] দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসীরা প্রস্রবণের পানি থেকে সেচের জন্য আসেকিয়া নির্মাণ করেছিল। এসব খালের মাধ্যমে পানি কৃষিজমিতে পৌঁছানো হতো। পরে স্পেনীয় ধর্মপ্রচারকেরাও এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন।[২৩][২৪]
পবিত্র প্রস্রবণ
[সম্পাদনা]
পবিত্র প্রস্রবণ বা পবিত্র কূপ হলো ভূগর্ভ থেকে উঠে আসা ছোট জলাশয়, যা কোনো না কোনো ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়। এর সঙ্গে খ্রিস্টীয়, পৌত্তলিক বা অন্যান্য ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকতে পারে।[২৫][২৬] প্রাচীন গ্রিসের লোককথা ও পৌরাণিক কাহিনিতে পবিত্র ও কিংবদন্তিবহুল প্রস্রবণের উল্লেখ ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোরিসিয়ান, পিয়েরিয়ান ও কাস্তালিয়ান প্রস্রবণ। মধ্যযুগীয় ইউরোপে পৌত্তলিক পবিত্র স্থানগুলো প্রায়ই খ্রিস্টীয়করণের মাধ্যমে পবিত্র কূপে পরিণত হয়। "পবিত্র কূপ" শব্দটি সাধারণত সীমিত আকারের যেকোনো পানি উৎসকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ হ্রদ বা নদী নয়, তবে এর মধ্যে ছোট জলাশয়, প্রাকৃতিক প্রস্রবণ এবং চুইয়ে ওঠা পানির স্থান অন্তর্ভুক্ত; স্থানীয় লোককথায় এসবের কোনো বিশেষ তাৎপর্য থাকে। এই তাৎপর্য কোনো বিশেষ নাম, সংশ্লিষ্ট কিংবদন্তি, এর পানিতে আরোগ্যকারী গুণ থাকার বিশ্বাস, কোনো অতিপ্রাকৃত রক্ষক আত্মা বা খ্রিস্টীয় সন্তের উপস্থিতির ধারণা, অথবা কূপের স্থানকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত কোনো অনুষ্ঠান বা আচারের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। খ্রিস্টীয় কিংবদন্তিগুলোতে প্রায়ই বলা হয়, কোনো সন্তের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রস্রবণের পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছিল বিশেষত কেল্টীয় খ্রিস্টধর্মের সন্তদের জীবনীসাহিত্যে এই বিষয়টি একটি পরিচিত ধারা।
উষ্ণ প্রস্রবণ
[সম্পাদনা]
উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে প্রবাহিত ভূতাপীয়ভাবে উত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ পানির তাপমাত্রা মানবদেহের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হয়। সাধারণত এর তাপমাত্রা ৪৫–৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১৩–১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর মধ্যে থাকে, তবে এর চেয়েও বেশি হতে পারে।[৬] যেসব প্রস্রবণের পানির তাপমাত্রা মানবদেহের তাপমাত্রার চেয়ে কম, কিন্তু বায়ুর তাপমাত্রার চেয়ে বেশি, সেগুলোকে কখনও কখনও উষ্ণ প্রস্রবণ বলা হয়।[২৭]
স্নান ও জলচিকিৎসা
[সম্পাদনা]হাজার হাজার বছর ধরে উষ্ণ প্রস্রবণ বা ভূতাপীয় প্রস্রবণ জলচিকিৎসা, স্নান ও শরীর-মন শিথিল করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উষ্ণ প্রস্রবণকে ঘিরে প্রচলিত লোকবিশ্বাস এবং এর কথিত চিকিৎসামূলক উপকারিতার কারণে কিছু প্রস্রবণ পর্যটনকেন্দ্র এবং শারীরিক পুনর্বাসনকেন্দ্রের অবস্থানে পরিণত হয়েছে।[২৮][২৯]

ভূতাপীয় শক্তি
[সম্পাদনা]হাজার হাজার বছর ধরে উষ্ণ প্রস্রবণ তাপের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিংশ শতাব্দীতে এগুলো ঘরবাড়ি ও ভবন উত্তপ্ত করার জন্য নবায়নযোগ্য ভূতাপীয় শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।[২৮] বেপ্পু, জাপানে ২,২১৭টি উষ্ণ প্রস্রবণের কূপমুখ রয়েছে, যেগুলো শহরটিতে গরম পানি সরবরাহ করে।[৩০] উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে প্রাপ্ত তাপ টেকসই শক্তির উৎস হিসেবে গ্রিনহাউসে চাষাবাদ এবং ফসল ও ফুল উৎপাদনের কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে।[৩১]
পরিভাষা
[সম্পাদনা]সাংস্কৃতিক উপস্থাপন
[সম্পাদনা]ইতিহাসজুড়ে শিল্প, পুরাণ ও লোককথায় প্রস্রবণের সাংস্কৃতিক উপস্থাপন দেখা যায়। যৌবনের ঝরনা একটি পৌরাণিক প্রস্রবণ, যার পানি পান করলে যে কারও যৌবন ফিরে আসে বলে কথিত ছিল।[৩৩] দাবি করা হয়, প্রস্রবণটি সেন্ট অগাস্টিন, ফ্লোরিডায় অবস্থিত এবং হুয়ান পন্সে দে লেওন ১৫১৩ সালে এটি আবিষ্কার করেন। তবে এর পানি যৌবন ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা রাখে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অধিকাংশ ইতিহাসবিদ পন্সে দে লেওনের এই আবিষ্কারের দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।[৩৪][৩৫]
পিথিয়া, যিনি ডেলফির ওরাকল নামেও পরিচিত, ছিলেন অ্যাপোলোর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। তিনি দেবতার আবেশে উন্মত্ত অবস্থায় ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। বলা হতো, পাথরের ফাটল থেকে উঠে আসা বাষ্পের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হতো। ধারণা করা হয়, ওই বাষ্প ডেলফির কের্না প্রস্রবণ থেকে নির্গত হতো।[৩৬][৩৭]
নার্সিসাসের গ্রিক পুরাণে এক যুবকের কথা বলা হয়েছে, যে একটি প্রস্রবণের স্থির পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে তার প্রেমে পড়ে যায়। নার্সিসাস এমন একটি "স্বচ্ছ প্রস্রবণে" নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকত, যার চকচকে পানিতে রুপালি আভা ছিল এবং পাহাড়ে চরে বেড়ানো কোনো রাখাল, ছাগী বা অন্য কোনো গবাদিপশু সেই পানিকে স্পর্শ করেনি; কোনো পাখি, পশু বা গাছ থেকে ঝরে পড়া ডালও তার পানিকে বিচলিত করেনি। (ওভিড)[৩৮]
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের মার্কিন আলোকচিত্রী জেমস রিউয়েল স্মিথ নিউ ইয়র্ক সিটির ঐতিহাসিক প্রস্রবণগুলোর একটি বিস্তৃত আলোকচিত্র-সংকলন তৈরি করেন। পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর শহর কর্তৃপক্ষ এসব প্রস্রবণের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার আগে তিনি সেগুলোর ছবি তোলেন।[৩৯] পরে স্মিথ ইউরোপের প্রস্রবণগুলোরও আলোকচিত্র তোলেন এবং ১৯২২ সালে Springs and Wells in Greek and Roman Literature, Their Legends and Locations বইটি প্রকাশ করেন।[৪০] ১৯ শতকের জাপানি শিল্পী উতাগাওয়া হিরোশিগে ও উতাগাওয়া তয়োকুনি তৃতীয় ১৮৫৪ সালে দুই শিল্পীর সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ ভ্রমণ (সোহিৎসু শিচিতো মেগুরি) নামে কাঠখোদাই মুদ্রণের একটি ধারাবাহিক চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন।[৪১]
চীনের শানদং প্রদেশের শহর চিনানকে "প্রস্রবণের শহর" (চীনা: 泉城) বলা হয়। শহরটির কেন্দ্রজুড়ে ৭২টি প্রস্রবণ এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র প্রস্রবণমুখ ছড়িয়ে রয়েছে।[৪২][৪৩]
- জন উইলিয়াম ওয়াটারহাউসের ইকো ও নার্সিসাস, ১৯০৩
- লুকাস ক্রানাখের যৌবনের প্রস্রবণ, ১৫৪৬
- ১৮৫৪ সালে উতাগাওয়া তয়োকুনি তৃতীয় ও উতাগাওয়া হিরোশিগে নির্মিত দুই শিল্পীর সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ ভ্রমণ ধারাবাহিকের সোকোকুরা
- ডেলফির ওরাকল, লাল-চিত্রশৈলীর কাইলিক্স, কোদ্রোস চিত্রকরের অঙ্কন, যেখানে পিথিয়াকে একটি পাত্রসহ দেখানো হয়েছে; ধারণা করা হয়, পাত্রটিতে প্রস্রবণের পানি ছিল, খ্রিস্টপূর্ব ৪৪০–৪৩০
- জেমস রিউয়েল স্মিথের নিউ ইয়র্ক নগরীর পশ্চিম ১৭৫তম সড়ক ও আমস্টারডাম অ্যাভিনিউয়ের কারমেন প্রস্রবণে এক নারী পানি পান করছেন, আনুমানিক ১৮৯৭–১৯০২
- বেলকাইস প্রস্রবণ উদ্যান, চারাম, ইরান; এটি একটি ফারসি উদ্যান, যার ভেতরের সব জলাধার ও জলপ্রবাহের উৎস প্রস্রবণ।

আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Te Waikoropupū Springs"। New Zealand Department of Conservation। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
- ↑ "Springs and the Water Cycle"। www.usgs.gov। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 "Springs - The Water Cycle, from USGS Water-Science School"। ga.water.usgs.gov। ৯ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 3 "Well Design and Spring Development"। National Engineering Handbook। জানুয়ারি ২০১০। ২১ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 3 4 Bryan, Kirk (নভেম্বর ১৯১৯)। "Classification of Springs"। The Journal of Geology। ২৭ (7): ৫২২–৫৬১। বিবকোড:1919JG.....27..522B। ডিওআই:10.1086/622677। জেস্টোর 30058415। এস২সিআইডি 129936821। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 3 4 Poehls, D.J.; Smith, Gregory J. (২০১১)। Encyclopedic Dictionary of Hydrogeology। Elsevier Science। আইএসবিএন ৯৭৮০০৮০৯২৫২৭১। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Westbrook, Cherie J. (২০১৭)। "Heads Above Water: The Inside Story of the Edwards Aquifer Recovery Implementation Program by Robert L. Gulley"। Great Plains Research। ২৭ (2): ১৪৩। ডিওআই:10.1353/gpr.2017.0022। আইএসএসএন 2334-2463। এস২সিআইডি 133972692।
- ↑ Horstman, Mark (১৮ মে ২০০৬)। "Wonky Holes"। Catalyst transcript। Australian Broadcasting Corporation। ১৯ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ Whittow, John (১৯৮৪)। Dictionary of Physical Geography। London: Penguin। পৃ. ২৯১। আইএসবিএন ০-১৪-০৫১০৯৪-X।
- ↑ "Spring | water"। Britannica। ২৫ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Cinta Pinzaru, Simona; Ardeleanu, Mircea; Brezestean, Ioana; Nekvapil, Fran; Venter, Monica M. (২০১৯)। "Biogeochemical specificity of adjacent natural carbonated spring waters from Swiss Alps promptly revealed by SERS and Raman technology"। Analytical Methods; Royal Society of Chemistry। ১১ (6)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 3 "Springs of New Jersey" (পিডিএফ)।
- 1 2 "USGS Surface-Water Data for Missouri"। waterdata.usgs.gov। ৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১১।
- ↑ Vineyard and Fender, 1982. p. 12
- 1 2 Li, Chaoliu; Kang, Shichang; Chen, Pengfei; Zhang, Qianggong; Mi, Jue; Gao, Shaopeng; Sillanpää, Mika (২০১৪)। "Geothermal spring causes arsenic contamination in river waters of the southern Tibetan Plateau, China"। Environmental Earth Sciences। ৭১ (9): ৪১৪৩–৪১৪৮। বিবকোড:2014EES....71.4143L। ডিওআই:10.1007/s12665-013-2804-2। এস২সিআইডি 128479153।
- ↑ Pearl, Richard Howard; Ringrose, Charles D.; Zacharakis, Ted G. (১৯৮২)। "Geothermal Resource Assessment of Hot Sulphur Springs, Colorado"। Colorado Geological Survey। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Gemici, Burcu; Wallace, John L.। "Encyclopedia of Inland Waters"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Zakrajsek, John R. (২০০৬)। Identifying Systematic Behaviors in Borax Lake Geothermal Springs, Southeast Oregon। University of Idaho। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Bischoff, Matt C. (২০১৮)। Touring California and Nevada hot springs। Guilford, Connecticut: Falcon Guides। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৯৩০২৯১১২। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Leonard, Robert B.; Janzer, Victor J. (জুলাই–আগস্ট ১৯৭৮)। "Natural radioactivity in geothermal waters, Alhambra Hot Springs and nearby areas, Jefferson County, Montana" (পিডিএফ)। Journal of Research of the U.S. Geological Survey। ৬ (4)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Royte, Elizabeth (২০১১)। Bottlemania: Big Business, Local Springs, and the Battle Over America's Drinking Water। Bloomsbury Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮-১৫৯৬৯১৩৭২১। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Clement, Christopher Ohm; Moseley, Michael E. (১৯৯১)। "The Spring-Fed Irrigation System of Carrizal, Peru: A Case Study of the Hypothesis of Agrarian Collapse"। Journal of Field Archaeology। ১৮ (4): ৪২৫–৪৪৩। ডিওআই:10.1179/009346991791549059।
- ↑ "Acequias and River Systems"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Romero, Simon (১৩ জুলাই ২০২১)। "Drought Hits the Southwest, and New Mexico's Canals Run Dry"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Ray, Celeste (২০১১)। "The Sacred and the Body Politic at Ireland's Holy Wells"। International Social Science Journal। ৬২ (205/206): ২৭১–৮৫। ডিওআই:10.1111/issj.12000।
- ↑ Byrne, Garreth (২০০২)। "Holy Wells in Britain and Ireland"। Contemporary Review। ২৮০ (1636): ২৯৫ – EBSCOhost এর মাধ্যমে।
- ↑ Pentecost, Allan; Jones, B.; Renault, R.W. (২০০৩)। "What is a hot spring?"। Canadian Journal of Earth Sciences। ৪০ (11): ১৪৪৩–১৪৪৬। বিবকোড:2003CaJES..40.1443P। ডিওআই:10.1139/e03-083। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 van Tubergen, A (১ মার্চ ২০০২)। "A brief history of spa therapy"। Annals of the Rheumatic Diseases। ৬১ (3): ২৭৩–২৭৫। ডিওআই:10.1136/ard.61.3.273। পিএমসি 1754027। পিএমআইডি 11830439।
- ↑ "A History of Geothermal Energy in America"। U.S. Department of Energy Efficiency and Renewable Energy। ২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ Holtz, Michael (৯ মার্চ ২০১৮)। "Japan builds a head of steam for an alternative to nuclear"। Christian Science Monitor। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "Case Studies in Hot Spring Use for Sustainable Energy" (পিডিএফ)। Oita Prefectural Government। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 3 4 "Springs characteristics"।
- ↑ Sowers, Lloyd (২৫ অক্টোবর ২০২১)। "Water from St. Pete's famed Fountain of Youth contained high levels of lithium"। FOX 13 News (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Connolly, Patrick (৫ নভেম্বর ২০২০)। "St. Augustine Fountain of Youth may be Florida's oldest attraction"। orlandosentinel.com। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Shaer, Matthew (জুন ২০১৩)। "Ponce De Leon Never Searched for the Fountain of Youth"। Smithsonian Magazine (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Broad, William J. (১৯ মার্চ ২০০২)। "For Delphic Oracle, Fumes and Visions"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Hale, John R.; de Boer, Jelle Zeilinga; Chanton, Jeffrey P.; Spiller, Henry A. (আগস্ট ২০০৩)। "Questioning the Delphic Oracle"। Scientific American। ২৮৯ (2): ৬৬–৭৩। বিবকোড:2003SciAm.289b..66H। ডিওআই:10.1038/scientificamerican0803-66। জেস্টোর 26060404। পিএমআইডি 12884540। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Nelson, Max (এপ্রিল–মে ২০০০)। "Narcissus: Myth and Magic"। The Classical Journal। ৯৫ (4): ৩৬৩–৩৮৯। জেস্টোর 3298150। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "James Reuel Smith springs and wells photograph collection 1893–1902 – Brooklyn collection"। New York Historical Society digital collection। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Smith, James Reuel (১৯২২)। Springs and Wells in Greek and Roman Literature। New York and London: G.P. Putnam's Sons। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "Sokokura, from the series Two Artists Tour the Seven Hot Springs (Sōhitsu shichitō meguri)"। Fine Arts Museum of San Francisco। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ "Overview - Jinan, a City of Springs"। english.jinan.gov.cn। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২২।
- ↑ "Jinan: a City of Springs"। The World of Chinese (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২২।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- LaMoreaux, Philip E.; Tanner, Judy T, সম্পাদকগণ (২০০১), Springs and bottled water of the world: Ancient history, source, occurrence, quality and use, Berlin, Heidelberg, New York: Springer-Verlag, আইএসবিএন ৩-৫৪০-৬১৮৪১-৪
- মিসৌরির প্রস্রবণসমূহ, ভিনইয়ার্ড ও ফেডার, মিসৌরি প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ, ভূতত্ত্ব ও ভূমি জরিপ শাখা; যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও মিসৌরি সংরক্ষণ বিভাগের সহযোগিতায়, ১৯৮২
- কোহেন, স্ট্যান (১৯৮১ সালের সংশোধিত সংস্করণ), ভার্জিনিয়াসমূহের প্রস্রবণ: একটি চিত্রভিত্তিক ইতিহাস, চার্লসটন, পশ্চিম ভার্জিনিয়া: কোয়ারিয়ার প্রেস।