পুরি ভাজি
ভারতীয় রেস্তোঁরায় পরিবেশিত পুরি ভাজি সাথে (বাম থেকে ডান) ধনিয়া চাটনি, আলু ভাজি, পেঁয়াজ এবং আচার | |
| প্রকার | প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, জলখাবার |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | ভারতীয় উপমহাদেশ |
| সংশ্লিষ্ট জাতীয় রন্ধনশৈলী | ভারত, পাকিস্তান |
| প্রধান উপকরণ | পুরি, আলু ভাজি |
| ভিন্নতা | ছোলা ভাটোরা |

পুরি ভাজি এক প্রকার খাবার, এটির ব্যুৎপত্তি ভারতীয় উপমহাদেশে হয়েছিল। পুরি (ময়দা দিয়ে তৈরি কড়া ভাজা গোলাকার রুটি) এবং সাথে আলু ভাজি (মশলাদার আলুর পদ, যা শুকনো বা তরকারি হতে পারে) দিয়ে খাবারটি পরিবেশিত হয়ে থাকে।[১] এটি উত্তর ভারতে প্রাতঃরাশের জন্য জনপ্রিয় একটি খাবার।[২]
অনেক ভারতীয় পরিবার জলখাবার হিসাবে পুরি ভাজি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাবার অধিক পছন্দ করে থাকেন।[৩][৪] কেউ কেউ এটিকে দই এবং সালাদ জাতীয় খাবারের সাথে মধ্যাহ্নভোজনে পরিবেশন করে থাকেন।[৫] মধ্য ভারতে পুরি ভাজি পথখাবার হিসাবে পরিবেশন করা হয়ে থাকে।[৬] পুরি ভাজি একটি নিরামিষ খাবার এবং ভারতে এটি জনপ্রিয় কারণ এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং সুস্বাদুও। খাবারটি ভারতে প্রায়শই রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মেও পরিবেশন করা হয়ে থাকে[৭] এবং চাটনির সাথে প্যাকেটজাত করে মধ্যাহ্নভোজ হিসাবে ট্রেনে খাবারটি পরিবেশন করা হয়ে থাকে।[৮] পুরি ভাজি হালওয়ার সাথেও পরিবেশন করা যেতে পারে।
প্রস্তুতপ্রণালী
[সম্পাদনা]- পুরি তৈরির প্রণালী
- উপকরণ:-
- খামিরের জন্য
- ময়দা - ২ কাপ
- লবণ - ১ চা চামচ
- তেল - ৩ টেবিল চামচ
- কুসুম গরম পানি - ১/২+১/৪ কাপ
- আলুর পুরের জন্য
- আলু (মাঝারি সাইজের) - ২টি
- পেঁয়াজ বেরেস্তা - ১/৪ কাপ
- শুকনো মরিচ - ২/৩টি
- বিটলবণ - ১/৪ চা চামচ
- লবণ - স্বাদমতো
- সরিষার তেল - ২ চা চামচ
- ডুবো তেলে পুরি ভাজার জন্য তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে নিতে হবে।
- প্রণালী:-
- আলুর পুর তৈরির জন্য প্রথমে আলু সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে।
- আলুর গরম ভাব কমে গেলে হাতের সাহায্যে আলু ভালোভাবে মিহি করে নিতে হবে।
- এরপর শুকনা মরিচ তেলে ভেজে নিতে হবে।
- থালায় পেঁয়াজ বেরেস্তা, শুকনো মরিচ, বিটলবণ, পরিমানমতো লবণ এবং সরিষার তেল হাতে ভালকরে মেখে আলুর সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। এখন এই আলুর পুর থেকে একই মাপে ছোট ছোট বলের মত বানিয়ে রাখতে হবে।
- এখন পুরির খামির তৈরির জন্য প্রথমে শুকনো ময়দার সাথে লবণ এবং তেল বেশ ভালকরে মিশিয়ে নিতে হবে।
- এরপর এর মধ্যে অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে খামির তৈরি করে ভেজা কাপড় দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে।
- এবার খামিরটি ১৪ ভাগ করে প্রতিটি ভাগ দিয়ে গোল গোল বল তৈরি করতে হবে।
- এখন খামিরের একটি বল নিয়ে হাতে চেপে লুচির মত তৈরি করে এর মধ্যে আলুর পুরের একটি বল দিয়ে মুড়িয়ে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে।
- সবগুলো এভাবে তৈরি করে নিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
- এরপর একে একে সবগুলো পুরি হাতে হালকা বেলে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পুরির ভিতরের আলুর পুর যাতে বেরিয়ে না যায়।
- সব পুরি বেলা হয়ে গেলে কড়াইতে তেল গরম দিতে হবে।
- তেল গরম হলে পুরিগুলো সময় নিয়ে আস্তে আস্তে একটা একটা করে সোনালি করে ভেজে নিতে হবে।
- এভাবে সবগুলো পুরি ভেজে নিতে হবে।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Brians, Paul (২০০৩)। Modern South Asian literature in English। Greenwood Publishing Group। পৃ. ২৩৭। আইএসবিএন ০৩১৩৩২০১১X।
- ↑ Saxena, Rajan (২০০৯)। Marketing Management 4E। Tata McGraw-Hill Education। পৃ. ২৪৮। আইএসবিএন ০০৭০১৪৪৯১৫।
- ↑ Baisya, Rajat K. (২০০৮)। Changing face of processed food industry in India। Ane Books Pvt Ltd। পৃ. ১৭১, ১৭২। আইএসবিএন ৮১৮০৫২১৬৬৪।
- ↑ Tharoor, Shashi (২০০৬)। India: From Midnight to the Millennium and Beyond। Arcade Publishing। পৃ. ২৮১। আইএসবিএন ১৫৫৯৭০৮০৩৪।
- ↑ King, Niloufer Ichaporia (২০০৭)। My Bombay kitchen: traditional and modern Parsi home cooking। University of California Press। পৃ. ২০২, ২০৩। আইএসবিএন ০৫২০২৪৯৬০৭।
- ↑ Dalal, Tarla (২০০০)। Chaat Cookbook। Sanjay & Co। পৃ. ৪৬। আইএসবিএন ৮১৮৬৪৬৯৬২১।
- ↑ "Jan Ahaar scheme gets going at rly station: Puri-Bhaji for Rs 10"। The Indian Express। ১৭ মার্চ ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১২।
- ↑ "'Janata khana' a hit with rail commuters"। Times of India। ২০ জুলাই ২০০৯। ৩১ মে ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১২।