প্রজেক্ট ইউক্লিড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

প্রজেক্ট ইউক্লিড হচ্ছে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ব্যবস্থা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি এবং ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ব্যবস্থা ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস-এর একটি যৌথ অংশীদারত্ব যার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুক্ত ও সামাজিক প্রকাশনাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে তত্ত্বীয়ফলিত গণিত এবং পরিসংখ্যান বিষয়ক জ্ঞানমূলক আলোচনা বৃদ্ধি করা। জ্ঞানমূলক জার্নাল প্রকাশকারী ছোট প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে অর্থ-সাশ্রয়ী উপায়ে কাগজ থেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রূপান্তরের ক্ষেত্র সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে প্রজেক্ট ইউক্লিডের সৃষ্টি হয়।[১]

অর্থ প্রদানকারী লাইব্রেরিসমূহ এবং অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে , প্রজেক্ট ইউক্লিড এর জার্নালের ৭০ শতাংশ নিবন্ধকে ওপেন অ্যাক্সেস উপাদানে পরিণত করেছে। ২০১০ সাল নাগাদ প্রজেক্ট ইউক্লিড ওপেন-এক্সেস উপাদানের ১ লক্ষ পৃষ্ঠায় শর্তহীন অধ্যয়ন অধিকার প্রদান করে।[২]

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

তত্ত্বীয় ও ফলিত গণিত এবং পরিসংখ্যান বিষয়ক জ্ঞানমূলক আলোচনা বৃদ্ধি করাই প্রজেক্ট ইউক্লিডের উদ্দেশ্য।[৩] "মুক্ত প্রবেশাধিকার, অর্থায়ন এবং যৌথ অর্থায়নের সমন্বিত পদ্ধতিতে এটি ছোট প্রকাশনাকে( বিশেষত সামাজিক) গণিত ও পরিসংখ্যান বিষয়ে তাদের বিষয়বস্তু প্রকাশের সুযোগ করে দেয়"।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ছোট,অবাণিজ্যিক গাণিতিক জার্নাল গুলোকে কাগজ থেকে ডিজিটালে রূপ দিতে সহায়তাকারী একটি অনলাইন প্রকাশনা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ১৯৯৯ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি এন্ড্রিউ ডব্লিউ মেল্লন ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ সহায়তা লাভ করে।[৫] ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, যারা নিজেদেরই গণিত জার্নাল অনলাইনে প্রকাশ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল এবং যারা অবাণিজ্যিক গণিত জার্নাল প্রকাশে সাহায্যের ব্যাপারে একই রকম আগ্রহ প্রকাশ করে, তারা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী হিসেবে প্রথমে প্রাপ্ত অর্থ সহায়তার উত্তম ব্যবহার এবং পরে প্রজেক্ট ইউক্লিডের প্রকাশনা ব্যবস্থার রূপরেখা উন্নয়নে সাহায্য করে। ২০০৩ সালের মে মাসে ১৯ টি জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রজেক্ট ইউক্লিডের যাত্রার সূত্রপাত ঘটায়। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি এবং ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস সমন্বয়ের ব্যপারে একমত হয় এবং প্রজেক্ট ইউক্লিডের ব্যবস্থাপনা যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হতে থাকে। ডিউক ইউনিভার্সিটি প্রেস “মার্কেটিং, অর্থনীতি এবং কার্যাদেশ পূরণের কার্যপ্রবাহ”-এর দায়িত্ব নেয় এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি প্রজেক্ট ইউক্লিডের আইটি অবকাঠামোতে সাহায্য অব্যাহত রাখে।[১]

বর্তমানে, প্রজেক্ট ইউক্লিডে অ্যাওপেন ক্সেস জার্নাল ও মনোগ্রাফ(এক ধরনের গ্রন্থ) উভয়ই আছে। এছাড়াও নিরীক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত কিছু বিশেষ সংগ্রহ ও আছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ, ব্রাজিলইরান থেকে ৬০ টি শিরোনামে কতগুলো জার্নাল রয়েছে। ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী ৬৪ খণ্ড শিরোনাম, ১৬২ খণ্ড মনোগ্রাফ এবং ২৩ খণ্ড কনফারেন্স প্রসিডিংস-এর মধ্যে মোট ১১০,৪০০ টি জার্নাল নিবন্ধ রয়েছে।[৩]

২০১১ সালে প্রজেক্ট ইউক্লিডকে ২০১১ ডিভিশন পুরস্কার প্রদান করে স্পেশাল লাইব্রেরিস অ্যাসোসিয়েশন-এর পদার্থ-মহাকাশবিজ্ঞান-গণিত বিভাগ। গণিত, পদার্থ, মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ লেখা এবং এই বিষয়গুলোতে তথ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি করে এমন কর্মকাণ্ড কে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিবছর এই পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে যেসমস্ত প্রজেক্ট গ্রন্থাগারের উন্নয়ন করে সেগুলোকেও বিবেচনায় আনা হয়।[৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Crow, Raym (২০০৯)। Campus-Based Publishing Partnerships: A Guide to Critical Issues। Washington, DC: SPARC। ৩০ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  2. "Project Euclid Reaches 1 Million Pages"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. "Project Euclid"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  4. "2011 PAM Division Award"। SLA। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. Ehling, Terry; Erich Staib (ডিসেম্বর ২০০৮ – জানুয়ারি ২০০৯)। "The Coefficient Partnership: Project Euclid, Cornell University Library and Duke University Press"। Against the Grain20 (6)। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট