প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, বিজয়পুরা
প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, বিজয়পুরা | |
![]() | |
| স্থাপিত | ১৮৯২ |
|---|---|
| অবস্থান | বিজয়পুরা, কর্ণাটক, ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ১৬°৪৯′৪৪″ উত্তর ৭৫°৪৪′০০″ পূর্ব / ১৬.৮২৮৮২৩২° উত্তর ৭৫.৭৩৩৩০৯১° পূর্ব |
বিজয়পুরা প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হলো ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বিজয়পুরায় অবস্থিত একটি জাদুঘর। এটি গোল গুম্বাজ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর নামেও পরিচিত। এটি ১৭ শতকের একটি সমাধিসৌধ গোল গুম্বাজের বিপরীতে নক্কার খানায় অবস্থিত। এটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের আওতাধীন। [১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রাচীন নাম বিজয়পুরীর অর্থ হলো বিজয়ের শহর। এটি বিজাপুর নামে পরিচিত ছিল ।১৪৮৯ থেকে ১৬৮৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি ছিল রাজত্বকারী আদিল শাহীদের রাজধানী। আদিল শাহী আমলে নির্মিত বেশ কয়েকটি ধর্মীয়, ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনা বিজাপুর এবং এর আশেপাশে অবস্থিত ছিল। যে ঐতিহাসিক ভবনে জাদুঘরটি রয়েছে সেটি গোল গুম্বাজ কমপ্লেক্সের অংশ যা নক্কর খানা (ট্রাম্পেট হাউস) নামে পরিচিত। এটি একটি আয়তাকার দ্বিতল কাঠামো, যা মোহাম্মদ আদিল শাহের ষষ্ঠ রাজত্বকালে অর্থাৎ ১৬৩১ সালে নির্মিত হয়েছিল।[২]
১৮৯২ সালে একটি সাধারণ সংগ্রহশালা হিসেবে জাদুঘরটি ব্রিটিশরা প্রতিষ্ঠা করে। ১৯১২ সালে এটি জেলা জাদুঘরে পরিণত হয়। ১৯১২ সালে জাদুঘরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জেলা কালেক্টরের উপর ন্যস্ত করা হয়। সেইসময় এটি বিজাপুর জাদুঘর নামে পরিচিতি পায়। ১৯৬২ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ এটিকে একটি সাইট জাদুঘরে উন্নীত করার জন্য মহীশূর রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করে।[২][৩] এটি ভারতে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীনতম সাইট জাদুঘরগুলির মধ্যে একটি। এই জাদুঘরটি আদর্শ আদিল শাহী স্থাপত্য শৈলীতে তৈরি এবং এর উঁচু প্ল্যাটফর্ম এবং বিশাল স্তম্ভের উপরে উঁচু এবং উঁচু খিলান রয়েছে।
সংগ্রহ
[সম্পাদনা]
বিজয়পুরা জাদুঘরের আটটি গ্যালারিতে ১৬১৯টি প্রত্ননিদর্শন রয়েছে।[২] এই সংগ্রহের মধ্যে বেশিরভাগই বিজয়পুরা এবং এর আশেপাশের এলাকা থেকে পাওয়া প্রত্নসামগ্রী। জাদুঘরের প্রবেশপথে বিভিন্ন আকারের ছয়টি কামান দেখতে পাওয়া যায়। প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে মুঘল ও রাজপুত শৈলীর ক্ষুদ্রাকৃতির চিত্রকর্ম, ভারতীয় ভাস্কর্য, অস্ত্রশস্ত্র, মুদ্রা, মাটির পাত্র, বিদার শিল্পকর্ম, চীনামাটির বাসন এবং বস্ত্র।[১][৪][৫]
মহাকূট স্তম্ভের শিলালিপিও সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে। ভারতীয় ভাস্কর্যের মধ্যে ৭ম ও ৮ম শতাব্দীর বীরশিলা, ঐহোল প্রাপ্ত ৮ম শতাব্দীর একটি পাথরের গণেশ, ১১শ শতাব্দীর আটটি বাহু বিশিষ্ট নটরাজ এবং ১৪শ শতাব্দীর একটি পার্শ্বনাথের মূর্তি উল্লেখযোগ্য। আলিয়া রাম রায়ের একটি পাথরের মূর্তিও উল্লেখযোগ্য দ্রষ্টব্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে।[১][৬]
এখানে আরবি, ফার্সি, কন্নড় এবং সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন লিপিতে এবং বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফিতে পাথরের শিলালিপি রয়েছে। জাদুঘরে মোট আটটি গ্যালারির মধ্যে তিনটি নিচতলায় এবং বাকিগুলি উপরের তলায়। এখানে আদিল শাহী শিল্পকর্মের একটি বিশেষ সংগ্রহ সহ এই অঞ্চলের অস্থাবর সাংস্কৃতিক নিদর্শনও রয়েছে। চমৎকার ক্যালিগ্রাফি চিত্রিত খোদাই করা স্ল্যাব, পবিত্র কুরআনের চিত্রিত পাণ্ডুলিপি, অস্ত্র, একজন রাজপরিবারের সুসজ্জিত দেহ, আদিল শাহী ছবির বর্ধিতকরণ রূপ, রাজা-রাণীদের ট্রান্স স্লাইড এবং গোল গুম্বাজের সাথে তুলনীয় বিশ্বের বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভগুলি জাদুঘরের প্রধান আকর্ষণ।[২]
জাদুঘরের সময় ও প্রবেশ মূল্য
[সম্পাদনা]বিজয়পুরা জাদুঘর প্রতিদিন শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খোলা থাকে। এই জাদুঘরটি শুক্রবার দর্শকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। জাদুঘরের সময় হলো সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীকে মাথাপিছু ৫ টাকা (১৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে) করে প্রবেশ মূল্য দিতে হয়।[২]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- রাম রায়ের পাথরের মূর্তি
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "Delve into the regal past"। Deccan Herald (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩।
- 1 2 3 4 5 "The Archaeological Site Museum, Gol Gumbaz Complex, Bijapur"। www.asidharwadcircle.in। Archaeological Survey of India, Gol Gumbaz। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০২৫।
- ↑ "Gol Gumbaz museum preserves slice of history"। The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ মে ২০১৫। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩।
- ↑ Markham, S.F.; Hargreaves, Harold (১৯৩৬)। The Museums Of India। পৃ. ১১০।
- ↑ Progress Report of the Archaeological Survey of India, Western Circle, for the year ending 31st March 1919 (পিডিএফ)। Government Central Press। ১৯২০। পৃ. ৩–৪।
- ↑ "Aliya Rama Raya, a patron of art and literature"। The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩।
