পাথরকুচি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাথরকুচি
পাথরকুচি (Kalanchoe pinnata)
পাথরকুচি
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Core eudicots
বর্গ: Saxifragales
পরিবার: Crassulaceae
গণ: Bryophyllum
প্রজাতি: B. pinnatum
দ্বিপদী নাম
Bryophyllum pinnatum
(Lam.) Oken

পাথরকুচি বীরুৎজাতীয় একটি ঔষধি উদ্ভিদ। দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু হয়। পাতা মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো। পাতার চারপাশে আছে ছোট ছোট গোল খাঁজ। এই খাঁজ থেকে নতুন চারার জন্ম হয়। কখনো কখনো- বিশেষ করে গাছ বুড়ো হয়ে গেলে- গাছেই ওই খাঁজ থেকে চারা গজায়। গাছ থেকে খাঁজকাটা একটি পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই অনায়াসে চারা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ও ভারতে এই গণের কয়েকটি প্রজাতি পাওয়া যায়। কাঁকরমাটিতে সহজেই জন্মে, তবে ভেজা, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দ্রুত বাড়ে এবং মানুষের সমান উঁচু হয়ে যায়। কোথাও কোথাও কফপাতা নামে পরিচিত। আরেকটি নাম পাটিয়াপুরি। হিন্দিতে জখমী হায়াৎ ও সংস্কৃতে পাষাণভেদ বলে।

Kalanchoe pinnata পাথরকুচির ফুল

পাথরকুচির বোটানিক্যাল নাম Kalanchoe pinnata (Lamk.) Pers. ফ্যামিলি Crassulaceae ।

অন্য একটি পাথরকুচির পাতা অনেকটা গোল, তার বোটানিক্যাল নাম Berginia ligulata Wall ফ্যামিলি Saxifragaceae । ইউনানি সম্প্রদায় এটিকে বলে আসল পাথরকুচি, আর কবিরাজরা পূর্বেরটিকে বলে আসল।

Red Pierrot(সাজুন্তি) পাথরকুচি পাতার ওপর বিশ্রামরত অবস্থা

রোগ প্রতিরোধে পাথরকুচি অতুলনীয়। পুরনো সর্দিতে পাতার রস গরম করে খেলে উপকার হয়। ছোট বড় সবার মূত্র রোধে পাতার রস খাওয়ানো হয়। খাওয়ার মাত্রা বড়দের বেশি। মূত্রনালির যে কোন সংক্রমণে, রক্তপিত্তে, পেট ফাঁপায়, শিশুদের পেট ব্যথায়, মৃগী রোগীদের পাথরকুচির রস খাওয়ানো হয়। মূত্র পাথর সারিয়ে দিতে সক্ষম পাথরকুচি। এ ছাড়া ব্রণ, ক্ষত ও মাংসপেশী থেঁতলে গেলে, বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। [১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. গাছপালা তরুলতা/বিপ্রদাশ বড়ুয়া, বাংলা একাডেমী, ঢাকা।