বিষয়বস্তুতে চলুন

পেনি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
১৯১১ সালের অস্ট্রেলীয় পেনির বিপরীত পৃষ্ঠ

পেনি (ইংরেজি: Penny) হলো একটি স্বল্পমূল্যের মুদ্রা, যা বর্তমানে বা অতীতে একাধিক ইংরেজিভাষী দেশে প্রচলিত ছিল। পেনি শব্দটির দুটি বহুবচন রয়েছে, যেগুলোর অর্থ ভিন্ন। Pence (পেন্স) হলো অর্থমূল্য বোঝাতে ব্যবহৃত সাধারণ বহুবচন, আর Pennies (পেনিস) বলতে এক-পেনি মূল্যের পৃথক পৃথক মুদ্রা বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, পাঁচটি পেনিস বলতে অবশ্যই পাঁচটি এক-পেনির মুদ্রাকে বোঝায়, কিন্তু পাঁচ পেন্স বলতে একই অর্থমূল্য বোঝালেও তা কীভাবে পরিশোধ করা হয়েছে—যেমন একটি পাঁচ-পেনির মুদ্রা বা সমমূল্যের অন্য কোনো অর্থপ্রদানের মাধ্যমে—তা বিবেচ্য নয়।

বর্তমান ব্রিটিশ পেনির এক পাশে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ-এর প্রতিকৃতি এবং অপর পাশে ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদব্রিটিশ পার্লামেন্ট-এর প্রতীক পোর্টকুলিস (উত্তোলনযোগ্য লোহার ফটক) অঙ্কিত রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে এক পেনি হলো পাউন্ড স্টার্লিং-এর এক-শতাংশ বা একটি শিলিং-এর এক-পঞ্চমাংশ। তবে ১৯৭১ সালে দশমিক মুদ্রাব্যবস্থা চালুর আগে এক পেনি ছিল এক শিলিংয়ের ১/১২ অংশ এবং এক পাউন্ডের ১/২৪০ অংশ। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত পেনি রূপার সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি হতো। ১৭৯৭ সাল থেকে এটি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি হতে থাকে। তবে বিশেষ সংস্করণের মন্ডি সেট-এ স্টার্লিং রূপা দিয়ে তৈরি পেনিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব বিশেষ মুদ্রা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হতো।

১৯৯৩ সাল থেকে ব্রিটিশ পেনি ইস্পাতের ওপর ব্রোঞ্জ-এর প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। সংকর ধাতুর এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল মুদ্রাচালিত যন্ত্রগুলো যাতে মুদ্রার চৌম্বকত্ব শনাক্ত করতে পারে।

ভিক্টোরীয় পেনি

বর্তমানে পেনিই যুক্তরাজ্যের সর্বনিম্ন মূল্যমানের বৈধ মুদ্রা। তবে অতীতে অর্ধ-পেনি (দশমিক অর্ধ-পেনি ১৯৮৪ সালে এবং দশমিক-পূর্ব অর্ধ-পেনি ১৯৬৯ সালে বাতিল হয়) এবং ফার্থিং নামে এক-চতুর্থাংশ পেনির মুদ্রাও প্রচলিত ছিল। ফার্থিংয়ের মুদ্রণ ১৯৫৬ সালে বন্ধ হয় এবং ১৯৬০ সালে এটি বৈধ মুদ্রার মর্যাদা হারায়। রানি ভিক্টোরিয়ার আমলে আরও ক্ষুদ্র মূল্যমানের মুদ্রা—অর্ধ-ফার্থিং, এক-তৃতীয়াংশ ফার্থিং এবং সে সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ মাল্টায় এক-চতুর্থাংশ ফার্থিং—প্রচলিত হয়েছিল, যার মূল্য ছিল এক পাউন্ড স্টার্লিং-এর ১/৩৮৪০ অংশ।

বিভিন্ন দেশে পেনি

[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রকানাডায় পেনি হলো এক সেন্ট মূল্যের মুদ্রার প্রচলিত নাম। মার্কিন পেনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুদ্রিত মুদ্রা এবং দেশটিতে সর্বাধিক সংখ্যায় উৎপাদিত মুদ্রা। অন্যদিকে, কানাডায় এই মুদ্রা ২০১২ সালের মে মাসে প্রচলন থেকে প্রত্যাহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই মুদ্রা তামার প্রলেপযুক্ত দস্তা দিয়ে তৈরি।[]

আয়ারল্যান্ডে পেনি ছিল আইরিশ পাউন্ড (পান্ট)-এর এক-শতাংশ এবং ২০০২ সালে ইউরো চালু হওয়া পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাজ্যের মতো সেখানেও দশমিক পদ্ধতি চালুর আগে এক পেনি ছিল এক পান্টের ১/২৪০ অংশ।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতেও নিজস্ব দশমিকভিত্তিক জাতীয় মুদ্রা চালুর আগে পেনি প্রচলিত ছিল। এই পরিবর্তনের সূচনা সর্বপ্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৬০ সালে হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "US Mint"। ৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৬