প্রত্যেক মান তুলাধর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তিব্বতের কোন এক অঞ্চলে প্রত্যেক মান তুলাধর, আনুমানিক ১৯৪০ এর দশক

প্রত্যেক মান তুলাধর (দেবনাগরী: प्रत्येक मान तुलाधर) (১৯২৪-১৯৯১) হলেন একজন নেপালি বণিক এবং ডাকটিকিট সংগ্রহকারী। প্রত্যেক মান তুলাধর কাঠমান্ডুর একটি বংশানুক্রমিক বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তরুণ বয়সে পারিবারিক বাণিজ্য কুঠি দেখভালের জন্য তিনি তিব্বতের লাসায় এবং সেখানেই অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন।

তিব্বতে থাকার সময় (১৯৩৯ - ১৯৬০) তিনি ভারত, নেপাল এবং তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনা করার পাশাপাশি ছবি, ডাকটিকিট ও মুদ্রা সংগ্রহের শখ গড়ে তোলেন।[১][২] এছাড়া তিনি সারা পৃথিবী ব্যাপী কলম বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের অভ্যাসও গড়ে তোলেন।[৩] সুদূর প্রত্যন্ত তিব্বত থেকে লেখা দুর্লভ চিঠির জন্য পৃথিবীব্যাপী অন্যান্য ডাকটিকিট সংগ্রহকারীদের কাছে ব্যাপক পরিচিত হন। তিব্বতের ডাকটিকিট সংবলিত এই চিঠিগুলো তৎকালের ডাকটিকিট সংগ্রহকারীদের খুশি করত এবং এই সংগ্রহগুলো পরবর্তীতে তিব্বতের ডাক ইতিহাসকে বিশেষায়িত করতে বিশাল উৎস হিসেবে কাজ করে।[৪][৫]

জীবনী[সম্পাদনা]

প্রত্যেক মান তুলাধর পিতা ত্রিরত্ন মান তুলাধর ও মা পুণ্য মায়া কংসকারের তিন সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তার দাদা হলেন বিখ্যাত নেপালি ব্যবসায়ী এবং লোকহিতৈষী ধর্ম মান তুলাধর। তার ছোট বোন তারা দেবী তুলাধর একজন সমাজকর্মী ছিলেন।

প্রত্যেক মান তুলাধর ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো তিব্বতের লাসায় যান। সেখানে তিনি ছুসিংস্যার নামক বাণিজ্য কুঠিতে পৈতৃক ব্যবসায় যোগদান করেন, যা তৎকালে তিব্বতের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ছিল। এছাড়া গিয়ান্তসেফারি এবং ভারতের লাদাখকলকাতায় বাণিজ্য কুঠির শাখা ছিল। তুলাধর নয় বছর পর নেপালে প্রত্যাবর্তন করেন এবং জগৎ শোভার (১৯৩৩ - ১৯৮১) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আবার লাসায় যান এবং ১৭ বছর তিব্বতে কাটানোর পর ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে শেষবারের মতো কাঠমান্ডুতে প্রত্যাবর্তন করেন।[১]

প্রত্যেক মান তুলাধর ঐতিহ্যবাহী লাসা নেওয়ারদের মধ্যে সর্বশেষ বণিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের চীন-ভারত যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সিকিম হয়ে ভারত ও তিব্বতের সাথে নেপালের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যায়, এবং সেই সাথে নেপাল ও তিব্বতের ঐতিহাসিক বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যায়।

নেপালে প্রত্যাগমন করে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের সেবায় মনোনিবেশ করেন। তিনি তিব্বতি লামাদের ধর্মোপদেশ স্থানীয় ভাষায় অনুবাদক হিসেবে কাজ করেন। তিনি একই সাথে বৌদ্ধ ধর্মীয় সাময়িকীর জন্য নিবন্ধ রচনা করে জীবনের বাকি সময় অতিবাহিত করেন।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Tuladhar, Sidhartha Man (3rd/4th Quarters 1999)। "Dharma Man Tuladhar and Pratek Man Tuladhar: Nepalese Traders in Tibet" (PDF)Postal Himal: Quarterly of the Nepal and Tibet Philatelic Study Circle। Nepal & Tibet Philatelic Study Circle। পৃষ্ঠা 23। সংগ্রহের তারিখ 27 June 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. Singer, Armand E. (Third Quarter 1996)। "An Undelivered Cover to Lhasa, Tibet" (PDF)Postal Himal: Quarterly of the Nepal and Tibet Philatelic Study Circle। Nepal & Tibet Philatelic Study Circle। পৃষ্ঠা 45। সংগ্রহের তারিখ 18 July 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  3. "Art Awards Give a Lift To High School Students"The Kansas City Star। Kansas City, Missouri। ৩ মার্চ ১৯৫৭। পৃষ্ঠা 90। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৪ 
  4. Warren, Alan। "Tibet Officials: A Review"The Nepal and Tibet Philatelic Study Circle। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৪ 
  5. Warren, Alan (Third Quarter 2010)। "USA First Day Cover to Tibet" (PDF)Postal Himal: Quarterly of the Nepal and Tibet Philatelic Study Circle। Nepal & Tibet Philatelic Study Circle। পৃষ্ঠা 14। সংগ্রহের তারিখ 29 June 2014  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  6. Tuladhar, Lochan Tara (২০০৭)। Dharmachari Guruma। Kathmandu: Nirvana Murti Vihara। আইএসবিএন 978-99946-2-982-4