পাঞ্জেরী
| পাঞ্জেরী | |
|---|---|
| ফররুখ আহমদ রচিত | |
| কাব্যগ্রন্থ | সাত সাগরের মাঝি |
| দেশ | বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) |
| ভাষা | বাংলা |
| উপজীব্য | মুহাম্মাদ, নেতৃত্ব |
| ধরন | ইসলামি কাব্য |
| প্রকাশক | বে-নজীর আহমদ |
| প্রকাশের তারিখ | ১৯৪৪ |
| মাধ্যম | হার্ডকপি, মুদ্রণকপি |
| পঙক্তি | ৪১ লাইন |
| ছন্দ | মাত্রাবৃত্ত |
পাঞ্জেরী ফররুখ আহমদ রচিত একটি বিখ্যাত ইসলামি ভাবধর্মী বাংলা কবিতা।[১] এটি তার ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের অন্যতম প্রধান কবিতা।[২] পাঞ্জেরী শব্দের পারিভাষিক অর্থ জাতির পথপ্রদর্শক। কবিতাটিতে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদকে "পাঞ্জেরী" অর্থাৎ আলোর প্রদীপ রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন মানবজাতির মুক্তির পথ প্রদর্শক।[৩] ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের তৈরিকৃত একটি কমিটি ফররুখ আহমেদের পাঞ্জেরী গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে প্রস্তাব করেছিলো।[৪]
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা]ফররুখ আহমদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুসলিম বাঙালি কবি। তিনি ইসলামী ভাবধারা, জাতীয়তাবাদ ও নৈতিকতাকে প্রধান উপজীব্য করে কবিতা লিখতেন।[৫] একই ধারাবাহিকতায় পাঞ্জেরী কবিতাটি মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে ন্যায়, শান্তি ও সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার কথা চিত্রিত করে। কবি দেখিয়েছেন কিভাবে তাঁর আগমনের আগে দুনিয়া ছিল অন্ধকার, অন্যায় ও বিভ্রান্তিতে ভরা। তাঁর প্রেরিত বার্তা মানুষকে আধ্যাত্মিক মুক্তি দেয় এবং মানবজাতিকে সত্যের পথে পরিচালিত করে। এটি ফররুখ আহমদের ইসলামি কাব্যধারার শক্তিশালী দৃষ্টান্ত।
২০২৫ সালে আলম রায়হান একটি কলামে দেশ ও রাজনীতির প্রকৃত অবস্থাকে পাঞ্জেরী কবিতার সাথে তুলনা করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা শূন্যতার কথা তুলে ধরেন।[৬]
রচনাশৈলী
[সম্পাদনা]কবিতাটিতে অলংকারের চমৎকার ব্যবহার, আবেগঘন ভাবাবেগ এবং শক্তিশালী ধর্মীয় আবহ লক্ষণীয়। পাঞ্জেরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত, মূল পর্ব ছয় মাত্রায় ৬+৬+২ বিন্যাসে সাজানো হয়েছে। কবিতাটিতে 'রাত পোহাবার কতো দেরি পাঞ্জেরী?’ পংক্তিটি ৪ বার ব্যবহার হয়েছে। ছন্দ এবং শব্দচয়নের দিক থেকে এটি বাংলা ইসলামি কবিতার এক অনন্য উদাহরণ। কবিতাটি ইসলামী সাহিত্য ও বাংলা কাব্যাঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
নির্বাচিত অংশ
[সম্পাদনা]পাঞ্জেরী কবিতার প্রথমেই কিছু লাইন লেখা আছে, যা পুরো কবিতার ভাবার্থ তুলে ধরতে পারে।
| “ | রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে? তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে; অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।’ |
” |
| — ফররুখ আহমেদ, সাত সাগরের মাঝি (পাঞ্জেরী কবিতা) | ||
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?"। Barta 24। ১৯ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০২৫।
- ↑ "রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরির কবির ৫০তম মৃত্যু বার্ষিকী"। ডেইলি স্টার বাংলা। ১৯ অক্টোবর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫।
- ↑ মুহাম্মদ, শরীফ (ফেব্রুয়ারী ২০০৯)। "রাত পোহাতে সত্যিই কি দেরি পাঞ্জেরী!"। www.alkawsar.com। সংগ্রহের তারিখ 2025-05-23।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "যে ৩ সময়ে 'জাতীয় সংগীত' পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল"। Jugantor। ৭ আগস্ট ২০১৯। ১৮ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২৪।
- ↑ আমীন, সুমন (১৪ জুন ২০১৯)। "ফররুখ আহমদ জীবন ও সাহিত্য"। DailyInqilabOnline। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫।
- ↑ কালবেলা (২৩ জুন ২০২৫)। "পাঞ্জেরী কবিতার বাস্তবতায় বাংলাদেশ"। কালবেলা নিউজ পেপার। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বাংলা কবিতা.কম ওয়েবসাইটে পাঞ্জেরী কবিতা