পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পৃথিবীর ইতিহাসের আপেক্ষিক সময়কাল প্রদর্শন করে এবং বিশেষ ঘটনাসমূহ নিয়ে, নকশা আকারে ভূতাত্ত্বিক সময় দেখানো হয়েছে যাকে ভূতাত্ত্বিক ঘড়ি বলা হয় ।

পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ভূতাত্ত্বিক সময়ের উপর ভিত্তি করে অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ মেনে চলে। এই পদ্ধতিতে পাথরের স্তর অধ্যয়ন (স্তরবিন্যাস)-এর উপর ভিত্তি করে এই কালনিরূপণ করা হয়। পৃথিবী প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর পূর্বে সৌরজাগতিক নীহারিকার বৃদ্ধির ফলে গঠিত হয়েছে। সৌরজাগতিক নীহারিকা হল সূর্যের গঠনের ফলে ফেলে যাওয়া ধুলো এবং গ্যাসের ডিস্ক-আকৃতির বস্তু, যা থেকে সৌরজগতের বাকি উপাদানসমূহ গঠিত হয়েছে।

প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান[সম্পাদনা]

প্রাক্-ক্যাম্ব্রিয়ান সময় হল প্রায় ৯০% ভূতাত্ত্বিক সময়, যার সময়কাল ৪.৬ বিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে ক্যাম্ব্রিয়ান যুগ শুরুর (প্রায় ৫৪.১ কোটি বছর) পূর্ব পর্যন্ত। এই যুগ তিনটি অধিযুগ: হেডিয়ান, আর্কিয়ান এবং প্রোটেরোজোয়িক যুগে বিভক্ত।

গত ৩ বিলিয়ন বছরে ১০ বারের মত আগ্নেয়গিরি থেকে বড় ধরনের অগ্নুৎপাত হয়েছে, যা পৃথিবীর পরিবেশকে পরিবর্তিত করেছে এবং কিছু বস্তুর বিলুপ্তি সাধন করেছে।[১]

হেডিয়ান অধিযুগ[সম্পাদনা]

হেডিয়ান যুগ হল ৪.৬-৪ গিগা বছর পূর্বে উল্কাবর্ষণ-বহুল অধিযুগ। সেই সময় সূর্যের চারপাশে গ্যাস এবং ধূলিকণার এক বৃহৎ মেঘের মধ্যে সৌরজগৎ গঠিত হয়, যার বৃদ্ধির ফলে ৪,৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল।[২] হেডিয়ান যুগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়, প্রাপ্ত কঠিন পাথরের নথি থেকে এই যুগের কালক্রম নির্ণয় করা হয়। প্রাপ্ত প্রাচীনতম গোমেদ-মণির বয়স প্রায় ৪,৪০০ মিলিয়ন বছর।[৩][৪]

আর্কিয়ান অধিযুগ[সম্পাদনা]

আর্কিয়ান যুগের ব্যপ্তি ছিল ৪,০০০ থেকে ২,৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত। এই সময়ের ভূত্বকীয় পাতের ধরন ভিন্ন ছিল। ভূত্বক শীতল থাকার ফলে শিলা এবং মহাদেশীয় পাতগুলির গঠন শুরু হয়েছিল।

প্রোটেরোজোয়িক অধিযুগ[সম্পাদনা]

প্রোটেরোজোয়িক যুগের ব্যপ্তি ছিল ২,৫০০ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত। এটি হল আধুনিক ভূত্বকীয় পাত গঠনের পর্যায়। এই সময়ে প্রথম প্রাণীকুলের আবির্ভাব ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Witze, Alexandra। "Earth's Lost History of Planet-Altering Eruptions Revealed"Scientific American (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  2. Dalrymple, G.B. (১৯৯১)। The Age of the Earth (ইংরেজি ভাষায়)। California: Stanford University Press। আইএসবিএন 0-8047-1569-6 
  3. "International Chronostratigraphic Chart v.2015/01" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। International Commission on Stratigraphy। জানুয়ারি ২০১৫। 
  4. Wilde, S. A.; Valley, J.W.; Peck, W.H.; Graham, C.M. (২০০১)। "Evidence from detrital zircons for the existence of continental crust and oceans on the Earth 4.4 Gyr ago"Nature (ইংরেজি ভাষায়)। 409: 175–178। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]