বিষয়বস্তুতে চলুন

পাপুয়া নিউ গিনির পতাকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাপুয়া নিউ গিনি
ব্যবহার জাতীয় পতাকা, civil এবং state ensign জাতীয় পতাকা, বেসামরিক ও রাজ্য নিশান সাধারণ পার্শ্ব নিশানতাত্ত্বিক বর্ণনা
অনুপাত 3:4
গৃহীত  জুলাই ১৯৭১; ৫৪ বছর আগে (1971-07-01)
অঙ্কন ওপরের উত্তোলন-পাশের কোণ থেকে নিচের উড়ন্ত-পাশের কোণ পর্যন্ত তির্যকভাবে বিভক্ত; ওপরের লাল অংশে উড়ন্ত র‍্যাজিয়ানা বার্ড-অব-প্যারাডাইস (স্বর্গের পাখি) এবং নিচের কালো অংশে চারটি বড় সাদা পাঁচ-কোণা তারা ও একটি ছোট তারা নিয়ে গঠিত সাউদার্ন ক্রস নক্ষত্রমণ্ডল।
এঁকেছেন সুসান কারিকে হুহুমে (Susan Karike Huhume)
হাল হোলম্যান (Hal Holman)
পাপুয়া নিউ গিনির পতাকার রূপভেদ
ব্যবহার Naval ensign রণ নিশান সাধারণ পার্শ্ব নিশানতাত্ত্বিক বর্ণনা
অনুপাত 3:4
অঙ্কন একটি সাদা পতাকা, যার ক্যান্টনে পাপুয়া নিউ গিনির জাতীয় পতাকা স্থাপিত
পিএনজি পতাকা উড়ছে

পাপুয়া নিউ গিনির জাতীয় পতাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় ১ জুলাই ১৯৭১ সালে। পতাকাটি উত্তোলনের দিক থেকে দক্ষিণ ক্রুশ নক্ষত্রমণ্ডল এবং উড়ন্ত দিকের অংশে রঙিন রাগিয়ানা স্বর্গীয় পাখির ছবি নিয়ে নকশা করা। এই দুই প্রতীক পাপুয়া নিউ গিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক পরিচয়কে একত্রে প্রকাশ করে।

পাপুয়া নিউ গিনির অসংখ্য উপজাতির ঐতিহ্যবাহী রং হিসেবে লাল ও কালো বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯১৮ সালের আগে এখানকার একাংশ ছিল জার্মান সাম্রাজ্যের উপনিবেশ; সে সময় ব্যবহৃত সাম্রাজ্যের পতাকার রং ছিল কালো–সাদা–লাল। এ কারণে এই রংগুলো পরে জাতীয় প্রতীকের নকশাতেও স্বাভাবিকভাবে প্রভাব ফেলে। স্বর্গীয় পাখির প্রতীক স্থানীয় সংস্কৃতিতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার, আর দক্ষিণ ক্রুশ নক্ষত্রমণ্ডল দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর সাধারণ প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

স্বাধীনতার আগে অস্ট্রেলিয়ান প্রশাসন নীল, হলুদ এবং সবুজ রঙের একটি উল্লম্ব ত্রিবর্ণ পতাকার প্রস্তাব করে। শিল্পী হ্যাল হলম্যান (Hal Holman) প্রস্তাবিত ওই নকশায় স্বর্গীয় পাখি এবং দক্ষিণ ক্রুশ প্রদর্শিত ছিল। [] নীল রং দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্রকে, সোনালি রং উপকূলরেখা ও খনিজ সম্পদকে এবং সবুজ রং বনভূমি ও মূল ভূখণ্ডকে নির্দেশ করে বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তবে এই নকশা জনমনে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি এবং সমালোচনার মুখে "যান্ত্রিকভাবে পরিকল্পিত" বলে একে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

পরবর্তীতে দেশব্যাপী নকশা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলে মাত্র ১৫ বছর বয়সী পাপুয়ান ছাত্রী সুসান কারিকে (Susan Karike) একটি নতুন নকশা জমা দেন। তাঁর নকশা তির্যক বিভক্তি, দৃঢ় লাল–কালো রঙের ব্যবহার, ঐতিহ্যবাহী প্রতীক এবং সরল অথচ শক্তিশালী চিত্রভাষার জন্য বিপুল সমর্থন পায়। [] পরবর্তীতে ১১ মার্চ ১৯৭১ সালে সংসদ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে এবং স্বাধীনতার পর ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে পতাকাটি রাষ্ট্রের সকল আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে প্রসারিত হয়।

ডিজাইন

[সম্পাদনা]

পতাকাটি উপরের বাম দিক (উত্তোলন) থেকে নিচের ডান দিকে (উড়ান) পর্যন্ত তির্যকভাবে বিভক্ত। উপরের লাল অংশে সোনালি হলুদ রঙে রাগিয়ানা স্বর্গীয় পাখি, আর নিচের কালো অংশে পাঁচটি সাদা তারা দ্বারা দক্ষিণ ক্রুশ নক্ষত্রমণ্ডল চিত্রিত। পাপুয়া নিউ গিনির ঐতিহ্যগত প্রতীক হিসেবে স্বর্গীয় পাখি জাতির উত্থান ও অগ্রগতির প্রতীক। দক্ষিণ ক্রুশ নক্ষত্রমণ্ডল দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক নির্দেশ করে।

স্পেসিফিকেশন

[সম্পাদনা]

"জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের নিয়মাবলী" অনুসারে, পতাকাটি প্রদর্শনের বিধান হলো:[]

(a) দণ্ডে উত্তোলনের সময় দক্ষিণ ক্রুশ দণ্ডের দিকে থাকবে এবং পতাকাটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে উড়বে।

(b) হ্যালইয়ার্ডে টানার সময় স্বর্গীয় পাখি উপরের দিকে থাকবে এবং পতাকাটি যতটা সম্ভব দণ্ডের মাথার কাছে টানটান রাখা হবে।

(c) দেয়ালে ঝোলালে স্বর্গীয় পাখিটি দর্শকের দৃষ্টিতে উপরের ডান কোণে থাকবে।

(d) রাস্তার মাঝখানে উল্লম্বভাবে ঝোলালে পূর্ব–পশ্চিম সড়কে এটি দক্ষিণমুখী এবং উত্তর–দক্ষিণ সড়কে পশ্চিমমুখী থাকবে, অর্থাৎ দর্শকের মুখোমুখি হলে বামদিকে থাকবে।

(e) কফিন ঢাকার সময় সম্ভব হলে নতুন পতাকা ব্যবহার করতে হবে এবং দক্ষিণ ক্রুশ মৃতের ডান বক্ষের উপরে থাকবে। কবর দেওয়ার আগে পতাকাটি সরিয়ে নেওয়া হবে।

পতাকার অনুপাত ৩:৪। সরকারি ব্যবহারের জন্য ৪×৩ ফুট, ৫×৩ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং ১০×৭ ফুট ৬ ইঞ্চি আকারের পতাকা ব্যবহৃত হয়। গাড়িতে ব্যবহারের জন্য ১০×৭½ ইঞ্চি আকারের পেন্যান্ট ব্যবহৃত হয়। ১৯৭১ সালের জাতীয় পরিচয় আইন অনুযায়ী পতাকার অবমাননার জন্য জরিমানা ও শাস্তির বিধান রয়েছে। পতাকা উত্তোলন বা নামানোর সময় সকল উপস্থিত ব্যক্তিকে দাঁড়াতে, পুরুষদের টুপি খুলতে এবং সম্মান প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

পতাকায় ব্যবহৃত রঙগুলো হলো:

  • লাল
  • কালো
  • সোনালি হলুদ
  • সাদা

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
প্রস্তাবিত জার্মান নিউ গিনির প্রতীক।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে জার্মানি নিউ গিনির কিছু অঞ্চল দখল করে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত শাসন করে। যুদ্ধ শুরু হলে অস্ট্রেলিয়া জার্মান নিউ গিনির ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নেয়। [] দক্ষিণ অংশ ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং পরে এটি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথের হাতে হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পাপুয়া ও নিউ গিনি অঞ্চল একত্রিত হয়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রশাসনের অধীনে একটি যৌথ ভূখণ্ডে পরিণত হয়।

এই সময় পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত স্থানীয় পতাকা ছিল না, যদিও জার্মান প্রশাসন স্বর্গীয় পাখি সংবলিত একটি কোট-অফ-আর্মসের প্রস্তাব দিয়েছিল। [] ১৯৬২ সালের দিকে স্থানীয়ভাবে একটি সবুজ পতাকা ব্যবহৃত হতো, যার উপরিভাগে স্বর্গীয় পাখির ছবি ছিল। এছাড়া নীল–হলুদ–সবুজ ত্রিবর্ণ এবং দক্ষিণ ক্রুশসহ আরও একটি নকশা প্রস্তাবিত হয়েছিল, তবে তা জনমত পায়নি। []

পরিশেষে দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুসান কারিকের নকশাটি নির্বাচিত হয়। [] তাঁর নকশা আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের অনন্য মিশ্রণ হিসেবে এখনো পাপুয়া নিউ গিনির জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক।

সরকারি পতাকা

[সম্পাদনা]

পাপুয়া নিউ গিনির ঐতিহাসিক পতাকা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 www.pngbd.com
  2. "The true inside story of the saga of the PNG flag"
  3. "Flag of Papua New Guinea"
  4. "Papua and New Guinea 1970–1971"