পালটা আঘাত (পারমাণবিক যুদ্ধ)
- মার্কিন বিমানবাহিনীর বোয়িং বি-৫২বি উড্ডয়নশীল; ঐতিহাসিকভাবে বিমান দ্বারা সতর্কীকরণ পালটা আঘাতের সক্ষমতা প্রদান করে
- ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষিপ্ত নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্র আদর্শ ও প্রায়-অনাক্রম্য সক্ষমতা প্রদান করে
- আগাম সতর্কীকরণ রাডারগুলি পালটা আঘাত সমন্বয় করতে অবদান রাখে
- আগাম সতর্কীকরণ কৃত্রিম উপগ্রহগুলিও পালটা আঘাত সমন্বয় করতে অবদান রাখে
পারমাণবিক রণকৌশলের আলোচনায় পালটা আঘাতের সক্ষমতা হল আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পালটা পারমাণবিক আঘাতের মাধ্যমে পারমাণবিক আক্রমণের জবাব দেওয়ার জন্য একটি দেশের নিশ্চিত সক্ষমতা।[১] পারমাণবিক নিবৃত্তকরণের ক্ষেত্রে এই ধরনের সক্ষমতা থাকা (এবং প্রতিপক্ষকে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে বিশ্বাস করানো) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, কারণ অন্যথায় প্রতিপক্ষ একটি বিশাল পারমাণবিক প্রথম আঘাতের দ্বারা পারমাণবিক যুদ্ধ জয়ের চেষ্টা করতে পারে।
তত্ত্ব
[সম্পাদনা]পালটা আঘাতের সক্ষমতার অধিকারী পক্ষ প্রথম আঘাতের পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা করতে পারে ও প্রথমে ব্যবহার না করার পারমাণবিক রণকৌশল অবলম্বন করতে পারে। পারস্পরিক পালটা আঘাতের সক্ষমতা সাধারণত পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংস নামের একটি প্রতিরক্ষামূলক রণকৌশল সৃষ্টি করে, যদিও এক পক্ষের ন্যূনতম নিবৃত্তকরণমূলক জবাব অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের হতে পারে। অধিকন্তু, প্রাণঘাতী ব্যর্থতা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পালটা আঘাতের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াগুলি একটি সীমা তৈরি করে এবং যদি সেই সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তবে সেই সীমালংঘনের পরিণতি নিশ্চিত করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও মিত্র জাতির উপর যাতে আক্রমণ না হয়, সে সংক্রান্ত একটি সীমা থাকতে পারে। যদি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী জাতি মিত্র জাতিকে আক্রমণ করে এই সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে এই কাজের পূর্বনির্ধারিত পরিণতি কার্যকর হবে। এই পূর্বনির্ধারিত পরিণতিগুলির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জবাব থাকতে পারে, যাদের মধ্যে পারমাণবিক পালটা আঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বাস্তবায়ন
[সম্পাদনা]
পালটা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল প্রথম আঘাত থেকে কোনও দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ধ্বংস হওয়া রোধ করা। এই পদ্ধতিতে একটি দেশ পারমাণবিক আঘাত হজম করার পরেও পারমাণবিক প্রতিশোধ নিতে পারে। পালটা আঘাতের সক্ষমতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলি পারমাণবিক ত্রয়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে বৈচিত্র্যময় করেছে।[২]
ডুবোজাহাজ-হতে-উৎক্ষিপ্ত নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্র হল পালটা আক্রমণের সক্ষমতা প্রদানের ঐতিহ্যবাহী, কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি। তবে আক্রমণকারীর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য এগুলিতে একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। পালটা আক্রমণের সক্ষমতা হিসেবে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা একটি গুরুতর সমস্যা, কারণ প্রতিশোধ হিসেবে ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষিপ্ত আন্তঃমহাদেশীয় নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্র ভুল দেশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হতে পারে এবং এতে সংঘাত আরও উসকে যেতে পারে। তবে প্রথম আঘাত ঠেকাতে পালটা আঘাত বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলির মূল উদ্দেশ্য হল তাদের প্রতিপক্ষদের বোঝানো যে প্রতিপক্ষের প্রথম আঘাতটি তাদের পালটা আঘাতের মুখোমুখি হওয়ার যোগ্য নয়। এই দেশগুলির বহু বিচিত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের পারমাণবিক আক্রমণের পরিস্থিতির জন্য পূর্বপ্রস্তুতকৃত প্রতিক্রিয়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণ সুবিধা রয়েছে, যেগুলিকে বিশেষভাবে পারমাণবিক আক্রমণের ঘাতসহতার জন্য নকশা করা হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ]
সতর্কীকরণ সাপেক্ষে উৎক্ষেপণ হল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিশোধের একটি রণকৌশল, যা পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট এবং পূর্ব রাষ্ট্রজোটের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় স্বীকৃতি লাভ করে। পারমাণবিক ত্রয়ীর পাশাপাশি দেশগুলি একটি প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা স্থাপন করে যা আগমনী পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে শনাক্ত করে। এই ব্যবস্থাটি সেই জাতিকে আসন্ন পারমাণবিক প্রথম আঘাতের আগেই তার যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক পালটা আঘাত হানার সক্ষমতা এবং বিকল্প প্রদান অরে। এটি পালটা আঘাতের সক্ষমতা শক্তিশালী করার ও অন্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তরফ থেকে প্রথম আঘাত নিবৃত্ত করার আরেকটি পদ্ধতি।[৩]
প্রাথমিক প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্রগুলির (এবং বিশেষ করে ডুবোজাহাজ-হতে-উৎক্ষিপ্ত নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্রগুলির) নির্ভুলতা অপেক্ষাকৃত কম (বৃত্তাকার ত্রুটির সম্ভাবনা) হবার কারণে পালটা আঘাত প্রাথমিকভাবে কেবলমাত্র শহরগুলির মতো বৃহৎ, অরক্ষিত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তর বিরুদ্ধে সম্ভব ছিল। পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রগুলি অনেক উন্নত নির্ভুলতার সাথে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী সামরিক স্থাপনাগুলির বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত সম্ভব করে তোলে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৪০ খ্রিস্টাব্দেই বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক রবার্ট এ. হাইনলাইনসলিউশন আনস্যাটিসফ্যাক্টরি নামের একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনীমূলক ছোট গল্প লিখেছিলেন, যেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার বর্ণনা দিয়েছিলেন। গল্পের একটি পর্বে মার্কিন মন্ত্রিসভা আকস্মিক সোভিয়েত আক্রমণের দৃশ্যকল্প নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে মার্কিন শহরগুলি ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী টিকে থাকবে এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Wragg, David W. (১৯৭৩)। A Dictionary of Aviation (first সংস্করণ)। Osprey। পৃ. ২৪০। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৫০৪৫১৬৩৪।
- ↑ Siracusa 2008
- ↑ "False Alarms in the Nuclear Age — NOVA | PBS"। www.pbs.org। ৬ নভেম্বর ২০০১। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১৬।
উৎসপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Siracusa, Joseph (মার্চ ২০০৮)। Nuclear weapons: a very short introduction (1st সংস্করণ)। Oxford University Press। ডিওআই:10.1093/actrade/9780199229543.001.0001। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৯২২৯৫৪৩।