পালক দিল
| পালাক দিল | |
|---|---|
| পালা টিপো | |
পালাক দিল | |
| অবস্থান | সিয়াহা জেলা, মিজোরাম |
| স্থানাঙ্ক | ২২°২০′২৫″ উত্তর ৯২°৫৬′৩৩″ পূর্ব / ২২.৩৪০২৮° উত্তর ৯২.৯৪২৫০° পূর্ব |
| ধরন | স্থির জল |
| প্রাথমিক অন্তর্প্রবাহ | দুটি পার্বত্য জলধারা |
| প্রাথমিক বহিঃপ্রবাহ | পালা লুই |
| অববাহিকা | ১৮.৫ কিমি২ (৭.১ মা২) |
| অববাহিকার দেশসমূহ | ভারত |
| সর্বাধিক দৈর্ঘ্য | ০.৮৭ কিমি (০.৫৪ মা) |
| সর্বাধিক প্রস্থ | ০.৭ কিমি (০.৪৩ মা) |
| পৃষ্ঠতল অঞ্চল | ১.৫ কিমি২ (০.৫৮ মা২) |
| গড় গভীরতা | ১৭ মি (৫৬ ফু) |
| সর্বাধিক গভীরতা | ২৭ মি (৮৯ ফু) |
| পৃষ্ঠতলীয় উচ্চতা | ২৭০ মি (৮৯০ ফু) |
| জনবসতি | ফুরা, টংকোলং, সিয়াহা |
| প্রাতিষ্ঠানিক নাম | পালা জলাভূমি |
| মনোনীত | ৩১ আগস্ট ২০২১ |
| সূত্র নং | ২৪৮৪[১] |
পালাক দিল বা পালা টিপো (মারা ভাষায় যার অর্থ "গিলে ফেলা হ্রদ") হল উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামের বৃহত্তম হ্রদ। এটি মিজোরামের সর্বদক্ষিণের জেলা সিয়াহার মারা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের অন্তর্গত ফুরা গ্রামের কাছে অবস্থিত। এর ভৌগোলিক অবস্থান ইন্দো-বর্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পটের অন্তর্গত এবং সেই কারণে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সমৃদ্ধ সমাহার রয়েছে। হ্রদটি পালাক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ[২] এবং অভয়ারণ্যের প্রধান জীববৈচিত্র্যকে ধারণ করে।[৩]
পালা নামটি হ্রদের নামকরণ সম্পর্কিত একটি পৌরাণিক মারা কাহিনি থেকে উদ্ভূত, আর টিপো শব্দের অর্থ "হ্রদ"; মিজো ভাষায় এটিকে পালাক দিল বলা হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা পালাক বিধানসভা কেন্দ্রের নামও এই হ্রদের নাম থেকে এসেছে।[৪][৫]
উৎপত্তি
[সম্পাদনা]মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, পালাক দিলের সৃষ্টি আনুমানিক ৮০০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই সময়কাল বার্মা থেকে মারা জনগোষ্ঠীর পশ্চিমমুখী অভিবাসনের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। পালাক দিলের উৎপত্তি মিজো জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি সুপরিচিত লোককাহিনি। মারা কিংবদন্তি অনুযায়ী, এই স্থানটি মূলত হিনচাও নামে একটি বড় গ্রাম ছিল। সেখানে প্রায় ৩০০টি পরিবার বাস করত। গ্রামের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় পাথর ছিল এবং তার নীচে একটি গুহায় একটি দৈত্যাকার সাপ বাস করত। গ্রামবাসীরা শীঘ্রই লক্ষ্য করল, পাথরটির আশেপাশে খেলা করা শিশুরা প্রায়ই নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় তাদের গৃহপালিত পশুও নিখোঁজ হত। গ্রামের শিকারিরা একটি বিশাল মাছ ধরার ছিপ ব্যবহার করে এবং টোপ হিসেবে একটি ছাগল (অন্য একটি সংস্করণ অনুযায়ী কুকুর) দিয়ে সাপটিকে ধরেছিল। এরপর কাহিনিটির দুটি সংস্করণ রয়েছে:
- তারা সাপটিকে হত্যা করল এবং এর মাংস সব পরিবারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলো। দুই সন্তানসহ এক বিধবা মহিলা ঘটনাক্রমে সাপটির মাথার একটি অংশ পেলেন। যখন তিনি এটি রান্না করলেন, তখন সাপটির চোখ পিটপিট করছিল ও ঘুরছিল, যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ভয় পেয়ে তিনি রান্নার পাত্রটি রাস্তায় ছুঁড়ে ফেললেন। যখন তিনি বাইরে তাকালেন, দেখলেন তাদের বাড়ির দোরগোড়া পানিতে ভরে যাচ্ছে এবং তিনি তার সন্তানদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গেলেন। পুকুরটি ফুলে একটি হ্রদে পরিণত হলো, যা পুরো বসতিকে ডুবিয়ে দিল এবং বাকি গ্রামবাসীরাও ডুবে মারা গেল। অবশেষে এই হ্রদটির নাম রাখা হলো পালা টিপো। [৬]
- অন্য একটি সংস্করণ অনুসারে, যখন তারা সাপটিকে ধরেছিল, তখন তারা এর দেহটি সম্পূর্ণরূপে টেনে বের করতে পারেনি এবং এটিকে মাঝখান থেকে কেটে ফেলেছিল। নিচের অর্ধেকটি প্রচণ্ড বজ্রপাতের সাথে গুহার ভিতরে পড়ে গেল। এর ফলে গুহা থেকে জলের প্রবল স্রোত বেরিয়ে এসে পুরো গ্রামটিকে ডুবিয়ে দিল। এটি একটি স্থায়ী হ্রদে পরিণত হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় পালা টিপো, যার আক্ষরিক অর্থ "গিলে ফেলা বা ডুবিয়ে দেওয়া হ্রদ"। [৭]
জলসংস্থান বিদ্যা
[সম্পাদনা]পালাক দিল ডিম্বাকৃতির। এর দৈর্ঘ্য ৮৭০ মিটার, প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং গভীরতা ১৭ থেকে ২৫ মিটার।[৮] মনে করা হয়, হ্রদের নীচে একটি গ্রাম রয়েছে; আবার কিছু মানুষের বিশ্বাস, হ্রদটি ভূত ও অপদেবতার দ্বারা অভিশপ্ত।[৯] আরেকটি কিংবদন্তি অনুযায়ী, এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা একবার হ্রদের মাঝখানে তাঁর তলোয়ার ফেলে দিয়েছিলেন এবং সেটি তুলে আনার জন্য তাঁর এক সঙ্গীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তলোয়ারটি উদ্ধারের জন্য ডুব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিন দিন পর ফিরে এসে জানান যে তিনি ভোজ করেছিলেন এবং এতটাই মাতাল হয়ে পড়েছিলেন যে ফিরে আসতে পারেননি।[১০] কাছাকাছি পাহাড় থেকে আসা দুটি প্রধান জলধারা হ্রদটিকে জল জোগায়। এর জলনিষ্কাশন একটি ছোট নদীর মাধ্যমে হয়, যার নাম পালা লুই। এই জলনিষ্কাশন অঞ্চলটি একটি উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশ সৃষ্টি করেছে, যা মারা জনগোষ্ঠীর প্রধান কৃষি এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[৭]
বন্যপ্রাণী
[সম্পাদনা]পালাক দিল বহু আবাসিক ও পরিযায়ী প্রাণীর আবাসস্থল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, যার মধ্যে স্থানীয় পাখির প্রজাতিও রয়েছে, বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। হ্রদের জলে সাধারণ ও বিরল—উভয় ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি, শামুক, কাঁকড়া, কচ্ছপ ও কাছিমও রয়েছে।[৭] হ্রদ ও তার তীরবর্তী এলাকা থেকে ৭০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। বিরল প্রজাতিগুলির মধ্যে রয়েছে নেপাল ফুলভেট্টা, সাদা-পেট ইউহিনা, ছোট স্পাইডারহান্টার, স্ট্রিকড স্পাইডারহান্টার, হলুদ খঞ্জন, কালো-টুপি মাছরাঙা, হুডেড পিট্টা, ছোপ-পেট স্কিমিটার বাবলার এবং সাদা-পৃষ্ঠ মুনিয়া—যেগুলি এই অঞ্চলের অন্যান্য অংশে খুব কমই দেখা যায়।[১১] এ ছাড়া পালাক দিলের জলচর পাখি ও বুনো হাঁস মিজোরামের আর কোথাও দেখা যায় না।[১২]
সংরক্ষণ
[সম্পাদনা]পালাক দিল ও তার পার্শ্ববর্তী ১৫ বর্গকিলোমিটার (৫.৮ বর্গমাইল) এলাকা ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রক কর্তৃক পালাক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অধীনে একটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।[১৩] ঝুম চাষের কারণে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে এটি একটি সংরক্ষিত রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃত।[১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Pala Wetland"। রামসার সাইট তথ্য পরিষেবা। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২২।
- ↑ "Mizoram Wildlife"। North-East India Tourism। Indo Vacations™। ২৮ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ Lalramanghinglova, H; Lalnuntluanga; Jha, LK (২০০৬)। "Note on Ngengpui and Palak Wildlife Sanctuaries in South Mizoram"। The Indian Forester। ১৩২ (10): ১২৮২–১২৯১।
- ↑ "Palak (ST) Constituency 2013 Election Results"। Compare Infobase Limited। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ "40-Palak- Mizoram"। Election Commission of India। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ "Palak Lake"। Department of Tourism, State Government of Mizoram। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।
- 1 2 3 Dr John (১২ মার্চ ২০১২)। "Palak Dil – Mizorama Dil Lian Ber"। www.misual.com (মিজো ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ B. Lalthangliana। Mizoram Encyclopedia।
- ↑ Sajnani, Manohar (২০০১)। Encyclopaedia of Tourism Resources in India, Volume 1। Kalpaz Publication। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭৮৩৫০১৭২।
- ↑ N.E. Parry (১৯৩২)। The Lakhers। Firma KLM Pvt।
- ↑ Birand, Aysegul; Pawar, Samraat (২০০৪)। "An ornithological survey in north-east India" (পিডিএফ)। Forktail। ২০ (1): ১৫–২৪।
- ↑ Lalmuansangi; Lalramnghinglova, H (২০১৪)। "Preliminary assessment on water quality and biodiversity in and around Palak Dil in southern Mizoram, India" (পিডিএফ)। Science Vision। ১৪ (1): ৩৯–৪৫। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ "Resource and Biodiversity Base Mizoram"। ENVIS CENTRE ON ECO - TOURISM। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৪।