বিষয়বস্তুতে চলুন

পাকিস্তান মুসলিম লীগ (জে)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাকিস্তান মুসলিম লীগ
(জুনেজো)
پاکستان مسلم لیگ (ج)
সংক্ষেপেপিএমএল-জে
সভাপতিমুহাম্মদ ইকবাল দার
প্রতিষ্ঠাতামুহাম্মদ খান জুনেজো
প্রতিষ্ঠা১৯৮৮ (1988)
পূর্ববর্তীপিএমএল(এফ)
একীভূত হয়েছেপাকিস্তান মুসলিম লীগ (কিউ) (২০০৪–২০১৩)
পরবর্তীপিএমএল (জিন্নাহ)
পিএমএল(এন)
ভাবাদর্শপাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ
রক্ষণশীলতাবাদ (পাকিস্তান)
নির্বাচনী প্রতীক
বাস
পাকিস্তানের রাজনীতি

পাকিস্তান মুসলিম লীগ (জে) (উর্দু: پاکستان مسلم لیگ (ج)) পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক দল, যা ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[]

এটি মূল পাকিস্তান মুসলিম লীগের একটি শাখা, যা মুহাম্মদ খান জুনেজোর নাম অনুসারে "জে" নামে পরিচিত। ১৯৮৬ সালে মুহাম্মদ খান জুনেজো যখন প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জিয়াউল হকের অধীনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন এই দলটি একক পাকিস্তান মুসলিম লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে দলটি গুলাম মুস্তফা জাটোইয়ের ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এবং ক্বাজি হুসাইন আহমদের জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে ইসলামী জামহুরি ইত্তেহাদ (আইজেআই) জোট গঠন করে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-এর বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়। সেই সময়ে নওয়াজ শরিফ পিপিপি-এর বাইরে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে প্রধানমন্ত্রী হন।

জেনারেল মুহাম্মদ জিয়া-উল-হক জুনেজোকে বরখাস্ত করার পর নওয়াজ শরিফ দল থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব শাখা পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) (পিএমএল-এন) গঠন করেন, যা মূল পাকিস্তান মুসলিম লীগের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। জুনেজোর মৃত্যুর পর ১৯৯৩ সালে তার সমর্থকরা—হামিদ নাসির চাট্টা, ইকবাল আহমদ খান, মানজুর ওয়াট্টু, আখতার আলী ভারিও এবং সরদার আরিফ নাকাই—পাকিস্তান মুসলিম লীগ (জুনেজো) গঠন করেন।

১৯৯৫ সালে দলটিতে বিভাজন ঘটে। মানজুর ওয়াট্টু তার চাচাতো ভাই হামিদ নাসির চাট্টার সঙ্গে মতবিরোধের কারণে আলাদা হয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (জিন্নাহ) গঠন করেন। একই বছর মানজুর ওয়াট্টু পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হলে আরিফ নাকাই পিএমএল (জে)-এর পক্ষ থেকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন।

২০০২ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দলটি মোট ভোটের ০.৭% পায় এবং ৩৪২ আসনের মধ্যে ২টি আসন লাভ করে। সে সময় হামিদ নাসির চাট্টা দলের প্রধান ছিলেন।

২০০৪ সালের মে মাসে পিএমএল-জে অন্যান্য দলের সঙ্গে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কায়েদে আজম) (পিএমএল-কিউ)-এ একীভূত হয়ে ইউনাইটেড পাকিস্তান মুসলিম লীগ গঠন করে।[]

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিএমএল-কিউ-এর অংশ হিসেবে হামিদ নাসির চাট্টা জাতীয় পরিষদের আসন হারান।

২০১৩ সালে হামিদ নাসির চাট্টা পুনরায় পিএমএল (জুনেজো) পুনর্জাগরণের ঘোষণা দেন এবং সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন, তবে দলটি কোনো আসন পায়নি।[]

২০১৩ সাল থেকে দলটির বর্তমান নেতা হলেন মুহাম্মদ ইকবাল দার[][]

নির্বাচনী ইতিহাস

[সম্পাদনা]

জাতীয় পরিষদ নির্বাচন

[সম্পাদনা]
নির্বাচন প্রাপ্ত ভোট শতাংশ (%) আসন পরিবর্তন
১৯৯৩ ৭৮১,৬৫২ ৩.৯% ৬ / ২০৭ ৬টি বৃদ্ধি
১৯৯৭ ৬২৪,২৮৬ ৩.৩% ০ / ২০৭ ৬টি হ্রাস
২০০২ ২৮৩,৭৫৫ ০.৭% ৩ / ৩৪২ ৩টি বৃদ্ধি
২০১৩ ৭১,৭৭৩ ০.১৬% ০ / ৩৪২ ৩টি হ্রাস

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Pakistan Muslim League (J) - PML-J, Political Party Profile & Members Details"UrduPoint (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৫
  2. Mumtaz, Ashraf (২০ মে ২০০৪)। "Parties to inform EC about merger with PML"। Dawn।
  3. "Chattha seals LM fate, revives PML-Junejo"The Nation (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২১
  4. "List of Political Parties enlisted with ECP"www.ecp.gov.pk। ১৪ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২১
  5. "PML-LM men to move ECP against N"The Nation (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২১