বিষয়বস্তুতে চলুন

পাটগ্রাম তারক নাথ (টিএন) স্কুল এন্ড কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাটগ্রাম তারক নাথ (টিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ
অবস্থান
মানচিত্র

স্থানাঙ্ক২৬°২০′৪৮″ উত্তর ৮৯°০১′২৭″ পূর্ব / ২৬.৩৪৬৭৭৫° উত্তর ৮৯.০২৪০৫৬° পূর্ব / 26.346775; 89.024056
তথ্য
বিদ্যালয়ের ধরনএমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৪৫
বিদ্যালয় বোর্ডদিনাজপুর
বিদ্যালয় জেলালালমনিরহাট
ইআইআইএন১২২৯৯২ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
শিক্ষকমণ্ডলী৫০
ক্যাম্পাসের ধরনশহুরে

পাটগ্রাম তারক নাথ (টিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত একটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টি মূলত "তারক নাথ স্কুল" নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কলেজ শাখা যুক্ত হওয়ার পর এর নামকরণ হয় "পাটগ্রাম তারক নাথ (টিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ"।[১]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টির সঠিক প্রতিষ্ঠা সাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে এটি উনিশ শতকের শেষভাগে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তি তারক নাথ এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে জমি ও অর্থ দান করেন। প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়টি ছিল একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সময়ের সাথে সাথে এটি পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপ নেয়। পরে স্থানীয় চাহিদার কারণে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা চালু করা হয়। এর ফলে বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে "পাটগ্রাম তারক নাথ (টিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ" রাখা হয়।[১]

মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা

[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ বিদ্যালয়টির প্রাঙ্গণ পাটগ্রাম অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষের অন্যতম মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। এখানে একাধিক জনসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ও সংগঠিত করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ব্যবহার করতেন। এই কারণে এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।[২]

একাডেমিক কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়।

  • শাখা – বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা।
  • শিক্ষক সংখ্যা – প্রায় ৫০ জন।
  • শিক্ষার্থী সংখ্যা – ২,৫০০ এর অধিক।
  • নিয়মিতভাবে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করে আসছে।[১]

অবকাঠামো

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের রয়েছে একটি বিস্তৃত ক্যাম্পাস।

  • বহুতল একাডেমিক ভবন
  • আলাদা বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাব
  • সমৃদ্ধ পাঠাগার
  • বড় খেলার মাঠ
  • ছাত্রীদের জন্য পৃথক ভবন

সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এখানে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

[সম্পাদনা]

এই প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিক্ষকতা, প্রশাসন, রাজনীতি ও ব্যবসায় খ্যাতি অর্জন করেছেন। স্থানীয়ভাবে শিক্ষা বিস্তারে তাঁদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখযোগ্য দিক

[সম্পাদনা]
  • এলাকায় অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিবিজড়িত স্থান।
  • প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলেছে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 "মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান তথ্যভান্ডার"। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. ↑ "পাটগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ"। দৈনিক জনকণ্ঠ। জনকণ্ঠ প্রকাশন। ১০ ডিসেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৫।