প্যারাকী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্যারাকী
Peraki or purukia or Karanji or Karjikai or Somas or Gujia.jpg
প্যারাকী
প্রকারপিঠাজাতীয় খাবার
উৎপত্তিস্থলভারত
অঞ্চল বা রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
পরিবেশনসাধারণ তাপমাত্রা
প্রধান উপকরণময়দা, নারকেল, ক্ষীর
ভিন্নতাপুরুকিয়া (বিহার)
চন্দ্রকলা (উত্তর প্রদেশ)
কারঞ্জী (মহারাষ্ট্র)
কারজিকাই (কর্ণাটক)
তামিল নাড়ু (সোমাস)
রন্ধনপ্রণালী: প্যারাকী  মিডিয়া: প্যারাকী

প্যারাকী বা প্যারাকি বা পেরাকি এক ধরনের ভারতীয় পিঠা, যা পুলির আকারে তৈরি ময়দার খোলের ভিতরে নারিকেল এবং ক্ষীরের পুর দিয়ে ভাজা হয়।[১] এটি চন্দ্রাকলা নামেও পরিচিত।

স্থানভেদে বিভিন্নতা[সম্পাদনা]

পূর্বে বাঙালী হেঁশেলে দু'ধরনের প্যারাকী বানানো হতো। কখনো প্যারাকীর খোলের ভিতরে খোয়া ক্ষীর আর বাদাম কিশমিশের পুর দিয়ে, আবার কখনো মাংসের কিমা, মাছ বা বাঁধাকপির পুর দিয়ে তৈরি নোনতা প্যারাকী।

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ময়দার খোলের ভিতরে নারিকেলের পুর ভরে সেটাকে ভেজে এক ধরনের সুস্বাদু মিষ্টি বানানোর প্রচলন আছে। তবে জায়গা বিশেষে এটির ভিন্ন নাম রয়েছে।

প্রায় একই খাবার গুজরাতে 'ঘুঘরা', মহারাষ্ট্রে 'কারঞ্জি', তামিলনাড়ুতে 'করাচিকা', অন্ধ্র প্রদেশ এবং কর্ণাটকে 'কারজিকায়ি' নামে পরিচিত। গোয়ানিস হিন্দুরা এই খাবার গনেশ চতুর্থিতে তৈরি করেন। সেখানে এর নাম হল 'নেভরি'। উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পুরভরা ভাজা মিষ্টি 'গুজিয়া' নামে প্রসিদ্ধ। বিহারে আবার সেই মিষ্টিরই নাম 'পুরুকিয়া'।

বিহারে মূলত দু'রকম পুরুকিয়া বানানোর চলন রয়েছে - সুজি এবং খোয়া ক্ষীরের। সুজির পুরুকিয়াতে সুজির সাথে চিনি, কাজু বাদাম, নারিকেল কোড়া, এলাচ এবং আরো বেশ কয়েক রকমের বাদাম মিশিয়ে সেটিকে ঘিয়ে ভাজা হয়। আর অন্যটায় খোয়া ক্ষীরের সাথে বাদাম আর চিনি মিশিয়ে ঘিয়ে ভেজে খোয়া পুরুকিয়া তৈরি করা হয়।

বাঙালি 'প্যারাকী'র সঙ্গে পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারের 'পুরুকিয়া'র নামের সাদৃশ্য বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়।

উপকরণ[সম্পাদনা]

  • খোল বানানোর জন্য

১) ময়দা এক কাপ

২) গলানো গাওয়া ঘি/সাদা তেল হাফ কাপ

৩) বেকিং সোডা হাফ চা চামচ

৪) এক চা চামচ ছোট এলাচের গুঁড়ো

  • পুর বানানোর জন্য

১) এক কাপ নারিকেল কোড়া

২) এক কাপ গুড়োনো খোয়া ক্ষীর

৩) এক কাপ নলেন গুড়।

পদ্ধতি[সম্পাদনা]

শুকনো ময়দাতে প্রথমে বেকিং সোডা, তারপর তেল বা ঘি এর ময়ান মিশিয়ে কম কম করে পানি দিয়ে ময়দাটা মেখে গায়ে বেশ খানিকটা তেল মাখিয়ে নিয়ে একটা ভিজে কাপড় জড়িয়ে একঘণ্টা মতো রাখতে হবে। ততক্ষণে একটা পুর বানানোর সরঞ্জাম একটা একটা পাত্রে নিয়ে আঁচ কমিয়ে পাক করতে হবে। চিট হয়ে আসলে নামিয়ে হালকা ঠাণ্ডা অবস্থায় ছোট ছোট নাড়ু করে নিতে হবে।  

এর পর ময়দার লেচি কেটে লুচির মতো বেলে নিয়ে তাতে পুলি বা মোমোর মতো করে পুর ভরে মুড়ে নিতে হবে।

একসাথে বানিয়ে নিয়ে তেল গরম করে আঁচ কমিয়ে খুব কম আছে প্যারাকি গুলো ভাজতে হবে।

প্যারাকীর পায়েস বানাতে গেলে এই সদ্য ভাজা প্যারাকী গরম ক্ষীরে ডোবাতে হবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দাস, রূম্পা (১৯ মার্চ ২০১৬)। "দোল-স্পেশ্যাল রকমারি: পেরাকি"আনন্দবাজার পত্রিকা। এবিপি গ্রুপ। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮