বিষয়বস্তুতে চলুন

পোলীয় প্রবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Proverbiorum Polonicorum a Solomone Rysinio (সালোমন রিসিনস্কির সংকলিত পোলীয় প্রবাদসমূহ), ১৬১৮ সালের একটি পোলীয় প্রবাদ সংকলন (লাতিন ভাষায়), যা পোলীয় প্রবাদ সংগ্রহের জন্য নিবেদিত প্রথম গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত

পোলীয় প্রবাদ (পোলীয়: Przysłowia polskie) সংখ্যায় কয়েক দশ হাজারেরও বেশি বিদ্যমান;[] যার মধ্যে অনেকগুলোর উৎপত্তি মধ্যযুগে[] বর্তমানে পরিচিত সবচেয়ে প্রাচীন পোলীয় প্রবাদটির তারিখ ১৪০৭ সাল। পোলীয় প্রবাদ নিয়ে একাধিক প্রবাদবিদ্যা (প্যারেমিওলজি) বিষয়ক গবেষণা বিদ্যমান; এছাড়া ১৭শ শতক থেকে শুরু করে বহু অভিধান ও অনুরূপ গ্রন্থে পোলীয় প্রবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়েছে।[][] পোলীয় প্রবাদবিদ্যার গবেষণা ১৯শ শতকে শুরু হয়।[] এ পর্যন্ত প্রকাশিত পোলীয় প্রবাদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সংকলনটি সম্পাদনা করেন জুলিয়ান ক্রিজানোভস্কি; এটি ১৯৭০-এর দশকে প্রকাশিত হয়।[][]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বর্তমানে পরিচিত প্রাচীনতম পোলীয় প্রবাদটির তারিখ ১৪০৭ সাল। এটি লাতিনপ্রাচীন পোলীয় ভাষায় রচিত: “Quando sø lika drø, tunc ea drzi”, যার অর্থ—“যখন বাস্ট ছেঁড়া যায়, তখনই তা ছেঁড়ো।” ভাবার্থের দিক থেকে এই প্রবাদটির সঙ্গে “সূর্য থাকতে খড় শুকাও” অথবা “লোহা গরম থাকতেই আঘাত করো”—এই প্রবাদগুলোর সাদৃশ্য রয়েছে।

এই প্রাচীন পোলীয় প্রবাদটির মাধ্যমে কৃষকদের উপযুক্ত সময়ে সুযোগ গ্রহণের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হতো। বিশেষত বসন্তকালে বাস্ট সংগ্রহ করার কথা এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা শীতকালে বাস্টের জুতো, বস্ত্র এবং দড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।[][][][]

মধ্যযুগে কিছু পোলীয় প্রবাদ লাতিন ধ্রুপদি প্রবাদ থেকে অনূদিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, “Oko pańskie konia tuczy” — অর্থাৎ “মালিকের দৃষ্টি ঘোড়াকে সুপুষ্ট করে”—প্রবাদটির উৎস লাতিন উক্তি “Oculus domini saginat equum”; এবং এই লাতিন প্রবাদটির উৎপত্তি সম্ভবত আরও প্রাচীন ফার্সি প্রবাদে নিহিত। এছাড়া অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষা থেকেও বহু পোলীয় প্রবাদ গৃহীত হয়েছে।[][]

পোলীয় সাহিত্য পোলীয় প্রবাদগুলোর প্রসার ও জনপ্রিয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, “Oko pańskie konia tuczy” প্রবাদটির ব্যাপক প্রচলনের একটি কারণ হিসেবে আদাম মিৎসকেভিচ-এর মহাকাব্য প্যান থ্যাডিউস-এ এর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়।[]

বিষয়বস্তু

[সম্পাদনা]

বিশ্বের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর প্রবাদগুলোর মতোই পোলীয় প্রবাদও নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে;[] শুধু আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত পোলীয় প্রবাদই অন্তত ২,০০০টির বেশি।[] বহু প্রবাদ ভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, ধর্ম, পরিবার, দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য, প্রেম, সম্পদ এবং নারী—এ ধরনের চিরাচরিত বিষয় নিয়ে রচিত। আবার কিছু প্রবাদ—যেমন প্রাচীনতম লিপিবদ্ধ পোলীয় প্রবাদটি (যেখানে বাস্ট উৎপাদনের উল্লেখ রয়েছে) এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত প্রবাদগুলো—ব্যবহারিক উপদেশ প্রদান করে।[][১০]

পোলীয় প্রবাদসমূহের একটি স্বতন্ত্র বিষয় হলো পোলীয় জনগণ ও পোল্যান্ড নিজেই। এ ধরনের প্রবাদগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ উক্তিটি হলো—“Polacy nie gęsi lecz własny język mają” (“পোলীয়রা হাঁস নয়; তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে”), যা নিকোলাস রেজ-এর ১৫৬২ সালের একটি পদ্যে পাওয়া যায়। এই উক্তিটি সাধারণত নিজস্ব জাতীয় ভাষার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়ার অর্থে ব্যাখ্যা করা হয় (এক্ষেত্রে পোলীয় ভাষা)।[]

ইংরেজি প্রবাদগুলোর মতোই পোলীয় প্রবাদও লিঙ্গবিদ্বেষমূলক হওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছে।[১১]

পোলীয় প্রবাদবিদ্যা

[সম্পাদনা]
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্যামুয়েল আদালবের্গ রচিত Księga przysłów polskich-এর শিরোনাম পৃষ্ঠা, যা পোলীয় প্রবাদবিদ্যার অন্যতম মাইলফলক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত

পোলীয় প্রবাদ নিয়ে আগ্রহী প্রথম পরিচিত লেখক ছিলেন কবি বিয়েরনাত অব লুবলিন। তিনি ১৫২২ সালে Żywot Ezopa Fryga [pl], mędrca obyczajnego i z przypowieściami jego শিরোনামে প্রবাদসমূহের একটি সংকলন প্রকাশ করেন (বাংলা অর্থ: ফ্রিজীয় ঈসপ—একজন নীতিবান জ্ঞানী—ও তাঁর উপকথাসমূহের জীবনকথা)।[]

পোলীয় প্রবাদবিদ্যার প্রথম প্রকৃত গবেষক হিসেবে বিবেচিত হন সালমন রিসিঙ্কি (লাতিন নাম: Solomone Rysinio)। তিনি ১৬১৮ সালে প্রবাদ সংগ্রহ ও আলোচনা নিয়ে সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত প্রথম পরিচিত পোলীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন—Proverbiorum polonicorum a Salomone Rysino collectorum Centuriae decem et octo। গ্রন্থটি প্রথমে লাতিন ভাষায় প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে পোলীয় ভাষায় প্রকাশিত হয় (Przypowieści polskie, przez Salomona Rysińskiego zebrane, a teraz nowo przydane i na wielu miejscach poprawione, ১৬২০)।[১২] এই গ্রন্থে লেখকের মতে “পোলীয় উৎসজাত” ১,৮০০টিরও বেশি প্রবাদ সংকলিত হয়েছিল।[]

১৬৩২ সালে পোলীয় যেসুইট পণ্ডিত গ্রেজেগোর্জ নাপস্কি তাঁর Thesaurus Polono-Latino-Graecus গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে ৬,০০০টিরও বেশি প্রবাদ সংবলিত আরও বৃহৎ একটি সংকলন প্রকাশ করেন।[] পরে ১৬৫৮ সালে পোলীয় লেখক আন্দ্রেই ম্যাক্সিমিলিয়ান ফ্রেদ্রো Przysłowia mów potocznych albo przestrogi obyczajowe, radne, wojenne শিরোনামে আরেকটি প্রবাদসংকলন প্রকাশ করেন, যা তৎকালীন পোল্যান্ডে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।[]

উনিশ শতকে প্রথমবারের মতো এমন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যেখানে শুধু প্রবাদ সংগ্রহ নয়, বরং সেগুলোর বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর উদাহরণ Kazimierz Władysław Wóycicki [pl]-এর Przysłowia narodowe, z wyjaśnieniem źródła, początku oraz sposobu ich użycia… (১৮৩০)।[] একই শতকে অস্কার কোলবের্গ এবং স্যামুয়েল আদালবের্গ-এর মতো গবেষকেরা পোলীয় প্রবাদবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আদালবের্গ ১৮৮৯–১৮৯৪ সালের মধ্যে প্রকাশিত Księga przysłów, przypowieści i wyrażeń przysłowiowych polskich-এ ৩০,০০০টিরও বেশি পোলীয় প্রবাদ সংকলন করেন।[] এই গ্রন্থটিকে পোলীয় ভাষায় এ বিষয়ে “প্রথম আধুনিক কাজ”[১৩] এবং “এই ক্ষেত্রে সর্বাধিক বিস্তৃত সংকলন”[১৪] হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে আলেকসান্দার ব্রুকনারইয়ান স্তানিস্লাভ বিস্ত্রঁ-এর মতো গবেষকেরা পোলীয় প্রবাদ নিয়ে আরও তাত্ত্বিক গবেষণা করেন। বিস্ত্রঁ-কে “আধুনিক পোলীয় প্রবাদবিদ্যার জনক” বলা হয়; তিনি Przysłowia polskie (পোলীয় প্রবাদ, ১৯৩৩) শীর্ষক গ্রন্থের রচয়িতা।[]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর পর পোলীয় প্রবাদবিদ্যায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জুলিয়ান ক্রিজানোভস্কি[] তিনি এ পর্যন্ত প্রকাশিত পোলীয় প্রবাদসমূহের সবচেয়ে বৃহৎ ও গ্রহণযোগ্য সংকলনের সম্পাদক ছিলেন—Nowa księga przysłów i wyrażeń przysłowiowych polskich (১৯৬৯–১৯৭৮), যা “পোলীয় প্রবাদসমূহের বাইবেল” নামে পরিচিত।[][] পরবর্তী সময়ে অনুরূপ বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হলেও, ২০১২ সাল পর্যন্তও এই সংকলনটিকে পোল্যান্ডে এ ধরনের “সবচেয়ে বিস্তৃত” কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[]

আধুনিক যুগের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পোলীয় প্রবাদবিদদের মধ্যে রয়েছেন টমাস জুরাস, দোব্রোস্বাভা সুইয়েরসিন্সকা, ক্যাথেরিন ক্লোসিন্সকা, জ্যারি ব্রালচিক এবং ভ্লাদিস্লাভ কোপালিন্স্‌কি[]

শুধু ২০০৯–২০১৮ সময়কালেই পোল্যান্ডে তরুণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রণীত প্রবাদসংকলনের ১৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়; তবে সাধারণ পাঠকের জন্য প্রকাশিত বহু সংকলনের মানে যথেষ্ট বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়।[]

পোলীয় প্রবাদসমূহের তালিকা

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Matczak, Piotr; Graczyk, Dariusz; Choryński, Adam; Pińskwar, Iwona; Takacs, Viktoria (১২ মে ২০২০)। "Temperature Forecast Accuracies of Polish Proverbs"Weather, Climate, and Society (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ (3): ৪০৫–৪১৯। ডিওআই:10.1175/WCAS-D-19-0086.1আইএসএসএন 1948-8327এস২সিআইডি 219072955
  2. 1 2 3 Krzyżanowski, Julian (১৯৬০)। "U średniowiecznych źródeł przysłów polskich"Pamiętnik Literacki৫১ (3): ৬৯–৯০। ২৮ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  3. Furiassi, Cristiano; Pulcini, Virginia; González, Félix Rodríguez (২২ আগস্ট ২০১২)। The Anglicization of European Lexis (ইংরেজি ভাষায়)। John Benjamins Publishing। পৃ. ২৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-২৭২-৭৩৬৩-৫
  4. 1 2 3 4 Szpila, Grzegorz (২০২০)। "Współczesna Polska paremiografia dla dzieci"Poradnik Językowy (Polish ভাষায়)। ২০২০ (7): ৮৫–৯৭। ডিওআই:10.33896/PorJ.2020.7.7আইএসএসএন 0551-5343{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  5. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 Jarząbek, Krystyna (২০১২)। "Polacy i Polska w rodzimych przysłowiach"। Parémie národů slovanských VI: sborník příspěvků z mezinárodní konference konané v Ostravě ve dnech 9.-10. října 2012 [Poles and Poland in Polish proverbs] (পিডিএফ) (পোলিশ ভাষায়)। পৃ. ৭০–৭৯। ৩০ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)
  6. "Przysłowia ludowe mądrością narodu"Narodowy Instytut Kultury i Dziedzictwa Wsi (পোলিশ ভাষায়)। ১৪ মে ২০২০। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২১
  7. Młynarczyk, Ewa (২০১৫)। "Językowo-kulturowy obraz łyka w świetle dawnych frazeologizmów i przysłów"Annales Universitatis Paedagogicae Cracoviensis. Studia Linguistica (Polish ভাষায়) (10): ১২০–১২৯। আইএসএসএন 2083-1765{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  8. Szpila, Grzegorz (২০০৩)। Krótko o przysłowiu (পোলিশ ভাষায়)। Collegium Columbinum। পৃ. ১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৩-৮৭৫৫৩-৬৩-০
  9. Krzyżanowski, Julian (১৯৫৮)। Madrej glowie dość dwie slowie: Dwie nowe centurie przysłów polskich (পোলিশ ভাষায়)। Państwowy Instিটিউট Wydawniczy। পৃ. ২১৯।
  10. "The Eternal Wisdom of Polish Proverbs"Culture.pl (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২১
  11. Reading, Anna (১৮ জুন ১৯৯২)। Polish Women, Solidarity and Feminism (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃ. ২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩৪৯-১২৩৩৯-১
  12. Grześkowiak, Radosław (২০১৯)। "Dawne krakowskie edycje pierwszej księgi przysłów polskich - 2. Paremiografi czny warsztat Stanisława Serafi na Jagodyńskiego"Terminus (Polish ভাষায়)। ২১ (50 (1)): ১–৩৯। আইএসএসএন 2082-0984{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  13. "YIVO | Adalberg, Samuel"www.yivoencyclopedia.org। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৯
  14. "Adalberg, Samuel | Encyclopedia.com"Encyclopaedia Judaica। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৯