পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই নিবন্ধটি মূল সিরিজ সম্বন্ধীয়। এই সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে জানতে দেখুন পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস: দ্য লাইটনিং থিফ
পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস
পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস এর কভার.png
পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস সিরিজের যুক্তরাজ্য লোগো
লেখকরিক রিঅর্ড্যান
দেশমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ভাষাইংরেজি
বর্গকল্পসাহিত্য, ইয়াং-অ্যাডাল্ট কথাসাহিত্য, থ্রিলার, রহস্য
প্রকাশকডিজনি হাইপেরিয়ন (পূর্বে মিরাম্যাক্স বুকস)
প্রকাশকাল২০০৫-২০০৯
মিডিয়া ধরনমুদ্রণ (হার্ডব্যাকপেপারব্যাক) অডিওবুক

পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস (ইংরেজি: Percy Jackson & the Olympians) রিক রিঅর্ড্যান রচিত কাল্পনিক অ্যাডভেঞ্চার ও কল্পসাহিত্যমূলক উপন্যাসের একটি সিরিজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পটভূমিতে রচিত হলেও এই বইগুলির মূল ভিত্তি গ্রিক পুরাণ। সিরিজের অন্তর্গত মোট পাঁচটি উপন্যাস ও দ্য ডেমিগড ফাইলসডেমিগডস অ্যান্ড মনস্টারস নামে দুটি স্পিন-অফ বই। সিরিজের প্রথম বই দ্য লাইটনিং থিফ অবলম্বনে পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস: দ্য লাইটনিং থিফ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ২০১০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুক্তি পায়।

এই সিরিজের নায়ক পার্সি জ্যাকসন। সে জানতে পারে যে, সে আসলে সমুদ্রদেবতা পসেইডনের ছেলে। সে আরও জানতে পারে যে, দৈত্য, সাইক্লপস, এমপৌজা, টাইটান এবং গ্রিক দেবদেবীরা সহ গ্রিক পুরাণের কিংবদন্তি চরিত্রগুলি চিরকালই ছিল এবং এখনও বর্তমান আছে। বারো জন অলিম্পিয়ান আজও অলিম্পাস পর্বতে বাস করেন। তবে এই অলিম্পাস এখন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর এক কাল্পনিক ৬০০তম তলায় অবস্থিত। পার্সিকে দৈত্যরা প্রায়ই আক্রমণ করত। কারণ সে ছিল প্রধান তিন দেবতার (দেবরাজ তথা আকাশের দেবতা জিউস, সমুদ্রদেব পসেইডন ও পাতালদেবতা হেডিস) একজনের ছেলে। এই তিন দেবতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, তারা আর সন্তানের জন্ম দেবেন না। এর কারণ তারা অত্যন্ত শক্তিশালী ও অনিশ্চিত প্রকৃতির। পার্সির সঙ্গে অনেক তরুণ উপদেবতা বা ডেমিগডের সাক্ষাৎ হয়। তারা কেউ পার্সির বন্ধু, কেউ বা শত্রুপক্ষীয়। কিন্তু তারাও সকলে পার্সির মতো নিজের পরিচয় ও শক্তিগুলি আবিষ্কার করার প্রচেষ্টায় রত ছিল।

২০১০ সালের ৫ জুলাইয়ের হিসেব অনুযায়ী, এই সিরিজটি টানা ১৫৫ সপ্তাহ নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকার শীর্ষে ছিল।[১]

এই সিরিজের সিকোয়েল হিসেবে আরও একটি সিরিজ প্রকাশিতব্য। উক্ত সিরিজের প্রথম বই দ্য লস্ট হিরো প্রকাশিত হবে ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর।

উপন্যাস[সম্পাদনা]

দ্য লাইটনিং থিফ[সম্পাদনা]

দ্য লাইটনিং থিফ বইটি এই সিরিজের প্রথম বই। ২০০৫ সালের ২৫ জুন এই বইটি প্রকাশিত হয়।

পার্সি জ্যাকসন ডিসলেক্সিয়াএডিএইচডি (অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার) রোগাক্রান্ত এক বারো বছরের ছেলে। একবার এক ফিল্ড ট্রিপে তার প্রাক-বীজগণিক শিক্ষক তাকে আক্রমণ করে। এই শিক্ষকটি আসলে ছিল এক ছদ্মবেশী ফিউরি। এরপরই সে জানতে পারে যে, সে আসলে এক গ্রিক দেবতার সন্তান। পার্সির মা স্যালি ও তার প্রিয় বন্ধু গ্রোভার আন্ডারউড নামে এক স্যাট্যার তাকে ক্যাম্প হাফ-ব্লাডে নিয়ে আসে। লং আইল্যান্ডে অবস্থিত এই ক্যাম্পটি আসলে গ্রিক দেবতাদের সেই সব ছেলেমেয়েদের জন্য যাদের বাবা বা মায়ের একজন মর্ত্যবাসী। সেখানে অ্যাথেনার মেয়ে অ্যানাবেথ চেজের সঙ্গে তার দেখা হয়। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পে আসার পর ডেমিগড বা উপদেবতাদের পতাকা-দখল খেলার সময় সমুদ্রদেবতা পসেইডন পার্সিকে নিজের ছেলে বলে দাবি করেন। পার্সির প্রতি জিউসের প্রধান বজ্রটি চুরির অভিযোগ ওঠে। এই বজ্রটিই বিশ্বের সব বজ্রবিদ্যুতের উৎস। পার্সি, অ্যানাবেথ ও গ্রোভারকে বজ্রটি অলিম্পাসে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দশ দিন সময় দেওয়া হয়। এই দশ দিনে বজ্রটি ফেরাতে অসমর্থ হলে দেবতাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হবে। শুধু তাই নয়, পাতালের দেবতা হেডিস এক মাইন্যাটরের সাহায্যে পার্সির মাকে বন্দী করেছিল। বজ্র না ফেরাতে পারলে, পার্সির মাকেও বাঁচানো যাবে না – এইরকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তারা সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এবং সফরকালে মেডুসা সহ একাধিক দৈত্যের বাধার সম্মুখীন হয়। ক্রমে তারা জানতে পারে যে, হেডিস বজ্রটি চুরি করেনি। হার্মিসের ছেলে ল্যুক ক্যাস্টেলন ক্রোনাসের জন্য বজ্রটি চুরি করেছিল। ক্রোনাস পুনরুজ্জীবিত হতে চাইছিলেন। গল্পের শেষে গ্রোভার হারিয়ে যাওয়া গ্রিক প্রকৃতিদেবতা প্যানের সন্ধানে বের হয়।

ক্রিস কলম্বাসের পরিচালনায় টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স পার্সি জ্যাকসন অ্যান্ড দি অলিম্পিয়ানস: দ্য লাইটনিং থিফ নামে এই উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত করেছে।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "Best Sellers Children's books – SERIES BOOKS"New York Times। ২ জুলাই ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৭-০৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]