প্রথম চেচেন যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
প্রথম চেচেন যুদ্ধ
মূল যুদ্ধ: রুশ–চেচেন সংঘর্ষ
Evstafiev-helicopter-shot-down.jpg
১৯৯৪ সালে রাজধানী গ্রোজনিতে চেচেন যোদ্ধাদের দ্বারা ভূপাতিত একটি রুশ মিল এমআই-৮ হেলিকপ্টার
তারিখ ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৪ – ৩১ আগস্ট ১৯৯৬
অবস্থান চেচনিয়া এবং ইঙ্গুশেতিয়া, স্তাভ্রোপোল অঞ্চলদাগেস্তানের অংশবিশেষ, রাসিয়া
ফলাফল

চেচেন বিজয়

বিবদমান পক্ষ
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র ইচকেরিয়া চেচেন প্রজাতন্ত্র
আরব মুজাহিদিন[১][২][৩][৪][৫]
রাশিয়া রাশিয়া
নেতৃত্ব প্রদানকারী
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র জওহর দুদায়েভ 
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র জেলিমখান ইয়ান্দারবিয়েভ
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র আসলান মাসখাদভ
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র শামিল বাসায়েভ
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র তুরপাল-আলী আতগেরিয়েভ
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র রুসলান গেলায়েভ
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র আখমেদ জাকায়েভ
ফাথি আল-জর্দানি

রাশিয়া বোরিস ইয়েলৎসিন
রাশিয়া পাভেল গ্রাচেভ

চেচনিয়ায় ফেডারেল বাহিনীসমূহের সংযুক্ত গ্রুপের অধিনায়কগণ:
রাশিয়া আলেক্সেই মিতিউখিন
রাশিয়া আনাতোলি কুলিকভ
রাশিয়া আনাতোলি স্কুর্কো
রাশিয়া ভিয়াচেস্লাভ তিখোমিরভ
রাশিয়া ভ্লাদিমির শামানভ[৬]
শক্তিমত্তা
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র ৬,০০০ (চেচেনদের দাবি অনুযায়ী)
২০,০০০–৪০,০০০ (রুশদের দাবি অনুযায়ী)
৫০০–৭০০[৭]
রাশিয়া ৩৮,০০০ (ডিসেম্বর ১৯৯৪)
৭০,৫০০ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ইচকেরিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্র ৩,০০০ যোদ্ধা নিহত অথবা নিখোঁজ (চেচেনদের দাবি অনুযায়ী)
১৭,৩৯১ যোদ্ধা নিহত অথবা নিখোঁজ (রুশদের দাবি অনুযায়ী)
রাশিয়া ৫,৭৩২ সৈন্য নিহত অথবা নিখোঁজ (রুশ সরকারি তথ্যানুযায়ী)
১৪,০০০ সৈন্য নিহত অথবা নিখোঁজ (সিএসএমআর-এর হিসাব অনুযায়ী)
১৭,৮৯২[৮]–৫২,০০০[৯] সৈন্য আহত
১,৯০৬[১০]–৩,০০০[১১] সৈন্য নিখোঁজ
৩০,০০০–৪০,০০০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত (আরএফএসএসএস-এর তথ্যানুযায়ী)[১২]
৮০,০০০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত (মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী)[১৩]
চেচনিয়ার বাইরে কমপক্ষে ১৬১ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত[১৪]
৫,০০,০০০+ বেসামরিক ব্যক্তি উদ্বাস্তু[১৫]

প্রথম চেচেন যুদ্ধ, যা চেচনিয়ার যুদ্ধ নামেও পরিচিত, ছিল ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইচকেরিয়া চেচেন প্রজাতন্ত্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি যুদ্ধ। ১৯৯৪–১৯৯৫ সালের প্রাথমিক অভিযানে রুশ সৈন্যরা চেচনিয়ার পার্বত্য অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রচেষ্টা চালায়, কিন্তু প্রচুর লোকবল, অস্ত্রশস্ত্র ও বিমান সমর্থন থাকা সত্ত্বেও চেচেন গেরিলা যোদ্ধারা রুশদের কোণঠাসা করে ফেলে। রুশ সৈন্যদের মনোবলের অভাব, রুশ জনমতের তীব্র বিরোধিতা এবং গ্রোজনির যুদ্ধে রুশদের পরাজয়ের ফলে বোরিস ইয়েলৎসিনের সরকার ১৯৯৬ সালে চেচেনদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তী বছর তাদের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে।

পটভূমি[সম্পাদনা]

রুশ সাম্রাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে চেচনিয়া[সম্পাদনা]

১৮১৭ থেকে ১৮৬৪ সালে ককেশীয় যুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধ মোকাবেলা করার পর ১৮৭০-এর দশকে রুশ সৈন্যরা চেচেনদের পরাজিত করে এবং তাদের ভূমি দখল করে নেয়। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর চেচেনদের স্বাধীনতা লাভের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং ১৯২২ সালে চেচনিয়া রুশ সোভিয়েত যুক্তরাষ্ট্রীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসোভিয়েত ইউনিয়নের অংশে পরিণত হয়। ১৯৩৬ সালে সোভিয়েত নেতা ইওসিফ স্তালিন চেচেন-ইঙ্গুশ স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৪ সালে এনকেভিডির প্রধান ল্যাভ্রেন্তি বেরিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচ লক্ষাধিক চেচেন, ইঙ্গুশ ও উত্তর ককেশাসের অন্যান্য জাতির লোকেদের তাদের মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং সাইবেরিয়ামধ্য এশিয়ায় নির্বাসিত করা হয়। সোভিয়েত সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগ্রাসী জার্মান বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার শাস্তিস্বরূপ চেচেনদেরকে নির্বাসিত করা হয়েছিল[১৬]। ১৯৪৪ সালের মার্চে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ চেচেন-ইঙ্গুশ প্রজাতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটায়। পরবর্তীতে সোভিয়েত মহাসচিব নিকিতা ক্রুশ্চেভ ১৯৫৭ সালে চেচেন ও ইঙ্গুশদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরার অনুমতি প্রদান করেন এবং তাদের প্রজাতন্ত্রটির পুন:প্রতিষ্ঠা করেন।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং রুশ ফেডারেশন চুক্তি[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, কিন্তু রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য বহুলাংশে হ্রাস পায়। রুশ ফেডারেশনের অধিবাসীদের ৮০%-এর বেশিই ছিল রুশ জাতিভুক্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ জাতিগত ও ধর্মীয় পার্থক্য রাশিয়ার কিছু কিছু অঞ্চলে প্রকটভাবে বিদ্যমান ছিল, যা রাশিয়ার অখণ্ডতাকে হুমকির সম্মুখীন করেছিল। সোভিয়েত শাসনামলে রাশিয়ার ১০০টির বেশি জাতিকে বিভিন্ন মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছিল। এসব স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক এবং তাদের পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি ১৯৯০-এর দশকের প্রথমদিকে রাশিয়ায় একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। বোরিস ইয়েলৎসিন তাঁর ১৯৯০ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় এই সমস্যাটির প্রতি আলোকপাত করেন এবং সমস্যাটির সমাধানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।

এসব অঞ্চলের ক্ষমতা নির্দিষ্টকরণের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। এজন্য ইয়েলৎসিন এবং রুশ সুপ্রিম সোভিয়েতের সভাপতি রুসলান খাসবুলাতভ (যিনি নিজেই ছিলেন একজন চেচেন) রাশিয়ার ৮৮টি ফেডারেল অঞ্চলের মধ্যে ৮৬টির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে ফেডারেশন চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং তারপর ১৯৯২ সালের ৩১ মার্চ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় একটি আইন প্রণীত হয়। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন কিংবা স্বাধীনতার পরিবর্তে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং করসংক্রান্ত সুবিধা প্রদান করে অঞ্চলগুলোকে সন্তুষ্ট করা হয়। প্রাথমিকভাবে কেবল চেচনিয়াতাতারস্তান ব্যতীত রাশিয়ার অন্যান্য সকল অঞ্চলের সঙ্গে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের বসন্তকালে ইয়েলৎসিন তাতারস্তানের রাষ্ট্রপতি মিন্তিমার শামায়েভের সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রজাতন্ত্রটি বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। শেষ পর্যন্ত চেচনিয়াই ছিল একমাত্র অঞ্চল যেটির সঙ্গে রাশিয়ার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় নি। ইয়েলৎসিন কিংবা চেচেন সরকার কেউই বিষয়টি গুরুত্বসহ আলোচনা করে দেখার প্রতি মনোযোগ দেন নি, ফলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে এবং পুরোদমে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

চেচনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা[সম্পাদনা]

চেচনিয়া (লাল) এবং রুশ ফেডারেশন

এর মধ্যে ১৯৯১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত বিমানবাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল ঝোখার দুদায়েভের নেতৃত্বাধীন অল-ন্যাশনাল কংগ্রেস অফ দ্য চেচেন পিপল দলের উগ্রপন্থী সদস্যরা স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশ্যে চেচেন-ইঙ্গুশ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের সুপ্রিম সোভিয়েতের একটি অধিবেশনে আক্রমণ চালায়। আক্রমণকালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির গ্রোজনি শাখার প্রধান ভিতালি কুৎসেঙ্কো নিহত হন, ফলে চেচেন-ইঙ্গুশ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের সরকারের পতন ঘটে[১৭][১৮][১৯]। পরের মাসে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুদায়েভ বিপুল জনসমর্থন লাভ করে জয়লাভ করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সরকার সমর্থিত প্রজাতন্ত্রটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বহিষ্কার করেন। দুদায়েভ চেচনিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

১৯৯১ সালের নভেম্বরে ইয়েলৎসিন গ্রোজনিতে একদল অভ্যন্তরীণ সৈন্য প্রেরণ করেন, কিন্তু দুদায়েভের সৈন্যরা বিমানবন্দরে তাদেরকে ঘিরে ফেললে তারা প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হয়। ১৯৯২ সালের জুনে রাশিয়ার উত্তর ওসেটিয়া-আলানিয়া প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ইঙ্গুশদের সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেলে চেচেন-ইঙ্গুশ প্রজাতন্ত্রটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। নবগঠিত ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্র রুশ ফেডারেশনে যোগদান করে, অন্যদিকে চেচনিয়া ১৯৯৩ সালে ইচকেরিয়া চেচেন প্রজাতন্ত্র নামে মস্কোর নিয়ন্ত্রণ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

চেচনিয়ায় অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এবং গ্রোজনি-মস্কো দ্বন্দ্ব[সম্পাদনা]

১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গা ও বৈষম্যের কারণে হাজার হাজার অ-চেচেন জাতিভুক্ত মানুষ (প্রধানত রুশ, ইউক্রেনীয় এবং আর্মেনীয় জাতিভুক্ত) চেচনিয়া ত্যাগ করে অথবা বহিষ্কৃত হয়[২০][২১][২২]। রুশ প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা চেচনিয়া ত্যাগ করার ফলে চেচনিয়ার শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে শুরু করে। এদিকে দুদায়েভের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে চেচনিয়ায় অঘোষিত গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং স্থানে স্থানে তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ খণ্ডযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ১৯৯২ সালের মার্চে দুদায়েভের বিরোধীরা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে, কিন্তু তাদের এ প্রচেষ্টা বলপূর্বক প্রতিহত করা হয়। এক মাস পরে দুদায়েভ চেচনিয়ায় সরাসরি রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করেন এবং ১৯৯৩ সালের জুনে একটি অনাস্থা ভোট এড়ানোর জন্য চেচনিয়ার আইনসভাকে বাতিল করে দেন। ১৯৯২ সালের অক্টোবরের শেষদিকে ইঙ্গুশ-ওসেটীয় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিযুক্ত রুশ সৈন্যদের চেচনিয়ার সীমান্তে মোতায়েন করা হয়। দুদায়েভ এটিকে "চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রতি আগ্রাসন" হিসেবে চিহ্নিত করেন, চেচনিয়ায় সামরিক আইন জারি করেন এবং চেচেন সীমান্ত থেকে রুশ সৈন্য প্রত্যাহার না করা হলে সৈন্য সমাবেশ করবেন বলে হুমকি দেন। তবে রুশদের চেচনিয়া আক্রমণ থেকে বিরত রাখার জন্য তিনি রুশ বাহিনীকে ঘাঁটানো থেকে বিরত থাকেন।

১৯৯৪ সালে গ্রোজনিতে রাষ্ট্রপতির প্রাসাদের সামনে দুদায়েভের সমর্থকেরা প্রার্থনা করছেন

১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে আরেকটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর দুদায়েভের বিরোধীরা রাশিয়ার সহায়তা প্রার্থনা করে। ১৯৯৪ সালের আগস্টে উত্তর চেচনিয়ায় কেন্দ্রীভূত দুদায়েভের বিরোধী দলগুলোর একটি জোট দুদায়েভকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।

রাশিয়া দুদায়েভের বিরোধীদের গোপনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এবং সামরিক সরঞ্জাম ও ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহ করে। রাশিয়া গ্রোজনিতে সকল বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়, রুশ সীমান্তরক্ষীরা চেচনিয়ার ওপর সামরিক অবরোধ আরোপ করে এবং অচিহ্নিত রুশ বিমান চেচনিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে শুরু করে। দুদায়েভের বিরোধীরা রুশ সৈন্যদের সহযোগিতায় ১৯৯৪ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি দুদায়েভের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, কিন্তু সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সেটি ব্যর্খ হয়। ১৯৯৪ সালের ২৬–২৭ নভেম্বর তারা আরেকটি আক্রমণ চালায়, কিন্তু রুশ সমর্থন সত্ত্বেও তারা আবারও ব্যর্থ হয়। দুদায়েভের সৈন্যরা দুদায়েভের বিরোধী পক্ষে যুদ্ধরত ২০ জন রুশ সৈন্য এবং প্রায় ৫০ জন রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাকে বন্দি করতে সক্ষম হয়, যা রুশ সরকারের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়[২৩]। ২৯ নভেম্বর রুশ রাষ্ট্রপতি ইয়েলৎসিন চেচনিয়ায় যুদ্ধরত সকল দলকে অস্ত্রসংবরণ ও আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। চেচেন সরকার তাঁর নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে তিনি রুশ সেনাবাহিনীকে চেচনিয়ায় বলপূর্বক 'সাংবিধানিক শৃঙ্খলা' পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন।

১ ডিসেম্বর থেকে রুশ বাহিনী চেচনিয়ায় ব্যাপকভাবে কৌশলগত বোমাবর্ষণ আরম্ভ করে। ১৯৯৪ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদায়েভ এবং রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাভেল গ্রাচেভ আর 'বলপ্রয়োগ না করতে' সম্মত হন। কিন্তু মাত্র পাঁচদিন পরেই ১১ ডিসেম্বর রুশ সৈন্যরা চেচনিয়ায় প্রবেশ করে। রুশ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল 'চেচনিয়ায় সাংবিধানিক শৃঙ্খলা স্থাপন' এবং 'রাশিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা' করা। গ্রাচেভ দম্ভভরে ঘোষণা করেন যে, তিনি একটিমাত্র এয়ারবোর্ন রেজিমেন্টের সাহায্যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুদায়েভকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেন এবং চেচনিয়ার যুদ্ধটি হবে একটি 'সংক্ষিপ্ত ব্লিৎজক্রিগ', যেটি ২০ ডিসেম্বরের মধ্যেই সমাপ্ত হবে।

রুশ সামরিক অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে রুশ সৈন্যরা যেন রাজধানী গ্রোজনির দিকে অগ্রসর না হয় সেজন্য চেচেন নারীরা প্রার্থনা করছেন

১৯৯৪ সালের ১১ ডিসেম্বর রুশ বাহিনী গ্রোজনি অভিমুখে ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়। রুশ স্থলবাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল এডওয়ার্ড ভরোবিয়োভ মূল আক্রমণটি স্থগিত করেন এবং এরপর "নিজ জনগণের বিপক্ষে সৈন্য প্রেরণ করা একটি অপরাধ" ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করেন[২৪]। রুশ সরকার এবং সশস্ত্রবাহিনীর বহু সদস্যও একইভাবে যুদ্ধটির বিরোধিতা করেন। ইয়েলৎসিনের জাতিসত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা এমিল পেইন এবং রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস গ্রোমোভ (আফগান যুদ্ধের সম্মানিত সমরনায়ক) এই যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন ("এটি হবে একটি রক্তস্নান, আরেকটি আফগানিস্তান", গ্রোমোভ টেলিভিশনে বলেন)। জেনারেল বোরিস পোলিয়াকভও এই যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। ৮০০ জনেরও বেশি নিয়মিত সৈনিক ও কর্মকর্তা এই অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়; এদের মধ্যে ৮৩ জনকে সামরিক আদালতের সম্মুখীন করানো হয় এবং বাকিদেরকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে জেনারেল লেভ রোখলিনকে এই যুদ্ধে তাঁর কৃতিত্বের জন্য রুশ ফেডারেশনের বীর পদকে ভূষিত করা হলে তিনিও তা প্রত্যাখ্যান করেন।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চেচেন বিমানবাহিনী (এবং চেচনিয়ার বেসামরিক বিমানবহর) সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়, এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ইয়েলৎসিন কর্তৃক দুদায়েভের সশস্ত্র দলগুলোর সদস্যদের প্রতি ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে প্রায় ৫০০ চেচেন রুশ কর্তৃপক্ষের নিকট আত্মসমর্পণ করে। তবে তা সত্ত্বেও দ্রুত বিজয় লাভ ও চেচেন আত্মসমর্পণের যে স্বপ্ন ইয়েলৎসিনের মন্ত্রিসভা দেখছিল, তা ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই রুশ সৈন্যরা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছিল। তাদের প্রস্তুতি ছিল নিম্নস্তরের এবং তাদের অনেকেই তাদেরকে কেন পাঠানো হচ্ছে, এমনকি কোথায় পাঠানো হচ্ছে তাও বুঝতে পারছিল না। কিছু কিছু রুশ ইউনিট অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ অমান্য করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সৈন্যরা নিজেরাই নিজেদের সরঞ্জাম ধ্বংস করে দেয়। ইঙ্গুশেতিয়ায় বেসামরিক প্রতিবাদকারীরা রুশ বাহিনীর পশ্চিম কলামের গতিরোধ করে এবং ৩০টি সাঁজোয়া যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় ৭০ জন অনিয়মিত সৈন্য তাদের ইউনিট থেকে পালিয়ে যায়। রুশ বাহিনীর উত্তর কলাম দোলিনস্কোয়েতে চেচেনদের কঠোর প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়[২৪]। চেচনিয়ার গভীরে ৫০ জন রুশ প্যারাট্রুপারকে শত্রুব্যূহের গভীরে হেলিকপ্টারে করে নামিয়ে দেয়ার পর পরিত্যাগ করা হয় এবং তারা স্থানীয় চেচেন মিলিশিয়া বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

ইয়েলৎসিন রুশ সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রিত আচরণ করার নির্দেশ দেন, কিন্তু রুশ সৈন্যদের সেরকম প্রস্তুুতি বা প্রশিক্ষণ কোনোটাই ছিল না। বেসামরিক জনগণের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে, এর ফলে চেচেন জনসাধারণ রুশদের প্রতি অধিক বৈরীভাবাপন্ন হয়ে ওঠে। এমনকি যেসব চেচেন দুদায়েভকে পদচ্যুত করার রুশ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছিল তারাও রুশদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণে বিরূপ হয়ে ওঠে। ইয়েলৎসিন পাশ্ববর্তী প্রজাতন্ত্রগুলো (ইঙ্গুশেতিয়া, দাগেস্তান প্রভৃতি) থেকে সদ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনিয়মিত সৈন্যদের চেচনিয়ায় প্রেরণ করলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। চেচেন যোদ্ধাদের অত্যন্ত ক্ষিপ্র দলগুলোর আক্রমণে অপ্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসহীন রুশ সৈন্যরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যদিও রুশ সামরিক কমান্ড কেবল নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু রুশ সৈন্যরা প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাবে এলোমেলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে, এবং নির্বিচারে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করতে থাকে। এর ফলে চেচেন ও রুশ সাধারণ জনগণের বিপুল প্রাণহানি ঘটে[২৫]। ২৯ ডিসেম্বর পরিপূর্ণ বিজয় অর্জনের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনায় রুশ প্যারাট্রুপাররা গ্রোজনির পার্শ্ববর্তী সামরিক বিমানবন্দর দখল করে নেয় এবং খানকালার যুদ্ধ চেচেন সাঁজোয়া বহরের একটি আক্রমণ প্রতিহত করে দেয়; পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু ছিল গ্রোজনি শহর। রুশ বাহিনী গ্রোজনির দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে চেচেনরা দ্রুত গ্রোজনিতে তাদের সৈন্য সমাবেশ করে এবং প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করে।

রুশ বাহিনীর গ্রোজনি আক্রমণ[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রোজনিতে বিধ্বস্ত ও দগ্ধ রাষ্ট্রপতির প্রাসাদের নিকটে একজন চেচেন যোদ্ধা

রুশ সৈন্যরা চেচেন রাজধানী অবরোধ করার পর এক-সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের ফলে শহরটির হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ড্রেসডেনের ধ্বংসসাধনের পর গ্রোজনির আক্রমণই ছিল ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে বড় ধরনের বিমান হামলা[২৬]। ১৯৯৫ সালের নববর্ষের দিনে রুশদের প্রথম আক্রমণ শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়, ফলে রুশদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং রুশ সৈন্যদের মনোবল প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়ে। এই বিপর্যয়ে ১,০০০ থেকে ২,০০০ রুশ সৈন্য নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল প্রায় অপ্রশিক্ষিত এবং নিরুৎসাহী অনিয়মিত সৈন্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয় রুশ সেনাবাহিনীর ১৩১তম 'মাইকোপ' মোটর রাইফেল ব্রিগেড, যেটি গ্রোজনির কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের নিকটে সংঘটিত যুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়[২৪]। কিন্তু চেচেনদের হাতে প্রাথমিকভাবে পর্যুদস্ত হওয়ার পরেও এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তীব্র যুদ্ধের পর রুশরা গ্রোজনি দখল করে নিতে সক্ষম হয়। সাঁজোয়া বহরের আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর রুশ সামরিক বাহিনী বিমানবাহিনী ও গোলাবর্ষণের সাহায্যে শহরটি জয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একই সময়ে রুশরা অভিযোগ করে যে, চেচেন যোদ্ধারা শহরটির সাধারণ জনগণকে শহর ত্যাগ করতে না দিয়ে তাদেরকে 'মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করছে[২৭]। ১৯৯৫ সালের ৭ জানুয়ারি রুশ মেজর জেনারেল ভিক্তর ভরোবিয়োভ চেচেনদের মর্টার হামলায় নিহত হন, এবং চেচনিয়ায় নিহত রুশ জেনারেলদের দীর্ঘ তালিকায় তিনিই প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯ জানুয়ারি তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তীব্র সংঘর্ষের পর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও রুশ সৈন্যরা গ্রোজনির রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ (বা প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ) দখল করে নিতে সক্ষম হয় এবং চেচেনরা শহরতলি অঞ্চলে পশ্চাৎপসরণ করে। ১৯৯৫ সালের ৬ মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রোজনির যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দেয়ার আগ পর্যন্ত শহরের দক্ষিণাংশে যুদ্ধ চলেছিল।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "TURKISH VOLUNTEERS IN CHECHNYA"The Jamestown Foundation 
  2. গুগল বইয়ে The Chechens: A Handbook, পৃ. 237,
  3. গুগল বইয়ে Politics of Conflict: A Survey, পৃ. 68,
  4. গুগল বইয়ে Energy and Security in the Caucasus, পৃ. 66,
  5. "The Chechens"google.com.tr 
  6. Galeotti, Mark (২০১৪)। Russia's War in Chechnya 1994-2009। Osprey Publishing। আইএসবিএন 1782002790 
  7. "The radicalisation of the Chechen separatist movement: Myth or reality?"। The Prague Watchdog। ১৬ মে ২০০৭। আসল থেকে ২৫ জুন ২০১১-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৫ জুন ২০১১ 
  8. "The War in Chechnya"MN-Files। Mosnews.com। ২০০৭-০২-০৭। আসল থেকে মার্চ ২, ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। 
  9. Saradzhyan, Simon (২০০৫-০৩-০৯)। "Army Learned Few Lessons From Chechnya"। Moscow Times। 
  10. "The War in Chechnya"MN-Files। Mosnews.com। ২০০৭-০২-০৭। আসল থেকে মার্চ ২, ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। 
  11. Saradzhyan, Simon (২০০৫-০৩-০৯)। "Army Learned Few Lessons From Chechnya"। Moscow Times। 
  12. Cherkasov, Alexander। "Book of Numbers, Book of Losses, Book of the Final Judgment"Polit.ru। সংগৃহীত ২ জানুয়ারি ২০১৬ 
  13. "Human Rights Violations in Chechnya"আসল থেকে ২০০২-১২-২৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০১৩-১১-২৩ 
  14. 120 in Budyonnovsk, and 41 in Pervomayskoe hostage crisis
  15. First Chechnya War - 1994-1996 GlobalSecurity.org
  16. http://www.massviolence.org/the-massive-deportation-of-the-chechen-people-how-and-why
  17. Evangelista, Matthew (২০০২)। The Chechen Wars: Will Russia Go the Way of the Soviet Union?। Washington: Brookings Institution Press। পৃ: ১৮। আইএসবিএন 0-8157-2498-5 
  18. German, Tracey C. (২০০৩)। Russia's Chechen War। New York: RoutledgeCurzon। পৃ: ১৭৬। আইএসবিএন 0-415-29720-6 
  19. Gall, Carlotta; De Waal, Thomas (১৯৯৮)। Chechnya: Calamity in the Caucasus। New York: New York University Press। পৃ: ৯৬। আইএসবিএন 0-8147-2963-0। "Vitaly Kutsenko, the elderly First Secretary of the town soviet either was defenestrated or tried to clamber out to escape the crowd." 
  20. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; chain নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  21. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; kempton নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  22. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; mountains নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  23. The battle(s) of Grozny আর্কাইভ September 27, 2011, at the Wayback Machine.
  24. Gall, Carlotta; Thomas de Waal (১৯৯৮)। Chechnya: Calamity in the Caucasus। New York University Press। আইএসবিএন 0-8147-2963-0 
  25. "Cluster Munitions Use by Russian Federation Forces in Chechnya"Mennonite Central Committee 
  26. Williams, Bryan Glyn (2001).The Russo-Chechen War: A Threat to Stability in the Middle East and Eurasia?. Middle East Policy 8.1.
  27. "BBC News - EUROPE - Chechens 'using human shields'"bbc.co.uk