প্রমাণ সময়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সময় অঞ্চল

স্ট্যান্ডার্ড টাইম বা প্রমাণ সময় হল স্থানীয় গড় সময় প্রতিষ্ঠার একটি পদ্ধতি যাতে সৌর সময় বা স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত মধ্যরেখা ব্যবহার না করে কোনও ভৌগলিক অঞ্চল বা অঞ্চলের একক সময়ের মানের সাথে সেই অঞ্চলের সমস্ত সময়মাপক যন্ত্র ও ঘড়িগুলির একত্রীকরণ। সাধারণত প্রমাণ সময়, স্থানীয় অঞ্চলের প্রায় মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে গমনকারী দ্রাঘিমারেখার গড় সময়ের সাথে সমান হয়। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ সময়ের ধারণার পত্তন হয় উনিশ শতকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং রেল ভ্রমণকে বিকশিত করার জন্য। বিশ শতকে -এর বিশ্বব্যাপী প্রয়োগ শুরু হয় এবং সেই সময় পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলকে তার মধ্যবর্তী দ্রাঘিমারেখার উপর ভিত্তি করে পৃথক পৃথক সময় অঞ্চল বা টাইম জোন -এ বিভক্ত করা হয়। বিভিন্ন সময় অঞ্চলের নির্দেশিত প্রমাণ সময় একটি আন্তর্জাতিক সময়ের সাথে ভারসাম্য রেখে সংজ্ঞায়িত করা হয়। একটি বিশেষ সময় অঞ্চলে যখন দিবালোকের সময়কাল চলে তখন অন্য একটি সময় অঞ্চলে হয়তো রাত্রিকাল অবস্থান করতে পারে।

প্রমাণ সময়ের ধারণার উৎপত্তি সময় এবং দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত করে এবং এর ফলে একটি প্রধান মধ্যরেখাকে কেন্দ্র করে বিশ্বকে পূর্ব এবং পশ্চিম গোলার্ধে বিভক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

ইতিহাসে প্রমান সময়[সম্পাদনা]

ঊনবিংধ শতকে শিল্পায়নের জোয়ারের সঙ্গে আগত পরিবাহী স্টিম ইঞ্জিন জাহাজ ও রেলগাড়ীর আসা ও যাওয়ার সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি প্রমাণ সময় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা অনিবার্য হয়ে পরে।

গ্রেট ব্রিটেন[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ রেলওয়ে ১ ডিসেম্বর ১৮৪৭ সালে প্রথম একটি সর্বসম্মত মানক সময় ব্যবস্থার প্রচলন করে করেছিল।তারা স্থানীয় গড় সময় (যা ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তিত হত) -এর পরিবর্তে গ্রিনিচ মিন টাইম (জি.এম.টি) গ্রিনিচ গড় সময়কে মান্যতা দেয়। রেলওয়ে সযজ্ঞস্থার অবদানকে সীকৃতি দিয়ে একে রেলওয়ে টাইম বা রেলওয়ে সময় হিসাবেও অভিহিত করা হয়েছিল। ১৮৫৫ সালের মধ্যে গ্রেট ব্রিটেনের বেশিরভাগ পাবলিক ঘড়িগুলি জি.এম.টি-র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

উত্তর আমেরিকা[সম্পাদনা]

অ্যালিগেনি অবজারভেটরি থেকে প্রমান সময় প্রেরণ করতে ব্যবহৃত টেলিগ্রাফিক সরঞ্জামগুলি

১৮৮৩ সাল অবধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রেলপথ নিজস্ব সময় মানক বেছে নিয়েছিল। পেনসিলভেনিয়া রেলপথ "অ্যালেগেনি টাইম" সিস্টেম ব্যবহার করত, যা পিটসবার্গের অ্যালিগেনি অবজারভেটরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যামুয়েল পিয়েরপন্ট ল্যাংলি -র উদ্ভাবিত জ্যোতির্বিদ্যার এক সময় রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যালিগেনি অবজারভেটরি প্রথমবার রেলপথ ও শহরাঞ্চলে সুনিয়ন্ত্রিত সময় বিতরণ ব্যবস্থার প্রচলন করেন, পাশাপাশি আধুনিক প্রমাণ সময় ব্যবস্থার উদ্ভাবনের কৃতিত্বও তাদের দেওয়া হয়।[১] ১৮৭০ সালের মধ্যে অ্যালেগেনি সময় পরিষেবা ২৫০০ মাইলেরও বেশি প্রসারিত হয়েছিল, যার অন্তর্ভুক্ত ৩০০ সংখ্যক টেলিগ্রাফ অফিস সময় সংকেত প্রেরণ ও গ্রহণের কাজে ব্যস্ত থাকত।[২]

তৎকালীন নিউ ইয়র্কের প্রায় সমস্ত রেলপথগুলি নিউ ইয়র্কের সময়ে চলত, এবং শিকাগো থেকে পশ্চিমে রেলপথগুলি বেশিরভাগ শিকাগোর সময় ব্যবহার করত, কিন্তু শিকাগো এবং পিটসবার্গ / বাফেলোর মধ্যে কলম্বাস টাইম-এর চলন ছিল, আবার পি.এফ.টি.ডাবলু এন্ড সি এবং এল.এস এন্ড এম.এস -এর মতো রেলপথগুলি কলম্বাস সময় মানক মেনে চলতনা। সান্তা ফে রেলরোড ও তার অন্তর্বর্তী ডেমিং, নিউ মেক্সিকো এবং টেক্সাসের পূর্ব-পশ্চিম লাইন জেফারসন সিটি (মিসৌরি)-র সময় ব্যবহার করত। মধ্য এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় রেলপথগুলি এল পাসো অবধি সান ফ্রান্সিসকোর স্থানীয় সময় মেনে চলত।উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় রেলপথে সেন্ট পল এবং ১৮৮৩ -এর সময়কালীন রেলপথের পশ্চিম প্রান্তস্থিত ওয়ালুলা জ্যাক্টের মধ্যে সাতটি সময় অঞ্চল ছিল।ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলপথে আরো চূড়ান্ত অবস্থা ছিল, -এর অন্তর্ভুক্ত ওমাহা এবং ওগডেনের মধ্যে মাত্র দুটি সময় অঞ্চল ছিল।[৩]

১৮৭০ সালে, চার্লস এফ ডাউড ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যরেখার উপর ভিত্তি করে, উত্তর আমেরিকার রেলপথের জন্য চারটি সময় অঞ্চল প্রস্তাব করেছিলেন। [৪] ১৮৭২ সালে তিনি তার প্রস্তাবটি সংশোধন করেন যেখানে গ্রিনউইচ মধ্যরেখাকে সময়ের মানক হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। স্কটিশ বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ইঞ্জিনিয়ার স্যান্ডফোর্ড ফ্লেমিং, ৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে রয়্যাল কানাডিয়ান ইনস্টিটিউটের একটি সভায় বিশ্বব্যাপী প্রমাণ সময় চালু করার প্রস্তাব করেছিলেন।[৫] ক্লিভল্যান্ড অ্যাবে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের আরও ভাল সমন্বয় সাধনের জন্য প্রমাণ সময়ের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। ১৮৭৯ সালে তিনি গ্রিনউইচ গড় সময়ের উপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রে চারটি সময় অঞ্চল নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।[৬]

সময়সূচী নির্ধারণ ও তার সমন্বিত পরিচালনার কাজে যুক্ত জেনারেল টাইম কনভেনশন নামক মার্কিন রেলপথের একটি সংস্থা (১৮৯১ সালে যার নামকরণ করা হয়েছিল আমেরিকান রেলওয়ে অ্যাসোসিয়েশন), এই প্রস্তাবের বিপক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে৷ তাদের মত অনুযায়ী, মার্কিন সরকার যদি একটি মানসম্মত সময় স্কিম গ্রহণ করে তবে এটি তাদের সদস্য রেলপথের পক্ষে অসুবিধাজনক হবে। কনভেনশন সেক্রেটারি উইলিয়াম.এফ.অ্যালেন উত্তর আমেরিকার রেলপথগুলিকে সরকারী পদক্ষেপ এড়াতে একটি পাঁচ-অঞ্চলভিত্তিক সময় মানক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।১৮৮৩ সালের ১১ ই অক্টোবর, সমস্ত রেলপথের প্রধানরা শিকাগোতে গ্র্যান্ড প্যাসিফিক হোটেলে[৭] মিলিত হন এবং অ্যালেনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অবলম্বন করতে সম্মত হন।

সদস্যরা একমত হয়েছিলেন যে, ১৮ নভেম্বর, ১৮৮৮ রবিবার, সমস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডিয়ান রেলপথগুলি পাঁচ-অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থাটি প্রতিবিম্বিত করতে ৯০ তম দ্রাঘিমারেখার ভিত্তিতে ঠিক দুপুরবেলায়, পিটসবার্গের অ্যালিগ্রেনি অবজারভেটরির প্রেরিত টেলিগ্রাফ সংকেত অনুযায়ী তাদের ঘড়িগুলি পুণঃনির্দেশিত করবে।[৮][৯][১০] বেশিরভাগ রেলপথ নির্ধারিত নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল; কেউ অক্টোবরের প্রথম দিকে আবার কেউ ২ রা ডিসেম্বর থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছিল।কানাডার সামুদ্রিক প্রদেশগুলির অন্তর্ভুক্ত নিউ ব্রান্সউইক এবং নোভা স্কটিয়া (মেইনের ঠিক পূর্ব দিকে)-র আন্তঃসঞ্চলীয় রেলপথ গ্রিনউইচের পশ্চিমে অবস্থিত ৬০ তম মধ্যরেখার ভিত্তিতে নির্দেশিত সময় গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার পরিবর্তে পূর্বাঞ্চলীয় সময়কে মান্যতা দেয়।সুতরাং ১৮৮৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / কানাডিয়ান রেলপথগুলি কেবলমাত্র চারটি সময় অঞ্চলকে মান্যতা দেয়।[৯] অ্যালিগেনি অবজারভেটরি, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল অবজারভেটরি, হার্ভার্ড কলেজ অবজারভেটরি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটি অবজারভেটরি সহ আমেরিকার প্রধান পর্যবেক্ষণকেন্দ্রগুলি মধ্যাহ্নকালে পূর্বাঞ্চলীয় সময়ের টেলিগ্রাফিক সংকেত সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছিল।[৯][১০]

প্রমাণ সময়ের ধারণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হয়নি যতক্ষননা ১৯১৮ সালে স্ট্যান্ডার্ড টাইম অ্যক্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আইনে পৃথক পৃথক সময় অঞ্চলকে তাদের প্রমাণ সময়ের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করার কথা ঘোষণা করা হয় এবং ডেলাইট সেভিং টাইম (দিবালোক সংরক্ষণ সময়) বা ডি.এস.টি -র ধারণাকেও প্রতিষ্ঠিত করা হয়। পরবর্তীকালে(১৯১৯ সালে) ডি.এস.টি-কে এই আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তা পুনরায় লাগু হয়।[১১][১২]

১৯৯৯ সালে, প্রমাণ সময়ের ধারণা "জাতীয়: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন" বিভাগে উত্তর আমেরিকা রেলওয়ের হল অফ ফেমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।[১৩]

২০০৭ সালে এক যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনের আওতায় কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইম অথবা বিশ্বব্যাপী সমন্বয়িত সময়কে প্রমাণ সময়ের ভিত্তি হিসাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং মানসম্পন্ন সময়ের ব্যাখ্যায় বাণিজ্য সচিবের (কার্যকরভাবে, জাতীয় মান ও প্রযুক্তি জাতীয় ইনস্টিটিউট) ভূমিকা এবং নৌবাহিনীর সেক্রেটারি (কার্যকরভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-পর্যবেক্ষণ)-র ভূমিকা বিবৃত করা হয়।[১৪]

নিউফাউন্ডল্যান্ডের ডোমিনিয়ন, যার রাজধানী সেন্ট জোনসের অবস্থান আটলান্টিক সময় অঞ্চল এবং গ্রিনল্যান্ড সময় অঞ্চলের মাঝামাঝি সেখানে নিউফাউন্ডল্যান্ড সময় অঞ্চল নামের একটি পৃথক সময় অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে [কখন?] যার গ্রীনিচ মিন টাইম (গ্রীনিচ প্রামাণ্য সময়) বা জি.এম.টি -৩: ৩০ -এ সেট করা থাকবে।

নেদারল্যান্ডস[সম্পাদনা]

নেদারল্যান্ডসে রেলপথ নির্মাণের সাথে সাথে একটি প্রামাণ্য সময়কে মান্যতা দেওয়া জরুরি হয়ে পরে। ১ মে ১৯০৯ সালে আমস্টারডাম সময় বা ডাচ সময় চালু হয়। তার আগে বিভিন্ন শহরে পৃথক পৃথক সময়কে মান্যতা দেওয়া হত।দেশের পূর্বপ্রান্তের সময় পশ্চিমের তুলনায় কয়েক মিনিট এগিয়ে ছিল। ১৯০৯ সালে আমস্টারডামের স্থানীয় সময়; বিশেষত আমস্টারডামে স্থিত ওয়েস্টার টাওয়ারের সময়কে জাতীয় সময় হিসাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।১৭ মার্চ ১৯৩৭ অবধি এই সময়কে জি.এম.টি : +০ঘ: ১৯মি: ৩২.১৩সে: হিসাবে চিহ্নিত করা হত।পরবর্তীকালে এর সরলীকরণ করে জি.এম.টি: +০ঘ: ২০মি: করা হয়। একে লোনেন সময় বা গরিঞ্চেম সময়ও বলা হত, কারণ এটি লোনেন এবং গোরিনচেম উভয়েরই সঠিক সময় নির্দেশ করত। আমস্টারডামে যখন মধ্যাহ্ন, তখন লন্ডনের ও বার্লিনের সময় যথাক্রমে ১১:৪০ এবং ১২:৪০।

১৬ মে ১৯৪৬ সালে নেদারল্যান্ডসের প্রামাণ্য আঞ্চলিক সময় মধ্য ইউরোপীয় সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়।জার্মান দখলদাররা আঞ্চলিক সময়কে এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। ১৯৪১ এবং ১৯৪২ সালের গ্রীষ্ম এবং শীতকাল জুড়ে এই ব্যবস্থা চালু ছিল।১৯৪২ সালের নভেম্বরেই শীতের জন্য একটি আলাদা সময় চালু হয়েছিল এবং আঞ্চলিক সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যবস্থা ৩ বছর স্থায়ী ছিল। ১৯৪৫ সালে নেদারল্যান্ডসের স্বাধীনতার পর সামার টাইম বা গ্রীষ্মকালীন পৃথক সময় মাপার প্রক্রিয়াটি ত্যাগ করা হয় যা পরবর্তী ৩০ বছর অবধি বাতিল অবস্থায় পরে থাকে। সুতরাং সেই বছরগুলিতে নেদারল্যান্ডসের আঞ্চলিক সময় আমস্টারডাম মূল সময়ের চেয়ে ৪০ মিনিট এগিয়ে ছিল। ২০১৭ সালের হিসাবে, নেদারল্যান্ডস-এর সময় মধ্য ইউরোপীয় সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ(শীতের সময় জি.এম.টি:+১ , গ্রীষ্মকালে জি.এম.টি:+২ যা আমস্টারডামের সময় থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে পৃথক)।

নিউজীল্যান্ড[সম্পাদনা]

নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ যে ১৮৬৮ সালে দেশব্যাপী এক নির্দিষ্ট প্রমাণ সময় প্রতিষ্ঠা করে।[১৫]

নিউজিল্যান্ডের দুটি প্রধান দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে যোগাযোগকারী একটি টেলিগ্রাফ কেবল "নিউজিল্যান্ড সময়" প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিল।১৮৬৮ সালে নিউজীল্যান্ডের টেলিগ্রাফ সংস্থা তাদের বিভিন্ন দপ্তর খোলা ও বন্ধ করার সময় নির্দেশিত করার সুবিধার্থে ওয়েলিংটন-এর আঞ্চলিক সময়-কে প্রামাণ্য সময় হিসাবে স্বীকার করে। নিউজীল্যান্ডের ডাক পরিষেবাও এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু একটি সরকার সংস্থা তাদের এই ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।তাদের প্রতিবাদের ফলস্বরূপ নিউজীল্যান্ডের সরকার দেশব্যাপী একটি প্রমাণ সময় প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগী হয়।

নিউজীল্যান্ডের ভূতাত্বিক সমীক্ষা সংস্থার পরিচালক জেমস হেক্টর ১৭২° ৩০' স্থিত দ্রাঘিমারেখাকে মানক ধরে নিউজীল্যান্ড টাইম -এর পত্তন করার প্রস্তাব দেন। এই হিসাবটি দেশের গড় দ্রাঘিমাংশ-কে বিচার করে করা হয়েছিল যা গ্রিনিচ গড় সময়ের ১১  ঘণ্টা এগিয়ে ।১৮৬৮ সালের ২ নভেম্বর থেকে এই ব্যবস্থা চালু হয়।

পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওয়েলিংটনের কলোনিয়াল টাইম সার্ভিস অবজারভেটরি প্রতিদিন সকালে সঠিক সময় নির্ধারণ করে চলে, যা প্রতিদিন সকাল ৯ টায় মর্স কোডের মাধ্যমে সারা দেশের ডাকঘর এবং রেল স্টেশনগুলিতে প্রেরণ করা হত। ১৯২০ সালে, রেডিও সংকেত-এর সম্প্রচার শুরু হওয়ার সাথে আরো সঠিকভাবে দেশব্যাপী প্রমাণ সময়ের নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Walcott, Charles Doolittle (এপ্রিল ১৯১২)। Biographical Memoir of Samuel Pierpont Langley, 1834-1906National Academy of Sciences। পৃষ্ঠা 248। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩ 
  2. Butowsky, Harry (১৯৮৯)। "Allegheny Observatory"। Astronomy and AstrophysicsNational Park Service। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩ 
  3. October 1883 Travelers Official Guide
  4. Charles F. Dowd, A.M., Ph.D.; a narrative of his services ..., ed. Charles North Dowd, (New York: Knickerbocker Press, 1930)
  5. "Sir Sandford Fleming 1827–1915" (PDF)। Ontario Heritage Foundation। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  6. Edmund P. Willis & William H. Hooke (১১ মে ২০০৯)। "Cleveland Abbe and American Meteorology: 1871-1901"American Meteorological Society। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০১১ 
  7. "Standard time system plaque"Flickr - Photo Sharing! 
  8. Parkinson, J. Robert (ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০০৪)। "When it comes to time zones in the United States, it's all business"Milwaukee Journal Sentinel। জুলাই ২৫, ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩ 
  9. W. F. Allen, "History of the movement by which the adoption of standard time was consummated", Proceedings of the American Metrological Society [not Meteorological] 4 (1884) 25–50, Appendix 50–89. Hathi Trust Digital Library.
  10. Michael O'Malley, Keeping Watch: A History of American Time (NY 1990) chapter three
  11. "Time Zones of the United States"। US Department of the Interior। জানুয়ারি ২৭, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১১ 
  12. Congressional Research Service. (2007). "Daylight Saving Time". (Report RS22284)). Originally published by wikileaks.
  13. North America Railway Hall of Fame: Inductee - Standard Time | Standard Time inducted into North America Railway Hall of Fame, 1999
  14. 21st Century Competitiveness Act of 2007, Section 3013. H.R. 2272: 110th CONGRESS House Bills, January 4, 2007.
  15. Phillips, Jock। "Te Ara Encyclopedia of New Zealand - Timekeeping"www.teara.govt.nz (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৮ 

অতিরিক্ত তথ্য[সম্পাদনা]