প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত
জন্ম(১৯৩৩-০৭-২৯)২৯ জুলাই ১৯৩৩
কলকাতা ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২০০৭
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত
পেশাকবি
ভাষাবাংলা
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানযাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়
সময়কাল১৯৫৬-২০০৭
উল্লেখযোগ্য পুরস্কাররবীন্দ্র পুরস্কার (২০০৬)
দাম্পত্যসঙ্গীমেরি অ্যান ব্রাউয়ার

প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত (২৯ জুলাই ১৯৩৩ – ২০০৭) ছিলেন বাংলার বিশিষ্ট বাঙালি কবি। [১]বিশ শতকের পাঁচের দশকে বাংলা কাব্য সাহিত্যে শঙ্খ ঘোষ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় বা উৎপলকুমার বসু প্রমুখেরা যেমন নিজস্ব ভাষা ও পথে যে আধুনিকতা প্রবর্তন করেন, প্রণবেন্দু দাশগুপ্তও ছিলেন তাদের একজন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে তাকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে।

জীবনী[সম্পাদনা]

প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের জন্ম ও পডাশোনা কলকাতায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে এম.এ., উত্তর ক্যারলিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. এবং মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।[২]

প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি বহু কবিতা রচনা করেছেন। স্বাধীনোত্তর সময়ে দেশের পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ভাঙনের সূচনাপর্বে তার কবিমনে যে ভাব ও বিশ্বাস ফুটে উঠেছিল সেটাই পরিস্ফুট হয়েছে তার সহজ সরল শব্দ নির্বাচনে, ছন্দ ও পঙক্তির ব্যবহারে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ -“এক ঋতু” প্রকাশিত হয় শতভিষা থেকে। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ সদর স্ট্রীটের বারান্দা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আগ্রহে কৃত্তিবাস প্রকাশনা থেকে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হওয়ার পর পাঠকমহলে আলোচিত হতে থাকে এবং তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

রচিত কাব্যগ্রন্থ[সম্পাদনা]

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে–

  • “এক ঋতু” (১৯৫৭), শতভিষা, কলকাতা;
  • “সদর স্ট্রীটের বারান্দা” (১৯৬৩), কৃত্তিবাস প্রকাশনা, কলকাতা;
  • “নিজস্ব ঘুড়ির প্রতি” (১৯৭৫), আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা;
  • “শুধু বিচ্ছিন্নতা নয়” (১৯৭৬),
  • “হাওয়া স্পর্শ করো” (১৯৭৭),
  • “মানুষের দিকে” (১৯৭৯),
  • “অন্ধ প্রাণ, জাগো” (১৯৮৪), আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা;
  • “নিঃশব্দ শিকড়” (১৯৮৬),প্রমা প্রকাশনী, কলকাতা
  • “শ্রেষ্ঠ কবিতা” (১৯৮৭), নাভানা পাবলিকেশন কলকাতা;
  • কবিতা সমগ্র (১৯৯০), প্রমা প্রকাশনী, কলকাতা;
  • “এখন গুজব নেই” (১৯৯১), প্রতিভাস প্রকাশন, কলকাতা;
  • “তিনটি কাব্যনাটিকা” (১৯৯৩),
  • বাধা পেরোনোর গান (১৯৯৪), আনন্দধারা, [২]
  • “চৈত্রে রচিত কবিতা”,
  • “পোপের সমাধি”,
  • “পুরী সিরিজ”,
  • “আবার পুরী সিরিজ”,

“লোচনদাস কারিগর” প্রভৃতি।

প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত আনন্দবাজার পত্রিকা, দ্য স্টেটসম্যান, দেশ প্রভৃতি পত্রিকার আর্ট সমালোচক ছিলেন এবং নিজেও অলিন্দ নামের এক কবিতা পত্রিকার সম্পাদনা করতেন। তিনি বিদেশিনী মার্কিন কন্যা মেরি অ্যান ব্রাউয়ারকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি স্বামীর কিছু কবিতা ইংরাজীতে অনুবাদ করেছেন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে কবি প্রণবেন্দু দাশগুপ্তকে রবীন্দ্র পুরস্কার দ্বারা সম্মানিত করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ১২৭। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9 
  2. কার্তিকচন্দ্র দত্ত, সম্পাদক (১৯৯৯)। Who’s who of Indian Writers, Vol I A-M। Sahitya Academy। পৃষ্ঠা 287। আইএসবিএন 978-81-2600-873-5