প্যানক্রুস্টেসিয়া
প্যানক্রুস্টেসিয়া (Pancrustacea) হলো একাধিক জলজ প্রাণীর একটি বৃহৎ গোষ্ঠী যা ক্রাস্টেসিয়া শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত। এই গোষ্ঠীটি আধুনিক জীববিজ্ঞানে একটি প্রধান উপশ্রেণী হিসেবে পরিচিত এবং এর মধ্যে অনেক প্রাণী রয়েছে যেগুলোর বৈশিষ্ট্যগত দিক অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। [১]
শ্রেণী
[সম্পাদনা]- ম্যালাকোস্ট্রাকা (Malacostraca)
- হেক্সাপোডা (Hexapoda)
এখানে ম্যালাকোস্ট্রাকা এবং হেক্সাপোডার কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ আলোচনা করা হল।
ম্যালাকোস্ট্রাকা (Malacostraca):
[সম্পাদনা]এই শ্রেণীর প্রাণীরা পৃথিবীর জলজ বাস্তুসংস্থানে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায় এবং তাদের শরীর সাধারণত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত থাকে: মাথা, ধড় এবং পেট। তাদের বহিরাগত কাঠামো শক্তিশালী শেল দিয়ে তৈরি, যা তাদের শিকারীদের থেকে রক্ষা করে। [২]
উদাহরণ:
[সম্পাদনা]- শামুক (Shrimp): শামুক ম্যালাকোস্ট্রাকার একটি প্রজাতি যা ছোট, ঝাঁঝালো শরীরের এবং প্রধানত সাগর বা নদীজলে বসবাস করে। শামুকের পেটের অংশে অনেকগুলি অংশ থাকে যা দ্রুত চলাচলের জন্য সহায়তা করে।
- কাঁকড়া (Crab): কাঁকড়া ম্যালাকোস্ট্রাকার আরেকটি উদাহরণ, যাদের সাধারণত একটি শক্ত শেল এবং শক্ত পেরিপেরাল অংশ থাকে। কাঁকড়া সাধারণত পিপঁড়ে বা সামুদ্রিক মাটিতে বাস করে।
- গলদা চিংড়ি (Prawn): এই চিংড়ি ম্যালাকোস্ট্রাকার অন্য একটি উদাহরণ, যা সামুদ্রিক এবং তাজা পানিতে পাওয়া যায়। গলদা চিংড়ির শরীরের গঠন সাধারণত শক্ত থাকে এবং এর পেটের অংশে ডানা থাকে।
- মাচল (Lobster): মাচল বা লবস্টারও এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, যা বড় এবং শক্ত শেল সহ একটি বৃহৎ সামুদ্রিক প্রাণী। এটি মৎস্যজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সরবরাহকারী।
হেক্সাপোডা (Hexapoda):
[সম্পাদনা]এই শ্রেণীতে থাকা প্রাণীদের মধ্যে ছয়টি পা থাকে, এবং তারা পৃথিবীর স্থলজ বাস্তুসংস্থানে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। হেক্সাপোডা এর মধ্যে নানা ধরনের পতঙ্গ অন্তর্ভুক্ত, যেমন মৌমাছি, তেলাপোকা, প্রজাপতি, ইত্যাদি। [২]
উদাহরণ:
[সম্পাদনা]- মৌমাছি (Bee): মৌমাছি একটি হেক্সাপোড, যাদের শরীরে তিনটি প্রধান অংশ থাকে: মাথা, স্তন এবং পেট। তারা ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে এবং মধু উৎপাদন করে, যা আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রজাপতি (Butterfly): প্রজাপতি একটি জনপ্রিয় উদাহরণ, যার শরীরে দুটি ডানা থাকে এবং সাধারণত গাছপালা বা ফুলে বসে রস শোষণ করে।
- তেলাপোকা (Cockroach): তেলাপোকা, যা মানুষের বাসস্থানে একটি অপ্রিয় প্রাণী, হেক্সাপোডা শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত এবং স্থলে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত। [৩][৪][৫]
বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]- পৃথিবীর বিভিন্ন বাস্তুসংস্থানে বিস্তৃত: প্যানক্রুস্টেসিয়া এর সদস্যরা পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি জলজ ও স্থলজ বাস্তুসংস্থানে বাস করে, বিশেষত সমুদ্র, নদী, পুকুর এবং স্যাভানা এলাকায়। [৬]
- বহিরাগত কাঠামো (Exoskeleton): প্যানক্রুস্টেসিয়া সাধারণত শক্ত শেলের মধ্যে থাকে, যা তাদের শিকারীদের থেকে রক্ষা করে। এই শেলটি কাইটিন নামে এক ধরনের প্রোটিন দ্বারা গঠিত, যা অত্যন্ত শক্তিশালী।
- এথোডোম ও কৌশলগত অভিযোজন: প্যানক্রুস্টেসিয়া প্রজাতির মধ্যে প্রতিটি প্রাণী তাদের পরিবেশে বিশেষভাবে অভিযোজিত। যেমন, কাঁকড়া গর্ত খোঁড়া এবং প্রলেপের নিচে থাকার জন্য শক্ত শেল ব্যবহার করে, আবার শামুকেরা দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে।
- ভাষা এবং আচরণ: প্যানক্রুস্টেসিয়া প্রাণীরা বেশ কিছু জটিল আচরণ প্রদর্শন করে, যেমন গলদা চিংড়ির খাদ্য সংগ্রহের কৌশল, শামুকের সহনশীল জীবনধারা, এবং কাঁকড়ার তীব্র প্রতিরক্ষা কৌশল।
প্যানক্রুস্টেসিয়া সদস্যরা প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা শিকারী প্রাণী এবং মৃত অঙ্গসহ অন্যান্য জীবাণু খেয়ে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে, যা জীবাশ্ম পদ্ধতির অংশ। অনেক প্যানক্রুস্টেসিয়া প্রজাতি মানবজাতির খাদ্যশৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষত গলদা চিংড়ি, কাঁকড়া, লবস্টার ইত্যাদি। [৭]
এছাড়া, প্যানক্রুস্টেসিয়া-এর অনেক প্রাণী জীবাশ্ম এবং প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়, যা আমাদের জলজ ও স্থলজ বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Bernot, James P; Owen, Christopher L; Wolfe, Joanna M; Meland, Kenneth; Olesen, Jørgen; Crandall, Keith A (১ আগস্ট ২০২৩)। "Major Revisions in Pancrustacean Phylogeny and Evidence of Sensitivity to Taxon Sampling"। Molecular Biology and Evolution। ৪০ (8): msad১৭৫। ডিওআই:10.1093/molbev/msad175। আইএসএসএন 1537-1719।
- 1 2 scholar.google.com। ডিওআই:10.1098/rspb.2004.2917&hl=en&sa=t&oi=ucasa&ct=ufr&ei=ru5bz5egi-i96rqpgvp5mai&scisig=afwwaezl0bb-v5m5kwo9qj8ucajr https://scholar.google.com/scholar_url?url=https://royalsocietypublishing.org/doi/pdf/10.1098/rspb.2004.2917&hl=en&sa=T&oi=ucasa&ct=ufr&ei=Ru5bZ5eGI-i96rQPgvP5mAI&scisig=AFWwaeZl0BB-v5M5Kwo9QJ8ucAJr। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ taxonomy। "Taxonomy browser (Pancrustacea)"। www.ncbi.nlm.nih.gov। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ Lozano-Fernandez, Jesus; Giacomelli, Mattia; Fleming, James F; Chen, Albert; Vinther, Jakob; Thomsen, Philip Francis; Glenner, Henrik; Palero, Ferran; Legg, David A (১ আগস্ট ২০১৯)। "Pancrustacean Evolution Illuminated by Taxon-Rich Genomic-Scale Data Sets with an Expanded Remipede Sampling"। Genome Biology and Evolution। ১১ (8): ২০৫৫–২০৭০। ডিওআই:10.1093/gbe/evz097। আইএসএসএন 1759-6653।
- ↑ Schram, Frederick R.; Koenemann, Stefan (৩১ মার্চ ২০২২)। Schram, Frederick R.; Koenemann, Stefan (সম্পাদকগণ)। Pancrustacea: Evolution of Hexapoda and Other Arthropods। Oxford University Press। পৃ. ০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩৬৫৭৬-৪।
- ↑ Regier, Jerome C.; Shultz, Jeffrey W.; Kambic, Robert E. (২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫)। "Pancrustacean phylogeny: hexapods are terrestrial crustaceans and maxillopods are not monophyletic"। Proceedings of the Royal Society B: Biological Sciences। ২৭২ (1561): ৩৯৫–৪০১। ডিওআই:10.1098/rspb.2004.2917। পিএমসি 1634985। পিএমআইডি 15734694।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পিএমসি বিন্যাস (লিঙ্ক) - ↑ "Pancrustacea"। www.gbif.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪।